
ফরিশতা ও মেয়েরা! কোথা থেকে যে শুরু করি বুঝে উঠতে পারছিনা। বইটি ঘরে ফেরত আসার পর আবার একবার গোটা বইয়ের তেরোটি গল্প তাড়িয়ে তাড়িয়ে পড়লাম। দ্বিতীয় বারের পড়ায়ও ততটাই নতুন লাগলো যা কিনা প্রথমবার লেগেছিল। বরং বেশ কিছু বিষয় আরো আরো স্পষ্ট হয়ে ধরা দিলো। চারপাশের নতুন নতুন অধরা বিষয়গুলো তাঁর গল্পে স্থান পেয়েছে। ... ...

অফিসের কাছাকাছি একটা ট্রাফিক সিগনালে রোজ দাঁড়াতে হয়। অভ্যাসের বশে দাঁড়িয়ে পড়ল সেখানে, অথচ আজ সিগনালের রঙ সবুজ। একশ’ কিলোমিটার স্পিডের রাস্তায় সবুজ আলোয় দাঁড়িয়ে পড়েই বুঝল – ভুল করেছে, তবু, শোধরানোর চেষ্টা করল না, দাঁড়িয়েই রইল, দাঁড়িয়ে রইল ঠায় – যেন সে চলচ্ছক্তিহীন; চোখ যতদূর যায়, ঢালা পিচরাস্তায় খণ্ড খণ্ড জলতল, বাষ্প উঠছে সেখান থেকে। পঙ্কজ তার ভাগ্যের কাছে নিজের হৃৎপিণ্ড বন্ধক দিয়ে বসে রইল – যা কিছু ঘটে যেতে পারে এই মুহূর্তে – হয়তো একটা কলিশন, হয়তো চুরচুর হয়ে যাবে গাড়ি, তালগোল পাকিয়ে যাবে পঙ্কজ নিজে – শেষ হয়ে যাবে সব। ... ...
নিজেদের জমি, নিজেদের শহর – যেখানে মাথার উপর ছড়ি ঘোরানোর জন্য কোনো সাদা লোক মজুত নেই, আসতে চাও না এমন একটা জায়গায়? যেখানে বাঁচার জন্য সারাক্ষণ বুকে পাথর নিয়ে ঘুরে বেড়াতে হয় না, সাদা মেয়েদের দিকে চোখ তুলে চাইলে বেঘোরে মারা যাওয়ার কোন ভয় নেই। চাও না এমন একটা পিঠসোজা করা শান্তির জীবন? এভাবেই বলত ইশাইয়া। তার কথায় আগুনের ফুলকি থাকত, মুখে মুখে ছড়িয়ে যেত রঙমশাল। ... ...


জানো, ভাবলাম সিগারেট খেয়ে দেখি। বাবার প্যাকেট থেকেই সিগারেট খেলাম। মা তো বাথরুমের সামনে গিয়ে (বাবা তখন স্নানে) চেঁচাচ্ছেন... দ্যাখো, তোমার মেয়ে কী করছে! বাবা কিছুই বললেন না! তারপর আরো এক কাণ্ড। বহুরূপীতে হিমাংশু কাকা বললেন – তুই সিগারেট খেতে পারিস? আমি বললাম – এ আর এমন কী? পারি তো! তবে আমি ঐ সব চারমিনার-টিনার খাই না, ডানহিল-টিল হলে খাই। হিমাংশুকাকা বললেন – এই নে, খা। ছোটবেলায় একেকটা অদ্ভুত জায়গায় অহংকার থাকে না? যে এটা আমি পারব না? খেলাম। আর বহুরূপী ভীষণ ডিসিপ্লিন্ড জায়গা। সেখানে আমি সিগারেট খাচ্ছি – সবাই ভয়ে কাঁটা। যথারীতি বাবার কানে উঠে গেল। বাবা ডেকে বললেন – তুই সিগারেট খেয়েছিস? খেতে পারিস, সেটা কিছু নয়, তবে কিনা গলাটা খারাপ হয়ে যাবে... অভিনয়টা আর করতে পারবি না। বাবার ঐ ধরণ ছিল। ... ...

