এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  নাটক

  • নতুন সরকারের শিক্ষা স্বাস্থ্য শিলপনীতি ইত্যাদি

    pi
    নাটক | ২৯ জুলাই ২০১১ | ২২৯২৬ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Suvajit | ৩০ জুলাই ২০১১ ০১:০৯482681
  • আগের টই-য়ে আকার লেখা পড়ে মনে হচ্ছিলো দশতলা বাড়ীর আটতলায় দাঁড়িয়ে কমরেড বলছেন - 'এখানে এতো আলো হাওয়া, গ্রাউন্ড ফ্লোরের মালগুলো একদম আলো বাতাস পায় না কেন?'
    আমেরিকার ব্যাপার বলতে পারব না, তবে অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি সেখানে হাই স্কুল পাসআউট যারা দোকানে কাজ করতে আসে ক্যালকুলেটার ছাড়া বেসিক যোগ বিয়োগও করতে পারে না। দিল্লির চায়ের দোকানের ছোট ছেলেটা, কিম্বা সব্জি বেচছে যে বিহার উ:প: থেকে আসা সদ্য কিশোর মুখে মুখে তার থেকে অনেক কঠিন হিসাব করতে পারে।
    তবে হ্যাঁ, এটাও তো ঠিক ভারতের গ্রামের স্কুলের বাথরুম ভালো না, অনেক ক্ষেত্রে নেই-ই।
    কিছুদিন আগে কিন্নৌর বেড়াতে গেছিলাম। সেখানে সাংলার কাছে একটা জায়গা চিৎকুল। চারিদিকে খাড়া পর্বত। একটু উচ্চতা থেকেই বরফে ঢাকা। মাঝে সবুজ উপত্যকা। তিব্বত থেকে আসা বাসপা নদী উপত্যকার মাঝ বরাবর বয়ে চলেছে। কি স্রোত জলের আর কি ঠান্ডা। সেই নদীর ধারে একটা মেয়েদের প্রাইমারি স্কুল। একতলা বাড়ি, আন্দাজ গোটা আটেক ঘর হবে। পাশে একটা ছোট বাড়ি, ওটা মিড ডে মিলের জায়গা।
    ছোট ছোট চোখ চ্যাপটা নাকের মেয়েদের সংগে গোল গোল চোখ টিকালো নাক ফোলা ফোলা গালের মেয়েরা নীল সালোয়ার কামিজের ওপর নীল সাদা ডুরেকাটা সোয়েটার ইউনিফর্ম পড়ে স্কুলে পড়তে আসছে। হঠাৎ টিপটিপ থেকে বেশ জোরে বৃষ্টি পড়তে শুরু করল। অগত্যা স্কুলের বাঁশের বেড়া টপকে স্কুলের বারান্দায় আশ্রয় নিতে হল। বারন্দা থেকেই শুনতে পারছিলাম ক্লাসে শিক্ষক ইংরেজিতে কেমিস্ট্রি পড়াচ্ছেন। একটু উঁকি দিয়ে দেখলাম প্রায় জনাকুড়ি মেয়ে রয়েছে ক্লাশে। হঠাৎ দেখি কয়েকটা টেস্ট টিউব আর একটা বড় বোতল নিয়ে দুটো মেয়ে বেরিয়ে এলো। এগিয়ে গিয়ে বেড়া টপকে নদীর জল ভরে নিয়ে আসছে। আমি কৌতুহল সামলাতে না পেরে প্রথমে হিন্দিতে জিগ্যেস করব ঠিক করে পরে কায়দা করে ইংরেজিতে জিগ্যেস করলাম 'হুইচ ক্লাস দু ইউ স্টাডি ইন', তারাও তৎক্ষনাৎ জবাব দিলো 'উই বোথ আর ইন ক্লাস নাইন' বলে মৃদু ভদ্রতা সুচক হাসি দিয়ে ক্লাসে ঢুকে গেল।
    আমরা আর কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলাম। তার মধ্যে ঐ টিপিনঘর থেকে রাজমার সুগন্ধ বার হতে শুরু করল। আমার মেয়ের তো গন্ধ শুঁকেই জিভে জল চলে আসে, আমাকে বলে, 'আর উই অ্যালাউড টু ইট দেয়ার?'
    এও আমাদেরি ভারতবর্ষের গ্রামের স্কুল, গ্রাম পঞ্চায়েৎ চালিত।
  • pinaki | ৩০ জুলাই ২০১১ ০১:১৫482792
  • অনেক কথা লেখার ইচ্ছে ছিল শিক্ষা-টিক্ষা নিয়ে। এই মুহূর্তে হাড়ে হাড়ে শিক্ষাপর্ব চলছে - তাই সময় নাই। কটি কথা তবু বলে যাই -
