এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  অন্যান্য

  • নতুন সরকারের শিক্ষা শিল্প স্বাস্থ্যনীতি ইয়াদি (২)

    aka
    অন্যান্য | ২৫ মে ২০১১ | ২৫৪৫২ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • 9 | 61.*.*.* | ২৬ মে ২০১১ ০৯:০৯474153
  • তথাকথিত "সমান্তরাল অর্থনীতি"র ক্ষেত্রে সমস্যাগুলো: শিল্পপতির প্রভিডেন্ট ফান্ড ফাঁকি দেওয়া একটি অপরাধ যার জন্য রাজ্য সরকারের খুব দ্রুত আইনী ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। কিন্তু এটা সমান্তরাল অর্থনীতির ক্লাসিক উদাহরণ নয়, কারণ এক্ষেত্রে যে টাকাটা পাওনা সেটা হিসাববহির্ভূত নয়। ক্লাসিক উদাহরণ হল প্রাইভেট টিউশন বা প্রাইভেট প্র্যাক্টিসের ক্ষেত্রে কর না দেওয়ার সমস্যা। কিন্তু প্রশ্ন হল কোন কর? আয়করের আওতায় আনতে হলে তা শুধু কেন্দ্রীয় সরকার করতে পারে। সার্ভিস ট্যাক্স হলে একমাত্র রাজ্য সরকারের আওতায় আসে। তবে এর সঙ্গে হকারি বা অটোরিক্সার সমস্যা কোনোভাবেই তুলনীয় নয়। আয়বৃদ্ধি বা ব্যয় সংকোচনের সঙ্গেও হকারি বা অটোরিক্সার কোনো সম্পর্ক নেই। হকারি বা অটো রিক্সার সমস্যা অসংগঠিত ক্ষেত্রের সমস্যা যা আলাদা ভাবনাচিন্তার দাবী রাখে। অসংগঠিত ক্ষেত্রের মূল দাবী একটাই- শ্রমিকদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার দাবী। এ ছাড়া প্রশাসনের বিভিন্ন অংশের হাতে হয়রানির থেকে মুক্তি পাওয়ার দাবী। ক্ষেত্রবিশেষে আর্থিক ও পেশাগত পুনর্বাসনের দাবী। এটা আদৌ "কিঞ্চিৎ পরিষেবা" এবং "অর্থ উপার্জনের" সমস্যা নয়। কিন্তু এই দাবীগুলো কোথাও দেখলাম না। দক্ষতর প্রশাসন অবশ্যই দরকার। কিন্তু এটা স্রেফ প্রশাসনিক সমস্যা নয়, অর্থনৈতিক অধিকার ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতার নীতিপ্রণয়নের সমস্যা যার প্রেক্ষাপট মূলত: রাজনৈতিক।
  • kallol | 220.*.*.* | ২৬ মে ২০১১ ০৯:২২474164
  • ৯ - আপনার লেখা পড়তে খুবই ভালো লাগছে। একটু বড় করে, পশ্চিমবঙ্গের অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে লিখুন।
    অপ্রাসঙ্গিক হয়তো, তবু।
    আজকের আজকালের উ:স:তে প্রমথেশ মুখার্জি লিখেছেন তামিলনাডুর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এম জি রামচন্দ্রন নাকি ""সাব-অল্টার্ন"" নেতা ছিলেন।
    কি জানি বাপু, এর পর উত্তমকুমারকে কেউ সাব-অল্টার্ন না বলে দ্যায়!
  • dri | 117.*.*.* | ২৬ মে ২০১১ ২২:১০474175
  • কোয়ন্টিটেটিভ ইজিংএর অর্থ হল, ঘুরিয়ে ফেডারাল রিজার্ভ আম্রিকাকে পয়সা ধার দিল। ফেডারাল রিজার্ভ কোন গভর্মেন্ট এজেন্সি নয়, একটা প্রাইভেট ব্যাঙ্ক। তো এটা ওরা করতে পারে।

    কিন্তু আনফরচুনেটলি, এটা করলেও আম্রিকার ওপর দেনার বোঝা চাপে ইনস্ট্যান্টেনিয়াসলি। কারণ ফেডারাল রিজার্ভ টাকাটা দান করে না, লোন দেয়। যার সুদ দিতে হবে দেশবাসীকে।

    তাই ঋণের হাত থেকে বাঁচতে QE আরো ঋণ বয়ে আনে, যা ফুটে বাচ্চা বেরোবে পরে।

    যা অবশ্যম্ভাবী তা একটু পিছিয়ে যায়, এবং আকারে আরো বড় হয়।
  • Ishan | 117.*.*.* | ২৬ মে ২০১১ ২২:১৭474186
  • এখানে আমার খান দুই কথা ছিল।

