
ছয় থেকে আট বছর বয়সে পড়া মোট আটটা গল্পের সেই বইটা- তখন বুঝিনি, কিন্তু অজান্তেই মনের ভেতর এক ধরনের প্রশাসনিক মূল্যবোধ গেঁথে দিয়েছিল। চৌদ্দ-পনের বছর পরে, যখন সত্যিকারের প্রশাসনের ভেতরের জটিল কলকবজা চিনতে শুরু করলাম, তখন হঠাৎ হঠাৎ সেই পুরোনো গল্পগুলো মনে পড়ত। তারা ভিতর থেকে ফিসফিসিয়ে বলত- “সেই গল্পটাই এখন তোমার চারপাশে ঘটছে।” এ বছর পুজোর সময়ে ব্যাঙ্গালোরের এক পুজো মণ্ডপের বইয়ের স্টলে হঠাৎ পেয়ে গেলাম ‘দাদামশায়ের থলে’, নতুন করে ছেপেছেন মিত্র ও ঘোষ। ৬৪/ ৬৫ বছর পরেও একই রকম ভাল লাগল পড়তে। প্রশাসনিক প্রশিক্ষণের সিলেবাসে দাদামশায়ের থলে অন্তর্ভুক্ত করার কথা ভাবতে পারেন কর্তৃপক্ষ। ... ...

১৪-ই জুনের সেই একদিনের আন্টি-ট্রাম্প আন্দোলন, চার মাস পর, ১৮-ই অক্টোবর, যে আরও অনেকগুণ জোরদার হয়ে উঠেছে, তাতে আর সন্দেহের অবকাশ কোথায়। চুপ করে থাকার সময় যে এখন পেরিয়ে গেছে, কারণ এ লড়াই একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের লড়াই। ৫০টি রাজ্য আর ওয়াশিংটন ডিসিতেই শুধু এই আন্দোলন আজ আর থেমে নেই, বিশ্বের বিভিন্ন শহর, যেখানেই স্বাধীনতাপ্রেমী, গণমতবিশ্বাসী মানুষ রয়েছেন, সেখানেই এই প্রতিবাদের তাঁত ছড়িয়ে পড়েছে। ৭০ লক্ষেরও বেশি সাধারণ মানুষ ২,৭০০টিরও বেশি অনুষ্ঠানে উঠে দাঁড়িয়ে বলেছেন: আমেরিকাতে কোনও রাজা নেই, দেশের ভালোমন্দ নির্ধারণের বিচার ও ক্ষমতা জনগণের উপরই অর্পিত রয়েছে। ট্রাম্পের রাজাসুলভ আচরণ, একাধিপত্য কোনোমতেই মেনে নেওয়া চলবে না। ... ...

ফ্রান্সের মুক্তির ছ মাস বাদে কঁ থেকে অন্দ্রে আইন্তস এডিনবরা আসেন ফ্রেঞ্চ পড়াতে। তিনি লক্ষ করলেন একজন যুবক তাঁর ক্লাসে কিছুতেই মুখ তুলে কথা বলে না; একদিন অন্দ্রে এর কারণ জানতে চাইলেন। সেই যুবক বললেন, নরমানডি লড়াইয়ের সময়ে তার দায়িত্ব ছিল কঁ শহরের এরিয়াল ম্যাপ দেখে স্থির করা কোথায় কোথায় জার্মানরা নতুন রাস্তা বানাচ্ছে, সেই মত বোমা ফেলা হবে। অজস্র বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যুর জন্য সে নিজেকেই দায়ী মনে করে। অন্দ্রে তাঁকে বুকে জড়িয়ে ধরে বলেছিলেন তবু আপনারা আরও অনেক কঠিন নিপীড়ন থেকে আমাদের মুক্ত করেছিলেন। ... ...