    ১) দুটো দেশের সমাজব্যবস্থা, অর্থনীতির মধ্যে কোনো তুলনাই হয় না। কাজেই শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে কিকরে তুলনা সম্ভব আমার জানা নেই। চাকরির লক্ষ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করে শিক্ষাকে কেবল শিক্ষা হিসেবে দেখা ভারতবর্ষে বিলাসিতা। কাজেই সেখানে মার্কিন ব্যবস্থার ফ্লেক্সিবিলিটি, সৃজনশীলতা - ইত্যাদি আমদানি করার সুযোগ নেই। এ তো খুব সহজ সত্যি। এ নিয়ে তক্কোটা কোথায় আমি বুঝি নাই।
    ২) একদম ছোটো বাচ্চদের শিক্ষায় নানারকমের সৃজনশীলতা এখন বড় শহরের ভালো স্কুলগুলোতেও আমদানি হয়েছে। বড় ব্র্যান্ডের প্লে স্কুল গুলোতেও। কিন্তু আম্রিকার মত খোলা জায়গা, দূষণমুক্ত পরিবেশ - এসব তো আর ভারতের বড় শহরে আমদানি করা সম্ভব নয় - তাই সেই দিক দিয়ে আম্রিকান শিশু শিক্ষা লোভনীয়ই থাকবে। আমাকে এবং আমার মেয়েকে অন্য সব কনস্ট্রেন্ট বাদ দিয়ে চয়েস দিলে আমিও চাইব মেয়ে আম্রিকার কেজি স্কুলে পড়ুক। মেয়েও তাই চাইবে। তার যদিও মাত্র দেড় মাসের অভিজ্ঞতা। কিন্তু সেটুকু তার মনে এমন গভীর ছাপ ফেলেছে - সেখান থেকে সে বেরিয়ে আসতে পারে না - এখনও। কিন্তু আবার বলছি কেজি স্কুলের কারিকুলামের জন্য নয়, অমি বা আমার মেয়ে আম্রিকা চাইব খোলা জায়গা আর দূষণ থেকে বাঁচার জন্য। কারিকুলামে কিছুটা পার্থক্য পেয়েছি। যা কোয়ান্টিটেটিভ। হয়ত সেটাও চেন্নাই বলে। লুরুতে হয়তো সেটাও থাকত না।
    ৩) কিন্তু জীবন তো কেজিতে থেমে থাকবে না। এরপর প্রাইমারি এবং তারপর সেকেন্ডারি। এখন বড় শহরে অলিম্পিয়াড, আইআইটির কোচিং শুরু হয় ক্লাস ফাইভ থেকে। কোথায় পালাবেন কমরেড? কোথায় স্পেস দেবেন বাচ্চাকে? কম্পিটিশনের বাজারে তাকে বিনা যুদ্ধে মরতে দেখবেন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে? নাকি তাকে যুদ্ধ শেখাবেন? যে খেলার যা নিয়ম। এইখানেই সমাজ ইত্যাদি বড় ব্যাপার এসে পড়বে আপনার বাস্তববোধ এবং আপনার প্রগতিশীলতার মাঝে। আপনাকে পক্ষ নিতে হবে। সে বড় কঠিন সময় কমরেড। আপনার মেয়ে বা ছেলে এক্সেপশনাল হলে অংকটা সহজ। সে ছবি এনে্‌ক বা গান গেয়ে বা নিদেন পক্ষে কথা বেচেও করে খেতে পারবে। সে অ্যাভারেজ হলে অংক বহুৎ কঠিন দাদা। আমার মতে। কোনো জেনারালাইজেশন নয়।
    ৪) এবার একটু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা। চেন্নাই দিয়ে আমি কোনো জেনারালাইজেশন করতে চাই না। কিন্তু এখনো অব্দি ডে কেয়ার বিষয়ে আমাদের অভিজ্ঞতা এখানে খুব খারাপ। আমার বউ সবে একটা ফুল টাইম কাজে জয়েন করেছে একমাস হল। এই একমাসেই আমাদের দুটো ডে কেয়ার বদলাতে হয়েছে। কিন্তু তাতেও সমস্যা সমাধান হয় নি। আমার বউকে হয় পার্ট টাইম চাকরি পেতে হবে বা সেরকম খাপে খাপ কিছু না পেলে পুরো ছাড়তে হবে - পরিস্থিতি এই জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে। তবে লড়াই-এর ময়দান ছেড়ে পালাচ্ছি না কমরেড। ;-) দাঁত চিপে লড়ছি। একটু হাল্কা হলে সেসব কথা সবিস্তারে জানাব। আপাতত: এইটুকুই।

