
সত্তরের দশকে ফুটবল ঘিরে গ্রাম বাংলায় যে উন্মাদনা ছিল তা আজ কল্পনাই করা যায় না। ফুটবল খেলা মানে কয়েক হাজার দর্শক। আমাদের গ্রামের খেলা থাকলে বাচ্চা বুড়ো সবাই গ্রাম ফাঁকা করে ফুটবল ম্যাচ দেখতে ছুটতো। কেউ বিশ্বাস করবেন কি না জানি না, ১০ কিলোমিটার দূরে পর্যন্ত হেঁটে যেত লোকে ফুটবল দেখতে। ... ...

"অ্যাঁ! বলছ কি?", মহারাজ তো শুনেই হাঁ হয়ে গেছেন। "আমার সমস্ত কাণ্ড কারখানা বই হয়ে বেরুচ্ছে?" আমি বললাম, "হবে না, ছেনু মহারাজের এত রকম কান্ড কারখানা, সে এই ভুলভুলাইয়ায় চলে যাচ্ছে, তো ওই লাঠি খেলা দেখিয়ে আসছে, আবার পট করে কখন পক্ষীরাজের পিঠে চেপে শেয়ালদা ঘুরে আসছে, সেসব ঘটনা আর চেপে রাখলে চলবে, প্রজারা যে সেইসব গল্প শোনার জন্য ব্যাকুল।" মহারাজ মাথা চুলকে বললেন, "তা বই তো বেরুচ্ছে, কিন্তু কোত্থেকে?" -ওই যে পেঁচার ছবি-অলা পাব্লিশার আছে না গুরুচণ্ডা৯ বলে, যারা খুঁজে খুঁজে দারুণ দারুণ সব বই বের করে তারাই তো আপনার সব কাণ্ড কারখানা মলাটবন্দি করতে উঠে পড়ে লেগেছে। ... ...


সত্তর দশকের মাঝামাঝি শোনা গেল সবুজ বিপ্লবের কথা। আগে শুধু লোকে অ্যামোনিয়া আর ইউরিয়া দিতেন চাষের সময়। এবার এল পটাশ, গ্রোমোর, ইফকো কোম্পানির নানা সার। তাঁদের প্রতিনিধিরা চাষিদের নিয়ে বৈঠক করতে লাগলেন। বড় চাষির জমিতে বিনা পয়সায় সার দিয়ে দেখিয়ে দিল, ধান কত বেশি হচ্ছে। কেউ কেউ বললেন, সার দিয়ে দিয়ে জমির পোঙা মেরে দিচ্ছে। ছিবড়ে করে দিচ্ছে। কিন্তু সে কথা উন্নয়ন হাওয়ায় উড়ে গেল। একে একে এরপর নতুন ধান এল। বেশি ফলনের লক্ষ্যে। পাঞ্জাব খাস, আই আর এইট, মিনিকিট, বসুমতী, মশুরি এবং চীনা ধান তাই চুং। ... ...


দুদুটো জীবন পাশাপাশি চলছে। বয়সের তফাৎ মাত্র ছয় বছর। সমান্তরাল জীবনের সূচনা সাপ্তাহিক অমৃত পত্রিকা থেকে, সেখানে তিনি লিখতেন ধারাবাহিক উপন্যাস ‘পাহাড়ের মত মানুষ’। সেদিন থেকে তাঁকে চিনি। যেমনভাবে লেখককে পাঠক চেনে তার বেশি নয়। ধারাবাহিক পড়তে তখন ভালো লগত না কিন্তু নামটা আমাকে টেনেছিল। তারপর যেদিন প্রথম দেখি, তাও আবার রাস্তায়। কফি হাউসের উল্টোদিকের রাস্তায় তিনি দাঁড়িয়ে ছিলেন। তখন কলেজ স্কোয়ারের বইয়ের দোকানগুলোর সামনে রাস্তার দিকে লোহার রেলিং ছিল। তিনি রেলিংএর ওপারে, অর্থাৎ ফুটপাথে, আমি রাস্তায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন পবিত্র মুখোপাধ্যায়, শচিন দাশ আরও অনেকে তাঁদের ঠিক মনে করতে পারছি না। সেই প্রথম দেখা পাহাড়ের মত মানুষকে। এই গৌড়চন্দ্রিকা করার একটাই কারণ তিনি আত্মজীবনী লিখেছেন। নাম দিয়েছেন, ‘পেন্সিলে লেখা জীবন’। ... ...

