
মারতেও পারি না। মারার অভ্যাস আমার ছিল না। দুটোকে টেনে আলাদা করি। বিরাট কঠিন কাজ। কিন্তু পাঁচ ছটা টিউশন পড়িয়ে যা পাই, একজায়গায় তার সমান পাবো, থেকে গেলাম। টিফিন ভালো। নুডলস, চিঁড়ের পোলাও ইত্যাদি। তবে নিরামিষ। আমিষ নিরামিষ ব্যাপারটাই তখন ভাবা ছিল না। খাবার খাবার। তার আবার আমিষ নিরামিষ। মাছ ডিম দৈনিক খুব কম বাড়িতেই হতো। সরকারি ভালো চাকুরে আর ঠিকাদার ছাড়া হতো বলে মনেও হ্য না। যা পেত বা পেতাম হাসিমুখে সবাই খেতো। খালি হোস্টেলে গেরান্ড/গ্রান্ড ফিস্টের দিন--একটু মাংস নিয়ে আদিখ্যেতা ছিল। পিস ছোট কেন? আরেকটু ঝোল দাও। একটা আলু হবে? এইসব আবদার ছিল। ছিল রঙ্গরসিকতা। ব্যাটা তোর পিসটা একটু বড় মনে হলো। ... ...

ডারউইনের মৃতদেহ এখন মাটির নীচে, ভূগর্ভে। এ মাটি তাঁর শেষ বাসগৃহ ডাউন হাউসের মাটি নয়, শ্রফ্শায়ারে তাঁর পূর্বপুরুষের বাসস্থান দ্য মাউন্টের মাটিও নয়, এ মাটি দশম শতাব্দীর বেনেডিক্টিন সাধুদের নিত্যপূজার মন্দির-প্রাঙ্গণের, ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবের! হুঁ, অবিশ্বাসী ডারউইনের জন্যে এই মাটি! কিন্তু তাঁর তো কোন উপায় নেই। তিনি যে ইংলণ্ডের একজন শ্রেষ্ঠ সন্তান! তাই ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবের মাটিই তাঁর শেষ মাটি। শ্রেষ্ঠ সন্তানের উপযুক্ত মাটি! চসারের, নিউটনের, কোলরিজের, স্যামুয়েল জনসনের, ট্র্যাফালগার বীর নেলসনের, স্যর চার্লস লায়েলের! ডারউইনেরও! ... ...

রাধিকা এসেছে 'রাধা' শব্দ থেকে। রাধার আগমন আবেস্তা 'রাধ' থেকে। রাধ মানে প্রেমিক। প্রথম ব্যবহার কাশ্মীরে। বাংলায় রাধ-এর সঙ্গে আ যোগ করে রাধা। রাধা, রাধিকা, রাই-- কত কত আদরের নৌকা ভাসানো নাম। সায়ন মনে করিয়ে দিলেন কাদামাটির দিনগুলোতে কেষ্টযাত্রায় রাধা আর কৃষ্ণের প্রেম। কানু বিনে গীত নাই-- কিন্তু কৃষ্ণকে যাত্রা খুব কম হতো গ্রাম বাংলায়। রাধার সঙ্গে যে কৃষ্ণের বিবাহ হয়েছিল, সেটা একটা মাত্র নাটকে দেখানো হয়েছে, পণ্ডিত প্রবর রূপ গোস্বামীর নাটকে। ললিত মাধব। ... ...

যারা প্রথম যৌবনে কোলকাতা ছাড়ে, তারা সারাজীবন বুকের মধ্যে এক কোলকাতাকে বয়ে বেড়ায়। অবশ্য এই কথাটি মুম্বাই বা দিল্লির সন্তানদের জন্যেও সমান ভাবে প্রযোজ্য। এসব কেন মনে এল? আলোচ্য বইটি পড়লে আপনারও তাই মনে হবে, গ্যারান্টি দিচ্ছি। ... ...

উকিল-১। আপনি কি মনে করেন ফ্ল্যাট-আর্থ ওয়েজার নামে পরিচিত যে বাজিটির বিষয়ে আজকের এই মামলা, সেটির ফলাফল সন্দেহাতীত ভাবে নির্ণয় করা হয়েছিল? কারপেন্টার। আমার সন্দেহ নেই। উকিল-১। কে জিতেছিলেন? কারপেন্টার। নিশ্চিতভাবে জন হ্যাম্পডেন। ... ...

