
এতদিন পর্যন্ত কোন অচেনা অজানা কারবারে কষ্টার্জিত অর্থ বিনিয়োগ করতে যে আম জনতা ইতস্তত করছিলেন তাঁরাও ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্টের খাতায় নাম লেখালেন; রোজ সকালে বিকেলে ডাউ জোনস/ নাসডাক ইনডেক্সের ডলার সাইন দেখা শুরু করলেন। নিতান্ত তথ্যের খাতিরে বলা ভালো ১৯২৯ সালের গ্রেট ডিপ্রেশন বা ওয়াল স্ট্রিট ক্র্যাশের সময়ে মাত্র ৭ শতাংশ আমেরিকান সরাসরি শেয়ার কিনেছিলেন, তাতেই সেই মহা সঙ্কট। ১৯৯৪ সালে চল্লিশ শতাংশ আমেরিকান শেয়ার বাজারে সরাসরি খেলছেন, মাত্র সাত বছরের ভেতরে তাদের সংখ্যা বেড়ে হল ষাট শতাংশ বা আট কোটি। ... ...
প্রসঙ্গ আসছে কারণ কয়েকদিন পরেই শুরু হবে বিভিন্ন পাতায় আন্তর্জাতিক নারী দিবসকে উপলক্ষ্য করে নানান উৎসব উদ্দীপনা, উদযাপনের বচ্ছরকার ঢেউ। অথচ যে দিবসের সূত্রপাত শ্রমজীবি নারীদের অধিকারের লড়াইয়ে, সেই দিনে উপরোক্ত রিপোর্ট বা সেইসব তথ্য অনুযায়ী যে সমস্যাগুলি উঠে আসছে তা নিয়ে আলোচনা যথেষ্ট পরিমাণ হচ্ছে কি? সাম্প্রতিক কালে যেমনটা দেখা যাচ্ছে তাতে আরো অন্য কিছু দিবসের মত এই দিনটারও বাণিজ্যিকীকরণের ষোলোকলা প্রায় পূর্ণ হয়েছে। গত শতাব্দীতে এই দিনটি পালন করা শুরু হয়েছিল শ্রমজীবি নারীদের দাবিদাওয়ার কথা মনে করে, কর্মক্ষেত্রে নারীদের অধিকারের লড়াইয়ের অংশ হিসেবে। যে উদ্দেশ্য নিয়ে এই দিবস পালনের সূচনা, তার কতটা কী আজ বিশ্বসমাজের মনে আছে বা মনে রাখার দরকার আছে তা যেন হাল আমলের জমকালো সেলিব্রেশন দেখলে বোঝার উপায় নেই। তাই এই শতবর্ষের এপারে, ইতিহাস স্মরণ করার জন্যে একটু পিছনে তাকানো যাক। ... ...

বাংলাদেশ যা পারলো, তা কিন্তু আমরা পারিনি। আমাদের মতো বহুত্ববাদী, মুক্তমনা, ধর্মনিরপেক্ষ একটি গণতান্ত্রিক দেশে যখন ধর্মের আধারে ভোট বিভাজনের মাধ্যমে কোন কোন রাজনৈতিক দল ক্ষমতার মসনদে আসীন হওয়ার ফন্দি আঁটে, অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক হলেও, আমরা কিন্তু সেই ধর্মীয় জিগির বিছানো ফাঁদে বারংবার পা গলিয়ে দিই। আর এই ঘৃণ্য চক্রান্তের ধূর্ত উদ্দীপনায় আমরা মূল লক্ষ্য থেকে সরে গিয়ে মন্দির-মসজিদ নিয়ে তরজা করে বেড়াই। ... ...

