এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ব্লগ

  • ব্যোমকেশ, ফেলুদা ও মগজাস্ত্র

    শারদ্বত লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ০৩ মে ২০১৬ | ২৫১৬৯ বার পঠিত
  • সত্যজিৎকে নিয়ে আমরা কথা বলতে ভালোবাসি। আমরা খুবই সামান্য মানুষ। উচ্চাকাঙ্ক্ষা-স্বপ্ন-পরিশ্রম-লক্ষ্য সবই ছোটমাপের করে গড়ে নিই আমরা, তাই চারপাশে কেউ একটা অসাধ্য-সাধন করে বসলে আমরা তাঁর মতো হওয়ার পরিশ্রম না করে পুজো করতে শুরু করে দিই তাঁকে। শর্টকাট। কিন্তু এই পোস্ট সেজন্য নয়, সেই পুজো-সমালোচনার বাইরে কয়েকটা কথা বলতে ইচ্ছে হল। যাদবপুরে শেষ সেমেস্টারে স্পেশাল পেপার ছিল 'গোয়েন্দা-সাহিত্য'। সেই ক্লাসগুলোয় আমরা কিছু আলোচনা করতাম শম্পাদি-কাফিদার সঙ্গে। সেই সময়ের আলোচনা আর নিজস্ব চিন্তা থেকে তুলে আনা কিছু কথা আজকে প্রাসঙ্গিক হতে পারে।

    আমরা সবাই রাজনৈতিক। আমাদের প্রতিটি আচরণের, প্রতিটি কথার, প্রতিটি চুপ করে থাকার একটা করে রাজনৈতিক অবস্থান আছে। আমাদের সাহিত্যও, রাজনৈতিক উপন্যাস থেকে ননসেন্স ভার্স, সবকিছুরই একটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকে, সাহিত্যের পাঠকরা সেটা জানি। বাংলা সাহিত্যের সেরা দুই গোয়েন্দা চরিত্রের মধ্যে আমরা যদি রাজনীতি খুঁজতে থাকি, অনেক মণিমুক্তোই বেরোবে, অস্বস্তিও।

    আমার ব্যোমকেশকে ফেলুদার চেয়ে ঢের বেশি ভালো লাগে, তাকে মনে হয় অনেক বেশি পরিণত, শাণিত, মার্জিত। অন্যদিকে ফেলুদা টিন আইডল। টিন-এজ পেরনোর পর তাই বোধহয় ফেলুদা আর পাতে ওঠে না পাঠকের। ব্যোমকেশের কিন্তু এই বয়েসের বাধাটা নেই। সত্যজিৎ যখন ফেলুদা লিখতে শুরু করছেন, তখন বাজার ছেয়ে আছে দেব-সাহিত্য-কুটীর-সিরিজে-স্বপনকুমারে। এই ধরণের বইগুলোয় গোয়েন্দার বুদ্ধিবৃত্তির চেয়ে টিন এজারদের মনোরঞ্জনের উপাদান রাখার গুরুত্বটাই বেশি ছিল। ফলে আজগুবি কাহিনি আর সস্তা চমকে বোঝাই ছিল। সেকালের বাবা-মায়েরা 'ডিটেকটিভ বই' পড়তে দেখলে সেজন্যই চটে যেতেন। শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়কেও ব্যোমকেশ লেখার সময় এরকম প্রতিকূল পরিস্থিতি সামলাতে হয়েছিল। ডিটেকটিভ সাহিত্য সম্পর্কে পাঠকদের নাক সিঁটকানো দেখে তিনি লিখেছিলেন, '... আমাদের দেশে উহার প্রতি সাধারণের এত অশ্রদ্ধা কেন? প্রথম কারণ, যাঁহারা এদেশে সর্বাগ্রে গোয়েন্দা গল্প লিখিতে আরম্ভ করিয়াছিলেন তাঁহাদের অক্ষমতা। তাঁহারা গোড়াতেই জিনিসটাকে খেলো করিয়া দিয়া গিয়াছেন। ... ডিটেকটিভ গল্প যেন অন্ত্যজের ঘরেই জন্মগ্রহণ করিয়াছে, তাই বর্ণশ্রেষ্ঠদের কাছে হেয় ও অবজ্ঞাত হইয়া রহিল। ইহা ডিটেকটিভ গল্পের দোষ নহে- দোষ তাহার জন্মদাতাদের। দ্বিতীয় কারণ, বিদেশ হইতে তৃতীয় শ্রেণির ডিটেকটিভ গল্পের আমদানী...'

