আলেপ্পি নাদিয়ালা। এক বিদেশি বন্ধু। যে জীবনে ভারতে আসেনি। ভারতবর্ষ বলতে ওর চোখে ভেসে ওঠে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আর স্বামী বিবেকানন্দের প্রতিচ্ছবি। আর সত্যজিৎ রায়ের কিছু সিনেমা। তাজমহল আর এভারেস্ট... ব্যস। তার বাইরে এ দেশ সম্পর্কে সে কিছুই জানেনা। জানার কথাও নয়। আমরা কজনই বা নির্দিষ্ট কিছু বিষয় ছাড়া অন্য কোনো দেশের ক'টা খবর রাখি?আমাদের দেশ নিয়ে গর্ব করার জন্য অনেক কিছুই বলে চলেছিলাম। দুশো বছর পরাধীন থাকার পরেও আমাদের দেশ কত উন্নতি করেছে। দেশের অর্থনীতিতে গতি এসেছে। বাণিজ্যে রফতানি বেড়েছে। ঝকঝকে তকতকে হাইওয়ে তৈরি হয়েছে। বড়বড় এয়ারপোর্ট কিংবা হোটেল ইত্যাদি জন্ম নিচ্ছে। আমার দেশের উন্নতির বর্ণনা আলেপ্পি মন দিয়ে শুনছিল। ... ...
যারা নিয়মিত গদ্য লেখার চেষ্টা করো— তাদের দেখে কিছুটা অবাক হই। কী করে গদ্য লিখতে হয়, আমার জানা নেই। এত এত শব্দ কী করে লেখা যায়,— ভাবলে চুপ করে থেমে দাঁড়াতে হয়। আমি তো গদ্য লিখি না। কিন্তু এমন অনেক অনেক দিন আমার গিয়েছে, আমার যাই,— আমি আমার ভবিষ্যতের গদ্য লেখাদের সামান্য ইঙ্গিত পাই। বর্তমানে দাঁড়িয়ে থেকে দেখি, ভবিষ্যতে চেষ্টা করছি উপন্যাস লেখার। এই যে কবিতা লেখার চেষ্টা করি– তাও জানি না কবিতা কাকে বলে? ভাবনার একটা স্রোতের মধ্যে নিজেকে ভাসিয়ে দেওয়া খুব জরুরি। যা আমার কিছুটা সহজাত, বাকিটা প্রস্তুতির ফসল। আর সবকিছুর ঊর্ধ্বে সম্পাদনা। একটা লেখার অনেক চেহারা হতে ... ...
আর জি কর কাণ্ডে ন্যায় বিচার এখনো অধরা। ঘটনার পর বছর ঘুরে গেলেও। কেন্দ্র রাজ্য সমন্বয়ের একটা ছবি আবছাই হোক আর সুস্পষ্ট হোক, ধরা পড়ছে অনেকেরই কাছে। বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতেই কাঁদুক আর রাজপথ কাঁপিয়েই কাঁদুক। কাঁদতে তো হচ্ছেই। কারণ আসল খুনিরা আজও অধরা। তারা দিব্যি গলায় স্টেথো ঝুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে সরকারি হাসপাতালের করিডোর থেকে বুথে বুথে ভোটার লাইনের নাগরিক পরিসরে। যাঁদের কথা ছিল যথাযোগ্য শাস্তির পরিসরে দিন কাটানোর। সেটি হয়নি। হওয়ার কথাও ছিল না। কারণ একটাই। গণতন্ত্রে গণের স্বার্থরক্ষার বিষয়টি আসলেই সোনার পাথরবাটিতে কাঁঠালের আমসত্ত্ব খাওয়ার মতো বিষয় একটি। গণ এখানে ভোটার মাত্র। তার বেশি কিছু নয়। আর যদি ... ...
