----------------------আশিস বন্দোপাধ্যায়-------------------------------অন্তু কহে আনন্দিরে,- 'অন্ত হল আজ অন্তে। রইলো তোর ইচ্ছামতী স্পর্শ তালুর সঙ্গে। অন্তু কহে----- চৌরাতে এলেম হেথায়, র্শীর্ণ মন আরদিশা।ভিন্ন সুরে সেই গান, ছিন্ন তালে যেমেশা। অন্তু কহে---- ভাবনা সেই নদীর ধারায় আজ না স্বপ্ন শ্রোত। বাদাম চিনা আর স্পর্শ মুঠির ভ্রূকুটি, সংকোচ। অন্তু কহে--- তোর আকাশে কৃষ্ণচূড়া রামধনু, চাঁদ বাঁকা।আমার মেঘলা, একটি রঙ বুকে থাকুক আঁকা। ' আনন্দি কহে --- আনন্দে থাকে সে ছোট্ট আশা টুটি, আসে রোদ্দুর-আকাশ তলে,যত্নে বাঁধে সে মুঠি। @ দূরের ওই ধ্রুব তারা আমি দেখি,দেখে সে, ধারায় হারায়, সে না হারায়,জীবন-খেয়া ধেয়ে। ছিন্ন কি প্রেম ভিন্ন পথে, জীর্ন ইচ্ছে, তরণী ?অরুপরতন সেযে ব্যথায় বাঁধা, প্রেম বিজয়ী আপনি। ' ... ...
আজ চৈত্রমাসের কৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথি। আকাশ যেন কালো পাথরের টানা মিটিং টেবিল। আমি ছাদে উঠে দাঁড়ালাম। পাঁচিলের গায়ে এবছরের নতুন মেরামতির ছাপ পড়েছে। সকালের রোদে সিমেন্টে যে উত্তাপ সঞ্চিত হয়েছিলো, হাত ছোঁয়ালে তার আবছা উষ্ণতা এখনও বোঝা যায়। ওপারে কীর্তনের আসর বসেছে কোথাও। খঞ্জনির শব্দ আর সুরঝংকারটুকু কানে এলেও একটা শব্দও বুঝতে পারা যায় না। যেমন মনের একেকটি তরঙ্গের আঘাত সমগ্র অন্তরাত্মাকে উদ্বেলিত করে, অথচ তা ঠিক কী বলতে চাইছে বোঝা যায় না। ফুল দিদিমা বলে, এমনই এক চৈত্রের কৃষ্ণা ত্রয়োদশীর রাতে পাঁচিলের ধারে এসে দাঁড়িয়েছিলেন বড়দাদু। প্রতিদিনের মতো সেদিনও সন্ধ্যায় জপ-ধ্যান সেরে তিনি উঠেছিলেন। তারপর ঠিক এখান থেকে...হ্যাঁ,এখান থেকেই --!জানি,বড়দাদুর ... ...
( ২ ) মাঠে মেডিক্যাল টিম বলতে তেমন কিছু নেই। এই ধরণের ম্যাচে থাকেও না। দলের অবৈতনিক ফিজিক্যাল ট্রেনার এবং দুজন রিজার্ভ বেঞ্চের প্লেয়ার মাঠে ঢুকে যতটা সম্ভব শুশ্রূষা করার চেষ্টা করতে লাগল। উৎকন্ঠায় অস্থির হয়ে ক্লাব সভাপতি প্রদীপ ঘোষ মাঠে ঢুকে গেলেন। কিন্তু রেফারির নির্দেশ মেনে তাকে আবার বাইরে চলে যেতে হল।একটানা ঠান্ডা পেন কিলার স্প্রে করতে লাগল ট্রেনার প্রত্যুষ সাহা। একটা পেন কিলার ট্যাবলেটও খাওয়াল শংকরকে। বরফ ঠান্ডা স্প্রের প্রভাবে শংকরের ব্যথা অনেকটা নরম হয়ে আসল। বরানগর ইউনাইটেড অপ্রত্যাশিত অগ্রগমনের উৎফুল্লতা হারিয়ে ফেলতে চাইছে না। জানে শংকর মাঠ ছাড়লে তাদের ডিফেন্সের কি হাল হবে। তারা ওকে খেলাতে মরীয়া। ... ...
