
শংকর বলছেন—অবিদ্যা সৎ-অসৎ কোনটাই নয়, এ হল অনির্বচনীয়। মানে অবিদ্যার অস্তিত্ব আছে কি নেই—সেটা বলা মুশকিল। এ হল এমন যা শব্দ দিয়ে বোঝানো মুশকিল। রামানুজ বলছেন—এসব ফালতু কথা। এই অবিদ্যাটি থাকেন কোথায়? একি জীবের ব্যক্তিচেতনায়, নাকি ব্রহ্মের অনন্তচেতনায়? ... ...

"মধ্যযুগ ছিল অন্ধকার, তারপর জল পড়িল, পাতা নড়িল, ফুল ফুটিল এবং সিরাজ বধ করিয়া, সগর্বে য়ুরোপ আসিয়া বাংলাকে গ্লোবাল করিয়া জ্ঞানের আলো দেখাইল, সোমনাথ এইসব ঢপেচ্চ্পেও বিশ্বাস করে না। সে রামপ্রসাদের ভক্ত।" - একথা সোমনাথ রায়ের আগের কবিতার বইয়ের ব্লার্বে লেখা আছে। এই বইতেও সেই ধারাবাহিকতা বজায়। তা সে ক্ষীরভবানীর মন্দিরে অসীম আল্লা আর অনন্ত মায়ের মূর্তিতে কাজল মেঘেতে ছাওয়া বাংলার রূপ হোক বা হায়দারি মঞ্জিলে দবীর খাসের স্বপ্ন। এখানে ঘাসে ঘাসে হাওয়ার দোলনাতে ঝুলন মিলনের অধিষ্ঠান, মাটি দেশে শ্যামল সমারোহে শ্যামের বাঁশি আর সে রাঙা পদ, রূপকথা দিঘিতে ঘাই মারে পিতামহীর দেওয়া মাছের নথ। মেঘনা ভাগীরথী পলিমাটিতে মেশে যেমন আজানেতে মিশছে শাঁখ/ মাঠে ও জলতলে যেমন মিশে আছে লক্ষ কৃষকের হুলের ডাক। বৃষ্টি থেমে গেলে বাগান উপচে পথে উঠে আসে কলরব। নিভে যাচ্ছে কার্তিকের রোদ। দুপুরের ঝিম ছিঁড়ে যায় রেলগাড়িতে। ডিনামাইটের মুখে জেগে ওঠে পাহাড়িয়া ঘাস। বাড়িগুলো মরে যায়, সেই জায়গায় একটা ফাঁকা মাঠ হয় কিছুদিন। একশো বছর ধরে মরে গেছে বাংলার গ্রাম/ মৃত শরীরের ঢিপি ঢেকে রাখা প্রগতির পথে। হেল বপ দূরে সরে যায়। অনন্তকাল আবার দাঁড়ায় বড়ঘড়ির নিচে। 'ঘেন্না পিত্তি' আর 'অরূপ বৃন্দাবন এবং অন্যন্য পদ'র মতোই, 'পূর্বে আসো মেঘ' আসলে নানা ছন্দের কারিকুরি - ছান্দসিকদের জন্য পোয়াবারো। আসবে, ২০২৬ কলকাতা বইমেলায়। ... ...

ড্যানিয়েল চু হিসেব করে দেখলেন নিচের তলার এই মানুষদের সংখ্যা আমেরিকান নাগরিকের বিশ শতাংশ -ওয়াল স্ট্রিট কেন, মেন স্ট্রিটের কোন ব্যাঙ্ক এঁদের দু পয়সা ধার দেবেন না কারণ এঁদের ক্রেডিট রেকর্ড নেই। ড্যানিয়েল বললেন, আরও কিছু তো খুঁটিয়ে দেখা যেতে পারে, যেমন কেউ হয়তো ভালো গোছের কাজ করেছিলেন, প্যানডেমিকে বেকার, এতদিন ঠিক চলছিল আচমকা বিবাহ বিচ্ছদের কারণে সংসারে টানাটানি, দশ বছর নিয়মিত বাড়ি ভাড়া দিয়ে এসেছেন কিন্তু সে সব তথ্য ক্রেডিট ব্যুরোর খাতায় উঠবে না কেন না এঁদের কাগজপত্র বা সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর নেই। তাহলে একটা জলজ্যান্ত মানুষের কর্ম বা আয় ক্ষমতার একমাত্র নির্ণায়ক ক্রেডিট ব্যুরো? ... ...