১৯০০ সালের পয়লা সেপ্টেম্বর সুলতান দ্বিতীয় আব্দুল হামিদের আদেশে ১ হাজার ৩২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই হেজাজ রেলওয়ে প্রকল্পের কাজ শুরু করে অটোমান কর্তৃপক্ষ। সে সময় হজযাত্রীরা পবিত্র মক্কায় সফর করতেন উটের কাফেলায় করে। মক্কায় পৌঁছতে তাদের লেগে যেত কয়েক সপ্তাহ। হজযাত্রীদের সফর নিরাপদ করতে ও তাদের কষ্ট লাঘবের উদ্দেশ্যে 'দ্য হেজাজ রেলওয়ে' প্রকল্প হাতে নেন অটোমান সাম্রাজ্যের (বর্তমান তুরস্ক) সুলতান দ্বিতীয় আব্দুল হামিদ। ১৯০৮ সালে এ রেললাইনের নির্মাণকাজ শেষ হয়। হেজাজ রেলওয়ে প্রকল্প ধর্মীয় দিক থেকে যেমন গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তেমনি এর রাজনৈতিক গুরুত্ব ও সুফলও ছিল ব্যাপক। এ প্রকল্প শুরুর কয়েক দশক আগে থেকেই প্রতিপক্ষরা অটোমান সালতানাতে ভাঙন ধরাতে শুরু করেছিল। অটোমান সালতানাতের অন্তর্ভুক্ত ... ...
"অভয়া " কান্ডের এক বছর হয়ে গেল। বিচার ব্যবস্থা জনপ্রিয় হিন্দি ছবির সংলাপের "তারিখ পে তারিখ" ই হয়ে যাচ্ছে। অভয়া তাঁর কর্মস্থলে নির্যাতিতা ও খুন হয়ে ছিলেন। অত্যন্ত জঘন্য ও ঘৃণ্য ব্যাপার। যদিও বর্তমানের বাঙালি মেয়েদের অবস্থা এর থেকে কি খুব আলাদা কিছু? আমি মূলত: শহুরে মধ্যবিত্ত শিক্ষিতা চাকরি - বাকরি করা মেয়েদের নিয়েই আলোচনা করব। "বিন্দু তে সিন্ধু দর্শন" বলে একটি বাংলা প্রবাদ আছে, সেই জন্য কোনও একজনের জীবন উন্মোচিত করলে সব মেয়েদেরই প্রকৃত আর্থ সামাজিক পরিস্থিতির আভাস পাওয়া যাবে। অনিচ্ছাকৃত মিলের জন্য আমাকে ক্ষমা করবেন। বেশ কয়েকটি পর্ব লাগবে। ধরা যাক, তিনটি মেয়ে একই বয়সী, টুম্পা, রুম্পা ও ফুলকি। ... ...
মাসাই ইলমোরান যোদ্ধারা হলো মাসাই সম্প্রদায়ের তরুণ যোদ্ধাদের একটি বিশেষ দল। মাসাইরা পূর্ব আফ্রিকার কেনিয়া এবং উত্তর তানজানিয়ায় বসবাসকারী একটি উপজাতি। ইলমোরান যোদ্ধারা তাদের সংস্কৃতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং তাদের সাহস, শক্তি এবং ঐতিহ্যগত রীতিনীতির জন্য পরিচিত।ইলমোরান হওয়ার প্রক্রিয়ামাসাই সমাজে একজন পুরুষকে পূর্ণাঙ্গ যোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পেতে হলে বেশ কয়েকটি ধাপ পার হতে হয়। প্রায় ১৪ থেকে ১৬ বছর বয়সে, মাসাই ছেলেরা তাদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ আচার অনুষ্ঠান 'সায়াত' (Sayiat) এর মাধ্যমে ইলমোরান যোদ্ধা হিসেবে তাদের যাত্রা শুরু করে। এই আচারের মধ্যে রয়েছে খৎনা (circumcision) এবং এরপর নতুন যোদ্ধাদের একটি আলাদা দল গঠন করা হয়, যা একত্রে 'ইলমোরান' নামে ... ...
