
এই জিনিস বুঝার পরে আমার কাছে কেমন জানি লাগে এই উৎসব গুলোকে। এত নগ্ন হয়ে যায় সব কিছু অথচ এইটা এতদিন কেন মাথায় আসল না? ইদকে ঘিরে চলে কত হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য অথচ এর পুরোটাই লোক দেখানো কেন্দ্রিক! আমি পরব তোমরা দেখবা। তোমরা কত দামি পরতে পারছ আর দেখ আমরা কী করছি! আমি উৎসবের বিপক্ষে না, উৎসবের দরকার আছে। কিন্তু যদি শুধু এই অসুস্থ প্রতিযোগিতাটা বন্ধ হত! কেন ইলিয়নের একটা পাঞ্জাবির দাম হবে বিশ হাজার টাকা! কেন তা পরবে মানুষ? দেড় দুই লাখ টাকার লেহেঙ্গা! এইটা কোন লেবেলের অসভ্যতা? জাতি যখন নিশ্চিত একটা ক্রান্তিকালীন সময় পার করছে তখন সবাই ঝাঁপিয়ে পরে কাপড় কিনছে! এইটা একটু ভাবলেও তো কেমন লাগে না? ... ...

কমলদি টিঙ্কু পিঙ্কুকে হেঁকে বলেন 'ডাক দিকি ওই গুরুচন্ডা৯র ইয়াং ব্রিগেডকে। বল দেয়ালে, দোকানে, গাছে, মাঠে পোস্টার সেঁটে দিতে। যে যেখানে আছে সবাই যেন গল্প, কবিতা মুক্তগদ্য, প্রবন্ধ, নিবন্ধ, উপন্যাস, অনুবাদ, ছবি, কার্টুন, রম্যরচনা আরো যা যা পারে সবরকম লেখাপত্র ঝপাঝপ জমা করে দেয় গুরুচন্ডা৯-র ইমেল বাক্সে। ইদবোশেখির ১৪৩৩ সংখ্যায় ধরা থাক সেই লেখারা, বাঁধা থাক জগৎজোড়া জালে।' ... ...

ব্রেটন উডস ব্যবস্থা এবং পেট্রোডলারের বিন্যাস, যা আমরা একটু পরে আলোচনা করব, সেগুলো ছিল অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে এই খেলার কাঠামো পরিবর্তনের এক একটি চেষ্টা — যাতে সহযোগিতার জন্য উৎসাহ এবং দলত্যাগের জন্য ক্ষতি বা ব্যয়ের ব্যবস্থা করা যায়। তারা আংশিকভাবে সফল হয়েছিল। কিন্তু সেগুলো তৈরি করা হয়েছিল এমন এক পৃথিবীর জন্য যেখানে আমেরিকান আধিপত্য ছিল নিরঙ্কুশ, বাণিজ্যিক ধরণ ছিল সরল এবং আদর্শগত বিভাজন ছিল স্পষ্ট। কিন্তু সেই পৃথিবী এখন মুছে যাচ্ছে। ... ...

যেমন ১৯৯২ সালের বার্সেলোনা অলিম্পিক: ব্রিটিশ অ্যাথলিট ডেরেক রেডমন্ড দৌড়ুচ্ছিলেন চারশ মিটার সেমি ফাইনালে, দুশো মিটারের মাথায় হ্যামস্ট্রিং ছিঁড়ে যায়। তবু থামলেন না, ফিনিশ লাইনে তাঁকে পৌঁছুতে হবেই, কোনমতে এক পায়ের ভরে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চললেন, মেডিকাল সাপোর্ট ছুটে এলে তিনি তাঁদের নিরস্ত করেন। এমন সময় সিকিউরিটির রক্ত চক্ষু উপেক্ষা করে তাঁর বাবা জিম রেডমণ্ড ছেলের পাশে দাঁড়ালেন, ছেলেকে ধরে ধরে হাঁটিয়ে নিয়ে চললেন, চারশ মিটারের রেসের শেষ টেপ পার হলে স্টেডিয়ামের সব মানুষ উঠে দাঁড়িয়ে তাঁদের সম্বর্ধনা জানান। অলিম্পিকের ইতিহাসে সেটি এক আইকনিক মুহূর্ত। জানতাম না রিওতেও এমনি কিছু অপেক্ষা করে আছে। ... ...