    তবে যাবার আগে -
    কেউ কেউ বলছেন ভারতের কোণা কোণা থেকে ছেলেমেয়েরা উঠে এসে সারা পৃথিবীতে করে খাচ্ছে - এটা প্রমাণ করে ভারতের ব্যবস্থা খারাপ নয়। এই মতটা আমি পুরোটা শেয়ার করি না। কোণা কোণা থেকে উঠে আসা ছেলেমেয়েদের অদম্য জেদ আর লড়াইকে সেক্ষেত্রে একটু খাটো করে কৃতিত্বটা ব্যবস্থাকে দিয়ে দেওয়া হয় - যা আমার পক্ষে মানা মুশকিল। 'ব্যবস্থা' একেবারে কিছু না থাকলে নিশ্চই এটা সম্ভব হত না। কিন্তু ঐ অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর লড়াইকে আমি ৭০ দেব, আর ব্যবস্থাকে ৩০। আম্রিকার ক্ষেত্রে হিসেবটা ঠিক উল্টো হবে। আমার মতে তফাৎ এটাই।
  • pi | ৩০ জুলাই ২০১১ ০১:২৮482903
  • একটা ধাঁধা থেকেই যাচ্ছে। যা বুঝলাম, উন্নত বিশ্বে আলাদা করে সৃজনশীলতার চর্চা করা হয়, শুধু তাই নয়, সব কিছুই সৃজনশীল ভাবেও শেখানো হয়, যা কিনা বেশি এফেক্টিভ।
    অংক ও তো ঐভাবেই শেখানো হয়।
    এলিমেন্টারি শিক্ষা ব্যবস্থা তো খুব ভালো সবাই বলছেন।
    পিনাকীদার ঐ কেজি স্তর নিয়েই তালে প্রশ্ন করতে চাই।
    একেবারে এলিমেন্টারি এডুকেশন নিয়ে প্রশ্ন।
    ঐ শুভজিতদার তোলা যোগ বিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন।
    এই এত ভাল উপায়ে শেখানো যোগ বিয়োগ গুণ ভাগ তাহলে বেশিরভাগ লোকজন শেখেন না কেন ?
  • pinaki | ৩০ জুলাই ২০১১ ০১:৩৩483125
  • না শিখলেও চলে তাই।
  • pi | ৩০ জুলাই ২০১১ ০১:৩৩483014
  • পিনাকীদাকে আরেকটা প্রশ্ন।

