অফিস কম্পিউটারের কমিউনিকেটারে অনেক দিন পর হীতেশের বার্তা ভেসে উঠে –
-কেমন আছিস শোভন?
-আরে হীতেশ, অনেক দিন পর – ভাবি, ছেলে মেয়ে কেমন আছে?
-ভালো সবাই – তুই কি খবরটা দেখেছিস কাগজে?
-কি খবর? কোন কাগজে? আমি আসলে বাংলা ছাড়া –
টিং করে শব্দের সাথে একটা ইংরাজী কাগজের লিঙ্ক চলে আসে। ক্লিক করার আগে লিঙ্কের শেষের কয়েকটি শব্দের দিকে চোখ চলে যায় শোভনের – এক মুহুর্তের জন্য যেন সময় থমকে দাঁড়ায়। পাশের এক পেজে লিঙ্কটা খুলতে থাকে – বামদিকের কোণে খুব চেনা দুটি ছবি ভেসে ওঠে ... ...
আমাদের পুরানো বাড়িতে কাঠের কাজ করেছিল রাজারাম, তা সে প্রায় তিরিশ বছর হয়ে গেল। ঘোষ পাড়ার যৌথ বাড়ি থেকে আমরা স্থানান্তরিত হলাম পাল পাড়ায়, পুকুরের এপার আর ওপার। আমাদেরই বাগান বাড়িতে গড়ে উঠল আমাদের নতুন বাড়ি। গ্রামে আমাদের তখন কাঠের মিস্ত্রী বলতে ওই রাজারাম ও তার ভাই জয়রাম। আদপে হিন্দুস্থানী হলেও রাজারাম ও তার ভাইকে আমরা কোনদিন হিন্দী বলতে দেখি নি আমাদের সামনে। তবে ওদের দুজনের বউ কিন্তু খাঁটি বিহার থেকে আমদানী কৃত হবার জন্য ভালো বাংলা বলতে পারত না। ফলতঃ বাড়িতে ভালোই শান্তি বজায় ছিল – দুই ভাই মদ খেয়ে ... ...
তপন এক সময় ছোট ভাইটি থেকে আস্তে আস্তে ভাই গোত্রীয়, সেখান থেকে ভাতৃপ্রতিম বন্ধু এবং আরো পরে বন্ধু্র মতনই প্রায় হয়ে গিয়েছিল। আসলে প্রতি বার দেশে ফিরে দেখছি চেনা বন্ধুরা ছড়িয়ে পড়ছে – পেটের ধান্ধায় গ্রামের বাইরে, বা সারা দিন ব্যস্ত থাকার জন্য সেই ফাঁকা মাঠে বা নিমো স্টেশনে আড্ডা আর জমে উঠছে না। ফলতঃ যারা আছে কাছে পিঠে তাদের নিয়েই কাজ চালিয়ে নিতে হত – এবং এই ভাবেই নিজের ব্যাচ- জুনিয়ার ব্যাচের গন্ডি ভেঙে আমি এক হয়ে যেতে থাকলাম তপন ও আরো অন্য তপনদের সাথে। আমাকে ওরা দাদা বলত, মনে হয় ভালোবাসতও কিছ ... ...
রবীনবাবু তাঁর তুণীরে আরো একটি প্রথম সারির দৈনিক যোগ করলেন। নিজে যার সাথে প্রায় জীবনের অনেকটা সময় ছায়াযুদ্ধ করে কাটিয়েছেন, এই নতুন দৈনিকও যে সেই যুদ্ধে আরো একটি প্রতিপক্ষ সৈনিক সরাবরাহ করবে সেটা তিনি বুঝতে পারেন নি! যখন বুঝতে পারলেন, তখন বড় দেরী হয়ে গেছে, “সম্পাদক সমীপেষু – পাঠকের চিঠিপত্র” এই নতুন কাগজটায় প্রায় একপাতা জুড়ে থাকে!
এতো সময় নিয়ে রবীন বাবু কি করে উঠবেন বুঝতে পারছিলেন না। এটা অবশ্য তাঁর কাছে আচমকা নয় – অবসর নেবার আগে থেকেই অফিসে শুনতেন যে বাড়িতে সময় কাটানো খুব দুষ্কর হয়ে পড়ে ... ...
আমি নিজের দিক থেকে কিছু বেশ পুরানো এবং বহুল প্রচলিত কথা ভাবছিলাম – এই যে ‘আর্ট’ (এখানে ধরা যাক কবিতা) তার সফলতা ঠিক কতটা বা কিভাবে নির্ভর করা উচিত যে পড়ছেন (বা যে দেখছেন) তাঁর উপর? এই প্রসঙ্গে V.S. Ramachandran এর লেখা “The Tell-Tale Brain” বইটির সপ্তম পরিচ্ছদে খুব সুন্দর আলোচনা আছে – “Beauty and The Brain – The Emergence of Aesthetics”. একটি বিখ্যাত উদাহরণ আছে, যেখানে বলা হচ্ছে শিল্পী Marcel Duchamp আর্ট গ্যালারীতে একটি প্রসাব করার চিনামাটির পাত্রগুলি ঝুলিয়ে রেখেছিলেন এই দাবী করে যে, “আমি বল ... ...
