
কিন্তু, স্কিলেট আবার গল্প বলবে কী করে? একটা বাসন কি কথা বলতে পারে নাকি? হুঁ পারে বটে; যদি সেটা জাদু বাসন হয়! দিদি-আম্মার এই লোহার তাওয়াটা জাদু করা ছিলো।একটা ব্যাপার অবশ্য আছে। যে কেউ কিন্তু সে গল্প শুনতে পাবেনা! শোনার জন্য তোমাকে বাসনদের ভাষা জানতে হবে। সে ভাষায় কোনো শব্দ নেই। শুধু গন্ধের ভাষা, আর স্পর্শের। ওর হাতলের ঠান্ডা ছোঁয়া, মাঝখানটা বহু বছরের ব্যবহারে মসৃণ... এক ঝলক বেকন ভাজার গন্ধ, কখনো দারচিনি আর পীচফলের... কী কোমল ভাষা! এত সুক্ষ্ম, এত কবিতা কবিতা, পৃথিবীর কোনো বইয়ে তার খোঁজ পাওয়া যায়না! গল্পগুলো আমার চোখের সামনে ছবির মতো ফুটে ওঠে। স্পষ্ট, ঝকঝকে। কখনো মনে হয় ১৯৪০ সালের কোনো সিনেমা। কখনো যেন অদ্ভুত সুন্দর সেই সব পেইন্টিং, ভার্মিয়ের যাদের কোনোদিন আঁকেননি। ... ...

ইন্দিরাজী এমার্জেন্সি ঘোষণা করলেন। ব্যাপক ধরপাকড়। সাধারণ উর্দি পরা সেপাই পর্যন্ত কালেক্টরের রোব দেখিয়ে কথা বলত। এদের মধ্যে আমাদের দু’জন জয়প্রকাশ নারায়ণের নাম নিয়ে স্থানীয় স্কুল ও কলেজে মিছিল বের করায় গ্রেফতার হল। ব্যস্ এদের পুরো গ্রুপটাই ইন্দিরা ও এমার্জেন্সি তথা নসবন্দী বিরোধী হয়ে গেল। নানান গোপন কাজকর্ম, যেমন ইস্তেহার ছড়িয়ে দেয়া, গোপন শেল্টারের বন্দোবস্ত, --এসবে ভিড়ে গেল। তারপর একদিন পুলিসের হুড়ো খেয়ে বিলাসপুর ছেড়ে দূরে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিল। একজন তো একটি সরকারি হেলথ সেন্টারে দূরসম্পর্কের ডাক্তার দাদার কম্পাউন্ডার সেজে ছিল। ... ...

অচেনা গলির পেটে টিমটিমে ল্যাম্পপোস্ট একা। জেগে থাকি প্রেমহীন, কালপাত না বাঁচার মতো। ... ...

বিশ শতকের শেষ দশকে বাংলা সাহিত্য পড়ে এ কথা অনুমান করা কঠিন হবে যে, বিষয় নির্বাচনে ও পরিবেশনায় সে যুগে শরৎচন্দ্র কি প্রচণ্ড বলিষ্ঠতার পরিচয় দিয়েছেন। শরৎচন্দ্রের সারাজীবনের রচনা থেকে এর উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে অনেক। সমাজ, ধর্ম, অধর্ম, অবৈধ প্রেম, সংস্কার ও সতীত্ব ভ্রষ্টতা ইত্যাদি প্রায় অনেক চোখ বুজে ঠেলেরাখা চরিত্ররা সব ভিড় করেছে তাঁর কথা সাহিত্যে। আমি শুধু উদাহরণ দিই একটা ছোট গল্প থেকে। ‘পথনির্দেশ’ গল্পে হেমনলিনী তার সম্পর্কিত এক ভাই গুণেন্দ্রকে ভালবাসে। কিন্তু সেদিনের সমাজের সঙ্গে তাল রেখে জোর করে হেমনলিনীর বিবাহ দেওয়া হল অন্যত্র। এক বছর পরে হেমনলিনী বিধবা হয়ে ফিরে এলো। ... ...