    সত্যজিতের সময়ে এই শ্রেণির সাহিত্য বাজার ছেয়ে ফেলেছে। সেসময় ফেলুদার কৌলীন্য বজায় রাখা হয়েছিল 'দেশ' পত্রিকায় প্রকাশ করে। আজকের দিনে প্রকাশিত হলে আমরা ব্যোমকেশকে 'দেশ'এর পাতায় দেখতে পেতাম, ফেলুদাকে কিন্তু 'আনন্দমেলা'র বাইরে ভাবাই যেত না। এসব কথা থাক, দু'একটা ঘটনা বা পরিস্থিতি উল্লেখ করলে এই লেখকদ্বয়ের জিনিয়াস আন্দাজ করতে পারি আমরা...

    ব্যোমকেশ বল্লভভাই প্যাটেলের অনুরোধে একটি কেস সলভ করতে যায় দিল্লিতে। এই উল্লেখ থেকে শরদিন্দুর রাজনৈতিক অবস্থানটা স্পষ্ট ধরা যায় বটে, কিন্তু আরো মজা আছে 'আদিম রিপু'তে। গল্পটা আমরা পড়েছি, বা না পড়ে থাকলেও অঞ্জন দত্তর ফিল্মটা দেখেছি। যদিও ফিল্মের সময়টা এগিয়ে যাওয়ায় এই সূক্ষ্ম দিকটা মাঠে মারা গেছে।

    'আদিম রিপু'র শেষ দিকটা মনে করা যাক। অনাদি হালদারকে খুন করা সত্ত্বেও ব্যোমকেশ প্রভাত হালদারকে পিতৃপরিচয় জানার শাস্তি দিয়েই ছেড়ে দ্যায়। ছেড়ে দেওয়ার আরেকটা কারণ, সেদিন ভারতের স্বাধীনতা পাওয়ার দিনটা। এই ঘটনা-কাল-রাজনৈতিক পরিস্থিতির পেছনে আরেকটা সূক্ষ্ম দিক আছে। অনাদি হালদার একজন ডাকাত-পিতৃহন্তার পাশাপাশি একজন কালোবাজারিও ছিল। যুদ্ধ ও দুর্ভিক্ষের সময় কালোবাজারির মাধ্যমেই সে বিপুল সম্পত্তির অধিকারী হয়েছিল, তাকে মারার জন্য প্রভাতের কোনো শাস্তিই হল না... পাঠকের মনে আছে, নেহরুর সেই বিখ্যাত লাইন, 'স্বাধীনতার পর প্রত্যেক কালোবাজারিকে ল্যাম্পপোস্টে ফাঁসি দেওয়া হবে!' সেই লাইনটা মনে রেখে আরেকবার 'আদিম রিপু' পড়ে ফেলুন।

    সত্যজিতের প্রথমদিকের উপন্যাসে লালমোহনবাবুর অস্তিত্ব নেই। সোনার কেল্লায় তাঁকে প্রথম দেখি আমরা। তার আগে ফেলুদার কাহিনিগুলো উপভোগ্য হলেও মজার হয়ে ওঠেনি সেরকম। লালমোহনবাবু আসার পর ফেলুদা সিরিজ সব বয়েসের সমস্ত পাঠকের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ফিল্ম হওয়ার পর থেকে বাকিটা ইতিহাস। এবার লালমোহনবাবু চরিত্রটাকে যদি আমরা একটু খুঁটিয়ে দেখি, দেখতে পাব, আদ্যন্ত সাধাসিধে, বোকাবোকা প্রশ্ন করেন, ভাবেন কম, অথবা, যেটুকু ভাবেন তা ভুল ভাবেন। অথচ এই চরিত্রটা একজন বেস্টসেলার কিশোর উপন্যাস রচয়িতা, যাঁর নায়ক প্রখর রুদ্র, উপন্যাসগুলোর নাম যতটা না সত্যিকারের, তার চেয়ে ঢের বেশি প্যারডি, যাঁর কাহিনিতে উটেরা পাকস্থলীতে জল নিয়ে মরুভূমি পাড়ি দ্যায়। বুদ্ধিমান ফেলু মিত্তির তাঁকে কথায় কথায় অপদস্থ করেন, তিনি এতটাই সরল (পড়ুন বোকা) যে সেটাও ধরতে পারেন না।