তোমার কবিতার ভিতরে সবসময় মেয়ে থাকে কেন?
কবিতার ভিতরে মেয়ে? আমি তো শব্দ লিখেছি, শব্দ দিয়ে বাক্য হয়েছে – আমার কিছু বলা কথা, অনেক না বলা কথা, এই সব নিয়েই তো –
আসলে বলতে চাইছি - মেয়ে, অবদমিত যৌনতা, শরীর এইসব ছাড়াও তো শব্দ হয় – বাক্যও মনে হয় লেখা যায়। কবিতায় শুধু মেয়ে আসবে কেন?
কিন্তু আমি তো প্রেমের কবিতা লিখিনি। আমার কবিতায় ওরা এসেছিল –
শুধু প্রেমের কবিতা লিখে কি আলাদা হওয়া যায়?
আমি তো আলাদা হতে চাই নি – আমি তো শুধু ওদের মনে রাখতে চেয়েছিলাম, ওদের মনে করতে চেয়েছিলাম –
তাহলে ... ...
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ঘুরে এবং সেখানকার ছোট, বড় ও ধাবা টাইপের রেষ্টুরাণ্ট, কফি শপ, প্যাটিসারী ইত্যাদি জায়গায় খেয়ে আমি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি যে ভারতবর্ষে আমরা অনেক জটিল খাবার দাবার (যেমন কাঙালী ভোজনের খিচুরী, বিধবা ঠাকুমা-পিসিমাদের হাতে রান্না শুক্ত ইত্যাদি) আবিষ্কার করলেও আপাত সহজ দুটি জিনিস একেবারেই আমরা বানাতে পারি না - চীজ্ ও রুটি। আজ্ঞে না, চীজ্ ও পনীর এক জিনিস নয়। চীজ্কে পনীর বলা, একজন চীনাকে জাপানী বলে সনাক্ত করার মতনি ভ্রান্তিকর প্রায়। চীজ্ তৈরীর ইতিহাসে যে তিনটি দেশের নাম সর্বপ্রথম মন ... ...
ভারতবর্ষে যদি রেলে যাতায়াতকে কেবল পরিবহন বলে কেউ ভাবেন তা হলে তিনি নির্ঘাত বিশাল একটা ভুল করে বসেন না জেনেই। ভারতে রেলে যাতায়াতের দার্শনিক নাম হল – রেলযাত্রা। যে কোন তীর্থ যাত্রার মত গুঁতো গুঁতি, না বেঁচে ফিরে আসার ভয়, সব খুইয়ে বসার আশঙ্কা এই সব সারক্যাষ্টিক জিনিস পত্র যদি বাদও দিই, তাহলে আমাদের রেলকে ‘যাত্রা’য় উন্নীত করতে যাদের অবদান অনৈস্বীকার্য তারা হল ট্রেনের ‘হকার’ এবং তাদের প্রতি আমাদের সমাজিক স্নেহ।
ভারত থেকে বিদেশে এসে যখন প্রথমদিকে কেউ কেউ ট্রেনে চাপেন তা হলে বিশাল একটা ঝটকা ... ...
প্রত্যেক বাঙালীর সাথেই কোন না কোন নষ্টালজিক তেলেভাজা ও এগরোলের দোকানের নাম লেগে থাকে। বাঙালীও যে ব্যবসা বোঝে (প্রফুল্ল রায় মহাশয় বেঁচে থাকলে কি খুশীই না হতেন) এই তথ্য যাচাই হত ওই সব এগরোলের দোকানগুলির প্লেসমেন্ট দেখে। বেশীরভাগ এগরোলের ঠ্যালাই স্টেশন বা বাসস্ট্যাণ্ডের পাশে খাড়াই থাকত। মেমারীতে এগরোল শিরোপার লড়াইটা সীমাবদ্ধ ছিল লক্ষ্মী ও গণেশের মধ্যে। লক্ষ্মী স্টেশন বাজার এবং গণেশ বাসস্ট্যাণ্ড। আমি নিজে লক্ষ্মীদার এগরোল খেয়েই মানুষ – তিনটাকা থেকে শুরু করে আজ ১৪ টাকায় এসে ঠেকেছে প্রায় কুড়ি বছরের ব্ ... ...
আমি ইংল্যাণ্ডে থাকাকালীন ওখানকার সরকার এক ক্যাম্পেন চালু করেছিল – Five Fruits a Day। ব্রিটিশ ছেলেছোকরাদের ক্রমশঃ খারাপ থেকে নিকৃষ্ট হয়ে যাওয়া রুখতেই সেই প্রচার। তবে যে দেশে দুই হাত অন্তর ফ্রাই, কেবাপশপ আর বার্গারের দোকান এবং যেখানে ফল কিনতে গেলে দুই মাইল দূর দূর সুপারমার্কেটে যেতে হয় সেখানে এই ক্যাম্পেন কতটা সার্থকতা লাভ করবে তা বোঝার জন্য পরিসংখ্যানবিদ হবার দরকার নেই। আমাদের ইউনিভার্সিটির ফুডকর্ণারগুলিতে ছবি লাগানো হল ফলের – আপেল, কলা, লেবু, আঙ্গুর ইত্যাদি। দোকানদার প্রায় সবুজ কলা কিনে ঝুড়িতে র ... ...