
তাই তো ক্লডিয়ার নোবেল জিতে নেওয়া আমাদের মতো মহিলাদের কাছে বড় খবর। আমরা যারা একসাথে রাঁধতে আর চুল বাঁধতে গিয়ে হিমশিম খাই, যাদের খোঁপাও খুলে যায়, ফোড়নটুকুও পুড়ে যায়, ক্লডিয়ার গবেষণা তাদের কাছে নতুন উদ্যম এনে দিল। ... ...

যুদ্ধ হচ্ছে, যুদ্ধ হবেও। আজকাল দু'তরফের সমর্থনে অজস্র যুক্তি-কুযুক্তি-প্রতিযুক্তি শুনতে শুনতে, দেখতে দেখতে সব গুলিয়ে যায়! এলোমেলো মনের ভেতর আজকের নিহত-আহত-ক্ষতিগ্রস্ত প্যালিস্টিনীয় আর ইসরায়েলি শিশুদের আতঙ্ক আর অসহায়তার সঙ্গে কেমন করে যেন একাকার হয়ে যায় কোন ১৯৪৭ এর দেশভাগজনিত দাঙ্গায় সব হারানো শিশুদের কান্না আর অনপনেয় ক্ষতবোধ। ইতিহাস বা রাজনীতির ঠিক-ভুল, ন্যায়-অন্যায়ের সমস্ত হিসেব নিকেশের বাইরে, যুদ্ধ-দাঙ্গা-সন্ত্রাসের ভাগাভাগি ভেঙে, দেশ কাল সময়ের সমস্ত গন্ডি পেরিয়ে অগুনতি-অগুনতি অপাপবিদ্ধ, অনপরাধ শিশুর দেহমনের অন্তহীন যাতনার অন্ধকারই জীবনের বুকে মৃত্যুর মতো একমাত্রতম সত্যি হয়ে জেগে থাকে। আর কিচ্ছু নয়।। ... ...

মনের আকাশে ... ...

জমে উঠেছে এই রেস ভিডিও গেমসের মত। বিচিত্র ব্যাপার, বাসগুলোতে এই কোন লোক নেই, আবার এই লোকে ভর্তি হয়ে গেছে। যেমন, এই মুহূর্তে বাংলামোটরের মোচড়ে যখন দাঁড়িয়ে, তখন কমে গেছে এদের কারো কারো জনবল আশংকাজনক হারে। সিগনালের জ্যাম অস্বাভাবিক দীর্ঘায়িত হচ্ছিল। পেছনে পড়ে থাকা বাসগুলোকে দেখে মনে হচ্ছিল অনন্তকাল ধরে এই স্থানেই বাস করবে। যখন বাঁয়ের বাসটির ভেতর থেকে গলা বাড়িয়ে ডেকে ডেকে লোক ভরা হচ্ছিল আর এক ফাঁকে হেল্পার নেমে পড়েছিল অদূরে জিহবা বেরিয়ে থাকা ডাস্টবিনটার কোনায়, ঐ মেয়ে দুজনের একজন অগ্নিমূর্তি ধারণ করল, আর নিজেদের বাস ড্রাইভারকেই হুংকার ছাড়ল, “এই ছ্যামড়া, সিগ্নাল দেখলেই কি তোর দাঁড়াইতে মন চায়”, পেছন থেকে উৎসাহ পেয়ে এক যুবক বয়সী বলে উঠে ‘হেল্পার হালায় একটা মাদারচোদ! থামলেই মুত আহে’। ... ...

সেই কোন মহাকাব্যের যুগের যশোমতী হয়ে রানি সুগন্ধা, দিদ্দা কিংবা কোটার প্রশ্নাতীত ঔজ্জ্বল্যের সামনে কিছুটা আবছা হয়ে থাকা সেই সকল সফল নারীদের কাহিনীও সংক্ষেপে ধরা রইল এই লেখাটির মধ্যে….।মহাকাব্যের যুগের রানি যশোবতী থেকে সুগন্ধা, দিদ্দা, কোটা রানির প্রশ্নাতীত ঔজ্জ্বল্যের সমুখে বিস্মৃতা মধ্যযুগের গুল খাতুন আর বিবি হাউরাদের মতো একের পর এক দাপুটে মেয়ে কখনও নিজেরাই সিংহাসনে বসে, কখনও বা কোন রাজার সহযোগিনী হিসেবে এক সুদীর্ঘ সময়কাল জুড়ে নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন ভূস্বর্গ কাশ্মীরের রাজনীতিকে। পড়তে গিয়ে দেখেছি, এঁরা প্রত্যেকে একেক জন মূর্তিমতী আনকোরা আবিষ্কার। সব দিক থেকেই বড্ড আকর্ষণীয় এই মেয়েদের কথা সবার জন্য লেখার ইচ্ছেও ছিল অনেকদিন। যতটুকু খোঁজ পেয়েছি, তার বাবদে বলতে পারি মহারানি দিদ্দা সম্পর্কে খবরের কাগজে লিখিত ফিচার আর ইংরেজি উইকিপিডিয়ার ভয়ানক বাংলা অনুবাদ ব্যতিরেকে আমাদের মাতৃভাষায় প্রাচীন ও মধ্যযুগের কাশ্মীরি রাজনীতির অবিস্মরণীয় মেয়েদের বিষয়ে সম্ভবত এই প্রথম লেখা হল। ... ...

