
নব চুপ করে থাকল। বন্ধুদের নাম করতে নেই। নাম লিখতে নেই বন্ধুদের তবু নবর নাম লিখে ফেলেছিলাম। ভুল করলাম কি? বিজয়দার নামও লিখেছি, দেখছি ও পড়ে আছে। কুয়াশা ঘন হলে দেখা যাচ্ছে না। ঘন কুয়াশার মধ্যে দেখতে পাচ্ছি। সূর্যের অভাব অনুভব করলেই দৃষ্টি আরো তীক্ষ্ণ হচ্ছে তখনই সব দেখতে পাচ্ছি। কুয়াশা ভেদ করে সিংকোনার বাকল মাথায় বেঁধে নিয়ে একজন চলে গেল। সে যেন কুয়াশাকে সঙ্গে নিয়ে গেল আর আমি দেখছি বিজয়দার মাথায় টুপি। সে পড়ে আছে, অদ্ভুত একটা টুপি পরেছে। সেই ঝোপের মধ্যে দিয়ে কুয়াশার আগে পড়ে রয়েছে। তারপর থেকে কুয়াশার অঞ্চল শুরু হয়েছে। সেখানে সব আবছা। কিছু দেখা যায় না। ... ...

এরপরেই আসে পঙ্গপাল আর তার সঙ্গেই আসে ১৯৪৩ সালের বাংলার দুর্ভিক্ষের কথা। বাংলার মাটি এতো উর্বর এতো শষ্যশ্যামলা হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে ঔপনিবেশিক শাসক এবং কিছু মুনাফাখোর কতিপয় মানুষ এবং অবহেলার কারণে বাংলার মানুষের এত দুর্দশা হয়েছিল, সেটাই ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা হয়েছে মন্ডপের তৃতীয় অংশে। ... ...

আজ সোনম ওয়াংচুক কারাগারে। কিন্তু তাঁর স্বপ্ন, তাঁর দর্শন, তাঁর আন্দোলন—এসবকে কারাগারের দেওয়ালে আটকে রাখা যাবে কি?একজন ব্যক্তি যখন গোটা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের এক প্রতীক হয়ে ওঠেন, তখন তিনি আর শুধুই ব্যক্তি থাকেন না। হয়ে ওঠেন সমষ্টির একজন। তাই একজনকে বন্দি করার অর্থ আন্দোলনকে আরও অনেক বেশি উস্কে দেওয়া। ... ...

রাজনৈতিক পরিচিতি নির্মাণ আসলে একটি জোট বা কোয়ালিশন নির্মাণ – কখনও সেখানে বাঙালি হিন্দু, বাঙালি মুসলমানের সঙ্গে জোট গঠন করবে আবার কখনও বাঙালি ব্রাহ্মণ, উত্তরপ্রদেশ বা মহারাষ্ট্রের ব্রাহ্মণদের সঙ্গে জোট তৈরি করবে। সমস্যা হল, পরিস্থিতি ভেদে পুরনো কোয়ালিশন ভেঙ্গে নতুন কোয়ালিশনের জন্ম হয়, তার ফলে মানুষ তার প্রধান পরিচিতিকেও পালটে ফেলতে পারে। ... ...

‘বর্তমানের কবি আমি ভাই, ভবিষ্যতের নই নবী'- তাঁর 'আমার কৈফিয়ত' পড়ে মনে হল নজরুল ইসলাম তাচ্ছিল্যের হাসিতে ফেটে পড়েছেন। উত্তরসূরিরা তাঁর মূল্যায়নে যে রকম লাজনম্র নববধূর মতো দ্বিধাকম্পিত বাক্যরাশি নিবেদন করে চলেছেন, এতটা তাঁর দূর প্রত্যাশায়ও ছিল না। নজরুলকে নিয়ে বাঙালি শিল্পীসমাজের, বিশেষত কবিদের, অস্বস্তির শেষ নেই। তাঁকে বাতিল করা যায় না স্বভাব-কবি বলে, কিন্তু গ্রহণ করায় সমস্যার ব্যাপ্তি প্রচুর। আমাদের সান্ধ্য লিরিক-বিতানে নজরুল প্রায় এক সাংস্কৃতিক উপদ্রব। ... ...