এই গতকাল বিকেলের ঘটনা। বাড়ির কাছ থেকে বেশ কিছুটা দূরেই এক চায়ের দোকানে যাব বন্ধুর সঙ্গে আড্ডা দিতে। বন্ধু আমাকে জানিয়ে রেখেছে, সে সময় মতো পৌঁছে যাবে চায়ের দোকানে। বাড়ি থেকে বেরিয়ে এক টোটো ধরলাম। টোটোয় আমিই একা। টোটোঅলাকে আগে কোনওদিন দেখিনি। এইই প্রথম। আমার সেই ছোটবেলার অভ্যেস, আজ এই বাইশ বছরে পড়তে চললাম, তবুও বদল ঘটল না। কী সেই অভ্যেস? অচেনা কাউকে দেখলেই তাঁর সঙ্গে আলাপ করেই পুরনো বন্ধুর মতো গল্প জুড়ে দিই। যেন কতদিনের চেনা আমার সে...! তো এই টোটোঅলার সঙ্গে একথা সেকথা বলার পর হঠাৎ করেই আমাকে জানালেন যে, সেই ১৯৮৪ সাল থেকে রিকশা চালাচ্ছেন। তখন বছর ... ...
পুরুলিয়ার শ্রান্ত বিকেল। দূরের টিলা কালো রঙের ঘোমটা টেনেছে এখনই। লালমাটি আর অস্তগামী দিবাকরের মধ্যে শেষবেলার খুনসুটি প্রায় শেষের পর্যায়ে। দৃঢ়চেতা একটা পলাশগাছের গায়ে হাত রেখে তুমি বিরক্তিসূচক শব্দে বললে, " ওহ!"নারীসুলভ লজ্জার পরোয়া না করে আনাড়ির মতো বলে বসলাম, "কী হলো? কাঁটা ফুটেছে?"--"কে জানে!" তোমার হাত নাড়ার ভঙ্গি বড্ড উদ্ধত। টিলার আড়ালে ক্লান্ত সূর্য বিশ্রাম খুঁজছে এখন। সেদিকে তাকিয়ে, পলাশগাছের গায়ে হেলান দিয়ে অন্যমনস্ক তুমি। যেন ওই টিলাগুলি মানবসভ্যতার ইতিহাসে পর্যায়কালের চিহ্ন। -- "কই দেখি।"--"না"তোমার করতল হাতে নিতে গিয়েও সাহস দেখাতে পারলাম না। বিকেলের রোদ পড়ে আসার মতোই কী একটা আড়ষ্টতা,...কী একটা..তুমি স্বাভাবিক গাম্ভীর্যে অবিচল।অবশেষে হাতে নিলাম তোমার করতল।তর্জনীতে ... ...
রাজনৈতিক দলদের পক্ষ থেকে প্রায়ই কোটি কোটি অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগ ওঠে। কিন্তু এ বিষয়ে সংসদে দুই কক্ষেই নানা সময়ে প্রশ্ন উঠেছে, তার উত্তরে কেন্দ্রীয় সরকার যে তথ্য দিয়েছে, তার সংখ্যা এত বেশি নয়। শুধু বাংলাদেশ পাকিস্তানের মত প্রতিবেশী দেশ ছাড়াও অন্য বহু দেশের নাগরিক, যারা ভিসার সময়ের পরেও থেকে গেছেন ও ধরা পড়েছেন, তাদের তথ্যও সরকার এসব প্রশ্নোত্তরে নানাসময়ে দিয়েছে। সরকার এও জানিয়েছে ভিসা ছাড়া অবৈধ যাতায়াতের ক্ষেত্রে সরকারের কাছে স্পষ্ট তথ্য নেই। আপাতদৃষ্টিতে এবিষয়ে প্রথমে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭২ সালে রাজ্যসভায় প্রথম প্রশ্ন উঠেছিল[১] প্রশ্ন করা হয়েছিল রাজাকার এবং আল বদররা ভারতে পালিয়ে এসেছে কিনা এবং কতজনকে ধরা ... ...
