চাঁদাবাজি চলছে রমরমা অবস্থায়। সাধারণ দোকানপাটে ব্যবসা করতে এতদিন কাওকে চাঁদা দেওয়ার দরকার পড়ে নাই। এখন প্রায় সবাই চাঁদা দিচ্ছে। না করার সাহস নাই। শেরপুরের হিন্দুরা ভয়েই হোক, বিএনপি নেতাদের খুশি করার জন্যই হোক, সবাই মিলে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের কাছে যাওয়ার জন্য এক হয়েছেন, বিষয়? এবার কি পূজা করবে তারা? এই প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য যাবেন নেতার কাছে! মেজাজ এত খারাপ হইছিল শুনে যে একবার মনে হল ইচ্ছামত গালি দেই, পরে মনে হল আসলে আমি কোনদিনই তাদের মনের অবস্থা বুঝতে পারব না। ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা করে দেখলাম এবার দুর্গা পূজা হবে কি না তার সিদ্ধান্ত বিএনপির নেতার কাছ থেকেই নিয়ে আসা বেশ যুক্তিপূর্ণ! শেয়াল যদি মুরগি পাহারার দায়িত্ব নেয় তাহলে হয়ত একটু নিশ্চয়তা পাওয়া যায়। তা আসলে কতখানি কার্যকর পন্থা তা নিয়ে প্রশ্ন অবশ্য তোলা যায়। কিন্তু এখন মনে হয় এইটাই সেরা পন্থা। ... ...
আওয়ামীলীগকে দোষ দেওয়া হয় তারা বঙ্গবন্ধুকে, মুক্তিযুদ্ধকে নিজের করে রেখেছে। তো? আজকেই তো সুবর্ণ সুযোগ ছিল আওয়ামীলীগের কবল থেকে মুক্তিযুদ্ধকে, বঙ্গবন্ধুকে বের করে নিয়ে আসার। বঙ্গবন্ধু সর্ব সাধারণের, জয় বাংলা সবার স্লোগান ছিল। এখনই তো সুযোগ ছিল এগুলা ছিনিয়ে নেওয়ার। কিন্তু আজব এক দেশ বাংলাদেশ। এমন কাজ করা হল যে বঙ্গবন্ধু এবং মুক্তিযুদ্ধ আরও আওয়ামীলীগের কব্জায় ভালো করেই গেল। আওয়ামীলীগ বলবে আমরা না দেখলে মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধারা সবাই শেষ হয়ে যাবে! মহিউদ্দিন মোহাম্মদ বলছেন বঙ্গবন্ধু আর মুক্তিযুদ্ধ হচ্ছে জিলাপির ভিতরে চিনি গুড়ের মতো। আলাদা করার উপায় নাই। তো আপনারা করলেন কী? বঙ্গবন্ধুকে ছুঁড়ে ফেলে দিলেন। আচ্ছা, আজকে ১৫ আগস্ট না হয় ফেলে দিলেন। ডিসেম্বরে বিজয় দিবসেও কেউ শেখ মুজিবের নাম নিবে না? কেউ জানতে চাইবে না বিজয়টা কীভাবে হল? ইতিহাসটা কী? কালকে লিখছিলাম রাম ছাড়া রামায়ণ, হাস্যকর মনে হলেও এইটাই সত্য। অস্তিত্ব থাকবে না অথচ এই দেশেই রাজনীতি করে যাবে, রাষ্ট্র শাসন করবে। ... ...
আমাদের শেরপুরে হিন্দুরা মানব বন্ধন করবে বলে ঠিক করল। দুপুরে আমি শুনছি, সেই দুপুরেই আবার শুনলাম মানব বন্ধন করা যাবে না! কেন? জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কয়েকজনকে ডেকে বলেছে এগুলা করা যাবে না। শেরপুরে কী হইছে? কিছু হইছে? এরপরেও যদি কেউ নামে তাহলে তারপরে যদি কিছু হয় তাহলে সেই দায় কেউ নিবে না! এই কথা শোনার পরে কে যাবে প্রতিবাদ করতে? এমন চলছে সব জায়গায়। শাহবাগে, চট্টগ্রামে যে মানুষের ঢল নেমেছিল সব আওয়ামীলীগের চাল বলে দেওয়া হয়েছে। আওয়ামীলীগ দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়! ওই যে বললাম প্রথমেই, কথা শুধু আমার পছন্দেরটাই থাকবে, ওইটাই বাক স্বাধীনতা। ... ...
