( ৫ ) বিশ্বরূপা ছাড়িয়ে সার্কুলার রোডের দিকে কিছুদূর গেলে রঙ্গনা নামে একটা থিয়েটার হল হয়েছে বছর দু তিন হল। তার মুখোমুখি তলা থেকে ভেসে ওঠা মঞ্চের আর একটা থিয়েটার হল হয়েছে, সারকারিনা। রঙ্গনা থিয়েটার হলে অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নান্দীকার গ্রুপের নাটকগুলো নিয়মিত শো-এ হয়। তিন পয়সার পালা, মঞ্জরী আমের মঞ্জরী, শের আফগান এই সব নাটকগুলো নিয়মিত মঞ্চস্থ হয়। বিভূতিবাবু অনেকদিন পর গুটি গুটি ... ...
আগের পর্বের লেখায় যাত্রার শুরুটি করেছিলাম, দেখলাম আপনারা অনেকেই বেশ ভালোবাসা দেখিয়েছেন। আপনাদের মতামত অত্যন্ত জরুরি তাই ওটি দিতে বাঁধ সাধবেন না। এবার তার পরের ভাগটি নিয়ে চলে এলাম। নিক এর সাথে ভ্যানভ্রমণে অনেক আজগুবি জিনিস দেখলাম। টেক্সাস কাপিতল বাদে আরও অনেক জায়গা দেখে তাক লেগে যাওয়ার মতো। নিক অন্তত কমপক্ষে ১২ বছর ধরে এই কাজ করে আসছে। কথাবার্তা থেকে আরও বুঝলাম যে ও আগে একজন standup comic হতে ছেয়েছিল যা তার কৌতুক চেতনা থেকে বেশ ভালই বোঝা যায়। ঘুরতে ঘুরতে নিক নিয়ে গেল দাউন্টাউন এর কিছু বিশেষদর্শন বাড়ির উদ্দেশ্যে। প্রথম যেই ... ...
কলকাতার বিপ্লবীদের দঙ্গলে মাঝে মাঝেই নানা কাণ্ড ঘটে। কিন্তু এবারে যা পড়লাম, সেটা মাত্রার অনেক উপর দিয়ে। সবই "সত্য" ঘটনা, কিন্তু ফিকশনের বাবা। একজন মহিলা, ধরা যাক তাঁর নাম প্রথমা, যিনি সব সময় ছুরি আর পেপার স্প্রে নিয়ে ঘোরেন, তিনি কাল একটা ফেসবুক পোস্ট করেন, যা থেকে এটা জানাজানির শুরু। প্রথমা লিখেছেন, কোনো এক রাতে, তিনি প্রচুর ফেমিনিস্ট আইডিওলজির লোকজন, মহিলা এবং নিজের বাবার সঙ্গে, বাবার বাড়িতে বসে উপরোধে মদ্যপান, গান-বাজনা এইসব করছিলেন। তারপর রাত্তির দুটোয় নিজের ঘরে শুতে গেলে সেখানে একজন মহিলাও শোবার জন্য এসে উপস্থিত হন, ধরা যাক তাঁর নাম দ্বিতীয়া। তারপরে তৃতীয় এক পুরুষ, ধরা যাক তাঁর নাম মহিষাসুর, তিনিও চলে আসেন। দ্বিতীয়া মহিষাসুরকে বলেন, তুমিও ... ...
( ৪ ) মধুমিতা ঘরে ঢুকে বলল, ' এমনি এলাম ... মাসির কাছে এসেছিলাম ... ভাবলাম একটু দেখা করে যাই ... ' পাঁচ ছ' বছরে মধুমিতার চেহারা বিশেষ বদলায়নি। প্রায় একইরকম মসৃন উজ্জ্বল আছে। মধুমিতার এখনও বিয়ে থা হয়নি সেটা এরা সবাই জানে। এ বাড়িতে এল প্রায় এক বছর পরে। তার হাতে কি একটা বেশ মোটা বই রয়েছে। কোন বাংলা উপন্যাস মনে হচ্ছে। বইটা বুকের কাছে চেপে ধরে দাঁড়িয়ে আছে। চোখে মুখে সহজ সারল্য। অতীশ বলল, ' বসুন ... ইয়ে ... বস না ... ' মধুমিতা একটা চেয়ারে বসে পড়ল। দুর্বার কি ... ...