কমলদি টিঙ্কু পিঙ্কুকে হেঁকে বলেন 'ডাক দিকি ওই গুরুচন্ডা৯র ইয়াং ব্রিগেডকে। বল দেয়ালে, দোকানে, গাছে, মাঠে পোস্টার সেঁটে দিতে। যে যেখানে আছে সবাই যেন গল্প, কবিতা মুক্তগদ্য, প্রবন্ধ, নিবন্ধ, উপন্যাস, অনুবাদ, ছবি, কার্টুন, রম্যরচনা আরো যা যা পারে সবরকম লেখাপত্র ঝপাঝপ জমা করে দেয় গুরুচন্ডা৯-র ইমেল বাক্সে। ইদবোশেখির ২০২৬ সংখ্যায় ধরা থাক সেই লেখারা, বাঁধা থাক জগৎজোড়া জালে।' ... ...

প্রতিটি গল্পের সব চরিত্রই জীবন থেকে নেয়া, সংকলনটি যেন পোর্ট্রেট গ্যালারি। গ্যালারির ছবিগুলি জীবনকে সমগ্র চেতনা দিয়ে দেখতে সাহায্য করে। চরিত্রগুলি জীবন জুড়ে ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতিতে নিজেদের ও অন্যদের নতুন নতুন ভাবে জানতে ও চিনতে পারে। তাদের দৃষ্টিভঙ্গি, জীবন-চেতনা বদলায়। লেখকের বিশ্লেষণী পর্যবেক্ষণ ও অন্তর্দৃষ্টি পাঠকদের মনে সঞ্চারিত হয়, তাঁরা চরিত্রগুলির সঙ্গে একাত্ম হতে পারেন। ... ...

মিদুবান্দাকে পিছনে রেখে সেই বেহাল পথে নেচে নেচে বাস চললো পরের গন্তব্যে। কিছুটা পরে পাকা রাস্তা। চার পাঁচ কিলোমিটার যাওয়ার পরে, আবার বাঁদিকে লাল ধুলোয় ঢাকা পথ, তবে আগের বারের থেকে ঢাল কম, অনেকটা সোজা। একটু পরেই পাহাড়ের কোল ঘেঁষে হাঁটা শুরু হল। এখানে পাহাড়ের গা রুক্ষ, গাছপালা কম, আর বিশাল বিশাল বোল্ডার। আচ্ছা সামনে নদী আছে তাহলে। বোলপুরের কাছে মামা ভাগ্নে পাহাড়ের মতো বড় বড় পাথর রয়েছে ছড়িয়ে। ওমা সৌরভ কই? ... ...

এতদিন পর্যন্ত কোন অচেনা অজানা কারবারে কষ্টার্জিত অর্থ বিনিয়োগ করতে যে আম জনতা ইতস্তত করছিলেন তাঁরাও ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্টের খাতায় নাম লেখালেন; রোজ সকালে বিকেলে ডাউ জোনস/ নাসডাক ইনডেক্সের ডলার সাইন দেখা শুরু করলেন। নিতান্ত তথ্যের খাতিরে বলা ভালো ১৯২৯ সালের গ্রেট ডিপ্রেশন বা ওয়াল স্ট্রিট ক্র্যাশের সময়ে মাত্র ৭ শতাংশ আমেরিকান সরাসরি শেয়ার কিনেছিলেন, তাতেই সেই মহা সঙ্কট। ১৯৯৪ সালে চল্লিশ শতাংশ আমেরিকান শেয়ার বাজারে সরাসরি খেলছেন, মাত্র সাত বছরের ভেতরে তাদের সংখ্যা বেড়ে হল ষাট শতাংশ বা আট কোটি। ... ...
প্রসঙ্গ আসছে কারণ কয়েকদিন পরেই শুরু হবে বিভিন্ন পাতায় আন্তর্জাতিক নারী দিবসকে উপলক্ষ্য করে নানান উৎসব উদ্দীপনা, উদযাপনের বচ্ছরকার ঢেউ। অথচ যে দিবসের সূত্রপাত শ্রমজীবি নারীদের অধিকারের লড়াইয়ে, সেই দিনে উপরোক্ত রিপোর্ট বা সেইসব তথ্য অনুযায়ী যে সমস্যাগুলি উঠে আসছে তা নিয়ে আলোচনা যথেষ্ট পরিমাণ হচ্ছে কি? সাম্প্রতিক কালে যেমনটা দেখা যাচ্ছে তাতে আরো অন্য কিছু দিবসের মত এই দিনটারও বাণিজ্যিকীকরণের ষোলোকলা প্রায় পূর্ণ হয়েছে। গত শতাব্দীতে এই দিনটি পালন করা শুরু হয়েছিল শ্রমজীবি নারীদের দাবিদাওয়ার কথা মনে করে, কর্মক্ষেত্রে নারীদের অধিকারের লড়াইয়ের অংশ হিসেবে। যে উদ্দেশ্য নিয়ে এই দিবস পালনের সূচনা, তার কতটা কী আজ বিশ্বসমাজের মনে আছে বা মনে রাখার দরকার আছে তা যেন হাল আমলের জমকালো সেলিব্রেশন দেখলে বোঝার উপায় নেই। তাই এই শতবর্ষের এপারে, ইতিহাস স্মরণ করার জন্যে একটু পিছনে তাকানো যাক। ... ...

