বর্তমান সময়ে যা হচ্ছে তা মেনে নেওয়ার মতো না। সমাধানের পথে যাওয়ার পরে সমাধান না হলে এক কথা। যারা বিপ্লবের ভূত মাথায় নিয়ে ঘুরছে তাঁকে আপনি ফিরাবেন গুলি মেরে? প্রবল জলোচ্ছ্বাস হয়ে আসবে না? কী সেই সমাধান তা আমি জানি না। এইটা আপনাদেরই বের করতে হবে যারা এইটা সৃষ্টি করেছেন। আপনারা আমাদেরকে ফেলেছেন উভয়সংকটে। এই আন্দোলনের চালিকা শক্তি ধীরে ধীরে জামাত বিএনপির হাতে চলে যাচ্ছে। আমাদের পক্ষে তাদের সাথে গলা মেলানো সম্ভব না। আমাদের পক্ষে আবার দৈনিক নিয়ম করে লাশ পড়বে আমাদের অর্ধেক বয়সই কোন একজনের, এইটাও মেনে নেওয়া সম্ভব না। জামাত বিএনপির প্ররোচনায়ই হোক বা এই প্রজন্মের দেশের ইতিহাস ঐতিহ্যের প্রতি বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধাবোধ নাই দেখেই হোক, এখনই আগস্টের শোক নিয়ে মজা নেওয়া শুরু হয়ে গেছে। ১৫ আগস্ট এইটা আরও ভয়ংকর হয়ে যাবে নিশ্চিত। সব ছাত্ররা মিলে যদি কেক কাটে আমি আশ্চর্য হব না। এখন কেউ আমাকে যুক্তি দিয়ে বুঝাক কেন আমার এরপরে তাদের সাথে থাকতে হবে? ... ...
সরকার নড়বড়ে, ক্ষেত্র প্রস্তুত, কেউ কেন আসল না এখনও? সময়, পরিস্থিতিই বলে নেতা তৈরি করে। এরচেয়ে দুর্বল অবস্থায় সরকারকে আর কবে কে পাইছে? কেন আসছে না? সেই ঘুরেফিরে জামাতের ভূত ঘাড়ে নিয়ে সেই বিএনপি! পুলাপান বিএনপিকে নিয়ে ট্রল করছে, খালেদা জিয়াকে নিয়ে মজা নিচ্ছে। এর জবাবে দুই একটা পোস্ট দেখলাম। কেউ একজন বেশ গুছায়াই লিখছে যে তোমরা যে মজা নিচ্ছ তাহলে কে আসবে বল? আমাদের নিয়ে মজা নিয়ে তো সেই বিকল্প নাই তত্ত্বকেই সত্য বলে প্রতিষ্ঠা করছ! ভালো একটা উদাহরণ দিয়েছে ওই লেখায়, লিখেছে সবাই বৃষ্টির জন্য দোয়া করছ অথচ আশা করছ বৃষ্টি হলে তা বিএনপি জামাতের গায়ে যেন না পড়ে! আমি ভেবে দেখলাম সঠিক কথাই বলেছে। দুইদিকেই মজা নিয়ে কই গিয়ে দাঁড়াতে চাচ্ছে? আকাশ থেকে নেমে আসবে কেউ এমন আশা করছে? জেন জি কি জানে এই দেশে আর্মি শাসন আর আসবে না? এইটা বৃষ্টির মতোই অবধারিত, বিকল্প হচ্ছে বিএনপি! তোমরা ট্রল কর আর যাই কর, এইটাই সত্য। ... ...
বর্তমান এই পরিস্থিতি আরও তীব্র করে তুলল এই ঘৃণা। সরকার নতুন প্রজন্মের কাছে আর যেতে পারবে কি না আমার সন্দেহ আছে। মহা পরাক্রমশালি আওয়ামীলীগ সরকারকে এই যন্ত্রণা নিয়েই চলতে হবে। ২০৪১ সাল পর্যন্ত যে ভিশন দেখানো হচ্ছিল তাতে এই আন্দোলন বড় ধাক্কা হয়ে লাগবে। এবার কোনমতে উত্তরে গেলেও কতদিন টিকে থাকতে পারবে সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।আমাদের হচ্ছে মহা বিপদ। আমরা যারা আওয়ামীলীগের কেউ না, কিন্তু নৈতিক সমর্থন দিয়ে গেছি সব সময়। এই আন্দোলনে জাতির পিতা ইব্রাহিম, বঙ্গবন্ধু ঘোড়ার ডিম স্লোগান দেওয়া হয়েছে, এই আন্দোলনে আমি রাজাকার বলে স্লোগান দেওয়া হয়েছে, এখন দেখছি বর্তমান সংঘর্ষের মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে বলা হচ্ছে দেখুন, এতদিন আমাদেরকে কী মিথ্যা পড়ানো হয়েছে, ত্রিশ লক্ষ শহীদ মুখের কথা? মুক্তিযুদ্ধের শহীদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে! এই সবই অসমর্থন যোগ্য কিন্তু তাই বলে ২০৭টা লাশ! ( গতকালের প্রথম আলো অনুযায়ী) এতগুলা মৃত্যু সব ম্লান করে দেয়, এগুলার কোনটাই একটা লাশের সমানও না! ... ...