    খুব সূক্ষ্মভাবে এখানে সত্যজিৎ অন্যান্য বেস্টসেলার কিশোর রচয়িতাদের কী ভাবতেন, তার ছায়া পড়ে। ফেলুদা তো সত্যজিতেরই প্রতিভূ। ভাবুন দেখি, যাকে পরাজিত (মগজাস্ত্র ও বাজার, দু'জায়গাতেই) করতে চাইছেন, তাকে নিজেরই সিরিজে একটা কমিক চরিত্র বানিয়ে তাকে ক্ষণে ক্ষণে অপদস্থ করা, পাঠকের কাছে একইসঙ্গে হাস্যাস্পদ আর জনপ্রিয় করে তোলা, পাঠকের মনে এই লেখকদের সম্পর্কে একটা স্থায়ী তাচ্ছিল্যের বীজ পুঁতে দেওয়া- এই সবকটা পাখি একঢিলে মারতে হলে, কীরকম জিনিয়াস হতে হয়। এঁকে বাকিরা প্রণাম করুন গে, আমি বরং বলি, 'আয় তোর মুন্ডুটা দেখি, আয় দেখি “ফুটোস্কোপ” দিয়ে'।

    মগজাস্ত্রকে সেলাম।
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ব্লগ | ০৩ মে ২০১৬ | ২৫১৬৯ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • রায়সাহেবের উপর বিলেতি প্রভাব। | ০৬ মে ২০১৬ ০২:৩৯54487
  • আসলে সত্যজিত রায় যখন বড় হচ্ছিলেন, তখন ওনার অন্যতম প্রিয় পাঠ্য পত্রিকা ছিল 'বয়জ ওন পেপার'

    https://en.wikipedia.org/wiki/The_Boy's_Own_Paper

    এবং কিশোর বয়সে উনি নিজেও কাশ্মীরের উপর ফটো এসে পাঠিয়েছিলেন। আপনি যদি ব্রিটিশ এম্পায়ারের ঝান্ডাবরদার এই বালকদের পত্রিকাটির পুরনো সংখ্যার উপর একটু চোখ বোলান তাহলেই বুঝবেন কেন সত্যজিতের রহস্য-রোমাঞ্চ লেখার স্টাইলের উপর সেই ১৯৩০-১৯৪০ এর কলোনিয়াল স্টাইলের প্রভাব কতটুকু
  • Tim | ০৬ মে ২০১৬ ০২:৫৮54488
  • নির্মোহ ব য়ে যেন পুঁজিবাদের ওপর একটা চ্যাপ্টার থাকে। সভ্যতার অভিশাপ, রে ও বিলুপ্ত পাখিরা বলে একটা অধ্যায়ও।
  • S | ০৬ মে ২০১৬ ০৫:৩৩54489
  • ফেলুদার যে জিনিসটা সত্যিই ভালো লাগেনা সেটা হলো ঐ সেক্রেটারি/আশ্রিত টাইপের লোকেদের প্রায় ধরে বেঁধে অপরাধী তৈরী করে দেওয়াটা।