সরকারহিন অবস্থার সময়ের একটা ঘটনা শুনলাম আজকে। দোকানে আগুন দেওয়া হয়েছে। দোকানের পাশেই দোকান মালিক পরিবার নিয়ে থাকে। আগুন বাড়ছে, সবাই তাদেরকে ডাকছে, নাম ধরে চিৎকার করে ডাকছে। কেউ গিয়ে দরজায় ধাক্কা দিচ্ছে। আর যারা ভিতরে আছে তারা ভাবছে তাদেরকে মারার জন্য ডাকছে। কেউ বের হয় না, সাড়াশব্দও করে না। কি ভয়ানক অবস্থা একবার ভাবুন! বাঁচাতে চাচ্ছে তাদেরকে কিন্তু কোন উপায় নাই। কারণ তারা এমন ভয় পেয়েছে যে মরে গেলেও দরজা খুলবে না! শেষে দোকানের এক কর্মচারি গিয়ে দরজায় ধাক্কা দিছে, বলছে যে খুলেন আমি অমুক। নিচে আগুন লাগছে, এখন বের না হলে সবাই এক সাথে মরবেন! এইটা শোনার পরে তারা নামছে। দোকানদারের স্ত্রী একজন গাইনি ডাক্তার, আমাদের সম বয়সই, আমরা এসএসসি একই ব্যাচের। আমার সাথে সরসরি পরিচয় নাই। কিন্তু ও এত ব্রিলিয়ান্ট ছাত্রী ছিল যে ওকে সবাই চিনত। চোখের সামনে এমন একজন নারী বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে জাস্ট পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছিল! ও প্রচণ্ড ভয় পেয়েছে, কবুতরের বাচ্চার মতো থরথর করে কাঁপছিল। না, ওর স্বামী আওয়ামীলীগ করত না, সংখ্যালঘুও না যে রাস্তার পাশের বাড়ির কলিং বেলের মতো যার যখন ইচ্ছা গুঁতা মেরে যাবে কেউ! দুইজনে ভালো কামাই করত এইটা যা দোষ! ... ...
আজকের মানে শুক্রবারের ঘটনা। আমরা বেশ কয়েকজন দাঁড়িয়ে আছি। একজন খুব খুব বাজে লোক, বিএনপির আমলে একবার আর্মি নামিয়েছিল সন্ত্রাস দমনের জন্য। নাম দিছিল অপারেশন ক্লিন হার্ট। সেই সময় এই লোক আর্মির হাতে মারাই গেছিল প্রায়, কারণ সে করত হিরোইনের ব্যবসা! এই লোক সবার সামনে খুব হম্বিতম্বি করছে। এরে এই করা উচিত, ওরে স্কুল থেকে তারিয়ে দেওয়া উচিত, অমুকের বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া উচিত এমন নানা কথা বলছেন। এখন এই সময়ে কিছু বলার উপায় নাই। আমরা চুপ করে শুনছি। একজন খুব ভালো প্রধান শিক্ষক, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী, সামাজিক নানা কাজ করেন। প্রাসঙ্গিক ভাবেই আওয়ামীলীগ ঘেঁষা। একে ওই এলাকার একটা স্কুল আছে ওইটা থেকে তারাতে হবে। কেউই পছন্দ করছে না তার এই কথা কিন্তু কিছু বলারও নাই। কে বলে বিপদ টেনে আনবে? তাই আমরা সবাই চুপ করে শুনছি। এই সময় ওই এলাকারই একজন মুক্তিযোদ্ধা আসলেন সেখানে। আমরা দাঁড়িয়ে কথা বলছি দেখে তিনিও দাঁড়ালেন। কী নিয়ে আলাপ বুঝতে চাচ্ছেন। যদিও এখন সবাই দেশ নিয়েই কথা বলে, রাজনীতিই এখন প্রথম ও শেষ কথা। তিনি দাঁড়িয়ে বুঝার চেষ্টা করলেন। এর মধ্যে ওই লোক আবার