রিওর বিচে স্নান ও সঞ্চরণরতা সুন্দরীদের পানে চোখ মেলে থাকার বা দূর থেকে শিষ দেবার অধিকার কোন বয়সে সীমাবদ্ধ নয়, ছেড় ছাড় অবশ্যই অসামাজিক ও বেআইনি। যোবিম ও ভিনিসিউস ভেলোসো বারে বসে গল্প করেন, চাকাও (আখের রস, লেবু মেশানো ব্রাজিলের জাতীয় ড্রিংক যাকে আমরা কাইপিরিনিয়া নামেও জানি) পানীয় সেবন করে খোলা জানলা দিয়ে বাইরে চেয়ে থাকেন। একদিন বিকিনি পরিহিতা এক তন্বী শিখর দশনা তরুণীকে দেখে দু জন বাক্যিহারা হয়ে গেলেন; পরপর কয়েকদিন তাকে দেখলেন। সে কখনো বিচে যাচ্ছে কখনো বা দোকান বাজার করে ফিরছে। রুয়া মনতেনেগ্রো এবং প্রুদেন্তে দে মোরেসের ঠিক কোণায় এই বারে বসে তাঁরা দুজন মেয়েটির গতিবিধি লক্ষ করেন, কোনদিন শিষ দিলেন, মাঝে মধ্যে কথাও বললেন, তাঁদের সঙ্গে বসে এক পাত্তর পান করার আবেদন জানালেন। মেয়েটি সে দরখাস্ত নাকচ করে দেয়। ... ...

প্লাস্টিকটা গরম হয়ে চলেছে ক্রমশ। প্লাস্টিকের ভেতরে একটু কম গরম হচ্ছে শক্ত ঠান্ডা মাথা নাক ঠোঁট হাত পা পেট থাই। বরফ ঠান্ডা থেকে একটু একটু করে গরম। বেঁচে থাকা অঙ্গ প্রত্যঙ্গের মতো গরম। প্লাস্টিকের ভেতরের ওই মাথাটায় একটাও চুল নেই এখন। ... ...

মুস্কিল আসান অগ্নিশা তো আছেই। আমাদের আরতিও সুসম্পন্ন হল। উমম্ জলখাবারে আজ চাউমিন হয়েছে। ছেলেমেয়েদের পছন্দ, আর দুজনেরও খুব - কাদের আবার সৌরভ আর অগ্নিশা। খেতে খেতে গল্প হল। সারাদিনের ক্লান্তি আর নেই। ... ...

ভোটার তালিকায় আগে চুরি ছিল আর এখন যে তালিকা হয়েছে তা রীতিমত পুকুরচুরি। দেশের অন্যতম একটি স্বশাসিত সংস্থা, কীভাবে প্রধান শাসকদলের হয়ে কাজ করলো, তা ইতিহাসে লেখা থাকবে। গুজরাটেই প্রায় ৯০ লক্ষ মানুষের নাম বাদ গেছে। ৩৪ লক্ষ মধ্যপ্রদেশে, ৩১ লক্ষ রাজস্থানে এবং ৩৪ লক্ষ ছত্তিশগড়ে। প্রাথমিকভাবে উত্তরপ্রদেশেই ২.৫ কোটি মানুষের নাম বাদ গিয়েছিল। এই রাজ্যগুলোর প্রত্যেকটিই বিজেপি শাসিত। বিরোধী শাসিত রাজ্য তামিলনাডুতে বাদ যাওয়া ভোটারের সংখ্যা ৭৪ লক্ষ। দেশের গৃহমন্ত্রী অমিত শাহ বেশ কিছুদিন আগে বলেছিলেন যে তারা আরো ৫০ বছর রাজত্ব করবেন। এই এসআইআর প্রক্রিয়া তার বক্তব্যকেই সিলমোহর দিল। বাংলায় কি হবে জানা নেই কতজন বাদ যাবেন জানা নেই, কিন্তু সারাদেশে বিরোধী ভোটারদের বাদ দেওয়ার এই চক্রান্তে সম্পূর্ণভাবে দায়ী থাকলো নির্বাচন কমিশন এবং তাকে সর্বতোভাবে সহায়তা করল চোখ বুজে থেকে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। ... ...