    আর ক্লাসের ব্যাপার বলতেঃ ফেলুদা নিজে সাধারণ মধ্যবিত্ত লোকজন - অবশ্যি বালিগন্জে থাকেন। চারমিনার খান। কিন্তু তাঁর বন্ধু জটায়ু বাবুর একটি গাড়ি আছে (প্রথমে ছিলোনা)। নামকরা দোকান থেকে দামী মিস্টি বা স্ন্যাক্স আসে। কিন্তু ক্লায়েন্টরা সবই প্রায় বাড়লোক। অব্শ্যি সেটাই স্বাভাবিক। নইলে পারিশ্রমিক পাবে কোত্থেকে যা দিয়ে কোলকাতায় ভালোভাবে থাকা যায়। আর ফেলুদার এলিটিজমটা দরকার ছিলো ক্যারেক্টারটাকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার জন্য। আমাদের আসে পাশে তো এমন কাউকে দেখিনা।
  • b | ০৬ মে ২০১৬ ০৫:৩৯54490
  • ন্যা ন্যা। ফেলুদার মধ্যে বেশ আপওয়ার্ডলি মোবাইল বেপার আছে। জয় বাবা ফেলুনাথে কাশির ধর্মশালা। আর নয়ন রহস্যতে তাজ করমন্ডল।
  • S | ০৬ মে ২০১৬ ০৫:৪৮54491
  • জয় বাবা ফেলুনাথ উনার স্ট্রাগলের সময়ে - নিজের পায়সায় থাকা। পরে তো বলিউড থেকে পয়সা আসলো।
  • lcm | ০৬ মে ২০১৬ ০৬:৩৮54492
  • b কিন্তু এটা হেব্বি বলেছে - ধর্মশালা থেকে তাজ - অ্যাফোর্ডেবিলিটির কি রেঞ্জ !
  • de | ০৬ মে ২০১৬ ০৬:৪৪54493
  • "প্রিয়সখা" না, "চিরসখা"।

    আমিও কাল বাড়িতে কন্যাকে জিগিয়েছি - তার ব্যোমকেশ অনেক বেশী ভালো লেগেছে ফেলুদার থেকে - ওই কোন মেয়ে না থাকাটা কিন্তু ওও নোটিস করেছে।
  • avi | ০৬ মে ২০১৬ ০৬:৫৩54494
  • কিন্তু, কিন্তু, এটা কি অ্যাফোর্ডেবিলিটির জন্য, নাকি জায়গাটার ফীল বেশি করে পাওয়ার জন্য? কাশী বা কেদারে ধর্মশালা বেটার অপশন, কিন্তু বোম্বে মাদ্রাজে সেরকম কোনো ব্যাপার নেই। (অবশ্য কেদারে অপশন তখন কতই বা ছিল?)
  • sosen | ০৬ মে ২০১৬ ০৭:২৫54515
  • ঝিনুক কেন কেউ পড়বে? নেহাত পুজোবার্ষিকী না পড়তে হলে?
    আমার এখন আর ফেলুদা পড়তে তেমন ভাল্লাগে না, তার কারণ সব গল্প মুখস্থ হয়ে গেছে। ব্যোমকেশও আর পড়িনা। কিন্তু জানেন আমি বড়ো বয়েসে সব আগাথা ক্রিস্টি প্রথমবার পড়লাম বছর কয়েক আগে। কি আনন্দ যে হোলো এতদিন না পড়ে রেখে দিয়েছিলাম বলে। প্রাণ জুড়িয়ে গেল জাস্ট।
  • উমেশ | ০৬ মে ২০১৬ ০৭:৪৪54495
  • আমরা ছেলে বলেই হয়তো এটা কখনো মাথাতে আসেনি, "আরে ফেলু'দা তে তো সবাই পুরুষ চরিত্র, মেয়ে বলে কিছু নেই-ই তো"
    এখানে লেখা গুলো পড়ার আগে আমি এই ডিস্ক্রিমিনেশটা ধরতেই পারিনি।

    এবার আমার মেয়েকে পুরো ফেলুদা সিরিজ টা কিনে দেবার ইচ্ছে আছে।
    কোনান ডয়েল পুরো শেষ করে ফেলেছে আর আগাথা ক্রিস্টি'র অনেকটাই খ্তম করার পথে, এবার ফেলুদা আর ব্যোমকেশ এর পালা।
    দেখি আমার মেয়ে ফেলু'দা নিয়ে কি বলে। তবে জুলাই-আগস্ট এর আগে হবে না।
  • avi | ০৬ মে ২০১৬ ০৭:৪৬54516
  • আরেহ, এটা তো আমার অনেকদিনের পরীক্ষিত স্ট্র‍্যাটেজি। আম্মো ক্রিস্টি অনেক কটা বাঁচিয়ে রেখেছি এখনো অব্দি। একদম পাঁজি পুঁথি মিলিয়ে ঝাঁ করে একটা পড়ে নিই। না পড়া, টাটকা ডিটেকটিভ গল্প হাতে থাকার বিস্তর লভ্য, অ্যাকিউট ক্রেভিংএ কাজে দেয়।
  • S | ০৬ মে ২০১৬ ০৭:৪৭54517
  • ফেলুদার অনেক গল্পই বহুবার পড়েছি - সব নয়। যেমন এখন খুব হত্যাপুরি পড়তে ইচ্ছে করছে। বালির উপরে দাগ নিয়ে একটা পোর্শান ছিলো - খুব ভালো লেগেছিলো। আর সিনেমা দুটো তো হাজারবার দেখেছি।

