
বাংলায় যদি একটা মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে, তাহলে সমাজমাধ্যমে কী হয়? এখন যা হচ্ছে। সরকারপক্ষ, হয় চেপে যায়। নইলে বলে, দোষ আমাদের কেন হবে? মদ খেয়ে যদি কেউ খুন-ধর্ষণ কিছু একটা করে, তাহলে দোষ তো তাড়ির, তাড়ির না হলে নির্ঘাত খেজুর গাছের। পুলিশ তো আর গাছকে গ্রেপ্তার করতে পারেনা, ভারতীয় দন্ডবিধিতে তেমন ধারা নেই, তাই চুপচাপ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছিল। যদি প্রশ্ন করেন, কিন্তু খুনটা তো আর গাছ এসে করে দেয়নি, খুনিকে ধরলেন না কেন? তখন তাঁরা অম্লানবদনে বলবেন, আরে খুন হয়েছে জানবে, তবে তো। আইন আইনের পথে চলবে। আগে অভিযোগ, তারপর তদন্ত। খুন হবার আগে, সেই বেটি থানায় এসে অভিযোগ করেনি কেন? কোথাও কেউ প্রপার প্রসিডিওর ফলো করবেনা, আর সব দোষ হবে প্রশাসনের? মামার বাড়ি? সংখ্যাগুরু বিরোধীরা, সেই শুনে বলবেন, দেকেচ, আগেই বলেছিলাম, হিন্দু খতরেমে। খেজুর গাছের দোষ সরকার তো দেখতে পাবেইনা, ও গাছ তো আরব থেকে এসেছে। এরা সমুদ্রের নাম দিয়েছে, আরব সাগর, এদের পুলিশ আরবী ঘোড়া চড়ে, এদের একমাত্র দাওয়াই হল কেন্দ্র। কেন্দ্র থেকে তিনশছাপ্পান্ন লাও, দিল্লি থেকে সিবিআই। মারবে এখানে, বডি পড়বে তিহারে। জ্যায় শ্রীরাম। যদি মিনমিন করে প্রশ্ন করেন, কিন্তু এদিকে তো বঙ্গোপসাগর, তাছাড়া ওদিকেও তো হাথরাস-টাথরাস কীসব হয়েছে, তখন সিবিআই ঠিক কী করছিল? রেডিমেড জবাব, বড়-বড় কথা বলবেন না, আপনি কি সেকু-মাকু না লিবারবাল? কাশ্মীরে যখন পন্ডিতদের তাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিল, তখন আপনি কোথায় ছিলেন? যখন আফগানিস্তানে বুদ্ধমূর্তি ভাঙা হচ্ছিল, আপনি কী করছিলেন? যখন নাইন-ইলেভেন হল, তখন... ইত্যাদি প্রভৃতি। ... ...

