
আজকে হয়তো ঐ ছবির মতো কোনও ডঃ গুপ্তা নেই, কিন্তু যাঁরাই আজকে কুম্ভের জলকে স্নানের এবং পান করার অনুপযুক্ত বলছেন তাঁদের দিকেই যোগী আদিত্যনাথ আঙুল তুলছেন। সঙ্গীত পরিচালক বিশাল দাদলানি যোগী আদিত্যনাথকে চ্যালেঞ্জ করে বলেছেন যদি ঐ জলের কোনও সমস্যা না থাকে, তাহলে তিনি এবং তাঁর মন্ত্রীসভার সদস্যরা যেন ঐ জল পান করে দেখান। চিকিৎসক এবং বৈজ্ঞানিকরা যে জলকে মুখে তোলার অযোগ্য বলছেন, সেই জল পান করলে কী হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়। ... ...

আফ্রিকা মহাদেশ পরিক্রমা করে ইউরোপ থেকে ভারত তথা পূর্ব এশিয়ার পথ খুঁজে নিয়েছেন পর্তুগিজ অভিযাত্রী নির্মম লুটেরা ভাস্কো দা গামা। সেই দীর্ঘ নৌ-সফরে নাবিকদের প্রয়োজন মাঝেমধ্যে স্থল-বিরতি, একটি সাময়িক আস্তানা, খাদ্য ও পানীয়ের সরবরাহ কেন্দ্র। লিসবন থেকে পালতোলা জাহাজের প্রায় তিন মাস লেগে যেত আফ্রিকার শেষপ্রান্তে পৌঁছতে, খানিক থেমে আবার যাত্রা। পূর্ব এশিয়া (ইস্ট ইন্ডিজ) যাওয়ার পথে একদিন ইয়ান ফান রিবেক হল্যান্ড থেকে আশি জন পুরুষ, আট জন মহিলা সহ তিনটি জাহাজ নিয়ে আটল্যান্টিকের অনেক ঝড়ঝঞ্ঝা পেরিয়ে পাহাড়ের নিচে এই শান্ত বন্দরে নোঙর ফেললেন, সেদিন ৬ই এপ্রিল, ১৬৫২। রিবেক ও তার সঙ্গীদের জায়গাটা বেশ ভালো লেগে গেল। দূরে গাঢ় নীল সমুদ্র সফেন অথচ বন্দর নিস্তরঙ্গ, সামনে খাড়া পাহাড় যার শিখর একেবারে সমতল; তার নাম দিলেন টাফেলবার্গ, টেবল মাউন্টেন। ভারত, জাভা, বোর্নিও, মশলা-দ্বীপ নাহয় পরে যাওয়া যাবে। আগন্তুক ডাচ মানুষেরা ভাবলেন এখানেই আড্ডা গাড়া যাক - স্থানীয় মানুষদের উচ্ছেদ করে সংসার পাতলেন। সেই আফ্রিকার দক্ষিণতম ভূখণ্ডে শ্বেত-পদসঞ্চারের প্রারম্ভ, যার মাশুল গুণতে হবে সেখানে স্থিত বা আগত সকল অশ্বেতকায় মানুষকে, মালে, চিনা,ভারতীয়কে। এই অন্তরীপ শহর আর হাল ভেঙে ক্লান্ত নাবিকের কোনো বুড়ি ছোঁয়ার বন্দর রইল না। ক’টা দিন থেমে চাল কলা আলু কুমড়ো পটল জাহাজে তুলে নিয়ে, ফ্লাস্কে জল ভরে ভারত যাত্রার ওয়েটিং রুমও নয়। নতুন বিজনেস মডেল - জমিদারি, চাষবাস আর ভারত অভিযাত্রীরা যখন এখানে থামবেন তাঁদের ‘চায় গরম’ অফার করা, মোটরওয়ের রেস্তোরাঁর মতন। লোভী ডাচ ক্রমশ দখল করবেন চাষের জমি, লাগাবেন আঙুরের চারা, দূরে ভাগাবেন খোই খোই জাতিকে তাঁদের হাজার বছরের বাসভূমি থেকে। ... ...