সুজান বললে, নতুন দিগন্তে পাড়ি দিচ্ছি। গত দু বছরে বাণিজ্যের চাল চলন বদলে গেছে, দেখতে পাও না? এই যে এক সময়ে আমরা কনটিনেনটাল ব্যাঙ্ক ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে আইরিস মেল পাঠিয়েছি কোরিয়ার সেউল ব্রাঞ্চে, মুহূর্তের মধ্যে খবর বিনিময় হয়েছে; অথচ বোকেনহাইমার লানডস্ত্রাসেতে আমাদের অফিসের উলটো দিকে ড্রেসনার ব্যাঙ্কে কি সিবা গাইগিকে টাইপ করা চিঠি পাঠিয়েছি মেসেঞ্জার মারফত। শুধু মেল নয়, ইন্টারনেট আমাদের পৃথিবীকে ছোট করে দিয়েছে –কম্পিউটারের বোতাম টিপলে সম্পূর্ণ নিখরচায় একই প্লাটফর্মে ক্রেতা বিক্রেতা, মিস্ত্রী মজুর একত্র হতে পারে, একটা বিশাল মার্কেট প্লেস, এখানে আসতে যেতে কোন খরচা নেই, তেল পুড়িয়ে গাড়ি চালাতে হয় না, ফ্রি এন্ট্রি ফ্রি একজিট। ধান্দা যাই হোক না কেন। আর ওই টেলিফোন নম্বর স্টাইলের কম্পেনসেশান? বোনাসের কথা ভুলে যাও, এরা শেয়ার অপশন দিচ্ছে, আই পি ও (ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং)-র প্রথম দিনেই শেয়ারের দাম ডবল হচ্ছে, কাগজে দেখো না? ... ...

ডাক এসেছিল বুঝলেন, রুবির পাসপোর্ট অফিস থেকে। ইন্টারভিউর জন্য ওদের সবাইকে হাত ধরে নিয়ে গেলাম, গিয়ে দেখি লম্বা লাইন। ছোট তো, ওরা তাই অধৈর্য হয়ে এদিক সেদিক দৌড় মারছে, চুপটি করে বসিয়ে বললাম বিলেত যেতে গেলে কিন্তু এমনি করলে হবে না, উড়োজাহাজে অনেকক্ষণ ঠায় বসে থাকতে হবে, নড়ার উপায় নেই। সেই শুনে আবার সার দিয়ে বেঞ্চিতে বসে পড়ল। পাসপোর্ট অফিসার ওদের দেখে শুনে খুবই চমৎকৃত, বললেন দিব্যি লাগল এদের, কাগজ হয়ে গেছে আর চিন্তা নেই এবার যখন খুশি যেতে পারবে। সেই শুনে তো গুরুর বইদের কি আনন্দ। লাফিয়ে ঝাঁপিয়ে একশা। ... ...

১৯০০ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি এক ধনী স্প্যানিশ পরিবারে জন্মগ্রহণ করা লুই বুনুয়েল বড় হয়ে ওঠেন কঠোর জেসুইট শিক্ষায় দীক্ষিত হয়ে। ধর্মাচ্ছন্ন এক পরিবেশের মধ্যে তিনি বড় হন। কিন্তু পারিবারিক এই পরিবেশ তাঁকে প্রবলভাবে সংগঠিত ধর্মের ভণ্ডামি এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতার প্রতি বীতশ্রদ্ধ করে তোলে। জীবনের বাকি সময়জুড়ে তিনি গির্জা, রাষ্ট্র এবং প্রতিষ্ঠিত সামাজিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে নিরন্তর আক্রমণ চালিয়ে গেছেন। তাঁর দৃষ্টিতে তথাকথিত ভদ্র সমাজের বাহ্যিক সৌজন্য আসলে একধরনের চাপিয়ে দেওয়া মুখোশ। এই মুখোশ মানুষের স্বাভাবিক মানবিক আকাঙ্ক্ষাগুলিকে দমন করে, যার ফলশ্রুতিতে সমাজে নানা বিকৃতি ও স্নায়বিক অসংগতির জন্ম হয়। ১৯১৭ সালে মাদ্রিদ বিশ্ববিদ্যালয়ে বুনুয়েলের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবনের সূচনা হয়। তিনি ছিলেন দর্শন-শাস্ত্রের ছাত্র। ... ...