তাই লেখক স্মৃতি নিয়ে ঘর করেন না। ঠান্ডা নিয়ে ঘর করেন। সেই ঠান্ডা যখন গরমের দিকে যাওয়ার মতো হয় তখন একটা ট্রাক্টর অথবা বাইক মিছিল দেখা যাবে আর পাবে খিদে। এইভাবে চরিত্ররা মনের ভেতর ঢোকে, বেরোয় আর ঘুমের মধ্যে দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে টিলার তলায় কুয়াশার ভেতর দিয়ে যেতে যেতে আস্তে আস্তে নদীর ধারে পৌঁছয়। দুবেলা জঙ্গল সাফারির ধকল সেরে বনবাংলোয় ফিরে তারা পড়তে বসে মহামারীর ইতিহাস। ... ...

এই অবিদ্যার কারনেই আমাদের দৃষ্টি আবিল হয়, আমরা রিয়েলিটি বলতে চৈতন্যস্বরূপ এক এবং অদ্বিতীয় ব্রহ্মকে দেখার বদলে ব্রহ্ম এবং বস্তুজগত –এই দুই বাস্তবের চক্রে ফেঁসে যাই। অতএব, আসল দোষী হল ওই ‘অবিদ্যা’। এই অবিদ্যাও ব্রহ্মের মতন ‘অনাদি’। কেউ কেউ ‘অবিদ্যা’ এবং ‘মায়া’কে একই মনে করেন। দেবীপ্রসাদও কখনও কখনও এই দুটি পদকে একে অপরের বদলে পালা করে ব্যবহার করেন। ... ...

সোমনাথ গুহের এই বইটি সতেরো বছর ধরে নিজের পত্রিকায় কন্নড় এবং ব্যাঙ্গালোর মিররে ইংরেজি ভাষায় লেখা গৌরীর কিছু নির্বাচিত রিপোর্টাজ এবং নিবন্ধের বাংলা অনুবাদের সংকলন। গৌরী ছুঁয়ে গেছেন গুজরাট দাঙ্গা, বাবাবুদানগিরি বিতর্ক, জাস্টিস অজিত প্রকাশ শাহ, সাভানুর শহরে দলিত মেথর সম্প্রদায়ের আন্দোলন, আর্সেলর মিত্তলের বিরুদ্ধে দয়ামণি বার্লা, বাসবান্না প্রবর্তিত লিঙ্গায়েত ধর্মের ভুলে যাওয়া সাম্যবাদ, দলিত কবি হুচ্ছাঙ্গি প্রসাদের ওপর হিন্দু জাগরণ ভেদিকের আক্রমণ, কর্ণাটকে কুসংস্কার বিরোধী আন্দোলন, রোহিত ভেমুলা, জৈন মুনি তরুণ সাগর, ইউ আর অনন্তমূর্তি আর এম এম কলবুর্গির মত কন্নড় লেখকদের মত বহু প্রসঙ্গ। এছাড়াও এই বইতে যুক্ত হয়েছে গৌরীকে নিয়ে তার বোন কবিতা লঙ্কেশ এবং মা ইন্দিরা লঙ্কেশের স্মৃতিচারণা, ভুয়ো খবরের স্রোত নিয়ে লেখা গৌরীর শেষ সম্পাদকীয়। ... ...

অবিদ্যার দুটো কাজ। এক, আসল রূপকে আবৃত করা। যেমন মেঘ এসে সুর্যকে ঢেকে দেয়। দুই, মায়াজালের মত কাল্পনিক কিছু সৃষ্টি করা। যেমন সর্প-রজ্জু উদাহরণে বিভ্রান্তির ফলে দড়ির আসল চেহারা আবৃত হয়। তারপর সেখানে সর্প বলে এক ইমেজ সৃষ্টি হয় যা আসলে ওখানে নেই, যা পুরোপুরি কাল্পনিক। অবিদ্যা ও মায়া একই প্রক্রিয়ার দুটো অংশ। অবিদ্যার ফলে ভ্রান্তি সৃষ্টি হয়, সত্য আবৃত হয় আর তার জায়গায় যা দেখতে পাওয়া যায় তাই হল মায়া। ... ...

