
গেটের বাইরে থেকে একটি মেয়ে খুব কুণ্ঠিত স্বরে ডাকল, “স্যার, আপনার সঙ্গে কিছু কথা ছিল, ভেতরে আসতে পারি?” মর্নিং ওয়াক সেরে বাড়ির ছোট্ট বাগানে একটু ঘোরাঘুরি করা ডাক্তার অমিয় সান্যালের বহুদিনের অভ্যেস। এ সময় তাঁর ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী বন্ধুরাও তাঁকে বিরক্ত করে না। সকালের এই স্নিগ্ধ আলোয় তাঁর বাগানে ফুটে থাকা উজ্জ্বল ফুলগুলির সঙ্গ তাঁর মনে অত্যন্ত শান্তির অনুভূতি এনে দেয়। কোন উটকো লোকের উপস্থিতি সেই শান্তিতে বিঘ্ন ঘটাক – সেটা তিনি পছন্দ করেন না। বিরক্ত হন খুব। ডাক্তারবাবু বিরক্ত হয়েই ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালেন গেটের দিকে, বিরক্ত মুখে জিজ্ঞাসা করলেন, “কী ব্যাপার?” “কিছু কথা ছিল স্যার, যদি একটু সময় দেন কাইণ্ডলি। বেশি সময় নেব না, – দশ-পনের মিনিট”। ওঁদের কথাবার্তা শুনতে পেয়ে হেমন্ত বারান্দায় এসে দাঁড়িয়েছিল। হেমন্ত ডাক্তারবাবুর পরিচারক - সর্বক্ষণের সঙ্গী। সাধক সঙ্গীতজ্ঞদের যেমন দু একজন অপরিহার্য সঙ্গতদার থাকে – হেমন্তও তাই। বারান্দায় উঠে বেতের চেয়ারে বসতে বসতে ডাক্তারবাবু হেমন্তকে বললেন, “ভেতরে আসতে বল”। হেমন্ত মেয়েটিকে ডেকে ভেতরে চলে গেল নিজের কাজে। ... ...

আরেকজন মাস্টারমশাই ছিলেন লক্ষ্মীবাবু। তখন তাঁকে তাঁর গ্রামের নাম ধরে বলা হতো। মাস্টারমশাইদের নাম ধরে বলা আমাদের গ্রামের সংস্কৃতি ছিল না। শম্ভুনাথ থান্দার কাষ্ঠকুড়ুম্বার মাস্টারমশাই। আমাদের গ্রাম থেকে বহু দূরে। মনে মনে কতবার যে ওই গ্রামে গিয়েছি। মাস্টারমশাইয়ের ছায়াসঙ্গী ছিলাম। চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার সময় স্যারের বিয়ে হয়। আমাদের গ্রামেই। মনে মনে আশা ছিল, আমাকে অন্তত নেমন্তন্ন করবেন। সঙ্গত কারণেই করতে পারেননি। করলে সব ছেলে মেয়েকেই করতে হতো। কিন্তু আমার এই দুঃখ বহুদিন ছিল। ... ...