আমার তা-ই মনে হয়েছে, বলে ফল্গু, কিন্তু এসপিণ্ডোলো ছাড়া আর কাউকেই বলিনি। তোদের বলছিলুম বিশেষজ্ঞকে জিজ্ঞেস করেছি, সেই বিশেষজ্ঞ তিনিই। পেরুর পুলিশকে জানালে হিতে বিপরীত হবার সম্ভাবনা ছিল। কে দখল নেবে, ক্রেডিট কার – এইসব আন্তর্জাতিক কচকচি তৈরি হত। ব্যাপারটা তাই ছেড়ে দিয়েছি এসপিণ্ডোলোর হাতে। এবার একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে ফল্গু, কিন্তু এখনো কিছু জানালেন না এসপিণ্ডোলো। এদিকে পরশু দিনের ফ্লাইট কনফার্মেশন হয়ে গেছে আমাদের। ফেরবার আগে জানতে পারব কিনা কে জানে! ... ...

এলাকার বিধায়ক রামনারায়ণ গোস্বামীর খুব প্রিয় ছিলেন। সর্বভারতীয় কৃষক সমিতির নেতা করে তাঁকে দিল্লি না পাঠালে হয়তো বাবার পক্ষে একটু বেশি ভালো হতো। যাক, বাবার গলা শুনে চিন্তিত হলাম। কিছুদিন আগেই একটা মিলে চারজন শ্রমিক পুড়ে মারা গেছে। বাবা বারবার বলা সত্ত্বেও তেমন আন্দোলন করছে না পার্টি। কিছুদিন আগে বাড়িতে একটা ব্রাঞ্চ মিটিং হয়েছে। চাপা স্বরে কথা। কিছু শুনতে পাই নি। আর বাবা দাদা এঁরা তখনকার রীতি অনুযায়ী পার্টির ভেতরের কথা বাড়িতে বা বন্ধু দের কাউকে বলতেন না। খালি মিটিং শেষে এক পার্টি নেতার কথা শুনলাম, বাবাকে বলছেন, এনাম পার্টিতে আমার শিকড় অনেক ভিতরে। তুমি কিছু করতে পারবে না। ... ...



পরে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাধারণ কর্মচারী হিসেবেই বেঁচে থাকলেন। পার্টির গণসঙ্গীত স্কোয়াডে কিছু দিন ছিলেন। পরে সেসবে ভাটা পড়ে যায়। গণনাট্য সঙ্ঘের বর্ধমানের কর্তা ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী আন্দোলনের নেতা। স্নাতকোত্তর ডিগ্রি ছিল না। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কলকাঠি তিনিই নাড়তেন। কে অধ্যাপক হবেন কে পদোন্নতি পাবেন বিশেষ করে কে চাকরি পাবেন কর্মচারী পদে অফিসার পদে-- সে সবের দণ্ড মুণ্ডের মালিক তিনিই। উপাচার্য যিনিই হোন, তিনিই শেষ কথা। ... ...

একটা ট্যাক্সি ডেকে সোজা ওরা পৌঁছোয় ট্যুরিস্ট ইনফর্মেশন সেন্টারে। সেখানে কামিলা আর শ্যাভেজের সঙ্গে বসে আছেন স্বাস্থ্যবান মাঝবয়েসী এক ভদ্রলোক। পরিচয় করিয়ে দেবার জন্যে অপেক্ষা না করে বলেন তিনি, ওয়েলকাম মিজ ফল্গু, প্লীজ সিট ডাউন। কনগ্র্যাচুলেশনস, যেভাবে আপনি – মুড়কিকে দেখিয়ে বলেন ভদ্রলোক – এই বাচ্চা মেয়েটাকে উদ্ধার করেছেন ফ্রম ক্যাপটিভিটি, তাতে আমরা সবাই আপনার ফ্যান হয়ে গেছি এখন। আই হ্যাপ্ন্ টু বি দ্য পুলিস চীফ হিয়ার, বলুন কী করতে পারি। ... ...