জলপথে ডোভার থেকে ক্যালের দূরত্ব তিরিশ কিলোমিটার। ফ্রান্সের বাড়ি যাবার সময়ে গাড়ি সহ চ্যানেল টানেল দিয়ে সাগর পার হতে লাগে ৩৫ মিনিট। কোন উজ্জ্বল দিনে ফ্রান্সের কাপ গ্রি নেজ থেকে ডোভারের ঝকঝকে হোয়াইট ক্লিফস দেখে ভেবেছি, এই তো এতো কাছে ! দুই দেশের মধ্যে ভৌগোলিক দূরত্ব এখানে সবচেয়ে কম, রোমেল সহ অনেক জার্মান জেনারেল ধরে নিয়েছিলেন আক্রমণ আসবে অন্য কোথা নয়,এই পা দে ক্যালেতে। এরউইন রোমেল একদিন এইখানে দাঁড়িয়ে তাঁর বাইনোকুলার বাগিয়ে ইংল্যান্ডের দিকে চেয়েছিলেন – ভেবেছিলেন এই শান্ত সমুদ্রের ওপারে হয়তো তৈরি হচ্ছে কোন মারণ ফৌজ? তিনি বলেছিলেন, যেদিন শত্রু এই জলসীমা পার হয়ে তার হাওয়াই জাহাজ ও নৌ বহর নিয়ে ইউরোপীয় মূল ভূখণ্ডের কিনারায় আক্রমণ শুরু করবে, সেই দিন, সেই প্রথম চব্বিশ ঘণ্টা হবে আমাদের জার্মানদের ও শত্রু সৈন্যের পক্ষে সমান গুরুত্বপূর্ণ, নির্ণায়ক দিন, কেননা সেটাই হবে দীর্ঘতম দিন, দি লংগেস্ট ডে (ডের লেঙ্গস্টে টাগ, যা থেকে প্রযোজক ডারিল এফ জানুক তাঁর ছবির নাম রাখেন)। ... ...

যাই হোক, আমরা সাহস করে লাচুং এর বুকের পাথরে দাঁড়িয়েছিলাম, ঐ কতকটা মাঝ নদীতে বলা যায়। পায়ে হিম জলের ছিটে লাগছিল, হাত দিলে জল না ছুরি বোঝা দায়। হঠাৎ স্যার বললেন যে যেখানে আছ, নদী যে দিক থেকে আসছে সে দিকে ফিরে দাঁড়াও। আমরা ফিরে দাঁড়ালাম লাচুং এর উৎসের দিকে, আসলে অতীতের দিকে, ল্যান্ডস্কেপ কথা বলে উঠল। কানে তালা লেগে যাচ্ছে। সে কী শিহরণ! ঈশ্বর দর্শন কি এমনই হয়? ... ...

বাঃ, দনু-ই তো রাম-লক্ষ্মণকে বলে দিল সেই পাহাড়টার কথা যেখানে সুগ্রীব তখন থাকে – ঋষ্যমূক না কী যেন নাম বললে তু্মি! সেখানে না গিয়ে তো সুগ্রীব আর হনুমানের সঙ্গে বন্ধুত্ব হবে না রাম-লক্ষ্মণের। সেই বন্ধুত্ব হবার আগেই কি সীতার খোঁজ করতে সারা পৃথিবীতে বেরিয়ে পড়বে সুগ্রীবের দল? ওরা তো সীতার নামই শোনেনি তখনও। আগে তো রাম-লক্ষ্মণের সঙ্গে সুগ্রীব-হনুমানের আলাপ হবে, বন্ধুত্ব হবে, তারপরেই না সুগ্রীব তার বন্ধু রামের জন্যে নিজেদের দলের বাঁদর-টাঁদরদের পাঠাবে সীতার খোঁজ নিতে! তাই না? ... ...