রিচার্ড নিজে আমাদের মিউজিয়ামের সংগ্রহশালায় নিয়ে গেলেন। মিউজিয়ামের অমূল্য সম্পদ সব কি দারুণভাবে সুরক্ষিত করে রাখা থাকে তা দেখে আশ্চর্য না হয়ে পারিনি। রিচার্ডের হাতে একগুচ্ছ চাবি। একটার পর একটা দরজা খুলে, মনে নেই কতগুলো, মিউজিয়ামের অন্দরমহলে একটা ছোট ঘরে গিয়ে আমরা বসলাম। এই ঘরে কতকগুলো উঁচু ঢালু লম্বা টেবিল পাতা। প্রত্যেক টেবিলের উপর এক বিশেষ ধরণের আলো, ছবি বা চিত্রশিল্প দেখার জন্য; বেশী উজ্বল নয়, অনেকটা স্তিমিত দিনের আলোর মত। ... ...

সবচেয়ে লাভ হয়েছিল, 'মার্কসিজম টুডে' একটা পত্রিকা পড়ে। ১৯৮৫তে। সেখানে পি সুন্দরাইয়ার লেখা পড়ে চমকে যাই। সেখানে সুন্দরাইয়া ইন্দিরা গান্ধীকে আধা ফ্যাসিবাদী বলে পূর্ণাঙ্গ ফ্যাসিবাদী আর এস এসের হাত ধরার জন্য সিপিআই (এম) নেতৃত্বের সমালোচনা করেছেন। এবং পার্টির পলিটব্যুরোর সম্পাদক পদ ছেড়ে দিয়ে সাধারণ পার্টি সদস্য হয়ে যাচ্ছেন। এর অভিঘাত সবটা বুঝিনি। বোঝার ক্ষমতাও হয়নি। কেউ বুঝিয়ে দেওয়ার লোকও ছিল না। ... ...

অনেকে ভাবতে পারেন, এই ক্ষুদ্র ঋণের বিষয়টি শুধুমাত্র বিহারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, কিন্তু বিষয়টা একেবারেই তা নয়, বাংলার ক্ষেত্রেও এই সমস্যা আছে। হুগলী, বসিরহাট, মুর্শিদাবাদ, মালদা সহ নানান জেলায় এই ক্ষুদ্র ঋণের জালে জড়িয়ে আছেন বহু মহিলা। ২০২৯ – ২০ সালের সময়ে যখন কোভিডের প্রভাব বেড়েছিল, যে সময়ে মানুষের কাজ ছিল না, ঐ সময়েই এই টাকা ধার নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছিল। তারপরে সেই টাকা শোধ করতে না পেরে আরো অন্যান্য সংস্থা থেকে ঋণ নেওয়ার প্রবণতাও বেড়েছিল। ক্ষুদ্রঋণ দেওয়া সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে হুমকি এবং অত্যাচারও বেড়েছিল। বিহারে এর ফলে, বহু পরিবার ছন্নছাড়া হয়ে গেছে। ... ...

উৎসব সংখ্যা ১৪৩২ -র সমস্ত লেখার হদিশ পাবেন এই পাতায় ... ...

যদি মরার হয় তবে আর না ভুগে তাড়াতাড়ি মরুক। যতদিন ভর্তি থাকবে,ততদিন জলের মতো টাকা যাবে। এতো জমিদারের সম্পত্তি নয়,বাপের সম্পত্তিও নয়। কষ্টের রোজগারের টাকা।মাথার ঘাম পায়ে ফেলে রঙের মিস্ত্রি পরের ঘর রঙ করে। সেই টাকা বৌয়ের পেছনে যদি জলের মতো বেরিয়ে যায়,তবে কার না গায়ে লাগে? বাচ্চা পড়ে আছে ঠাকুমার কাছে। জন্ম হয়ে দেখেওনি মাকে। মাও দেখেনি ছা'কে। একদিন ভিডিওকল না কী করেছিল ছেলে। ফোনে ঐ লিকপিকে মেয়ে ছাওয়াল দেখে স্যালাইনের নল লাগানো মা কেঁদে আকুল। আর বাচ্চা তো ঘুমিয়েই থাকল। সারাদিন ঘুমাচ্ছে আর সারারাত জাগছে। খিদে পেলে তারস্বরে কাঁদছে। কৌটোর দুধে যেন তার খিদে মেটে না। ... ...

