

মোরিয়া। চেপে যদি না রাখতে পারে নেহাৎ, তা হলে দেখো, ঠিক একটা উল্টো কথা খুঁজে বের করবে, করবেই! ওয়ালেস। হোঃ, উল্টো কথা! উপায় আছে, বিজ্ঞানে উল্টো কথা বলার উপায় আছে! তুই-ই বল্ না, এই যে জঙ্গলে জঙ্গলে ঘুরে বেড়াস, কত হরিণ দেখেছিস বলতে পারিস? মোরিয়া। সে কথা কি আর বলা যায় সাহেব? শ'য়ে শ'য়ে, হাজারে হাজারে দেখেছি তো। ... ...

সাভারকর প্রথমে প্রশ্ন তুললেন –নামে কিবা আসে যায়! উত্তরে বললেন—অনেক কিছু আসে যায়; জুলিয়েটকে যদি রোজালিন্ড বলে ডাকা হয় বা ম্যাডোনাকে ফতিমা, অথবা অযোধ্যাকে হনলুলু—তাহলে কি একই অনুভূতি প্রকাশ পাবে? অবশ্যই নয়। মহম্মদকে ইহুদী বললে কি তিনি খুশি হতেন? তাই হিন্দুত্ব, হিন্দু এবং হিন্দুস্তান শব্দ নিয়ে তাঁর বিচার শুরু হল। বললেন ‘হিন্দুত্ব’ একটি শব্দ মাত্র নয়, এটি আমাদের ইতিহাস। খালি আধ্যাত্মিক ইতিহাস নয়, বরং আমাদের সংস্কৃতি, যুগ যুগ ধরে জীবনযাপনের যে ঐতিহ্য যে মূল্যবোধ—তার পূর্ণরূপ। হিন্দুধর্ম এর একটি সাবসেট, বা ক্ষুদ্র অংশ। আবার সনাতন ধর্ম বলে যা চালানো হয় তা বিশাল বৈচিত্র্যময় হিন্দুধর্মের একটি অংশ মাত্র, পুরোপুরি হিন্দুধর্ম বা তার একমাত্র রূপ নয়। আগে হিন্দু এবং হিন্দুস্তানের উৎস বোঝা দরকার। ... ...

... একটা বিষয় মনে রাখবেন, এই যে সূর্যের ঘোরার কথা বলা হচ্ছে, এটা কিন্তু পৃথিবী থেকে যেমন দেখা যায়, সেটা, অর্থাৎ সূর্যের এই ঘোরাটা আসলে আপেক্ষিক। আমরা জানি, যে সূর্যের চারপাশে পৃথিবী ঘোরে, তাই আমাদের মনে হয় পৃথিবীর চারপাশে সূর্য ঘুরছে। আর্যভটের হিসাব যেহেতু পুরোটাই অবজারভেশন নির্ভর, তাই সেখানে পৃথিবী সূর্যের চারপাশে ঘোরার সময়কালকে বছর না বলে, সূর্য পৃথিবীর চারপাশে ঘোরার হিসেবেই বছরের হিসেব করা হয়েছিল। এবার পরের অংশগুলোর একটু হিসেব করা যাক – ৪৩ লক্ষ ২০ হাজার দিয়ে এই পৃথিবী যতবার ঘোরে বলা হয়েছে, অর্থাৎ ১৫৮২২৩৭৫০০, সেই সংখ্যাটাকে ভাগ করুন। দেখা যাবে ভাগফল মোটামুটি ওই ৩৬৬.২৫৮৬৮-র কাছাকাছি হচ্ছে (দশমিকের পরের অংশ নিয়ে আপাতত ভাবতে হবে না, ৩৬৬ টা দেখুন)। এই ভাগফলটা মানে কী? এক sidereal year-এ পৃথিবী কতবার পশ্চিম থেকে পূর্বে ঘোরে, অর্থাৎ নিজের চারপাশে কতবার ঘোরে, সেটা। এই সংখ্যাটা হিসেব করে যা বেরোল, তা আমরা যে এক বছরের কথা জানি তার দিনসংখ্যার থেকে সামান্য আলাদা। কেন? সেটা বুঝতে গেলে sidereal year কে বুঝতে হবে, এ আসলে আমাদের হিসেবের এক বছর নয়। তবে আপাতত sidereal year-এর জটিলতায় যাচ্ছি না, বরং একটু সহজ হবে যা বুঝলে সেটায় যাই।... ... ...