শুভেন্দু অধিকারী জয় বাংলা স্লোগান শুনে কালকে রাস্তায় একজনকে মারতে গিয়েছিলেন। জয় শ্রীরাম বলে খানিকক্ষণ চেঁচামেচি করেন, তারপর রোহিঙ্গা বলে গাল দেন, এবং সবশেষে নিজের নিরাপত্তারক্ষীদের ডেকে হিন্দিতে আদেশ দিয়ে ওই একলা বাঙালি যুবকটিকে ঠ্যাঙান। এই ভিডিও ভাইরাল (বিশদে জানতে হলে গুরুর ভিডিও চ্যানেল দেখুন দুপুর ১২টায়)। খিল্লি, ছিছিক্কার সবই হচ্ছে, কিন্তু দেখুন, যে যাই বলুন, শুভেন্দুর প্রতি আমার সম্পূর্ণ সমবেদনা আছে। কেউ কেউ বলবেন, উনি নিজের পার্টির পিছনেই বাঁশ দিয়েছেন। সেটা ঠিকই, কারণ ওঁর দলের নেতারা বাংলায় এসে বাঙালি হবার চেষ্টা করছেন, কেউ জয় মা কালী বলছেন, কেউ তো জয় বাংলাও বলছেন। শুনে যদিও ভারতীয় জেমিনি-সার্কাস পার্টির মতো লাগছে, কিন্তু চেষ্টায় কোনো খামতি নেই। কেন করছেন? না, বাংলায় জয় ... ...
( ১ ) কৌশিক দত্ত মনোময় মৈত্রকে কনুইয়ের হাল্কা ঠেলা মেরে বললেন, ‘ প্লেয়ারটার স্পট জাম্প দেখেছ ? মনে হচ্ছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো স্টপারে খেলছে। এয়ারে এখন পর্যন্ত একবারও বিট হয়নি।’— ‘ হ্যাঁ সেটাই দেখছি ..... গ্রাউন্ডেও দারুণ স্ট্রং। দুর্দান্ত অ্যান্টিসিপেশান .... একটাও ট্যাকল মিস হচ্ছে না.... ‘ গাল চুলকোতে চুলকোতে আনমনে বললেন মনোময়বাবু। কৌশিক দত্ত মাঠের খেলা থেকে চোখ না সরিয়েই বললেন, ‘ এরকম একটা পেলে হত .... ‘— ‘ তাই তো .... ‘ মাঠটা লম্বায় বড় হলেও চওড়ায় একটু কম। এখন পর্যন্ত এদের গোলকিপারকে ... ...
চাকরিতে অবসরের পর রতনবাবু সম্প্রতি ফিরলেন কলকাতায় একটি নতুন জায়গায়। চাকরি জীবন তার বেশি সময় প্রবাসেই অতিবাহিত হয়েছে। হাতে একটি ব্যাগ নিয়ে মাছ সবজি কিনতে বেরিয়েছেন। রতনবাবুর তার বাল্য বন্ধু বিষন্নবাবুকে দেখতে পেয়ে যারপরনাই খুশি। কিন্তু বিষন্নবাবু বড় বিষন্ন বদনে বাজারে দাঁড়িয়ে আছেন কেন? রতনবাবু একটু এগিয়ে গিয়ে আস্তে আস্তে বিষন্নবাবুর পিছন ... ...
( ৪২ ) বিভূতিবাবু অনেকদিন পর গঙ্গার দোকানে এসে বসেছেন। আজ আকাশ মেঘলা। বৃষ্টি হতে পারে মনে হচ্ছে। বিভূতিবাবু বললেন, ' কি রে গঙ্গা কেমন বুঝছিস ?অন্য কিছু দেখা যাচ্ছে ? '---- ' আমাদের আর অন্যরকম কি হবে ? যেমন ছিলাম তেমনই আছি ... শুনছি এরা নাকি গরীব মানুষের পার্টি ... দেখা যাক ... '---- ' যা বলেছিস ... আমরা হলাম ছাপোষা গেরস্থ। না হোমের না যজ্ঞের। কে এল কে গেল কি আসে যায় আমাদের ... নে একটা চা বল ... '----- ' হ্যাঁ, এই প্রশান্ত ... দুটো চা বলে আয় তো ... '---- ' জন্মেজয়বাবুর ... ...