নেট পুরোপুরি বন্ধ আর কারফিউ চালুর পরে দৈনিক রাতে যা জানতাম আর যা বুঝতাম তা লেখার চেষ্টা করে গেছি। সব সময় মাথা ঠিক ভাবে কাজ করেছে এমনও না। পুরোটা আবার বসে বসে পড়লে হয়ত অনেক কিছুই বাদ দিতাম আমি। কিন্তু নেট পেয়েছি, আবার কখন নেটের বাহিরে চলে যাই ঠিক নাই। তাই পুরো লেখাটাই একবারে দিয়ে দিলাম। ইচ্ছা ছিল ভাগ ভাগ করে দেওয়ার। সরকার ফেসবুককে ভয় পাচ্ছে। এইটাই হচ্ছে সত্য। নেট দিতে আমার মনে হয় না আর অন্য কোন সমস্যা আছে। ফেসবুকে মানুষ এতদিন যা হয়েছে তার ভিডিও চিত্র, স্থির চিত্র দেখবে, দেখে আবার যদি রাগের বিস্ফোরণ ঘটে? সরকার তা চাচ্ছে না। সহজ একটা বিষয়কে কতখানি জটিল করা যায় তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে থাকবে এই আন্দোলনটা। নতুন প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয়তা এখন প্রায় শূন্যের কাছে। অথচ জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারত এখান থেকে। আজকের প্রথম আলোর রিপোর্ট অনুযায়ী মৃত্যুর সংখ্যা ১৯৭! আমার এই লেখায় এক জায়গায় লেখছি ধার্মিকেরা বলে ঈশ্বর যা করেন মঙ্গলের জন্যই করেন, সেই মহান মঙ্গলের অপেক্ষায় বসে থাকা ছাড়া আর কিছুই করার নাই। এখনই ওইটাই বলছি! অদ্ভুত কালো অধ্যায় পার করল বাংলদেশ। ... ...
ধরুন শাহবাগ আন্দোলন হয়নি, গণজাগরণ মঞ্চ বলে কিছু এই দেশে হয়নি। সাকা, মুজাহিদ, নিজামি, কামরুজ্জামান সবাই এখনও এই ভূখণ্ডেই বাস করছে। জামাত আগের মতোই একটা ধরার মতো শক্তি। এমন একটা পরিস্থিতিতে কালকের ঘটনা ঘটল! অট্টহাসি চিনেন? আহ্লাদে আটখানা কাকে বলে জানেন? সব দেখতে পারতেন! পাকিস্তানের আগেরদিন নাই, থাকলে গতকাল যা হয়েছে পাকিস্তানের রাস্তায় মিষ্টি বিলানো হত। প্রকাশ্যে বিবৃতি দিত যে আমাদের কোন ভাইকে যেন অন্যায় ভাবে অত্যাচার করা না হয়! তারা আমাদের ভাই, তারা আমাদের বোন! এগুলা এক সময় নিয়ম করে দেখছি আমরা। খান...র পুলায় নায়েবে আমির মনের ভিতরের সুখানুভূতি চাপা দিয়ে গম্ভীর স্বরে টিভি ক্যামেরার সামনে বলত, খুব অন্যায় হচ্ছে! বৈষম্য দূর করে সঠিক ইশতেহার দেওয়া হোক! আমাদের কপাল ভালো যে সেই দিন দেখতে হচ্ছে না। এখন একবার চিন্তা করেন যারা রাজাকারদের ফাঁসির দাবীতে আন্দোলন করল, এই দেশে রাজাকারদের শাস্তি নিশ্চিত করল তাদের কাছেই এই স্লোগান বুলেটের মতো বিঁধছে। আর যারা সংগ্রাম করছে, যারা রাজাকাদের অত্যাচারে স্বজন হারিয়েছে, সরাসরি অত্যাচারের শিকার হয়েছে, তাদের কাছে কেমন লাগতে পারে এই স্লোগান? ... ...