আমার বাবাকে শেরপুরের মানুষ ধর্ম সংক্রান্ত বিষয়ে বিশেষজ্ঞ বলে মনে করতেন। সাধারণ মানুষ আব্বাকে চিনত এমন না, কিন্তু যারা এই ধারায় আছে তারা সবাই এক নামেই চিনত। শহরের বড় বড় মসজিদের ইমাম, ইসলাম বুঝে জানে এমন লোকজন আব্বাকে মান্য করত। আব্বার কথা শোনার জন্য অপেক্ষা করতে দেখেছি অনেকেই। কোন মসজিদ বা মাদ্রাসায় আব্বার নাম বললে উনার নাম শুনা মাত্র নড়েচড়ে বসত সকলেই। আব্বা আমাদের এলাকার মসজিদে নামাজ পড়তেন না, কারণ এখানে যে নামাজ পড়ায় তিনি অল্প বয়সই, আব্বা তৃপ্তি পেতেন না তার পিছনে নামাজ পড়ে। হেঁটে দূরের এক মসজিদে যেতেন শুধু মাত্র সেই ইমাম সাহেবকে আব্বার মনে হত উনার মাপের, যার সাথে কথা বলা যায়, আলাপ করা যায়। সেই ইমাম সাহেব আমাকে অনেকবার আমার কাছে আব্বার প্রাণ খোলা প্রশংসা করেছেন। এক বাক্যে স্বীকৃতি দিছেন যে আব্বার মত ধর্ম সম্পর্কে জ্ঞানী মানুষ তিনি খুব কমই দেখেছেন। তিনি পরে শেরপুরের সবচেয়ে বড় মাদ্রাসা ও মসজিদের ইমাম হয়ে ছিলেন, এবং তখনও উনার আব্বার প্রতি মুগ্ধতা কাটেনি। আব্বা যখন অসুস্থ, বিছানায় পড়ে গেছেন। তখনও আমি দেখতাম কোথা থেকে কোথা থেকে মানুষ আসত, উদ্দেশ্য আব্বার সাথে দেখা করা আর একটু আলোচনা, ইসলামের নানা বিষয় নিয়ে গল্প। আমি আব্বার এই দিকের কথা কেন বলছি? কারণ আমি আব্বাকে কোনদিন নববর্ষের বিরোধিতা করতে দেখি নাই। আব্বা নিশ্চয়ই মঙ্গল শোভা যাত্রায় অংশ নেয় নাই। কিন্তু মেজোপা যখন নববর্ষ উপলক্ষে একটা পাঞ্জাবি বা ফতুয়া এনে দিত তখন তিনি আগ্রহ নিয়েই পরতেন, খুশিতে চোখ নেচে উঠত উনার। বাব্বাহ! আমার জন্য আনছ, বলে হাতে নিতেন, হাসতেন। আমি যখন ঢাকায় ছিলাম তখন ফোন দিয়ে বলতাম, আব্বা, শুভ নববর্ষ, তিনিও সাথে সাথেই শুভেচ্ছা জানাতেন নববর্ষের। নববর্ষ উপলক্ষে ভাল মন্দ রান্না হয়েছে কি না তার খোঁজ নিতেন, আগ্রহ নিয়ে খেতেনও। আমি আমার সমস্ত জ্ঞান বাজি রেখে আপনাদের বলতে পারি যে কাঠ মোল্লা জাহান্নাম যাওয়ার নিশ্চয়তা দিচ্ছেন গলা ফাটাইয়া, আমার বাবা তার চেয়ে বেশি জানতেন, ধর্ম, ইসলাম, সমাজ, দেশ, রাষ্ট্র সম্পর্কে। ... ...

অটিজম,হাইপার,পাগল,লালু টাইপ,বেড়ে পাকা,বায়নাদার,মারকুটে এমন গোছের অনেক শব্দ জুড়ে যায় বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতাতে এবং বয়ঃসন্ধিকালীন সমস্যাতে আক্রান্ত শিশু ও সদ্য কৈশোরে পা দেওয়া ছেলেমেয়েদের নামের পাশে। সেসব নিয়েই গল্পচ্ছলে সহজ বাংলায় প্রথম রচিত বই "শিশু মন"। উদ্দেশ্য-অভিভাবক তথা জনমানসে সত্যতা ও সচেতনতা প্রসার। মুল্য-100/ প্রাপ্তিস্থান-9874465384 এই নম্বরে যোগাযোগ করুন। সারা ভারতে বই পাঠানোর ব্যবস্থা আছে, বই এর দাম এর সঙ্গে শুধুমাত্র অতিরিক্ত পোষ্টাল চার্য ধার্জ করা হবে। ... ...

ক্ষমতায় পুরোপুরি গেঁড়ে বসার পর এই মানসিকতাটা আসে। আমার রাজ্যে ক'রে খাচ্ছিস যখন আমার কথা অনুযায়ী চলবি, নইলে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবো! এগুলো সবই আমরা আগেও দেখেছি। কিন্তু এরপর একটা সময় আসে যখন একসপ্তাহ আগে একসঙ্গে মিছিলে হেঁটে যাওয়া লোকটা বুথে গিয়ে অন্য বোতাম টিপে দেয়। অপশন না থাকার পরও টিপে দেয়। কাউন্টিং-এর দিন বর্ষীয়ান নেতারা গণনাকেন্দ্রের বাইরে বসে শোনে সাম্রাজ্যপতনের শব্দ। ... ...

