জর্জ অরওয়েলের 1984 উপন্যাসটা যারা পড়েছেন তাদের নিশ্চয়ই জানা আছে ওই উপন্যাসে এমানুয়েল গোল্ডস্টেইন নামে একটা রহস্যময় চরিত্র আছে। .ওই বইয়ের অরওয়েল দেখিয়েছেন কিভাবে একটা টোটালিটারিয়ান রাষ্ট্র টিকে থাকতে হলে একটা ছদ্ম শত্রুর ( Shadow Enemy ) উপস্থিতি অত্যন্ত জরুরী। গোল্ডস্টেইন হচ্ছে অরওয়েলের সেই ছদ্ম শত্রু।.টোটালিটারিয়ান রাষ্ট্রের যাবতীয় ব্যর্থতার দায়ভার কৌশলে ঐ ছদ্ম শত্রুর উপর চাপানো হয়ে থাকে। যার ফলে রাষ্ট্রযন্ত্র নিরাপদ থাকে এবং জনগণের উপর আরো অধিক নিয়ন্ত্রণ লাভ করে।.জনগণের উপর যত বেশি নিয়ন্ত্রণ টোটালিটারিয়ান রাষ্ট্র তত নিরাপদ। উপন্যাসের একদম শেষে এসে নায়ক জানতে পারে ওই ছদ্ম শত্রু আর কিছুই না। বরং হেড অফ স্টেট সিকিউরিটির একটা ফেক আইডি মাত্র।.আজ ... ...
মুসলিম আত্মপরিচয় সংকটের মধ্য দিয়ে এক মানবিক আখ্যানপুরুষোত্তম সিংহবহুত্ববাদী ধর্ম, সংস্কৃতি, জাতি, খাদ্যাভাস, রুচির দেশ ভারতের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও দেশ আত্মাকে স্পর্শ করতে চেয়েছেন সোহারাব হোসেন ‘সওকত আলির প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি’ (২০০৯) উপন্যাসে। যুগ যুগ ধরে এদেশে বিবিধ জাতি, ধর্ম, সংস্কৃতির সম্মিলনে বিভেদ, অসহিষ্ণুতায় ভাঙন যে ধরেনি তা নয় তবুও ভারতীয় কোথায় যেন এক ছিল, টিকে ছিল। কিন্তু দেশভাগ পরবর্তী বিশেষ রাজনৈতিক দলের উত্থানে ধর্মীয় বিভাজনের সীমারেখা এমন ঊর্ধ্বগতিতে তরান্বিত হল যে আজ সমগ্র দেশ বিপন্ন, সমগ্র দেশ আত্মপরিচয়ের সন্ধানে ভুগছে। আজ ২০২৫ খ্রিস্টাব্দে দাঁড়িয়ে কেন্দ্র, রাজ্য সরকার ধর্মের নামে এমন ন্যারেটিভ গড়ে দিচ্ছে, কাউকে পাশে রাখতে গিয়ে অপরাধকে এমনভাবে আড়াল করছে, ... ...
আমার মৃত্যুর কারণ জানলে তুমি অবাক হবে।আমি এমনি এমনি মরিনি, আর দশটা লোকের মত না—আমি শিল্পীর মৃত্যু মরেছিলাম। তখন আমার বয়স ত্রিশ হবে।তবে আর সবাই যেমন হয়, তেমন নয়—আমি শিল্পী ছিলাম তো! খেতে পেতাম না,পায়খানায় যেতাম না টানা একমাস।পেট আর পিঠের মাঝে এক ইঞ্চি ফারাক ছিল।খিদে লাগত খুব,কিন্তু না-খেয়ে থাকাটাকেও আমি শিল্প বলে চালিয়েছিলাম।আমি তো শিল্পী—আমার সবকিছুই শিল্প।তবে জানতাম, তার দাম আমি পাব না।আমার কৃচ্ছসাধনের লাভ যাবে এক কঞ্জুস ব্যবসায়ীর পকেটে। তবু স্বীকার করতে পারিনি।আমি শিল্পী তো! একদিন খুব খিদে পেয়েআমার হাতের বুড়ো আঙুলটা চিবিয়ে খেলাম।তার আগে তিন রাত ধরে ভেবেছি—কোনো আঙুলটা সবচেয়ে কম দরকারি?বুড়ো আঙুল, কেবল টিপছাপ আর ফোন লক খোলে।কড়ে আঙুলে নাক ... ...
