শিল্প কীভাবে আসে, কেউ জানে না।আমি যে পরিবার থেকে আসছি, সে পরিবারের শিল্পে কোনও পূর্ব ইতিহাস নেই। এমনকী, আমি যে কবিতা লেখার চেষ্টা করি, সে সম্পর্কেও আমার বাড়ির লোকের কোনও ধারণাই নেই। কয়েকমাস আগে আমাদের বাড়িতে জেঠিমা আর পিসিমা এসেছিলেন। তো আমাকে ডাকলেন, আমিও গেলাম। 'এখন কী করছ?' জানতে চাওয়াতে জানিয়েই দিলাম যে, বাংলায় কবিতা লেখার চেষ্টা করছি। বন্ধুদের পড়াই, ওরা তারিফও করে, সমালোচনাও করে। এইই চলে যাচ্ছে। ওঁরা বললেন যে, তাহলে কি কোনও বাচ্চাদের পড়াচ্ছ? এর জবাবে বললাম, একেবারেই না। এই একটাই কাজ করছি সারাদিন— বাংলায় কবিতা লেখার চেষ্টা। মাঝে মাঝে অবাক লাগে, যখন দেখি এত ডাইরি জমে গেছে! কী ক'রে লিখলাম? এত এত কবিতা ... ...
৩ অক্টোবর, ১৯৩৫ সাল- ইতালিয়ান ফোর্স বর্তমান ইথিওপিয়া আক্রমন করে। (দ্বিতীয় ইউরোপীয়-আবিসিনিয় যুদ্ধ) এই যুদ্ধ শুধুমাত্র আফ্রিকা মহাদেশীয় ইতিহাসই বদলে দেয় নি। বরং সেই সাথে মানব সভ্যতার ইতিহাসেও গনতান্ত্রিক এবং ফ্যাসিবাদ রাষ্ট্রের ইতিহাস বদলের সূচনা করেছিলো- আর তা হলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। উল্লেখ্য, ১৮৯৬ সালের আদওয়া যুদ্ধে (প্রথম ইউরোপীয়-আবিসিনিয় যুদ্ধ) ইতালিয়ান রয়েল ফোর্সের প্রায় ৬০০০ সামরিক সদস্য মারা যায়। প্রথমবারের মতো একক ইউরোপীয় শক্তি ধ্বংসে আফ্রিকান ইতিহাসে তা চিরস্মরনীয়। নিজেকে রোমান সাম্রাজ্যের সমরনায়ক আর রাষ্ট্রনায়ক জুলিয়াস সিজার এর সাথে তুলনা করা- ইতালির ফ্যাসিবাদী নেতা বেনিতো মুসোলিনি নতুন রোমান সাম্রাজ্য তৈরীর স্বপ্নে বিভোর, ইতালির কলোনি রাষ্ট্র সমূহ যেমন- লিবিয়া, আবিসিনিয়া (ইথিওপিয়া) সহ ইতালিয়ান সোমালিল্যান্ড ... ...
“অভয়া” কান্ডের এক বছর হয়ে গেল। বিচার ও তদন্ত বিখ্যাত হিন্দি সিনেমার সংলাপের মতো “তারিখ পে তারিখ”ই হয়ে যাচ্ছে। অভয়া তাঁর কর্মস্থলে নির্যাতিতা ও খুন হয়ে ছিলেন। একটি জঘন্য ও ঘৃণ্য ব্যাপার। বর্তমান সময়ে বাঙালি মধ্যবিত্ত শিক্ষিতা এবং চাকুরীররতা মেয়েদের অবস্থা কি অভয়ার থেকে আলাদা কিছু? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আমি “বিন্দু তে সিন্ধু দর্শন” বলে যে প্রাচীন বাংলা প্রবাদ আছে, সেই পদ্ধতি অনুসরণ করেছি। যদি কোনও একজন এই রকমের মেয়ের জীবন হুবহু উন্মোচিত করা যায়, তবে সমস্ত এই ধরনের মেয়েদের প্রকৃত অবস্থা আমাদের সামনে ফুটে উঠবে। তাহলেই আমরা বুঝতে পারবো আদতে বাঙালি মধ্যবিত্ত শিক্ষিতা চাকুরীররতা মেয়েদের অবস্থা সত্যি সত্যি ... ...