ভালোবাসার বাঁধনে বেঁধে রাখবো তোমায়, শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত চলবো হাতে হাত রেখে- তুমিই হবে আমার জীবনসঞ্চয়ের সঞ্চিতা। প্রতারনা থেকে শুরু করে পরকীয়ার যুগে- আমি থাকতে চাই শুধু তোমারই হয়ে। তুমি কি রাখবে আমায়, তোমার জীবনসাথী করে? ভালোলাগা তো ভালোবাসা নয়!ভালোবাসা থেকেই ভালোলাগা শুরু হয়।তবে আমি কি তোমার ভালোবাসা নই?
( ৩ ) লোকে বলে পৃথিবীটা গোল। চেনা জানা কারও সঙ্গে ঘুরে ফিরে ঠিক দেখা হয়ে যাবে কখনও না কখনও। যেমন অমলের সঙ্গে রাত্রির দেখা হয়ে গেল শ্যামবাজার ট্রামডিপোর সামনে, যেখানে তাদের শেষ সাক্ষাৎকার ঘটেছিল প্রায় দশ বছর আগে। রাত্রি বলল, ' আরে, কি খবর ? কতদিন পরে দেখা হল ... ' --- ' তা ... প্রায় পাঁচ বছর হবে ... ' অমল সংক্ষিপ্ত উত্তর দিল। রাত্রি লক্ষ করল অমলের চোখে মুখে বেশ বয়সের ছাপ পড়েছে। শরীরে মেদও জমেছে। কথাটা বলে অমল চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল। বোধহয় বলবার মতো কিছু কথা খুঁজছে। জীবনের কোন কোন ... ...
( ২ ) রাত্রির বাবা শিবতোষবাবু পৃথিবীর মায়া কাটিয়েছেন মাস তিনেক হল। নাতির মুখ দেখার বাসনা অবশ্য পূর্ণ হয়েছিল শিবতোষবাবুর। রাত্রি আর সাগর এখন মাঝে মাঝে গোয়াবাগানে এসে থাকে। ছেলের ছ' বছর বয়স হল। স্কুলে ভর্তি করার দরকার। হিমাদ্রি, সাগরের ছেলে হিমাদ্রি বলরাম ঘোষ স্ট্রিটে একটা কিন্ডারগার্টেন স্কুলে অবশ্য ভর্তি হয়েছে গত বছরে। মর্নিং স্কুল। সকাল ছ'টা থেকে সাড়ে ন'টা পর্যন্ত। সাগরই ছেলেকে নিয়ে যাতায়াত করে। রাত্রির স্কুল ... ...
স্বীকার করে নেওয়া ভাল, অন্নদাশংকর রায়ের যে সাহিত্যসূত্র থেকে বহরমপুরের রঙ্গভূমি তাদের সাম্প্রতিক প্রযোজনা ‘ পীরিতি পিপাসা’ নাটকটি প্রযোজনা করেছে সেই ‘দু’কান কাটা’ নামে গল্পটা আমি খুঁজে পেতে পড়লাম নাটক দেখার পর। পড়ার পর মনে মনে সাবাশি জানালাম রঙ্গভূমিকে প্রায় একাশি বছর আগে লেখা একটি গল্পের মধ্য থেকে এরকম একটি প্রাণবন্ত নাট্য সম্ভাবনার বিকাশ ঘটানোর জন্য। এই কৃতিত্ব প্রাথমিকভাবে প্রাপ্য নাট্যকার রাজেন দাসের যিনি একইসঙ্গে এই নাটকের পরিচালক। যা ছিল এক জন বাউল ফকির পথের সাধকের পথ চলার গল্প তাকে সঠিক পরিপ্রেক্ষিতে তুলে ধরার উপকরণ মূল ... ...