'Manufacturing Consent'-উপরিউক্ত term টির প্রথম প্রবক্তা নোয়াম চমস্কি। তাঁর বিশ্ববিখ্যাত বই 'Manufacturing Consent: The Political Economy of the Mass Media' তে তিনি প্রথম এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাসঙ্গিক শব্দবন্ধটির উল্লেখ করেন। এর মানে কী? বা কেনই বা এটি প্রাসঙ্গিক আজকের রাজনৈতিক আবহে, সেটি সংক্ষেপে বর্ণনা করাই আমার এই লেখার উদ্দেশ্য। গত ৪ মে, ২০২৫, আনন্দবাজার পত্রিকাতে প্রথম পাতায়, একটি খবর প্রকাশিত হয়, খবরটির হেডলাইনটি ছিল এরকম, 'শিল্পে উৎসাহ ছাড় প্রত্যাহার করল রাজ্য'।(খবরটির লিঙ্ক দ্রষ্টব্য, সেখানে আরেকটি লাইন যোগ করা আছে ''নেপথ্যে কোন কারণ?"। যদিও খবরের কাগজের হেডলাইনে এই অতিরিক্ত প্রশ্নটি নেই। বিশেষ প্রযুক্তিগত কারণে খবরের কাগজের ছবি এখানে দেওয়া গেলো না। নিজেরা দেখে নিতে পারেন। ) হেডলাইনটি পড়ে বা খবরটির প্রথম ... ...
[ বিশেষ সতর্কবাণী: এই গল্পটি সন্ত্রাস-বিরোধী(Antiterrorism) অবাস্তব মিথ্যা গল্প অবলম্বনে তৈরি। কারো অনুভূতির তোয়াক্কা এই গল্প করে না। নিজ দায়িত্বে পাঠ করুন। কোনো পাঠকের মন খারাপ হলে লেখক ক্ষমাপ্রার্থী। ] কলিংবেলের শব্দ হচ্ছে। ক্রিংক্রিং ক্রিংক্রিং ক্রিংক্রিং।পরপর তিনবার।হয়তো অরুণীমা এসে গেছে। যদিও তার ফেরার কথা আরো ঘন্টা খানেক পরে। মেয়ের কোচিং শেষে অরুণীমা মেয়েকে নিয়ে একটু পার্কে ঘুরতে যায়। এটা রুটিন। নীলাকে নিয়ে পার্কে কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে সন্ধ্যা নাগাদ ফিরে আসে। সন্ধ্যা হতে এখনও বেশ দেরি। ফাহিম নামাজে বসেছিল। নামাজ শেষে দরজা খুলে দেখলো, মোবারক দাঁড়িয়ে আছে। চোখে চোখ পড়তেই মোবারক একটু হাসার চেষ্টা করলো। সে হাসি এতটাই উৎকট দেখালো যে, ফাহিমের ... ...