এই গল্পগ্রন্থটিতেও রয়েছে মানুষেরই চাওয়া পাওয়া, সুখ দুঃখের কথামালা। তবে গল্পগুলি আবর্তিত হয়েছে ভিন্ন কালমাত্রায়, ভারতীয় উপমহাদেশের ভিন্ন ভিন্ন রাজ্যের আবহে। তাতে অবশ্য পাঠকের লাভই হয়। তাঁর কাহিনীর পটভূমিকা তাদের নিয়ে যায় অচেনা সব অন্দরমহলে। গল্পগুলো ঘুরে বেড়ায় সহ্যাদ্রির মেঘে ঢাকা মহারাষ্ট্রের আরব সাগরের তীরে। ‘ফুল আর মধুপাখি’র সুশান্তি তার দেহের গরলকে কোন অমৃতে বশ করে? কলকাতার বড়বাজারে কাজ করা ইয়াদরাম, গ্যালিলিওর মত দেখতে মেহের বিলিমোরিয়া, বা পিপিনরা কি গভীর অসুখে আছন্ন ‘রাধু’কে আপন ‘ঘরবাড়ি’র কাছে পৌঁছতে দেয়? নাকি ধনী-গরিবের চরম বৈপরীত্যের ভূমিতে তারা হারিয়ে যায় কোনো উজ্জ্বল গোলকধাঁধায়? ... ...

অভিনেতা থেকে জননেতা, খেলোয়াড় থেকে গায়ক – ঐশ্বর্য ও প্রতিপত্তির জগতে যাঁদের আনাগোনা, তাঁরা কেউ কাঠগড়ায় উঠলে সাধারণ মানুষ যেন ততটা অবাক হন না। অথচ, নামকরা কোনো বিজ্ঞানী কোনো রকম অসদাচরণের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন শুনলে লোকের প্রথমেই মনে হয় ‘অসম্ভব!’; কারণ, সাধারণের চোখে বিজ্ঞানী মানেই কাজপাগল, আত্মভোলা এক মানুষ, যাঁর কাজ – জ্ঞানের চর্চা ও সত্যের সন্ধান। অর্থাৎ বিজ্ঞানচর্চার রীতির মধ্যেই যেন এক রক্ষাকবচ লুকোনো আছে, যার সুবাদে একজন বিজ্ঞানী অসদাচরণ করা বা তার জন্য অভিযুক্ত হওয়া থেকে মুক্ত থাকেন। তার মানে কি বিজ্ঞানীদের অপকর্ম বিষয়ে সাধারণ মানুষ একেবারেই অন্ধ? ঠিক তা নয়, বরং একজন বিজ্ঞানী কী কী ধরনের অন্যায় করতে পারেন, সে বিষয়ে সাধারণ মানুষের মনে একটা ধারণা আছে; বিজ্ঞানীর সেইসব অপকর্ম হতে পারে ব্যক্তিগত কোনো কেলেঙ্কারি, আর্থিক নয়ছয়, বড় জোর দেশদ্রোহ—মানে গোপন তথ্য পাচার। কিন্তু গবেষণার সময়ে তিনি জ্ঞানত কোনো অসততা করেননি, অর্থাৎ যে ফলাফল পেয়েছেন, তাই তিনি প্রকাশ করেছেন – এটা ধরে নিয়েই বিজ্ঞানের জগৎ এগিয়ে চলে আর সাধারণ মানুষও সেটাই বিশ্বাস করেন। ... ...