বাংলাদেশ যা পারলো, তা কিন্তু আমরা পারিনি। আমাদের মতো বহুত্ববাদী, মুক্তমনা, ধর্মনিরপেক্ষ একটি গণতান্ত্রিক দেশে যখন ধর্মের আধারে ভোট বিভাজনের মাধ্যমে কোন কোন রাজনৈতিক দল ক্ষমতার মসনদে আসীন হওয়ার ফন্দি আঁটে, অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক হলেও, আমরা কিন্তু সেই ধর্মীয় জিগির বিছানো ফাঁদে বারংবার পা গলিয়ে দিই। আর এই ঘৃণ্য চক্রান্তের ধূর্ত উদ্দীপনায় আমরা মূল লক্ষ্য থেকে সরে গিয়ে মন্দির-মসজিদ নিয়ে তরজা করে বেড়াই। ... ...

রিওর বিচে স্নান ও সঞ্চরণরতা সুন্দরীদের পানে চোখ মেলে থাকার বা দূর থেকে শিষ দেবার অধিকার কোন বয়সে সীমাবদ্ধ নয়, ছেড় ছাড় অবশ্যই অসামাজিক ও বেআইনি। যোবিম ও ভিনিসিউস ভেলোসো বারে বসে গল্প করেন, চাকাও (আখের রস, লেবু মেশানো ব্রাজিলের জাতীয় ড্রিংক যাকে আমরা কাইপিরিনিয়া নামেও জানি) পানীয় সেবন করে খোলা জানলা দিয়ে বাইরে চেয়ে থাকেন। একদিন বিকিনি পরিহিতা এক তন্বী শিখর দশনা তরুণীকে দেখে দু জন বাক্যিহারা হয়ে গেলেন; পরপর কয়েকদিন তাকে দেখলেন। সে কখনো বিচে যাচ্ছে কখনো বা দোকান বাজার করে ফিরছে। রুয়া মনতেনেগ্রো এবং প্রুদেন্তে দে মোরেসের ঠিক কোণায় এই বারে বসে তাঁরা দুজন মেয়েটির গতিবিধি লক্ষ করেন, কোনদিন শিষ দিলেন, মাঝে মধ্যে কথাও বললেন, তাঁদের সঙ্গে বসে এক পাত্তর পান করার আবেদন জানালেন। মেয়েটি সে দরখাস্ত নাকচ করে দেয়। ... ...

প্লাস্টিকটা গরম হয়ে চলেছে ক্রমশ। প্লাস্টিকের ভেতরে একটু কম গরম হচ্ছে শক্ত ঠান্ডা মাথা নাক ঠোঁট হাত পা পেট থাই। বরফ ঠান্ডা থেকে একটু একটু করে গরম। বেঁচে থাকা অঙ্গ প্রত্যঙ্গের মতো গরম। প্লাস্টিকের ভেতরের ওই মাথাটায় একটাও চুল নেই এখন। ... ...

মুস্কিল আসান অগ্নিশা তো আছেই। আমাদের আরতিও সুসম্পন্ন হল। উমম্ জলখাবারে আজ চাউমিন হয়েছে। ছেলেমেয়েদের পছন্দ, আর দুজনেরও খুব - কাদের আবার সৌরভ আর অগ্নিশা। খেতে খেতে গল্প হল। সারাদিনের ক্লান্তি আর নেই। ... ...