না, গত পাঁচশ’ বছরে এমন শীত কেউ দেখেনি, তাপমাত্রা এইভাবে কখনো মুখ থুবড়ে পড়েনি। এই তো সেদিন হঠাৎ ধেয়ে আসা তুষার ঝড় আর বরফ এক রাতে মেরে ফেলেছে ২০০০ সুইডিশ সৈন্যকে – যারা রাশিয়ার সীমান্তে ঘাঁটি গেড়ে বসেছিল। ভেনিসে বড় বড় খাঁড়ি জমে এমন হয়েছিল, যে মানুষ তাদের ওপর চলতে গিয়ে দেদার আছাড় খাচ্ছে। সুইজারল্যান্ডে ক্ষুধার্ত নেকড়েরা দলবদ্ধভাবে গ্রামে ঢুকে পড়ছে। পুরো বাল্টিক সাগর জমে পাথর। সমস্ত নদী জমে পাথর, যানবাহনের অভাবে ব্যবসা লাটে উঠেছে। প্রথম প্রথম লন্ডনবাসী মহা ফূর্তিতে জমে যাওয়া টেমসের ওপর স্কেটিং, খানাপিনা ইত্যাদি করছিল। তারপর অবস্থা দাঁড়াল – ছেড়ে দে মা, কেঁদে বাঁচি। ... ...

তবে জাউ হলে দারুণ আনন্দ হত। ব্যাপারটা একটু বুঝিয়ে বলতে হবে। শীতের সকালে একদিন ঘুম থেকে উঠে শুনি, খুব হৈ হৈ হচ্ছে। সবাই খড়ের গাদার দিকে তাকিয়ে আছে। আমি তড়বড়িয়ে খড়ের গাদাটা কাছ থেকে দেখতে গেলাম। দেখি, খড়ের গায়ে অনেক সাদা সাদা ব্যাঙের ছাতা ফুটে আছে, ঠিক যেন খড়ের ফুল। আর মাটির কাছের ছাতাগুলো লালচে। এগুলো দেখে সবাই আনন্দ করছে। এবার আমার সঙ্গে কর্তার যা কথোপকথন হল, তা এইরকম – - এগুলো কী? - ছাতু ফুটেছে, খড়-ছাতু। - মানে? মাশরুম? - হ্যাঁ, দারুণ খেতে। মাংসের মত। মাকে বলব আজ সকালে জাউ করতে। - ঝাউ করা কী? - আরে দূর! ঝাউ নয় জাউ। খেলে বুঝবে। ... ...

২৫ শে জানুয়ারি, মঙ্গলবারের আনন্দ বাজার পত্রিকার প্রথম পাতায় স্কুল খোলা সংক্রান্ত বিষয়ে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য পড়ার পর প্রাণে ঠান্ডা বাতাস লাগলো, মনে আনন্দের জোয়ার উঠলো। নিন্দুকেরা অনেক তেরা বেঁকা কথা বলছেন বটে, যেমন তাঁরা বলেই থাকেন। সেই নিন্দুকদের বিরুদ্ধেই এই প্রচেষ্টা। এক এক করে আসি? ... ...

সম্পূর্ণ ঘটনাচক্রে, একটি অখ্যাত গ্রামে ব্যাঙ্কিং শিক্ষাদানের সুযোগে, আমার যে শুধু পোল্যান্ড-সহ লৌহ-যবনিকার আড়ালে ঢাকা পূর্ব ইউরোপের দেশগুলির সঙ্গে প্রথম পরিচয় হল, তা-ই নয়, অ্যালান হার্স্টের মত এক অসাধারণ মানুষের কাছাকাছি আসার সৌভাগ্য অর্জন করলাম। সিটি ব্যাঙ্কে যোগ দেবার আগে তিনি আমেরিকার ডেমোক্রাট দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। হোয়াটসঅ্যাপ এবং আই টি সেল নামক আধুনিক জনসংযোগের তুখোড় মাধ্যম ভোটারদের তখনও অজানা। পার্টির ইস্তাহার, ম্যানিফেস্টো এবং বক্তৃতার ড্রাফট লিখতেন লেখাপড়া জানা ভদ্র মানুষজন। গুজব শুনেছি, উইলিয়াম জেফারসন ক্লিনটন নামক এক যুবকের নির্বাচনী ভাষণের খসড়া করেছেন অ্যালান। বত্রিশ বছর বয়েসে ক্লিনটন লিটল রক, আরকানসাসের (মতান্তরে আরকানস’) রাজ্যপালের অফিসে অধিষ্ঠিত হলে, আপন রাজনৈতিক কর্তব্য সমাপ্ত হয়েছে মনে করে অ্যালান ব্যাঙ্কিং-এ এলেন। সিটি ব্যাঙ্কে সিকি-শতাব্দী কর্ম করেন, মুখ্যত উন্নয়নশীল পূর্ব ইউরোপে। ... ...