||২||[মুক্তবার্তা প্রেসের অফিস। গৌতম একমনে টেবিলে কাজ করছেন। একটু দূরের দুটি চেয়ারে বসে রয়েছে সত্যকাম ও চৈতালী ] চৈতালী : স্যার, মি. বসাক বলছিলেন যে এবারের শারদীয়া মুক্তবার্তায় নাকি একটা চমক থাকতে চলেছে। গৌতম : তাই নাকি? কই, জানি না এখনো পর্যন্ত। সত্যকাম : আমিও সেটাই ভাবছি। সাধারণত, আমাদের শারদীয়া সংখ্যায় একটা বড়ো প্রাপ্তি থাকে আপনার লেখা। এবার দেখা যাক, কী ব্যাপার! গৌতম : 'সম্পাদকের কথা ' তো প্রতি সংখ্যাতেই বাধ্যতামূলক। এতে আবার প্রাপ্তির কী হলো? সত্যকাম : স্যার, বসাকবাবু জানেন যে আজকাল কোনো পত্রিকা চালাতে গেলে ... ...
কিছু ঘটনা এতবেশি ভেবেছি যে ভুলতে পারিনি। আমাদের প্রত্যেকের জীবনেই একজন ক’রে ‘সে’ থাকে। আমারও ছিল, কিন্তু একতরফা। ‘ছিল’ কেন সেই প্রসঙ্গে আসছি। মেয়েটি কোনওদিনই আমাকে প্রতিশ্রুতি দেয়নি। কিন্তু আমিই আশায় আশায় এতদিন এই ভেবেই পড়েছিলাম, একদিন সে ফিরবেই। সে মেয়ে আমাকে কতবার জানিয়েওছে, তার কোনও তেমন অনুভূতি হয় না আমার প্রতি। এই মেয়ের সঙ্গে এখনও আমার যোগাযোগ আছে। যদিও নিয়মিত কথা হয় না। কিন্তু আমি এই মেয়ের কাছে কতভাবে যে চিরঋণী! আমার দুঃসময়গুলোয়— পাশে থেকে সাহস জুগিয়েছে আমার।কিন্তু সম্প্রতি একটা বড় পরিবর্তন ঘটে গেল আমার নিজেরই ভেতরে। সেই মেয়ের প্রতি আমার আর কোনও টান নেই। এমনকী, ভালোবাসাও নেই। মিথ্যে বলছি না। যা অনুভব ... ...
নাকছাবিমুহাম্মদ ফজলুল হকঅনিন্দ সুন্দর গ্রাম। সবুজের নান্দনিক আধিক্যে সতেজ চারপাশ। সরু খাল সাপের মত একেবেঁকে এগিয়ে গেছে গ্রামের একপাশ ঘিরে। অপর দিকে সারি সারি পুকুর। পুকুর পেড়িয়ে এগুলে বিস্তৃর্ণ ফসলি জমি। জমির মাঝ বরাবর মাটির রাস্তা দিয়ে হেটে কিছুদূর এগিয়ে গেলে আঁকাবাকা নদী। নদী, খাল, পুকুর ও ফসলি জমির আর্শীবাদ গ্রামকে জীবন্ত রেখেছে। মানুষকে সুখে-শান্তিতে বসবাসের রশদ দিচ্ছে। অনন্য পরিবেশে ঘনবসতি কম হওয়ায় শান্তিতে বসবাস করছে মানুষ।শান্তিময় গ্রামেজুড়ে অশান্তি শুরু হয় হরিদাসের নতুন বউয়ের মরাকান্নাতে। হারিয়ে গেছে তার সোনার নাকছাবি। নিশ্চয়ই চুরি হয়েছে। মানুষ জড়ো হয়। কোন সান্ত্বনায় কান্না থামে না। তার কথা একটাই। আমার নাকছবি চাই। হরিদাস অবাক হয়ে ... ...