    মহিলা গোয়েন্দা নিয়ে গল্প লেখার তো অনেক মুশকিল আছে। অগাথা ক্রিস্টি অন্য লেভেল। নইলে শার্লক থেকে ব্যোমকেশ - এইসব গোয়েন্দাদের গোয়েন্দাগিরির একটা বড় অংশ হলো গোলাগুলি, রাতের অন্ধকারে লুকিয়ে থাকা ইত্যাদি - এগুলো মহিলাদের নিয়ে লিখলে লোকে বিশ্বাসই করতে পারবেনা। পাতি কথায় লোকে খাবেনা সেগল্প। অগাথা ক্রিস্টির গল্প অন্যরকম ছিলো - সেখানে শুধু কথা বলেই রহস্যের সমাধান হবে - এই কারণেই আমার খুব ভালো লেগেছিলো। কোনো লম্ফ ঝম্প মাড়ামাড়ি গোলাগুলি নাই।

    ফেলুদা না হয়ে যদি ফেলুদি হতো তাহলে শুধুমাত্র চারমিনার খাওয়ার অপরাধেই বাবামায়েরা আমাদের পড়তে দিতোনা। ধিঙ্গি বিবাহযোগ্যা মেয়ের হিল্লি দিল্লি করে বেড়ানো তো পড়ের কথা।
  • S | ০৬ মে ২০১৬ ০৭:৫৮54496
  • মহিলা চরিত্রের অ্যাবসেন্স আমি যখন ছোটোবেলায় পড়েছি তখনই মনে হয়েছিলো, বিশেষত সিনেমা দেখার সময়ে খুব চোখে পড়ে - তাতে করে ফেলুদার আকর্ষণ কমেনি। সব গল্পে সব রকম চরিত্র থাকতেই হবে সেটা এখানো মনে হয়্না। আর ফেলুদা পড়ার সময়ে সমাজের খুব দারুন একটা প্রতিফলন পাবো সেটা এক্সপেক্ট করিনি। জানতাম যে একটা প্যারালাল ইউনিভার্সে আছি।

    ব্যোমকেশ পড়ে মনে হয়েছিলো লেখক ভদ্রলোকের অবৈধ প্রেম নিয়ে একটা ফ্যাসিনেশন ছিলো - হয়তো ঐসময় এই ব্যাপারটাকে খুব গুরুত্ব দেওয়া হতো বা অ্যাডাল্ট ব্যাপার মনে হতো ইত্যাদি। তবে এই গল্পগুলোতে সাধারনটঃ দুটো প্লট পয়েন্ট থাকতো যেটা ভালো লাগে।

    কোনান ডয়েলের বাংলা অনুবাদ পড়েছিলাম - ভালো লাগেনি মোস্ট লাইকলি খারাপ অনুবাদের জন্য। বরং কলেজে থাকতে আগাথা ক্রিস্টি পড়েছিলাম ইংরাজিতেই - খুব ভালো লেগেছিলো। কিন্তু সেখানেও একটা কমন ব্যাপার থাকতো - ছদ্মবেশ বা ইম্পার্সোনেশন - যেটা হয়তো ঐসময়ে যুদ্ধের ইউরোপে খুব কমন ব্যাপার ছিলো।
  • d | ০৬ মে ২০১৬ ০৮:০৪54497
  • একবার কোনান ডয়েল পড়ে ফেললে ফেলুদা ভাল লাগার চান্স অনেক কম।