উনাকেও বলা শুরু করল। কাকে ধরবে, কাকে মারবে ইত্যাদি। মুক্তিযোদ্ধা একটু দেখলেন উনাকে। বললেন, যখন যুদ্ধ হয় এই দেশে তখন ওই যে বাড়ি দেখতেছ, অমুকের বাড়ি ওইটা, ওইটা পুড়ায় দিছিল, এরপরে আরও কয়েজনের নাম বললেন যে গুলা পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। এরপরে উনাকে ধরলেন, বললেন, তোমার বাপ ছিল রাজাকার, আমরা কিন্তু তোমাদের বাড়ি পুড়ায় দেই নাই! ওই লোকের বাবা রাজাকার ছিল এইটা আমরাও জানতাম। কিন্তু ওইটা আমাদের পক্ষে বলা সম্ভব ছিল না। আমাদের এইটা মাথাতেই নাই। কিন্তু এমন একজন বললেন যাকে জবাব দেওয়ার কোন সুযোগ নাই! আসলে কোন উত্তরই হয় না আর! জোঁকের মুখে নুন! একটা শব্দ না করে তিনি চলে গেলেন সেখান থেকে। আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম মুক্তিযোদ্ধার দিকে। কতখানি নির্ভীক হলে এমন করে বলা সম্ভব। এখনও এমন সাহস! ... ...
শেরপুরের কথা শেষ করার আগে এবার আমার একটা অভিজ্ঞতা শেয়ার করি। শহরেই ছিলাম আজকে রাতে। দশটা সাড়ে দশটা বাজে। আমি রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আছি। ১৫/২০টা মোটরসাইকেল, ধীর গতিতে টহল দিয়ে আসছে দেখলাম। প্রতি মোটরসাইকেলে দুই তিনজন করে। আস্তে আস্তে যাচ্ছে। আমি বুঝতেছি না এরা কারা। সর্বশেষ মোটরসাইকেল থেকে একজন আমার দিকে তাকিয়ে সালাম দিল, স্লামাইকুম, আমরা জামাত শিবির ভাই, আমরা আছি! এখন হাসি আসছে আমার ওর কথা বলার ধরন দেখে। কিন্তু তখন আমি স্ট্যাচু হয়ে গেছিলাম। আমি ভাবছি এইটা কী হয়ে গেল! এমন কাণ্ড এই জীবনে কোনদিন ঘটে নাই। আমরা জামাত শিবির ভাই, আমরা আছি ভাই! ... ...
এক দল ১৫ বছর ধরে খেয়েছে, তোরাও ১৫ বছর খা। কিন্তু তিনারা এমনই ক্ষুধার্ত যে তর সইছে না। ১৫ বছরের খাবার একবারে খাওয়ার চেষ্টা করছে। দুর্ভিক্ষের গল্প শুনছি অনেক। প্রচণ্ড ক্ষুধায় কাতর কাওকে না কি শুরুতেই খাবার দিতে হয় না। আগে একটু পানি, হালকা কিছু দিয়ে ভারি খাবার দিতে হয়। না হলে তাড়াহুড়ো করে গলায় আটকে মরতে বসে অনেকে। বিএনপির দশা এখন তেমনই। কেউ এদের বলছে না একটু রয়ে সয়ে খাও। না হলে দম আটকে মরবে। সরকার নাই দেশে, পুলিশ নাই, সেনা বাহিনী নামে মাত্র আছে। তারা কেউ সামনে খুন হয়ে গেলে চেয়েও দেখবে না এমন নিয়ত করেই বসে আছে। গতকাল দুপুরে বের হয়েছিলাম আমার শহর দেখার জন্য। সমমনাদের সাথে কথা বলে একটু মনটা হালকা করার ব্যাপারও ছিল। সবই হয়েছে মানে শহর দেখাও হয়েছে, মনটাও হালকা হয়েছে। আবার একই সাথে ভারিও হয়ে গেছে। মানুষ যে কোন পর্যায় যায়, নামতে পারে তার নতুন করে মাপ নির্ধারণ হচ্ছে যেন। ... ...
