আমাদের যেদিন থেকে ধর্মানুভুতি খুব স্পর্শকাতর হল সেদিন থেকেই সর্বনাশের শুরু। সত্য হচ্ছে ধর্মীয় অনুভূতিতে কখন যে কার কীভাবে আঘাত লাগবে তা কেউই জানে না। আল্লা ছাড়া আর কেউ জানে না যে কখন কিসে কার ধর্মানুভুতিতে আঘাত লেগে যাবে! এই যে আল্লা লিখছি আল্লাহ্ লেখি নাই, এইটার জন্যও একজন আমাকে ফেসবুকে চার্জ করে বসেছিল, কেন এমন লিখলাম! মোট কথা বাঁচার উপায় নাই। আপনি গল্প লিখবেন, সিনেমা বানাবেন একজন ভণ্ডকে নিয়ে, যে নামাজ পড়ে ঘুষ খায়, মাগিবাজি করে, পারবেন না! নামাজ পড়ে কেউ ঘুষ খাচ্ছে? হতেই পারে না। অথচ টিকিত কালোবাজারির প্রধানকে ধরা হল যখন তখন দেখা গেল তার কপালে কালো দাগ, নামাজ পড়তে পড়তে দাগ করে ফেলেছে কপালে! প্রশ্ন পত্র ফাঁসের জন্য ধরা হল, কী সুন্দর নুরানি চেহারা, সুন্দর দাঁড়ি টুপি পরা আল্লার বান্দা! কিন্তু আপনি এগুলা লিখতে পারবেন না, সাহিত্যে আনতে পারবেন না, সিনেমা বানাইতে পারবেন না, গল্প লিখতে পারবেন না। লিখলে, বানালে ঠিক কারো না কারো অনুভূতিতে আঘাত লেগে যাবে, তারপরের দায়িত্ব পরাক্রমশালী শেখ হাসিনা সরকারও নিতে পারেনি আর এই নড়বড়ে ধ্বজভঙ্গ সরকার নিবে এমন আশা আর কইরেন না! ... ...
"জাতিসংঘের রিপোর্ট যত পড়ছি, তত চমক লাগছে। এমনই মহা শক্তিধর এক বিশ্বসংস্থা- যাদের দেখা করার অনুরোধে পাত্তা দেয়নি জামায়াত ও ছাত্রশিবির। সেনাবাহিনী, ডিজিএফআইয়ের সঙ্গেও তারা কথা বলার সুযোগ পায়নি। এমনকি লিখিত প্রতিবেদন চেয়েও পায়নি। আর কারাগারে আটক সাবেক আইজিপির সঙ্গে কথা বলার সুযোগ চাইলে অন্তর্বর্তী সরকার বলে দিয়েছে- 'হবে না'। শেষপর্যন্ত তারা বিভিন্ন বাহিনীর এমন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছে, যারা কেউ ওই সময়ে বাহিনীর নীতিনির্ধারক পর্যায়ে ছিলেন না। একমাত্র সে সময়ের বিজিবি চিফ কথা বলে কিছুটা মান বাঁচিয়েছেন। এসব আবার রিপোর্টে উল্লেখও করা হয়েছে!!" ... ...
'স্মৃতির মিনার ভেঙেছে তোমার? ভয় কি বন্ধু, আমরা এখনো চারকোটি পরিবার খাড়া রয়েছি তো! যে-ভিত কখনো কোনো রাজন্য পারেনি ভাঙতে' ... ...
খুব বিখ্যাত একটা উক্তি আছে বঙ্গবন্ধুর, - "মুক্তিযুদ্ধে ধর্ষিতার বাবার নামের পাশে আমার নাম দিও। আর ঠিকানা লিখো ধানমন্ডি ৩২ নাম্বার বাড়ি" সেই ৩২ নাম্বার নাই হয়ে গেল! কেউ নাই করে দিতে পারল? রাষ্ট্র প্রশাসন তাকিয়ে তাকিয়ে দেখল? শুধু ৩২ নাম্বার? এক যোগে দেশের সমস্ত জায়গায় যেখানে বঙ্গবন্ধুর নাম ছিল তাতে আঘাত করা হয়েছে। নতুন করে মুরাল ভাঙা হল, যেখানে নাম ছিল সেখানা ভাঙা হল। একজন একটা হিসাব দিল চারশোর উপরে নানা স্থাপনায় আক্রমণ হয়েছে আজকে। সুধা সদনেও আগুন দেওয়া হয়েছে আজকে! আওয়ামীলীগের নেতাদের বাড়ি যে কয়টা আস্ত ছিল সব গুলোর উপরে আবার এই রাতে হামলে পড়েছে ওরা। দেশের নানা জায়গায় তাণ্ডব এখনও চলমান, কালকে হয়ত জানা যাবে কোথায় কোথায় কী ঘটিয়েছে এই পঙ্গপালেরা। প্রশ্ন হচ্ছে রাগটা কই? শেখ হাসিনার সাথে রাগ? শান্তির পায়রার ব্যক্তিগত রোষানলে পড়ল মুজিব? মহান সেনাবাহিনী কই? আজকে সবাই চুপ! নারায়ে তাকবীর আল্লাহ আকবর বলে ঝাঁপিয়ে পড়ল এই ছাগলেরা, পুরো পৃথিবী এই দৃশ্য দেখল না? এখন কে ক্ষমতায়? প্রশাসন কার কাছে? শান্তির দূত এইটা হতে দিল? ... ...