    আমি খেয়াল করে দেখলাম আমি প্রয় কোনও ফেলুদা দুবার পড়ি নি, মনে রীপিট করি নি। ঐজন্য আমার গল্পগুলোর আদল মনে থাকলেও খুঁটিনাটি ডিটেল মনে নেই। এখানের কিছু পোস্টে ডিটেল দেখে রিয়েলাইজ করলাম।

    অভি, শ্রাবনীর গল্প পড়েছেন আপনি? বাঃ
    সেই আমি একবার ভাটে ভীষণ ঘ্যানঘ্যান করছিলাম যে আজকাল আর তেমন জম্পেশ গোয়েন্দা গল্প পাওয়া যায় না, তখন টিম আর শ্রাবণী লিখতে শুরু করেছিল। শ্রাবণীরটা আস্তে আস্তে বেশ দিব্বি হচ্ছিল ..... ঐ মিতিনমাসির চেয়ে অন্নেক ভাল।

    এই ঝিনুক আমি পড়ি নি।
    পড়া উচিৎ?
  • সে | ০৬ মে ২০১৬ ০৮:১০54518
  • আরেকবার বলে দিই। মহিলা গোয়েন্দার দাবী করিনি, মহিলা অ্যাসিস্টেন্টের দাবী করিনি, মহিলা বিদুষকের দাবী করিনি, মহিলা ক্রিমিনালের দাবী করিনি, মহিলা ভিক্টিমের দাবীও করিনি- জাস্ট কয়েকটা বা নিদেনপক্ষে একটা করে মহিলা সাইডরোল চেয়েছিলাম, যুবতী মহিলাও নয়, নিদেনপক্ষে একটা শিশু যে মেয়ে। এইটুকুই। এটাই বারবার গুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে। :-)))
  • S | ০৬ মে ২০১৬ ০৮:১৫54519
  • ছিলোতো। ছিন্নমস্তার অভিশাপে। আধ লাইনের জন্য। মক্কেলের স্ত্রী - যাকে দেখে তোপসে সিদ্ধান্ত নিলো যে ঐ পরিবারের সকলেই সুন্দর দেখতে। পড়ে একইসাথে অবাক ও আমোদিত হয়েছিলাম।

    এইটা আরেকটা প্রবলেম - লিখছে তোপসে নামক কিশোর। তার মুখ থেকে মহিলাদের ব্যাপারে কখন কি ফস করে ভুলভাল মন্তব্য হয়ে যায়। ভালৈ করেছেন মহিলা চরিত্র রাখেননি। ঃ))
  • উমেশ | ০৬ মে ২০১৬ ০৮:১৬54498
  • শার্লোক হোমস এর বাংলা অনুবাদ এর বেশী'র ভাগের কোয়ালিটি খুব খারাপ।
    সেগুলো পড়লে ভালো লাগার থেকে খারাপ লাগার চান্স বেশী।
    ২০ পাতার গল্প হয়তো ৭-৮ পাতাতে শেষ করেছে।