সুদীপ্তর সঙ্গে কথা বলে তৃপ্তি পেতাম। ওর বিশ্লেষণ শক্তি অসাধারণ, দৃষ্টি অনন্য। জটিল বা দৈনন্দিন যে কোন বিষয়ই হোক তার উপর সাধারণ মানুষের যা মতামত, তা ওর সঙ্গে আলোচনা করার পর বদলে যাবে। চিরদিনের লালিত ভাবনাকে নতুন করে চিন্তা করতে ইচ্ছা হবে। আমার অতি পরিচিত বস্তুকে এতকাল যে দৃষ্টিতে দেখেছি তার যে আরও একটা দিক আছে তা সুদীপ্তর সঙ্গে কথাবলার পর আবিষ্কার করেছি। নিরিবিলিতে আমাদের কথাবার্তা হত যখন আমরা পরস্পর পরস্পরের বাড়িতে যেতাম। ওরা যতদিন লন্ডনে ছিল ততদিন এমনই দেখা সাক্ষাৎ প্রায়ই হত। ... ...

গত এক হাজার বছরে বাঙালি বা ভারতীয় বা পৃথিবীর যেকোনও দেশের নাগরিক খেয়াল করবেন গত চার দশকে মানুষের মনোজগতে এক বিপুল পরিবর্তন হয়েছে। রেডিও এবং দূরদর্শন প্রথমদিকে মধ্যবিত্তের কৃষ্টি ও সাংস্কৃতিক জগতকে সযত্নে লালন করেছে। এবং দূরদর্শনে সিরিয়ালের আগমন পারিবারিক জীবনে পরিবর্তন আনতে শুরু করে। প্রথম প্রথম প্রতিবেশী বা আত্মীয় এলে একসঙ্গে বসে সিরিয়াল বা খবর বা খেলা দেখার চল ছিল। এরপর মধ্যবিত্ত পরিবারে সিরিয়ালের সময় কেউ এলে বিরক্তি উৎপাদন শুরু হল। ... ...

ভারত, যা কিনা ইন্ডিয়া, তার অতীত কথা তথ্য নির্ভর হিস্ট্রি নয়। সে হিস্ট্রি হতেও চায় না। অতীত কথা তবে কী হতে চেয়েছিল না- হিস্ট্রি হয়ে? লোকগাথায় সে ছিল অবাধ কল্পনার আকর আর সংস্কৃতে সে বলত ইতিহাসের কথা। ইতিহাস মানে না-হিস্ট্রি। দু-ধরণের ইতিহাস। এক নায়কের গাথা (একনায়ক নয়!) আর বহু নায়কের গাথা। প্রথমটার উদাহরণ রামায়ণে পেলে দ্বিতীয়টা মেলে মহাভারতে। ... ...

এক বিকালে দরজায় ঘন্টা বাজল। দরজা খুলে দেখি শ্মশ্রুশোভিত, দীর্ঘকেশ, ধুতি-পাঞ্জাবী পরিহিত এক যুবক। অচকিতে ঢিপ করে একটা প্রণাম করে বলল, “আমি আরিন্দম চক্রবর্তী।” আমি বললাম, “জানি, দেবাশিস আমাকে তোমার কথা বলেছে। ভিতরে এসো।” অনুর সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিলাম। সেই শুরু; আমরা হয়ে গেলাম ওর অনেক দিনের দাদা-বৌদি। ... ...

রেডিওর মানুষদের দেখা একটা বিরাট ব্যাপার ছিল তখন। রেডিওর কোনো মানুষকে প্রথম দেখি ১৯৮১-তে। সেকালে কোনও শিল্পীর পাশে বেতার খ্যাত লেখা মানে বিশাল ব্যাপার। ১৯৭৫-এ কলকাতায় টিভি এল। এর ১০ বছর পর মফস্বলে ভালো করে টিভি ছড়াল। বিশেষ করে রাজীব গান্ধীর কল্যাণে দূরদর্শনে রামায়ণ ধারাবাহিক সম্প্রচার হওয়ার পর। তার আগে টিভির গুরুত্ব ছিল বিশ্বকাপ ফুটবল ক্রিকেট ম্যাচ সংবাদ আর চিত্রহারে। মারাদোনা এবং আর্জেন্টিনা দলের জন্যও টিভি বিক্রি বেড়েছে ১৯৮৬ বিশ্বকাপের সময়। টিভি কোম্পানিগুলোর উচিত মারাদোনার পরিবারকে পয়সা দেওয়া এবং রামানন্দ সাগরের পরিবারকে। তার চেয়েও বেশি রাজীব গান্ধীর পরিবারকে। স্যাম পিত্রোদার সহায়তায় তথ্য ও সম্প্রচার ভারতে এক উন্মাদনা সৃষ্টি করে। এর সঙ্গে যোগ দিলেন প্রণয় রায়। প্রতি শুক্রবার রাতে বিশ্ব সংবাদের এক নতুন জগৎ খুলে দিলেন। খুল যা সিম সিম। যা টিভি দেখা অন্যায় মনে করতেন সেই বামপন্থীদের পরিবারেও টিভি ঢুকল। মানে ঢোকার একটা নৈতিক মতাদর্শ খাড়া করা গেল। প্রণয় রায় দেখা দরকার-- কী ভালো যে করছে লোকটা। ... ...