পাহাড়ীয়া খাসি শিশুর দল ধুলোয় গড়াগড়ি দিয়ে খেলা করছে, তাদের পরনের সামান্য পোশাকগুলি ধুলোবালি লেগে মলিন, তবে মুখের হাসিটি বড় উজ্জ্বল। বেশিরভাগই আমাদের টাটা করছে। এক দুজন হাঁ করে ভয়ও দেখাচ্ছে। মনটা বেশ ভালো লাগছিল। ... ...

সমুদ্রের ঢেউয়ের এক গল্পে একটি ঝিনুক তার বন্ধু ঝিনুকের সঙ্গে পরিচিত হয়, কথাবার্তা হয়, একসঙ্গে ইচ্ছামত একটু ঘুরে বেড়ায় সারাদিন কাজের শেষে। সে জানে একজন পূর্ণবয়স্ক কবি দিনে চার পাঁচটা কবিতা লিখতে পারে, এমনিতে বর্ণহীন তথা অদৃশ্যপ্রায়। তবে পুরস্কারে হলদে, রাগে লাল বা ঘেন্নায় সবুজ হয়ে গেলে জ্যোৎস্নার খাঁড়িতে লুকোনো এদের কবিতার মাড়িগুলো পচে যেতে থাকে। সে কি কখনো তোমাদের জিজ্ঞেস করেছে - "একটা সময়ের চোঙের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছি সকলে?" ... ...

রানির মতই যোগমায়াও ছোট থেকেই পাখি হয়ে যেতে পারতেন, যে কোনো রাস্তার গোলকধাঁধায় কখনো হারিয়ে যেতেন না। পৌরসভায় 'সরণী সংরক্ষণ ও সংযোজন' বিভাগে কাজ পেলেন। সেখানেও যোগমায়া সারাদিন ম্যাপ ঘাঁটতে ঘাঁটতে সহ কর্মচারীদের কাছে হয়ে উঠলেন জলজ্যান্ত, রক্তমাংসের গুগুল ম্যাপ। ডিপার্টমেন্ট ডিজিটাল হবার সার্কুলার এল। যোগমায়া টিকে গেলেন কারণ অ্যানালগ মানচিত্রের ঢিপি, রেজিস্টার ফেলে দেওয়ার মর্মে কোনো সার্কুলার এল না। ক্যাবিনেটের ধুলোয় যোগমায়া খুঁজে বার করলেন এক হারিয়ে যাওয়া রাস্তা - দস্তুরিখানা স্ট্রিট। রিটায়ার করার পর যোগমায়া হালদার সেখানে হারিয়ে গেলেন। ... ...

এই দর্শনটির নাম অদ্বৈত বেদান্ত বা উত্তরমীমাংসা। এর প্রবক্তা হলেন আদি শংকরাচার্য, যদিও এই দৃষ্টিভঙ্গী ওঁর আগে বেদবিরোধী বৌদ্ধদর্শনের মহাযানী শাখার দুটি স্কুল—শূন্যবাদ ও বিজ্ঞানবাদে বিকশিত হয়েছে।তাই ওঁর অদ্বৈত বেদান্ত মতকে অনেকে ‘প্রচ্ছন্ন বৌদ্ধমত’ও বলে থাকেন। ... ...


ব্রিটিশ অর্থনৈতিক উদ্যোগে অসামান্য অবদানের পুরস্কারস্বরূপ রাজকুমার চার্লস সি বি ই ( কমান্ডার অফ দি ব্রিটিশ এম্পায়ার ) খেতাব দিলেন গ্রিনসিলকে। ব্রিটেন ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে এলে প্রধানমন্ত্রিত্ব পদত্যাগ করলেন ডেভিড ক্যামেরন। এবার গুরু ঋণ চোকানোর পালা, লেক্স গ্রিনসিল বার্ষিক দশ লক্ষ পাউনড সাম্মানিকের বিনিময়ে ক্যামেরনকে গ্রিনসিল কোম্পানির পরামর্শদাতার পদে প্রতিষ্ঠিত করলেন মাসে দু দিন হাজিরা দিলেই যথেষ্ট, কাজটা আসলে লবিইং, একে ওকে দুটো কথা বলা, সুপারিশ সিফারিশ করা। এত বছর প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, সরকারের যে কোন দফতরে চেয়ার টেনে বসতে পারেন। গ্রিনসিল ক্যাপিটালের ভ্যালুয়েশন সত্তর বিলিয়ন ডলার, আসন্ন আই পি ওর সুবাদে ডেভিড ক্যামেরনের সাত কোটি ডলার পকেটে আসার পথ সুপ্রশস্ত। ... ...