কফির উৎপত্তি ইথিওপিয়ায়। ধারণা করা হয়, খ্রিষ্টীয় নবম শতকে এক রাখাল কালদি প্রথম কফি আবিষ্কার করেন। তিনি লক্ষ্য করেন, তার ছাগলগুলো একটি লালচে বেরি খাওয়ার পর অস্বাভাবিক চঞ্চল হয়ে উঠছে। সেই বেরিই ছিল কফির ফল (কফি চেরি)। আরব দেশে প্রসার: ইথিওপিয়া থেকে কফি আরব দেশে ছড়িয়ে পড়ে। ইয়েমেনের মোকার বন্দর ছিল কফি বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র। সেখান থেকেই “মোকা কফি” নামটি এসেছে। মুসলিম সুফিরা কফি পান করতেন রাত জেগে ইবাদত করার জন্য। ধীরে ধীরে কফি আরব সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে। কফি হাউসের জন্ম: ১৫শ শতকে কফি ছড়িয়ে পড়ে মিশর, তুরস্ক এবং পারস্যে। ইস্তাম্বুলে প্রথম কফি হাউস চালু হয়। কফি হাউসগুলো শুধু কফি পান করার ... ...
চারপাশে কত ধরনের লোকজন দেখতে পাই। কেউ খুব হাসিখুশি, কারুর মুখ সবসময়ই গোমড়া। কেউ হোমড়া-চোমড়া, কেউ ক্যাবলা। কেউ সবসময় কিছু ভাবছে, কারুর মনে কোনো চিন্তাই নেই.. বিন্দাস।আমরা পছন্দ করি সেইসব মানুষকে যারা প্রচুর কথা বলে। যারা সব সময় পরিবেশ মাতিয়ে রাখে। কোনো আড্ডার কেন্দ্রবিন্দুতে তারাই জ্বলজ্বল করে। আর তাদের আলোতে চাপা পড়ে যায় কিছু মানুষ যারা কম কথা বলে।কিছু মানুষ আছেন যারা সবার সঙ্গে খুব সহজেই বন্ধুত্ব করে ফেলতে পারেন। হাসি ঠাট্টা মজায় মেতে ওঠেন মুহুর্তের মধ্যেই। আর কিছু মানুষ আছেন যারা নিজের মনের কথাটা ঠিক গুছিয়ে বলে উঠতে পারেন না বলে যেকোনো আড্ডাতেই সবার অগোচরেই থেকে যান। সাধারণ ভাবে এই ... ...
"অভয়া" কান্ডের এক বছর হয়ে গেল। বিচার ও তদন্ত বিখ্যাত হিন্দি সিনেমার সংলাপের মতো "তারিখ পে তারিখ"ই হয়ে যাচ্ছে। অভয়া তাঁর কর্মস্থলে নির্যাতিতা ও খুন হয়ে ছিলেন। একটি জঘন্য ও ঘৃণ্য ব্যাপার। বর্তমান সময়ে বাঙালি মধ্যবিত্ত শিক্ষিতা এবং চাকুরীররতা মেয়েদের অবস্থা কি অভয়ার থেকে আলাদা কিছু? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আমি "বিন্দু তে সিন্ধু দর্শন" বলে যে প্রাচীন বাংলা প্রবাদ আছে, সেই পদ্ধতি অনুসরণ করেছি। যদি কোনও একজন এই রকমের মেয়ের জীবন হুবহু উন্মোচিত করা যায়, তবে সমস্ত এই ধরনের মেয়েদের প্রকৃত অবস্থা আমাদের সামনে ফুটে উঠবে। তাহলেই আমরা বুঝতে পারবো আদতে বাঙালি মধ্যবিত্ত শিক্ষিতা চাকুরীররতা মেয়েদের অবস্থা সত্যি সত্যি কি ... ...