ব্রিজ বা মস্ত থেকে বসনিয়ার এক জনপদের নাম হয়েছে মস্তার, কালো পাহাড়ের দেশের নাম মনতেনেগ্রো; সেগুলি স্থানীয় নাম। কিন্তু পর্তুগিজ নাবিকরা তাদের যাত্রা পথে খেয়াল খুশি মতো যে সব নামের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে গেছে তাদের অনেকগুলি আজও বিদ্যমান- যেমন ক্রিসমাসের দিনে (পর্তুগিজ বড়দিন) আফ্রিকার এক বন্দরে তাদের জাহাজ ভিড়েছিল তাই নাটাল, ব্রাজিলের উত্তরে নাটাল শহরের পত্তন হয়েছিল এক বড়দিনে, প্রচুর চিংড়ি মাছ পাওয়া গেল অতএব সে দেশ খ্যাত হোক ক্যামেরুন নামে, দ্বীপটা সুন্দর তাই ফরমোসা (তাইপের পুরনো নাম), সাগর তীরের মেরিনা দেখে মনে হয়েছিল অনেকগুলি হ্রদের (পর্তুগিজ লাগো) সমন্বয়; সে হলো নাইজেরিয়ার লাগোস। ব্রিজ নয়, পাহাড় নয়, লেক অবধি নয়, নেই কোন নদী তবু জানুয়ারি মাসে ব্রাজিলের পূর্ব উপকূলে পাহাড় ঘেরা এক শান্ত জলরাশি দেখে তাকে কোন মোহানা ভেবে যে নাম দিয়েছিলেন পর্তুগিজ নাবিক তার অপভ্রংশটুকু আজ এক শহরের নাম, নদী, রিও! এমন নামটি আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। ... ...

যখন দেশের নানান প্রান্তে বাংলায় কথা বলার জন্যে বাংলাদেশী বলে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, যখন বাংলার পার্শ্ববর্তী রাজ্যে বাঙালী শ্রমিকদের ওপর অত্যাচার চলছে, তখন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডনবিস আরও বড় একটা ঘোষণা করেছেন, যা আরও ভয়ঙ্কর। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে নাকি এবার থেকে বাংলাদেশী চেনা হবে, সেইরকম প্রযুক্তি তাঁরা আনতে চলেছেন। বাংলায় কথা বললে, সেই ভাষার কথা এবং স্বর-নিক্ষেপকে বিশ্লেষণ করা হবে, তার মধ্যে দিয়েই নাকি চেনা যাবে কে ভারতীয় বাঙালি আর কে বাংলাদেশী। প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণে না গিয়েও বলা যায় প্রতিটি মানুষকে এই যে সন্দেহের তালিকায় রাখা, প্রতিটি মানুষকে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে ভাবা এবং সেই ভাবনাকে সমাজের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়াই আসলে ফ্যাসিবাদের অন্যতম বৈশিষ্ট। ঠিক এই ভাবনাই জাড়িত করে দেওয়া হয়েছিল নাৎসি জার্মানিতে। ... ...

ভারত-পাক সংঘাত আবহে কিছু শব্দ জনপরিসরে আবার উঠে এসেছে- ব্ল্যাক আউট এবং যুদ্ধের সাইরেন বা যাকে বলা হয় এয়ার রেড সাইরেন। নাগরিক অভিজ্ঞতায় শেষ বারের মতো শোনা গেছিলো সেই ১৯৭১ সালের যুদ্ধে। কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তির যুগে যখন রাতের অন্ধকারেও যুদ্ধবিমান আঘাত হানতে সক্ষম সেক্ষেত্রে ব্ল্যাক আউট- এর তাৎপর্য কি? এ কি শুধুই একটি সামরিক কৌশল নাকি নাগরিক অভিজ্ঞতায় যুদ্ধ নির্মাণের একটি নিমিত্ত মাত্র? ... ...

তারপর আর কী? কীভাবে সেদিন রক্ষা পেলাম, ট্রেন ধরলাম সে এক কান্ড, তবে কখনোই চাইবোনা যে ঐ ধরণের ঘটনার কোনোভাবে পুনরাবৃত্তি হোক। এই ফিল্ডের শুরুতে একটা ঘটনা ঘটেছিল। দার্জিলিংয়ে তখন হামেশাই বন্ধ ডাকা হত বলে সিকিমে ওঠার সময়ে বিদ্যুৎ বাবু সিকিম থেকেই জিপ বুক করেছিলেন। কথা ছিল তারা শিলিগুড়ি থেকে আমাদের নিয়ে যাবে। কিন্তু আন্দোলনের আবহে স্থানীয় গাড়ি চালক সঙ্ঘ আমাদের গাড়িগুলো রাস্তায় অবরোধ করে রেখেছিল। ... ...