আমরা দেখলাম মহর্ষি মনু কোথাও গরুকে মাতা বলেননি। গো-হত্যাকে মহাপাতক বলেননি, গোহত্যাকারীকে মৃত্যুদন্ডের বিধান দেননি।আবার বৃহদারণ্যক উপনিষদে দেখছি ঋষি যাজ্ঞবল্ক্য গরুকে গোধন বলছেন। সর্বত্র দেখছি গরু সম্পত্তির একক। মহাভারতে বিরাট পর্বে ‘উত্তর গোগৃহ’ রণে গরু লুঠেরাদের থেকে বিরাট রাজার কয়েক হাজার গরুকে বাঁচাতে অর্জুন (বৃহন্নলা) গান্ডীব তুলে নিলেন। গরু মাতা হলে কি তাকে বিক্রি করা বা দান দেয়া যায়? এই রাজনৈতিক সাংস্কৃতিক ‘হিন্দুত্ব’ ধারণার প্রণেতা সাভারকর কখনই গরুকে মাতা বলতে রাজি হননি। বলেছেন চারপেয়ে পশুটি উপকারী, কিন্তু আমার মা হবে কি করে? তাহলে কোন শাস্ত্রের দোহাই দিয়ে গরু গোমাতা হচ্ছে বা তার বধের জন্যে মানুষের প্রাণ নেয়া হচ্ছে? ... ...

কোনো এক বিখ্যাত কবির তত্ত্ব ছিলো যে কোনো কোনো ভাষায় নাকি মানুষ সারা জীবন ধরে যা কিছু বলে তার সবটাই একটা, মাত্র একটাই বাক্য - তার প্রথম অস্ফুট ডাক থেকে শেষ পারানির কড়ি - মাঝের সমস্ত যতিচিহ্ন অজস্র সেমিকোলন। একটি মানুষ, সেই তত্ত্ব অনুসারে, আসলে একটিই বাক্য - হয়তো একটি দীর্ঘ কবিতা, যা সে সারা জীবন ধরে রচনা করে চলেছে নিজের অজ্ঞাতসারে। আমি তত্ত্ব বুঝি না, আমি বুঝি সায়নদার কবিতা আমার কাছে কী? এই কবিতাগুলি সূচিভেদ্য অন্ধকার জঙ্গলের মাঝে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ কানে আসা বহুদূরের কোনো এক ক্ষীণতনু মুখচোরা নদীটির স্বর। আমি এই অন্ধকার বন হাতড়ে হাতড়ে, ক্ষত ও ক্ষয় নিয়ে শুধুই পৌঁছতে চেষ্টা করছি সেই নদীটির দিকে। যতোই যাই ততো অন্ধকার ঘন হয়, তবু মনে হয় এইসব শীতের নীরবতা ঠেলে একদিন সেই একলা তীরে দু-দণ্ড বসতে পারলে বড্ড শান্তি পাই আমি। সায়নদার, হ্যাঁ, এই কবিতাগুলি সায়নদার। সায়ন কর ভৌমিকের। বইয়ের নাম আপাতত "রাধিকা ও আর্শোলা"। বইটি বেরুবে বইমেলায়। গুরুচণ্ডা৯-র তরফে। ... ...

সম্প্রতি শেষ হল এ-বছরের কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। প্রতিযোগিতা মূলক এই উৎসবে প্রতিযোগিতার বিভাগটি বাদে যে বিভাগটির উপর সিনেমা-প্রেমীদের বিশেষ নজর থাকে তা হল 'সিনেমা ইন্টারন্যাশনাল'। কারণ এই বিভাগেই দেখান হয় সাম্প্রতিক সময় দেশ-বিদেশের বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কারপ্রাপ্ত ছবি গুলি। এবছর আরেকটি বিভাগ অত্যন্ত নজর কেড়েছে, 'বিয়ন্ড বর্ডারস: ডিসপ্লেসমেন্ট, মাইগ্রেসন,....'। যুদ্ধ-বিধ্বস্ত আমাদের এই সময়কালে এই বিভাগটি তুলে ধরেছে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলির প্রকৃত ছবি। এই সব বিভাগ থেকে দেখা কিছু ছবি নিয়েই আজকের এই আলোচনা। ... ...