ভোটার তালিকায় আগে চুরি ছিল আর এখন যে তালিকা হয়েছে তা রীতিমত পুকুরচুরি। দেশের অন্যতম একটি স্বশাসিত সংস্থা, কীভাবে প্রধান শাসকদলের হয়ে কাজ করলো, তা ইতিহাসে লেখা থাকবে। গুজরাটেই প্রায় ৯০ লক্ষ মানুষের নাম বাদ গেছে। ৩৪ লক্ষ মধ্যপ্রদেশে, ৩১ লক্ষ রাজস্থানে এবং ৩৪ লক্ষ ছত্তিশগড়ে। প্রাথমিকভাবে উত্তরপ্রদেশেই ২.৫ কোটি মানুষের নাম বাদ গিয়েছিল। এই রাজ্যগুলোর প্রত্যেকটিই বিজেপি শাসিত। বিরোধী শাসিত রাজ্য তামিলনাডুতে বাদ যাওয়া ভোটারের সংখ্যা ৭৪ লক্ষ। দেশের গৃহমন্ত্রী অমিত শাহ বেশ কিছুদিন আগে বলেছিলেন যে তারা আরো ৫০ বছর রাজত্ব করবেন। এই এসআইআর প্রক্রিয়া তার বক্তব্যকেই সিলমোহর দিল। বাংলায় কি হবে জানা নেই কতজন বাদ যাবেন জানা নেই, কিন্তু সারাদেশে বিরোধী ভোটারদের বাদ দেওয়ার এই চক্রান্তে সম্পূর্ণভাবে দায়ী থাকলো নির্বাচন কমিশন এবং তাকে সর্বতোভাবে সহায়তা করল চোখ বুজে থেকে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। ... ...

সুজান বললে, নতুন দিগন্তে পাড়ি দিচ্ছি। গত দু বছরে বাণিজ্যের চাল চলন বদলে গেছে, দেখতে পাও না? এই যে এক সময়ে আমরা কনটিনেনটাল ব্যাঙ্ক ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে আইরিস মেল পাঠিয়েছি কোরিয়ার সেউল ব্রাঞ্চে, মুহূর্তের মধ্যে খবর বিনিময় হয়েছে; অথচ বোকেনহাইমার লানডস্ত্রাসেতে আমাদের অফিসের উলটো দিকে ড্রেসনার ব্যাঙ্কে কি সিবা গাইগিকে টাইপ করা চিঠি পাঠিয়েছি মেসেঞ্জার মারফত। শুধু মেল নয়, ইন্টারনেট আমাদের পৃথিবীকে ছোট করে দিয়েছে –কম্পিউটারের বোতাম টিপলে সম্পূর্ণ নিখরচায় একই প্লাটফর্মে ক্রেতা বিক্রেতা, মিস্ত্রী মজুর একত্র হতে পারে, একটা বিশাল মার্কেট প্লেস, এখানে আসতে যেতে কোন খরচা নেই, তেল পুড়িয়ে গাড়ি চালাতে হয় না, ফ্রি এন্ট্রি ফ্রি একজিট। ধান্দা যাই হোক না কেন। আর ওই টেলিফোন নম্বর স্টাইলের কম্পেনসেশান? বোনাসের কথা ভুলে যাও, এরা শেয়ার অপশন দিচ্ছে, আই পি ও (ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং)-র প্রথম দিনেই শেয়ারের দাম ডবল হচ্ছে, কাগজে দেখো না? ... ...

ডাক এসেছিল বুঝলেন, রুবির পাসপোর্ট অফিস থেকে। ইন্টারভিউর জন্য ওদের সবাইকে হাত ধরে নিয়ে গেলাম, গিয়ে দেখি লম্বা লাইন। ছোট তো, ওরা তাই অধৈর্য হয়ে এদিক সেদিক দৌড় মারছে, চুপটি করে বসিয়ে বললাম বিলেত যেতে গেলে কিন্তু এমনি করলে হবে না, উড়োজাহাজে অনেকক্ষণ ঠায় বসে থাকতে হবে, নড়ার উপায় নেই। সেই শুনে আবার সার দিয়ে বেঞ্চিতে বসে পড়ল। পাসপোর্ট অফিসার ওদের দেখে শুনে খুবই চমৎকৃত, বললেন দিব্যি লাগল এদের, কাগজ হয়ে গেছে আর চিন্তা নেই এবার যখন খুশি যেতে পারবে। সেই শুনে তো গুরুর বইদের কি আনন্দ। লাফিয়ে ঝাঁপিয়ে একশা। ... ...

১৯০০ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি এক ধনী স্প্যানিশ পরিবারে জন্মগ্রহণ করা লুই বুনুয়েল বড় হয়ে ওঠেন কঠোর জেসুইট শিক্ষায় দীক্ষিত হয়ে। ধর্মাচ্ছন্ন এক পরিবেশের মধ্যে তিনি বড় হন। কিন্তু পারিবারিক এই পরিবেশ তাঁকে প্রবলভাবে সংগঠিত ধর্মের ভণ্ডামি এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতার প্রতি বীতশ্রদ্ধ করে তোলে। জীবনের বাকি সময়জুড়ে তিনি গির্জা, রাষ্ট্র এবং প্রতিষ্ঠিত সামাজিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে নিরন্তর আক্রমণ চালিয়ে গেছেন। তাঁর দৃষ্টিতে তথাকথিত ভদ্র সমাজের বাহ্যিক সৌজন্য আসলে একধরনের চাপিয়ে দেওয়া মুখোশ। এই মুখোশ মানুষের স্বাভাবিক মানবিক আকাঙ্ক্ষাগুলিকে দমন করে, যার ফলশ্রুতিতে সমাজে নানা বিকৃতি ও স্নায়বিক অসংগতির জন্ম হয়। ১৯১৭ সালে মাদ্রিদ বিশ্ববিদ্যালয়ে বুনুয়েলের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবনের সূচনা হয়। তিনি ছিলেন দর্শন-শাস্ত্রের ছাত্র। ... ...

