
ট্যুরিস্ট লজ থেকে পাকা সড়ক ধরে গাড়ি চলল মূর্তি নদীর দিকে মুখ করে। পুব থেকে পশ্চিম অভিমুখে চলেছি তাই ডানহাতে হিমালয়ের বরফ ঢাকা শ্রেণীও রয়েছে সঙ্গে। কিন্তু বেশি দূর নয় বড় জোর দু তিন কিলোমিটার পরেই আমাদের গাড়ি কাঁচা রাস্তায় নেমে পড়ল। দুপাশে গাছের সারি। জিজ্ঞাসা করে জানলাম আমরা খয়েরবাড়ি জঙ্গলে ঢুকে পড়েছি। ... ...

যারা খবর দেখেননি তাদের জন্য আজকের তাজা খবর এই যে রাজস্থানে আমির শেখ নামে এক ব্যক্তিকে, নাগরিকত্বের সচিত্র পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও, শুধুমাত্র বাংলা ভাষা বলার অপরাধে ডিটেইন করা হয়, এবং অভিযোগ এই যে, ডিটেনশন ক্যাম্পে কিছুদিন বন্দী থাকার পর তাকে বসিরহাট সীমান্তে এনে একটি পে-লোডার মেশিনের সাহায্যে কাঁটাতারের ওপারে ছুঁড়ে দেওয়া হয়। আমির শেখ মালদহের কালিয়াচকের বাসিন্দা, আমির শেখের সচিত্র পরিচয়পত্র ছিল, আমির শেখ কাজ করতেন অভিবাসী শ্রমিক হিসেবে, দোষ বলতে এক তিনি বাঙালি, আর দুই তিনি শ্রমিক ছিলেন বিজেপি-শাসিত একটি রাজ্যে। ... ...

ইরান এখন অপেক্ষাকৃত শান্ত। স্বাভাবিক জীবনযাত্রা আস্তে আস্তে ফিরে আসছে। ইউনিভার্সিটি এখনো বন্ধ। ঠিক করলাম এই সুযোগে সকলে মিলে ইরান ভ্রমণে বেরিয়ে পড়ি। দিলীপ দামলে একা থাকে। আমরা যাচ্ছি শুনে ও আমাদের সঙ্গী হল। আমি, অনু, বুবাই, গৌতম ও দিলীপ, আমরা পাঁচজন বেরিয়ে পড়লাম। উদ্দেশ্য – ইরানের কয়েকটা শহর দেখা। আকাশপথে যাত্রা নয়। মাটির সঙ্গে মিতালি করে মরুভূমির পথ ধরে চলা। আমরা কোচে করে মরুভূমির মধ্য দিয়ে ইরান ভ্রমণে বেরিয়ে পড়লাম। প্রথম গন্তব্য শিরাজ। আবাদান থেকে কোচ ছাড়ল সূর্য ডুবে যাওয়ার পর। যেতে যেতে অন্ধকার নেমে এলো। মরুভূমির রাস্তা দিয়ে ঘন কালো অন্ধকারের মধ্য দিয়ে আমাদের কোচ ছুটে চলেছে। চারিদিকে নিকষ কালোর আবরণ। হঠাৎ দূরে কখনো কখনো দেখা যায় দুচারটা টিম টিমে আলোর আভাষ; বোধ হয় কোনো বেদুইনদের তাঁবু। আর মাঝে মাঝে দেখা যায় নিশ্ছিদ্র অন্ধকার ভেদ করে লেলিহান অগ্নিশিখা গগন স্পর্শ করছে। হঠাৎ আলোর ঝলকানিতে চারিভিতে আলোর রোশনাই। সে এক অবর্ণনীয় দৃশ্য। আশ্চর্য, মরুভূমিতে এমন অগ্নিযজ্ঞ কেন? ... ...