কলকাতা উচ্চ আদালতের বেশ কিছু শুনানি এখন ইন্টারনেটে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়। আমি বেশ কটা দেখেছি এবং শুনে চক্ষু চড়কগাছ হয়ে গেছে। বাদী-বিবাদী সবাই বাঙালি। দুই-তিন-চার-পাঁচজন উকিল, যাঁরা তর্কবিতর্ক করছেন, সবাই বাঙালি। বিষয়বস্তু বাংলার। কিন্তু পুরোটাই হচ্ছে ইংরিজিতে। কালো কোট পরে উকিলরা বিচারকের সামনে এসে নানারকম বিচিত্র উচ্চারণে ইংরিজিতে সওয়াল করছেন। বাংলায় কোনো অপরাধ হয়েছে, কোনো বাঙালি মেয়ের উপর অত্যাচার হয়েছে, বাংলার কোনো হাসপাতালে ময়নাতদন্ত নিয়ে প্রশ্ন, বিচারপ্রার্থীরা আদৌ কিছু বুঝছেন কিনা তার তোয়াক্কা না করে সবটাই ইংরিজিতে। শুনলে মনে হয়, এখনও ইংরেজ জমানা চলছে, আর ছন্দ করে 'কিউকাম্বার শসা, প্লৌম্যান চাষা' মুখস্থ করছেন। ... ...


দেশের অর্থনীতি প্রায় নিজেদের কৃতিত্বে অনেকটা ডুবিয়ে আমাদের একজন ‘মন কী আলিয়া ভাট’ বক্তব্য রাখা লেকচারার এই কিছুদিন আগে পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আগে আরেকবার তাকে সুযোগ দেওয়ার কথা বলেছিলেন।। উনি দেশের বিত্তশালী পরিবারদের উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন যে বিদেশে গিয়ে বিবাহের অনুষ্ঠান না করে দেশে করতে, যাতে দেশের অর্থ দেশেই থাকে। কিন্তু দেশের গরীব মানুষ যদি অর্থ রোজগার না করতে পারেন, তাহলে তারা কী করবেন? অন্যের বিয়ে দেখবেন? আর আঙুল চুষবেন? আর যদি বিবাহ দ্বারাই দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করা যেত তাহলে অন্তত G7 অন্তর্ভুক্ত দেশের ছেলেমেয়েরা বিয়ের পর বিয়ে করেই চলত। কিন্তু তেমন কিছু তো শুনিনি বা পড়িনি বাপু! জাপান, ব্রিটেন, ফ্রান্স, ক্যানাডা, ইতালি আর অ্যামেরিকা ইত্যাদি দেশ কি বিয়ে করে করে তাদের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করেছে? কী কারবার! সত্য সেলুকাস! কী বিচিত্র এই দেশ এবং দেশনেতা! আবার অপরদিকে রাজ্যের অর্থনীতিতে আমরা ‘পাচার’ যুগে এসে পড়েছি। এই যুগে সব কিছু প্রায় পাচার হয়ে যাচ্ছে। রয়েছে দান ও খয়রাতের অর্থনীতি। তা ভালো। দান ধ্যান করা ও পাওয়া নিশ্চয়ই ভালো এবং দরকার; তা বলে ধারদেনা করে? আর কারখানা? চণ্ডীদাস এখন বেঁচে থাকলে রাজ্যের অর্থনীতি সম্পর্কে হয়তো লিখতেন – “পাচার প্রেম নিকশিত শেম / কারখানার নাম গন্ধ নাহি তায়!”। ইতিহাসে পড়েছিলাম অনেক রাজা বা সম্রাট বিবাহাদির দ্বারা তাঁদের রাজ্যবিস্তার করতেন। তবে উক্ত মহান নেতার কাছে বিনয়ের সঙ্গে জানতে চাইব যে এক একজন বিত্তশালী পরিবার অন্তত ক’টা করে বিয়ে করলে অর্থনীতি সচল এবং চাঙ্গা হবে যদি তিনি দয়া করে এটাও জানাতেন, তবে আরও ভাল হত! সঙ্গে পশু ও পাখীদের বিবাহের অনুষ্ঠান শুরু হয়ে গেলে তো দেশ একেবারে অর্থনীতিতে এক নম্বর হয়ে যাবে! এক্কেরে ‘টরেটক্কায় টইটুম্বুর’! লালমোহনবাবুর উপন্যাসে মতো। ... ...

প্রত্যাশিত কোন রুট নয়, মামুন পাঠককে নিয়ে যান যেখানে সেখানে আর চমক তাঁর ভাষায়। অত্যন্ত সাবলীলভাবে গ্রাম থেকে শহরে পৌঁছে যান, যেন শ্রোতার কাঁধে হাত দিয়ে কথা বলছেন; মুহূর্তে বদলে যায় মুখের ভাষা। এই সুর তাল ছন্দ বদলে যায় অবলীলাক্রমে; ভাষা ও শব্দের ব্যবহারে তাঁর এই আশ্চর্য অধিকার দেখে ঈর্ষা বোধ করেছি মনে মনে। আমাদের চেনা পাঠের জগতে মামুন এনে দিয়েছেন এক নতুন আস্বাদ, এক নতুন দিগন্ত। তিনি আরও লিখুন, আমাদের নিয়ে যান এই বাংলার মনের প্রাণের গোপন গভীরে। ... ...