এক ছিল বাগান আর সেই বাগানে ছিল একটা পুচকে ফুলগাছ। ফুলের গাছ বললুম বটে তবে সে গাছে আজও একটা ফুল ধরেনি। গাছ বেচারার তাই ভারি মন খারাপ। রোজ সকালে পূব আকাশে লাল রঙ ধরলেই গাছ শুধোয়, -“আলোদিদি! আমার ডালে কবে ফুল ধরবে বলতে পারো?” আলোদিদি গাছের পাতায় চুমো দিয়ে চুপিচুপি চলে যায় মাটির ওপর বিছনো সবজে ঘাসের গালচেয়। গাছ ফোঁস করে দম ছেড়ে দাঁড়িয়ে থাকে। আর করবেটাই বা কি? হেঁটে চলে যাওয়ার তো আর পথ নেই। না পথ তো আছে বটেই, পাতায় ঢাকা একফালি পথ ধরে বনের কোথায় যাবে যাও না, কেউ বাধা দেবেনাকো। মুশকিল হলো গাছ তো আর চলে ফিরে বেড়াতে পারে না। তাদের আঁকুনিবাঁকুনি শিকড়গুলো যে মাটির গভীরে চলে যায় জলের খোঁজ করতে। জল ছাড়া কি আর বাঁচা যায়? তোমরা যেমন বাড়িতে গেলাসে জল ধরে ঢকঢকিয়ে খেতে পারে গাছ তো আর অমন করে খেতে পারে না। তাই গাছেরা তাদের শিকড়গুলো দিয়েই পাইপের মতো করে চোঁ চোঁ করে জল খায়, ঠিক যেমন তোমরা কাচের বোতলে পাইপ দিয়ে সরবত খাও তেমনটি। সেই আঁকুনিবাঁকুনি শিকড়গুলোই তো এক জায়গায় ধরে রাখে গাছগুলোকে। ... ...
মুসলিম ধর্মীয় আইন অনুসারে ধর্মীয় কারণে ( মসজিদ ইত্যাদি তৈরির জন্য ) বা জনহিতকর কাজে ( স্কুল, হাসপাতাল তৈরি বা দরিদ্র আতুরের সেবার জন্য ) দান করা সম্পত্তিই হল ওয়াকফ। লিখিত ওয়াকফনামার মারফৎ তো সম্পত্তি দান করাই যায়, এছাড়াও দীর্ঘকাল ব্যবহারের দরুণ ওয়াকফ (বা ওয়াকফ বাই ইউজেস ) এবং ওয়াকফ-আলাল-আউলাদ ( যা কিনা প্রাইভেট ওয়াকফ যার থেকে অর্জিত অর্থ বংশধরদের কাজে লাগবে এবং বংশলোপ পেলে সেই সম্পত্তি ওয়াকফের হাতে চলে যাবে। ) ও মান্য হত। যিনি সম্পত্তি দান করতেন তিনি হলেই ওয়াকিফ। ওয়াকফ ছিল চিরস্থায়ী ব্যবস্থা, তার মালিক হলেন আল্লাহ স্বয়ং। বোঝার সুবিধার জন্য ধরা যায়, এটা অনেকটা আমাদের দেবোত্তর সম্পত্তির অনুরূপ। দেবোত্তর সম্পত্তির ক্ষেত্রে যেমন সেবাইত থাকেন ওয়াকফ সম্পত্তি পরিচালনা করেন মুতওয়ালি। খালি বিবাদ বিসম্বাদ উপস্থিত হলে দুই আলাদা আলাদা আইনের মাধ্যমে দেবোত্তর ও ওয়াকফ সম্পত্তির মীমাংসা হয়। ওয়াকফ সম্পত্তির পঞ্জীকরণ ও পরিচালনার দায়িত্ব রাজ্য ওয়াকফ বোর্ডের। এটা মুসলমান পার্সোনাল আইনের অংশ। ... ...