আগে গ্রামে চারটে কাগজ আসতো। যুগান্তর দুটো। আনন্দবাজার একটা। সত্যযুগ একটা। সান্ধ্য গণশক্তি আসতো গোপীনাথপুরে বাদশা চাচার বাড়ি হয়ে আমাদের বাড়ি। আর চলতো পাঁচটি সাপ্তাহিক দেশহিতৈষী কাগজ। এই কাগজ আমার খুব উপকার করে। সারা সপ্তাহের খবর এক জায়গায় থাকতো। দেশ রাজ্য এবং আন্তর্জাতিক একটা আলাদা পাতা। স্বাধীনতা সংগ্রামী বিপ্লবী সুধাংশু দাশগুপ্ত ছিলেন সম্পাদক। ১৯৮৯ থেকে আমি তাঁর স্নেহ পেয়েছি। অল্প বয়সেই আমাকে দিয়ে বেশ কিছু লেখা তিনি ও হাওড়ার অশোক বন্দ্যোপাধ্যায় লিখিয়েছেন। আগে সব মিলিয়ে দশ। ওভারল্যান্ড একাই হলো এবার ১০টা। যে বাড়িতে কোনওদিন কাগজ ঢুকতো না, সেখানে পড়ার পাতার জন্য কাগজ ঢুকে গেল। মাসে নয় টাকা। ... ...

‘দা ডেথ অফ পাঞ্চ’-র প্রধান চরিত্র পাঞ্চের মধ্যে বার্গম্যানের অল্টার-ইগোর আভাস পাওয়া যায়। পাপেট শো বা মরিওনেত্তি (দড়ি দিয়ে বাঁধা পুতুলদের শো) ছিল এই প্রধান চরিত্রটির কাজ। বার্গম্যানের অনেক কম বয়স থেকে আগ্রহ ছিল এই সব শো নিয়ে। হেলসিংবর্গের মিনিসিপ্যাল থিয়েটারে থাকার সময় ‘ক্রিস ক্র্যাস ফ্যালিবম’ নামে তিনি যখন একটি ব্যঙ্গাত্মক revue লিখতেন, সে সময় ছদ্মনাম হিসেবে ব্যবহার করতেন এই পাঞ্চ নামটি। জ্যাক, ৪৬ সালের ছবি ‘ক্রাইসিস’-র একটি চরিত্র। বার্গম্যান এই চরিত্রটি নিয়েছিলেন তাঁরই লেখা নাটক ‘জ্যাক এমং দা অ্যাক্টার্স’ থেকে। চতুর ও ভণ্ড জ্যাক, বার্গম্যান নিজেই বলেছেন তাঁর অল্টার ইগোর আরো কাছাকাছি! ... ...

দুর্মুখ। মহারাজ, বিকৃতদেহী তিনজন ভিক্ষুক এখনও পাশের ঘরে অপেক্ষা করছেন। তাঁরা এখনও মহারাজের দর্শন পাননি। রাম। আমার স্মরণে আছে দুর্মুখ। এঁরা বিদায় নিলেই আমি তাঁদের সঙ্গে দেখা করব। দুর্মুখ। কিন্তু পেটিকাটি অপসৃত হলে তাঁরা কী ভিক্ষা আশা করবেন? ... ...

কয়েক মাসের মধ্যে দেশের রাজনৈতিক আবহাওয়া উত্তাল হয়ে উঠল। ক্রমশঃ জনতা ও পুলিশের সংঘর্ষের সংখ্যা বাড়তে থাকল। বড় বড় শহরগুলোতে শান্তি রক্ষা করা কঠিন হয়ে দাঁড়াল। দোকানে বাজারে সিনেমায় আগুন জ্বলল। রাস্তায় গলিতে এখানে সেখানে মৃতদেহ দেখা যেতে লাগল। সাধারণ নাগরিক আর স্বাধীন ভাবে চলা ফেরা করা নিরাপদ মনে করল না। আস্তে আস্তে সব যানবাহন বন্ধ হয়ে গেল। গুজব ছড়াল এয়ারপোর্টও বন্ধ হয়ে যাবে শীঘ্রই। তবুও তখনো দেয়াল ঘেরা আবাদানে তেমন কিছু অশান্তির আঁচ পড়েনি। ... ...

চার দশক আগে প্রথমবার বার্সেলোনা আসি তার সত্তর কিলোমিটার উত্তরে কাতালুনিয়ার বিচ রিসর্ট ইওরেত দে মার হতে। ইংল্যান্ডে বুক করা স্প্যানিশ প্যাকেজ হলিডে - আহা কি দিন ছিলো, আমাদের টাকায় আসা যাওয়া দু সপ্তাহ থাকা খাওয়া সহ খরচ মাথা পিছু পাঁচ হাজার টাকা, তার সঙ্গে কিছু বাড়তি ব্যয়ে সাইট সিইং - যেমন বার্সেলোনার বাস ট্রিপ, সে অনেক রুক্ষ পাহাড় পেরিয়ে। ... ...