ভোলেবাবা পার করেগা …..?? শাস্ত্র মতে শ্রাবণ মাস হলো ভগবান শিবের জন্মমাস। একেবারে সাধারণ আত্মভোলা স্বভাবের জন্য এদেশে ভগবান শিবকে পছন্দ করেন বিপুল সংখ্যক মানুষ। তাই ক্যালেন্ডারের পাতা আষাঢ় মাস পেরিয়ে শ্রাবণ মাসে পড়তেই তাঁর আপামর ভক্তকুল উদগ্রীব হয়ে ওঠে বাবাকে দর্শন করতে। “ভোলে বাবা পার করে গা, ত্রিশূলধারী পার করেগা”-- হাঁক দিতে দিতে, বাঁক কাঁধে পূত পবিত্র গঙ্গার জল নিয়ে পায়ে পায়ে পৌঁছে যান নাগালের মধ্যে থাকা কোনো শৈবধামে। বাবার মাথায় জল ঢেলে, বাবার শ্রী চরণে ষাষ্টাঙ্গে প্রণাম করে সেবা চড়িয়ে তৃপ্ত হৃদয়ে স্ব স্ব গৃহে ফিরে যান তাঁরা। এটাই নাকি তাঁদের সম্বৎসরের উজ্জীবন সুধা।কয়েক শতক ধরে এই নিয়মেই ... ...
মানসিক অবসাদ এবং দিশেহারা ভাব সাম্প্রতিক কালের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে কখনো প্রকটভাবে, আবার কখনো বা প্রচ্ছন্নভাবে প্রকাশ পাচ্ছে। এর দায় শুধুমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে দিয়ে, সমাজ তার পিঠ বাঁচাতে পারবেনা। বিপুল সিলেবাস, প্রতিযোগিতা, চাকরীর অভাব, গবেষণার ফেলোশিপের টাকায় সংসার টানা, অপরের উন্নতি, সরকারি চাকরিতেও সুরক্ষার অভাব, উচ্চশিক্ষার দ্বারা পি এইচ ডির পরেও চাকরিহীনতা, উপযুক্ত গবেষণাভিত্তিক পেপারের অভাব, ব্যক্তিগত জীবনে প্রেমভালোবাসা-ব্রেকাপ ইত্যাদি নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে আজকাল অনেকেই। এরফলে আত্মহত্যার ঘটনাও মাঝেমধ্যেই খবরের শিরোনামে আসে। এই বিষয়টি যে একেবারেই নতুন তাও কিন্তু নয়। তবে এইধরনের খবর মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য "ঝটপট ঝোড়ো খবর", "১০০ মিনিটে ২০০ খবর", “রাত বারোটায় রুদ্ধশ্বাস বারো" ... ...
উইকিপিডিয়া বলছে, বামপন্থী রাজনীতি হচ্ছে সেই রাজনৈতিক অবস্থান বা কর্মকাণ্ড যা সামাজিক অসাম্য ও সামাজিক ক্রমাধিকারতন্ত্রের বিরুদ্ধে সামাজিক সাম্যকে গ্রহণ বা সমর্থন করে। এই রাজনীতি বিশেষভাবে সমাজে যারা অন্যের তুলনায় কম পায় বা সুযোগহীন থাকে তাদের ব্যাপারে নিরবচ্ছিন্ন ভাবে কাজ করে থাকে অনেক অনেক বছর ধরে। বামপন্থার ব্যাপ্তি শুধু একটি অঞ্চল বা দেশ বিশেষে হলে কিংবা বামপন্থা শুধুমাত্র কোন থিয়োরি হলে এর সম্পর্কে বা এর ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আলোচনা করা যেত। বামপন্থা একটি মনন ও যাপন। তাই নিরলস ও নিরবচ্ছিন্ন যাপনচিত্র ও মনন শৈলী এর ভবিষ্যত ঠিক করে। তাও বিতর্কের খাতিরে যদি এ বঙ্গের বাম ভবিষ্যত ... ...
নীল সাদা আকাশি আর গোলাপি রঙের মিশ্রণ মেঘে দের সে গভীরতা যার দুদিকের সমান উচ্চতা পাহাড়ি নদী র মতো স্বচ্ছ যার স্পর্শে সেই সামাজিক একঘেমেয়িরা ঘুমিয়ে থাকে নেমে আসে জল হয়ে মাঝেমাঝে কবিতার মতো দেখতে লাগে আর তাই এখনো নিস্বব্ধতা মাঝরাতের আবেগে নিস্তরঙ্গ ভাবে জাগে আজও বেহিসাবি বৃষ্টি অবিরাম কোনো আবেগ ছোঁবে আর ভাষাদের সাথে ভাসবে আর শব্দ হয়ে ভাসাবে বৃষ্টির শীতলতা আর গভীরতা ধূসরতা কাটাতে পারেনি শান্তি নিবিড় এক কালবৈশাখী ঝড় আর ওই এক পশলা বৃষ্টির কাছেই যত অবাধ্যতা আর অবৈধতা জমা পড়ছে তাই বৃষ্টি কখনো নিসিদ্ধ হয়নি। ... ...