ভোদু শেখ আদালতে তাঁর আবেদনে উল্লেখ করেন যে, তাঁর নিজের নামে জমি আছে এবং বাবা হাতিমতাই শেখের নাম পুরনো ভোটার তালিকায় রয়েছে। আদালতের কার্যবিবরণী থেকে জানা যাচ্ছে যে, ২৩শে জুন কে এন কাটজু মার্গ থা র্গ নায় একজন সাব-ইন্সপেক্টর এই আটককৃ তদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তাঁদের সব রেকর্ড এফআরআরও-তে পাঠানো হয়। এফআরআরও আবার এই আটককৃতদের একটি কমিউনিটি সেন্টারে পাঠায় ২৪ জুন। ২৬ তারিখ ডিপোর্টেশনের আদেশ জারি হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি মাত্র পাঁচ দিনে শেষ। তারপর ওই ছয়জনকে জোর করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ... ...

Covid ইত্যাদি অনেক ভাইরাস-এর মতই নিপাহ-র ইতিহাস খুব বেশিদিনের না। ১৯৯৮-৯৯ সালে মালয়েশিয়া-সিঙ্গাপুরে প্রায় ৩০০ লোক আক্রান্ত হয়েছিল এবং তার মধ্যে ১০০ লোক বাঁচেনি। মারণহার প্রায় ৪০%। দেখা গেল আক্রান্ত অনেকেই শুয়োর খামার এর সাথে নানাভাবে জড়িত। মালয়েশিয়া সরকার তখন প্রায় ১০ লাখ শুয়োরকে মারার আদেশ দিয়েছিল - রোগকে আটকে রাখার জন্য। অবশ্যই এসব থেকে দেশের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছিল মারাত্মক। শুয়োরগুলি কিন্তু আক্রান্ত হয়েছিল বাদুড় থেকে। এই যে বাদুড় থেকে শুয়োর, শুয়োর থেকে মানুষ রোগ ছড়ানো - একে বিজ্ঞানের ভাষায় বলে Zoonosis। ... ...


ওয়ালেস। সোজা ফ্রী মেসন হল থেকে আসছি, একটা মীটিং ছিলো আজ। মারে। ল্যাণ্ড রিফর্মের মীটিং? বুঝতে পারি না এই স্টূয়ার্ট মিলকে। আপনাদের খেপাচ্ছে, আর আপনারাও খেপছেন। কতো জমি মিলের নিজের ইনহেরিটেন্স আছে, তার খবর রাখেন? ওয়ালেস। সেটাই তো মিল সাহেবের ক্রেডিবিলিটি বাড়িয়ে দেয়। প্রিন্সিপ্লের জন্যে ব্যক্তিগত ক্ষতিকে গ্রাহ্যই করেন না। ... ...

আজ খারাপ লাগে, ভুলোকে ছেড়ে এলাম কী করে? ভুলো আমাকে পাগলের মতো ভালবাসতো। সেহারাবাজারে নবম দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় আমার সঙ্গে সাড়ে ছয় কিলোমিটার দূরের স্কুলে হেঁটে হেঁটে চলে যেত। বিডিআর ট্রেনে চাপলে ট্রেনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দৌড়াত। সারাদিন স্কুলের গেটে বসে থাকতো। সহপাঠীরা আওয়াজ দিত, তোর বন্ধু বসে আছে। বর্ধমান শহরে পড়তে আসার সময় তাই সতর্ক থাকতাম। চুপিসারে আসতাম যাতে ভুলো টের না পায়। কিন্তু ভুলো সন্ধ্যায় ফেরার সময় নুরপুর ক্যানেল ধারে বসে থাকতো। আমাকে নিয়ে ফিরবে! বর্ধমান শহরে আসার সময় ভুলোকে ছেড়ে আসা কঠিন ছিল। তবু তো পেরেছি। আজ আর পারি না। আমার সিরো এবং পাড়ার পাঁচটি কুকুরকে ছেড়ে এখন বাইরে রাত কাটাতে খুব কষ্ট পাই। ... ...

সে রাতে ঘুমের মধ্যে স্ক্রল করতে করতে আমি শুনতে পেলাম, - স্ক্রীনের ওপারে ভুষুন্ডি মেঘেদের দল বৃষ্টি ঢেলেই চলেছে। নিজেকে দেখবার ইচ্ছে, সময় বা চোখ কোনোটাই নেই ওদের। তাই নাকি ঘ কে জুটিয়েছে। ঘ দেখছে ওসব। জল থেকে মেঘ, মেঘ থেকে জল। শ্যাওলার ভেলভেট প্রতি বর্ষায় নতুন করে জমছে পাথরে। আশ্চর্য সব ধীরস্বভাব রিল। ইলেকট্রিক ছাড়াই নিজে-নিজে তৈরী হচ্ছে। একের পর এক, লাইভ। ... ...

