গরমের দিনে মাটির কলসী, শীতের দিনে আসকে পিঠে বানাবার মাটির সড়া, সরুচাকলীর তাওয়া, সর্বসময়ের ধুনুচী, পুজোর সিজিনের ঘট, মোচ্ছবের – হব্যিষ্যির মালসা ইত্যাদি নানা মাটির জিনিসের ওয়ান স্টপ শপ্ আমাদের গ্রামে ছিল রশিদ চাচার দোকান। চাচার বাড়ির কাঠামো ছিল অনেকটা প্যারিসের ল্যুভের মিউজিয়ামের মত, মানে তিন দিক খোলা, একদিক ফাঁকা – আর যে তিন দিক ঘেরা তার দুই দিকে যথাক্রমে পুরানো এবং নতুন বাড়ি এবং একদিকে পাঁচিল। বাকি খালি দিকে রইল গিয়ে জুঙ্গিতে নামক এক দীঘি এবং চাচার অন্দর মহলের অপার রহস্য। এমন নয় যে চাচার অনেক ... ...
নব্বই এর দশকে “শাসো কি জরুরত হ্যা জ্যায়সে...” এবং “ইয়ে কালে কালে আঁখে...” এই দুই যুগান্তকারী ঢেঊয়ের মধ্যবর্তী কোন এক সময়ে আমাদের সাথে পরিচয় হয় ‘ক্যালোরি’ নামক জিনিসটির। তবে সেই ক্ষণে ক্যালোরির অর্থ আমাদের কাছে নিতান্তই আক্ষরিক ছিল – শক্তির একক হিসাবে। আরো খুলে বলতে গেলে যান্ত্রিক শক্তি কেবলমাত্র। পড়াশুনার গন্ডির বাইরে এই ক্যালোরি জিনিসটি নিয়ে যে নাড়াঘাঁটা করতে হতে পারে ভবিষ্যতে, সেই ভাবনা আমাদের কল্পনাতেও আসে নি। তবে কিনা ট্রুথ ইজ স্ট্রেঞ্জার দ্যান ফিকশন এই প্রবাদবাক্য মেনে অভিজ্ঞতা হল যে খাবার ... ...
আমরা প্রফেশনাল জীবনে কতটা ‘স্বাধীন’, তার কবল থেকে আমাদের ‘মুক্তি’র সংজ্ঞা কি ইত্যাদি ইত্যাদি চর্বিত চর্বণ আলোচনার প্রায় শেষের দিকে এসে সেদিন হঠাৎ করে কয়েক বছর আগে পড়া জনাথন উইলসন-এর (মূলত ক্রীড়া সাংবাদিক) একটি লেখার কথা মনে পড়ে গেল। আপাত দৃষ্টিতে আমাদের শুরুর আলোচনার সাথে ফুটবলের কোন সম্পর্ক ছিল না - কিন্তু কোথা থেকে কি হয়ে গেল – আমার মাথার মধ্যে ‘মুক্তি’ কথাটি গাঁথল এবং তার সাথে প্রফেশনাল জুড়ে থাকার জন্য মনটা হঠ করে ফুটবল-ফুটবল করে আনচান করে উঠল!
জনাথনের ততদিনে বেশ নামডাক হয়ে গেছে ফুট ... ...
ঘুরে ফিরে আবার সেই সরস্বতী পূজো চলে এলো। ইস্কুল জীবন শেষ হবার পর বিশেষ একটা মাথা ঘামাই নি কবে বা কিভাবে সরস্বতী পূজা হবে সেই সব নিয়ে। পূজো বিষয়ে আমার জীবনের রেফারেন্স পয়েন্ট ছিল বলতে গিয়ে দূর্গা পূজা। দেশে কবে ফিরব এবং দেশ থেকে কবে আবার বিদেশে ফিরে যাব, কেনাকাটা কবে হবে, কার সাথে দেখা হবে – সেই সবই মাপা হত সপ্তমী বা দশমীর দিন থেকে। এর প্রধান কারণ ছিল আমার বাড়িতে দূর্গা পূজো হওয়া। ওই এক সময় গেলে সবার সাথে দেখা – বৃহত্তর পরিবারের আরো বিস্তৃত আত্মীয় পরিজনের সাথে দেখা করতে গেলে তার থেকে ভালো সুযোগ আ ... ...
আমি তখন নিজের শহর খুঁজে বেড়াচ্ছি। আমার শহরে একটা নদী থাকবে, অসংখ্য গাছ, বৃষ্টিভেজা পাখিরা জানালার কার্ণিশে এসে বসবে, রোদ ঝলমলে দিনে নদীর পাশ দিয়ে হাঁটতে বেড়ানো যাবে আর তৃষ্ণা পেলে ঢেউ খেলানো জলের দিকে মুখ করে বসানো চেয়ারের একটা কফির দোকান থেকে নিয়ে নেওয়া যাবে পছন্দের কাগজের কাপ – আরো অনেক কিছু – শহর আমাকে নষ্টালজিক করে তুলবে –
নষ্টালজিক কাকে বলে? আমার তো কোন শহর ছিল না কোন দিন – তাহলে শহর কি করে আমাকে ফিরিয়ে দেবে নষ্টালজিয়া? আমি ঠিক জানি না – নাকি আমি প্রকৃত অর্থে জানিই না যে নষ্টালজিয়া ... ...