রেডিও চালানোর ঝকমারি ছিল অনেক। রেডিওতে অ্যান্টেনা উঠিয়ে প্রায় ২০ থেকে ৩০ ফুট একটা সোনালি রঙের জালি দেওয়া তার থাকতো, সেটা মাঝে মাঝে নাড়াতে হতো। নাহলে সিগন্যাল ভালো পাওয়া যেতো না। রেডিও চালানোর জন্য সরকারের কাছে আবেদন করে লাইসেন্স নিতে হতো। যাদের বড় রেডিও তাঁদের দিতে হতো বার্ষিক ২০ টাকা। মাঝারি রেডিওর ১২ টাকা। ডাকঘরে গিয়ে পৌষ মাস তথা জানুয়ারি মাসে জমা দিতে হতো। ... ...

রিমিনি থেকে ইমোলার ট্রেন নন স্টপ নয়, পঞ্চাশ মিনিটে আটটা স্টেশনে থামে। তার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সাভিনানো সুল রুবিকোনে, এখানেই কোথাও সিজার সেই নদীটি পার হয়ে রোমান রিপাবলিকে তুলকালাম বাধিয়েছিলেন। ইমোলা স্টেশন দেখে হতাশ হলাম। বোলপুর তার তিনগুন বড়ো। টেলিভিশনে আহরিত তথ্য অনুযায়ী দিনো এ এনজো ফেরারি ইপোদ্রোমে প্রায় এক লক্ষ দর্শক বসতে পারেন তবে স্টেশন এত ছোট কেন? কারণ শহরটি খুবই ছোট, মাত্র সত্তর হাজার লোকের বাস; বছরে তিন দিন লোকে লোকারণ্য হয় মাত্র! ... ...

মুড়কি অবিশ্যি আন্দাজ করেইছিল কথাটা ও জানবে না। তাই আজ রোববার সকালে জলখাবারের লুচির ময়দা মাখা হচ্ছিল যখন, তখনই সেখান থেকে একটুখানি মাখা-ময়দা সরিয়ে রেখেছে সে। আর সেই ময়দা দিয়ে তৈরি করেছে একটা মানুষ-পুতুল। সেই পুতুলটা বইয়ের আলমারি থেকে নামিয়ে, উচ্ছে কিছু বোঝবার আগেই এক টানে পুতুলটার মুণ্ডুটা ধর থেকে আলাদা করে দেয় মুড়কি, ধড়টাকে দেখিয়ে বলে, এই হল কবন্ধ। ... ...

বালিগঞ্জ সায়েন্স কলেজে আমরা একশ কুড়িজন ছাত্রছাত্রী। তার মধ্যে কুড়ি জন করে স্যার ম্যামেরা গ্রুপ ভাগ করে নিলেন। আমরা ব্রেবোর্নাইটরা সব রোল নাম্বারে মোটামুটি প্রথম কুড়ির মধ্যেই ছিলাম। আমাদের গ্রুপে উনিশটি মেয়ে এবং একটি ছেলে - তাপস। আসল নামটা বলেই দিলাম। প্রৌঢ় বয়সে কী বা যায় আসে? গ্রুপে সে বেচারা গোবেচারা হয়ে থাকতেই বাধ্য হয়েছিল। তবে এখন আমাদের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে মেয়েদের যেমন নেকুপুশু ভাব দেখি, যন্ত্রপাতি বইতে হলেই - ‘ওরে, ছেলেরা, তোরা ধর’ - অমন আমরা মোটে ছিলামনা। ... ...

