
কিন্তু আজকের প্রজন্ম যখন ম্যাপ হাতে বা গুগল স্ক্রোল করে ইউরোপ ঘোরে, তাদের বোঝানো অসম্ভব যে মিউনিকের কার্লস প্লাতস, ওয়ারশ’র স্তারে মিয়াসতো, ড্রেসডেনের লিবফ্রাউয়েন, কলোনের জোড়া গিরজে, পুরো রটারডাম, ফ্রাঙ্কফুর্ট, ওয়েসেল এবং আরও অনেক শহর, প্রাসাদ, দুর্গ, ভজনা মন্দির মাটিতে মিশে গিয়েছিল। ১৯৪৫ সালের মে মাসে বার্লিনে কোন দেওয়াল খাড়া ছিল না; সে বছরের জুলাইতে তোলা একটি আমেরিকান ডকুমেনটারি ফিল্মে রিপোর্টারের অফ ভয়েসে (ইউ টিউবে লভ্য) শোনা যায়, ‘বার্লিন এক মহা শ্মশান; একটি ইটও দাঁড়িয়ে নেই। আজ থেকে পঞ্চাশ বছর পরেও এখানে বাস করবে না কোন মানুষ। ... ...

নিউ ইয়র্কের ক্যারিওকস লিমিটেড লায়াবিলিটি নামের এক টেলিকম কোম্পানি তাদের প্রাপ্তব্য ইনভয়েস আগাম বেচে প্রভূত ঋণ গ্রহণ করেছিল, গুজরাত গান্ধীনগরের খ্যাতনামা টেলিকম এঞ্জিনিয়ার বঙ্কিম ব্রহ্মদত্ত তার প্রোমোটার। ইন্টারনেট ইউ টিউবে তাঁর যশগাথা গাওয়া হয়ে থাকে – পাঁচশ মিলিয়ন ডলার বাকি রেখে তিনি ফেরার হয়েছেন। ... ...

তিনি বললেন ইউরোপে স্পেনই বুঝি একমাত্র দেশ যেখানে স্পেনের মানুষ প্রজন্মের পর প্রজম্ন যতিহীন ভাবে রবীন্দ্র চর্চা করে গেছে। কাম্প্রুবি ও হুয়ান রেমনের রবীন্দ্র অনুবাদ মাদ্রিদ তথা স্পেনের বহু স্কুল লাইব্রেরী ও পাবলিক লাইব্রেরীতে রাখা হত। এখানে মনে রাখা দরকার যে কাম্প্রুবি ও হুয়ান রেমনের রবীন্দ্র অনুবাদ স্পেনের “ Generation of 1927” (১৯২৭-র প্রজন্ম)-র বুদ্ধিজীবীদের উপর এক বিরাট প্রভাব ফেলেছিল। এদের মধ্যে আছেন রাফায়েল আলবের্টি (Rafael Alberti), ফ্রেদেরিকো গারসিয়া লোরকা (Frederico Garcia Lorca), ভিসেন্তে আলেক্সান্দ্রে (Vicente Aleixandre – 1977 Nobel Prize); এবং লাতিন আমেরিকান নোবেল বিজয়ী সাহিত্যিক গাব্রিয়েলা মিস্ত্রাল ও পাবলো নেরুদা (Gabriela Mistral and Pablo Neruda – Nobel Prize 1945 and 1971 respectively) এবং চিত্র পরিচালক লুই বুনুয়েল (Luis Bunuel)। অবশ্যই রবীন্দ্রনাথ ও ওকাম্পো কাহিনীও উল্লেখযোগ্য। ... ...

শেষ যখন তোকে দনুর গল্প বলেছি, বলতে থাকে মুড়কি দিদি, সে মরে যাবার পর তার গায়ে যখন আগুন দেওয়া হল, শুধু ধোঁয়াই ছিল বেশ খনিকক্ষণ, তারপর ধোঁয়ার সঙ্গে সঙ্গে একটা রথও উঠে এল। প্রায় লাফিয়েই সেই রথে চড়ে বসে দনু, তার অত তাড়াহুড়ো দেখে লক্ষ্মণের কাছ থেকে সেই বিখ্যাত ধমকটা খায় সে: একবার যদি ব্রহ্মার কাছে নালিশ করি, স্বর্গে যাওয়া পণ্ড হয়ে যাবে তোমার, সে কথা কি জান? ... ...