ফলাফল চোখের সামনে। যে শাহবাগ উত্তাল হত তুমি কে আমি কে বাঙালি বাঙালি বলে সেখানেই স্লোগান উঠল তুমি কে আমি কে রাজাকার রাজাকার! এই কষ্টের কোন মাপজোক আছে? এমন ভয়ংকর একটা প্রজন্ম তৈরি হয়ে গেল চোখের সামনে অথচ কেউ কিছুই বুঝল না! মেটিকুলাস ডিজাইন বলে আর যাই বলি না কেন, এমন একটা প্রজন্ম তৈরির সমস্ত দায় আওয়ামীলীগের, এতে কোন সন্দেহ নাই। আমরা, আমি জেন জি নিয়ে মশকরা করছি, এরা কিছুই শোনে না, পড়ে না, জানে না, জানতে চায়ও না এগুলা বলে গেছি সব সময়। অথচ বিরোধী শক্তি তা বলে বসে থাকেনি, ওরা যেভাবে শুনতে চায়, যেভাবে জানতে চায় সেভাবেই শুনিয়েছে, জানিয়েছে! আমি জানি খুব স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে লিখছি আমি। সমাজ বিজ্ঞানীরা, নৃ তাত্ত্বিকেরা এই সব নিয়ে ভালো বলতে পারবে যে কেন একটা প্রজন্ম সম্পূর্ণ ভুল দিকে চলে গেল! ... ...
"ছাত্র-উপদেষ্টারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ নিচ্ছে, এটা তো খুশি হওয়ার মতো সংবাদ ছিলো, কিন্তু জনগণ খুশি না হয়ে সন্দেহের চোখে দেখছে কেন? কারণ আপনার বিহ্যাভিয়োরাল প্যাটার্ন ভালো নয়। সারা জুলাই শেখ মুজিবের ভাষণ বাজিয়েছেন, মুজিবের বই থেকে মুক্তিবাক্য উদ্ধৃত করে মানুষকে শুনিয়েছেন, মুজিব দিয়ে কার্যোদ্ধার করেছেন, কিন্তু বিজয়ের প্রথম মুহুর্তেই মুজিবের শেষ স্মৃতিচিহ্ন ৩২ নম্বর পুড়িয়ে দিয়েছেন। ৩২ নম্বর তো শুধু মুজিবের বাড়ি নয়। এটা বাংলাদেশেরও বাড়ি। আপনি বাংলাদেশের বাড়ি পুড়িয়ে দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ নিচ্ছেন, মুজিবকে পচাত্তর-পূর্ব গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলছেন, এটা হাইলি সাসপিসিয়াস মুভ। এবং এটা কখন করছেন? যখন বুঝতে পেরেছেন যে আপনার অবস্থা লেজেগোবরে, জনগণের সাথে আপনার দূরত্ব প্রকট, জনগণ আপনাকে শত্রু ভাবছে, তখন। ৫ আগস্টের পর থেকেই দেখা গেলো বাংলাদেশের জন্মশত্রু জামাতের জরায়ুতে আপনাদের মাতৃঋণ। সবাই জামাতের সাথে হ্যান্ডশেক করছেন। আস্কারা দিচ্ছেন তৌহিদী জনতা নামক ইবলিশী জনতাকে। ২৪ দিয়ে ৭১-কে মোছার প্রাণপণ চেষ্টা করছেন। মুক্তিযুদ্ধ ও মুজিবকে মোছার সর্বোচ্চ আয়োজন চোখে পড়েছে। বেগম রোকেয়ার ছবিতে ‘মাগী’ লেখা হয়েছে। কালি লেপ্টানো হয়েছে।" - মহিউদ্দিন মোহাম্মদ। ... ...
আবার কালো এক রাত হাজির হইছে। রাত দেড়টার সময় যখন লিখতে বসেছি তখনও তুমুল অ্যাকশন চলছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়। দেশের সব খবরের চ্যানেল গুলো লাইভ দেখাচ্ছে। রীতিমত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে ঢাবির ক্যাম্পাস, নীলক্ষেত এলাকা। কয়েকটা চ্যানেলের সরাসরি দেখেও আমি এখন পর্যন্ত নিশ্চিত না পুলিশ কোন পক্ষের সাথে আছে! পুলিশ সাত কলেজের ছাত্ররদের দিকেও টিয়ার শেল মারছে আবার ঢাবির ছাত্রদের দিকেও মারছে। তাই বুঝা মুশকিল যে হচ্ছে কী! ... ...