ভারত আর আমেরিকার উদ্দেশ্যে জাহাজ ভাসানোর পথে প্রথমে একসময় এলোমেলো, তারপর অফুরন্ত প্রাকৃতিক সম্পদ লুঠকে সুসম্বদ্ধ করতে ১৮৮৪ সালে বিসমার্কের নেতৃত্বে চোদ্দটি রাষ্ট্রের বার্লিন কনফারেন্স। লেগো খেলার মত শুরু ইউরোপের আফ্রিকাকে নিজেদের মত করে ভাগ বাঁটোয়ারা। লুডেরিটজ ইত্যাদি শহর গড়ে ওঠা। ইম্পিরিয়াল ব্রিটিশ ইস্ট আফ্রিকা কোম্পানি ইত্যাদিদের আবির্ভাব ও তিরোধান। ... ...

ওয়ালেস। আপনাকে একটা কথা বলি মিঃ স্টীভেনস। ডারউইন-ওয়ালেস পেপার বেরোনোর পর মিঃ হূকার আমাকে একটা চিঠি লিখেছিলেন। তিনি লিখেছেন, এই পেপার আমাকে ইংল্যাণ্ডের প্রথম সারির বিজ্ঞানীদের মধ্যে এনে দিয়েছে ডারউইন সাহেবের সঙ্গে। এর পরেও আপনি কি মনে করেন একটা ভদ্রগোছের চাকরি আমি জোটাতে পারব না? স্টীভেন্স। ওঃ, ডাঃরউইন-ওয়ালেস পেপার! (গলায় হাসি কিন্তু উচ্চারণেই অবজ্ঞা স্পষ্ট, ডারউইনের ডা-এর ওপর জোর দেওয়ায় উচ্চারণটা খানিকটা ডাঃ-এর মতো শোনায়)। ... ...

তবে গুহা দেখার আগে আরও কিছু অত্যাশ্চর্য জিনিসের কথা বলে নিই। মৌলিন্নং থেকে বেরিয়ে খুব সকালে প্রথমে আমরা সেখানেই গিয়েছিলাম। জিনিসটা হল জীবন্ত সেতু। মানে বনের গাছ কেটে তার কাঠ দিয়ে বানানো সেতু নয়। নদীর ওপরে রীতিমত জ্যান্ত গাছের ঝুরি পাকিয়ে বানানো ঝুলন্ত সেতু। যদিও অনেকটা হেঁটে যেতে হয়, সিঁড়িও প্রচুর। তবে কষ্ট না করলে কী আর কেষ্ট মেলে? ... ...

এখানে চারপাশে পাইস হোটেল থাকায় খাওয়া-দাওয়ার ভারি সুবিধা হয়ে গেল। শুধু মাছ নয়, মাঝে মাঝে ঝোলের সঙ্গে দু-এক টুকরো মাংসও থাকত। সে-সব খেতে খেতে মাখন একদিন ননীকে 'বাহবা' দিয়ে বললেন, ব্যবস্থা তোর ভালই, তো পাস কোথা থেকে। দু-পয়সা এক পয়সার বেশি তো বরাদ্দ নেই। ননী বললেন, ধুর এতে পয়সা লাগে নাকি। খাওয়া থামিয়ে মাখনবাবু বললেন, তোকে বলতেই হবে। পয়সা না দিয়ে খাবার তুই পাস কোথা থেকে। ননীবাবুর জবাব, আগে খেয়ে নে...। তারপর বলব। খাওয়ার পর মাখনবাবুর সেই একই জিজ্ঞাসা। ননীবাবুর অকপট স্বীকারোক্তি: ঝোলটুকু হোটেল থেকেই দিয়ে দেয়। বাকিটুকু সব পাতকুড়ানো। এই কৃচ্ছসাধনের কাহিনী মাখন পালের কাছেই শোনা। নোয়াখালির বেগমগঞ্জ থানার সোনাইমুড়ি গ্রামের জমিদার পরিবারের সন্তান, কৃতী ছাত্র মাখন পালের জবানবন্দি: ননীর মুখে মাছ-মাংসের এই ইতিহাস শুনে মনে হল বমি করে দিই। প্রশ্ন রাখলাম, বমি কি শেষ পর্যন্ত করেছিলেন? মাখনবাবুর জবাব: নারে ভাই, তখন আমাদের চালচুলো নেই। পার্টির অনেক কাজ। পয়সা-কড়ি কিছুই ছিল না। ফলে, বাধ্য হয়ে জেনেশুনে পাতকুড়ানো খেয়ে কাটিয়ে দিলাম। ... ...