বল্লরীদি বলল দাঁড়াও আমি পুরোনো কলিগদের ফোন করি। তেমনই একজন চলভাষের ওপার থেকে জানালেন, জায়গাটার নাম উত্তর পানিয়ালগুড়ি। ব্যাস, কেল্লা ফতে। ঐ একটা নাম সম্বল করে আমরা সকলে যে যার চলভাষে আন্তর্জালের অলিগলিতে খোঁজাখুঁজি শুরু করি। বেশি চেষ্টা করতে হয়না। একটু পরেই নদীর নাম বেরিয়ে পড়ে : সিকিয়া ঝোরা। ... ...

আরও অনেক পরে সারদা ইত্যাদি গড়ে উঠবে। ২০০০ এর পর। গ্রামে বা ছোট শহর বাজারে ব্যাঙ্ক না থাকা, থাকলেও অ্যাকাউন্ট খোলা একটা বিরাট সমস্যা ছিল। তারচেয়েও বড় কথা, এই সঞ্চয় সংস্থার এজেন্টরা বাড়ি বাড়ি এসে টাকা নিয়ে যেত। দিয়েও যেত প্রথম দিকে। ঋণ পাওয়া যেত সহজে। এর সঙ্গে ছিল চড়া সুদের প্রলোভন। আজও ব্যাঙ্কগুলো দৈনিক ১০/২০/৩০ টাকা করে সংগ্রহ করে ব্যাঙ্কে জমার ব্যবস্থা করতে পারল না। মানুষকে যেতে হচ্ছে। মানুষের কাছে ব্যাঙ্ক পৌঁছে যাচ্ছে না। ইদানীং অবশ্য কিছু কিছু এলাকায় এজেন্ট নিয়োগ হয়েছে। ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত তোলা যায়। আধার কার্ডের বায়োমেট্রিক ব্যবহার করে। তবে দৈনিক ১০/২০/৩০ টাকা জমার ব্যবস্থা হয়নি। হয়নি বলেই আবার কোনও চিট ফান্ড গড়ে উঠবে। উঠবেই। ... ...

৩৭টি প্রবন্ধ জুড়ে এ বইয়ে লেখকের বিচরণ। শিরোনামগুলির প্রতিটি একাই যেখানে একাধিক প্রবন্ধের সম্মিলিত বিস্তৃতি নিলে অবাক হওয়ার নয় সেখানে একটি করে প্রবন্ধের স্বল্প পরিসরে লেখক যা করেছেন তা মূলত পাঠকের মনে বিভিন্ন চিন্তাকে উস্কে দেওয়া। তাকে বিভিন্ন সম্ভবপরতার রাস্তার সংযোগস্থলে পৌঁছে দেওয়া। নিজস্ব সরস ভঙ্গিতে সঞ্জয় সেটি করেছেন অনায়াস স্বাচ্ছন্দ্যে। কখনও তা ফুটে উঠছে আমাদের চেতনার রাজনৈতিক-সামাজিক বিবর্তনের ক্যানভাসে আবার কখনও ঘুরে বেড়ায় চলচ্চিত্রের সাদায়-কালোয়, রুপালি পর্দার মিথ সৃষ্টির প্রক্রিয়ার রহস্য অনুসন্ধানে। ... ...

এখান থেকে আবাদানের সঙ্গে যোগাযোগ করার কোনো উপায় নেই। অনুকে খবর দেওয়া যাবে না। আর একবার এই অরাজকতা শুরু হলে কবে যে তার শেষ হবে তা কেউ জানে না। আমি তো অনুকে জানি! ও দুশ্চিন্তায় পাগল হয়ে যাবে। স্টিভ বলল, “তুমি এখনই বেরিয়ে পড়। চারটের সময় আবাদানের একটা ট্রেন আছে। চেষ্টা করে দেখ, যদি সেটা ধরতে পার। ট্যাক্সি যদি পাও ভাল, তা না হলে হেঁটেই যেতে হবে।" ... ...

