

পাঠ প্রতিক্রিয়া -- 'আহাম্মকের খুদকুড়ো' ... ...


অন্যান্য আর পাঁচটা সাধারণ খুনের সঙ্গে খুব একটা পার্থক্য ছিল না পঞ্চম শুক্লা মার্ডার কেসের। কিন্তু অতি সাধারণ হয়েও এই হত্যা রহস্যের জট খুলেছিল অভাবিতভাবে। বস্তুতপক্ষে এই কেসের সূত্র ধরেই মৃতদেহের সঠিক পরিচয় পেতে ভারতের বুকে প্রথম ব্যবহার করা হল সুপার ইম্পজিশন পদ্ধতি। যা তৎকালীন সময়ে ছিল বর্তমানের ডিএনএ পরীক্ষার সমতুল্য। ... ...



গল্প হলো রেলের চাকরির। যে সব চাকরি আমাদের এই সদাশয় মোদী সরকারের দাক্ষিণ্যে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যেতে চলেছে। ... ...


আমি এবারে ভেঙে পড়লাম। সেই কেজি ওয়ান থেকে অপেক্ষা করছি। ভেবেছিলাম ইন্দিরা গান্ধী চিঠি দেবে ওভারটাইমের জন্য। সে হেরে গেছে। আমি তাহলে দেশের দরকারে লাগব কী করে? চোখে জল চলে এল আমার। মা একটু সময় নিয়ে ব্যাপারটা বুঝল, আমার সমস্যাটা কী? তারপরে বলল, - তুমি ভুল বুঝে কষ্ট পাচ্ছ। দেশ ঐভাবে চিঠি দেয়না। দেশ কি চায়, সেটা বইতে লেখা থাকে। আর খেলতে গেলে হারজিত হবেই। কখনো মোহনবাগান জিতবে, কখনো ইস্টবেঙ্গল। এতে দুঃখের কিছু নেই। আমি কান্না ভেজা গলায় বললাম, - তা সে কোন বইতে দেশের দরকার লেখা থাকে, সেটা কি তোমার কাছে আছে? আমি পড়তাম তবে। ... ...

বাউলতত্ত্ব ... ...

কানহাইয়া কুমার কংগ্রেসে গেছেন। কম্যুনিস্ট না হোক অন্তত বামপন্থী ভাবাদর্শ থেকে কেউ একটা দক্ষিণপন্থী দলে গেলেন, সেটা এই প্রথম নয়। যথারীতি তবুও প্রভূত শোরগোল শোনা যাচ্ছে। কিন্তু প্রশ্নটা হওয়া উচিত যাওয়া নিয়ে নয়, যাওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে। ... ...

২০১১ সালে সালাউদ্দিনের খুনের পর পেরিয়ে গিয়েছে সুদীর্ঘ নয়টি বছর। গতকালই সালাউদ্দিন খুনের মামলার রায় ঘোষণার করেছে কোর্ট। বিচারে বাপি এবং মিলি উভয়কেই যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে দেখতে গেলে ত্রিকোণ প্রেমের জন্য এই খুন এবং তার তদন্ত হয়তো খুব জটিল ছিল না তদন্তকারীদের কাছে। কিন্তু ডিএনে পরীক্ষার হাত ধরে অপরাধী শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে এ এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলস্টোন। ... ...

গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ তাঁর আত্মজীবনী 'লিভিং টু টেল দ্য টেল' এর কোনো পরবর্তী খণ্ড কেন লিখলেন না তা নিয়ে তাঁর গুণ্মুগ্ধ পাঠকদের মধ্যে অনেক কৌতূহল আছে।এবার তাঁর বড় পুত্র রড্রিগো গার্সিয়া তাঁর স্মৃতিচারণ মূলক 'আ ফেয়ারওয়েল টু গ্যাবো অ্যাণ্ড মার্সেডিজ ঃ আ সন্স মেমোয়ার অব গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ অ্যাণ্ড মার্সেডিজ বার্ছা ' বইতে সেই কৌতূহল মেটালেন। ... ...