রবিন তথা প্রোডাক্টিভ সিটিজেন, বাস্তবে যে এই গল্পটির ভিন্নধর্মী চরিত্রগুলির মধ্যে সংযোগ রক্ষাকারী সেতু মাত্র, খুব সতর্ক ভঙ্গিতে উত্তর দেয়, “আমি কিছু বলবো না। আমার কাজ ছিল যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া, দিয়েছি। পরে আপনার কাছ থেকে কি মাসিমার কাছ থেকে কোন কথা শুনতে আমি রাজি নই! আপনার মেয়েকেও আমি বিউটি পার্লারে ঢুকিয়ে দেবো, সেখানেও ওই একই কথা, বুঝে নাও করবে কিনা! মন্দ ভালো কোন কিছুরই দায়িত্ব আমি নেব না!” ... ...

কাজেই ফুল টুল আর নয়, কথা হোক কম— যে কোনও তেলেভাজা শব্দকেই আসুন আমরা সেরেফ হেসে উড়িয়ে দিই, দেখি তার কত দম। ... ...

অনন্ত বাবুর কাহিনী এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে শান্তিরাম বাকরুদ্ধ। কোনরকম ফোড়ণ কাটতেও সে ভুলে গেছে। এবার সে উৎকণ্ঠার সঙ্গে জিজ্ঞেস করে --"তারপর? কোন অঘটন ঘটেনি তো?" অনন্ত বাবু একবার শান্তিরামের দিকে তাকালেন, বললেন, "আরে বাবা শোনোই না"। তারপরের দিন খুব ভোর থাকতে কালুয়া বেরিয়ে পড়ে। পাইকারদের কাছ থেকে কিছু মাল ধরতে হবে। সে এখন দক্ষ ব্যবসায়ী। হবে নাইবা কেন? দুই তিন বছর বয়সে যার পেটে মদ পড়েছে, জন্মে থেকে যে মাতৃহারা এবং কার্যত পিতৃহারা, সে সার্ভাইবাল এর তাগিদে নিজেই অভিযোজনে সক্ষম। ... ...

সাতাত্তর মিনিটের এই ছবির পরিচালক অনুপর্ণা রায়। ৮২তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে এই ছবি ‘অরিজন্তি’ বিভাগে শ্রেষ্ঠ পরিচালকের পুরষ্কার পেয়েছে। ভেনিসের মঞ্চে পরিচালক প্যালেস্টাইন নিয়ে সরব হন, বলেন সেখানে ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটে চলেছে, প্রতিটি শিশু শান্তি, মুক্তি দাবি করে এবং গাজার শিশুরা তার ব্যতিক্রম নয়। আরও বলেন এই বক্তব্যের জন্য আমার দেশ ক্ষুব্ধ হতে পারে, কিন্তু তাতে আমার কিছু যায় আসে না। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছায়ানট পরিচালিত ফিল্মোৎসবে এই ছবিটি প্রথমবার কলকাতায় দেখানো হয়। ... ...

চাঁদিতে ঝুঁটি বাঁধা প্রীতি নামের বালিকাটি যার সামনের দুখানা দাঁতের বাঁদিকেরটি পড়ে গেছে - সন্ধ্যে নামলে দোকান দুটির পসরাতে ধূপ ঘুরিয়ে যায়। কান আর চোখ তার সবে গজাতে শুরু করেছে - দাঁত পড়ে যাওয়া সামাল দিতেই বোধহয়। অবাক মুখে, বড় বড় চোখ করে রাস্তার বামদিকের শুন্ডি আর ডানদিকের হাল্লাকে রোজ দেখে ও শোনে সে; দুই দোকানীর কাছেই মানুষের চাহিদা হুবহু এক। ... ...