আপনারা ভুলে গেছেন, বোধহয় বছর খানেক আগেই উনি বলেছিলেন, অপু-দুগ্গা যেমন ট্রেন দেখতে যেত, ছোটোবেলায় উনি কলকাতার মেট্রো দেখতে আসতেন। ওদিকে ওঁর জন্ম ১৯৫০ সালে, কলকাতা মেট্রো চালু হয় ১৯৮৪ তে। অপু-দুগ্গার ব্যাপারটা অবশ্য বলেননি, ওটা বিবেকের পরের সিনেমায় থাকবে। উনিজি হাপ্প্যান্ট পরে ধোকলা খেতে খেতে হাঁ করে পার্কস্ট্রিট মেট্রো স্টেশন দেখছেন। দূর থেকে কু-ঝিক-ঝিক করে ট্রেন আসছে। স্টেশনের দেয়ালে লাল অক্ষরে লেখা বামফ্রন্টের স্লোগান "বাংলাদেশী লাও, বাংলা বাঁচাও"। সেই লেখা মুছে "মা ভারতী"র ছবি আঁকছেন এক বিখ্যাত চিত্রকর। তিনি অরিন্দম চ্যাটার্জি, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের ভাই। দূর থেকে দেখতে পেয়ে সিপিএম মোল্লাবাহিনী মার মার বলে দৌড়ে আসছে। ডায়রেক্ট অ্যাকশন। তাদের তাতে অস্ত্র, থুতনিতে লম্বা দাড়ি, লেনিনের মতো ... ...
[কবি সোমনাথ সরকারের কবিতার এই নামটি যে কতোখানি প্রাসঙ্গিক, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই এই দীর্ঘ উপস্থাপনার জন্য শ্রদ্ধেয় কবির কবিতার নামটি গ্রহণ করেছি। এই ধৃষ্টতার জন্য প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে রাখছি। কবিতার নামকে নাটকের নাম হিসাবে ব্যবহার করার উদাহরণ পূর্বেও আছে। যাইহোক,এটা সঠিক কোনো নাটক একেবারেই হয়নি। ব্যকরণ বা নাটক সাজানোর structure মানছে না এবং কিছুটা দীর্ঘ হয়েছে। নাটক ও কবিতা দুটিই হলো সাহিত্যের প্রাচীনতম ও কঠিনতম ধারা,তাই যোগ্যতাহীনের ত্রুটি মার্জনীয়। নাটকের ক্ষেত্রে সময়পর্বের বিভাজন যেভাবে বিভিন্ন দৃশ্য এবং অঙ্কে বিস্তৃত হয়,সেটা প্রায় সময়েই এখানে ঠিক নেই।পরপর ঘটনার ধারাবাহিকতা থেকেছে ও কয়েকটি দিনের পারস্পরিক বিন্যাস তুলে ধরা হয়েছে। তবু ... ...
ঐ যে ঐ যে গল্পটা যাচ্ছে দেখুন— ওখানে কিন্তু এখনও জীবনানন্দের যাওয়া আসা আছে। ব্যাপারটা হল যে, ঈশ্বরে বিশ্বাস নেই। পাখিতে আছে। নদীইইইইইই,– এই সন্ধে হলেই ঘরে ফিরবে। যদিও সন্ধে হয়েই এসেছে। ঘাড়টা সামান্য ডানদিকে ঘোরান— ঘুড়িটাকে দেখুন, কীভাবে মেঘ টপকাচ্ছে! আর কী যেন... হ্যাঁ হল হচ্ছে জীবনানন্দ, জীবনানন্দ, জীবনানন্দ কিন্তু ট্রামের চেয়েও ধীর গতিতে চলতেন... না না চলতেন না, চলছেন তো এখনও! বেশ চলছেন...হিঃ হিঃ হিঃ মেয়েটাকে দেখে এক্ষুনি বমি বেরিয়ে আসছিল আমার। ছেলেটা পাত্তাই দিচ্ছে না। এভাবে প’ড়ে থাকে কেউ? না বিয়ে এখনও হয়নি আমার। কিন্তু এই মেয়েটাকে... মেয়েটাকে দেখতে বড্ড...তেমন অবকাশ নেই, নইলে মেয়েটাকে প্রোপোজ ক’রে আসতাম। কী হতো তবে? এমনই হয়তো হতো, ওদিকে মেয়েটাকে ছেলেটা পাত্তা দিচ্ছে ... ...