লোকটা বলেই চলেছে, ‘তখন আমি রঙের কাজ করি। এই যে গ্রীলে, দেয়ালে, চারদিকে সবুজের পোঁচ দেখছেন, এর অনেকগুলো খাঁচা আমি আর বিকাশ একসাথে করেছি। বিকাশ আর কী করবে? রোশনি, আমার বৌ, বুঝলেন? কমলা রং খুব পছন্দ। তা কমলাটা আমি আবার ঠিক - মানে পছন্দ টছন্দের ব্যপার না! নানী মরবার দিন রাতে কমলা খেতে চেয়েছিল। দিতে পারিনি। সেই থেকে আর খাইও না, পরিও না। তারপর দেখুন 'ঈঈ' - এই কুমিরের মতো দাঁত! আমার সাথে কী ওর থাকা মানায়?' ... ...

চৌকো ফ্রেমের সজীব ধ্বনিত হয় প্রতিদিন নক্ষত্র লেগে থাকে শাণিত কাপড়ে মোলায়েম, আবাদের শ্লেষ এবং টুকরো বরফে বদ্বীপের চীনাংশুক জলরহিত খাবি খায় ... ...

সাভারকর স্পষ্ট করছেন যে পূণ্যভূমির অর্থ একটি জাতির নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে উপজিত সংস্কৃতির উত্তরাধিকার, এবং মানসিক গঠনে সেই উত্তরাধিকারকে বহন করা। তাই শুধু ধর্ম নয়, ভাষা এবং ইতিহাস এর অন্যতম অঙ্গ। সেই সংস্কৃতিকেই উনি বলছেন ‘হিন্দুত্ব’। এর মুখ্য অঙ্গ হল ইতিহাস, তাতে বেদ এবং পুরাণকথাও সামিল। শুধু তাই নয়, বৈদিক সভ্যতা থেকে শুরু। এবং একই আইন-কানুন, আচার -অনুষ্ঠান, রীতি-রেওয়াজও এই সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। ... ...

সাভারকরের মতে সমস্ত হিন্দুজাতি সেই সিন্ধুদেশ এবং বৈদিক কাল থেকে পিতৃপুরুষ ক্রমে একই রক্তধারার বন্ধনে আবদ্ধ। যদি কেউ প্রশ্ন করে যে সত্যিই কি সমস্ত হিন্দুদের শিরায় একই রক্তের ধারা বইছে? তাদের কি একটি জাতি বলা যায়? তো সাভারকরের উত্তর হল— আজকের বিশ্বে ইংলিশ, ফ্রেঞ্চ, জার্মান বা চাইনিজদের রক্তও কি আগের মত শুদ্ধ রয়েছে? ওরা যদি জাতি হয় তো হিন্দু কেন নয়? ... ...

পাস্তুরের এক শতক আগে ঘটে গেছে গুটি বসন্তের টিকাকরণের আবিষ্কার। আমরা যদিও আবিষ্কর্তা হিসেবে এডওয়ার্ড জেনারের নামই জানি, সমকালীন আরো অনেক জন চিকিৎসক বিজ্ঞানী গো-বসন্ত এবং শুকিয়ে যাওয়া গুটি দিয়ে গুটি বসন্তের প্রতিষেধনের নানা রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে গেছেন। কিন্তু মধ্যে এক শতকে আর নতুন কোন টিকা আবিষ্কৃত হয়নি। পাস্তুর এবং তার সমকালীন বিজ্ঞানীদের প্রস্তাবিত “বীজাণু তত্ত্ব” অর্থাৎ “সূক্ষ্ম জীবেরাই রোগের বীজ’ এই তত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর বিজ্ঞানীরা ভাবতে শুরু করলেন বীজাণু বা জীবাণুকে কমজোরী বা নিষ্ক্রিয় করে ফেলতে পারলে সেই জীবাণু হয়ত টিকা হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। এই সময়ই রবারট কখ আবিষ্কার করেছিলেন এনথ্রাক্স রোগের জীবাণু। পাস্তুর এনথ্রাক্সের জীবাণুকে নিষ্ক্রিয় করে আবিষ্কার করলেন এনথ্রাক্সের টিকা। ... ...