পাপানের কলেজ ঠনঠনিয়ায় হলে কি হবে, ও কলকাতার প্রায় কিচ্ছুটি চেনে না। তবে ও নিজেকে সান্ত্বনা দেয় এই বলে, সবে ফার্স্ট ইয়ারে ঢুকেছে, ফাইনাল ইয়ারে উঠতে উঠতে নিশ্চই চিনে যাবে। এই কলেজ স্কোয়ারে ও এতবার এসেছে, এখানে যে এরকম একটা ভূতুড়ে বাড়ি দিব্যি ডালপালা মেলে দাঁড়িয়ে আছে, ও থোড়াই খেয়াল করেছে এদ্দিন। দাদা যখন ত্রিপুরা হলের ঠিকানাটা লিখে দিল চিরকুটে, তখন কি আর পাপান জানত, সামনে এসে শুধু ঢোকার দরজা খুঁজে পেতে এত নাকাল হতে হবে! ... ...

কোথায় কারা যেন খুব হইচই করছে। ঘুমের মধ্যে অস্পষ্ট একটা জড়ানো গোলযোগ শুনতে পাচ্ছিল মিতা। মাথা মুখ চোখ জড়িয়ে থাকা ঘন কুয়াশার মত ঘুম ওকে পুরোপুরি জেগে উঠতে দিচ্ছিল না। বোজা চোখের পাতায় কমলাচে আভা, তার মানে সূর্য রতনদের ছাদ টপকে এসে গেছে মিতার জানলায়। কোথাও থালা বাসন পড়ে যাওয়ার ঝনঝন আওয়াজে ঘুমের ঘোরটা পুরোপুরি ছিঁড়ে যায় এবার। পিটপিটিয়ে চোখ খুলতে খুলতে মনে পড়ে আজ লক্ষ্মীপুজো। কোজাগরি পূর্নিমায় মা সারা বাড়ি জুড়ে আলপনা দিত। তখন অবশ্য ওদের একতলায় ছোট্ট দুটো ঘর আর সরু একফালি বারান্দা। মা তাও ছাদের দরজা থেকে গোটা সিঁড়ি জুড়ে লক্ষ্মীর পা আঁকত। লক্ষ্মী ঠাকরুণ নাকি ছাদ দিয়েই নামবে। এই নিয়ে ওরা ভাইবোনে কম হাসাহাসি করেছে। ভাগ হওয়ার আগে ওদের এজমালি বাড়িতে গোটা পাড়ার লোকের ভোগ খাবার নেমন্তন্ন থাকত। ... ...

ইয়ে... ওপরের নামটা আমি কি বলে যেন... হ্যাঁ, একটু ধার করেছি। আজকাল পালিশিত ভাষা পলিসিতে 'অনুপ্রাণিত' দিয়ে অবশ্য সুন্দর কাজ চালানো যায়। কিন্তু ওলে-লুকৈয়ে আজ রাত্রে আমায় এসে চেপে ধরলে স্বীকার করা ছাড়া গতি থাকবে না যে নামটা আমি চুরি.... মানে ঐ যে ইয়ে... হ্যাঁ ধার করেছি। হুঁ, ওলে-লুকৈয়ে, লোকটার নাম। যে চোখে ধূলো দেয়। দেখুন, এই অনুপ্রেরণা-ধার-চুরি গত ঝামেলা গুলোর জন্য আমি মোটেই দায়ী নই। এই সমস্তটার জন্য দায়ী একমাত্র হ্যান্স ক্রিশ্চান অ্যান্ডারসন। ঐ বুড়ো ওলে-লোকৈয়ে কে যখন উনিই আমার ঘাড়ে চাপিয়েছেন তখন এই নাম টুকু ওঁর থেকে ধার নেওয়াতে আমি কিচ্ছু খারাপ দেখিনা। ... ...