ইছামতী তীরবর্তী বনবাংলার আখ্যানপুরুষোত্তম সিংহ পাঠকের জন্য পড়া ও শোনা দুই আয়োজনই থাকছে। লেখার শেষে ইউটিউব লিংক রইল। পড়তে না চাইলে শুনতে পারেন।বাঙালি ঔপন্যাসিকের জীবনদর্শনকে, লৈখিক সূত্রকে নানা প্রকরণে ভাগ করা যায়। বলা ভালো লেখকরা নিজেরাই আত্মজবানবন্দিতে সে কৈফিয়ত দান করে কাজ অনেকটাই এগিয়ে রেখেছেন। সেখানে বিভ্রান্ত যুক্তিও কম নেই। কারো কাছে যথার্থ বাস্তব, ভূগোল চিহ্নিত বাস্তব অপ্রয়োজনীয়। তাদের কেউ কেউ প্রকৃতপক্ষে গ্রাম বাংলার জীবনচরিত থেকে অনেক দূরে থাকেন। আবার কেউ কেউ ভূগোলের প্রত্যক্ষ স্বরকে নানা ভঙ্গিতে নানা বিভঙ্গে বাজাতে সক্ষম। এমনকি অবস্থান সেই প্রান্তজীবনেই। আখ্যানের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞানের স্বচ্ছতাকে অস্বীকার করা যায় না। আখ্যানের চরিত্রের সঙ্গে লেখকের অবস্থান যদি একই সমাজ ... ...
যুদ্ধের মনস্তত্ত্ব যে আখ্যানের কেন্দ্রবিন্দুপুরুষোত্তম সিংহদেবেশ রায়ের ‘যুদ্ধের ভিতরে যুদ্ধ যুদ্ধের ভিতরে’ (২০০৩) পরিচ্ছেদহীন ১০৪ পৃষ্ঠার এক অবিস্মরণীয় টেক্সট। বাংলা উপন্যাসের টেক্সটের গুণগত মান পরীক্ষায় অনিবার্যভাবে দেবেশ রায়ের স্মরণাপন্ন হতে হয়। গদ্যের জোড়ালো গতি, উপমার অবিচ্ছেদ্য অবিরাম প্রয়োগ ও বিশ্লেষণের নব্যত্বে একটা টেক্সট কীভাবে দাঁড়িয়ে থাকে। এ আখ্যান যুদ্ধ, যুদ্ধের সজ্জা, যুদ্ধ বিরোধিতা ও যুদ্ধে বলির হিংসাত্মক বিবরণ। নায়ক ফার্সি পুরাণের কিংবদন্তি রুস্তম। নায়কের যুদ্ধ সজ্জা, যুদ্ধ সাধ, যুদ্ধ অভিলাষ, যুদ্ধের আভরণ-আবরণ, যুদ্ধের কৌশল, যুদ্ধের কার্যকারণ, ফলাফল, যুদ্ধের উত্তরাধিকার, যুদ্ধের অতীত, যুদ্ধের গতি, যুদ্ধের বিরাম, পিতা-পুত্রের যুদ্ধের কৌশল পরায়ণ বিবেচনা নিয়ে ক্রমেই যুদ্ধ সরণিতে প্রবেশ-অস্থিরতা-স্থিতাবস্থা। যুদ্ধ নিয়ে পিতা রুস্তম ও ... ...
কাজুর আম্মু -------------- সংগীতা -------------- ঠা ঠা রোদে ইঁটের পাঁজার উপর বসেছিল বছর বারোর কাজু। বাস রাস্তাটা এখান থেকে দেখা যায়। আব্বু সাইকেল চালিয়ে ফিরলে ও এখান থেকেই দেখতে পাবে। দেখলেই পাঁই পাঁই ছুট লাগাবে ও। সাইকেলের সামনের রডে বসে বাড়ি। অবশ্য যদি আব্বু সাইকেল চালানোর ক্ষমতায় থাকে আজ। দিনটা আজ ভালো নয় কাজুর। খুব মার খেয়েছে নতুন আম্মুর কাছে। কপালের কাছে নরম হালকা বাদামি চুল ঘামে লেপটে আছে বটে কিন্তু তার তলায় একটা ছোট্ট সুপুরির মতো ফুলে আছে। দুটো থাইতেই লাল দাগ ফুলে উঠেছে, পেয়ারা গাছের ডালের বাড়ি যা শপাং শপাং চালিয়েছিল, বাব্বাঃ। মার খেলেই বুকের ভিতর ধড়ফড় করে কাজুর, মাঝে মাঝে এত জোরে, যে দৌড়ে পালাবার শক্তি থাকেনা। তখন পড়ে পড়ে মার খেতে হয়। অবশ্য, মারতে মারতে ক্লান্ত হয়ে গেলে নতুন আম্মু নিজেই অন্য কাজে চলে ... ...
