দশম শ্রেণিতে পড়তাম। বয়স সতেরো হবে। আমাদের স্কুলের পেছনে এক বিশাল খেলার মাঠ ছিল। সেদিন শরীর শিক্ষার ক্লাস ছিল। সকলেই সালোয়ার কামিজ পড়ে গিয়েছিল, আমিই একমাত্র শাড়ি পড়ে গিয়েছিলাম। কারণ আমার মনেই ছিল না যে শরীর শিক্ষার ক্লাস সেদিন ছিল। যাই হোক, শরীর শিক্ষার দিদিমণি সেদিন আসেনি। তাই ক্লাস হল না। কিন্তু সমস্ত মেয়েরা ঠিক করল ঐ সময়টা অন্য একধরনের খেলা খেলে কাটাবে। খেলাটা হল একজন হাঁটুর কাছে মাথা রেখে গম্বুজের মত দাঁড়াবে বাকিরা তাকে একলাফে ক্রস করবে শুধুমাত্র তার পিঠে দুইহাত ভর করে। আমি রাজি হলাম না। কারণ আমি শাড়ি পড়ে ঐ খেলা খেলতে পারবো না। বাকিদের সালোয়ার কামিজ ... ...
বর্তমান শতকটি একুশ শতক – একথা সকলেই জানে। এ বিষয়ে দ্বিমত নেই, তর্কের অবকাশও নেই। বিশ শতকের শেষ বছর ২০০০ সাল আর ২০০১ সালের পয়লা জানুয়ারী থেকে শুরু হয়েছে একুশ শতক। একুশ শতকের শেষ বছর হবে ২১০০ সাল। ১ থেকে ১০০ প্রথম শতক। গণনা শুরু হয় ১ থেকে, শূন্য থেকে নয়। শূন্য কোনো সংখ্যা নয়, এটি একটি ধারণা বা বোধ। এবার আসি দশকের প্রকাশে। দশকের প্রকাশ রীতিও শতকের প্রকাশ রীতির অনুরূপ ... ...
আমাকে পাষন্ড বলুন। গয়লাদের ঘরের মেয়ে। নাম ধরুন রিয়া। চার বোনের সব্বাইকে যদি সরকারি নিয়মে বিয়ের বয়সে বিয়ে দেওয়া যায় তাহলে রিয়ার বিয়ে হওয়া অবধি ওর বাবার বেঁচে থাকার চান্স প্রায় নেই। তাও বেচারি ১০ বছরে একটা মাত্র স্কুল সার্ভিস দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল। সারাজীবন দ্বিতীয় হওয়া মেয়ে চাকরিটা পায়নি। ওরই বান্ধবী, দ্বিতীয় বারে উচ্চমাধ্যমিক পাশ ওর সামনেই নতুন শাড়িতে ইস্কুল যেত রোজ। পাশের ইস্কুলের মাস্টার হবু ... ...
এই যে গাছটা দেখছো শীর্ণ, কালো.. এক ভাবে এক পায়ে দাঁড়িয়ে.. বসন্ত আসেনি ওতে ওর থেকে নীচু গাছগুলোতে কতো পাতা গজিয়েছেফুল ফুটেছে ওখানে বসন্ত এসেছে আজ বসন্তেবৃষ্টি হচ্ছে জানো এই বৃষ্টিতে কতো নতুন পাতা জন্মালো কতো নতুন ঘাস বৃষ্টি ভেজা দিনে কত নতুন বসন্ত এলো সঙ্গে এলো প্রেমও নিঃশব্দে ভিজে একশা হলো …শীর্ণ গাছটা তাকিয়ে দেখলো.. বুঝতে পারলো.. নীলাকাশের অন্তিম দিগন্ত তার খুব কাছে কাণ্ডের ভিতরে থাকা প্রাণের গভীর থেকে উঠে ... ...