ইরফান যখন কলেজ ওয়েব সাইটের ব্যাক এন্ডে SQL Injection পাঠিয়ে তাদের ডেটাবেস থেকে রমিলার নাম্বার তুলে এনেছিল, তখন ওর বয়স মোটে সতেরো। কম্পিউটার সায়েন্সের প্রথম বর্ষের ছাত্র। স্নাতকের তৃতীয় বছরে বাংলার এক নামজাদা দৈনিক পত্রিকার ওয়েবসাইট হ্যাক করেছিল সে। আর মাস্টার্সের দ্বিতীয় বছরে একটা স্বয়ংসম্পূর্ণ অপারেটিং সিস্টেম বানিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল উপমহাদেশের দুঁদে কোডারদের। কিছু মানুষ থাকে এরকম, এক একটা বৃত্তি যেন ছেলেখেলা হয়ে ওঠে তাদের কাছে। ইরফান তাদেরই প্রতিনিধি। চাকরি ওর পেশা নয়, একটা মুখোশ মাত্র। বাকি সময়টা সে তার রাজারহাটের স্টুডিও ফ্ল্যাটে ফ্রিল্যান্সিং করে। হ্যাকিং সংক্রান্তই নানাবিধ কাজ। ডার্ক ওয়েবে 'লিকড' হওয়া ইনফরমেশন সরিয়ে ফেলা থেকে স্ক্যামারদের চক্কর থেকে বের করে আনা, এমনকি চাইল্ড পর্ণ ওয়েবসাইট সম্পূর্ণ নির্মূল করা পর্যন্ত। এছাড়া বড় বড় বিদেশী সংস্থা ‘বাগ বাউন্টি প্রোগ্রাম’, ‘পেনিট্রেশন টেস্টিং’ এর কাজে ইরফানদের মতন হ্যাকারদের সাথে চুক্তি করে। বৈধ কাজ, তবে আয়ের কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা রাখতে হয় অবৈধ খাতে। ট্যাক্সের ভয়ে নয়, বেনামী থাকার সতর্কতায়। ডিজিটাল দুনিয়াতে কে কাকে কিভাবে নজরে রাখছে একথা বলা প্রায় অসম্ভব। অজ্ঞাতকুলশীল থাকাটাই একজন হ্যাকারের সব চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এবং আবশ্যিক শর্তও। ... ...

দিনটা স্পষ্ট মনে আছে শিখার। বৌদি টাকাটা দিয়ে বলেছিল, অ্যাডভান্স নিয়ে আবার কামাই করা শুরু করো না। শিখা ভালোমানুষের মতো মুখ করে বলেছিল, একদম কামাই হবে না। আমার লোহার শরীর। যদি দু একদিন ছুটি নিই, আনিসুলের মা এসে ঠেকার কাজ চালিয়ে যাবে। তুমি চিন্তা করো না। এ তো আর ফ্ল্যাট বাড়ি না যে আনিসুলের মা ঢুকতে পারবে না। বিকেলে শিখারা যখন গপ্পে বসেছিল একসঙ্গে, টিভিতে বারবার ডাক্তার মেয়েটার কথা বলছিল। তার বাপ মা বন্ধু বান্ধব সবাইকে দেখাচ্ছিল। শিখারা মুড়ি মাখা খেতে খেতে সাধারণত এইসময় "বাঁশরির বিয়ে" বা "নয়নতারা" সিরিয়াল দেখে। সেদিন কেউ সিরিয়াল দেখেনি। শিউলির মা বলেছিল, "মেয়েমানুষ ঘরে থাকাই ভালো, কোন দরকার ছিল ডাক্তার হবার?" শিখাও একরকম তাইই ভাবছিল। আর ভাবছিল, ডাক্তার মেয়েটা ডিউটি দিয়ে পেশেন্টদের ঘরেই থেকে গেলে পারত টেবিলে মাথা টাথা দিয়ে ঘুমিয়ে। প্রাণটা বেঁচে যেত। বড় বৌ বলেছিল, ছত্রিশ ঘন্টা ডিউটি মা, শরীরে সয় না। বেচারা ঘুমাতে গিয়েছিল। ... ...

কলেজের কথা মনে পড়তে অরূপের কথা, তার পোর্টিকোর কথা আর মামাদের বা মামাতো ভাইবোনদের কথা মনে পড়ছে কেন কে জানে? মেজোমামার সঙ্গে অরূপকে রিলেট করানো যাবে কি? কী করে যাবে সেটাই তো বুঝতে পারছি না। এটা ঘটনা যে মেজোমামার টিবি হয়েছিল কিন্তু সেতো অল্প বয়েসে মারা যায়নি। দীর্ঘদিন পেন্দ্রারোর বলে একটা জায়গায় সেনিটোরিয়ামে ছিল।তখন স্টেপ্টোমাইসিন বেরিয়েছে, সেই ওষুধ আর সেখানকার হাওয়ায় মেজোমামার আর মরা হয়ে ওঠেনি। সে বেঁচে ফিরে এলো তবে ছেড়ে যাওয়া ডাক্তারিটা আর পড়তে ঢুকলো না কোনো কারণে। পরে সে সিনেমা করতে গেল, মানিক ব্যানার্জির পুতুল নাচের ইতিকথা কিন্তু সেটাও হয়ে উঠলো না করা। ... ...

রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা এক অবিচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া, কারণ শাসক সর্বদাই চায় স্থিতাবস্থা। তাই এই প্রক্রিয়ার উপর প্রশ্ন তুলতে পারে এমন রক্তাক্ত ও নিষ্ঠুরতার ইতিহাসকে জনগণ ভুলে যেতে পারলেই শাসকের জন্য ভালো। শাসক নির্বিশেষে তাই সেই ইতিহাস ভুলে যেতে হয় বা ধামাচাপা দিতে হয় যা স্থিতাবস্থা বিঘ্নিত করতে পারে। এমন উদাহরণ ইতিহাসে আমরা প্রচুর দেখেছি। এই কারণেই দক্ষিণ চিলির অধিবাসী সেল্কনাম জনগোষ্ঠীকে গণহত্যার ইতিহাস ১০০ বছর ধরে প্রায় অজানাই থেকে যায়। সরকারের প্রচ্ছন্ন মদতে দেশের মূলধারার ইতিহাসের পাতায় এই জনগোষ্ঠীর উধাও হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে বহুদিন অবধি বিশেষ কিছুই পাওয়া যায়নি। শেষ দশ-পনেরো বছরের গবেষণার সৌজন্যে এবং ইন্টারনেট জমানার ফলস্বরূপ আজকের দিনে এই বিষয়ে যদিও অনেক কিছুই জানা গিয়েছে, “The Settlers”, “White on White” (পরিচালক- থিও কোর্ট) এর মত ছবিও হয়েছে এবং সর্বোপরি সে দেশের পার্লামেন্টে এই বিষয়ের উপর ঝড়ও উঠেছে। ... ...

শীত এলেই এই শহরে পিকনিকের ধুম পড়ে যায়। অবশ্য শীত কালটা হয়ও খুব সুন্দর। কনকনে ঠান্ডা রাত্রি, ঝলমলে রোদের দিন, ঝকঝকে নীল আকাশে ভাসে দূর পাহাড়ের বরফ চূড়া। আগে তো শীতের শুরুতেই হাফ ইয়ারলি পরীক্ষা শেষ হয়ে গিয়ে, রেজাল্ট বেরোতো ক্রিসমাসের ছুটির আগে। ছুটিটা তাই মজায় ভরা থাকত, এমনিতে ক্যাম্পাসে একটু সাহেবিয়ানা বেশী বেশী, লোকে হরদম বিদেশ যাচ্ছে পড়তে বা পড়াতে, বিদেশী ছাত্রছাত্রীও আছে বেশ কিছু, তাই ক্রিসমাসের শুরুতেই সেজে ওঠে ঘর বাড়ি রাস্তা। এর ওপরে আবার এই শহর জুড়ে আছে বেশ কয়েকটা পুরনো নামী চার্চ। ঝিমলিদের স্কুলের চ্যাপেলও সেজে ওঠে বেশ কিছুদিন আগে থেকেই, সাজানোর কাজে সিস্টারদের সাহায্য করে ছাত্রীরা যারা আর্টস আর ক্রাফটে ভালো, অনুর মত। আর অনু যেখানে সেখানে ঝিমলি থাকবেই। প্রতি বছরই ওরা খুব ভালোবেসে টাইনি টটের সিস্টাররা যারা এর দায়িত্বে থাকে তাদের সঙ্গে হাত মেলায়। ক্লাস টেনের পর থেকে তো ওদের পরীক্ষার সময়গুলো সব উল্টোপালটা হয়ে গেছে, এসময় ওদের ছুটি, আর ছুটির পরে প্রিবোর্ড, তাই এই দু বছর আর ওরা ক্রিসমাস ডেকরেশনে নেই, এমনকী ছুটি পড়ার দিনের সকালে যে প্রোগ্রামটা হয় প্রতি বছর সেটাও বোধহয় আর এ জন্মে দেখা হবেনা। গত বছর থেকে ওদের ক্লাসের সরিতা আর সান্টা সাজেনা, শুনছিল, ছোটরা নাকি সান্টার বদলটা ঠিকমত বুঝতে না পেরে, জিজ্ঞেস করেছে, “সান্টা দিদি, তুমি এত রোগা হয়ে গেছ কেন?” ... ...