- "সিভিয়ার ডিপ্রেশন”, ডাক্তার মাথা নাড়লেন। - “অনেক ধৈর্য ধরে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে। ব্রেনের মধ্যে সেরোটোনিন বলে একটা কেমিক্যাল থাকে তার ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গেছে। মনে হয় খুব সাংঘাতিক কোনও শক পেয়েছে পেশেন্ট। আমি কয়েকটা ওষুধ লিখে দিচ্ছি ওগুলো খেতে হবে দু’বেলা”। ডাক্তার বললেন অদিতিকে দেখে ও তার সঙ্গে অনেকক্ষণ কথা বলে। অদিতির বাবা মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ফিরলেন খুব চিন্তিত মুখে। অদিতি ও অরিন্দমের বিয়ে হয় তিন বছর প্রেম পর্বের পরে। বিয়ের পরে দুজনেই খুব সুখী ছিল। দিন কাটছিল যেন স্বপ্নের মতো। অদিতি একটা কলেজে পড়ায়, অরিন্দম আছে কর্পোরেটে। ছুটি পেলেই দুজনে ঘুরতে বেরিয়ে পড়ত - পাহাড়ে, জঙ্গলে, বা সমুদ্রের ধারে। তিনটে বছর কোথা ... ...
( ২১ ) সন্ধে সাড়ে সাতটা। জমজমাট হাতিবাগান। রাধায় ইভনিং শো-এর ইন্টারভ্যাল হয়েছে। লোকজন বেরিয়ে এসে ঝালমুড়ি, পট্যাটো চিপস কিনছে। মোনা মজুমদার মোড়ের মাথায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সিগারেট টানছিল। সিগারেটটা শেষ করে সাগরের দোকানে গিয়ে একটু বসবে। সিগারেট খেতে খেতে নানা কথা ভাবছিলেন মনোরঞ্জনবাবু। সেদিন অমল বলে ভদ্রলোক এসেছিল বেশ লাগল তাকে। শিক্ষিত সুপ্রতিষ্ঠিত মানুষ, কিন্তু ভিতরে আগুন আছে। সমাজে একটা বদল চায়। অন্য একটা কিছু চায় তো নিশ্চয়ই নাহলে সাগরের সঙ্গে ভিড়বে কেন ? মনোরঞ্জন অবশ্য ভালভাবেই জানে কোন কিছুই হবে না। সাগরের বা তার জীবন এভাবেই কেটে যাবে। হবেই বা কি করে, ক'টা লোকই বা এসব নিয়ে ভাবে। সাগরের মতো আরো দু চারটে ছেলে যদি ... ...