    আম্রিগার শিক্ষা কেবল শিক্ষার জন্যই শিক্ষা, আর দেশে সেটা জীবিকার জন্য শিক্ষা - প্রাইমারি আর সেকেণ্ডারি শিক্ষা স্তরে এটা কীসের ভিত্তিতে বলছো ?
  • pinaki | ৩০ জুলাই ২০১১ ০১:৩৫483138
  • পুরোটা হয়তো ওরকম নয়। মানে এটা ১০০ ওটা ০ - এরকম। কিন্তু আম্রিকায় শিক্ষার জন্য শিক্ষার একটা বড়সড় স্পেস আছে। ভারতে সেটা নেই বল্লেই চলে।
  • pi | ৩০ জুলাই ২০১১ ০১:৪১483149
  • দেশে জীবিকাকে লক্ষ্য করে শিক্ষা মানে কী বলছিলে ? পরীক্ষা, পরীক্ষায় নম্বর লক্ষ্য করে পড়ানো নাকি জীবিকার জন্য উপযোগী করে তোলা সিলেবাস ? দ্বিতীয়টা তো হয়না বলেই জানি।
  • pi | ৩০ জুলাই ২০১১ ০১:৪৩483160
  • তাহলে তো বলা যায়, সৃজনশীল ভাবে শেখানোটা কাজের না। ব্যবহারিক দরকার থাকলে তবেই শিখবে।
    শেখানো যদি খুব সৃজনশীল, এফেক্টিভ হয়, তাহলে তো দরকার অদরকার নির্বিচারে মনে গেঁথে যাওয়ার কথা।
  • pi | ৩০ জুলাই ২০১১ ০১:৪৫482571
  • কিন্তু চাকরি ছাড়তে বা পার্ট টাইম করতে হলে সেই মা ই কেন ?

    আমি না, আমি না। রিমিদি আর ব্যাংদির বকলমে কোশ্চেনটা করলুম :P
  • pinaki | ৩০ জুলাই ২০১১ ০১:৫৩482593
  • আর আমি আম্রিকার প্রাইমারি বা সেকেন্ডারি নিয়ে খুব একটা জানি না। পরোক্ষ অভিজ্ঞতা যা শুনেছি তাতে আম্রিকা বেটার বলে জনতা রায় দিয়েছে। আমার ঘনিষ্ঠ সুব্রত বলে একটি ছেলে তার ছেলেকে ক্লাস এইটে পড়া অবস্থায় আম্রিকায় মুভ করে। তার মতে দেশে থাকা অবস্থায় তার ছেলে অংক কিছুই শেখে নি। ওখানে গিয়ে উইদিন ৭-৮ মান্থ দারুণ পিকাপ করেছে। এখন ও খুব স্যাটিসফায়েড ছেলের পারফর্মেন্সে। আমার নিজের পিস্তুতো দিদির মেয়ে দিল্লীতে ডিপিএসে পড়ত। ক্লাস থ্রী তে আম্রিকায় মুভ করে। ওদের তো দিল্লীর চেয়েও ভালো লাগছে। যদিও ওরা বলে দিল্লীরটাও ভালোই ছিল। কিন্তু এখানে আরো ভালো। এদের দুজনের একজন ফ্লোরিডায়, আর একজন নিউ জার্সিতে থাকে। শহরে। গ্রামে নয়। আমার মেয়ে যে লেভেলে পড়েছে সেখানে অংক শেখার কোনো গল্প ছিল না - তাই বলতে পারব না। নিজের ইউনি তে দেখেছি - আম্রিকানরা মুখে মুখে যোগ বিয়োগ গুণ ভাগ করতে পারে না। পারে না তো পারে না। ক্যালকুলেটর থাকতে মুখে মুখে হিসেব করে কি দিগ্বিজয় করবে? আর বিশেষত: যেখানে সেসব না জেনেও ওয়ালমার্টে বা মোবিলে কাজ জুটে যাচ্ছে। মোটিভেশনের অভাব আম্রিকান সমাজে সবচেয়ে বড় সমস্যা। কিন্তু যাদের সেই সমস্যা থাকে না - তারা - আমার অভিজ্ঞতায় - বেশ ভালো স্টুডেন্ট হয়। অনেকক্ষেত্রেই ব্রিলিয়ান্ট হয়। তবে এগুলো ব্যক্তিগত দেখাশোনা। আমি একটা গ্রামের ইউনি তে পড়েছি। গ্রামেই থেকেছি। তার বাইরে আমার আম্রিকা দর্শন সামান্যই।
  • rimi | ৩০ জুলাই ২০১১ ০১:৫৩482582
  • যেটা মনে গাঁথার সেটা মনে গেঁথে যায় তো। নিনাদির ছেলের গল্পটা ভাবো।