( ১ ) শীত প্রায় বিদায় নিয়েছে বলা যায়। রোদ অবশ্য এখনও তেমন তেতে ওঠেনি। সকাল সন্ধেয় ঠান্ডার হাল্কা পরশ লেগে থাকে হাওয়ায়। গঙ্গাপ্রসাদ দোকান খুলে বসেছে সকাল সাতটায়। গায়ে একটা পাতলা চাদর জড়ানো। সুরেশ্বর মল্লিক তিনটে থলে হাতে নিয়ে মানিকতলা বাজারের দিকে এগোচ্ছিলেন গুটিগুটি। গঙ্গার দোকানের সামনে আসতে মল্লিকবাবুকে চোখে পড়ল গঙ্গার। --- ' আরে দাদা ... এত সকাল সকাল ? এত সকালে তো আপনাকে কোনদিন বাজারে যেতে ... ...
গুড মর্নিং, সুপ্রভাত বন্ধুরা। আমি চড়াই বলছি। হ্যাঁ গো হ্যাঁ, সেই ছোট্ট চড়াই। এমন অবাক চোখে তাকিয়ে আছো কেন তোমরা। কপালে চোখ তুলে বিস্ময়ে হতভম্ব হয়ে থাকা তোমাদের মুখগুলো দেখে না সত্যি সত্যিই আমার বেশ মজা হচ্ছে। আজকের তারিখটা কি মনে আছে? না সব ভুলে গেছো ? আজ মার্চ মাসের ২০ তারিখ – আন্তর্জাতিক চড়াই দিবস। আমার মতো এমন ছয় ছোট্ট চেহারার এক পাখিকে নিয়ে একটা দুনিয়াজোড়া আলোচনা, আলোড়ন… সত্যি বলছি আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না। কী করে বিশ্বাস করবো বলো, আমি কি সত্যিই তোমাদের কাছে এতটা আদরের, এতটা ভালোবাসার ? জানো বন্ধুরা, একটা সময় তোমাদের ছায়া ঘেরা গ্রাম থেকে ... ...
গত ১২-ই জুন, ২০২৩ টেক্সাস এর গরম উপেক্ষা করে চললাম রাজধানি অস্টিন এর দিকে। ইচ্ছা ছিল চার দিন এর জন্য শহরটা ঘুরে দেখব আর নিজের জড়তা কাটাব। দুপুরবেলা তিনটে নাগাদ বাস এ বসে পরলাম (বাস সেই ঠিক দিঘার বড় VOLVO AC Bus এর মতো) ও চললাম গন্তবের উদ্দেশে। বাসে লাগল প্রাই ছয় ঘণ্টা। গিয়ে পরলাম সেই রাত নয়টা নাগাদ। সবই প্রায় অন্ধকারময় হয়ে থাকা অবস্থায় ক্যাব বুক করে চললাম আমার হোটেল এর পথে। ড্রাইভার ভদ্রলোক আবার খুব বেশি ইংরিজি বোঝেন না এবং কথা বলে বুঝলাম উনি স্প্যানিশভাষী। ওই ভাষায় আমার আবার দু-একটা শব্দের বেশী দৌর নেই। ঘরে পৌঁছে সেদিনের মতো ... ...
( ৩ ) সে বিচকের শরীরের দোলা দেখে ভেবে নিল নিশ্চিতভাবে আউটসাইড ডজ করবে এবং প্রতিবর্তী প্রতিক্রিয়ায় সেই দিকেই হেলে গেল তার শরীর কারণ বিচকের বাঁ পায়ে ছিল বল। তাই স্টপারটার মনে হল নিশ্চয়ই বাইরে দিয়ে বেরোবার চেষ্টা করবে বিচকে। বিচকে কিন্তু ডান পায়ে বল নিল না। বাঁ পা দিয়েই ইনসাইড ডজ মারল। তারপর চার পা ঢুকতেই ছ গজের বক্সের মাথায় ....। গোলকিপারের কোনদিকেই যাবার নেই।সে লাইনের মাঝামাঝি জায়গায় দাঁড়িয়ে শটটা আসার প্রতীক্ষা করছে। শরীর ছোঁড়ার জন্য তৈরি। কিন্তু বিচকের নাচাবার নেশা লেগেছে। সে কোন শট নিল না। সে গোলের দিকে ... ...