এদিকে এক ইংরেজ সাহেব আসছেন, তিনিও পরেরদিন এই ট্রেনে সিলেট যাবেন। কিন্তু প্রথমশ্রেণীতে উঠতে গিয়ে শুনলেন এখানে তিনি আছেন, অন্য কামরাগুলোতেও তাঁরই লোকজন, তখন সাহেব তাঁদের ঘুমের ব্যাঘাত করা ঠিক হবে না ভেবে স্টেশনের বিশ্রামাগারে বসেই রাত কাটিয়ে দেন। তিনি কোন সময় কুলাউড়ায় এসে পৌঁছবেন এইটা হিসাব করে সিলেট থেকে অগ্রগামী এক দল রাতেই এসে হাজির হয়েছিলেন কুলাউড়ায়, সিলেটের স্বনামধন্য সব ব্যক্তিবর্গ। সবাই রাত কাটালেন স্টেশনে। কুলাউড়ায় পরেরদিন লোকে লোকারণ্য! সবাই ফুল মালা নিয়ে হাজির। একনজর দেখতে চায় সবাই। এর মধ্যে সিলেট থেকে আগত ওয়েলস প্রেসবিটেরিয়ান চার্চের মিসেস ইথেল রবার্টস রেলের কামরায় এসে কথা বলে গেলেন। সিলেটে তাঁদের বাড়িতেই উনার থাকার ব্যবস্থা হয়েছে। তাঁরা বাড়ি ঘর ছেড়েই ক্ষান্ত হন নাই, কুলাউড়ায় এসে দেখাও করে গেলেন! কুলাউড়ায় দেওয়া হল আরেক সংবর্ধনা। উপচে পড়া ভিড়ের মাঝে ট্রেন চলল সিলেট মুখি। ... ...
কাকিমার মৃত্যু সংবাদ পাওয়ার পরে সবাই দেখি পাঠ করছে, লিখছে ওঁ দিব্যান্ লোকান্ স গচ্ছতু, আমার মনে হল আচ্ছা এইটার অর্থ কী? জানার ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়, উপায় জানালো আমাকে যে এর অর্থ হচ্ছে হে পরমেশ্বর ! তিনি যেন দিব্যলোকে গমন করেন মানে স্বর্গে গমন করেন। বিষয়টা জেনে দারুণ লাগল। ইসলাম ধর্মে কারও মৃত্যুর সংবাদ শুনে সবাই পাঠ করে হচ্ছে ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন, এর অর্থ হচ্ছে আমরা আল্লাহর বান্দা, নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর কাছে ফিরে যাব। এইটা অনেকটা আরেকজনের মৃত্যুর খবর পেয়ে নিজের মৃত্যুর কথা স্মরণ করা। আমাদেরও একদিন মরতে হবে, কাজেই সময় থাকেতে লাইনে আসুন। এইদিক দিয়ে খ্রিস্টানদের রেস্ট ইন পিস বেশ সাদাসিধা। কিন্তু তাঁদের বিদায় জানানোর প্রক্রিয়াটা চমৎকার। সবাই বক্তব্য দিতে চায়, দেও, সমস্যা নাই, কারণ সবাই চেয়ারে বসে আছে। সবাই পরিপাটি হয়ে এসেছে। দাফন শেষে হালকা শুরা পানেরও ব্যবস্থা থাকে। বেশ আয়োজন করে বিদায় জানানও যাকে বলে। আমাদের এদিকে একটু পরিচিত কেউ মারা গেলে লাশ সামনে রেখে বক্তব্যের হিড়িক লাগে। আধা ঘণ্টা, চল্লিশ মিনিট শুধু মাত্র কথাই শুনতে হয়। আব্বা যখন মারা গেল তখন আমাদের এখানে পৌরসভা নির্বাচন চলছিল। মাসাল্লাহ! সব প্রার্থী এসে হাজির, সবাই কথা বলতে চায়! সেই হিসাবে খ্রিস্টানদের চেয়ারে বসে বক্তব্য শোনার ব্যবস্থা বেশ ভালো ব্যবস্থা। ... ...