সুন্দর লম্বা চিঠি লিখতো শুভ্রকান্তি, কখনো-সখনো শৌভিক, একবার-আধবার সন্দীপ। শুভ্র একদিন লিখলো ওদের দামোদরের জল শুকিয়ে চড়া পড়ে যায় গরমে, কোথাও কোথাও হেঁটে হেঁটে পেরোনো যায় দিব্যি। সে চিঠি যেদিন পৌঁছলো আমার বাড়িঘরময় তখন বন্যার জল থইথই, বাবা ইঁট পাতছেন গলির ভেতরে, আর মা সেই জলের মধ্যে হাঁটুর উপর কাপড় তুলে বালতি বালতি জল ঘরে তুলে রাখছে, আর গলায় তাঁর দীর্ঘদেহী ঈশ্বরের কোনো একটা বর্ষার গান। এক বর্ষার দিনে শুধু বাড়ি ফিরতে গিয়ে দেখি সেই ইঁটগুলো আর নেই -- গলির মধ্যে জল পাড়িয়ে ঢুকতে গিয়ে কেডস ভিজে যাবে বলে এক শ্রাবণে ভিজে ভিজে বাবা যে ইঁটগুলো পেতে রেখেছিলেন আমার আজন্ম বর্ষাকালে ... সেই প্রকান্ড মহীরুহ তার ডালপালা, তার শেকড়, তার কোটরে বাস করা তক্ষক, তার বর্ষার জলে পাতা ইঁট – সব নিয়ে একদিন চলে গেছেন কোনো একটা দৃশ্যের ওপারে ... সেইখানে যেখানে আর কোনো চিঠি-ই পৌঁছয় না। ... ...

সেক্স একটি অতি সেক্সি বিষয়। কিন্তু সেক্সের কোনো বাংলা নেই। ... ...

সেক্স একটি অতি সেক্সি বিষয়। কিন্তু সেক্সের কোনো বাংলা নেই। ... ...

এই বাংলার বুকেই একসময় দেওয়া হতো প্রকাশ্যে ফাঁসি আরও ভালোভাবে বলতে গেলে একসময়কার ভারতের রাজধানী কলকাতার বুকে প্রচলন ছিল এই প্রকাশ্যে ফাঁসি দেওয়ার। হ্যাঁ চমকে ওঠার মতোই ঘটনা বটে, প্রকাশ্যে ফাঁসি তাও আবার খোদ কলকাতার বুকে! ... ...

কবিতা কৃষ্ণনের ট্যুইটে শেয়ার হওয়া সেই ভিডিওর নীচে যে শেষমেশ রাজনীতি, পুলিশের আসল উদ্দেশ্য, পুলিশের নিজেকে রক্ষা করার উচিত কিনা – এসব নিয়ে জলঘোলা করা হবে, তাতে কারুর কোনো সন্দেহ ছিল না। কেন উচ্ছেদ করা হচ্ছে, কতদিন ধরে, উচ্ছেদ কতটা ন্যায়সঙ্গত, কোনো মূল্যেই – নাগরিক, পুলিশ – কারুর জীবনের বিনিময়েই কি মন্দির বানানোর নামে উচ্ছেদ করা দরকার – এ সব প্রশ্ন ছাপিয়ে উঠে আসবে, ভিডিওতে দেখানো একটিমাত্র লোককে অনেক পুলিশ মিলে নৃশংসভাবে মেরে ফেলা ছাড়াও কোনো ‘বৃহত্তর’ ছবি ছিল কিনা। কেউ আর একটা ভিডিও শেয়ার করে দেখাবে, ‘আহা, পুলিশ বলে কি মানুষ নয়?’ মুখ্যু-মন্ত্রী হিমন্ত শর্মা এরই প্রতিধ্বনি করে বলবেন, ‘পুলিশ তো নিজের কাজ করছিল, ওই লোকগুলোই লাঠিসোটা নিয়ে ওদের মেরেছে।’ ... ...

রঙের চেতনা, চেতনার রঙ ... ...

ছোটবেলায় মোটা বেতের ঝুড়ি মাথায় ফেরিওয়ালারা হেঁকে যেত “হরেএএএক মাল পাঁসসিকে”, এখন যায় তাদেরই আধুনিক সংস্করনরা, রেকর্ড করা গলায় বলে “আমাদের প্রচার গাড়িতে পাবেন নানা ধরনের জিনিস”। ‘প্রচার গাড়ি’ শব্দগুচ্ছ অনেকটা ‘সৌন্দর্য সাবান’-এর মত, কী যে তার মানে কেউ জানে না। যাই হোক, সেই পায়ে চালানো গাড়িতে যা যা থাকে তার প্রায় সবই ভেসে যেতে দেখলাম বারান্দা থেকে - ছোট গামলা, বাটি, খেলার বল, বোতল, ক্যারি ব্যাগ, দড়ি ইত্যাদি। গাড়িতে যা থাকে না তাও দেখলাম - ধবধবে সাদা টগর ফুল, সবুজ রঙের বাঁশ, গাছের পাতা, এমনকি এক পাটি জুতোও। ... ...