জনতা মানেই কি বেকুব? নাকি বেকুব মানেই জনতা? জনতারই করের টাকা। জনতার প্রয়োজনেই তৈরী। জনতাই তার মূল্য চোকাবে নতুন করে ভাড়া গুণে গুণে। আর জনপ্রতিনিধিরা, যারা কস্মিনকালেও নিজের পকেটের পয়সা ব্যায় করে মেট্রোরেলে চড়বে না। তাদের সামনে পিছনে সরকারি লালবাতি নীলবাতি গাড়ি। আর কম্যাণ্ডো বাহিনী। সেও জনতারই করের টাকায়। অথচ টিভি খুললেই দেখতে হচ্ছে মহানুভ সরকারের শ্রীমুখ। এই যেন জনসাধারণের জন্য তৈরী মেট্রোরেল আসলে রাজনৈতিক দলের বদান্যতার দান। সেই মেট্রোরেল করে দিয়ে জনতাকে কৃতার্থ করা হলো। তাই আজ মেট্রোরেলের উদ্বোধন হচ্ছে। সেও হচ্ছে সেই জনতার টাকা ভেঙ্গেই। এক উদ্বোধন সমারোহেই কয়েক কোটি কি কয়েকশো কোটি ব্যায়। তারপর এর পকেট ওর ... ...
চেতনা বিষয়ক প্রস্তাবনা আলোচনার প্রথমে আমরা খোলা মনে চেতনা বিষয়ক ২টা কথা ঝটপট শেষ করতে চাই। প্রথমত, 'চেতনা' হচ্ছে এমন বিষয়, যার মাধ্যমে ব্যক্তিগত, সমষ্টিগত, রাজনৈতিক এবং ঐতিহাসিক জ্ঞানসমৃদ্ধ এক রকমের প্রজ্ঞাপ্রসূত সচেতনতা সমাজের প্রান্তিক পর্যায়ে 'সংক্রামিত' হয়। সংক্রমণের কথা বলার প্রধান কারণ, এই চেতনা ঠিক ভাইরাসঘটিত রোগের মতনই সমাজে ছড়িয়ে পড়ে। দ্বিতীয়ত, চেতনা কখনোই ব্যক্তি পর্যায়ে থেমে থাকে না। যদি থেমে থাকে, যদি সমাজের দশ জনের বিবেচনাবোধের উপর প্রভাব বিস্তারে ব্যর্থই হয় তবে তাকে আমরা 'চেতনা' বলতে পারি না। চেতনা বস্তুত বহুরৈখিক এবং প্রায়োগিক সমষ্টিগত উপলব্ধি। ৭১'র বয়ান ১৯৭১ ছিল আদতে বাংলাদেশে বাঙালি এবং অপরাপর জাতিগোষ্ঠীর মুক্তির সনদ। যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ... ...
সবসময় একটা ভয় ভেতরে কাজ করে— যখন দেখি কত মানুষ এত সুন্দর একটা জীবন পেয়েও সেটাকে নিজের হাতেই ধ্বংস করছে, ধ্বংস করেছে। আমার কেবলই মনে হয়, এই মানুষগুলোর মতো আমি হ’য়ে যাব না তো? নিজেকে কি প্রতি মুহূর্তে ধ্বংস করছি নিজের হাতেই? কী আমার করণীয়? কী আমি করতে চাই?— এমনসব প্রশ্ন রাখি নিজের কাছে। নিজেকে আরও ভেঙে ফেলে নতুন ক’রে গ’ড়ে তোলার চেষ্টায় মগ্ন থাকি নিজের গভীরে। ভাল খেতে পাওয়া, ভাল পরতে পাওয়া পরিবারের ছেলে হয়েও নিজেকে রাখি একেবারেই সাধারণ। আর এই সাধারণ হতে পেরেছি ব’লেই, সমাজের সবচেয়ে শিক্ষিত, সফল, রঙিন জীবন যাপন করা মানুষকে যেমন দেখেছি; তেমনই দেখেছি এমন মানুষকেও যার আজ সারাদিন কিছুই খাওয়া হয়নি ... ...