আজ সত্যজিৎ রায়ের জন্মদিন। এই বিশেষ দিনে চলচ্চিত্র-বিষয়ক আমার নতুন বইয়ের আসবার ইঙ্গিতটুকু দিয়ে রাখছি... 'চলচ্চিত্র সময় স্মৃতি ইতিহাস' ভূমিকা: সন্দীপন গঙ্গোপাধ্যায় প্রচ্ছদ: শুভঙ্কর দে সম্ভাব্য সূচি: লেখকের কথা ভূমিকা ১. 'ব্রাসেল্স ট্রানজিট': মা'কে ভালোবেসে লেখা একটি সাদা-কালো আভঁ-গার্দ চিঠি ২. 'কী আছে ক্ষুদ্র এক অগ্নিশিখায়?'— তারকোভস্কি'র 'মুহূর্ত'-এর কবিতা ৩. কুয়াশাচ্ছন্ন রাতের আঁধারে যারা হারিয়ে গিয়েছেন ৪. সময়ের ছাই, বা, থিয়ো অ্যাঞ্জেলোপুলোসের সময়-কাব্য ৫. ক্রিস মার্কারের স্মৃতি-সন্ধান, এবং ছবিকথায় 'লা জেটে' ৬. 'উইংস অফ ডিজায়ার': স্মৃতি-ইতিহাস এবং বার্লিন ৭. তারেক মাসুদ এবং সময়-স্মৃতিতে বাংলাদেশ ৮. সময়ের নথি যখন টেক্সট, টাইপোগ্রাফি, গ্রাফিক্স... এবং চলচ্চিত্রনির্মাণ-খসড়া ৯. চিত্রনাট্য: সামিরা ... ...
সরকারি পয়সায় মন্দির মসজিদ কোনওটির পক্ষে নই। চাই বিজ্ঞান গবেষণাগার। চাই কল কারখানা। এবং কৃষিকাজের জন্য কৃষকদের কম সুদে ঋণ দেওয়া ও ব্লকে কৃষি মৎস্য ও প্রাণী গবেষণাকেন্দ্র। রাজ্যে মাত্র দুটি বিশ্ববিদ্যালয় আছে। কৃষি মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ নিয়ে। বিভিন্ন সাধারণ কলেজে এগুলো পড়ানোর ব্যবস্থা করে খাদ্য দুধ মৎস্য মাংস রপ্তানিতে উৎসাহদান দরকার। শুধু স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বা সরকারি চাকরি দিয়ে বেকার সমস্যার সমাধান হবে না। বস্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়ও দরকার। এবং সব জেলায় বস্ত্র বিষয়ক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। Manoranjan Bapari লিখেছেন :কাল দীঘায় দুজন চন্ডাল, দুজন বেপারী - আমরা নিজস্ব পরিচয়ে উপস্থিত ছিলাম জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে। একজন দীপক বেপারী আর একজন আমি। আমরা কেউ আমাদের পরিচয় ... ...
বহু চেষ্টা করেও আমি কখনও ভূতের দেখা পাইনি। শুনেছি, ঈশ্বর দর্শন যেমন সবার ভাগ্যে জোটেনা। ঠিক তেমনি ভূতও সবাইকে দেখা দেয়না। সরাসরি না দেখলেও ভূতের উপলব্ধি কিন্তু হয়েছে। অনেকের মুখেই শুনেছি, আমাদের অফিসে নাকি ভূত আছে। প্রতি রাতে আপনা থেকেই চেয়ারেরা ফ্লোর জুড়ে যাতায়াত করে। যেমন যারা একটু রাত করে অফিস থেকে বেরোয়, তারা চেয়ারগুলোকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে কিংবা যে যার ওয়ার্ক স্টেশনের কাছে রেখে চলে যায়। সকালে অফিস খুলে দেখা যায় সারা অফিসের প্রায় চল্লিশ পঞ্চাশটি চেয়ার এক জায়গায় গোল করে রাখা। আগে সারারাত কাজ হত। সেই সময়ে সারারাত থাকাকালীন অনেকেই নাকি দেখেছে চাকাওয়ালা চেয়ার আপনা আপনিই মেঝেতে সরে যাচ্ছে। আমি ... ...