( ২ ) পরদিন সকালে বাজারে বেছে বেছে চারাপোনা গামলায় তুলছিলেন তপনজ্যোতি দত্ত।একশো ষাট টাকা কেজি। এর কম দামে খাওয়ার যোগ্য মাছ বাজারে পাওয়া গেল না। বাড়িতে তিনটে লোক। তপন - কনিকা দম্পতি ছাড়া তপনবাবুর এক ভাগ্নে তাদের সঙ্গেই থাকে। হাসনাবাদের ওদিকে বাড়ি। কলকাতায় সুরেন্দ্রনাথ কলেজে ইংরীজিতে অনার্স পড়ে। মামার খুব ভক্ত এবং মামীর খুব প্রিয়পাত্র। কনিকার মতে ‘ খুব করিতকর্মা ছেলে। মামার মতো লগবগে নয়।’ তারা নিজেরা নি:সন্তান। তা নিয়ে তেমন ক্ষোভ বা অসন্তোষ কিছু নেই এদের দুজনের ... ...
শোষকের দুর্বৃত্তায়নকে ভিন্ন আঙ্গিকে দেখার আখ্যানপুরুষোত্তমম সিংহবাংলা উপন্যাসে সম্পূর্ণ ভিন্ন গোত্রের আখ্যান আশিস মুখোপাধ্যায়ের ‘পোকাবিদ্রোহ ও পীমলদের জাতীয় ইতিহাস (প্রথম খণ্ড)’ (১৯৮৫)। লেখক সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনামাফিক বাংলা আখ্যানের মোড় ফেরাতে চেয়েছেন। ‘ছাঁচ ভেঙে ফ্যালো’ ট্যাগলাইনে নতুন ফরমান জানান দিতে এসেছেন। গত শতকের আটের দশকে বসে বাংলা আখ্যানকে সর্বার্থেই বোধ মস্তিষ্কচর্চার হাতিয়ার হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব সেই চ্যালেঞ্জ নিয়ে বসেছেন। সেই অলিখিত বিদ্রোহে তিনি যে সফল তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। বাংলা আখ্যানের দুর্বল ন্যারেটিভ সম্পর্কে কিছু সূক্ষ্ম ব্যঙ্গও ছুঁড়ে দেন। পোকাদের বিবিধ স্তরের কার্যকলাপ, নানা ইঙ্গিত, ক্ষমতাতান্ত্রিক পৃষ্ঠপোষকের ভেঙে পড়া, রাজতন্ত্রের পাঠে নানামাত্রিক ঘুণ ধরা ও ব্যঙ্গ শ্লেষের মধ্য দিয়ে ... ...
( ১ ) ছেলেটা কালোকোলো বেঁটেখাটো। ওর বয়সের অন্য ছেলেদের তুলনায় মাথায় বেশ নীচু। ওর মা সন্ধ্যার মতে ছেলে বারো বছরে পড়েছে। লোকজন বলে, বড় হলে মারাদোনার হাইটেরই হবে। তার বেশি বাড়বে বলে মনে হয় না। সে যাই হোক, রায় পাড়ার মাঠের চারিধারে দাঁড়িয়ে যারা ম্যাচটা দেখছিল তারা ওর ড্রিবলিং দেখে থ হয়ে গেল। তপন দত্তের ষাট বছর বয়েস হল। সারা জীবন মাঠে ময়দানে ঘুরে ঘুরে জীবন কাটল বা বলা যায় হেলায় নষ্ট হল। কত খেলা দেখেছে এবং কত খেলোয়াড়ের খেলা দেখেছে ... ...