‘চুমু চুমু আদর আদর আদর আদর চুমু চুমু সাবধানে যাবে সাবধানে আসবে।‘ বাবা অফিসের সাজপোশাক পরে তৈরী হয়ে গেলেই খাটে উঠে দাঁড়িয়ে বাবার গলা জড়িয়ে দুই গালে চুমু খেয়ে দুই হাত দিয়ে গালে আলতো করে ঘষে দিয়ে এই কথাগুলো বলা ছিল আমার রোজের কাজ। কে শিখিয়েছিল কি জানি। হয়ত জিজি কিংবা মীনামা, কারণ কোনওরকম আবেগের বহিঃপ্রকাশের ব্যপারে আমার মা অতিরিক্ত সংযত আজীবন। বাবা তো ঘামত খুব, একেবারে গলগল করে জলের মত নেমে আসত ঘামের ধারা গাল কপাল বেয়ে অনর্গল। চুমু খেতে গিয়ে মুখ ভিজে যেত আমার, আদর করতে গিয়ে হাতও। ফ্রকের সামনেটা তুলে মুছে নিতাম। আগে যখন পৌণে ন’টায় ভারতী সিনেমার উল্টোদিকে বাসের জন্য গিয়ে দাঁড়াতে হত তখনও বাবা তৈরী হয় নি। হয়ত স্নান করে এসেছে নয়ত টোস্ট আর নরম তুলতুলে স্ক্র্যাম্বলড এগ দিয়ে প্রাতরাশ করছে, আমি ইস্কুল ড্রেস পরে গিয়ে দাঁড়াতাম। জুতো পরা হয়ে গেছে তাই খাটে উঠতে পারব না, বাবা দাঁড়িয়ে থাকলে কুঁজো হয়ে দাঁড়াত আর আমি বুড়ো আঙুলে ভর দিয়ে ডিঙি মেরে গলা জড়িয়ে ধরতাম। ... ...

কৈশোর থেকে যৌবনের উড়াল। বদলে যায় পরিবেশ। বদলে যায় স্বজন-বান্ধব-পরিচিতি। বদলে যায় সময়। বদলে যায় জীবন, পুর্ব-লালিত ধ্যান ধারণা। সবার নয়, কারোর কারোর। এ বদলের ছাপ আবার সবসময় বাইরে পড়ে না। তাই আশেপাশের অজান্তেই ঘটে যায় অদল-বদল। আর কখনো কখনো এই বদলের কেন্দ্রে থাকে একটি জড়বস্তু। একটি শিক্ষাস্থান। খিড়কী থেকে সিংহদুয়ারের জীবনে খোলা হাওয়া। বদলের ক্যাটালিস্টও। জীবনে বদলই ধ্রুব। জ্ঞানীরা তাই বলেন। তবু কতটা সহজ হয় এই অন্তর-যাত্রা? কতটা মূল্য দিতে হয়? ... ...

... ভারতের কর্নাটকে হিজাব বিতর্কের পর থেকেই এপারে মৌলবাদী গোষ্ঠি পাল্টা আঘাতের জন্য মুখিয়ে ছিলেন। আর কিছুদিন আগেই দুর্গা পূজাকে কেন্দ্র করে ছক কাটার মৌলবাদী নকশায় একের পর এক মন্দির ও মণ্ডপ পুড়েছে। হিন্দুদের ঘর-বাড়ি-ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন দেওয়া হয়েছে। খুন হয়েছেন বেশ কয়েকজন।... ... ...