“পারস্যে” ভ্রমণকাহিনীতে রবীন্দ্রনাথ গীতার নীতিবোধকে স্পষ্ট বিদ্রূপে বিঁধছেন—“গীতায় প্রচারিত তত্ত্বোপদেশও এইরকম একটি উড়োজাহাজ – অর্জুনের কৃপাকাতর মনকে সে এমন দূরলোকে নিয়ে গেল—যেখানে মারেই-বা কে, মরেই- বা কে, কেই-বা আপন কেই-বা পর। বাস্তবকে আবৃত করার এমন অনেক তত্ত্বনির্মিত উড়োজাহাজ মানুষের অস্ত্রশালায় আছে, মানুষের সাম্রাজ্যনীতিতে, সমাজনীতিতে, ধর্মনীতিতে। সেখান থেকে যাদের উপর মার নামে তাদের সম্বন্ধে সান্ত্বনা দেওয়া হয়েছে এই যে, ন হন্যতে হন্যমানে শরীরে”। ... ...

বাংলাসাহিত্যের বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় তাঁর ‘পারাপার’ উপন্যাসে একটি চরিত্র বিমানের সন্দর্ভে বলেছেন যে গীতা হোল পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ কাব্য! গীতার বেশিরভাগটাই অনুষ্টুপ এবং অল্প একটু অংশ ত্রিষ্টুপ ছন্দে লেখা। কিন্তু কাব্যগুণ? ভিন্নরুচির্হিঃ লোকাঃ। ... ...

আমার প্রশ্ন যদি সবই ব্রহ্মময় হয়, যদি ব্রহ্মের সঙ্গে নম্বুদ্রিব্রাহ্মণ শংকরাচার্য্য ও শূদ্রের কোন ভেদ না থাকে তাহলে তাদের জ্ঞানপ্রাপ্তির প্রচেষ্টায় শাস্তি দেওয়ার বিধান কেন? তাহলে কি ব্যবহারিক দুনিয়া শংকরাচার্য্যের জন্যেও বিশেষভাবে অস্তিত্ববান? ... ...

আরাবল্লী আছে ওখানে, তবে কিনা বাতাসের অভিমুখের সঙ্গে সে পাহাড় সমান্তরাল। তাই একশো শতাংশ জলীয় বাষ্পে টাপুটুপু বাতাস বয়ে গেলেও, পাহাড়ের সঙ্গে ঠোকাঠুকি হল কই? ধাক্কাধাক্কি হবে, ঢাল পেরোতে না পেরে পাহাড়ের গা বরাবর হাওয়াটা ওপরে উঠবে, ঠান্ডা হবে, বাষ্প ঠান্ডায় ঘন হয়ে বড় বড় জলের ফোঁটা বানাবে, তবে না বৃষ্টি হবে! ... ...

অ্যাসেট ব্যাকড ফাইনান্সিংএ দুটো সমস্যা: ব্ল্যাকরক হেন অ্যাসেট ম্যানেজার ছ মাস, ন মাসের জন্য দু, দশ হাজার ডলার ধার দিয়ে ছুঁচো মারেন না, তাঁরা খোঁজেন গণ্ডার, যার ওজন অন্তত একশ মিলিয়ন এবং আয়ু পাঁচ বছরের। এই সমস্যাটির সমাধান- সহস্রটি ইনভয়েস জুড়ে আঁটা দিয়ে সেঁটে এক ভারি ওজনের কাগুজি গণ্ডার বানানো। কিন্তু তার পরেও আরেক সমস্যা থেকে যায় – যেমন যেমন একটা ইনভয়েসের দাম চুকিয়ে দেওয়া হবে তেমনই আরও নতুন ইনভয়েস জুড়ে গণ্ডারের ওজনের ভার সাম্য বজায় রাখতে হবে। আগে আমার হামবুর্গ সেমিনারের অভিজ্ঞতার গল্প লিখেছি - ক্রেদি সুইসের বন্ডগুরু বলেছিলেন আমরা পাঁচ বছরের জন্য একশো মিলিয়ন ডলারের বন্ড বানাতে রাজি, তার জন্য আমাদের চাই হাজার ইনভয়েসে ভরা এমন একটা বাকসো যার মোট মূল্য আজ একশো মিলিয়ন ডলার, কালও একশো মিলিয়ন। যোগ বিয়োগ লেগেই থাকবে, কিছুর পেমেন্ট হবে তার জায়গা নেবে আরও কিছু, কিন্তু যে কোন সময়ে বাকসোর মূল্য হতে হবে সেই একশো মিলিয়ন ডলার। ... ...