মধ্যপ্রদেশ ভৌগোলিক ভাবে ভারতের হৃদয় কিন্তু ওখানকার মানুষের সহৃদয়তার পরিচয়ও আমি বারংবার পেয়েছি ... ... ...

হামাস অবশ্যই সন্ত্রাসী। তাদের জন্যে আমার কোনো সহানুভূতি নেই। তবে, মার্কিনি ও ব্রিটিশদের অন্ধ সমর্থন ছাড়া আজ এ অবস্থার সৃষ্টি হতোনা। সেটাই আসল ইতিহাস। ... ...

২৬ বছর বয়সকালে নিজের কাশ্মীর রাজ্যের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক শক্তি বৃদ্ধি করার জন্য "চরণহীনা" দিদ্দাকে বিবাহ করলেন কাশ্মীররাজ ক্ষেমগুপ্ত। কাশ্মীরে এসে দিদ্দা যে দিকে তাকান, দেখেন তিনি কেবলই শত্রু দ্বারা পরিবেষ্টিত। দেখেন অত্যাচারী, দুশ্চরিত্র ক্ষেমগুপ্তের বকলমে রাজপাট চালাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তথা ক্ষেমগুপ্তের অন্যতমা রানি চিত্রলেখার পিতা ফাল্গুন। কিন্তু প্রবল বুদ্ধিমত্তার জোরে দ্রুত বাকি সকলকে সরিয়ে ক্ষেমগুপ্তের ওপর নিজের একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করলেন দিদ্দা। কাশ্মীরি রাজনীতিতে শুরু হল "দিদ্দার যুগ''...। ... ...

যশোবতীর পরে কাশ্মীরের সিংহাসনে বসেছিলেন রানি সুগন্ধা, রানি দিদ্দা, রানি কোটা। এর পাশাপাশি নাবালক রাজাদের অভিভাবিকা হিসেবে স্বাধীনভাবে রাজ্যচালনা করেছিলেন আরও অনেক হিন্দু এবং মুসলমান নারীও। তবে ব্রাহ্মণ্য ধর্মের স্বীকৃতি সত্ত্বেও বিতস্তা তীরের জটিল রাজনীতিতে নারীদের এগোনোর পথ সুগম হয়নি কোনদিন। তবু তাঁরা দৃপ্তপদে এগিয়েছেন আর সকল প্রতিস্পর্ধার মুখোমুখি নির্ভীক দাঁড়িয়ে বুঝে নিয়েছেন তাঁদের ন্যায্য অধিকার। যশোবতীর বহু শতাব্দী পরেকার হলেও উৎপল বংশের রানি সুগন্ধার কাহিনীও বলে যায় সেই একই কথা…। ... ...

শ্রীকৃষ্ণ বললেন, "কাশ্মীরের ভূমি স্বয়ং পার্বতী। কাশ্মীর রাজ হলেন শিবের অংশ। রাজকর্তৃত্ব মন্দ হলেও মঙ্গলকামী জ্ঞানী মানুষের তাঁকে অবজ্ঞা করা অনুচিত। পুরুষের যে চোখগুলি নারীকে সুখভোগ্য পণ্য মনে করে তাঁর দিকে অসম্মানসূচক দৃষ্টিপাত করত, তারাই তাঁকে প্রজাদের দেবীস্বরূপা মাতা হিসেবে গ্রহণ করল।" এই উক্তির সূত্র ধরে আসুন এই লেখায় আমরা ভূস্বর্গ কাশ্মীরের মহাপরাক্রমশালিনী শাসিকাদের কাহিনী পাঠ করে দেখি। ... ...

মনে পড়ে ... ...

পরিচ্ছন্নতায় ভারত কোনোদিন সুইজারল্যান্ড বা সিঙ্গাপুরের ধারে কাছে আসবে এমন দুরাশা নেই তবে মানুষজন একটু সচেতন হলে ভারতও কিছুটা .... ... ...

গ্রামের সবাই ক্রমে জেনে গেল সাহা বাড়ির ছোট ছেলে মৃগনাভির ব্যবসায় নামবে বলে কাঠের বাক্স খুঁজছে সন্ধ্যেবেলায় উঠোন সরগরম হল কাঠের গল্পে কেউ বলল জলশিরীষই ভালো, কেউ বলল জামপুকুর পাড়ের মেহগিনী গাছটার বয়সও তো হল চল্লিশ ... ...


পুরোন জিনিষ বাতিল হোক, বিক্রি করে দেওয়া যাক পুরোন কাগজ, পুরোনো বই, আর হ্যাঁ মেরুদণ্ডগুলোও। ... ...