আশির দশক পর্যন্ত গ্রাম বাংলার বেশিরভাগ ক্লাব ব্যস্ত থাকতো ফুটবল নিয়ে। পরের দিকে ক্রিকেট ভলিবল এসব আসে। এছাড়া কবাডি প্রতিযোগিতা হতো। আর ছিল যাত্রা গ্রামীণ কোনও মেলা বা উৎসব ঘিরে যাত্রা করা। বাইরের দল নিয়ে যাত্রার আয়োজন করা হতো ফুটবল মাঠের উন্নয়ন বা ইত্যাদি বিষয়ে। কিন্তু অ্যামেচার যাত্রা এবং নাটক ছিল ক্লাবগুলোর প্রাণ। এছাড়াও ক্যারাম, দাবা, চাইনিজ চেকার, তাস, দাবার আয়োজন থাকতো। আড্ডা ছিল ক্লাবের প্রাণ। পানভোজন ক্লাব সংস্কৃতির অঙ্গ হয়নি। অন্তত আশির দশক পর্যন্ত। ... ...

সত্তরের দশকে ফুটবল ঘিরে গ্রাম বাংলায় যে উন্মাদনা ছিল তা আজ কল্পনাই করা যায় না। ফুটবল খেলা মানে কয়েক হাজার দর্শক। আমাদের গ্রামের খেলা থাকলে বাচ্চা বুড়ো সবাই গ্রাম ফাঁকা করে ফুটবল ম্যাচ দেখতে ছুটতো। কেউ বিশ্বাস করবেন কি না জানি না, ১০ কিলোমিটার দূরে পর্যন্ত হেঁটে যেত লোকে ফুটবল দেখতে। ... ...

"অ্যাঁ! বলছ কি?", মহারাজ তো শুনেই হাঁ হয়ে গেছেন। "আমার সমস্ত কাণ্ড কারখানা বই হয়ে বেরুচ্ছে?" আমি বললাম, "হবে না, ছেনু মহারাজের এত রকম কান্ড কারখানা, সে এই ভুলভুলাইয়ায় চলে যাচ্ছে, তো ওই লাঠি খেলা দেখিয়ে আসছে, আবার পট করে কখন পক্ষীরাজের পিঠে চেপে শেয়ালদা ঘুরে আসছে, সেসব ঘটনা আর চেপে রাখলে চলবে, প্রজারা যে সেইসব গল্প শোনার জন্য ব্যাকুল।" মহারাজ মাথা চুলকে বললেন, "তা বই তো বেরুচ্ছে, কিন্তু কোত্থেকে?" -ওই যে পেঁচার ছবি-অলা পাব্লিশার আছে না গুরুচণ্ডা৯ বলে, যারা খুঁজে খুঁজে দারুণ দারুণ সব বই বের করে তারাই তো আপনার সব কাণ্ড কারখানা মলাটবন্দি করতে উঠে পড়ে লেগেছে। ... ...


সত্তর দশকের মাঝামাঝি শোনা গেল সবুজ বিপ্লবের কথা। আগে শুধু লোকে অ্যামোনিয়া আর ইউরিয়া দিতেন চাষের সময়। এবার এল পটাশ, গ্রোমোর, ইফকো কোম্পানির নানা সার। তাঁদের প্রতিনিধিরা চাষিদের নিয়ে বৈঠক করতে লাগলেন। বড় চাষির জমিতে বিনা পয়সায় সার দিয়ে দেখিয়ে দিল, ধান কত বেশি হচ্ছে। কেউ কেউ বললেন, সার দিয়ে দিয়ে জমির পোঙা মেরে দিচ্ছে। ছিবড়ে করে দিচ্ছে। কিন্তু সে কথা উন্নয়ন হাওয়ায় উড়ে গেল। একে একে এরপর নতুন ধান এল। বেশি ফলনের লক্ষ্যে। পাঞ্জাব খাস, আই আর এইট, মিনিকিট, বসুমতী, মশুরি এবং চীনা ধান তাই চুং। ... ...