মনে করুন সেই ছোট্টবেলার ভূগোল বই – সৌরজগতের ছবি আঁকা। প্লুটো তখন-ও লাইনের শেষে টিমটিম করে দাঁড়িয়ে আছে, আর বাকিরা আগে-পিছে উঁকি মারতে মারতে ঘুরে চলেছে – আমাদের দেখা সৌরজগতের প্রথম ‘মডেল’ এবং বলাই বাহুল্য, সেটিও খুঁটিয়ে দেখলে ‘ভুল’-ই। তবে এক্কেবারে ডাহা ভুল নয়, অন্তত সূর্য তো মধ্যিখানে, তাই না? একটা সময় তা-ও ছিল না, যেমন ধরুন টলেমি আর কোপারনিকাস – টলেমি-র মডেল ‘জিওসেন্ট্রিক’ আর কোপারনিকাসের ‘হেলিওসেন্ট্রিক’। ‘জিওসেন্ট্রিক’ অর্থাৎ পৃথিবীর চারদিকে সূর্য বা অন্য গ্রহ প্রদক্ষিণ করে এমন কথা এখন বাচ্চারাও শুনলে হাসবে। আর বড়দের মধ্যে? সেই এক বিখ্যাত কন্সপিরেসি-থোরিস্ট কে-সি-পাল ছাড়া আর কেউ এ কথা বিশ্বাস করবেন, এমন ভাবনা-ই অসম্ভব, কিন্তু টলেমি নেহাত বোকা বা গোঁড়া মানুষ ছিলেন না। ছিলেন একজন জিনিয়াস! ... ...

শরতের আকাশে যথারীতি হাল্কা নীলের উজ্জ্বলতম শেড সকালের দিকে – ত্যারছা রোদ এসে জবার টবে পড়েছে আপাতত, ঘুরে ঘুরে অন্য গাছের কাছে যাবে বেলা বাড়লে। এই একফালি রোদটুকু যেন মিঠুর ডাস্টার – যেন ক্লাসরুমের ব্ল্যাকবোর্ডে বড় করে লেখা আছে ক্যান্সার, লেখা আছে মৃত্যু, হাড়গোড়, নরকঙ্কাল – এই সব আঁকা রয়েছে যেন – দুষ্টু ছাত্ররা যেমন শিক্ষকের অনুপস্থিতিতে বোর্ডে অকথা-কুকথা লেখে – কোনো শিক্ষক রিঅ্যাক্ট করেন, কেউ নির্লিপ্ত মুখে মুছে দেন, যেন কিছুই হয়নি – সকালের এই রোদ, এই নীল রঙ হাতে নিয়ে মিঠু সব মুছে দেয়, নতুন কিছু লিখবে বলে চক নেয় হাতে; রোদ চড়া হলে ছাদের দরজা বন্ধ করে নিচে নামে। সিঁড়িতে ওর চটির শব্দ হতেই ছন্দা এসে ল্যান্ডিং-এ দাঁড়ায়, তারপর মিঠু শেষ ধাপে পৌঁছলে, ওর দিকে পূর্ণদৃষ্টিতে তাকায়। ছন্দার চোখে বিষণ্ণতা আর টেনশন চিরকালই, এখন সে’ চাহনিতে ভয়কে খুঁজে পাওয়া যাবে খুব সহজে। ইদানিং মা’র চোখে চোখ রাখলে প্রবল শোককেও চিনতে পারে মিঠু – সে যে তার মায়ের সামনে জলজ্যান্ত দাঁড়িয়ে, ছন্দা যেন তা বিস্মৃত হয়; ওর মনে হয়, ছন্দা যেন সিঁড়ির ধাপের নিচে দাঁড়িয়ে ঘোলা চোখে মিঠুর শব দেখছে। ... ...
রথে শুধু বাদশা নেই, আছে বেগমও। যদিও সবার মুখে মুখোশ, মেয়ে হলে তাদের আবার বুকের কাপড় আলগা। তোবা! তোবা! বেলুজ্জেরা তার মধ্যেই দু’হাত আসমানে তুলে নাচগান জুড়েছে। মাঝে মাঝে রাস্তার দু’ধারে মুঠো-মুঠো পুঁতি ছুঁড়ে দিচ্ছে। আলেফরা নিচু হয়ে পুঁতি কুড়াবে, না ঘাড় উঁচু করে ফর্সাপানা মেয়েছেলের কেচ্ছাকাণ্ড দেখবে? এত উৎসব, উত্তেজনা আর খাওয়া দাওয়ার ধূম কোনো বাপের জন্মে দেকিনিকো। রাতে বাড়ির পথ ধরে ওদের মুখে শুধু এই বুলি। মারদি গ্রাঁ দিনরাত মানে না, তেমনি চলছে যেন কারো কোনো ক্লান্তি নেই। ... ...