ব্যাঙ্কার ও ইনভেস্টরদের যৌথ কমান্ড ফার্স্ট ব্র্যান্ডসের অফিসে অবতীর্ণ হওয়া মাত্র ডিরেক্টরদের আইনি প্রতিরক্ষা বাহিনী যুদ্ধে নামলেন- তাঁরা জানালেন সম্মুখ সমর নয়, কোন ডিরেক্টরের গায়ে হাত দেওয়া দূরের কথা, ডেকে পাঠানো যাবে না,। তাঁরা কেউই সরাসরি বাক্যালাপ করবেন না। জে পি মরগান বা ব্ল্যাকরকের ব্যাঙ্করাপটসি লইয়ারদের আপাতত আলোচনা করতে হবে ফার্স্ট ব্র্যান্ডের সিনিয়র অফিসারদের সুরক্ষা দলের সঙ্গে - তাঁদের মধ্যে প্রধান সুবিখ্যাত আইনি সংস্থা ব্রাউন রাডনিক এবং কোল শোলৎস। জে পি মরগান, জেফরিজের ঋণ উদ্ধারকারী উকিলেরা চমকে গেলেন – ওহাইওর এই প্রাইভেট কোম্পানির পক্ষে দাঁড়িয়েছেন আমেরিকার এতগুলি খ্যাতনামা আইনজ্ঞ যাদের একদিনের ফি লক্ষ ডলার। এ টাকা আসে কোথা হতে ? এমনও দিন আসতে পারে ভেবেই কি ফার্স্ট ব্র্যান্ডের পরিচালক বৃন্দ তাঁদের অস্ত্রাগারে তূণীর সঞ্চয় করে রাখছিলেন? ... ...

পরীক্ষা শেষ। ফিরছি। কলেজ গেট থেকে রিক্সা ধরলে ছয় টাকা। আর নেদেরপাড়ার মোড় থেকে ধরলে শেয়ারে মেলে। দেড় টাকা করে তিন টাকা। কম বেতন। হাজার আষ্টেক টাকা। তার উপর 'ভাষা ও চেতনা সমিতি' করি। সংগঠনের খরচ চালিয়ে মাসের শেষে পকেটে কিছু থাকে না। তখন কৃষ্ণনগরে শেয়ারে রিক্সা চাপা যেতো। এ-নিয়ে বাংলা চলচ্চিত্রে একটা বিখ্যাত গান আছে। রিক্সায় ফিরছি। দেখি একদল ছেলে আমাকে দেখে খুব গাল দিচ্ছে। তাকিয়ে দেখি, সেই ছেলেটি মধ্যমণি। তা স্টেশনে এসে পিছনের দোকানের কাছে দাঁড়িয়েছি। ছেলেটি দলবল নিয়ে হাজির। আমাকে খুব গালাগাল চললো। বললো, ওদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দিয়েছি টুকতে না দিয়ে। কয়েকজন ওদের সমর্থন করলেন। ছি ছি টুকতে দেয় নি, ছেলেগুলোর ভবিষ্যৎ কী হবে। আমি প্রতিবাদ করলাম, কী বলছেন, এভাবে পরীক্ষা হয়। আমরা টুকছি তোর বাপের কী? বাকিরা তো কিছু বলে না, তোর কেন এতো-- বলে মারতে শুরু করলো দলবল মিললে। কিছুদিন আগেও ছাত্র রাজনীতি করেছি, সাংবাদিকতা পেশা ছেড়েছি, কিন্তু করছি, আমিও রুখে দাঁড়ালাম। দু এক ঘা পাল্টা দিলাম। সবাই বিপক্ষে। শুধু এক গরিব মহিলার কন্ঠস্বর শোনা গেল, কলেজের মাস্টারকে মারছে। আর তুমরা দেঁড়িয়ে দেঁড়িয়ে দেখছো। ... ...