পোয়েটস কর্ণারটা একটু অন্যরকমের। এখানেও কবি ও কবিতা নিয়ে আলোচনা হত। তবে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হত অংশগ্রহণকারী কবিদের স্বরচিত কবিতা পাঠের উপর। এরকম আসরে আমি প্রায়ই যেতাম এবং মাঝে মাঝে অংশ নিতাম। নিজের কবিতা পড়তাম। একবার এমনই এক আসরে গিয়ে একটা নতুন কিছু পেলাম যা আমাকে চমক দিয়েছিল। এখানে কয়েকজন তরুণ তরুণী কবির সঙ্গে আলাপ হল। তাদের এক অভিনব কর্মকান্ড দেখে আমি অভিভূত হয়ে গিয়েছিলাম। ... ...

কথা বলতে বলতে পৌঁছে গেলাম গান্ধী ময়দানে। পুরো এলাকা আলোয় আলোকিত। চারিদিকে তাঁবু পড়েছে। বিভিন্ন মাপের ছাউনি। কোথাও মহিলারা বিশ্রাম নিচ্ছেন, কোথাও পুরুষেরা খাবার খাচ্ছেন। কথা হলো সার্বান পাসওয়ানের সঙ্গে। উনি দ্বারভাঙ্গা থেকে ভোটার অধিকার মিছিলে হাঁটছেন। পরদিন সকালে মিছিলের জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন। বললেন আপাতত হয়তো এই ভোটার অধিকার যাত্রা শেষ হবে, কিন্তু লড়াই চলবে। ভোট চুরির বিরুদ্ধে। দেখছিলাম উনি খাবার খাচ্ছেন, আরও কিছু মানুষদের সঙ্গে। জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কোন দল করেন? লাল পতাকাটা দেখিয়ে বললেন, ‘হাম লোগ মালে পার্টি করতে হ্যায়’। বিহারে সিপিআইএমএলকে মালে বলে সেটা আমরা জানতাম। প্রশ্ন করলাম, আর সঙ্গে যাঁরা খাচ্ছেন, তাঁদের হাতে তো লাল পতাকা নেই। তাঁরা কী করেন? উত্তর দিলেন রাজু যাদব, ‘হাম লোগ রাহুল গান্ধীকে সাথ হ্যায়’। প্রশ্ন করলাম, কেন? বললেন, ‘এক ও হি দেশ কো বাঁচা সাকতা হ্যায়, ও হি সাচ্চা ইমানদার নেতা হ্যায়, জো উনকা পোল খোল দেগা’। ... ...

ফলাফলও ছিল চোখে পড়ার মতো। ১৯৯২–২০০২ সময়কালে জাতীয় গড়ের তুলনায় ২ শতাংশ কম হারে বাড়ছিল বিহারের অর্থনীতি। কিন্তু ২০০৫ সালের পর তা পাল্টে গিয়ে হয়ে ওঠে ভারতের দ্রুততম বৃদ্ধিপ্রাপ্ত রাজ্য। ২০০৬–০৭ থেকে ২০১১–১২ পর্যন্ত বার্ষিক গড় প্রবৃদ্ধি ছিল ১৩.৫ শতাংশ, যা জাতীয় গড়ের প্রায় দ্বিগুণ। মাথাপিছু বিদ্যুৎ ব্যবহার বেড়েছে, ২০১১ সালের মধ্যে ৬–১০ বছর বয়সী প্রত্যেক শিশু বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে, সাক্ষরতার হার বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ, মেয়েদের সাক্ষরতার উন্নতি আরও দ্রুত হয়েছে। ২০০৫–০৬ থেকে ২০১২–১৩ সালের মধ্যে কৃষি খাতে বাজেট বরাদ্দ একশো গুণ বেড়েছে, খাদ্যশস্য উৎপাদন দ্বিগুণ হয়েছে এবং উৎপাদনশীলতা রেকর্ড স্তরে পৌঁছেছে। মঙ্গল রায় তাঁর প্রবন্ধে একে বলেছেন রামধনু বিপ্লব (রেইনবো রেভলিউশন)। ... ...