আমি কিছুদিন স্কুল শিক্ষা বিভাগের ওএসডি ডিডিও ছিলাম। একদিন দেখলাম কলকাতার কিছু প্রাথমিক শিক্ষিকা এসে মরিয়া হয়ে একে ওকে বলছেন তাঁদের অন্যত্র ট্রান্সফার করে দিতে। একজনকে জিজ্ঞেস করে জানলাম তিনি দশ বছরে কোন ছাত্রের মুখ দেখেননি। সেটা ২০১৭। তার মানে বামফ্রন্টের শেষ টার্ম বা তারও আগে থেকে এরকম চলছে। কয়েক বছর পরে দেখা গেল এরকম কয়েক হাজার স্কুল উঠে গেছে। কলকাতার ভেতর কর্পোরেশনের বেশ কিছু স্কুল ছিল। তার কটা আছে কে জানে। দীর্ঘদিন ধরে প্রথমে শহরে আর এখন গ্রামেও সরকারী স্কুলের ছাত্র সংখ্যা কমছে। কাজ চালাতে, টিঁকে থাকতে ভুয়ো নাম ... ...
আয় রাষ্ট্র, কবিতা শোনাই(১)ফিঙে পাখি দেখলেই, অচিন্ত্য'র কথা মনে পড়ে। কারণ ও কবিতায় বলেছিলো - 'কবিরা মরে গেলে ফিঙে হয়ে যায়।'কিন্তু কবিতা লেখা মরে গেলে কি হয়, ও সেটা বলেনি ;আর আমিও জানি না। আমি এটা জানি, যে কবিরা মরে গেলে ফিঙে হয়ে যায় না।অথবা ফিঙে পাখিও মরে গেলে, কবি হয়ে জন্মায় না। হয়তো অচিন্ত্য ফিঙে পাখি হতে চেয়েছিলো।কিন্তু বড়ো বড়ো গাছ দেখলেই আমার ভানুর কথা মনে পড়ে। কারণ সে জন্মদিনে প্রেমের প্রতীক হিসেবে বাড়ির পুকুরপাড়ে গাছ রোপন করেছিলো। এখন আর ভানুর কথা মনে পড়ে না, কারণ বড়ো বড়ো গাছ দেখি না। যেই বিশাল বিশাল গাছে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি আসতো; সরকার উন্নতি প্রকল্পে দায়িত্ব নিয়ে গাছগুলো ... ...
রাম কহিলেন, ওহে সুগ্রীব, বঙ্গজয় আর কদ্দূর? সুগ্রীব কহিলেন, রাত দশটায় দখল করে ফেলব স্যার। রাম নিশ্চিন্ত হইলেন। তখন সকাল সাত ঘটিকা। বানর সেনা বঙ্গে মার্চ করিতে লাগিল। তাদের মুখ নিশ্ছিদ্র কালো, কোনটি মুখ কোনটি মাথা, কোনটি সম্মুখ, কোনটি পশ্চাত বোঝার উপায় নাই। পশ্চাতে বৃহল্লাঙ্গুল দোদুল্যমান। দুই নগরললনা পথে হাঁটিতেছিল। তাহাদের একজন দেখিয়া আঁতকে উঠিয়া কহিল, মুখপোড়াদের শরম নাই গো, সব কিছু বার করে হাঁটছে? দ্বিতীয়জন তাহাকে সান্ত্বনা দিয়া কহিল, ওটা তো পিছন দিক রে, পিছন থেকে ন্যাজ বেরিয়ে আছে। এই লইয়া কিছু রঙ্গ হইল। এইসব তামাশা সত্ত্বেও যুদ্ধজয় অনিবার্যই ... ...
তিয়াসা, শুধুই তোর জন্য মেঘলা দিন হলেই বাবানের মনটা কেমন যেন উদাস হয়ে যায়। কেন এমন হয় ? এর উত্তর অবশ্য ঠিকঠাক জানা নেই তাঁর। তিয়াসাকে এই কথা বললেই বলে, “তোর যত আজব ভাবনা। মেঘলা দিন হলো গুমোট গরমের দিন। তুই টের পাসনা?” বাবান কোনো উত্তর দেয়না। সে জানে তাঁর একান্ত ভাবনার সাথে তিয়াসা কখনোই একমত হবে না। সমান্তরাল রেখার মতো যেন তাঁদের অবস্থান। যত ভাব, তত খুনসুটি। অনেকদিন পর আজ নদীর দিকে ... ...
