মহাশয়,
আমি বিগত কয়েক বছর যাবৎ আপনাদের এই গুরুচন্ডালি নামক ওয়েব সাইট যাতাযাত শুরু করেছি। বলাই বাহুল্য, ইন্টারনেটের প্রসারের সাথে সাথে আমার মত লেখকদের যে কি পরিমাণ উপকার হয়েছে সেই বিষয়ে আশা করি আপনাদের মত সম্পাদকরা সম্যক অবহিত আছেন। এমনকি আমার এমনতর সন্দেহও এককালে হয়েছিল যে, ইন্টারনেট শুধুমাত্র আমার মত লেখকদেরই সুবিধা করে দেয় নি, আপনাদের মত সম্পাদকদের দিকেও মুখ তুলে তাকিয়ে ছিল। যাই হোক আমি যখন নানাবিধ লেখার সৃষ্টি যন্ত্রনা নিয়ে ছটফট করছি এবং বিনা পয়সায় প্রসব করার স্থান উপযুক্ত স্থান খুঁ ... ...
অনেক বয়স হবার পর কোন এক কবির লেখায় যেন এমন কয়েকলাইন পড়েছিলাম – “ডাক্তার জানে না, আমার অসুখের নাম পিকনিক”। সেই কবি আবার অন্য এক কবির লেখা থেকে এই লাইন ধার করেছিলেন - সে এক কনফিউজিং ব্যাপার। যাই হোক, যে রাজ্যের হাসপাতালগুলিতে শতকরা ৬০ ভাগ লোক পেটের রোগের চিকিৎসা করাতে আসেন সে রাজ্যেরই এক কবি যে এমন কথা লিখবেন সে আর আশ্চর্য কি! তবে ডাক্তারের না জানার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ, অন্ততঃ আমাদের দিকের ডাক্তাররা আমাদের অসুখের উৎপত্তি ও নিরাময় দুইই জানত বেশ ভালো করে। ... ...
এটা আজকাল প্রায় সবাই জানেন যে ইংল্যাণ্ডের ন্যাশেনাল ডিস্ কিন্তু ফিস্ এ্যাণ্ড চিপস্ নয়, ওটা হল চিকেন টিক্কা মশালা। ভারতীয় সভ্যতায় ইংরেজদের অবদান নিয়ে জাদুঘর ভর্তি বই আছে এবং ইদানিংকালের পণ্ডিতরা প্রায় সবাই একমত হয়েছেন যে, বৃটিশ সভ্যতায় আমাদের মূল অবদানই হল নানাবিধ ‘কারি’। যেটুকু দ্বিমত তা ওই টিক্কা মশালা নাকি চিকেন মাদ্রাস কোনটা ন্যাশেনাল ডিস্ হওয়া উচিত তা নিয়ে। আমি এত রকমের ‘কারি’র নামই শুনিনি ইংল্যাণ্ড আসার আগে – তবে ব্যাপার হল গিয়ে অন্য যে কোন বিষয়ের মতই এর ভিতরেও প্রচুর জল আছে। এমন সব খাব ... ...
লেখার ক্ষেত্রে পুনরাবৃত্তি একটা ঘাতক ব্যাপার। সাধারণত দুই ধরনের লেখক চর্বিত চর্বণ করেন – এক যাঁরা প্রচুর লেখেন, ফলতঃ লেখার মশালার যোগান না দিতে পেরে পুরনো মাল আউরে দিনযাপন। দুই, যারা কম লেখেন - এরা আগেরবার কি লিখেছিলেন ভুলে গিয়ে একই জিনিস বিবিধ ভাবে চালান দেন। আমার এই লেখাটা ফলে কোন দলভুক্ত হবে বুঝে উঠতে পারছি না। তবে এটা ঠিক যে আমার এই ঘটনাকাল ঘুলিয়ে ফেলা ও কালক্রম রক্ষা না করতে পারা কিন্তু বাই ডিজাইন নয় – নিছকই অ্যামেচার লেখকের নাবালকচারিতা। আগের ঘটনা পরে আর পরের ঘটনা আরও পরে রেখে কোনও স ... ...
ভাবছিলাম যে এই খাবারদাবার গল্পে ‘চুমু’ খাওয়াটাকে অন্তর্ভূক্ত করা উচিত হবে কিনা ! ‘চুমু’ বিষয়টাকে আলোচনায় নিয়ে এলে কোথায় থামতে হবে সেটাই একটা দার্শনিক সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে। কারণ অন্য খাবারের মত ইহা পাকস্থলী পর্যন্ত পৌঁছয় না, পাবলিকের মতে বুকের বাঁদিক ঘেঁষেই নাকি আটকে যায়। কোলষ্টেরলের মত এটাও নাকি হৃদয়ের দূর্বলতার কারণ হিসাবে দেখা যেতে পারে - ফারাকটা হল টাইম স্কেলের, চুমু যৌবনবেলার উপসর্গ হলে কোলষ্টেরল প্রৌঢ়ত্বের। তো যাই হোক, চুমু খাওয়া বিষয়ে আর একটু বিশদ এই বলার যে, উহা একটা ছোঁয়াছে রোগের মত। ... ...