পুরো একটা দিন পার হয়ে গেছে বাংলাদেশের কোন সরকার নেই, সরকার প্রধান নেই। এখন পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কোন রূপরেখা তৈরি হয়নি। ডক্টর ইউনুসকে প্রধান উপদেষ্টা বানানো হবে এমন শুনলাম। এর আগে সাবেক বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর সালেহ আহমেদের নাম শুনেছিলাম। তবে ইউনুস সম্ভবত হচ্ছে। যদিও বিএনপির আবার ইউনুসে সমস্যা আছে। তবে এখন হয়ত এইটা বড় হয়ে দেখা দিবে না। সেনাবাহিনীর একজনকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হবে এমন টিভিতে দেখলাম। সেনাবাহিনী এই মন্ত্রণালয় নিজের দখলে রাখতে চাচ্ছে কেন? জানি না। গভীর কোন তাৎপর্য থাকতে পারে। প্রচুর রদবদল হয়েছে সেনাবাহিনীতে। একজনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বড় খবর হচ্ছে গোলাম আজমের ছেলে যে সেনাবাহিনীর ভিতরে আটক ছিল সে মুক্তি পেয়েছে। অরিজিনাল বিষ! কোন খাদ নাই। তবে সম্ভবত উনার আর বয়স নাই সেনাবাহিনীতে ঢুকার। ঢুকলে খবর ছিল এবার। জেল থেকে খালেদা জিয়াও ছাড়া পেয়েছেন। পেয়েছে তারেক রহমানের বন্ধু গিয়াস আল মামুন! সর্বশেষ বিএনপি আমলে এই বন্ধু টাকার পাহাড় তৈরি করেছিল। ফখরুদ্দিন সরকার দুর্নীতির দায়ে তাকে ধরে। সেই থেকে জেলেই আছেন। ২০১২/১৩ সালের দিকে এক বিএনপি বন্ধুর কাছে শুনেছিলাম যে জেলে তার সাথে দেখা করতে গিয়েছিল। ওকে মামুন বলেছিল আরে কেবল বুক পকেটের টাকার খোঁজ পাইছে এরা! হাসছিলাম তখন! সরকার নাই লিখলাম, আসলে অনেক কিছুই নাই। আইন নাই, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী কোন বাহিনী নাই। লুটপাট চলছে দেদারছে! আইন কানুন ছাড়া এই সময়টুকুর পূর্ণ সদ্ব্যবহার করার চেষ্টা করে যাচ্ছে অনেকেই। অনেকই এই সবকে ক্ষোভ বলতে চাচ্ছে। আমার কাছে তা মনে হয় না। ক্ষোভ থাকতে পারে বিএনপির নেতাদের, জামাতের নেতাদের। নানা সময় নিগৃহীত হয়েছে, বহু কষ্টে জীবন যাপন করেছে অনেকে। যদিও বেশির ভাগ ভাজ খেয়ে ঠিকাদারি সহ নানা কাজে ঢুকে গেছিল। যাই হোক, তাদের ক্ষোভের জায়গাটা বুঝা যায়। কিন্তু এখানে তা হচ্ছে না। সুযোগ বুঝে কাজে লাগাচ্ছে! ঝোপ বুঝে কোপ হচ্ছে। আবার আইনের শাসন দেশে ফিরতে ফিরতে যা বাগিয়ে নেওয়া যায় আর কি! ... ...
আমরা এই জীবনে নতুন সূর্যের গল্প কয়েকবার শুনে ফেলছি। ঠিক মনে নাই, কিন্তু বড়দের মুখে শুনছি এরশাদ পতনের পরে খুব করে বলা হয়েছে এই কথা। নতুন সূর্য! এবার বাংলাদেশ সব নতুন করে শুরু করবে। এক ধাপ যেতেই মুখ থুবড়ে পড়ল সব। যিনি উঠেছেন তিনি নামবেন না বলে জিদ করে বসে আছেন! যাক, আবার শুরু হল। এবং ইতিহাসে প্রথমবার কেউ সহজেই ক্ষমতা ছেড়ে দিল, আবার আসল বিএনপি। বিএনপি এসে চালাল দেশ মনের মতো করে। এবং আবার এমন এক পরিকল্পনা করল যে তাদের আর নামতে হবে না! ফলাফল সেনা সমর্থিত সরকার আসল। দুই বছর থাকল। আমরা আবার বললাম এবার নতুন সূর্য উঠেছে, সব নতুন করে শুরু হবে। সব ভুল শুধরে নতুন বাংলাদেশ। এরপরে? ১৬ বছর পরে আবার আমাদেরকে নতুন সূর্যের কথা বলতে হচ্ছে। আমরা আশা করছি এবার সব ঠিক হবে। জামাত দুর্গা পূজায় মণ্ডপ পাহারা দিবে, খালেদা জিয়া ১৫ আগস্টে কেক কাটবে না, বিএনপির ছেলেরা বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে ফুল দিবে, তারেক রহমান ১০% করে খাবে না না। হাওয়া ভবন আতংকের নাম হবে না। এমন নানা অবিশ্বাস্য অলিক আশা নিয়ে বসে আছি, এবার সব ঠিক হবে। আমরা যেই লাউ সেই কদুও বলতে পারব না, দেখব হালার এইটা তো মাক্কাল ফল, এমনও হবে না নিশ্চয়ই! ... ...