বিয়ের চারদিনের দিন এক ঘটনা ঘটল। এখানে বাসি বিয়ে হয় না। চৌথী হয়। ঐদিন রাতে শাড়ির আঁচলে পাঁচটা ফল বেঁধে ঘুমোতে হয়। ভোরে পুকুরে ডুব দিয়ে বিয়ে সম্পন্ন হয়। ভোররাতে বর ঘুম থেকে ডেকে বলে, নিচে কলটানার আওয়াজ। মা উঠে পড়েছে। তুমি উঠে পড়। আমার আর হুঁশ নেই। শেষে দরজায় ঠকঠক। নভেম্বরে বালির ঠান্ডা, হু হু করে কাঁপতে কাঁপতে খিল খুললাম। দেখি বাইরে মোটা শাল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন শাশুড়ি মা। পুকুরে নামা অভ্যেস নেই। এই ঠান্ডায় শাল জড়িয়ে... বলির পাঁঠা হয়ে চললাম। পুকুরের সামনে শাশুড়ি বললেন, গাছের আড়ালে জামা বদলে নাও। বলে আমার পরনের শাড়িটা পুকুরে কেচে মেলে দিলেন। আর বললেন, চুপচাপ ঘরে গিয়ে শুয়ে পড়। কাউকে কিচ্ছু বলার দরকার নেই। আমার ওপরে যা চলেছে তা বৌয়ের ওপর হতে দেব না। মনে ভাবি, আড়বালিয়ায় যদি এমন হত, জ্যাঠাইমারা বলতেন – একটা দিন মানতে হয়। ওষুধ খেয়ে নেবে। রীতি-রেওয়াজ এক ফুঁয়ে উড়িয়ে আমার প্রাণরক্ষা করলেন ইনি। না হলে হাসপাতালের শয্যা অপেক্ষায় ছিল। ... ...

২৮ তারিখে আমরা উগান্ডা থেকে সোয়া তিন ঘণ্টা দূরে বেনটা নামের এক গ্রামে পৌঁছলাম। জঙ্গলের কোলে একটা ছোট সুরক্ষিত গ্রাম। উগান্ডার ভুট্টা ক্ষেতের মধ্য দিয়ে পথ চলেছে। ... ...

কেল্লার ভেতরে বেগম মহলের অভাব কোনো দিনই ছিলনা। যে মহলে বেগম থাকতেন সেই মহলই বেগম মহল নামে পরিচিত হত। আজ এমনই এক বেগম মহলের কথা বলব। এই মহলটি নবাবী আমলের একেবারেই শেষ লগ্নে নির্মিত হয়েছিল। আজ মহলটি জরাজীর্ণ অবস্থায় কোনো রকমে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে মাত্র। ... ...

এতদিন লিখেছেন ব্যক্তিগত স্মৃতি ও অনুভবের আখ্যায়িকা, সেগুলোও কোন উপন্যাসের চেয়ে কম নয়। উনি কোথাও পাত্রপাত্রীর বা স্থানকালের বর্ণনা বদলে দেননি। কিছুই লুকোনোর দরকার বোধ করেননি। ‘ কোথাও কোন মিল দেখা গেলে তা কাকতালীয়’ গোছের ক্লিশে হয়ে যাওয়া বাক্যবন্ধে ওনার ছিল ঘোর আপত্তি। একজন নামজাদা প্রকাশককে, ওনার ভাষায়, কলার ধরে শূন্যে তুলে দিয়েছিলেন। কারণ সে ভদ্রলোক টাকাপয়সার ব্যাপারে কথার খেলাপ করে উলটে অস্বীকার করছিলেন। ... ...