    এখন ক্যালকুলেটরের যুগে আমেরিকায় অন্তত মুখে মুখে যোগ বিয়োগ করার কোনো দরকার নেই। কিন্তু যোগ বা বিয়োগের আসল কনসেপ্টটা জানা দরকার, সে ক্যালকুলেটর থাকুক বা না থাকুক।
  • pi | ৩০ জুলাই ২০১১ ০১:৫৬482604
  • নিনাদির পোস্টটা পড়েই তো বলছি।
    মনে গেঁথে গেলে এমনি ই তো মুখে মুখে করতে পারার কথা।
    মুখে মুখে করতে হবে, একথা বলছি না। ক্যালকুলেটর আছে, না করলেও চলে। সেতো ঠিক আছে।
    কিন্তু না থাকলে, দরকার পড়লেও বহু জনেই করতে পারেন না। সেটা ক্যানো ?
    এটা তো জাস্ট অভ্যেসের ব্যাপার না, কনসেপ্ট গেঁথে গেলে দরকার পড়লেই করতে পারা উচিত।
  • Suvajit | ৩০ জুলাই ২০১১ ০১:৫৮482615
  • খাস বিলেতের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। http://www.aajkaal.net/cat.php?hidd_cat_id=6
    অবশ্যই এটা একটা উদাহরণ মাত্র। কিন্তু উন্নত দেশে এমনটিও তো ঘটছে।

    আমারও কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতা আছে।
  • pi | ৩০ জুলাই ২০১১ ০২:০৩482626
  • গভশতদি, ইস্নিপসে।
  • rimi | ৩০ জুলাই ২০১১ ০২:০৪482637
  • পাই আমি কিন্তু মুখে মুখে যোগ বিয়োগ করতে পারি না। :-)) একেবারে সত্যি, অংক নিয়েই বেশির ভাগ কাজকম্ম, কিন্তু ক্যালকুলেটরে এমন অভ্যাস হয়ে গেছে যে মুখে মুখে করতে গেলে একটা মেন্টাল ইনার্শিয়া চলে আসে।

    মুখে মুখে বড় যোগ বিয়োগ করতে গেলে যোগ বিয়োগের কনসেপ্ট নয়, কিছু ট্রিক জানা দরকার। কনসেপ্ট যতই মনে গেঁথে যাক, ট্রিকগুলো না জানা থাকলে, বা না প্র্যাকটিস থাকলে মুখে করা সম্ভব না।
  • Suvajit | ৩০ জুলাই ২০১১ ০২:০৫482648
  • ক্যালকুলেটার আছে বলে মুখে মুখে যোগ বিয়োগ করার দরকার নেই, এই যুক্তিটা জাস্ট মানতে পারলাম না।
    তাহলে তো ইন্টারনেট আছে বলে ইতিহাস ভূগোল কিছুই জানার দরকার নেই।
    এই গ্যাজেট নির্ভরতা যদি শিক্ষাব্যাবস্থার আউটপুট হয় তাহলে আমার বিনম্র উত্তর 'নো থাঙ্কস্‌'।
  • pinaki | ৩০ জুলাই ২০১১ ০২:০৬482659
  • আমাদের ক্ষেত্রে চাকরি ছাড়ার ব্যাপারটা মার ঘাড়ে পড়ার দুটো কারণ। ১) আমার মেয়ে আমাকে ছাড়া জীবনের প্রথম তিন বছর কাটিয়েছে। কাজেই অনেক ব্যাপারেই মাকে বাদ দিয়ে শুধু আমাকে দিয়ে পুরোটা তার হয় না। ২) আমার বউ এখানে নামমাত্র মাইনের কাজ পাচ্ছে। ও দিয়ে হাতখরচা হয়, সংসার চলবে না।