প্রথমবারের জন্য হিমালয় জয় করে আমরা তো বাড়ি ফিরে এলাম। সঙ্গে করে আনলাম চিরকালের স্মৃতির পুঁটুলি। নিজেদের যা অভিজ্ঞতা হল হল, স্যারেদের মুখ থেকে তাঁদের জীবনের ফিল্ডের নানারকম রোমহর্ষক কাহিনী যেগুলো শুনলাম, তাই বা কম কী। ... ...

অতি সম্প্রতি দিল্লীর মহামান্য উচ্চ আদালত উমর খালিদ, শারজিল ইমাম সহ নয়জনের জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। এই আবেদন খারিজের স্বপক্ষে আদালতের ডিভিশন বেঞ্চের যুক্তি ছিল ... “অভিযোগের প্রকৃতি এবং বিশেষত বিজ্ঞ সলিসিটর জেনারেলের বক্তব্য বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় যে, বর্তমান মামলাটি নিয়মিত প্রতিবাদ বা দাঙ্গার মামলা নয়; বরং ভারতের ঐক্য, অখণ্ডতা এবং সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ বেআইনি কার্যকলাপ সংগঠিত করার ক্ষেত্রে একটি পূর্বপরিকল্পিত, সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। এই ধরনের পরিস্থিতিতে মানুষের ব্যক্তিগত অধিকার এবং জাতির স্বার্থের পাশাপাশি সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টি আদালতের কাছে কঠিন কাজ হয়ে পড়ে। সেহেতু, জামিনের এই আবেদন গৃহীত হল না।” ... ...

আগে হ্যানয়ের স্ট্রীট ফুডে ফরাসীদের রন্ধনপ্রণালীর প্রভাব উল্লেখ করেছি, কিন্তু শুধু তো ফরাসী নয়, এদের খাবারে প্রভাব আছে চীনা, জাপানী, থাই, কোরিয়ান ক্যুজিনের। হ্যানয় ভিয়েতনামের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত, তাই স্বাভাবতই যেখানে চীনা সংস্কৃতির প্রভাব ঐতিহাসিকভাবে গভীর। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য খ্রিস্টপূর্ব ১১১ অব্দ থেকে ৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ভিয়তনাম দীর্ঘ এক সহস্রাব্দ ধরে চীনাদের দ্বারা শাসিত ছিল। হ্যানয়ের স্ট্রীট ফুডে দেখা যায় সয় সস ও স্টার অ্যানিস-এর ব্যবহার, যা ফো-এর মতো স্যুপে স্বাদ বাড়ায়। ... ...

ছয় থেকে আট বছর বয়সে পড়া মোট আটটা গল্পের সেই বইটা- তখন বুঝিনি, কিন্তু অজান্তেই মনের ভেতর এক ধরনের প্রশাসনিক মূল্যবোধ গেঁথে দিয়েছিল। চৌদ্দ-পনের বছর পরে, যখন সত্যিকারের প্রশাসনের ভেতরের জটিল কলকবজা চিনতে শুরু করলাম, তখন হঠাৎ হঠাৎ সেই পুরোনো গল্পগুলো মনে পড়ত। তারা ভিতর থেকে ফিসফিসিয়ে বলত- “সেই গল্পটাই এখন তোমার চারপাশে ঘটছে।” এ বছর পুজোর সময়ে ব্যাঙ্গালোরের এক পুজো মণ্ডপের বইয়ের স্টলে হঠাৎ পেয়ে গেলাম ‘দাদামশায়ের থলে’, নতুন করে ছেপেছেন মিত্র ও ঘোষ। ৬৪/ ৬৫ বছর পরেও একই রকম ভাল লাগল পড়তে। প্রশাসনিক প্রশিক্ষণের সিলেবাসে দাদামশায়ের থলে অন্তর্ভুক্ত করার কথা ভাবতে পারেন কর্তৃপক্ষ। ... ...