এবারের বাংলার নির্বাচন একেবারে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় হবে। এমনটাই বলা হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের তরফে। বলা হচ্ছে নয়, দেখাও যাচ্ছে হাজার হাজার কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান আনা হয়েছে। গোদী মিডিয়ায় খবর পাওয়া গেছে যে ৩৬০ ডিগ্রি নজরদারি চলবে, ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায় মুড়ে ফেলা হবে নির্বাচন কেন্দ্র থেকে গণনা কেন্দ্র। কেউ এতটুকু বেগরবাই করলেই, সঙ্গে সঙ্গে রিপোল, অর্থাৎ পুনরায় ভোট নেওয়া হবে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এই যে এত প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হচ্ছে সেই সমস্ত করার জন্য নিশ্চয় বেশ কিছু ক্যামেরা, বেশ কিছু কম্পিউটার এবং অন্যান্য জিনিষপত্রের প্রয়োজন হচ্ছে। কখনো কি কোনও একজন ভোটারের এই বিষয়ে প্রশ্ন জেগেছে এই এত এত সরঞ্জাম কোথা থেকে আসছে? কেউ কি এইগুলো কিনছেন? তাহলে সেই কেনার জন্য সঠিক পদ্ধতি নেওয়া হচ্ছে? ঠিকঠাক দরপত্র আহ্বান করা হচ্ছে তো? না এই প্রশ্ন নিয়ে ভাবতে নেই। এই প্রশ্ন নিয়ে ভাবতে বসলে তো নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব দুর্নীতি বেরিয়ে আসতে পারে, কিন্তু বেশ কিছু মানুষের কাছে নির্বাচন কমিশন বা কেন্দ্রের সরকার তো দুর্নীতি করতেই পারে না। তাঁদের মতো সৎ স্বশাসিত সংস্থা তো ভূ ভারতে আর খুঁজেই পাওয়া যাওয়া সম্ভব নয়, কিন্তু এক্ষেত্রে যে বড় সড় দুর্নীতি হয়েছে, তা কিন্তু কলকাতা হাইকোর্ট চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে সম্প্রতি। ... ...

অর্নিথোলজিস্ট বা পক্ষিবিশেষজ্ঞদের মতে পাখিদের সর্বত্র দেখা গেলেও বাসস্থান হিসেবে তাদেরও পছন্দ - অপছন্দ রয়েছে। যেসব পাখি বিশেষ পরিবেশে থাকতে ভালোবাসে সেই সব ধরনের পাখিরাই দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে। তুলনায় যেসব পাখি ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশেও দিব্যি মানিয়ে নিতে পারে তাদের অবস্থা তুলনামূলকভাবে খানিকটা হলেও স্থিতিশীল। কিছু পাখির সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বেড়ে গেছে। এদের মধ্যে আছে এ্যাশি প্রিনিয়া, রক পিজিয়ন বা গোলা পায়রা, এশিয়ান কোয়েল এবং ভারতীয় পিফাউল। ... ...

কিছুক্ষণ আকাশ থেকে বালি খসে পড়ার পর আমরা নিজেরা নিজেদের সম্বিৎ ফিরে পাব। পিছনে তাকিয়ে দেখব যে পাহাড়- পরিখা আমরা পেরিয়ে এসেছি, দিগন্তে তারা কী প্রিয় অলংকারের মতো দাঁড়িয়ে আছে! যে ঘাসবন আমরা পেরিয়ে এসেছি, সেই ঘাসবন তখনো শিশুর মতো দুলছে। আমরা নিজেদের চুনে, হাড়ে ফিরে যাব। ফিরে যাব নিজেদের কঠিন কঙ্কালে। ... ...

বড় রোড। গাড়িটার স্পিড্ বারবার কমে যাচ্ছে। ব্রেক চিপে দাঁড়িয়ে পড়ছে। রাস্তায় জ্যাম আজ বেশি। বৃষ্টি হচ্ছে রাত থেকে। চারিদিকে জল কাদা। কাদামাখা বৃষ্টির জল সাদা সুমো গাড়িটা কালছে করে ফেলছে। গাড়িটা এবার বড় রাস্তা থেকে ছোট একটা রাস্তায় ঢোকার চেষ্টা করে চলেছে। রোডের মুখের অনেকগুলো গাড়ি পরপর আটকে আছে। ভিড় ওখানটায় খুব। হর্ণ বেজে চলেছে নানারকম। ... ...