আদিবাসী শব্দটায় সমস্যা কোথায় জানেন? সমস্যা হচ্ছে আদিবাসী সংজ্ঞা অনুযায়ী আদিবাসীদের অস্তিত্ব যদি মেনে নেওয়া হয় তাহলে জাতিসংঘের ঘোষণাপত্র অনুযায়ী আদিবাসীদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে! এইখানেই আপত্তি। অধিকার দেওয়া যাবে না! জাতিসংঘ বলেছে আদিবাসীদের ভূমি রক্ষার অধিকার, নিজেদের সংস্কৃতি রক্ষার অধিকার ইত্যাদি দিতেই হবে। এগুলা কেউই, কোন সরকারি দিতে রাজি না। রাষ্ট্র, আমাদের এই প্রাণের রাষ্ট্র মনে করে এই অধিকারের প্রতিষ্ঠা করতে দিলে এক সময় এরা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে! এইটার থেকে বাঁচার জন্য সবচেয়ে সহজ সরল সমাধানের পথে হেঁটেছে রাষ্ট্র, কী? দেশে আদিবাসীই নাই! যেহেতু আদিবাসীই নাই তাই তাদের অধিকারেরও প্রশ্ন নাই। খেল খতম পয়সা হজম! যেটা কেউই বুঝে না তা হচ্ছে আপনি না করলেই সত্য মিথ্যা হয়ে যাবে না। আপনি মুখ দিয়ে বলে দিলেই তা সত্য হবে না। যার যা প্রাপ্য অধিকার তা দিলে বিচ্ছিন্নতার কোন প্রশ্নই উঠবে না বরং ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করলেই বিচ্ছিনতার প্রশ্ন আসবে, ক্ষেত্র তৈরি হবে। আমরা গায়ের জোরে আদিবাসীদের অস্তিত্ব অস্বীকার করছি, এরপরে তাদের অধিকারকে বন্দুকের নল দিয়ে আটকে দিতে চাচ্ছি। তারপরে কেউ টুঁ শব্দ করলে বলছি এই দেখো এরা বিচ্ছিন্ন হওয়ার জন্য এমন করছে, এরা দেশের শত্রু! ... ...
কলকাতায় আসার পরে অনেকেই জিজ্ঞেস করছে বাংলাদেশের অবস্থা কী? এই প্রশ্নটা শুনলেই আমার মান্টোর উত্তরের কথা মনে হয়। তাঁকেও একজন জিজ্ঞাসা করেছিলেন, মান্টো, আপনার দেশের খবর কি? মান্টো বলেছিল 'কারাগারে জুমার নামাজ যেমন হয়, অবস্থা ঠিক তেমনি।' এইটা আবার কেমন? আবার প্রশ্ন! মান্টোর উত্তর- 'আজান দেয় বাটপার, ইমামতি করে খুনি, পেছনে নামাজ পড়ে সব চোরের দল। ... ...
শেরপুরে ফিরে আসার পরে শেরপুর জিমে একটা ছেলের সাথে পরিচয় হল। ওই ছেলে শাবিপ্রবিতে পড়েছে। যথারীতি জাফির ইকবালকে দেখতে পারে না। তখন আমিও দিন দুনিয়া চিনি। কথাবার্তায় বুঝলাম শিবিরের ছেলে। যেহেতু নিজের শহর আর জিম হচ্ছে আমার স্টেডিয়ামে, যা আমার বাড়িঘরের মতো ছিল এক সময় তাই একদিন কথার ফাঁকে ধরলাম, কেন পছন্দ না। কোন কারণ নাই, ভালো লাগে না ভাই! এর তো কোন জবাব নাই! তবে এই ছেলে সৎ ছিল। বলছে ভাই পছন্দ না কিন্তু এইটাও ঠিক উনার মতো শিক্ষক আমি কোনদিন দেখি নাই। বলল ভাই যত সমালোচনা দেখবেন অন্য নানা জিনিস নিয়ে। কেউ কোনদিন জাফর ইকবাল সম্পর্কে উনার পড়ান বা উনার শিক্ষকতার কোন গাফেলতি নিয়ে একটা শব্দও বলতে পারবে না। বলে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে কত জ্ঞানী গুণী মানুষ আছে, শিক্ষক আছে। দেখবেন এরা ক্লাস নিতে গিয়ে ব্যারাছ্যারা লাগায় দেয়। সময় মতো পরীক্ষা নিতে পারে না। কোর্স শেষ করতে পারে না। আজ পর্যন্ত জাফর ইকবালের ক্ষেত্রে এমন একবারও হয় নাই! উনি যখন শিক্ষকতা করেছে তখন বিএনপি সরকার ক্ষমতায় ছিল। সকাল বিকাল তারে মারতে যায় কেউ না কেউ। তখন সমানে হরতাল হত দেশে। অথচ উনি ঠিকই কোর্স সময়মত শেষ করেছেন, প্রতিবার। জাফর ইকবাল ঘড়ি ধরে ক্লাসের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকত। ঠিক সময়মত তিনি ক্লাসে ঢুকে যেতেন! ... ...