দেখা যাচ্ছে বেদ ও স্মৃতির অনেক শ্লোক পরস্পরবিরোধাভাসী এবং তার ব্যাখ্যা নিয়ে মতভেদে অনেক দার্শনিক স্কুল গজিয়ে উঠেছে। এমনকি একই ব্রহ্মসূত্র এবং তৈত্তিরীয়, ছান্দোগ্য, শ্বেতাশ্বতর, বৃহদারণ্যক আদি উপনিষদে আস্থাশীল দার্শনিকেরাও নিরাকার ব্রহ্মের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছেন না। মহাভারতের বনপর্বে বকরূপ ধর্মের কঃ পন্থা প্রশ্নের উত্তরে যুধিষ্ঠির বলেছিলেন-“বেদাঃ বিভিন্নাঃ, স্মৃতয়োর্বিভিন্না, নাসৌমুনির্যস্য মতংনভিন্নম”। এককথায় নানা মুনির নানা মত। ... ...

এই সবুজ পাহাড়, ঐ দুধলি লতা, বেগুনি জারুল, হলুদ সোঁদাল, ছাতিমের সুগন্ধ, পাখপাখালির কলরব, ফ্যাক্টরির মেশিনের আওয়াজ, আগুনের তাপ, লংতরাইয়ের পাকদণ্ডী বেয়ে মুড়ির টিন বাস – এরা সবাই গল্পগুলির চরিত্র - পিরোবতীর গল্পগুলির। ঠিক যেমন গরীবধনী কুলিমালিক সব মানুষের নাচগান, শাপশাপান্ত, ঘুম, অথবা অনর্গল স্নান ও হঠাৎ রুখে ওঠা যুদ্ধ। আর তার-ই মাঝে, সবুজ পাতার ফাঁকে, নদীর স্রোতের তলায় উপলখণ্ডের মত অপেক্ষা করে থাকে দুঃখ। অপেক্ষা করে মৃত্যু। কোথায় যেন পড়েছিলাম, যে মৃত্যুকে নিয়ে যাবতীয় লেখাই, আসলে যেন এক-একটি মোনোক্রোম চিত্রকলা, কিন্তু স্থাপত্য নয়, যাকে দেখা যায় শুধুমাত্র একটিই দিক থেকে। একটিই অমোঘ অন্তিম, তারপর শূন্যতা। এবং কিছু কুয়াশা। সে কিছুটা অবুঝ এবং অস্পষ্ট। সামনে অতল খাদ, তবুও নিচে তাকানোর কী অমোঘ আকর্ষণ। সেইসব গল্পের শেষে আমাদের থামতে হয়, একটুকুন বিশ্রাম, একটু দীর্ঘশ্বাস। ... ...

শংকর বলছেন—অবিদ্যা সৎ-অসৎ কোনটাই নয়, এ হল অনির্বচনীয়। মানে অবিদ্যার অস্তিত্ব আছে কি নেই—সেটা বলা মুশকিল। এ হল এমন যা শব্দ দিয়ে বোঝানো মুশকিল। রামানুজ বলছেন—এসব ফালতু কথা। এই অবিদ্যাটি থাকেন কোথায়? একি জীবের ব্যক্তিচেতনায়, নাকি ব্রহ্মের অনন্তচেতনায়? ... ...