নিঝুম অন্ধকারে শুধু জলের কলকলধ্বনি। জল নয়, পা যে ডোবাবো হয়তো দেখবো রক্তস্রোত। দমবন্ধ প্রতীক্ষা, দূরাগত হ্রেষারব, মুখ থুবড়ে পড়ল বোধহয় অশ্ব কিংবা অশ্বেতর, পিঠের অপটু সওয়ারিও বুঝি নিঃক্ষিপ্ত হল শূণ্যতায়। তার চূর্ণ মস্তিষ্কে পেরেকের মত গেঁথে রইল সীসের দাগ। অদূরে তার স্ত্রী নীরব প্রতীক্ষায় জানু পেতে আছে যদি বসুধা বিদীর্ণ হয়ে তাকে আশ্রয় দেয় জানকীর মত, হে রাম! বৃদ্ধের পঞ্জরের মত অসহায়, করুণ ছিল মৃতদের ললাটলিখন। লিডার নদীর জল পাথরের গায়ে ধাক্কা খেয়ে রক্তস্রোতে পালটে যাচ্ছে।, ঘনীভূত অন্ধকারে হাতধরাধরি করে আছি বসে আমরা মানুষ ও মানুষী কজন।বসেআছে বিমূঢ প্রজন্ম, ভোরের প্রতীক্ষায় ... ...
বারবনিতা মুহাম্মদ ফজলুল হক দীর্ঘ সময় নিয়ে গোসল করে রশ্মি। না করে উপায় কি দিন রাতের অধিকাংশ সময় পুরুষদের ভালোবাসে সে। তার ভালোবাসায় অদ্ভুদ মায়া। যে মায়ায় আবিষ্ট থাকে সব পুরুষ। রশ্মিকে চাই। রশ্মিকে চাই। যেন রশ্মি তাদেরই। রশ্মিও পারে বটে। মোহনীয় রূপ, মায়াবী চাহনী, ব্যতিক্রম কেশ বিন্যাস, কোমল ব্যবহারের মাধ্যমে সব আবদার রক্ষার অসামান্য কৌশল অন্যদের নিকট থেকে তাকে আলাদা করেছে। রশ্মির মাঝে আছে অনন্য সমন্বয় স্নেহে মাতা, সেবায় দাসী, শয্যায় বেশ্যা।গোসল করতে সময় নিলেও গোসল না করে কারো শয্যায় যায় না রশ্মি। ভিআইপি খদ্দের অপেক্ষা করলেও ভ্রুক্ষেপ নেই। মন যখন চায় তখনই সময় দেয়। সেই সময়ে থাকে অফুরান ... ...
সম্পর্ক যখন তখন,সম্পর্ক জটিল রকম,সম্পর্ক কুয়াশাঘেরাভোর সন্ধ্যা রাত্রি যখন।সম্পর্ক বাদল হাওয়াউদাস দুপুরে নিশ্চুপ চাওয়া।সম্পর্ক তুমি আমিছোট্ট গালে নরম হামিসম্পর্ক তোমার কাছেপার্থিব ঋন কতো আছে?এক জীবনের ঘেরাটোপেসম্পর্ক কতো কাছে দুরেমায়ার তারের সুরে দোলে।
অস্তিত্বের যুদ্ধে পরিধি ভেঙে যাওয়ার আখ্যানপুরুষোত্তম সিংহবাংলা গদ্যের (ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ ধরলে) দুশো বছর পেরিয়ে গেছে, কবিতার পটভূমি আরো বেশি ফলে বাংলা সাহিত্যের গদ্য-পদ্যের উত্তর আধুনিকতা আসতে পারে কিন্তু জীবনের? নবজাগরণের মধ্য দিয়ে যে নতুন বাঙালির জন্ম হল তা তো কলকাতাকেন্দ্রিক। কলকাতা থেকে সামান্য দূরে গেলেই অন্ধকার। সেই জীবনের সাহিত্যিক বয়ান কেমন হতে পারে? উপনিবেশ পর্বের বয়ানকে নানা রঙে, মিথে, জারণে ঘূর্ণি সৃষ্টি করে একটা নিজস্ব মডেল গড়ে নিয়েছেন পীযূষ ভট্টাচার্য। নিবিড় ডিটেলিং এর বদলে উপনিবেশের ছিন্নসূত্রকে ধরে সাহিত্যিক ডিসকোর্স গড়ে তুলেছেন। কলকাতা থেকে কয়েকশ কিলোমিটার দূরে তোর্ষা, তিস্তা, কালজানি তীরে প্রান্তজনের বসবাস কেমন, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ারের প্রান্তসীমার প্রান্তিক মানবের হালচাল ... ...