আমার ডাক নাম বিমলি। বিয়ে হওয়ার ছমাসের মধ্যে বাবার বাড়ি এসেছি। পাড়ার মধ্যেই সকলে মিলে বিভিন্ন ধরনের খেলাধূলার অভ্যাস ছিল। একটা দিনের কথা বার বার মনে পড়ছিল। মাঘ মাসের শেষের সময়। কয়েক জন মিলে আশপাশ খেলছিলাম। আমাদের বাড়ির সামনেই একটা কুলগাছ ছিল। হঠাৎ আমাদের মধ্যেই তিন চার জনের কুল খাওয়ার খুব ইচ্ছে হলো। একজন একটা লাঠি জোগাড় করে গাছে ঝাঁকি মারলো, কোনও লাভ হলো না। আরেক জন টালির টুকরো জোগাড় করে গাছে ছুঁড়ে মারলো তাতেও কোনও কুল গাছ থেকে পড়ল না। কুলের সংখ্যাও কমে এসেছিল গাছটিতে। তবে কুলগুলো খুবই মিষ্টি ছিল খেতে। সকলেই বিভিন্ন চেষ্টা করে কিছুই উপায় না পেয়ে ... ...
চাকরি চলে গেছে। যদিও হঠাৎ করে যায়নি। এক বছর আগেই আভাস পাওয়া গিয়েছিল। অনেকেই ভেঙে পড়েছেন। কান্নাকাটি করছেন। সরকারি চাকরি। তা হারানোর আক্ষেপ তো কম নয়। তাই অনেকেই গোপনে অথবা সোচ্চারে চোখের জল ফেলছেন। যাঁরা চাকরি হারিয়েছেন সে যোগ্য অযোগ্য বিচারে না গিয়েই বলছি, প্রতিদিন প্রাইভেট সেক্টরে হাজার হাজার কর্মীর চাকরি যায়। তাদের কাউকে কখনও পথে বসে অথবা সামাজিক মাধ্যমে কাঁদতে দেখেছেন? কাঁদা দূর অস্ত। কাউকে হাহুতাশ করতেও কখনও দেখবেন না। কারণ প্রাইভেট সেক্টর লড়াই করে বাঁচতে শেখায়। প্রতিটা দিন প্রতিটা মুহূর্ত যোগ্যতার পরীক্ষা দিয়ে চাকরিটা বাঁচিয়ে রাখতে হয়। তাই সেখানে চাকরি গেলেও পরদিন সকালে চাকরি খোঁজার চেষ্টায় নতুন উদ্যমে ... ...
স্বভাব ও প্রতিফলন একজনের সাথে দেখা হ'লো হঠাৎ ;জানালো - তার মাথা গরম। সে কথায় কথায়, উঠলো তেরে। মাথা গরমের প্রভাব বুঝতে পারলাম কিন্তু তাকে বোঝানো গেলো না, সে হিংসা করছে, প্রচন্ড হিংসা করছে। তারপর থেকে যখন দেখা হয়। আগে জিজ্ঞেস করে নিই তার মাথা গরম কিনা। সে একদিন উল্টে জানতে চাইলো, মাথা গরম জানতে চাইছি কেনও? সেই মূহুর্তে তার গালে চড় কষিয়ে বললাম, মাথা গরম হচ্ছে, এবার কার ওপর এই মাথা গরমের প্রতিশোধ নেবে, সেখানে যান আরেকটা চড় না খাওয়ার আগে। ভাবলাম হয়তো কিছু পাল্টাবে। উল্টে উনি এখন কথাতেই তেড়ে ওঠে না, গায়েও হাত তোলে। ~। শুভঙ্কর বৃক্ষ ... ...