ইস্কুলের সেক্রেটারীর কি মাহাত্ম্য সে বোঝার বয়স তখনো হয় নি, কিন্তু পটল বিষয়ীর মহিমা বোঝার মত বয়স হয়ে গিয়েছিল। সবে আনন্দমার্গ ইংরাজী মিডিয়াম স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে মেমারী বিদ্যাসাগর স্মৃতি বিদ্যামন্দিরে ক্লাস ফাইভে ঢুকেছি – সেক্রেটারী কি জিনিস জানা নেই – পটল বিষয়ীকে চিনি না। এমন অবস্থায় দুরদার করে চলে এল হাইস্কুলে আমার প্রথম সরস্বতী পুজো আর তখনি একদিন দুম্ করে সেক্রেটারী পটল বিষয়ীর ব্যাপারটা ক্লীয়ার হয়ে গেল। এক সিনিয়ার দাদা ফিসফাস করে আমাদের জানালো পটল বিষয়ীর সেক্রেটারী রয়ে যাবার পিছনে মূ ... ...
বেশ কিছু বছর আগে Dateline NBC কতৃপক্ষ তাদের প্রতিবেদক যোস ম্যানকিউিজ ডেকে বলল, খুড়ো, একটা স্টোরী যে তোমাকে বানাতে হবে – এবং এমন ভাবে বানাতে হবে যাতে পাবলিক হালকা চমকে বলে ওঠে তাই তো, তাইতো এবং আলতো করে বলে কি দিলে গুরু! যোস খুড়ো ভাবছেন এবং ভাবছেন কি স্টোরী করা যায় – একদিন সন্ধ্যাবেলা বাড়িতে টিভিতে সিনেমা দেখতে বসে ইউরেকা বলে চিৎকার করে উঠলেন। গিন্নী ‘ইউরেকা’ শব্দ শুনে ছুটে এসে প্রথমেই এসশিওর করে নিলেন যোসে দিগম্বর কিনা – তারপর বাতচিৎ করে বুঝতে পারলেন এই ইউরেকার কারণ তিনি টপিক খুঁজে পেয়েছেন স্টোর ... ...
বছর ছয়েক আগে ‘কৌরব’ পত্রিকার পক্ষ থেকে একটি ‘যৌথকবিতা’ সংখ্যা প্রকাশ করা হবে ঠিক করা হয় এবং সেই সংখ্যায় লেখার জন্য আমিও ঘটনাচক্রে আমন্ত্রণ পাই। যৌথ কবিতা অর্থে, এক বা একাধিক কবি মিলে কোন এক কবিতা লেখা। যৌথ-কবিতা ব্যাপারটা খুব যুগান্তকারী কিছু না হলেও, নিদারুণ চর্চিতও নয় বাজারে। বিদেশী তাও কিছু কাজ হয়ে থাকলেও বাংলা কবিতায় আমার জানা মতে খুব একটা বিশাল কিছু চর্চা হয় নি। তো সেই অনুরোধ পেয়ে আমার এক প্রফেসরের কথা মনে পড়ে গেল – কারণ আমি ভাবতাম, প্রফেসরের সেই ব্যাখ্যার মধ্যেই লুকিয়ে আছে আমাদের ভারতীয় হি ... ...
লেবু বেশী কচলালে তেতো হয়ে যায় – তবে কিনা যত বড় লেবু তত বেশী সময় লাগবে তেতো হতে, ততক্ষণ আপনি কচলে যান। আমার ক্ষেত্রে এই কচলানোটা ঠিক কবে শুরু হয়েছিল ঠাওর করতে পারছি না, কিন্তু আপাতত আমি রীতিমত ফেড-আপ – বিদেশী খাবারের সাথে আমার কত ফ্যামিলিয়ারিটি, সেই বোঝানোর জন্য বাঙালী তথা জানাশুনা ভারতীয়দের নিদারুণ প্রচেষ্টা দেখে দেখে! কার বাড়িতে দিদিমা পিৎজা বানাতো – দাদু তিনতলার ছাদে অলিভ গাছ লাগিয়ে ছিলেন, কার মামা ছোটবেলায় বার্গার খেয়ে খেয়ে এখন পুরোপুরি অবিস এবং অম্বলের রুগি, কার দেশের বাড়িতে পাঁঠা দিয়ে থাই ... ...
পর্ব – ১
হুমায়ুন আহমেদ একবার তাঁর লেখায় তাজমহল প্রথমবার দেখার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছিলেন – লিখেছিলেন যে তিনি মনে মনে তাজমহল যত বড় এবং সুন্দর বলে ভেবে রেখেছিলেন বাস্তবের তাজমহল নাকি তার থেকেও বড় এবং জমকালো। সেই প্রথমবার কোন কিছু দেখার বাস্তবতা তাঁর কল্পনাকে হার মানিয়ে দিয়েছিল। তেল (এই লেখায় তেল অর্থে পেট্রোলিয়াম ওয়েল-কে বোঝানো হবে), তেল কম্পানি এবং তেল ব্যবসা সম্পর্কে কিছু লিখতে বসে ... ...