বেঁচে থাকাটাই লিরিক্যালঅসীম নন্দনউৎসর্গ: আমার নিরক্ষর মা'কে(যিনি কোনো দিন জানবেন না, আমি কেন লিখি!)এক হারিয়ে যাওয়া বন্ধুর সাথে''বন্ধু শব্দটাই খুব নস্টালজিক ব্যাপার। বন্ধুরা নানান ঘটনার সাক্ষী হয়। কারো কারো জীবনভর খুব খুব বন্ধু থাকে। থাকে নাকি সত্যি সত্যি? আবার কেউ কেউ প্রতি মুহূর্তে হারায়া ফেলে বন্ধুদের। ওল্ড স্কুল রিচুয়ালে আমরা আগে যেভাবে দোস্তি করতাম সেইটা অনেকটা এরকম।একজন হয়তো বলতো, চলো বন্ধু হয়ে যাই আমরা। বলার পর, হাতের তর্জনী এবং কনিষ্ঠতম আঙুল ছুঁয়ে হ্যান্ডশেক করে বন্ধু হতাম। এইটা নব্বইয়ের দশকের সকল বাচ্চারাই জানে। মানে এই রিচুয়ালের কথা। আর নব্বইয়ের দশকের আগের দশকগুলার বাচ্চাকাচ্চারাও এইটা জানে। তবে ২০২২ সালের বাচ্চারা কি এইটা ... ...
পাশের হোঁৎকা লোকটাকে কনুই দিয়ে এক কোঁত্কা মেরে এগুনোর চেষ্টা করলাম। কিন্তু, বিধি বাম। সামনে একটা ঢ্যাঙা লোক দাঁড়িয়ে। কোনোমতে তার বগলের তলা দিয়ে গলে একেবারে সামনের সারিতে পৌঁছানো গেলো। কিন্তু, সে কোথায় ?ও হরি, এতক্ষন তোমাদের বলাই হয়নি কিসের জন্য এই গুঁতোগুঁতি চলছে! বাঘ দেখা নিয়ে। বনে নয়, চিড়িয়াখানায়। বোঝো দুরাবস্থা খানা।কোনোমতে টাল খাওয়া চশমাটা সামলে নিয়ে দেখি সামনে এক গাছের ছায়ায় বাঘ বাবাজি চিৎ হয়ে শুয়ে আছেন। দু হাত ভাঁজ করে মাথার নিচে দিয়ে কি যেন আকাশ পাতাল ভাবছেন তিনি। গুরুগম্ভীর চেহারা। আশপাশের অসভ্য মানুষগুলোর অসহনীয় চিৎকার চ্যাংড়ামো কিছুই যেন স্পর্শ করছে না তাকে।হঠাৎ কানের কাছে ভরাট গলায় কে ... ...
না না। এখানে কোনও কবিতা জমা করছি না আর। কেবলই বলতে এসেছি, এই যে আপনারা আমার এইসব ছাইপাঁশ লেখাজোখা পড়ে শেষমেশ মন্তব্য করছেন— এইই আমাকে অবাক করে! আলাদা করে সবাইকে ভালবাসা জানাতে চাই না। জানালে একসঙ্গেই জানাই। মন্তব্যে কেউ বলছেন, আমার ছন্দের প্রতি মনোযোগ নিয়ে তাঁর ভাল লাগা। কেউ বলছেন, আমার লেখায় আন্তরিকতা রয়েছে। কেউ আবার আমার সদ্য জমা দেওয়া কবিতা সম্পর্কে জানাচ্ছেন, তাঁর 'বেশ ভাল' লেগেছে। এমনই সব মন্তব্য আমাকে জোর দিচ্ছে ভেতর থেকে। বাংলা বাজারে একটা কথা চালু আছে— কবিতার পাঠক কম। হ্যাঁ, এ নিশ্চয়ই সত্যি। কিন্তু এখনও যে কবিতা পড়ার একটা মন অনেকের মধ্যে রয়েছে, তাঁর জলজ্যান্ত ... ...