বাংলা গদ্যে যে ধারায় জীবনানন্দ, উদয়ন ঘোষ, সন্দীপন, অরূপরতন বসুরা লিখে গেছেন, রবিশংকর বলও সেই ধারাতেই। অর্থাৎ নিজের জীবনকে আয়নায় দেখে নিস্পৃহভাবে লিখে রাখা আর তাকে কখনো গল্প কখনো উপন্যাস বলে ছাপিয়ে দেওয়া। জাগরণের দিনলিপির পাশাপাশি বাকিদের থেকে তিনি সফলভাবে স্বপ্ন কাহিনিগুলিও লিখে রাখতে পেরেছেন এবং সেখানেই তার স্বতন্ত্রতা। ... ...

আপনার সঙ্গে রসিকতা করার ধৃষ্টতা আমার নেই স্যর, কিন্তু আমি দেখেছি। আপনি তো জানেন বিশাখাপত্তনমের পোর্টে সিঙ্গাপুর অভিমুখী জাহাজকে দাঁড় করিয়ে আমি এবং আমার বন্ধুরা ভারতথেরিয়ামকে নামিয়ে এনেছিলাম। আমি নিজের হাতে একা একা নামাইনি, কিন্তু সঙ্গে ছিলাম। ভারতথেরিয়ামকে আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি, ছুঁয়েছি। আমি চিনতে ভুল করব না স্যর। এখন একটা খুব জরুরি কাজ করছিলাম, সেটা ফেলে রেখে আপনার সঙ্গে কথা বলছি, কারণ ওটাকে এখনই না বাঁচাতে পারলে হয়তো দেরি হয়ে যাবে। ... ...



এ বছরের জুলাই মাসে নেলসন আমেনিয়া নামক এক কেনিয়ান তাঁর ব্লগে জানিয়েছেন আদানিগোষ্ঠীর আনসলিসিটেড (তথাকথিত প্রাইভেট ইনশিয়েটেড প্রোজেক্ট) প্রস্তাবটি যেদিন সকালবেলা কেনিয়া এয়ারপোর্ট অথরিটির টেবিলে রাখা হয়েছিল সেদিনই বিকেলবেলা সেটি গৃহীত হয়। এই প্রোজেক্টের খরচা বা শর্তাবলী নিয়ে কোনো দ্বিতীয় অভিমত নেওয়া হয় নি, টেন্ডার তো অনেক দূরের কথা এই ডিলে আদানির লাভ ৯০% কেনিয়ার ১০%। তিনি যতদূর জানেন কোন অভিজ্ঞতা ছাড়াই আদানি ভারতে এয়ারপোর্ট ম্যানেজ করার কন্ট্রাক্ট পেয়েছেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যেতে পারে সাংবাদিক-স্বাধীনতার মাপকাঠিতে কেনিয়ার স্থান ভারতের অনেকটা ওপরে (১০২-১৫৯)। একুশে নভেম্বর পার্লামেন্টে প্রেসিডেন্ট রুটো আদানি-চুক্তি বাতিল করার পর তাঁর সাক্ষ্যে কেনিয়ান অর্থমন্ত্রী এমবাদি বলেন এক দিনে এই প্রকল্পটি সরকার মঞ্জুর করেছিলেন জেনে তিনিও যারপরনাই বিস্মিত হয়েছেন। আমেনিয়া কেন তাঁর বাঁশিটি বাজালেন? তার উত্তরে আমেনিয়া জানান এর কারণ বহুবিধ- নাইরোবি বিমানবন্দর প্রকল্পে আদানির প্রস্তাব শোনার পর তিনি হিন্ডেনবার্গ রিপোর্টে আদানিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে শেয়ার দর নিয়ন্ত্রণ (স্টক ম্যানিপুলেশন) এবং হিসেবের কারচুপির (অ্যাকাউনটিং ফ্রড) বৃত্তান্ত পাঠ করেন, তারপরে তিনি অস্ট্রেলিয়ান পরিবেশসংরক্ষণ লবির একটি ইস্তেহারে সেখানকার পরিবেশবিনষ্টিকরণ, মানবাধিকার উল্লঙ্ঘন, দুর্নীতি ও আইন বিরোধী কার্যকলাপের বিস্তারিত বিবরণ পান। তখন তাঁর মনে হয়েছে জনস্বার্থে আদানির প্রস্তাব নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হওয়া উচিত যতই তিনি এই প্রস্তাবের গভীরে গেছেন, মনে হয়েছে এটি অত্যন্ত একপেশে। আমেনিয়া এও বলেন তিনি বাঁশি না বাজালে কেনিয়ান সরকার অথবা কেনিয়ান এয়ারপোর্ট অথরিটি আদানির তিরিশ বছরের প্রোজেক্টটি সর্ব সমক্ষে আনতেন না। একান্ত গোপনে যে চুক্তি সই হয়েছিল সেটি গোপনেই থেকে যেতো। পরে কমার্শিয়াল কন্ট্রাক্ট সই হতো, যেখানে এয়ারপোর্ট পার্কিং থেকে চেক-ইন ডেস্কের কর্মীদের মাইনে, এক বোতল পানীয় জলের মূল্য নির্ধারিত হতো। এয়ারপোর্টের উন্নয়নের কাজ শুরু হতে দেখে মানুষজন মনে করতেন এটি সরকার বানাচ্ছেন, আদানি নামক এক কনট্রাক্টর দিন মজুরির ভিত্তিতে রাজ মিস্ত্রির কাজ করেন। দু বিলিয়ন ডলারে কেনিয়ার ক্রাউন জুয়েল বিক্রি করাটা সমীচীন কিনা সেটা কি ভেবে দেখা উচিত ছিল না? এই ডিলের ব্যাপারে কত টাকা এ হাত ও হাত হয়েছে? রুয়ান্ডার কিগালি, উগান্ডার কামপালা, সুদানের জুবাসকল, প্রতিবেশী দেশের রাজধানীর গেটওয়ে, পূর্ব আফ্রিকার সবচেয়ে কর্মব্যস্ত এই নাইরোবি বিমান বন্দর কেনিয়ার ক্রাউন জুয়েল; দু বিলিয়ন ডলারে লিজের নামে এটি বাস্তবিক বেচে দেওয়াটা কি সমীচিন হবে? খবরটি নিয়ে কানাঘুষো হলে পরে কেনিয়ান এয়ারপোর্ট অথরিটি বলেন যে তাঁরা এই প্রস্তাবের টেকনিকাল, আইনি ও আর্থিক দিক গুলি খুঁটিয়ে দেখবেন (ডকুমেন্টে সই করার পরে!)। ... ...