"মধ্যযুগ ছিল অন্ধকার, তারপর জল পড়িল, পাতা নড়িল, ফুল ফুটিল এবং সিরাজ বধ করিয়া, সগর্বে য়ুরোপ আসিয়া বাংলাকে গ্লোবাল করিয়া জ্ঞানের আলো দেখাইল, সোমনাথ এইসব ঢপেচ্চ্পেও বিশ্বাস করে না। সে রামপ্রসাদের ভক্ত।" - একথা সোমনাথ রায়ের আগের কবিতার বইয়ের ব্লার্বে লেখা আছে। এই বইতেও সেই ধারাবাহিকতা বজায়। তা সে ক্ষীরভবানীর মন্দিরে অসীম আল্লা আর অনন্ত মায়ের মূর্তিতে কাজল মেঘেতে ছাওয়া বাংলার রূপ হোক বা হায়দারি মঞ্জিলে দবীর খাসের স্বপ্ন। এখানে ঘাসে ঘাসে হাওয়ার দোলনাতে ঝুলন মিলনের অধিষ্ঠান, মাটি দেশে শ্যামল সমারোহে শ্যামের বাঁশি আর সে রাঙা পদ, রূপকথা দিঘিতে ঘাই মারে পিতামহীর দেওয়া মাছের নথ। মেঘনা ভাগীরথী পলিমাটিতে মেশে যেমন আজানেতে মিশছে শাঁখ/ মাঠে ও জলতলে যেমন মিশে আছে লক্ষ কৃষকের হুলের ডাক। বৃষ্টি থেমে গেলে বাগান উপচে পথে উঠে আসে কলরব। নিভে যাচ্ছে কার্তিকের রোদ। দুপুরের ঝিম ছিঁড়ে যায় রেলগাড়িতে। ডিনামাইটের মুখে জেগে ওঠে পাহাড়িয়া ঘাস। বাড়িগুলো মরে যায়, সেই জায়গায় একটা ফাঁকা মাঠ হয় কিছুদিন। একশো বছর ধরে মরে গেছে বাংলার গ্রাম/ মৃত শরীরের ঢিপি ঢেকে রাখা প্রগতির পথে। হেল বপ দূরে সরে যায়। অনন্তকাল আবার দাঁড়ায় বড়ঘড়ির নিচে। 'ঘেন্না পিত্তি' আর 'অরূপ বৃন্দাবন এবং অন্যন্য পদ'র মতোই, 'পূর্বে আসো মেঘ' আসলে নানা ছন্দের কারিকুরি - ছান্দসিকদের জন্য পোয়াবারো। আসবে, ২০২৬ কলকাতা বইমেলায়। ... ...

ড্যানিয়েল চু হিসেব করে দেখলেন নিচের তলার এই মানুষদের সংখ্যা আমেরিকান নাগরিকের বিশ শতাংশ -ওয়াল স্ট্রিট কেন, মেন স্ট্রিটের কোন ব্যাঙ্ক এঁদের দু পয়সা ধার দেবেন না কারণ এঁদের ক্রেডিট রেকর্ড নেই। ড্যানিয়েল বললেন, আরও কিছু তো খুঁটিয়ে দেখা যেতে পারে, যেমন কেউ হয়তো ভালো গোছের কাজ করেছিলেন, প্যানডেমিকে বেকার, এতদিন ঠিক চলছিল আচমকা বিবাহ বিচ্ছদের কারণে সংসারে টানাটানি, দশ বছর নিয়মিত বাড়ি ভাড়া দিয়ে এসেছেন কিন্তু সে সব তথ্য ক্রেডিট ব্যুরোর খাতায় উঠবে না কেন না এঁদের কাগজপত্র বা সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর নেই। তাহলে একটা জলজ্যান্ত মানুষের কর্ম বা আয় ক্ষমতার একমাত্র নির্ণায়ক ক্রেডিট ব্যুরো? ... ...