    তবে বাবা মা দুজনেরই কেরিয়ার নিয়ে সমান ইনভলভমেন্ট থাকলে 'সিস্টেম'এর উপর নির্ভর করতেই হবে। সেক্ষেত্রে আম্রিকা চেন্নাইকে অন্তত: কোনো তুলনাতেই আসতে দেবে না। লুরু বা দিল্লীর কথা বলতে পারব না।
  • rimi | ৩০ জুলাই ২০১১ ০২:১০482670
  • শুভজিৎদা, ইতিহাস ভূগোল জানার দরকার আছে অবশ্যই। কিন্তু ইন্টারনেট আছে বলে সাল তারিখ কিম্বা রাজাদের পুরো নাম মুখস্ত করে সময় নষ্ট করার দরকার নেই। সত্যিই নেই।
  • pinaki | ৩০ জুলাই ২০১১ ০২:১১482682
  • কমরেড মুখে মুখে যোগবিয়োগ করাকে অংক শেখার সাথে গোলাবেন না। আর ইন্টারনেট থেকে ইতিহাস ভুগোল জানলে অসুবিধেটা ঠিক কোথায়? ইন্টারনেট থাকাটা ইতিহাস ভুগোল না জানার ইকুইভ্যালেন্ট হয়ে গেল কেন হঠাৎ?
  • pinaki | ৩০ জুলাই ২০১১ ০২:১৩482693
  • ইন ফ্যাক্ট আমার নিজের মাধ্যমিক অব্দি পড়া ইতিহাস ভুগোল কিছুই মনে নেই। কোনো বিষয় নিয়ে বউএর সাথে তক্কো বাধলে ইন্টারনেটই আমার ইতিহাস ভুগোলের সোর্স। আমার অপরাধটা কোথায়?
  • Nina | ৩০ জুলাই ২০১১ ০২:১৪482704
  • গুছিয়ে বলার সময়ই পাচ্ছিনা---এই মুখে মুখে অঙ্ক করা নিয়ে এক্ষুণি আমার কলিগের (আমেরিকান) সঙ্গে কথা হচ্ছিল। সে বল্ল দেখ মেশিন ডিপেন্ডেন্ট হয়ে আমরা আরও ফাস্ট হয়েছি না স্লো?
    আমি বল্লাম দেখ আমার মাকে দেখেছি 379.2033% কত মুখে মুখে বলে দিত---আমার মেশিন লাগে ---আবার আমার মেয়ের 122.0012% মেশিন লাগবে আমি মুখে মুখে বলতে পারব---অথচ আমাদের এই ফাইনান্সের জাবদা খাতা ভার্সেস স্প্রেডশিট --কি তাড়াতাড়ি কত কিছু আমরা করে ফেলছি---তো বেশ মুস্কিল বলা---যাকগে হ্যাপ্পি উইকএন্ড ---সময় করে আমার কিছু কথা লিখব এই দেশে ছেলে মেয়ে মানুষ করার ব্যাপারে ---টা টা
  • rimi | ৩০ জুলাই ২০১১ ০২:১৭482715
  • ছোটোবেলায় শার্লক হোমস যখন প্রথম পড়ি, একটা ব্যপারে খুব অবাক লেগেছিল। শার্লক হোমস, অত্যন্ত বুদ্ধিমান, অনেক জ্ঞান, স্মৃতিশক্তিও প্রবল। যেমন ধরো, মার্লবরো সিগারেটের ছাইএর সঙ্গে উইলসনের ছাইএর কি তফাৎ তা মুহুর্তে বলে দিতে পারেন, ইন্টার্নেট না দেখেই। কিন্তু সূর্য পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে নাকি পৃথিবী সূর্যের চারদিকে, সেটা শার্লকবাবু জানেন না। এই নিয়ে অবাক ওয়াটসন প্রশ্ন করায় শর্লক বলেছিলেন যে তথ্য তাঁর জীবনে কোনো কাজে আসে না, সেটা তিনি মনে রাখেন না, মাথা থেকে বের করে দেন। কেননা স্মৃতিশক্তির অকারণ অপব্যায় তাঁর পছন্দ না।