রোজ সকাল থেকে গায়ত্রী গজ গজ করে। পরিতোষকে বলে বাথরুমের ঘুলঘুলিতে বাসা করেছে যে পায়রারা, তা ভেঙ্গে দিতে। বলে, বাথরুমটা খালি নোংরা হচ্ছে কাঠকুটো পড়ে।পরিতোষ গা করে না। বলে-“থাক না ওরা ওখানে। ওদেরও তো যাওয়ার কোনও জায়গা নেই। আর কতদিনই বা থাকবে ওরা? খুব বেশী হলে পায়রা বাঁচে ছ বছর। তারপর তো আর ওরা আসবে না।“ পরিতোষের খুব মায়া পাখিদের ওপর। অনেক পড়াশোনা করে পাখি নিয়ে। পরিতোষ বলে পাখিরা মারা যাওয়ার সময় আকাশের অনেক ওপরে উড়ে চলে যায় ও মৃত্যুবরণ করে। আর তাদের শরীরটা পঞ্চভূতে ... ...
( ১৪ ) আজ রবিবার সন্ধে সাড়ে পাঁচটা থেকে টি ভি তে 'শেষ পর্যন্ত ' দেখানো হবে। রমাদেবী পরিপাটি করে শতরঞ্চি পেতে রাখলেন উৎসাহী দর্শকদের জন্য। তাদের পুত্রবধু অবশ্য ঠারে ঠোরে বিরক্তি প্রকাশ করতে লাগল --- রোজ রোজ এরকম হুজ্জুতি চললেই হয়েছে ... বাড়ি ছেড়ে পালাতে হবে। রমাদেবী বললেন, ' ওমা ... রোজ রোজ কোথায় ! সপ্তাহে তো দুদিন মোটে ... সবাই মিলে আনন্দ করে দেখব ... এটাই তো ... ...
বুঝতে পারছি না এই মামলাটা কি অন্য মামলার সঙ্গে জড়িয়ে নেই? যদি থাকে তবে সেগুলোর নিস্পত্তি না হলে কী করে "দোষী" সাব্যস্তকরণ হবে? কী করে বোঝা যাবে কে যোগ্য আর কে অযোগ্য? তা না করে শুধুমাত্র সংখ্যাতিরিক্ত পদ সৃষ্টির ব্যাপারটা থেকে শুরু করে নিয়োগ পদ্ধতির মূল্যায়ন করা হলো। তাতে রীতি বহির্ভূত পন্থায় নিয়োগ হয়েছে প্রমাণ করে পুরো প্যানেলটা খারিজ করা হয়েছে। এই খারিজের যুক্তিযুক্ততা নিয়ে পুরো আলোচনাটা হয়েছে এই রায়ে। অন্য সমতূল্য মামলার রেফারেন্সও আছে নিশ্চয়। এই চিন্তনের যুক্তি যুগিয়েছেন বিকাশ ভট্টাচার্য এ্যান্ড কোম্পানি। এটা বিচার পদ্ধতিকে একপেশে করেছে। কানুনের অন্ধত্বই প্রতিষ্ঠা হয়েছে। আজ সংখ্যাতিরিক্ত ... ...
কী যে হচ্ছে বোঝা মুশকিল ! আমাদের সৈকতই ঠিক করছে। সে এ সময়টাকে ধরার চেষ্টা করে যাচ্ছে নানা প্যারোডি গানে সব অলীক অলীক বাইনারির মধ্যে দিয়ে। কিছুদিন ঔরঙ্গজেবের তিনশো বছরের কবর নিয়ে সবাই পড়লো অর্থাৎ শম্ভাজি-ঔরঙ্গজেব বাইনারি। তারপর দেখা গেল দোল মানে হোলি যারা খেলে আর খেলে না তাদের অর্থাৎ হিন্দু মুসলিম বাইনারি। সে নিয়ে কদিন খুব চললো তারপর ওয়াকফ বিল লোকসভায় পাশ হয়ে গেল। ইতিমধ্যে রামনবমী ঘিরে সাজো সাজো রব। সেখানে যথারীতি হিন্দু-মুসলিম উত্তেজনা - কী হয় কী হয় ভাব। ইতিমধ্যে নেপালে যোগীজি আর সেখানকার প্রাক্তন রাজার ছবি ... ...