বন পাহাড়,পশু পাখির সঙ্গে তাদের আত্মিক যোগাযোগ নেই, ভালোবাসা নেই। তাই পর্যটকদের জন্য কোন ব্যবস্থাপনা দূরস্থান, পথ ঘাট থেকে শুরু করে হাসপাতালের শৌচাগার পর্যন্ত ভয়াবহ অপরিচ্ছন্ন। আমাদের মাঝারি দামী হোটেলের ফিল্টারের জলটুকু অবধি দূষিত ছিল। অবশ্য ভারতবর্ষে এ জিনিস তেমন অস্বাভাবিক নয়। ... ...

প্রযুক্তি দানবরা এখন ভূ-রাজনীতিতে এমন প্রভাব বিস্তার করছে যা প্রথাগত রাষ্ট্র বা ডিপ স্টেট খেলোয়াড়দের সমতুল্য। তাদের কনটেন্ট মডারেশনের সিদ্ধান্ত ঠিক করে দেয় কোটি কোটি মানুষ যুদ্ধ, নির্বাচন বা জনস্বাস্থ্য সংকট নিয়ে কী তথ্য দেখবে। তাদের অ্যালগরিদমের পছন্দ নির্ধারণ করে কোন রাজনৈতিক বার্তাটি ছড়িয়ে যাবে আর কোনটি চেপে রাখা হবে। ফেসবুক বা গুগলের একটি মাত্র নীতি পরিবর্তন কয়েক ঘণ্টার মধ্যে শত শত দেশের কোটি কোটি মানুষকে প্রভাবিত করে—যার জন্য কোনো আইনি বিতর্ক, জনমত যাচাই বা গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেটের প্রয়োজন হয় না। এই কোম্পানিগুলো আসলে সরকারের কাজই করছে। কিন্তু তাদের কোনো সরকারি দায়বদ্ধতা নেই। ... ...

বিজেপি শাসিত রাজ্যে বহুদিন ধরেই দেখা যায় যে দাঙ্গায় সরাসরি বা পরোক্ষ মদত দিয়েছে যে সব পুলিশ অফিসার, তাদের কপালে জুটেছে পুরস্কার। এই দুই গবেষক স্টেট ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর এফিডেভিট খুঁড়ে বের করে এনেছেন চাঞ্চল্যকর দুটি সংখ্যা। যে অঞ্চলে একটিও খুন হয়নি – সেখানে পদ হারানোর সম্ভাবনা ৪৩% আর উঁচু পদে যাওয়ার সম্ভাবনা মাত্র ৪%। অন্যদিকে যে অঞ্চলে প্রাণ গেছে মানুষের? আমেদাবাদ, যে শহর দাঙ্গায় খুনোখুনির বিচারে একদম উপরেই থাকা একটি শহর, সেখানে এটা ঠিক উল্টো। উঁচু পদে যাওয়ার সম্ভাবনা ৮৫% আর পদ হারানোর সম্ভাবনা মাত্র ১%! ... ...

বহু বছর আগে ঝরিয়ার বাড়ির চিলে কোঠায় সঞ্চিত বাঁধানো মাসিক বসুমতীতে রিও দে ঝানেইরোর দুটি চমকপ্রদ সাদা কালো ছবি দেখেছিলাম- জল থেকে জেগে ওঠা কোণাকৃতি একটি পাহাড় এবং তার ঠিক উলটোদিকে প্রায় আকাশে দাঁড়িয়ে দু হাত বাড়ানো যিশুর মূর্তি- এক সরলরেখায়। পর্তুগিজ নাবিকেরা সেই পাহাড়ের নাম দিয়েছিলেন পাঁও দে আজুকার, চিনির রুটি, ইংরেজিতে যার হুবহু অনুবাদ সুগার লোফ, কিন্তু তার সঙ্গে ইংরেজ কোন বুদ্ধিবলে দেওঘরের ত্রিকূটের থেকেও ছোট এই সুগার লোফকে মাউনটেন আখ্যা দিয়েছে বুঝে ওঠা ভার। কলা গাছের মোচার মতো দেখতে এই মনোলিথের আকারের কোন রুটিও তো আজ অবধি কোথাও দেখিনি। তবে এ নাম এলো কোথা হতে? ... ...