ব্রিজ বা মস্ত থেকে বসনিয়ার এক জনপদের নাম হয়েছে মস্তার, কালো পাহাড়ের দেশের নাম মনতেনেগ্রো; সেগুলি স্থানীয় নাম। কিন্তু পর্তুগিজ নাবিকরা তাদের যাত্রা পথে খেয়াল খুশি মতো যে সব নামের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে গেছে তাদের অনেকগুলি আজও বিদ্যমান- যেমন ক্রিসমাসের দিনে (পর্তুগিজ বড়দিন) আফ্রিকার এক বন্দরে তাদের জাহাজ ভিড়েছিল তাই নাটাল, ব্রাজিলের উত্তরে নাটাল শহরের পত্তন হয়েছিল এক বড়দিনে, প্রচুর চিংড়ি মাছ পাওয়া গেল অতএব সে দেশ খ্যাত হোক ক্যামেরুন নামে, দ্বীপটা সুন্দর তাই ফরমোসা (তাইপের পুরনো নাম), সাগর তীরের মেরিনা দেখে মনে হয়েছিল অনেকগুলি হ্রদের (পর্তুগিজ লাগো) সমন্বয়; সে হলো নাইজেরিয়ার লাগোস। ব্রিজ নয়, পাহাড় নয়, লেক অবধি নয়, নেই কোন নদী তবু জানুয়ারি মাসে ব্রাজিলের পূর্ব উপকূলে পাহাড় ঘেরা এক শান্ত জলরাশি দেখে তাকে কোন মোহানা ভেবে যে নাম দিয়েছিলেন পর্তুগিজ নাবিক তার অপভ্রংশটুকু আজ এক শহরের নাম, নদী, রিও! এমন নামটি আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। ... ...

যখন দেশের নানান প্রান্তে বাংলায় কথা বলার জন্যে বাংলাদেশী বলে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, যখন বাংলার পার্শ্ববর্তী রাজ্যে বাঙালী শ্রমিকদের ওপর অত্যাচার চলছে, তখন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডনবিস আরও বড় একটা ঘোষণা করেছেন, যা আরও ভয়ঙ্কর। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে নাকি এবার থেকে বাংলাদেশী চেনা হবে, সেইরকম প্রযুক্তি তাঁরা আনতে চলেছেন। বাংলায় কথা বললে, সেই ভাষার কথা এবং স্বর-নিক্ষেপকে বিশ্লেষণ করা হবে, তার মধ্যে দিয়েই নাকি চেনা যাবে কে ভারতীয় বাঙালি আর কে বাংলাদেশী। প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণে না গিয়েও বলা যায় প্রতিটি মানুষকে এই যে সন্দেহের তালিকায় রাখা, প্রতিটি মানুষকে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে ভাবা এবং সেই ভাবনাকে সমাজের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়াই আসলে ফ্যাসিবাদের অন্যতম বৈশিষ্ট। ঠিক এই ভাবনাই জাড়িত করে দেওয়া হয়েছিল নাৎসি জার্মানিতে। ... ...

ভারত-পাক সংঘাত আবহে কিছু শব্দ জনপরিসরে আবার উঠে এসেছে- ব্ল্যাক আউট এবং যুদ্ধের সাইরেন বা যাকে বলা হয় এয়ার রেড সাইরেন। নাগরিক অভিজ্ঞতায় শেষ বারের মতো শোনা গেছিলো সেই ১৯৭১ সালের যুদ্ধে। কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তির যুগে যখন রাতের অন্ধকারেও যুদ্ধবিমান আঘাত হানতে সক্ষম সেক্ষেত্রে ব্ল্যাক আউট- এর তাৎপর্য কি? এ কি শুধুই একটি সামরিক কৌশল নাকি নাগরিক অভিজ্ঞতায় যুদ্ধ নির্মাণের একটি নিমিত্ত মাত্র? ... ...