সম্পাদিত পর্ব দেখার আমন্ত্রণ রইলো। সর্বশেষ পর্বে ঢু দিয়ে দেখুন। রুমির কবিতা: রেসপন্স টু ইওর কুয়েশ্চন নিউজপেপার থেকে লিনা জানতে পারলো, রুশ এক সাংবাদিক নিজের নোবেল পুরষ্কার নিলামে বিক্রি করে দিয়েছেন। নিলাম থেকে অর্জিত টাকা তিনি ইউক্রেনের যুদ্ধগ্রস্ত শিশুদের শিক্ষাখাতে খরচ করেছেন। লিনা বুঝতে পারে মানুষের মাঝে এখনও কিছুটা মানবিকতা অবশিষ্ট আছে। মানুষ এখনও মানুষকে ভালোবাসে। গ্লোবালাইজেশনের এই যুগে কেউই যুদ্ধের পক্ষপাতি নয়। বিশ্বের বহু রাষ্ট্রের মতন রাশিয়ার একটা বিশাল অংশের জনগণও এই যুদ্ধকে নিন্দা জানিয়েছে। প্রটেস্টও করেছে। যুদ্ধ থামাতে করেছে মানববন্ধন। কিন্তু ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রনায়কেরা এরকম একটা ক্রান্তিকালে মানুষের নিরাপত্তাকে জুয়ায় লাগিয়ে অমানবিক যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। কোনো উন্মাদও তো আসলে পৃথিবীতে যুদ্ধ ... ...
আন্দ্রেই তারকভস্কি একদা বলেছিলেন, স্মৃতির রং হয়, আর সেই রং হল সেপিয়া। কথাটা কতটা ব্যঞ্জনাময় বোঝা যায় যখন ঘর-গোছানোর মাঝে আচম্বিতে খুঁজে পাওয়া যায় পঞ্চাশ বছরেরও বেশি আগের কিছু চিঠিপত্র। বেশির ভাগই ব্যক্তিগত স্মৃতির ভাণ্ডার। কিন্তু কিছু কিছু থাকে, যা আবার যৌথ-স্মৃতির অংশে বিরাজ করে। ব্যক্তিগত চিঠিই, কিন্তু বংশ ও সামাজিক পরম্পরায় পঞ্চাশ বছরের ব্যবধানে তা পরিণত হয় যৌথ-চিঠি থুড়ি যৌথ-স্মৃতির বিষয়ে। পঞ্চাশ বছরের পূর্বের চিঠি অবশ্যই আমার নয়। আমার বাবা অঙ্কের অধ্যাপক শ্রী শঙ্কর চন্দ্র ঘোষ ছিলেন তৎকালীন সময়ের ফিল্ম সোসাইটি CALCUTTA CINE INSTITUTE-র সদস্য! সিনে বাফ যাকে বলে বাবা ছিলেন তাই। এই ফিল্ম সোসাইটির অস্তিত্ব ... ...
একটু শুনবেন। এখানে যতজন আমাকে মন্তব্য করেছেন, তাঁরা সকলেই পুরুষ। আশা রেখেছিলাম যে, বছর পঁচিশের মধ্যে এমন কোনও মেয়ের মন্তব্য পাব, যিনি সত্যিই আসলে কবিতা লেখার চেষ্টা করছেন। কিন্তু এখনও পাইনি। তেমন কেউ নেই এখানে? বাংলা কবিতা যাঁরা পড়েন, তাঁরা জানেন, মল্লিকা সেনগুপ্ত একজন কবি। বছর পঁচিশের মধ্যে এমন কোনও মেয়ে কি নেই এখানে? শ্রীমল্লার কৃষ্ণনগর, ২৬ জুলাই ২০২৫ ... ...
আমার প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর নিজেকে দেখতে শেখায় দেখি, বুঝি উপলব্ধি করি।আদিম জনজাতির জঙ্গলে থাকা সময়ে বেঁচে থাকাটা একটা লড়াই ছিল খাদ্যের লড়াই বাসস্থানের লড়াই হিংস্র জীবজন্তুর সাথে লড়াই টিকে থাকার লড়াই। আমাদের কংক্রিট শহরে জঙ্গল এর চিন্হ নেই কিন্তু লড়াই এখানেও অবসম্ভাবী। জায়গা দখলের লড়াই জায়গা বজায় রাখার লড়াই নিজের প্রচারের লড়াই নিজেকে বাচিয়ে রাখার লড়াই টিকে থাকার লড়াই। সভ্যতা ও একটা লড়াই হয়ে দাড়াচ্ছে। কোথায় যেন মাঝে মাঝেই সেই আর্তনাদে শোনা যায় জঙ্গলের জীবন। নিওন আলোর মধ্যেও সে এক অদ্ভুত অন্ধকার জমাট বেঁধে থাকে। আমরা আজকাল অনেক কিছুতে পারদর্শী। শুধু নিজেদের মুখোমুখি হতে বড় ভয় লাগে। আমাদের জীবন মুখোশের ... ...