১৪-ই জুনের সেই একদিনের আন্টি-ট্রাম্প আন্দোলন, চার মাস পর, ১৮-ই অক্টোবর, যে আরও অনেকগুণ জোরদার হয়ে উঠেছে, তাতে আর সন্দেহের অবকাশ কোথায়। চুপ করে থাকার সময় যে এখন পেরিয়ে গেছে, কারণ এ লড়াই একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের লড়াই। ৫০টি রাজ্য আর ওয়াশিংটন ডিসিতেই শুধু এই আন্দোলন আজ আর থেমে নেই, বিশ্বের বিভিন্ন শহর, যেখানেই স্বাধীনতাপ্রেমী, গণমতবিশ্বাসী মানুষ রয়েছেন, সেখানেই এই প্রতিবাদের তাঁত ছড়িয়ে পড়েছে। ৭০ লক্ষেরও বেশি সাধারণ মানুষ ২,৭০০টিরও বেশি অনুষ্ঠানে উঠে দাঁড়িয়ে বলেছেন: আমেরিকাতে কোনও রাজা নেই, দেশের ভালোমন্দ নির্ধারণের বিচার ও ক্ষমতা জনগণের উপরই অর্পিত রয়েছে। ট্রাম্পের রাজাসুলভ আচরণ, একাধিপত্য কোনোমতেই মেনে নেওয়া চলবে না। ... ...

ফ্রান্সের মুক্তির ছ মাস বাদে কঁ থেকে অন্দ্রে আইন্তস এডিনবরা আসেন ফ্রেঞ্চ পড়াতে। তিনি লক্ষ করলেন একজন যুবক তাঁর ক্লাসে কিছুতেই মুখ তুলে কথা বলে না; একদিন অন্দ্রে এর কারণ জানতে চাইলেন। সেই যুবক বললেন, নরমানডি লড়াইয়ের সময়ে তার দায়িত্ব ছিল কঁ শহরের এরিয়াল ম্যাপ দেখে স্থির করা কোথায় কোথায় জার্মানরা নতুন রাস্তা বানাচ্ছে, সেই মত বোমা ফেলা হবে। অজস্র বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যুর জন্য সে নিজেকেই দায়ী মনে করে। অন্দ্রে তাঁকে বুকে জড়িয়ে ধরে বলেছিলেন তবু আপনারা আরও অনেক কঠিন নিপীড়ন থেকে আমাদের মুক্ত করেছিলেন। ... ...

রিচার্ড নিজে আমাদের মিউজিয়ামের সংগ্রহশালায় নিয়ে গেলেন। মিউজিয়ামের অমূল্য সম্পদ সব কি দারুণভাবে সুরক্ষিত করে রাখা থাকে তা দেখে আশ্চর্য না হয়ে পারিনি। রিচার্ডের হাতে একগুচ্ছ চাবি। একটার পর একটা দরজা খুলে, মনে নেই কতগুলো, মিউজিয়ামের অন্দরমহলে একটা ছোট ঘরে গিয়ে আমরা বসলাম। এই ঘরে কতকগুলো উঁচু ঢালু লম্বা টেবিল পাতা। প্রত্যেক টেবিলের উপর এক বিশেষ ধরণের আলো, ছবি বা চিত্রশিল্প দেখার জন্য; বেশী উজ্বল নয়, অনেকটা স্তিমিত দিনের আলোর মত। ... ...

সবচেয়ে লাভ হয়েছিল, 'মার্কসিজম টুডে' একটা পত্রিকা পড়ে। ১৯৮৫তে। সেখানে পি সুন্দরাইয়ার লেখা পড়ে চমকে যাই। সেখানে সুন্দরাইয়া ইন্দিরা গান্ধীকে আধা ফ্যাসিবাদী বলে পূর্ণাঙ্গ ফ্যাসিবাদী আর এস এসের হাত ধরার জন্য সিপিআই (এম) নেতৃত্বের সমালোচনা করেছেন। এবং পার্টির পলিটব্যুরোর সম্পাদক পদ ছেড়ে দিয়ে সাধারণ পার্টি সদস্য হয়ে যাচ্ছেন। এর অভিঘাত সবটা বুঝিনি। বোঝার ক্ষমতাও হয়নি। কেউ বুঝিয়ে দেওয়ার লোকও ছিল না। ... ...