মুসলিম এলাকাগুলোতেও তবলিগ জামায়াতের শুক্রবার শুক্রবার ঘোরা শুরু হল। দ্বীনের পথে আসুন। মসজিদে শুক্রবার অন্তত চলুন। জুম্মার নামাজ পড়তে। তাঁদের সঙ্গে বাইরে থেকে আসা নানা উচ্চবর্গের লোকজনদের দেখা যেতে লাগল। চল্লিশ দিন জামাতের সঙ্গে নিজের পয়সায় ঘোরাকে চিল্লা বলা হতো। তাতে কিছু সংখ্যা যোগ হল। এই দুটো বিষয় নিয়েই না ছাত্র সংগঠনে না পার্টিতে কোনও হেলদোল দেখা গেল! দুর্গাপূজার সংখ্যা ও চাকচিক্য বাড়ল। চন্দননগরের শ্রীধরের আলোর সুনাম ছড়াচ্ছে। সেই মতো চমকানো আলো এবং প্যান্ডেল হলে ভিড় বাড়ছে। পুরাতন দেবী শীতলা ওলাইচণ্ডী দেবী ওলাবিবিরা পিছু হঠতে লাগলেন। ... ...

দেশের সর্বোচ্চ আদালত ২০১৬ সালে স্কুল সার্ভিস কমিশনের হওয়া নিয়োগ প্রক্রিয়াটিকে ব্যাপক দুর্নীতির দায়ে বাতিল করেছেন বটে, কিন্তু এ দুর্নীতির সূত্রপাত তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর ২০১২ সালে নেওয়া স্কুল সার্ভিস কমিশনের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে। তৃণমূল জমানায় স্কুল সার্ভিস কমিশনের প্রথম চেয়ারম্যান হন অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন মণ্ডল, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক এই মানুষটি ঘোষিত বাম বিরোধী হলেও তাঁর পড়ানো ও পাণ্ডিত্য নিয়ে কোন প্রশ্ন ওঠার কোন অবকাশ ছিল না। সেই সময় NCTE (National Council of Teachers education) এর নতুন নিয়মানুসারে ঠিক হয়, পরীক্ষা হবে দুটি ধাপে, কিন্তু এক দিনেই। প্রথমে ৯০ নম্বরের Teachers Ebility Test বা সংক্ষেপে টেট এবং তারপর ২ নম্বর করে ৩০ টি প্রশ্ন, অর্থাৎ মোট ৬০ নম্বরের বিষয়ের উপর পরীক্ষা। টেট এর প্রশ্নপত্র এমসিকিউ ধাঁচে হবে, তবে বিষয়ের পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রেই জায়গা থাকবে, তাতেই লিখতে হবে। টেটে ৬০% মানে ৫৪ নম্বর পেলে তবে বিষয়ের খাতা দেখা হবে, এরপর বিষয়ে ন্যূনতম ৪০% মানে ২৪ নম্বর পেলে ইন্টারভিউতে ডাক মিলবে। ... ...