    আমি তো প্রথম দিনই বলেছিলাম, হোমস, এরকুল পোয়ারো আর মিস মার্পল এর পর সব গোয়েন্দা জোলো মনে হয়।
  • sinfaut | ০৬ মে ২০১৬ ০৮:১৯54499
  • আর কলম্বো দেখার পর অনে হয় গল্পের গোয়েন্দার মত হিরো না হয়েও কী অসাধারন গোয়েন্দা হওয়া যায়, গল্পও কত বাস্তবানুগ এবং পলিটিকাল হওয়া যায়।
  • pi | ০৬ মে ২০১৬ ০৮:২২54520
  • আরেকটি কোন গল্পে ছিল যেন মনে হচ্ছে। ছোট মেয়ে। আর মহিলা চরিত্রও। ঐ হিমালয়ান অপটিকস, সেই নিজের থেকে হারিয়ে যাওয়া কোন গলে ছিল ? কিছুর সাথে গুলোচ্ছি না আশা করি।
  • Tim | ০৬ মে ২০১৬ ০৮:২৪54521
  • হ্যাঁ সেই নিট অ্যান্ড ক্লিন ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি কলমেরই তো সমালোচনা হচ্ছে। তাছাড়া একটা বাচ্চা মেয়ে গল্পে থাকলে তোপসেই বা খামোখা ভুলভাল বলবে কেন? মহিলা না থাকলেও তো হতো। ধরেন মুকুলের পড়শী বন্ধু যে ছাদ থেকে ডেকে ঘুড়ি দেখাচ্ছে, সে তো একটি খুকিও হতে পারতো। এইরকম হতে পারতো কিন্তু কখনও হয়নি এটাই হাইলি সাস্পিশাস। ঃ-)
  • S | ০৬ মে ২০১৬ ০৮:২৫54522
  • আর নিজের স্বামিকে মারার জন্য ভাইয়ের হাতে অস্ত্রটা তো এক দিদি তুলে দিয়েছিলন না। কোন গল্প?
  • sosen | ০৬ মে ২০১৬ ০৮:৩১54523
  • কিন্তু তখনো তো রায়মশাই বেঁচে ছিলেন আর পোস্টকার্ডের দাম ছিল দশ পয়সা ঃ))
  • Arpan | ০৬ মে ২০১৬ ০৮:৩৪54524
  • অম্বর সেন অন্তর্ধান রহস্য
  • Ekak | ০৬ মে ২০১৬ ০৮:৪২54525
  • না, পাশের ছাদের বন্ধু খুকি হতে পারত না। আর্জশেখর পাশের ছাদে মেয়েটিকে দেখে হিট খাওয়ার কথা মনে নেই ? একজন লেখক এভাবে বড়দের জন্যে বা ছোটদের জন্যে আলাদা করে চশমা পড়েন কি ?
  • T | ০৬ মে ২০১৬ ০৮:৪৭54500
  • হা হা হা হা বলে পড়া উচিত?
  • T | ০৬ মে ২০১৬ ০৮:৫২54526
  • সোসেনদি...:)

    আরে সেদিনই তো বললাম, ডঃ মুনশির ডায়েরি, জাহাঙ্গীরের স্বর্ণমুদ্রা, অম্বর সেন অন্তর্ধান রহস্য, শকুন্তলার কন্ঠহার...এইগুলোতে মেয়ে চরিত্র ছিল। :) আর রয়েলবেঙ্গল রহস্যতে ঐ টা বাঘিনী ছিল যদ্দুর মনে পড়ছে। খিকজ। আর ছিন্নমস্তার অভিশাপে দেবী ছিন্নমস্তা, হ্যা হ্যা হ্যা...ও হ্যাঁ গোরস্থানে সাবধানেতেও ছিল। মহিলা চরিত্র। কই কেউ বলুক দেখি সে কে?
  • cb | ০৬ মে ২০১৬ ০৮:৫৯54501
  • মানবেন্দ্র বন্দ্যোর অনুবাদ তো নট ব্যাড। আমার মায়ের গোয়েন্দা গল্পের বাংলা ভার্শন একটা পুরো অবসেশন দাঁড়িয়ে গেছে।

    ফেলুদা, ব্যোমকেশ, মিস মার্পল, আরকুল পোয়ারো চক্রাকারে শেষ করে কোয়ার্টারলি :)

    দ দি, ঝিনুক পড়বেন। আপনার মতামত জানতে আগ্রহী। আমার মতে ব্যাড :)
  • Arpan | ০৬ মে ২০১৬ ০৯:০০54527
  • শার্লট?
  • T | ০৬ মে ২০১৬ ০৯:০১54528
  • ইয়েস :)
  • S | ০৬ মে ২০১৬ ০৯:০৪54529
  • যাব্বাওয়া। মহিলা গোয়েন্দা বললে বলছে গোয়েন্দা চাইনা, পার্শ্ব চরিত্র চাই। পার্শ্ব চরিত্র চাইলে বলছে এরা সব বড়ই পার্শ্ব চরিত্র। রায়বাবুকে কোনদিক দিয়ে বাঁচাই। তবে উনার মহিলা নিয়ে কোনো বাছবিচার ছিলো বলে তো মনে হয়্না। মানে সিনেমাতে তো তেমন কিছু দেখিনি।

    আচ্ছা সত্যবাতী কি সত্যিই ওরকম নেকা ছিলেন, নাকি সেটা আজকালকার ব্যোমেক্শ পরিচালকদের দান?
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যুদ্ধ চেয়ে প্রতিক্রিয়া দিন