ইন্দিরা গান্ধী জীবিত থাকতে আমার ফুফু কোনওদিন কংগ্রেসকে ভোট দেননি। অমানবিক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর দিলেন। এটা শুনে আমার আব্বা বললেন, এবার আর রক্ষা নেই। ময়না পর্যন্ত কংগ্রেসের হাত চিহ্নে ছাপ দিলে। তখন ব্যালট পেপারে ভোট হতো। স্ট্যাম্প মারতে হতো পছন্দের প্রার্থীর নামের পর চিহ্নের পাশে। ইভিএম তখন কল্পনাতেও আসেনি। সেবার ৪২টার মধ্যে কংগ্রেস ১৬ টা আসন পেল পশ্চিমবঙ্গে। আর জ্যোতি বসু বললেন, জীবিত ইন্দিরার চেয়ে মৃত ইন্দিরার শক্তি বেশি। একথাও বললেন, জনগণও মাঝে মাঝে ভুল করেন। আবেগের বশে। এই শক্তি বৃদ্ধির কারণেই কিনা জানি না, আর ভুল পরামর্শদাতাদের প্ররোচনায় বামফ্রন্ট সরকারের ওপর খড়্গহস্ত হয়ে উঠলেন রাজীব। সেই পরামর্শদাতাদের অধিকাংশই এখন বিজেপির সঙ্গে। সংসদে শাউটিং ব্রিগেড নামে রাজীবের বন্ধু বান্ধবের একটা দল ছিল। ... ...

সত্তর আশির দশকে পশ্চিমবঙ্গের নানা জায়গায় যাত্রা প্রতিযোগিতা হতো। বাবার কাছে নানা যাত্রার বই আসতো। 'বেগম আসমান তারা'য় দেড় পাতা ব্যাপী একটা সংলাপ ছিল। কী অসম্ভব গভীর অথচ কাব্যিক উচ্চারণ। আমার মতো কিছু তরুণ তখন এইসব মুখস্থ করার চেষ্টা করতো। যাত্রা প্রতিযোগিতা শুনে মনে পড়ল, শ্যামসুন্দর আর নাড়ুগ্রামের মাঝখানে দেবীবরপুর গ্রামে দিনের বেলায় যাত্রা হতো। কেন? সেটা জানতে হবে। আমাদের স্কুলের এক সহপাঠী সেলিম সেদিন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে লিখল, রাতে প্রচণ্ড বৃষ্টি হওয়ায় দিনে যাত্রা হয়েছে বাদুলিয়ায়। ... ...

ভালো করে লক্ষ্য করে দেখলাম জঙ্গলের চারটে স্তর। জঙ্গলের মেঝে আগাছায় ভর্তি। এটা হলো প্রথম স্তর। তার ওপরে মাঝারি উচ্চতার গাছ। সেটা হলো দ্বিতীয় স্তর। একেবারে ওপরে আছে অনেক উঁচু উঁচু গাছের সারি। সেটা হলো তৃতীয় স্তর। আর এই তিন স্তরকেই জড়িয়ে আছে নানা রকম লতাপাতা আর অর্কিড। সেটা হলো চতুর্থ স্তর। ... ...

রাম। অভিষেকের এক বছর অতিক্রান্ত হল। এতদিন আমরা চার ভাই এত ব্যস্ত ছিলাম যে তোমাদের সঙ্গে একবারও মিলিত হতে পারিনি। রাজসিংহাসন যাঁরা অলঙ্কৃত করেন তাঁদের জীবনে তোমাদের মতো সুহৃদরা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তোমরা যে শুধুই রাজাকে হাস্যরসে এবং বাক্চাতুরীতে আমোদে রাখো তা-ই নয়, রাজা যদি অন্যায় বা ভুল করেন তাঁকে সে কথা অকপটে বলার লোক শুধু তোমরাই। তাই তোমাদের জিজ্ঞাসা করি, আমরা যখন নির্বাসনে বনবাসে ছিলাম এবং আমার কনিষ্ঠ ভরত প্রজাপালনের দায়িত্বে ছিলেন, তখন অযোধ্যার রাজকর্মে কোন ত্রুটি তোমাদের চোখে পড়েছে কি? ... ...

জাদুঘরে নয়, আন্তনি গাউদি প্রকৃতি, আলো এবং ঈশ্বরকে নিয়ে তাঁর খেলাঘর, তাঁর বৈঠকখানা সাজিয়ে রেখেছেন বার্সেলোনায়; দেখি তাঁর হাতে গড়া বাড়ি, তরঙ্গের মতন ব্যালকনি, ছাদে চীনেমাটির গোল চিমনি, বারান্দার ধাতব রেলিংকে মনে হয় নধর, পেলব, কোমল; যেন অবহেলে এক শিল্পীর আঙ্গুলের মোচড়ে টানা, সিঁড়ি আমাদের একতলা থেকে দোতলা নয়, নিয়ে যায় এক অলৌকিক উচ্চতায়, বসার ঘর অবারিত আলোকের ঝরনাধারায় ভেসে যায় না, আলোর বর্শা আসে কোনাকুনি বল্লমের ফলার মতো, আবিষ্কার করে গৃহকোণের গহন গৌরব। ... ...