যেমন তোরা তেমনি তোদের পোদান হবেনি? আরে শুণ্ডিরাজ্যে লুঙ্গি চালু হইয়্যেচে সেই নিমাই সন্নেসীর আমল থেইক্যে। বামুন কায়েত নমোশুদ্দুর সব হিন্দুরা আর মোচলমান চাষা-জমিদার সব্বাই সেই নিমাই পণ্ডিতের লেইগ্যে গেরুয়া লুঙ্গি পরে লাইচত্যে লাগলো, কেরমে কেরমে সেই গেরুয়া রঙ বদল্যে, যে যার পচন্দের রঙে শুণ্ডিরাজ্য ছেইড়্যে অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গ ছেইড়্যে – বন্ধু আর সিন্ধু দ্যাশতো ত্যাখন এক্যেই ছেল – সব দ্যাশেই পরতে শিকলো। অ্যাকন সরকারি পয়সায় বিশ-লাখি প্যান্টুল-কোট পইরত্যে শিখ্যে তোদের পোদান লুঙ্গিওয়ালা চিনত্যে শিক্যেচে! ... ...

‘আই এম অন দ্য হিট লিস্টঃ আ জার্নালিস্টস মার্ডার এন্ড দ্য রাইজ অফ অটোক্রেসি ইন ইন্ডিয়া’ বইয়ে লেখক রোলো রোমিগ প্রতিবাদী সাংবাদিক গৌরী লঙ্কেশের এক ভিন্নধর্মী জীবনী রচনা করেছেন। লেখক এই জীবনী রচনা করতে গিয়ে লিখছেন তিনি তিনটি দক্ষিণ ভারতীয় রাজ্যের কাহিনি লিখবেন। দক্ষিণের রাজ্য কেন? কারণ তিনি গত এক দশক ধরে এই রাজ্যগুলি নিয়ে লেখালেখি করছেন এবং তাঁর স্ত্রী দক্ষিণ ভারতীয় মুসলিম। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চল একটা উপদ্বীপের মতো, যে কারণে এখানে বাণিজ্য আছে এবং বাণিজ্য থাকার কারণে শিক্ষা আছে। এর প্রভাব দেখা যায় কেরালায় যেখানে মুসলিম বাচ্চারা ক্যাথলিক স্কুলে যাচ্ছে, হিন্দুরা বিখ্যাত মসজিদে প্রার্থনা করছে, ক্যাথলিক সাধ্বীরা হিন্দু উৎসবে নৃত্য করছে। মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে গৌরীর একটা ফেসবুক পোস্টে এর প্রতিফলন দেখা যায়। স্থানীয় একটা ফসল কাটার উৎসবে, ক্যাথলিক সন্ন্যাসিনীরা হিন্দু নাচ, তিরুবতীরকলির তালে তালে নাচছে। গৌরী লিখছেন, আমার মাল্লু (মালয়ালাম) বন্ধুদের দেখো, কী ভাবে তারা ধর্মনিরপেক্ষতা উদযাপন করছে……। ... ...