সরকারের নানা ভুল তো আছেই, কেউ অস্বীকার করছে না। কিন্তু এখন যা হচ্ছে? গতকালের মৃত্যুর সব দায় সরকারের? আন্দোলনকারীরা যখন জানল আগামীকাল আওয়ামীলীগ কর্মসূচি দিয়েছে, কী দরকার ছিল মুখোমুখি হওয়ার? ছাত্ররা তাদের কর্মসূচি দিয়েছিল দেশে এখন থেকে অসহযোগ আন্দোলন চলবে। আমি দেখে খুশি হয়েছিলাম। অসহযোগ আন্দোলন হচ্ছে দুনিয়ায় যত আন্দোলন আছে তার মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর, সবচেয়ে নিরাপদ, সবচেয়ে কার্যকারী একটা পন্থা। ছাত্ররা নিজেদের অবস্থান, নিজেদের বক্তব্য এই কয়দিন পরিষ্কার বুঝিয়ে দিয়েছে, জনগণ তাদের সমর্থনও দিয়েছে। তাহলে নিজেদের উপড়ে বিশ্বাস হারানো কেন? জনগণকে একটা দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, সবাই নিজের অবস্থান থেকে অসহযোগিতা করবে। কাজে যাবে না, চাকরি করবে না। এইটাকে বলা হয় এমন একটা আন্দোলন যে কোন রক্তপাত ছাড়াই যে কোন সরকার পড়তে বাধ্য। সমস্ত রাজ কর্মচারি, কর্মকর্তা যদি এতে সামিল হয় ওই সরকার দম ফেলার সময় পাবে না, পড়ে যাবে। অবিশ্বাস্য হলেও এইটাই সত্য। কিন্তু আমাদের মহান জেন জি অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছে কিন্তু এর অর্থই জানে না। তারা দেখছে আজকে আওয়ামীলীগ রাস্তায় নামছে, এমন অন্যায় সহ্য করবে তারা? এমন অপমান? ঝাঁপিয়ে পড়ল! শুনেন, যখন আপনে মারতে যাবেন আর তখন মার খেয়ে আসবেন তখন এখানে কান্নাকাটি করে লাভ নাই। আপনে মারতে গেছিলেন, মারতে গিয়ে মরলে এই দায় কে নিবে? আপনে মারামারিই করবেন তাহলে আগেরদিন অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিলেন কেন? না ভয় পেয়ে গেছেন যে আন্দোলন আপনাদের হাতে থাকবে না। এতদিন যাদেরকে একটু তুচ্ছ তাচ্ছিল্যই করেছেন, বলেছেন বুড়োদের দিয়ে কিচ্ছু হয় না, এখন অসহযোগ আন্দোলন করতে হলে সেই এদের উপরেই নির্ভর করতে হবে। সাহস পান নাই যে এরা আপনাদের সাথে থাকবে? সেই বিখ্যাত মধ্যবিত্তদের উপরে বিশ্বাস নাই? শুধু মধ্যবিত্ত না, মধ্য বয়স্ক! দুই মিলে ভয়ানক ব্যাপার! এরা যদি সহযোগিতা না করে? যদি জনগণ সাথে না থাকে তাহলে আন্দোলন করতেছেন কোন যুক্তিতে ... ...