অথচ আমাদের ভিতরে যদি একটু শ্রদ্ধাবোধ থাকত ভিন্ন ধর্মের প্রতি তাহলে ঈদের এই উৎসবে সহজেই সবাই অংশ নিতে পারত। কিন্তু দিনদিন যেন কঠিন থেকে কঠিন হয়ে যাচ্ছে সব কিছু। কুরবানির ঈদ যেন নগ্ন হয়ে আক্রমণ করা হয় ভিন্ন ধর্মালম্বিদের। রাস্তাঘাট রক্তে সয়লাব! একটু বিচক্ষণ হলে এগুলা থেকে সবাইকেই রক্ষা করে চলা সম্ভব। কিন্তু ওই যে বললাম, সংখ্যাগুরুর দম্ভ! নগ্ন প্রদর্শনী চলে! বকরি ঈদে ফিরে যেতে পারলে অনেক কিছুই অনেক সহজ হয়ে জেত, কিন্তু আমরা তো জেদ করে বসে আছি যে কোনমতেই এক বিন্দু ছাড় দিব না। ... ...
মাউশির আইন আর ভিকারুন্নেসার আইন আলাদা! মাউশি যে বয়স সীমা দিয়েছে তার সাথে ভিকারুন্নেসার বয়স সীমার পার্থক্য আছে! এইটা অনেক অনেক অভিভাবকই জানে না। কেউ জানলেও মাউশি যেহেতু আবেদন করতে দিয়েছে দেখি আবেদন করে। আইনে না হলে বাতিল হয়েই যাবে, সমস্যা কী? সমস্যা হল ভিকারুন্নেসা তাদের আলাদা বয়স সীমা মাউশিকে জানায় নাই, নিজেরাও কোন উদ্যোগ নেয় নাই। ফলাফল? ১৬৯ জন শিশুর সুযোগ হয়ে গেছে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তির! এরপরেও যদি দুই পক্ষ এইটার সমাধানের চেষ্টা করত তবুও বছরের মাঝে এসে এমন বিপদ তৈরি হত না এই ফুলের মতো শিশু গুলোর। লটারিতে টিকলেই তো হল না, বাচ্চার কাগজ পত্র সব ঠিক আছে কি না এগুলা যাচাই বাছাইয়ের ব্যাপার আছে না? ভিকারুন্নেসা এই যাচাই বাছাইয়ের কাজও সফল ভাবে করেছে। তখনও বাদ দেয় নাই এদেরকে! তখন বাদ দিলে এই অভিভাবকেরা একটু ঘাইঘুই করে মেনে নিত হয়ত। ভিকারুন্নেসা যুক্তি দেখাতে পারত যে আমাদের এখানে এই বয়স সীমা, এর বাহিরে আমরা নিব না। কিন্তু তা হয়নি। এদেরকে ভর্তি করা হয়েছে। বাচ্চারা ক্লাসও শুরু করেছে। ভিকারুন্নেসা তখন কেন এইটা করতে পারে নাই? তখন মহামান্য মাউশি ধমক দিয়ে বলেছিল তাদের আইনই আইন, এর বাহিরে কেউ আলাদা করে ভর্তির জন্য নতুন আইন তৈরি করতে পারবে না। আমার বন্ধু নিজে মাউশিতে গিয়েছিল, ওকেও মৌখিক ভাবে বলে দেয় যে সোজা ভর্তি করায় ফেলেন, আমরা যা বলছি ওইটাই ঠিক! ... ...
আমার খালার ফোনে ফোন আসল একটা। উনার বিকাশ ( বাংলাদেশের অন্যতম সেরা মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান) একাউন্টের পিন নাম্বারে সমস্যা হয়েছে, ঠিক করাতে হবে। খালার সাথে কথা বলে ওরা বুঝছে এই মহিলা এগুলা কম বুঝে। ওদের আত্মবিশ্বাস এতো যে তারা বলছে যে বুঝে তার কাছে নিয়ে যান। খালা আমার কাছে আসতেছিল পথে মধ্যে আরেক 'বিশেষ ভাবে অজ্ঞ' একজনের সাথে দেখা, তিনি তাদের সাথে কথা বলে যেমন যেমন করতে হয় তেমন তেমন করে কাজ সমাধা করেছেন। খালা এরপরে আসছে আমার কাছে। এসে বলল তোমার কাছেই আসতেছিলাম, বিকাশের পিন ঠিক করতে হব বলে, পথে অমুকের সাথে দেখা, ও ঠিক করে দিল! আমি শুনেই বুঝলাম এইটা গন কেস! বললাম, খালা বিকাশে টাকা কত ছিল? খালা বলল চার পাঁচ হাজারের মতো। আমি বললাম, ব্যালেন্স দেখেন, সম্ভবত এক টাকাও নাই! খালা বলে আরে না, ওরা তো পিন ঠিক করার জন্য বলছে। আমি বললাম, আপনে দেখেন! দেখা হল, ফিনিশ! এক টাকাও নাই! ... ...