অনেকে ভাবতে পারেন, এই ক্ষুদ্র ঋণের বিষয়টি শুধুমাত্র বিহারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, কিন্তু বিষয়টা একেবারেই তা নয়, বাংলার ক্ষেত্রেও এই সমস্যা আছে। হুগলী, বসিরহাট, মুর্শিদাবাদ, মালদা সহ নানান জেলায় এই ক্ষুদ্র ঋণের জালে জড়িয়ে আছেন বহু মহিলা। ২০২৯ – ২০ সালের সময়ে যখন কোভিডের প্রভাব বেড়েছিল, যে সময়ে মানুষের কাজ ছিল না, ঐ সময়েই এই টাকা ধার নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছিল। তারপরে সেই টাকা শোধ করতে না পেরে আরো অন্যান্য সংস্থা থেকে ঋণ নেওয়ার প্রবণতাও বেড়েছিল। ক্ষুদ্রঋণ দেওয়া সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে হুমকি এবং অত্যাচারও বেড়েছিল। বিহারে এর ফলে, বহু পরিবার ছন্নছাড়া হয়ে গেছে। ... ...

উৎসব সংখ্যা ১৪৩২ -র সমস্ত লেখার হদিশ পাবেন এই পাতায় ... ...

যদি মরার হয় তবে আর না ভুগে তাড়াতাড়ি মরুক। যতদিন ভর্তি থাকবে,ততদিন জলের মতো টাকা যাবে। এতো জমিদারের সম্পত্তি নয়,বাপের সম্পত্তিও নয়। কষ্টের রোজগারের টাকা।মাথার ঘাম পায়ে ফেলে রঙের মিস্ত্রি পরের ঘর রঙ করে। সেই টাকা বৌয়ের পেছনে যদি জলের মতো বেরিয়ে যায়,তবে কার না গায়ে লাগে? বাচ্চা পড়ে আছে ঠাকুমার কাছে। জন্ম হয়ে দেখেওনি মাকে। মাও দেখেনি ছা'কে। একদিন ভিডিওকল না কী করেছিল ছেলে। ফোনে ঐ লিকপিকে মেয়ে ছাওয়াল দেখে স্যালাইনের নল লাগানো মা কেঁদে আকুল। আর বাচ্চা তো ঘুমিয়েই থাকল। সারাদিন ঘুমাচ্ছে আর সারারাত জাগছে। খিদে পেলে তারস্বরে কাঁদছে। কৌটোর দুধে যেন তার খিদে মেটে না। ... ...

পাপানের কলেজ ঠনঠনিয়ায় হলে কি হবে, ও কলকাতার প্রায় কিচ্ছুটি চেনে না। তবে ও নিজেকে সান্ত্বনা দেয় এই বলে, সবে ফার্স্ট ইয়ারে ঢুকেছে, ফাইনাল ইয়ারে উঠতে উঠতে নিশ্চই চিনে যাবে। এই কলেজ স্কোয়ারে ও এতবার এসেছে, এখানে যে এরকম একটা ভূতুড়ে বাড়ি দিব্যি ডালপালা মেলে দাঁড়িয়ে আছে, ও থোড়াই খেয়াল করেছে এদ্দিন। দাদা যখন ত্রিপুরা হলের ঠিকানাটা লিখে দিল চিরকুটে, তখন কি আর পাপান জানত, সামনে এসে শুধু ঢোকার দরজা খুঁজে পেতে এত নাকাল হতে হবে! ... ...

কোথায় কারা যেন খুব হইচই করছে। ঘুমের মধ্যে অস্পষ্ট একটা জড়ানো গোলযোগ শুনতে পাচ্ছিল মিতা। মাথা মুখ চোখ জড়িয়ে থাকা ঘন কুয়াশার মত ঘুম ওকে পুরোপুরি জেগে উঠতে দিচ্ছিল না। বোজা চোখের পাতায় কমলাচে আভা, তার মানে সূর্য রতনদের ছাদ টপকে এসে গেছে মিতার জানলায়। কোথাও থালা বাসন পড়ে যাওয়ার ঝনঝন আওয়াজে ঘুমের ঘোরটা পুরোপুরি ছিঁড়ে যায় এবার। পিটপিটিয়ে চোখ খুলতে খুলতে মনে পড়ে আজ লক্ষ্মীপুজো। কোজাগরি পূর্নিমায় মা সারা বাড়ি জুড়ে আলপনা দিত। তখন অবশ্য ওদের একতলায় ছোট্ট দুটো ঘর আর সরু একফালি বারান্দা। মা তাও ছাদের দরজা থেকে গোটা সিঁড়ি জুড়ে লক্ষ্মীর পা আঁকত। লক্ষ্মী ঠাকরুণ নাকি ছাদ দিয়েই নামবে। এই নিয়ে ওরা ভাইবোনে কম হাসাহাসি করেছে। ভাগ হওয়ার আগে ওদের এজমালি বাড়িতে গোটা পাড়ার লোকের ভোগ খাবার নেমন্তন্ন থাকত। ... ...