( ২০ ) সকাল সকাল দুটো নাকে মুখে গুঁজে কাগজপত্র গুছিয়ে নিয়ে লালবিহারিবাবু এস এন ব্যানার্জী রোডের লাল বাড়িতে এসে হাজির হলেন। সাড়ে দশটা বাজতে এখনও দশ মিনিট দেরি আছে। ওপরে উঠে দেখলেন সমস্ত চেয়ার ফাঁকা। প্রায় আটটা সিলিং ফ্যান বনবন করে ঘুরছে। হাওয়ায় ফরফর করছে গার্ডারে বাঁধা কাগজপত্র। লালুবাবু পাশের ঘরে গেলেন। ওখানেও একই অবস্থা। জনহীন ঘরে ফুল স্পীডে হাওয়ার ঝড় ... ...
আমার কাঁচা পয়সা নেই যে বিদেশ বেড়াতে যাব। আমার কলা (বিদ্যা) বেচতে এসে আমি যেটুকু রথ দেখতে সুযোগ করে নি তাই নিয়ে আমার বেড়ানোর গল্প।স্বপ্নের আর দুঃস্বপ্নের আমেরিকাপ্রবীরজিৎ সরকারআমেরিকার ইন্ডিয়ানা রাজ্যে (ওরা বলে স্টেট) সাউথ বেন্ড বলে একটা এলাকায় নোতরদাম বলে একটা বিশ্ববিদ্যালয় আছে। সেখানে এক সিমেস্টার ভিজিট পেলাম। কেলগ ইন্সটিউটে।আমেরিকা অনেক রকম ভিসা দেয়। আমার হল J1। ওরা ব্রিটিশ এয়ারের টিকিট পাঠালো:কলকাতা দিল্লি লন্ডন নিউ ইয়র্ক শিকাগো। নিউ ইয়র্ক ব্রেক অবশ্য আমি চেয়েছিলাম। দু চার দিন আগে রওনা হয়েছিলাম একটু বেড়াবার জন্য। ফেরার সময় ঠান্ডা থাকবে ঘুরতে অসুবিধা হবে। কলকাতা এয়ারপোর্টে ব্রিটিশ এয়ারের over smart কর্মী বলল গ্রীন ... ...
ছোট বেলা থেকেই আমি একটি ন্যাজ বিশিষ্ট হনুমান ছিলাম বললে অত্যুক্তি হবে না। এখনকার ছেলে পিলে বলবে এ আর এমন কী আমিও ওইরকম ছিলাম অর্থাৎ কিনা "আমার অনুমান,আমি একটা হনুমান "। ওমন বদমাইশি আমিও কত করেছি। ওকে বন্ধুগণ তাহলে বদমাইশি টা পরিমাপ করা যাক।১. কামড়ে ব্লাউজ শুদ্ধ কিছু মাংস তুলে নেওয়া( বয়েস ৪)২. আবোলতাবোল আবৃত্তি না করে ভাত ঘুমে ঢলে পড়া পিসি র বুকে আস্ত থান ইঁট দিয়ে মারা( বয়েস ৫)৩. ক্রিকেট খেলতে গিয়ে ন্যাড়া ছাদ থেকে পরে যাওয়া( বয়েস ১৩)৪. পাড়ার অনিচ্ছুক বন্ধু রং দিতে গিয়ে দুজনে মিলে জড়াজড়ি করে দুজনেই নীচে পড়া(বয়েস ১৫)৫. কুয়োর পাড় -> লিন্টন-> ছাদ ... ...