    শার্লক হোমস অনেক ব্যপারে আমার গুরু, তার মধ্যে এইটা একটা। :-)
  • rimi | ৩০ জুলাই ২০১১ ০২:১৯482737
  • নিনাদি, আমি কিন্তু অপেক্ষা করে আছি, তোমার লেখার জন্যে।
  • pi | ৩০ জুলাই ২০১১ ০২:১৯482726
  • সাল তারিখ ডিট্টো মুখস্তের সত্যি দরকার নেই। কখন কী, মোটামুটি আন্দাজ থাকলেই হল।
    কিন্তু যোগ বিয়োগ তো আর মুখস্থ নয়। এখানে কনসেপ্ট ধরে শেখানোর কথা থেকেই প্রশ্নটা এসেছিল তো।

    খুব বড় বড় যোগ বিয়োগের কথা বলছিও না, ঐ অ্যাবাকাসে যেসব ট্রিক দিয়ে করতে শেখানো হয়। সেসবের কথা একেবারেই বলছিনা।
    সাধারণ যোগ বিয়োগ। যা তুমি আরামসে পারবে।
    একবার এখানে এক মলে যান্ত্রিক গোলযোগ কিম্বা একটা খুচরো জিনিস ক্যাশে কেনা .. এরকম কিছু হবে। কী কারণে মুখে মুখে হিসেবনিকেশের দরকার পড়েছিল। তাতে অতি সাধারণ বিয়োগের যা কনসেপ্ট দেখেছি ! কত টাকা ফেরত পাবো বা পাবে বোঝাতে মোটামুটি মিনিট দশ বারো বেরিয়ে গেছিলো। ঘাম ও।
    তারপর কী বুঝেছিলেন কে জানে। ম্যানেজারকে ডেকে এনেছিলেন।

    অথচ সেদিন কে যেন লিখলো, এখানে এলিমেনটারি স্কুলে ডাইম কয়েন নিয়ে খেলা করিয়ে খেলতে খেলতেই সব শিখিয়ে দেওয়া হয়।
    এই জায়গাটাতে ঘেঁটে যাচ্ছি।
  • aka | ৩০ জুলাই ২০১১ ০২:২০482748
  • কমরেড শুভজিত ভুল বুঝেছেন বা পুরোটা পড়েন নি। অমিত নামক এক ভাটুরে দাবী করেছিল ভারতের স্কুল সিস্টেম আম্রিগার থেকে ভালো তা আমার লেখার লক্ষ্যই ছিল এটা প্রমাণ করা যে এটা মিথ।