তাই লেখক স্মৃতি নিয়ে ঘর করেন না। ঠান্ডা নিয়ে ঘর করেন। সেই ঠান্ডা যখন গরমের দিকে যাওয়ার মতো হয় তখন একটা ট্রাক্টর অথবা বাইক মিছিল দেখা যাবে আর পাবে খিদে। এইভাবে চরিত্ররা মনের ভেতর ঢোকে, বেরোয় আর ঘুমের মধ্যে দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে টিলার তলায় কুয়াশার ভেতর দিয়ে যেতে যেতে আস্তে আস্তে নদীর ধারে পৌঁছয়। দুবেলা জঙ্গল সাফারির ধকল সেরে বনবাংলোয় ফিরে তারা পড়তে বসে মহামারীর ইতিহাস। ... ...

এই অবিদ্যার কারনেই আমাদের দৃষ্টি আবিল হয়, আমরা রিয়েলিটি বলতে চৈতন্যস্বরূপ এক এবং অদ্বিতীয় ব্রহ্মকে দেখার বদলে ব্রহ্ম এবং বস্তুজগত –এই দুই বাস্তবের চক্রে ফেঁসে যাই। অতএব, আসল দোষী হল ওই ‘অবিদ্যা’। এই অবিদ্যাও ব্রহ্মের মতন ‘অনাদি’। কেউ কেউ ‘অবিদ্যা’ এবং ‘মায়া’কে একই মনে করেন। দেবীপ্রসাদও কখনও কখনও এই দুটি পদকে একে অপরের বদলে পালা করে ব্যবহার করেন। ... ...

সোমনাথ গুহের এই বইটি সতেরো বছর ধরে নিজের পত্রিকায় কন্নড় এবং ব্যাঙ্গালোর মিররে ইংরেজি ভাষায় লেখা গৌরীর কিছু নির্বাচিত রিপোর্টাজ এবং নিবন্ধের বাংলা অনুবাদের সংকলন। গৌরী ছুঁয়ে গেছেন গুজরাট দাঙ্গা, বাবাবুদানগিরি বিতর্ক, জাস্টিস অজিত প্রকাশ শাহ, সাভানুর শহরে দলিত মেথর সম্প্রদায়ের আন্দোলন, আর্সেলর মিত্তলের বিরুদ্ধে দয়ামণি বার্লা, বাসবান্না প্রবর্তিত লিঙ্গায়েত ধর্মের ভুলে যাওয়া সাম্যবাদ, দলিত কবি হুচ্ছাঙ্গি প্রসাদের ওপর হিন্দু জাগরণ ভেদিকের আক্রমণ, কর্ণাটকে কুসংস্কার বিরোধী আন্দোলন, রোহিত ভেমুলা, জৈন মুনি তরুণ সাগর, ইউ আর অনন্তমূর্তি আর এম এম কলবুর্গির মত কন্নড় লেখকদের মত বহু প্রসঙ্গ। এছাড়াও এই বইতে যুক্ত হয়েছে গৌরীকে নিয়ে তার বোন কবিতা লঙ্কেশ এবং মা ইন্দিরা লঙ্কেশের স্মৃতিচারণা, ভুয়ো খবরের স্রোত নিয়ে লেখা গৌরীর শেষ সম্পাদকীয়। ... ...

অবিদ্যার দুটো কাজ। এক, আসল রূপকে আবৃত করা। যেমন মেঘ এসে সুর্যকে ঢেকে দেয়। দুই, মায়াজালের মত কাল্পনিক কিছু সৃষ্টি করা। যেমন সর্প-রজ্জু উদাহরণে বিভ্রান্তির ফলে দড়ির আসল চেহারা আবৃত হয়। তারপর সেখানে সর্প বলে এক ইমেজ সৃষ্টি হয় যা আসলে ওখানে নেই, যা পুরোপুরি কাল্পনিক। অবিদ্যা ও মায়া একই প্রক্রিয়ার দুটো অংশ। অবিদ্যার ফলে ভ্রান্তি সৃষ্টি হয়, সত্য আবৃত হয় আর তার জায়গায় যা দেখতে পাওয়া যায় তাই হল মায়া। ... ...