ভারতের কর্ণাটকের গোকর্ণ শহরের কাছে একটি গুহায় পাওয়া গিয়েছিল এক রাশিয়ান মহিলা নিনা কিতিনাকে। তার দুই মেয়েকে নিয়ে তিনি সেখানে প্রায় আট বছর ধরে বাস করছিলেন। ঘটনাটি হলো:নিনা কিতিনা (৪০ বছর বয়সী) এবং তার দুই মেয়ে, গোকর্ণের কাছাকাছি একটি জঙ্গলে গুহার ভেতরে বসবাস করতেন। তাদের সঙ্গে কোনো বৈধ কাগজপত্র ছিল না, এবং তারা ২০১৫ সাল থেকে ভারতে বসবাস করছিলেন। পুলিশ তাদের উদ্ধার করে, এবং বিদেশি নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তাদের প্রক্রিয়াকরণ করা হয়। নিনা জানিয়েছেন, তিনি এবং তার মেয়েরা একটি প্রাকৃতিক জীবনযাপন করতেন, এবং তারা সেখানে শান্তিতে ছিলেন। তাদের উদ্ধার করার পর, নিনা জানান যে, তারা মারা যাওয়ার মতো অবস্থায় ছিলেন না। নিনা হিন্দু দর্শনে আকৃষ্ট ... ...
মা লক্ষীর পায়ে পেন্নাম ঠুকে খাতা খুললুম গুরু তে . পেন্নাম ঠুকলুম কারণ মা এর বাহন যে গুরুর মাথায় বসে ; আপাত নির্লিপ্ত মহাজ্ঞানী ; ধ্যানমগ্ন, অথচ পর্যবেক্ষণ করে চলেছেন সব ; এমনকি লিখতে লিখতে কে নাক খুঁটছে, তাও ...... তা আমার একটা সমস্যা হয়েছে : মাসখানেক হলো কলমে কবিতার লাইন এসে পৌঁছোচ্ছে না ঠিকমতো ; একদম আসছে না তা নয় কিন্তু যা হচ্ছে সে আরো বিরক্তিকর ; অনেক টা সেই সমুদ্রের ঢেউ এর ফিরিয়ে আনা ছেঁড়া চটি - চপ্পলের মতো। ....এ হেনো পরিস্থিতির মাঝে কিছু টোটকার মতো কবিতা খুঁজছিলাম ; তারই দুটোর কিছু অংশ তুলে ধরলাম এখানে : " ... ...
বাউল-ফকির সংস্কৃতিতে লৌকিক নারীত্ববাদ ও লিঙ্গ-তত্ত্বীয় আধ্যাত্মিকতা (Gender Mysticism and Vernacular Feminism in Baul-Fakir Cultures)১. ভূমিকা: উপেক্ষিত আধ্যাত্মিক নারীত্বকে পুনর্চিন্তাবাংলার বাউল-ফকির ঐতিহ্যে ‘লিঙ্গ’ কেবলমাত্র সামাজিক নির্মাণ নয়, বরং এটি এক গূঢ় রূপান্তরের ক্ষেত্র। বাউল নারীকে অনেক সময় কেবল ইরোটিক স্বাধীনতা বা লোকজ রহস্যময়তার প্রতীক হিসেবে ভুলভাবে চিহ্নিত করা হয়। বাস্তবে, এই নারীচরিত্র এক র্যাডিকাল নারীত্বের রূপ, যেটি ঈশ্বরিক শক্তির আধার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। এই অধ্যায়ে আলোচনা করা হবে বাউল-ফকির নারীদের গুপ্ত সংকেত, দেহকেন্দ্রিক সাধনা ও নারী-মাতৃত্বতত্ত্ব—যেমন মদিনা/মা তত্ত্ব—যা এক বিকল্প আধ্যাত্মিক নারীত্ব নির্মাণ করে। ২. মিস্টিক নারীত্ব: দেহতত্ত্ব ও লিঙ্গ-অলঙ্ঘনবাউল-ফকির দর্শনে দেহ (দেহতত্ত্ব) হল মহাজাগতিক লীলা বা খেলার ক্ষেত্র। এখানে লিঙ্গ প্রবাহমান, পরিবর্তনশীল ... ...