দশম পর্ব: "কই....হাতটা দাও দেখি মা?", মায়ের বিগ্রহের চরণের পুষ্প তুলে আচার্য্য রূপাকে তার হাত বাড়িয়ে দিতে বললেন। রূপা কেমন যেন আনমনে বিশুর দিকে তাকাল। বিশু সম্মতি দিলে রূপা ধীরে ধীরে ওর ডান হাত বাড়িয়ে দিল প্রজ্ঞানন্দ আচার্য্যর বাড়ানো হাতের দিকে। আচার্য্য গলা থেকে নিজের পৈতে টা ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলের ওপর জড়িয়ে মায়ের চরণের পুষ্প সমেত নিজের হাত রাখলেন রূপার হাতের ওপরে। এরপর মায়ের দিকে তাকিয়ে চোখ বন্ধ করে বিড় বিড় করে মন্ত্র পড়তে লাগলেন। বিশু আর গণশা একে অপরের দিকে তাকিয়ে চোখের ঈশারায় কথা বলতে লাগল। কয়েক সেকেন্ড পরেই একটা ঝটকা মেরে হাত সরিয়ে নিলেন প্রজ্ঞানন্দ আচার্য্য! চোখ খুলেই কিছুটা স্ফীত চোখে তাকিয়ে ... ...
কিছু মানুষ আছেন, যাঁরা দেখে শেখেন। কিছু আছেন, যাঁরা ঠেকে শেখেন। আর কিছু কিছু মানুষ কিন্তু ঠকে শেখেন। এখন কোন মানুষ, কে কিভাবে শিখবেন। সেটি অবশ্যই তাঁর বা তাঁদের ব্যক্তি স্বাধীনতার বিষয়। সেখানে বাইরে থেকে কারুর নাক গলানো শোভা পায় না। এখন প্রশ্ন একটাই। হঠাৎ এই দেখে শেখা, ঠেকে শেখা আর ঠকে শেখার প্রসঙ্গ উঠলো কেন। আজ থেকে আঠারো বছর আগে তৎকালীন বামফ্রন্টের আমলেও আমরা দেখেছিলাম রিজওয়ানুর রহমানের হত্যাকাণ্ডকে সরকারি পুলিশ কিভাবে আত্মহত্যার কাণ্ড বলে চালিয়ে দিয়েছিল। কিভাবে উত্তাল হয়ে উঠেছিল গোটা রাজ্য, রিজওয়ানুরের হত্যাকারীর বিচার চেয়ে। সেদিন কিন্তু রাজ্যবাসী হত্যাকারীকে চিহ্নিত করতে পেরেছিল। কিন্তু তারপরেও তৎকালীন সরকার এবং সরকারি ... ...
আমি.......আমি হরিদাস পাল। মানে যেই হরিদাস পালের কথা শুনে এসেছেন আপনারা সে নই।এবার প্রশ্ন হচ্ছে তবে আমি কে?আমি মনে করুন একটা টেবিল,কিংবা একটা টিপট,যাকে বাড়িতে কুটুম এলে বের করা হয়।কিংবা একজন চলচ্ছক্তিহীন কিশোর কিংবা যুবক,যার কিনা সারাটাদিন বিছানায় শুয়েই কাটে।হতে পারি আমি কনজেনিটাল বা জন্মগত পঙ্গু,অথবা কোনো দুর্ঘটনায় চলচ্ছক্তি হারিয়েছি আমি।আমি ভাবছি জন্মগত চলচ্ছক্তিহীন যুবকটাই ভালো হবে।তাহলে গল্পটা সাজানো যাবে বেশ।অন্যান্য লেখকরা তো আপনাকে প্রথম থেকেই বিশ্বাস করাতে চেষ্টা করেন এটা সত্যি কথা,আমি নাহয় আপনাকে স্বাধীনতা দিলাম এটাকে গল্পই ধরুন।নিছক নিষ্কর্মা মনের নট সো উর্বর কল্পনা।ছাড়ুন ওসব;জানেন আমার খুব মন খারাপ হয় মাঝে মাঝে,মেনেই নিয়েছি নিজের ভবিতব্য।জানি সারাটা জীবন আমাকে ... ...