নৌকো যখন দ্বীপের অনেকটা কাছাকাছি, ওরা দেখল দ্বীপের বেশ কিছু লোক একসঙ্গে দাঁড়িয়ে দেখছে নৌকোটাকে। নৌকোটা এসে দাঁড়ালো যখন তীরে, তখন প্রথম নামল রায়া, তারপর ফিনিগান। ওদের সঙ্গে দ্বীপের মানুষদের জন্যে কিছু উপহার ছিল, সেগুলো দিল ওরা। তারপর তিন-চারজন মাতব্বর জাতীয় লোক – পরে ওরা জানতে পেরেছিলো ওদের মধ্যে একজনের নাম অ্যাপো আর একজন সেরিপ – এগিয়ে এল রায়া আর ফিনিগানের দিকে। ... ...

নোমোফোবিয়া শব্দটির প্রচলন খুব বেশি দিনের নয়। ২০০৮ সালে বৃটেনের গবেষণা সংস্থার Gov You এর সৌজন্যে ইংরেজি ‘no mobile phobia’ শব্দবন্ধটিকে কেটে ছেঁটে এই শব্দটিকে তৈরি করা হয়েছে হাতের মুঠোয় সচল মোবাইল ফোন না থাকার ভয় এবং উদ্বেগকে বোঝাবার জন্য। হালফিল সময়ে খবর কাগজ খুললেই দেখা যায় মোবাইল ফোন না থাকার ফলে অথবা অতি ব্যবহারের আসক্তি থেকে ছেলে মেয়েদের দূরে সরে থাকার জন্য বকাঝকা করা হলেই, কি ভাবে তারা আত্মহননের পথ বেছে নিচ্ছে কোনো রকম চিন্তা না করেই। ডিজিটাল মাধ্যমের ওপর ক্রমশই আমাদের নির্ভরতা বাড়ছে। জীবন হয়ে উঠেছে অ্যাপস নির্ভর। আর সেই অবকাশে আমাদের, বিশেষ করে অল্পবয়সীদের, মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। শয়নে স্বপনে জাগরণে আজ মুঠো বন্দি এই উপকরণটি হয়ে উঠেছে সর্বক্ষণের সঙ্গী। আর এই কারণেই মোবাইল ফোনকে ঘিরে বাড়ছে তীব্র আসক্তি। ... ...