আমার যাদুর ঝাঁপি, আমার জমানো পুঁজিপাটা
তাতে আর কিছু নেই, আছে শুধু মায়াবীমুকুর
আমার সে আর্শিটা চিরতরে তোমাকে দিলাম
এ্যালিস! এ্যালিস! তুমি বিম্বিত হয়ো জোছনাতে... ... ...
মাছ ধরার সাথে আমার সম্পর্ক মোটামুটি ডিকুরির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। ডিকুরি হল আমার বাড়ির পাশের পুকুর যার অন্য পাড়ে আমাদের যৌথ পরিবারের পুরানো বাড়ি। সেই অর্থে ডিকুরির একদিকে আমার বাল্যকাল আর অন্যদিকে কৈশোর সহ যৌবন। আমাদের নিমো গ্রামের অন্য পুকুর গুলি ছিল - পচাগেরে, বিশ্বেসদের ডোবা, হাজরাদের ডোবা, বামুনগেড়ে, বড় বামনা, ছোট বামনা, লালতেগড়ে, জুঙগিইতে, চেয়ো, ঠাকুরঝি এই সব। গাঁয়ের সীমানায় আছে পূবে গরাঙ্গে, পশ্চিমে বনধারা, উত্তরে ত্রিশূল ও দক্ষিণে পদ্দেরে। বলাই বাহুল্য এই সব পুকুরের নামকরণের ইতিহাস আমরা ক ... ...
অনেকদিন ইউরোপে বসবাস হয়ে গেল—কোম্পানির চাকরির দৌলতে এবার ট্রান্সফার হয়ে যেতে হবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়। মানসিক প্রস্তুতি নিচ্ছি—ছোট্ট দেশ, আগে কোনওদিন যাইনি, তাই হালকা এক উদ্বেগ থেকেই যায় তা সে যতই ঝেড়ে ফেলার চেষ্টা করি। মানুষ অভ্যাসের দাস—এই কথাটা আমাদের কেন, প্রায় সবারই শোনা। কিন্তু এর মর্মার্থ অনুভূত হয় এই এমনই পরিবর্তনের সময়। ভারতবর্ষের মানুষ এবং জীবনের বেশিরভাগ সময়টা এখানে কাটাবার পর নিশ্চই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া আমাকে ‘কালচারাল শক’ দিতে পারবে না। তবে কিনা দীর্ঘদিন ইউরোপবাসের পর একটা অভ্যাস, একটা ... ...
আমি গণিতবিদ নই – কিন্তু গণিত ভালোবাসি। গণিতজ্ঞদের দিকে তাকাই সম্ভ্রমের চোখে – আর ঠিক এই কারণেই পাশের গ্রামে ফিরোজ, বন্ধু সুমন এরা ছিল আমার ঈর্ষা মিশ্রিত বিষ্ময়ের পাত্র। তাই এই লেখা শুরু করার আগেই সাফাইটা গেয়ে দিই – বলে রাখি যে এই প্রবন্ধ কোন নতুন তথ্য দেবার জন্য নয়, নয় কোন গালভরা গবেষণার গল্প বলার জন্য। এটা নিছকই সেই সব তথ্য, ঘটনা আর নাম সমৃদ্ধ, যা অনেক সময় আমরা খেয়াল করি না। অর্থাৎ ধরুন আপনি নিজের জামাটি রোজ পড়েন, কিন্তু সেই জামায় কয়টা বোতাম আছে তা কখনো খেয়াল করেছেন কি? এই লেখাও তেমন হবে আর কি! ... ...
আমাদের বন্ধু ব্যাচে হাবাই সর্বপ্রথম অবৈধ সন্তান উৎপাদনে সক্ষম হয়েছিল ক্লাস ইলেভেনে পড়ার সময়। ক্ষ্যাপা মাষ্টারের কাছে প্রাইভেট টিউশনি শেষ করা এবং ইস্কুলের গণ্ডী পেরোবার সীমারেখা থেকেই হাবা-র কাছে তার নিজেরই ‘রঞ্জিত’ নামটি অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গিয়েছিল। ক্ষ্যাপা মাষ্টার আজ আর নেই – আমাদের গ্রাম থেকেই টিউশনি পড়িয়ে ফেরবার পথে জি টি রোডে লরির ধাক্কায় প্রাণ হারাণ। এই ঘটনা আমাদের বিষাদগ্রস্ত করেছিল কিছুদিন কারণ খ্যাপা মাষ্টার আমাদের নিমো গ্রামের অনেক ছেলেরই কৈশোরের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। আমরা তাই ক্ষ্যাপা ... ...