২০২৬ সাল। বাংলার ইশকুলের খুব খারাপ অবস্থা। কোথাও কোনো মাস্টার নেই, সবার চাকরি গেছে। মধ্যশিক্ষা পর্ষদে কেউ কোনো ফাইল নড়ায়না, কারণ কম্পিউটারে দুর্নীতির ভাইরাস কখন ঢুকে পড়বে কেউ জানেনা। ছাত্রদের পড়াশুনো গোল্লায় গেছে। সবাই পরীক্ষায় গোল্লা পায়, মহানন্দে সাইকেল চালিয়ে ঘোরে, আর ট্যাব নিয়ে গেম খেলে। চারদিকে হাহাকার। এর মধ্যে হঠাৎ একদিন খবর এল, গাঁয়ের ইশকুলে সবাই অঙ্কে একশয় একশ পেতে শুরু করেছে। সেই নিয়ে হুলুস্থুল, খবরের কাগজে খবর, হাইকোর্টে সওয়াল। আরও এক দুর্নীতির সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে। ইশকুলের হেডমাস্টারকে তলব করা হল। তিনি কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে কাঁপতে কাঁপতে বললেন, আমাদের কোনো দোষ নেই ধর্মাবতার, আমরা যথাসাধ্য না পড়ানোর চেষ্টা করি। কিন্তু ... ...
জানুয়ারির বেলা এগারোটা। কিছুক্ষণ আগে মুম্বইয়ের এয়ারপোর্ট ছেড়ে বেরিয়েছি। বাতাসে ঠান্ডা ভাবটা রয়েছে, কিন্তু শীত ব্যাপারটা নেই। মুম্বইয়ের শীতকাল যেমন হয় আরকি! ক্যাবের জানালার কাচ তোলা নেই। এসি চলছে না। ড্রাইভারকে আগেই ঠিকানা দেওয়া ছিল। তাই নির্ঝঞ্ঝাটে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছে গেলাম। তরতর করে লিফট দিয়ে উঠতে উঠতে ভাবছি, শেষমেষ ঢুকতে দেবে তো! কে জানে? আমার মত অখ্যাত অর্বাচীন ওঁর কাছে রোজ কত আসেন, তার কি ইয়ত্তা আছে! কপাল ঠুকে কলিং বেলটা বাজিয়েই দিলুম।কয়েক মিনিট অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ফ্ল্যাটের দরজাটি খুলে গেল। একজন মাঝবয়েসী মানুষের আবির্ভাব। নিজের পরিচয় দিতেই ভিতরে আহবান... আইয়ে। প্রশস্ত ড্রইং স্পেসে গিয়ে একটি প্রকাণ্ড সোফায় বসে পড়লুম। ... ...
সরকারের ১৯২৬ সালের গুন্ডা আইনে পুলিশের জন্য গুন্ডাদের আলাদা খাতা খোলা বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। গুন্ডা অর্থে চুরি, পকেটমারি, জুয়াখেলা, চোরাচালান, কোকেন বিক্রেতা এমনকি রাজনৈতিক চরিত্ররাও। আইনে প্রতি ফাইলের একটি নির্দিষ্ট কাঠামো ঠিক করে দেওয়া হয়েছিল। আসামীর পরিচয়, কি কি অভিযোগ আছে, স্থানীয় লোকজনের সাক্ষ্য ইত্যাদি। ১৯৪৬-৭১ সালের এই ১২৩ টি পুলিশ ফাইলের মধ্যে মাত্র আঠেরো জন মুসলিম গুন্ডার নাম আছে। যদিও বাস্তব অন্যরকম ছিল যেহেতু অগস্ট ১৯৪৬র দাঙ্গায় মুসলিম লীগের রাজনৈতিক নেতা এবং কলকাতার মুসলিম অপরাধ জগতের সম্পর্ক জনসমক্ষে এসেছিল। লেখকদের অনুমান মুসলিম লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন পুলিশ খাতা থেকে মুসলিম গুন্ডাদের নাম সরিয়ে ফেলেছিল। এই সব ফাইলের মধ্যে এমনকি ... ...
তুই আমার পাঁউরুটিআমি তোর জেলি — লেখাটা এখানেই থামল। ঘাড় ধ'রে যদি আরও এগোতে বলি, কিচ্ছুতেই এগোবে না! সন্তান যখন কথা শোনে না, তখন অভিভাবককেও কঠোর হতে হয়। ঠিক করেছি, ওকে এভাবেই রেখে দেব। থাকুক নিজের মতো, এই আমি চললাম...