[ আমার চোখে দেখা আর হৃদয়ে্র অনুভবে জারিত এই ছোট্ট ছোট্ট চিকিৎসা সংক্রান্ত ঘটনাগুলি এখনো মোছেনি আমার মাথার স্মৃতিকোষগুলোর থেকে। তার থেকে তুলে আনা এই মণি-কাঞ্চনগুলোয় যেমন পেয়েছি সাক্ষাৎ ভগবানদের, তেমনি কিছু কিছু সাংঘাতিক ঘটনা নেহাৎ-ই সহ্য করেছি উপায়ান্তরহীন যাপনে। ক্রোধে ফেটে পড়েছি মননে। রক্তচাপ বাড়িয়েছি বারংবার – মধ্যবিত্ত মনোভাবনায়। পেয়েছি আচম্বিত বাড়ানো হাত - অকাতর অকৃপন স্পর্শে। কৃতজ্ঞতাও হয়তো অব্যক্ত ছিল আমার পক্ষে সে সময়। তো এইসব ছিন্নবিচ্ছিন্ন ঘটনার কিছু রেশ গ্রন্থিত করছি প্রাণের আনন্দে। এখনো বেঁচে আছি, বেঁচে আছে আমার প্রজন্ম। তাই ভগবানের নামকীর্তন যেমন করেছি অক্লেশে, আবার সেই ‘আতঙ্ক’ চলচিত্রের মতো যেন কিছুই দেখিনি আমি হয়ে পাল্টেছি চরিত্র কিম্বা স্থান-নাম। মহাবীর-বুদ্ধ-নানক-রামকৃষ্ণের পুণ্যভুমিতে আজ হিংসা পৌনঃপুনিকতায় ছড়াচ্ছে বিদ্বেষের লাল আগুন। যে আগুন শুধুই ভস্ম-জন্ম আহ্বান করে। নিরুপায় আমি করজোড়ে মার্জনা চাইছি আমার এটুকু অপৌরুষেয়তার।] ... ...

নগ্নতাকে গিন্সবার্গ বরণ করে নিয়েছিলেন জীবনবোধ হিসেবে। আক্ষরিক অর্থেও যেমন, কবিতায়-শিল্পেও ঠিক তেমন-ই। লিখেছিলেন, “Scribble down your nakedness. Be prepared to stand naked because most often it is this nakedness of the soul that the reader finds most interesting”। সত্যিই তো, নিজেকে সম্পূর্ণ উন্মোচন না করলে সত্যিই কি পড়া যায় প্রত্যেকটি বলিরেখা? পুরোপুরি সৎ হওয়া যায় শিল্পের কাছে? গিনসবার্গ সত্যিসত্যিই বিশ্বাস করতেন, “Candor ends paranoia”! ... ...

যে দেশে কিছু না করেই অল টাইম দৌড়ের উপরে থাকতে হয় হিন্দুদের, যে দেশে তাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসবে পরিকল্পিত ভাবে ম্যাসাকার করা হয় এবং যার কোন বিচার হয় না, যে দেশে নিয়ম করে প্রতিমা ভাঙা হয়, যে দেশে গুজবের উপরে ভর করে পুরো গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া হয় কোন বিচার হয় না, সেই দেশে কেউ হিজাব পরার অপরাধে মারছে! কোন মাপের মগজহীন মানুষ হলে এইটা বিশ্বাস করা সম্ভব? ... ...

মার্চের মাঝে কলকাতা থেকে ফিরে দেখি আমাদের বাস ভবন ত্রাণ সামগ্রীর বৃহৎ গুদামে পরিনত হয়েছে। বাড়িতে তিল ধারণের জায়গা হয়তো আছে কিন্তু আমার নিজের স্থান অত্যন্ত সঙ্কীর্ণ। চতুর্দিকে ছড়ানো কালো প্লাস্টিকের ব্যাগ, পেল্লায় সুটকেস। এখানে ওখানে শুকনো খাবারের প্যাকেট এমনকি দশ কিলো বাসমতী চালের বৃহৎ ব্যাগ! প্রতিদিন আসেন আরও মানুষ, দিয়ে যান ত্রাণ সামগ্রী। এখুনি নিকটবর্তী গ্রাম অ্যাশ ভেল থেকে দুজন এলেন – বব এবং পলিন, এখানে ত্রাণ সংগ্রহ হচ্ছে খবর পেয়েছেন কোথাও থেকে। ববের বয়েস আশি, ছিলেন ব্রিটিশ আর্মিতে (মালয়, সাইপ্রাস, জার্মানি) পলিন আটাত্তর, আর্মিতে নার্স। তাঁদের বিয়ে হয় হানোভারে, পুরনো আউডি চালিয়ে হনিমুনে গেছেন জালতসবুরগ। ... ...