ছোট ছেলে নিজের জীবন নিজেই গড়ে নেয়, মুক্তিযূদ্ধের নয় মাসের বেশ খানিকটা সময় ভারতে থাকলেও কলকাতায় যাবার কথা ভুলেও ভাবে নি। তীব্র অভিমানেই হয়ত বা ‘কলকাতা’ নামই তার মুখে কেউ শোনে নি কোনোদিন। কিন্তু তারই বড় ছেলে বাবা জ্যাঠা ঠাকুর্দার অতীত বাসস্থান খুঁজতে স্বাধীন বাংলাদেশ থেকে ঘুরেফিরে আসেন প্রতি বছর। আমিও চিনি এমন এক মহিলাকে, যিনি জন্মভূমি থেকে উচ্ছিন্ন হবার তীব্র অভিমানে কোনোদিন আর সেখানে যেতে চান নি, জানতে চান নি সেখানকার কোনো খবর। এই ছেঁড়া দেশের এপার ওপারের গল্পগুলোয় কি মিল কি মিল! ... ...

বাংলার বৃহৎ সংবাদপত্র নিন্দা করেছে। আমাদের ভয় ছিল সুভাষ ভৌমিক আবার আসবেন কি না? সুভাষ ভৌমিক যথারীতি এলেন। যাঁরা লিখেছেন তাঁদের ধন্যবাদ দিলেন। বাকিদের সাতদিন সময় দেওয়া হলো। এরপরের অভিযান গড়িয়াহাট মোড়। সেখানেও সুভাষ ভৌমিক সব হাজির। সঙ্গে শ্রী লেদার্সের মালিক সত্যব্রত দে সহ বহু লেখক শিল্পী। এরপরের অভিযান রবীন্দ্র সদন, পার্ক স্ট্রিট এলাকা। পরের বছর ১৯ মে বেলেঘাটা এলাকায়। সেখানেও ছিলেন। আসেন ২০০৫-এর পয়লা বৈশাখ উদযাপনে আকাদেমির সামনে। শৈলেন মান্না পিকে বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে। কেন আসেন? সুভাষদার জবাব ছিল, বাংলা ভাষা না বাঁচলে বাঙালি বাঁচবে না। বাঙালিত্ব মরে গেলে ময়দানের ফুটবলও মরে যাবে। কথাটা খাঁটি সত্য। বাংলা বাঙালি বাঙালির সংস্কৃতি শিক্ষা খাবার ফুটবল জীবনচর্যা একসূত্রে গাঁথা। একটা বাদ দিয়ে আরেকটা হয় না। ... ...

আমরা কোনো প্রশ্ন করি না কেন? কেন সব ঘাড় গুঁজে মেনে নিই? ততদিনে আমরা আর ক্রীতদাস নই, কিন্তু সে কেবল নামেই। মাথা ঝুঁকিয়ে কাজ করে যাওয়ার বাইরে কিছুই শিখিনি। রেভারেন্ড ওয়ালেস তার বক্তিমে থামিয়ে আমার দিকে সোজা চোখে তাকাল। কী বলতে চাইছ হে ছোকরা? আমার হাতে একটা বই ছিল, সেটার দিকে তাকিয়ে বলল, দু’পাতা পড়েই নিজেকে পন্ডিত ভাবছ বুঝি? শুনি তোমার বিদ্যের বহর। কী বলতে চাও? বললাম তো। যা দেখছি চারদিকে সব কিছুকে প্রশ্ন করতে হবে। আমরা এখানে ভগবানের কথা বলছি – জেসাস। সেটা কি মাথায় ঢুকেছে খোকা? তাকেও প্রশ্ন করো। চু-উ-প! ফেটে পড়েছিল রেভারেন্ড ওয়ালেস। আর একটা কথা না। আমার তখন রক্ত নবীন, হেঁকে উঠলাম, কেন চুপ করব? সাদাদের ভগবান নিয়ে আমাদের এত আহ্লাদ কিসের? দু’হাত দু’দিকে ছড়িয়ে জমায়েতের দিকে তাকিয়ে রেভারেন্ড ওয়ালেস বলে উঠল, দ্যাখো, এই জন্যেই কি আমরা নিগ্রো বাচ্চাদের পড়তে-লিখতে শেখাচ্ছি? আমার মাথায় তখন আগুন দপদপ করছে। আমিও সমানে চেঁচিয়ে বললাম, তুমি কিছুই শেখাচ্ছ না, সাদাদের বলে দেওয়া বুলি আওড়াচ্ছ। ... ...