ইতালিয়ান বৈজ্ঞানিক আসকানিনো সবরেরো নাইট্রো গ্লিসারিন নামক বিস্ফোরক পদার্থের বিধ্বংসী শক্তির বিষয়ে অবগত ছিলেন কিন্তু একে পোষ মানিয়ে সঠিক ব্যবহারের উপযোগী করে তুলতে পারেননি। অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষা এবং ততজনিত প্রাণহানির পরে আলফ্রেড বার্নহার্ড নোবেল সেটিকে নিরাপদ প্রতিপন্ন করে তাকে সেটি বাক্স বন্দি ও দেশে দেশে রপ্তানি দ্বারা প্রভূত অর্থ উপার্জন করলেন – এর নাম ডিনামাইট। শেষ বয়েসে তিনি একদিন খবরের কাগজে পড়লেন কে বা কারা তাঁকে ‘মৃত্যুর ব্যবসায়ী’ আখ্যা দিয়েছে। নোবেল স্থির করলেন তাঁর অর্জিত বেশির ভাগ ধন সম্পত্তি (সাত মিলিয়ন ডলার,আজকের হিসেবে অনেক বিলিয়ন) তিনি তুলে দেবেন সুইডিশ নোবেল ইনসটিটিউটের হাতে। এই অর্থের সুদ হতে ইনসটিটিউট প্রতি বছর পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, চিকিৎসা ও সাহিত্যের ক্ষেত্রে সফল মানুষদের সম্মানে দান করবেন চারটি পুরষ্কার, তার চয়ন ও প্রদানের দায়িত্ব নেবে সুইডিশ নোবেল সংস্থা। কিন্তু এই সঙ্গে তিনি আরেকটি ক্লজ জুড়ে দিলেন- বিশ্বে যুদ্ধ বন্ধ করার এবং বিভিন্ন দেশের মধ্যে মৈত্রী গড়ে তুলে শান্তিকে নিশ্চিত করার জন্য কাজ করেছেন এমন মানুষকে সম্বর্ধিত করার জন্য দেওয়া হবে নোবেল শান্তি পুরষ্কার, তার প্রাপক নির্বাচন করবেন নরওয়ের পার্লামেন্ট দ্বারা বেছে নেওয়া পাঁচ জনের একটি কমিটি। মনে রাখা দরকার সময়টা উনবিংশ শতকের শেষ দশক, নরওয়ে তখন সুইডেনের অধীনে একটি অঙ্গরাজ্য মাত্র; তাঁদের পার্লামেন্ট আছে বটে কিন্তু সুইডেনের রাজা থাকেন তার মাথার ওপরে। কেন যে আলফ্রেড নোবেল তাঁর নামাঙ্কিত এবং ইতিহাসে সবচেয়ে বিতর্কিত পুরস্কারের সঙ্গে অসলো তথা নরওয়েকে জুড়ে দিলেন তার কোন সঙ্গত ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না। নরওয়ে সে সময়ে মাঝারি আয়ের ছোট দেশ, ইউরোপে তার স্থান অনেকেরই পিছনে, এমনকি ১৯৩৬ সালে রোমানিয়ার পেছনে। অসলোর জনসংখ্যা আমাদের শ্যামবাজার আর বরানগরের মাঝে গুঁজে দেওয়া যায়। ... ...

মনে পড়ছে সত্তর দশকের ১৯৭১-এ ইনফ্যান্ট বা শিশু শ্রেণিতে ভর্তি হই। আমরা বলতাম ইনফিন। ক্লাস টু পর্যন্ত নিজেদের বসার আসন বাড়ি থেকে নিয়ে যেতে হতো। ইনফিনে ছিলাম ১৫৭ জন। বেশিরভাগ জন স্কুলে আসতো না। শুধু শনিবার খুব ভিড় হতো। ওইদিন আমেরিকার সরবরাহ মাইলো গম রান্না করে খাওয়ানো হতো। কখনও গুড় থাকতো কখনও নয়। বেশিরভাগ ছেলে মেয়ে থালা নিয়ে আসতো খাবার বাড়ি নিয়ে যাবে বলে। পরে অবস্থা বুঝে আমার প্রধান শিক্ষক মামা মাইলো রান্না না করেই বাড়িতে দিতে থাকেন। কত গরিব পরিবার যে মাইলো খেয়ে বেঁচেছে। ... ...