অতএব প্রতি বছরের নিয়মিত পরিযায়ী জীবন ছেড়ে আদিম মানুষ এখন হয়ে উঠছে গ্রামবাসী। তাদের ঘরবাড়ি-বাসা এখন আর আগের মতো অস্থায়ী নয়। কাঠের কাঠামো আর মাটির দেওয়াল, বড়ো পাতা, লম্বা লম্বা শুকনো ঘাসের ছাউনি দিয়ে তারা মোটামুটি পোক্ত বাড়ি বানাতে শিখে গেছে। শিকারী-সংগ্রাহীদের যাযাবর জীবন এখন ধীরে ধীরে গৃহস্থী হয়ে উঠছে। এতদিনের যে জীবনযাত্রায় তাদের ছিল ন্যূনতম প্রয়োজনীয়তা, সারল্য এবং কঠোর বাস্তবতা, এখন তাদের জীবনে আসছে কিছু কিছু বিলাসিতা, কিছু আড়ম্বর এবং কিছু কিছু শিল্পকলাও! ... ...

মঙ্গলবার সকালে গাড়িতে পেট্রোল ভরলাম ১১৪ টাকা ২২ পয়সা দরে। আজ সকালে দেখলাম কলকাতায় পেট্রোলের লিটার আরও বেড়ে ১১৫ টাকা ১২ পয়সা। খবরের কাগজ বলছে, "এখনও পর্যন্ত এটাই তার সর্বোচ্চ দর"। এই পর্যবেক্ষণ বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে নেহাতই অসার। সংসদে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে আলোচনার গলা টিপে দেওয়া হচ্ছে। তবু এই পরিস্থিতেও জনজীবনে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সোচ্চার প্রতিবাদ টের পাওয়া যাচ্ছে না। ব্যক্তিগত অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার মরীয়া তাগিদে বিনা প্রশ্নে, বিনা প্রতিবাদে, পরিস্থিতির সঙ্গে আপস করে সব কিছু মেনে নেওয়াই বোধ হয় ভবিতব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে বা যাঁরা এই পরিস্থিতির জাঁতাকলে পড়ে সহ্যের শেষ সীমায় চলে যাচ্ছেন, তাঁরা মর্মান্তিক ভাবে চরম পদক্ষেপ বেছে নিচ্ছেন। সস্তা-গন্ডার দিনকালের কথা পাওয়া যায় সুরসিক যম দত্তের রম্যরচনাতে -- "আশু মুখুজ্জে মহাশয় যখন ভীমনাগের দোকান হইতে রোজ রোজ করিয়া সন্দেশ খাইতে আরম্ভ করেন, তখন সন্দেশের সের চোদ্দ আনা দাঁড়ায় আর এখন?... " সন্দেশের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে তিনি বাঙালির মেধা ও বুদ্ধিবৃত্তির চূড়ান্ত চাঞ্চল্যকর তুলনা করেছেন। তাঁর ভাষাতেই ব্যাপারটা বোঝার চেষ্টা করা যাক -- "যখন সন্দেশের সের দুই আনা তিন আনা তখন দেশে রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, মাইকেল মধুসূদন দত্ত জন্মাইয়াছেন, যখন সন্দেশের দর চার আনা ছয় আনা তখন দেশে বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ জন্মাইলেন, যখন সন্দেশের সের এক টাকা, দেড় টাকা তখন দেশে সুনীতি চাটুজ্জে, সত্যেন বসু, মেঘনাদ সাহা জন্মাইয়াছেন; যখন সন্দেশের সের দুই টাকা, আড়াই টাকা তখন শ্যামাপ্রসাদ, সুভাষ বসু জন্মাইয়াছেন। আর এখন ছয়, সাত টাকা সের সন্দেশ কয়জনেই খাইবে?...বাঙালি মরিয়া গেল।" ... ...

কর্পোরেট মিডিয়াতে বিশ্লেষণ থাকেনা। আমার সামান্য জ্ঞানবুদ্ধিতে যা মনে হলো, তাই লিখলাম। কারণ, আজ শ্রীলঙ্কা, কাল ভারত ও বাংলা। ... ...