রূপ গোস্বামীকে শিক্ষাদানের সময় চৈতন্যদেব বলছেন ‘স্বর্গ মোক্ষ কৃষ্ণভক্ত নরক করি মানে’। মোক্ষের মধ্যে শান্ত-দাস্য-বাৎসল্য-সখ্য-মধুর রসে কৃষ্ণসেবার আনন্দ নেই। ‘সে অমৃতানন্দে ভক্ত সহ ডুবেন আপনে/ কৃষ্ণভক্ত-রসগুণ নহে ঐশ্বর্য্যজ্ঞানিগণে।‘ এখানে ঐশ্বর্য্যজ্ঞানী অর্থে ব্রহ্মজ্ঞানী বা উত্তর-মীমাংসকদের কথা বলছে, যাঁরা বলতেন জ্ঞানের মাধ্যমে মানুষ ঈশ্বরসম অবস্থায় পৌঁছতে পারে। এই ব্রহ্মজ্ঞানকে নাকচ করে বলছেন ‘ব্রহ্মানন্দ হৈতে পূর্ণানন্দ কৃষ্ণগুণ’। একইভাবে পূর্ব-মীমাংসক বা কর্মকাণ্ডবাদীদেরও তিনি বিরোধিতা করছেন। ... ...

আসমা প্রচণ্ড বিরক্ত হলেন। মনে হল যেন গোটা টাওয়ার ভেঙে পড়ল। একটা কাজ ঠিক করে করার উপায় নেই। সব সময় ঝামেলা। ফিরনির গ্লাস ছেড়ে আসমা দৌড়ে বাইরে এলেন। এসেই হতবাক। ওকি কে পড়ে উঠোনে? সাদিয়া? সামনে একটা ছোটো জলের বোতল। গড়াগড়ি যাচ্ছে। মুখ খোলা। চারিদিকে সাদা সাদা জলীয় বস্তুও ছিটিয়ে পড়ে আছে। কী ওগুলো ? দুধ ? কয়েক মুহূর্ত আসমা থমকে গেলেন। তারপর চেঁচিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, "এসব কী হচ্ছে ওসমান? ও পড়ে গেলো কী করে? সাবধানে চলতে বলি। কথা তো শুনবে না।" ... ...

প্রাচীন লোকগাথার আমার প্রিয় দ্বিতীয় রত্নটি, বাস্তবিক একটি অদ্বিতীয় অতুলনীয় মহাজাগতিক চেতনা। সাড়ে চার হাজার বছর আগের এই সেই প্রসিদ্ধ নাসদীয় সূত্রটি। রিলিজন অর্থে যে কোন ধর্মের উদ্ভবের বহু আগে, ঋগ্বেদের দশম মণ্ডলের ১২৯ তম স্তোত্রে উদ্ধৃত, যা স্তোত্রটির প্রথম ছত্রানুসারে নামাঙ্কিত। নাসদাসীন্নসদাসীৎ- না ছিল অনস্তিত্ব, না অস্তিত্ব। আধুনিক কালে যাকে আমরা বলি 'আদি মহাবিস্ফোরণ', সেই বিগ ব্যাং-এর পলমাত্র আগে, কেমন ছিল মহাবিশ্বের রূপটি, সেই জন্মলগ্নটি বুঝে নেওয়ার প্রচেষ্টায়, এই 'সূত্র' - একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ। ... ...