হিসাবটা আমি কখনোই ঠিকঠাক করতে পারি নে। অনেক ভেবেচিন্তে যখনই ভাবি এবার হিসাবটা মিলবেই মিলবে; কি ভাবে জানি কিছুই মেলে না। হাতে রয়ে যায় শুধু পেন্সিল। তা, সেই পেন্সিল দিয়েই কিছু আঁকিবুকি, জীবনের নানা কাটাকুটি খেলে যখন ক্লান্ত; চশমাটা খুলে রাখি টেবিলে। দু হাত দিয়ে টনটনে চোখ চাপা দিয়ে ভাবি এবারে হয়তো চোখ খুলে দেখবো চশমার জায়গায় একটা সুকুমার হুলো বেড়াল। খুব সহজ করে আমায় বুঝিয়ে দেবে জীবনের ওঠা পড়ার হিসাব।কিন্তু না, দেখি মিটমিট করে তাকিয়ে আছে আমার সেই পুরোনো ঘষা কাঁচের চশমা। কি আর করবো, চশমাটা নাকের ডগায় তুলে নিয়ে আবার ভাবতে বসি।ছেলেবেলা থেকেই কঠিন অংকের হিসাব দেখলেই আমি ... ...
জুLie বিপ্লব এর আগে কয়েকটা কথা আমাদের বাংলাদেশে বারংবার বিপ্লবের অপমৃত্যু ঘটেছে। এই দেশে বিপ্লব অভিশপ্ত। এ যেন সেই স্বাধীনতার আগে থেকেই একই রকম একঘেয়ে। ১৯৭১ এ মুক্তিযুদ্ধের আগে ১৯৪৭ সালে দেশভাগ যেমন হয়েছিল ধর্মকে কেন্দ্র করে, মুসলমানদের পাকিস্তান, হিন্দুদের হিন্দুস্তান; সেই বিপ্লবও ছিল এক মরীচিকা। যে জন্য ৪৭'র দেশভাগের পরপরই রাজপথে লোকের মুখে মুখে স্লোগান উঠেছিল 'ইয়ে আজাদী ঝুটা হ্যাঁয়'। বিপ্লবকে কেন অভিশপ্ত বলছি? ভেবে দেখেন, মাস্টারদা সূর্য সেন, প্রীতিলতা, বাঘা যতীন, ক্ষুদিরাম, ভগত সিং, নেতাজি সুভাস প্রভৃতি ঐতিহাসিক ব্যক্তিরা বিপ্লব করেছিলেন ইংরেজ কলোনির বিরুদ্ধে। ইংরেজ চলে গেছে ঠিক। কিন্তু তারা 'ডিভাইড এন্ড রুল' ফর্মূলা প্রয়োগ করে এখনো আমাদের তাদের ছায়ার ... ...
রবীন্দ্রনাথের সাথে ছোটবেলা থেকে সম্পর্ক টা কেমন গোলমেলে ছিল। কবিতা পড়েছি, মুখস্থ করেছি, গান শুনেছি, নাটক করেছি, খান কতক প্রবন্ধ পড়েছি, এমনকি হাতের লেখাও অভ্যাস করেছি ওনার স্মৃতিকথা লিখে। কিন্ত তারপরেও কেমন একটা দূরত্ব কাজ করত। মনে হত মানুষটা একটা অন্য জগতের, তাঁর ভাবনা চিন্তা গুলো কেমন যেন পুরনো দিনের, একটু বেশীই অতীন্দ্রিয়বাদী। বিশেষ করে ওই প্রেম ও পূজার সমাহারটা কিছুতেই হজম হতনা। ইংরেজি সাহিত্য পড়া আমার মননে বিষয়টা কেমন Elizabethan প্রাচীনতার ঘ্রাণ নিয়ে আসতো। রক্তকরবী পড়তে গিয়ে বারবার যেখানে ঠোকর খেতাম সেটা হল রাজা কে কেন শেষে নন্দিনীর সাথে নতুন যুগের মিছিলে সামিল হতে দেওয়া হবে? কেন সেই যক্ষ্মযন্ত্রণার ... ...