ইয়ে... ওপরের নামটা আমি কি বলে যেন... হ্যাঁ, একটু ধার করেছি। আজকাল পালিশিত ভাষা পলিসিতে 'অনুপ্রাণিত' দিয়ে অবশ্য সুন্দর কাজ চালানো যায়। কিন্তু ওলে-লুকৈয়ে আজ রাত্রে আমায় এসে চেপে ধরলে স্বীকার করা ছাড়া গতি থাকবে না যে নামটা আমি চুরি.... মানে ঐ যে ইয়ে... হ্যাঁ ধার করেছি। হুঁ, ওলে-লুকৈয়ে, লোকটার নাম। যে চোখে ধূলো দেয়। দেখুন, এই অনুপ্রেরণা-ধার-চুরি গত ঝামেলা গুলোর জন্য আমি মোটেই দায়ী নই। এই সমস্তটার জন্য দায়ী একমাত্র হ্যান্স ক্রিশ্চান অ্যান্ডারসন। ঐ বুড়ো ওলে-লোকৈয়ে কে যখন উনিই আমার ঘাড়ে চাপিয়েছেন তখন এই নাম টুকু ওঁর থেকে ধার নেওয়াতে আমি কিচ্ছু খারাপ দেখিনা। ... ...

হিমাংশুবাবু অবিশ্যি লাইন-এর দৈর্ঘ্যে বিচলিত ন'ন। রিটায়ারমেন্টের পর তাঁর আর কীই বা কাজ! সকালে বাজারটুকু নিয়মিত করেন, খবরের কাগজটা পড়েন খুঁটিয়ে, আর ব্যাঙ্কে যান। বাজারের পর বেশিক্ষণ বাড়িতে না-থাকাই ভালো। স্ত্রী যখন বাজার তুলবেন তখন তার সমালোচনা হবেই। তার থেকে বাকবিতণ্ডা, এবং অশান্তি। কী দরকার! ব্যাঙ্কে যাওয়াই ভালো। ব্যাঙ্ক থেকে ফিরে স্নান-খাওয়া সেরে দুপুরে নিয়মিত ঘুম, বিকেলে চা-পান, এবং সন্ধ্যেবেলা লাইব্রেরি খোলার সঙ্গে সঙ্গেই আগের দিনের বইটা ফেরৎ দিয়ে আর একটা উপন্যাস নিয়ে আসা! ... ...
না না, ভুল বুঝবেন না। আমার ছেলের নাম অ্যাডলফ হিটলার নয়। আর আমি কোন নর্ডিক আর্য নই, নেহাৎ ছাপোষা বাঙালি। একেবারে কালোকোলো। আমাকে দেখলে কেউ জার্মান বলে ভুল করবে না। কিন্তু দ্রাবিড় জাতি, মানে মদ্র বা মালয়ালি, ভাবতে পারে। একবার ছত্তিশগড়ের সায়েন্স কলেজে এক মালয়ালি ভদ্রলোক নিজের মেয়েকে ভর্তি করাতে এসে চেনাজানা লোক খুঁজছিলেন। আমাকে দেখে হাসিমুখে এগিয়ে এসে ঝড়ের মত কী কী সব বলে গেলেন। আমি অবাক হয়ে ভাবলাম –গাল দিচ্ছেন নাকি? দু’একবার তাঁর সঙ্গের লবঙ্গলতার দিকে তাকিয়েছি বটে, কিন্তু সেটা এমনকি অপরাধ? মেয়েটা বরং লাজুক হেসে প্রতিদান দিয়েছে। নিরুপায় হয়ে ভাঙা ইংরেজিতে ‘এক্সকিউজ মী, এবং পার্ডন পার্ডন কয়েকবার আওড়ালাম। সত্যিই কিছু বুঝতে পারছিলাম না। শেষে ওঁর ভেতরের টিউবলাইট জ্বলে উঠল। চোখ বড় বড় করে বললেন- নট ফ্রম কেরালা? - নো স্যার। ফ্রম ক্যালকাটা। ... ...