সি ভিরুথাচলম। ১৯০৬- ১৯৪৮। অবশ্য এই নামে ওঁকে কম লোকই চেনে। ইনি বরং পরিচিত পুধুমাইপিঠান নামে। তামিল সাহিত্যের এক বিশিষ্ট লেখক। স্বল্পস্থায়ী জীবনে প্রায় শতখানেক ছোটগল্প লিখেছেন। সেই সঙ্গে প্রবন্ধ ইত্যাদি। সাহিত্য একাদেমি ওঁর ছোটগল্পের একটি সংকলন বার করেছে। সেটি দেখার সৌভাগ্য হয়নি। Saba Vimochana ওঁর লেখা একটি বিখ্যাত ছোটগল্প। ইন্টারনেটে এই গল্পের একটি K Sarvanan কৃত অনুবাদ পড়ে অসম্ভব মুগ্ধ হই। গল্পের জোরালো বক্তব্য ভাষার সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠে এসেছে। সেই ইংরাজি অনুবাদের থেকে বাংলায় অনুবাদের চেষ্টা এই গল্প। দুধের স্বাদ অবশ্যই ঘোলে মেটে না। তাই এই অনুবাদের অনুবাদ পড়ে যদি কেউ এই লেখকের সৃষ্টি সম্বন্ধে উৎসুক হন সেটাই এই অনুবাদকের প্রাপ্তি হবে। ... ...

কৈশোর থেকে যৌবনের উড়াল। বদলে যায় পরিবেশ। বদলে যায় স্বজন-বান্ধব-পরিচিতি। বদলে যায় সময়। বদলে যায় জীবন, পুর্ব-লালিত ধ্যান ধারণা। সবার নয়, কারোর কারোর। এ বদলের ছাপ আবার সবসময় বাইরে পড়ে না। তাই আশেপাশের অজান্তেই ঘটে যায় অদল-বদল। আর কখনো কখনো এই বদলের কেন্দ্রে থাকে একটি জড়বস্তু। একটি শিক্ষাস্থান। খিড়কী থেকে সিংহদুয়ারের জীবনে খোলা হাওয়া। বদলের ক্যাটালিস্টও। জীবনে বদলই ধ্রুব। জ্ঞানীরা তাই বলেন। তবু কতটা সহজ হয় এই অন্তর-যাত্রা? কতটা মূল্য দিতে হয়? ... ...

সঠিক সংজ্ঞা গুলি মেনে নিলে আধুনিক সভ্যতার ইতিহাসে প্রথম গণহত্যার কৃতিত্ব জার্মানদের প্রাপ্য। স্থান জার্মান দক্ষিণ-পশ্চিম আফ্রিকা, আজকের নামিবিয়া, কাল ১৯০৪। হেরেরো নামের স্থানীয় উপজাতির বিরোধিতায় ক্ষিপ্ত জার্মান সেনাপতি লোথার ফন ত্রথা নামের এক সেনাপতি লিখিত আদেশ দেন – "হেরেরো জাতিকে সমূলে বিনাশ করতে হবে, শুধু বন্দুকের গুলিতে নয়, তাদের ঠেলে পাঠাতে হবে এমন অঞ্চলে যেখানে জল নেই। "আশি হাজার হেরেরো নিধনের সা পরে জার্মান কাইজারকে লিখলেন, "যেসব পুরুষ নারী ও শিশুকে পেয়েছি তাঁদের নির্মমভাবে (গ্নাদেনলোস) হত্যা করেছি। এদের কারো কাছে অস্ত্র ছিল না।" ফিল্ড মার্শাল আলফ্রেড ফন শ্লিফেন সমর্থনে বলেন, "একটা জাতির বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই – তাদের বিনাশ আমাদের লক্ষ"। হিটলারের বয়েস তখন পনেরো, গোয়েরিঙের এগারো, দুনিয়ার আলো দেখতে আইখমানের দু বছর বাকি। ... ...

তখন দক্ষিণ কোলকাতায় একটা বড় ক্লাবের প্রথম শীতের সময়ে ফাংশন। অনেকের সাথে টেক্কা দেবার চেষ্টা এদের – কিন্তু পয়সা থাকলেই তো হবে না, বনেদীয়ানা দেখাতে হলে ভালো শিল্পী-কে এনে আর্ট-কালচার লাইনে নাক গলাতে হবে। এই ক্লাবের একজনের সাথে হেমন্ত মুখার্জী-র চেনাশুনা। সেই ভদ্রলোক গিয়ে হেমন্ত-বাবুকে ধরলেন – বোম্বে থেকে লতা-দিদিকে বলে কয়ে আনতেই হবে ফাংশনে। হেমন্ত বাবু আবার এমন অনুরোধ ফেলতে পারেন না। লতাকে ফাংশানে আনবেন বলে কথা দিলেন। ... ...