দুদুটো জীবন পাশাপাশি চলছে। বয়সের তফাৎ মাত্র ছয় বছর। সমান্তরাল জীবনের সূচনা সাপ্তাহিক অমৃত পত্রিকা থেকে, সেখানে তিনি লিখতেন ধারাবাহিক উপন্যাস ‘পাহাড়ের মত মানুষ’। সেদিন থেকে তাঁকে চিনি। যেমনভাবে লেখককে পাঠক চেনে তার বেশি নয়। ধারাবাহিক পড়তে তখন ভালো লগত না কিন্তু নামটা আমাকে টেনেছিল। তারপর যেদিন প্রথম দেখি, তাও আবার রাস্তায়। কফি হাউসের উল্টোদিকের রাস্তায় তিনি দাঁড়িয়ে ছিলেন। তখন কলেজ স্কোয়ারের বইয়ের দোকানগুলোর সামনে রাস্তার দিকে লোহার রেলিং ছিল। তিনি রেলিংএর ওপারে, অর্থাৎ ফুটপাথে, আমি রাস্তায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন পবিত্র মুখোপাধ্যায়, শচিন দাশ আরও অনেকে তাঁদের ঠিক মনে করতে পারছি না। সেই প্রথম দেখা পাহাড়ের মত মানুষকে। এই গৌড়চন্দ্রিকা করার একটাই কারণ তিনি আত্মজীবনী লিখেছেন। নাম দিয়েছেন, ‘পেন্সিলে লেখা জীবন’। ... ...

আমার তা-ই মনে হয়েছে, বলে ফল্গু, কিন্তু এসপিণ্ডোলো ছাড়া আর কাউকেই বলিনি। তোদের বলছিলুম বিশেষজ্ঞকে জিজ্ঞেস করেছি, সেই বিশেষজ্ঞ তিনিই। পেরুর পুলিশকে জানালে হিতে বিপরীত হবার সম্ভাবনা ছিল। কে দখল নেবে, ক্রেডিট কার – এইসব আন্তর্জাতিক কচকচি তৈরি হত। ব্যাপারটা তাই ছেড়ে দিয়েছি এসপিণ্ডোলোর হাতে। এবার একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে ফল্গু, কিন্তু এখনো কিছু জানালেন না এসপিণ্ডোলো। এদিকে পরশু দিনের ফ্লাইট কনফার্মেশন হয়ে গেছে আমাদের। ফেরবার আগে জানতে পারব কিনা কে জানে! ... ...

এলাকার বিধায়ক রামনারায়ণ গোস্বামীর খুব প্রিয় ছিলেন। সর্বভারতীয় কৃষক সমিতির নেতা করে তাঁকে দিল্লি না পাঠালে হয়তো বাবার পক্ষে একটু বেশি ভালো হতো। যাক, বাবার গলা শুনে চিন্তিত হলাম। কিছুদিন আগেই একটা মিলে চারজন শ্রমিক পুড়ে মারা গেছে। বাবা বারবার বলা সত্ত্বেও তেমন আন্দোলন করছে না পার্টি। কিছুদিন আগে বাড়িতে একটা ব্রাঞ্চ মিটিং হয়েছে। চাপা স্বরে কথা। কিছু শুনতে পাই নি। আর বাবা দাদা এঁরা তখনকার রীতি অনুযায়ী পার্টির ভেতরের কথা বাড়িতে বা বন্ধু দের কাউকে বলতেন না। খালি মিটিং শেষে এক পার্টি নেতার কথা শুনলাম, বাবাকে বলছেন, এনাম পার্টিতে আমার শিকড় অনেক ভিতরে। তুমি কিছু করতে পারবে না। ... ...



পরে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাধারণ কর্মচারী হিসেবেই বেঁচে থাকলেন। পার্টির গণসঙ্গীত স্কোয়াডে কিছু দিন ছিলেন। পরে সেসবে ভাটা পড়ে যায়। গণনাট্য সঙ্ঘের বর্ধমানের কর্তা ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী আন্দোলনের নেতা। স্নাতকোত্তর ডিগ্রি ছিল না। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কলকাঠি তিনিই নাড়তেন। কে অধ্যাপক হবেন কে পদোন্নতি পাবেন বিশেষ করে কে চাকরি পাবেন কর্মচারী পদে অফিসার পদে-- সে সবের দণ্ড মুণ্ডের মালিক তিনিই। উপাচার্য যিনিই হোন, তিনিই শেষ কথা। ... ...

একটা ট্যাক্সি ডেকে সোজা ওরা পৌঁছোয় ট্যুরিস্ট ইনফর্মেশন সেন্টারে। সেখানে কামিলা আর শ্যাভেজের সঙ্গে বসে আছেন স্বাস্থ্যবান মাঝবয়েসী এক ভদ্রলোক। পরিচয় করিয়ে দেবার জন্যে অপেক্ষা না করে বলেন তিনি, ওয়েলকাম মিজ ফল্গু, প্লীজ সিট ডাউন। কনগ্র্যাচুলেশনস, যেভাবে আপনি – মুড়কিকে দেখিয়ে বলেন ভদ্রলোক – এই বাচ্চা মেয়েটাকে উদ্ধার করেছেন ফ্রম ক্যাপটিভিটি, তাতে আমরা সবাই আপনার ফ্যান হয়ে গেছি এখন। আই হ্যাপ্ন্ টু বি দ্য পুলিস চীফ হিয়ার, বলুন কী করতে পারি। ... ...