    দুই, যারা আমার লেখার মধ্যে এই অ্যাটিটিউড খুঁজে পেয়েছেন যে 'গ্রাউণ্ড ফ্লোরের মালগুলো একদম আলো বাতাস পায় না কেন'? তাহলে বলব সমস্যার সমাধানে তাদের অ্যাপ্রোচ আমার থেকে আলাদা। বহু কমরেডের থেকে আমার অ্যাডভানটেজটা হল শাইনিং ইন্ডিয়ার নীচে যে অন্ধকারটা আছে সেই অন্ধকারটার সঙ্গে আমার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা বহুবিধ কারণে একটু বেশি। তাই স্কুল সিস্টেমে সমস্যাটা শুধু বাথরুমের নয় আরও গভীরে সেটা বুঝতে কষ্ট করতে আমাকে হয় না। ৪২ ডিগ্রি টেম্পারেচারে কোনরকম পাখাবিহীন টীনের চালের ক্লাসে শিক্ষক বিহীন অবস্থায় আরও ৫০ জনের ঘামের গন্ধ শুঁকলে আর যাই হোক শিক্ষা হয় না। তো, আপনাদের মতন আমিও এই সমস্যার সমাধান চাই, কিন্তু তারও আগে সমস্যা আছে সেটা বুঝতে চাই এবং উন্নততর ব্যবস্থা সম্ভব এটা মানতে চাই। যদি মনে করেন কঠিন কথা লেখা মানে বিদেশে থেকে রেলা নেওয়া তাতে কিছু যায় আসে না।

    তিন, যারা বেড়াতে গিয়ে, বড় শহরে থেকে দু একটা বা একশটা বা এক হাজারটা উদাহরণ দেখে ভাবছেন শাইনিং ইণ্ডিয়া কি ভয়ানক উন্নতি করছে। এটা হল বালিতে মুখ গুঁজে থাকা। পাব্লিক সিস্টেমের সাফল্য মাপতে ডিফারেন্স দেখুন। বেশি না আবাপয় চোখ রাখলেই দেখতে পাবেন কোন স্কুলে ছাদ নেই, কোথায় একজন মাস্টারমশাই, কোথায় বাড়ি প্রায় ভেঙে পড়ছে।

    চার, যদি বলেন এই গুরুর হাইলি প্রিভিলেজড ক্লাসের ছেলেমেয়েরা কোথায় ভালো শিক্ষা পাবে? আমার ধারণা উত্তর মেরুতে থাকলেও তাদের শিক্ষা প্রায় একই হবে। আমার নিজের আমার আপনার ছেলে মেয়ের কোথায় ভালো হবে তাই নিয়ে গুরুতে পাতার পর পাতা লেখার ইচ্ছে অন্তত এই টইতে বিন্দুমাত্র নেই।
  • pi | ৩০ জুলাই ২০১১ ০২:২১482759
  • এই মনে রাখার ব্যাপারটাতে অনেকটাই একমত। ইন ফ্যাক্ট কাল আকাদা স্মৃতিশক্তি নিয়ে যা লিখলো, আমার সাথেও অমনিই হয়।
  • rimi | ৩০ জুলাই ২০১১ ০২:২৩482770
  • পাই - এর উত্তর প্র্যাকটিস। প্রথম রান্না করার বা তরকারি কাটার ইতিহাস মনে আছে? তখন কতো সময় লাগত? এখন কত লাগে?
    আমারটা বলতে পারি। বিয়ের পরে শ্বাশুড়িকে পাকামো করে একদিন বলেছিলাম, আজ আমি রুটি বেলব। কি আর এমন কাজ? কিন্তু আমার স্পিড দেখে শ্বাশুড়ি হাত থেকে বেলন কেড়ে নিয়ে বললেন, "অনেক হয়েছে, তোকে করতে হবে না"। :-( সেই আমি, এখন ১০ মিনিটে তিরিশটা লুচি বেলি এবং ভাজি।

    তো, ব্রেইনও, হাতের মতই।
  • aka | ৩০ জুলাই ২০১১ ০২:৩০482781
  • প্র্যাকটিস মেকস এ ম্যান পারফেক্ট। কিন্তু ইয়ে মানে ...

    (ডি: নিজের নাম দেখব বলে লেখা)
  • pi | ৩০ জুলাই ২০১১ ০২:৩৪482793
  • :))

    আকাদা, রিমিদি, একটু মেইল দেখো।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভেবেচিন্তে প্রতিক্রিয়া দিন