কথাবার্তা শুরু হল। বেশীরভাগই কম্পিউটার বিষয়ক, উন্নয়ন ও পরিবর্তনের গতি, ভবিষ্যতে কি হবে বা হতে পারে ইত্যাদি। প্রফেসর অত্যন্ত ভদ্রলোক, সদালাপী, কথা বলতে ভালোবাসেন। ড্রিঙ্ক ও স্ন্যাক্সের সঙ্গে গল্প কথায় মশগুল হয়ে গিয়েছিলাম। সব মিলে বেশ ভালো লাগছিলো, নরম পরিবেশ, শিথিল চিন্তাহীন মস্তিষ্ক। হালকা আমেজে ভরেছে মন। “শ্যাল আই গেট ইয়ু এনাদার ড্রিঙ্ক।“ গ্লাসের উপর হাত রেখে বললাম, আর না, এবার উঠব। আচমকা হঠাৎ প্রোফেসর কালিজুরি জ্যাকেটের পকেট থেকে একটা খাম বার করে আমার হাতে দিল। এতক্ষণ পরে কাজের কথা, বুঝলাম কি উদ্দেশ্যে এই মিটিং। বলল, “দেখো, তুমি যা যা চেয়েছিলে তা সব আছে এখানে। সই করে দাও।” আমি অবাক। কন্ট্রাক্ট পড়ে দেখি, সত্যি তাই। একটু চিন্তা করে বললাম, “আমি আমার ওয়াইফ-র সঙ্গে কথা না বলে সই করতে পারব না।" প্রফেসর বলল, “আর সময় নেই, কাল ভোরেই আমি চলে যাচ্ছি। এখন সই না করলে আর হবে না।” প্রফেসর নাছোড়বান্দা। ... ...

এসে গেল গুরুচণ্ডা৯-র নতুন উদ্যোগ 'এ মাসের বই'। প্রতি মাসে নির্বাচিত কিছু বইকে তুলে আনা হবে পাঠকের দরবারে,থাকবে সেইসব বইয়ের উপর বিশেষ ছাড়। সঙ্গে চলুক বইগুলো নিয়ে আড্ডা-তর্ক-গল্প-আলোচনা। ... ...

কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের বৈসরন উপত্যকায় ঘটে যাওয়া নির্মম হত্যাকাণ্ড স্বাধীন ভারতের ইতিহাসের অন্যতম শোকার্ত কালো অধ্যায়। গত ২২শে এপ্রিল, ২০২৫ বৈসরন উপত্যকায় যে নৃশংসভাবে নিরীহ পর্যটকদের হত্যা করা হল, তা সমগ্র ভারতবাসীর হৃদয়ের প্রতিটি শিরা-উপশিরা তীব্র শোকার্ত তরঙ্গে প্লাবিত করেছে। অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবেই এই পৈশাচিক হত্যালীলার প্রতিক্রিয়ায় সমগ্র দেশবাসী একদিকে যেমন স্বজন হারানোর শোকে মুহ্যমান হয়েছে, তেমনি অন্যদিকে এই বর্বরোচিত নৃশংসতার বিরুদ্ধে সমগ্র দেশ তীব্র প্রতিবাদে গর্জে উঠেছে। সোশ্যাল মিডিয়ার পাতা জুড়ে হতভাগ্য সহনাগরিকদের জন্য সমবেদনার হাহুতাশ এবং বদলার নেওয়ার উদ্বেল আহ্বান। রাষ্ট্র পরিচালকদের বক্তব্য জুড়ে যোগ্য জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার। কোন সন্দেহ নেই যে, ঘটনার নারকীয়তার পরিপ্রেক্ষিতে এই সবই অত্যন্ত স্বাভাবিক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া। কিন্তু মৌলিক প্রশ্নটা হল, বদলাটা কার বিরুদ্ধে? কোন পথে? যোগ্য জবাবই বা কোন অর্থে? ... ...