এবারে হাফ-ছুটি। বছরে বাহান্নটা শনিবার। আর সঙ্গে যোগ করুন অন্তত আরও দিন দশেক – বিভিন্ন অজুহাতে। সেই অজুহাতের তালিকায় পড়ে --- অতিরিক্ত বৃষ্টি বা গরম, পরীক্ষার আগে প্রস্তুতি, স্কুলের নানা রকম সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ইত্যাদি অনেক কিছুই। এই অর্ধ-দিবসগুলোকে যোগ করে তার অর্ধেক পরিমাণকে পূর্ণদিবস হিসেবে ধরে নিলে হয় মোটামুটি তিরিশ দিন। হিসেবটা আর লম্বা করা বোধহয় ঠিক হবে না। শূন্য অথবা মাইনাসে চলে গেলে লজ্জার একশেষ হবে। ... ...

কয়েক বছর ধরেই কখনও উড়িষ্যার দার্জিলিং, আবার কখনও উড়িষ্যার কাশ্মীর নামে দারিংবাড়ি নামটা শুনছিলাম। হঠাৎ একদিন আমাদের প্রাক্তন ছাত্র প্রদীপ এসে বলল, বালিগঞ্জ সায়েন্স কলেজ থেকে ও ফিল্ডে গিয়েছিল দারিংবাড়ি। প্রদীপ এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে রিসার্চ স্কলার। জায়গাটার যা বর্ণনা ও দিল, ঠিক করলাম এবারে যেতেই হবে। চারমাস আগে রেলের বুকিং শুরু হয়ে যায়। ... ...

বর্ধমান স্টেশনের সামনের দেওয়ালে লেখা ছিল সবচেয়ে কঠিন। পায়খানা আর পেচ্ছাপে ভর্তি। একটা দিনের কথা মনে আছে ৩১ অক্টোবর ১৯৮৪। মোবারক বিল্ডিং পার্টি অফিস থেকে ১০ টাকা দিয়েছে টিফিন চা ইত্যাদির জন্য। মেহেদি বাগান বলে একটা কুখ্যাত জায়গা ছিল। কংগ্রেসের ঘাঁটি। সেখানে অসাধারণ সর টোস্ট বানাতো। ডিম টোস্ট আট আনা হল টোস্টও তাই। চা বোধহয় চার আনা করে ছিল। পাঁউরুটি চার আনা। স্লাইস রুটি তখনও আধিপত্য বিস্তার করে নি। তা পোস্টার লেখা চলছে। একটু বাকি। হঠাৎ সাইকেল একজন এসে বললো, এক্ষুণি পার্টি অফিস চলে যেতে। স্বৈরাচারী ইন্দিরা গান্ধী লেখা হয়ে গিয়েছিল, জবাব চাই, লেখা বাকি ছিল। কোনোক্রমে লিখে ছুটলাম সাইকেল নিয়ে। ... ...

আজকের সময়টা রাজনীতিতে দৃশ্যকল্প তৈরী করার খেলা আর এই খেলাতে সবচেয়ে পারদর্শী যিনি, তিনি জানেন কী করে এই দৃশ্যকল্প তৈরী করতে হয়। বাংলার মূলধারার সংবাদমাধ্যম যতই দেখানোর চেষ্টা করুক, নির্বাচন কমিশন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধিতা করেছে এবং সেটা যুক্তি সহকারে, বাংলার অলিতে গলিতে মানুষের মোবাইল ফোনে যখন ঐ ভিডিও ক্লিপটি ভেসে আসবে, যেখানে মমতা ব্যানার্জী বলছেন, তিনি নিজের পার্টির জন্য নয়, বাংলার জন্য বাঙালির জন্য দেশের সর্বোচ্চ আদালতে সওয়াল করছেন, তখন প্রধান বিরোধী দল বুঝতে পারবে যে ঐ SIR তাঁদের কতটা ক্ষতি করেছে। যখন একদিকে মানুষ শুনবে রাজ্যের বিরোধী দলনেতার বক্তব্য যে ১ কোটি কিংবা দেড় কোটি মানুষের নাম এই SIR করলে উড়ে যাবে ভোটার তালিকা থেকে আর যখন শুনানির সময়ে নিজের উদ্বেগ, উৎকণ্ঠাকে মেলাবেন, তখন তিনি ভোট দেওয়ার সময়ে কী সিদ্ধান্ত নেবেন তা এখনই বলে দেওয়া যায়। ... ...