হিমাংশুবাবু অবিশ্যি লাইন-এর দৈর্ঘ্যে বিচলিত ন'ন। রিটায়ারমেন্টের পর তাঁর আর কীই বা কাজ! সকালে বাজারটুকু নিয়মিত করেন, খবরের কাগজটা পড়েন খুঁটিয়ে, আর ব্যাঙ্কে যান। বাজারের পর বেশিক্ষণ বাড়িতে না-থাকাই ভালো। স্ত্রী যখন বাজার তুলবেন তখন তার সমালোচনা হবেই। তার থেকে বাকবিতণ্ডা, এবং অশান্তি। কী দরকার! ব্যাঙ্কে যাওয়াই ভালো। ব্যাঙ্ক থেকে ফিরে স্নান-খাওয়া সেরে দুপুরে নিয়মিত ঘুম, বিকেলে চা-পান, এবং সন্ধ্যেবেলা লাইব্রেরি খোলার সঙ্গে সঙ্গেই আগের দিনের বইটা ফেরৎ দিয়ে আর একটা উপন্যাস নিয়ে আসা! ... ...
না না, ভুল বুঝবেন না। আমার ছেলের নাম অ্যাডলফ হিটলার নয়। আর আমি কোন নর্ডিক আর্য নই, নেহাৎ ছাপোষা বাঙালি। একেবারে কালোকোলো। আমাকে দেখলে কেউ জার্মান বলে ভুল করবে না। কিন্তু দ্রাবিড় জাতি, মানে মদ্র বা মালয়ালি, ভাবতে পারে। একবার ছত্তিশগড়ের সায়েন্স কলেজে এক মালয়ালি ভদ্রলোক নিজের মেয়েকে ভর্তি করাতে এসে চেনাজানা লোক খুঁজছিলেন। আমাকে দেখে হাসিমুখে এগিয়ে এসে ঝড়ের মত কী কী সব বলে গেলেন। আমি অবাক হয়ে ভাবলাম –গাল দিচ্ছেন নাকি? দু’একবার তাঁর সঙ্গের লবঙ্গলতার দিকে তাকিয়েছি বটে, কিন্তু সেটা এমনকি অপরাধ? মেয়েটা বরং লাজুক হেসে প্রতিদান দিয়েছে। নিরুপায় হয়ে ভাঙা ইংরেজিতে ‘এক্সকিউজ মী, এবং পার্ডন পার্ডন কয়েকবার আওড়ালাম। সত্যিই কিছু বুঝতে পারছিলাম না। শেষে ওঁর ভেতরের টিউবলাইট জ্বলে উঠল। চোখ বড় বড় করে বললেন- নট ফ্রম কেরালা? - নো স্যার। ফ্রম ক্যালকাটা। ... ...

আর কী ভাগ্য! পেলাম পুইঁ শাকের তরকারি। তবে কুমড়ো নেই। দিদিই ব্যাখ্যা দিলেন। ৭০ টাকা কেজি। কী করে কিনি? আমি সুযোগ পেয়ে বললাম, বেশি করে মোদিকে ভোট দিন। একজন রাগতভাবে তাকালেন। বলতেই হল, বেশিদিন থাকলে ১০০ টাকা কেজি চাল হবে। বেগুন ৩০০। দুশো টাকা তো দেখেই ফেলেছি। দোকানদার দিদি নাতির বায়না সালাচ্ছিলেন। নাতি কাল চম্পাহাটিতে ফিরতে চায়। নাটকের পার্ট করবে কালীপূজায়। ... ...
নিশ্চুপে সাঁতরায় স্মৃতির অতলে সহসা উদ্বেল হয়, উঠে আসে, ঘাই মারে অবিশ্রান্ত ধারাজলে চেতনা লুপ্ত হলে ভুলে থাকা ঘ্রাণ ভেসে আসে, ডেকে নেয় আদিম কুহক মায়ায় মেতে উঠি যাত্রা শুরু, জাদুকর খুলিয়াছে মুঠি ... ... ...

বাবা, আমার তিরিশ বছরের জীবনে এই প্রথম তোমাকে মেল করছি, বা বলা ভাল, তোমাকে, শুধু তোমাকেই উদ্দেশ্য করে কিছু লিখছি। তোমার ব্যক্তিগত ইমেল ঠিকানায় লিখছি,অফিসের ঠিকানায় নয়। আমি জানি, এই মেল তুমি কালেভদ্রে একবার খোলো, ব্যক্তিগত খাতা খুলে দেখাতে চিরকালই গভীর অনীহা তোমার। দিনে প্রায় বারো ঘন্টা অফিস, মাসে মাসে ফরেন ট্যুর,সেমিনার, আরও অজস্র পেশাগত কর্মকান্ড-এই তো তোমার কাছে জীবনের মানে। A workaholic is a person who works a lot of the time and finds it difficult not to work - এই সংজ্ঞাটা মনে হয় তোমাকে দেখেই কেউ লিখেছিল। তাই ভাবছিলাম, কবে তুমি অতিব্যস্ত জীবনের ফাঁকে আমার এই লেখা খুলে পড়বে, কে জানে! ... ...