এই মরুভূমিতে হালদার আমার মরুদ্যান। সময় পেলে ওর সঙ্গে বসে রবীন্দ্র সঙ্গীত ও রবীন্দ্রচর্চা করতাম। … কোনো মানুষকে আমি অশ্রদ্ধা করিনা। বরং আমি জানি তথাকথিত উপরতলার মানুষগুলোর থেকে এদের মধ্যে মনুষ্যত্বের অংশ বেশী। এই মানুষগুলো স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রত্যেকেই কৃতি ও দক্ষ। এরা মুখ্যতঃ টাকা আর মেশিন ছাড়া আর কিছু জানে না। এদের কাছে পৃথিবীর অন্য কিছুর অস্তিত্ব সপ্রমাণ করতে গেলে এরা বাঁকা হাসি হেসে এমন ভাবে তাকায় যেন মনে হয় আমি একটা নির্বোধ, এখনো সার বস্তু জানতে পারিনি বলে কৃপার যোগ্য। বুঝি পৃথিবী জুড়ে এই দারুন অর্থনৈতিক বৈষম্যের যুগে শিক্ষা, রুচি,সংস্কৃতি --- এগুলো শুধু কথার কথা, প্রহসনের নামান্তর। কিন্তু তবুও আমি বুঝতে পারছি না। প্রতি মুহূর্তে আমি চেষ্টা করছি এই অমিলটাকে মানিয়ে নিতে আর প্রতি মুহূর্তেই হারছি। ভয় হচ্ছে ক্রমশঃ এই হারটা আমার চরিত্রের উপর একটা কুৎসিত স্ফোটক হয়ে দেখা দেবে। হয়ত সিনিক হয়ে যাব, মানুষের উপর শ্রদ্ধা ভালবাসা হারাব, নির্লজ্জ আত্মকেন্দ্রিক হয়ে সুরুচি সবকিছু বর্জন করব। হয়ত এমন কিছু হব যা এখন অকল্পনীয় তখন অনিবার্য। ... ...

মনে পুরোনো দিনের কথা আসে। আমার কন্যা স্কুলে যাবে। তার ভবিষ্যত ভালো হবে, অনেক আশা নিয়ে বেসরকারী ইংরেজি মিডিয়াম স্কুলে তাকে ভর্তি করেছি। পড়ানোর অনেক খরচ। সকালে খুব তাড়াহুড়োয় স্কুল ব্যাগে বই গোছাতে বসি। রুটিনে আজ ভূগোল আছে দেখে স্কুল অ্যাটলাসটা ব্যাগে পুরে দিই। ... ...

হাসপাতালে রোগীর আত্মীয়-বন্ধুদের অপেক্ষা করার জায়গায় অনলাভ বসে আছে। মাঝে মাঝে লাউডস্পীকারে কিছু ঘোষণার অস্পষ্ট শব্দ শোনা যায়, তাছাড়া এই ধরণের জায়গার স্বাভাবিক গুঞ্জনধ্বনিও শ্রোতার কানে আসে, এরই মধ্যে হঠাৎ শোনা যায় স্পষ্ট একটি ঘোষণা। ... ...

রণরক্তে স্নাত বাংলাদেশ নির্বাসনে আছি, বেঁচে আছি স্বর্ণপ্রসূ আমার অভ্যেস লেজারের খোপে ফেলি মাছি- আমি জানি সমস্ত ব্যথাই একদিন সহনীয় হয় অঙ্ক কষে দূর করি তাই অতিরিক্ত বেদনার ভয়! ... ...

বলুন দেখি, পশ্চিমবঙ্গে এই মুহূর্তে সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসা দুটো কী কী? দেখুন, সেই বিরানব্বুই সালে মনমোহন সিংজী লাইসেন্স রাজের অবসান ঘটিয়ে সর্বত্র দেশী-বিদেশী বিনিয়োগের দরজা খুলে দিয়েছিলেন। তারপর ভাগীরথির বুক দিয়ে কত জল বয়ে গেল, দেশী-বিদেশী শিল্পপতিরা কত চেষ্টাই করলেন, কিন্তু এ পোড়া রাজ্যে একটাও বড় মাপের কারখানা বানানো গেল না। বুদ্ধবাবুও পারেননি, মমতা ব্যানার্জীও পারলেন না। প্রতি বছর প্রচুর ঢাক-ঢোল পিটিয়ে শিল্প-সম্মেলন হয়, হাজার-কোটি লক্ষ-কোটি বিনিয়োগের গল্প শোনা যায়, তারপর সময়কালে দেখা যায় সব ঢুঁ ঢুঁ। কিন্তু বিনিয়োগকারীদের তো বসে থাকলে চলে না। নাই বা হল শিল্প, বিরাট একটা বাজার তো রয়েছে এ রাজ্যে। মোটামুটি সম্পন্ন একটা মধ্যবিত্ত শ্রেণির সংখ্যা সব সময়ই এ রাজ্যে বিপুল। ... ...