অমরদার পুরস্কার তো আমাদেরই পুরস্কার। যখন রিয়েলিটি শোতে ঢেকে যাচ্ছে দুনিয়া, লেখা-টেখা যা হচ্ছে, তাও বেশিরভাগই ভূত-প্রেত-তন্ত্র-মন্ত্র, যখন বিকট উচ্চকিত আলোর দুনিয়ায় শিল্পীরা ক্রমশ ব্রাত্য হয়ে যাচ্ছেন, তখন যেকোনো সৃষ্টিশীল মানুষ স্বীকৃতি পেলেই মনে হয়, নিজেদের স্বীকৃতি। তার উপর এ তো অমরদা। এই তো সেদিনই গুটিগুটি স্টলে এসে চেয়ারে বসলেন, দুচারটি বাক্যবিনিময় হল। ফিল্মফেয়ার পাওয়া শিল্পী এলে ভিড় জমে যেত, অকাদেমী পাওয়া লেখক হলে, তেমন হয়না, কী আর করা যাবে। বুকার-টুকার পেলে হয়। অরুন্ধতী রায় কি ঝুম্পা লাহিড়ি এলে ভিড়ের সঙ্গে দুচাট্টি ক্যামেরাও কি আসতনা? এবার অমরদা এলেও হবে নির্ঘাত। তাতে যে অমরদার দুটি নতুন হাত গজাবে তা নয়। উনি যা লিখেছেন, তা তো আর একটা পুরস্কারে বদলে যাবেনা। এবং এ মোটেই আনন্দের ব্যাপারও না, যে বিদেশী পুরস্কার পেলে তবেই আমরা টের পাব ঘ্যাম কিছু একটা হচ্ছিল বটে। কিন্তু ও আমাদের ঐতিহ্য। রবীন্দ্রনাথও, শুনেছি, বিশ্বভারতীর খাটা-পায়খানার জন্য পয়সা তুলতে কলকাতায় মুখের ফেনা তুলে ফেলেছিলেন, তারপর যেই নোবেল পেলেন, ট্রেন রিজার্ভ করে আস্ত কলকাতাই বোলপুরে হাজির। নোবেল বাবা, ইয়ার্কি না। ... ...

গতকাল হাঙ্গেরিতে ভিকতর অরবান এবং সার্বিয়াতে আলেকজান্দার ভুচিচ যথাক্রমে প্রধান মন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হলেন। এই সেই অরবান যিনি ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সকল আইনকে কলা দেখিয়ে আপন রাজনীতি করেন। আলেকজান্দার ভুচিচ রাশিয়ার বিরুদ্ধে কোন স্যাঙ্কশনের বিরোধী , যদিও তিনি ইতিমধ্যে ই উ তে ভর্তি হবার দরখাস্ত করেছেন। তাঁর মতে এ দুটি স্বতন্ত্র ব্যাপার। এঁরা শ্রী পুতিনের প্রিয়জন - তিনি দুজনকেই আজ সকালে আশীর্বাদ জানিয়েছেন। তারতুর ক্রিসটা, কাউনাসের এভেলিনার কাছে শুনি আগামী মে মাসের ন তারিখে একটি সংঘর্ষের বিপুল সম্ভাবনা। সোভিয়েত আমল থেকে প্রতিবছর সেই দিনটি পালিত হয় মহান দেশপ্রেমিক জনযুদ্ধের বিজয় দিবস রূপে। ইউক্রেনের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বালটিক দেশগুলির সরকার এই দিবসটিকে পূর্ণ সমারোহে উদযাপন করার অনুমতি নাও দিতে পারেন। তখন কি হবে? রাশিয়ানরা প্রবল বিক্রমে পথে নামবেন ইউক্রেনে যুদ্ধের সমর্থনে। এই জল তরঙ্গকে রুধিবে কে? ... ...