নদীর পথে শহর জনপদ নদীর পথ রূদ্ধ পদে পদে অন্ধকারে ক্লান্ত পথবাসী ঘুর্ণি জলে মিশছে হতশ্বাস রাত্রি নামে এবং নামে ভোর পলির পাঁকে প্রাচীন জলযান নদীর জলে মানুষ তার শোক ভাসিয়ে দিয়ে ফিরেছে জনপদে ... ...

সারা বর্ষা গ্রীষ্ম বসন্তে কেউ দেখতে পায়না লোকটাকে। শুধু এই শীতের সকালে একটু একটু করে সূর্যের রশ্মি যখন ছড়িয়ে পড়ে সারা পাড়ায়, দরমার বেড়ার একপাশে উইধরা খয়াটে বাতার দরজাটা ঠেলে আস্তে আস্তে সে বাইরে আসে। মাথা থেকে পা পর্যন্ত নানা কাপড়ে ঢাকা শরীর। ছেঁড়া শার্টের ওপর ময়লা ধূসর পাঞ্জাবি, মাফলার দিয়ে মাথা ঢেকে তার ওপর একটা শাড়ি পাগড়ির মত করে প্যাঁচানো। যা কাপড় যেখানে পেয়েছে তাই চাপিয়ে, একটা রিলিফের কম্বল সারা গায়ে জড়িয়ে কাঁপতে কাঁপতে বাইরের ধারিটায় এসে রোদে বসে। পেছন পেছন ছোট ছেলেটা আসে একটা এলুমিনিয়ামের তোবড়ানো পিকদানী আর চটের আসন নিয়ে। থুতু রাস্তায় ফেলত আগে, সারাবেলার শ্লেষ্মা ধুলোয় মাখামাখি হয়ে ছোপ ছোপ পড়ে থাকত সামনের চলাফেরার রাস্তা জুড়ে। ... ...

আমার বাল্যবন্ধু দাশু হিমালয় বেড়াতে গেছে। সেখান থেকে, সেই পর্বতের চুড়ো থেকেই, আমাদের এই অনেক দূরের এবং নিচের উপদ্রুত উপত্যকায় ছবি পাঠাচ্ছে এমার্জেন্সি ডিস্প্যাচের মত। সেইরকম একটা ছবিতে মেঘের উপর যাদুকরি বেলাশেষের আলো। ওঠার রাস্তায় দাশু বলেছিল, পাহাড়ে উঠতে উঠতে মেঘের রাজ্যে ঢোকার সময় মাথায় নাকি ক্রমাগত ঘাই মেরেছে শক্তির সেই দুই লাইন, আর মনে হয়েছে মেঘ যে গাভীর মত চরে সেটা হয়তো ঐ নিরুত্তাপ, নির্বিকার আকাশের রূপক, মন্থরতার নয়। কে জানে? "দ্য অথর ইজ় ডেড।" আর আমার মনে হচ্ছিল যেন আর কিছু পড়েছি কোথায়। ... ...

আতঙ্কিত এক প্রাণী বিস্ফারিত চোখে তাকিয়ে আছে। অতিকায় আর এক প্রাণী গিলে খেতে আসছে। এই দুটি বাক্য লিখে তুহিন চুপচাপ। তুহিনের লেখা আটকে গেছে। একে বলে রাইটারস ব্লক। কলম সরছে না। কলম নয় ল্যাপটপে আঙুল। যা লিখছে, তা মুছে দিচ্ছে। শুধু দুটি বাক্য রয়ে গেছে। এর ভিতরে একটি রাখবে, অন্যটি মুছে দেবে? মুছে দিতে গিয়ে আবার ফুটিয়ে তুলছে তার আঙুল এবং ল্যাপটপের কী-প্যাডের ছোঁয়া। ফোন করল ভব মণ্ডল, দাদা হল? তুহিন বলল, দেরি হবে। ভব নাছোড়বান্দা, বলল, প্রেসে সব চলে গেছে। - কী গেল? - গল্প কবিতা প্রবন্ধ বুক রিভিউ। ... ...