জাপান আমার খুব প্রিয় দেশ – আর সেই দেশের সবচেয়ে ভালো লাগার শহর আমাকে বাছতে বললে প্রথমেই আসবে কিয়োটোর নাম। জানি না কেন, কিয়োটো আমাকে খুব টানে – এই জায়গায় সৌন্দর্য্য, এখানকার সংস্কৃতি, নানা প্রাচীন মন্দির – তাদের সাথে জড়িয়ে থাকা রূপকথার মত গল্প – সব জড়িয়ে কেমন মোহময় লাগে সব কিছু। তবে জাপানের এক সময়ের রাজধানী কিয়োটো শুধুমাত্র তার মন্দির, বাগান আর গেইশা এলাকার জন্যই বিখ্যাত নয়, তার সাথে আপনি জুড়ে নিন এখানকার খাদ্য সংস্কৃতি – তা সে প্রথাগত ভাবে জাপানী খাবার রেস্তোঁরাতে খাওয়া হোক বা রাস্তার ধারের স্ট্রীট ফুড, যা নিয়ে আমাদের আজকের আলোচনা। ... ...

সেই যে লঙ্কার অরিষ্ট পাহাড়ের থেকে লাফ দিল হনুমান, নামল একেবারে মহেন্দ্রর চূড়ায়। নামতে নামতেই আকাশ থেকে সে দেখতে পায় জাম্বুবান দাদা আর তার বন্ধুরা সবাই আকাশের দিকে তাকিয়ে হনুমানের জন্যে অপেক্ষা করছে। কোন কোন বাঁদর সবা'র আগে হনুমানকে দেখবে বলে উঁচু গাছে চড়েছে, আকাশপানে তাদের মুখ। আবার আশপাশের নানা সাইজের পাহাড় আর টিলাতেও উঠেছে অনেক ভল্লুক আর বাঁদর। ... ...

বাস এগিয়ে চলে বিশাল এক হ্রদের পাশ দিয়ে ঘুরে ঘুরে। নাম বড়াপানি বা উমিয়াম। এবারে কিছুক্ষণের বিরতি, ভালোই হল, বাস থেকে নেমে হাত পা ছাড়িয়ে লেকটা ভালো করে দেখার সুযোগ পেয়ে গেলাম। ইংরেজি ইউ আকৃতির মতো এক বিশাল হ্রদ। আমরা দেখছি পাহাড়ের অনেক উঁচু থেকে। নিচে জলের কাছে গেলে নৌকা বিহারেরও সুযোগ আছে দেখলাম। ইউ এর মাঝখানে দ্বীপের মতো উঁচু হয়ে আছে। দুপাশের পাহাড় আর মাঝখানের দ্বীপ বড় ঘন সবুজ। ... ...

বিচ্ছিন্ন ভাবে লন্ডনে প্রায়শই বর্ণ বৈষম্য প্রণোদিত হত্যা ও জীবনহানি হত। কিন্তু একটা হত্যা সারা দেশকে স্তম্ভিত করেছিল এবং আমাকে বিশেষভাবে স্পর্শ করেছিল। স্টিফেন লরেন্স নামে এক কালো কিশোর নৃশংসভাবে দিনের আলোয় নিহত হয়েছিল। এই কেস বহুদিন চলেছিল এবং কখনো নিঃসন্দেহভাবে এর নিষ্পত্তি হয় নি, যদিও কুড়ি বছর পর দুজন হত্যাকারীর শাস্তি হয়েছিল। স্টিফেন লরেন্সের মা, ডোরীন লরেন্স এতকাল ধরে ন্যায্য বিচারের জন্য যুদ্ধ করে গিয়েছিল। সাধারণের চোখে মেট্রোপলিটন পুলিশ বর্ণ পক্ষপাতিত্ব দোষে দুষ্ট বলে বিবেচিত হয়েছিল। ডোরীন লরেন্স এখন ব্যারোনেস ডোরীন লরেন্স, হাউস অফ লর্ডসের সভ্যা। ... ...