ইয়ানির থেমে থেমে হোঁচট খাওয়া কন্ঠ থেকে বেরোনো শব্দগুলি ছিল গভীর সহানুভূতি মাখা। শারীরভাষ্যে ছিল দ্বিধাগ্রস্ততা - যেন দর্শকদের কাছে একদা সঙ্গীতের রাজকুমারের পরিচয় দেওয়া কী আমার সাজে? অকৃত্রিম আন্তরিকতার এহেন অভিব্যক্তি আরোপিত মনে হয় নি। এমন অভিব্যক্তি আসে গভীর উপলব্ধি থেকে যে, যতই আমরা নিজেদের আজ মহান ভাবি না কেন হয়তো ভবিষ্যতে কখনো আমাদের কাউকে তলিয়ে যেতে হতে পারে অপ্রাসঙ্গিক বিস্মৃতির অতলে। ... ...

মানুষ ! ... ...

একটা মচমচে মাছ ভাজার গন্ধ তাতিয়ে দিতে লাগলো দীপকে! পড়ার টেবিলে আর মন বসল না; ‘বাবা নেই’ সুযোগটা কাজে লাগিয়ে ড্রইয়িং রুমের রিমোটটা হাতে তুলে নিল। ব্রেকিং নিউজটা এখন হেডলাইনে কনভার্ট হয়েছে, মানুষ ভেঙে পড়ছে প্রয়াত নায়কের বাড়িতে, একের পর এক সাক্ষাৎকার আসছে, ক্যামেরাম্যান হুমড়ি খেয়ে পড়েছে! ... ...

'আমরা দিবসে' বাস্তবে কিছু করতে না পারার মর্মবেদনায় একান্তে মোবাইলের পর্দায় আঙুল চলে। বটের চারা বীজ ছাড়াই জন্মায় কাকের পটি থেকে - আমার বেশিরভাগ বাঁজা লেখাও তেমনি, বিশেষ বিষয়ে সুলিখিত নিবন্ধ নয়, সামান্য স্ফূলিঙ্গ থেকে বুশফায়ার। বটুদার জমি না হলেও চলে - পুরোনো বাড়ির প্যারাপেট, ভাঙা পাঁচিল থেকেই বটুছেনু মাথা তোলে - সাপের মতো ফাটল ধরে শেকড় চালিয়ে, ঝুরি নামিয়ে বাড়ে। আমার বেশিরভাগ লেখাই তেমনি - সম্পাদিত পত্রিকার উপযোগী নয়। তাই গুরুচণ্ডালিতে নামাচ্ছি এইসব হ্যাজ। এসব আসলে কিছু টুকরো উপাখ্যান, উপমা, পার্শ্বপ্রসঙ্গ সহযোগে তৈরী হাওয়াই মেঠাই বা Cotton candy. বট ফুল লাগে না পুজোয়, তার ফলও খায় কাক শালিখে। আমার এসব লেখাও তেমনি। ... ...

কিন্তু গপ্পো না হলেও, মোটা দাগের ঘটনাবলীও কম রোমাঞ্চকর নয়। এর পরের বছর, অর্থাৎ ৫৪ সালেই ঘটে আরও এক কান্ড। সিনেমা নিয়ে নেহরুর ধারণা এবং তাতে সোভিয়েত মদতের কথা আগেই বলা হয়েছে। এর আগে থেকেই সেই ধারণা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছিল। অর্থাৎ জনপ্রিয় সিনেমা হবে, কিন্তু তাতে শ্রমিক-কৃষক সংক্রান্ত 'বাম' ধারণা গুঁজে দেওয়া হবে। ১৯৫১ সালে এই ঘরানার প্রথম দিকের একটা ছবি রিলিজ করেছিল, যার নাম আওয়ারা। এর চিত্রনাট্যকার ছিলেন, খাজা আহমেদ আব্বাস, যিনি একাধারে আইপিটিএর লোক, নেহরুর খুবই ঘনিষ্ঠ, ক্রুশ্চেভের সঙ্গে ভুল রাশিয়ানে আড্ডা দেন, গ্যাগ্যারিনে মহাকাশ থেকে ফিরলে যেকজন প্রথম দেখা করেন তাঁদের মধ্যে একজন, এবং সর্বোপরি ৪৮ সালের পার্টি-লাইনে বিরক্ত - এই প্রকল্পের পক্ষে আদর্শ। তিনি এবং রাজকাপুর দুজনেই "আওয়ারা" সিনেমাটাকে "প্রগতিশীল" বা "ভবঘুরে জন্মায়না, তৈরি করা হয়" জাতীয় আখ্যা দিয়েছিলেন সে সময়। এবং বস্তুত চিনে এক ঝটিকা-সফর সেরে এসে আব্বাস এই সিনেমায় হাত দেন। এর পরের বছরই তিনি বানান রাহি। আওয়ারা ছিল হিট এবং রাহি ফ্লপ। ... ...