    প্রথমত: শিল্পপতিদের প্রভিডেন্ট ফান্ড ইত্যাদি ফাঁকি দেওয়া, এটা পুরোটাই হিসেবে ঢুকে থাকে এমন নয়। শিল্পপতিরা সব হিসেব যথাযথ করে করে, হিসেবের খাতাটি সরকারের ঘরে জমা দিয়ে তারপর টাকাটি মেরে দিলেন, এ শুধু স্বকপোলকল্পনায় থাকে। আদতে টাকা মারার প্রভূত পন্থা আছে। বিশেষ করে প:ব:তে রুগ্ন শিল্প পুনরুজ্জীবনের নাম করে যে ফড়েরা ঘুরে বেরিয়েছেন (প্রধানত চট শিল্পে), সেখানে তাঁরা এই প্রক্রিয়াটিকেই একটি শিল্পে পরিণত করে ফেলেছেন। এবং এর কোনো ডকুমেন্টেশন ইত্যাদি নাই (যে কারণে এটা হিসেব বহির্ভূত)। তবে যারা ট্রেড ইউনিয়ন ইত্যাদি করে-টরেছেন তাঁদের সঙ্গে কথা বললে কিছুটা জানা যাবে।

    দ্বিতীয়ত: আপাত:দৃষ্টিতে এর সঙ্গে হকারি বা ফুটপাথের ভেন্ডারদের কোনো সম্পর্ক নেই। যেমন সম্পর্ক নেই ইরাকে বোম পড়ার সঙ্গে পাকিস্তানে লাদেনের মৃত্যুর।

    কিন্তু আদতে এদের কি সম্পর্ক নেই? থাক বা না থাক, চালু বিশ্লেষণের ঘরানাটা এমনই হয়ে দাঁড়িয়েছে, যে, "অসংগঠিত শিল্পের শ্রমিকদের সমস্যা', "সমান্তরাল অর্থনীতির সমস্যা' ইত্যাদি নানা তাত্বিক খোপগুলো আমাদের জন্য বানানো হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন সমস্যাগুলোকে আলাদা আলাদা করে দেখতে হবে, যেন এরা জল অচল। এই কাঠামোর বাইরে গেলে জাত যাবে। খোলা ভাবে ভাবতে গেলে চিন্তার এই কাঠামোটাকেই ছুঁড়ে ফেলা দরকার প্রথমে। এতে করে একই বৃত্তে ঘুরে চলা ছাড়া আর কিছু হয়না।

    কেন দরকার? সেই পয়েন্টে আসছি। পরের পোস্টে।
  • Ishan | 117.*.*.* | ২৬ মে ২০১১ ২২:৪৫474197
  • ধরা যাক আপনি একজন খুব ভালো লোক (বাম বা ডানপন্থী যা খুশি হতে পারেন)। আপনাকে এই সিস্টেমে একটি অঙ্গরাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী করে দেওয়া হল। আপনি ধরা যাক হয়েও গেলেন। এবার ক্ষমতায় এসে আপনি কি করবেন? ভালো-ভালো বিশেষজ্ঞদের ডাকবেন? ডেকে হেবি হেবি সব নীতি নেবেন? তাতেই কি সর্বসুখ হবে?

    আপনিও জানেন আমিও জানি সে হবার নয়। ডানরাও জানেন, বামরাও জানেন। কারণ গতিজাড্য বলে একটা ব্যাপার আছে। উত্তর-ঔপনিবেশিক শানতান্ত্রিকতা বলে একটা ব্যাপার আছে। আমলাতন্ত্রিক কাঠামো বলে একটা ব্যাপার আছে। বামপন্থীরা এক কথায় যাকে "সিস্টেম' বলেন। আর ডান বা মধ্যপন্থীরা এর কোনো নাম দিয়েছেন কিনা জানিনা, তবে একদা প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী বলেছিলেন, যে, সরকার একশটাকা বরাদ্দ করলে আসল জায়গায় তেরো টাকা পোঁছয় (সংখ্যাগুলো ভুল হতে পারে। এই নিয়ে কিছু স্টাডিও আছে। কিন্তু হাতের কাছে লিংক মজুদ থাকেনা বলে দিতে পারছিনা।)

    এটা হল সিস্টেমের সমস্যা। এর দাওয়াই হিসেবে বামপন্থীরা বিপ্লবের কথা বলেন। আর অন্যদিকের লোকেরা দুর্নীতি দূর করতে হবে বলে স্লোগান দিয়ে ভুলে যান। বামপন্থীরাও বিপ্লব বা হলে কিছু হবেনা বলে পাশ ফিরে ঘুমিয়ে পড়েন। তারপর খন্ড খন্ড করে বিভিন্ন টুকরো গুলোকে (যথা অসংগঠিত শ্রমিক) কিভাবে কতটা রিলিফ দেওয়া যায় সে নিয়ে চিন্তা করেন। সিস্টেমের সামগ্রিকতা তাঁদের চোখে ধরা পড়েনা। এর উপরে নানাবিধ কঠিন নীতি নিয়ে আলোচনা চলে। কিন্তু সবই ভস্মে ঘি। কারণ আপনি একশ টাকা ভর্তুকি দিলে লোকে পাবে তেরো টাকা। আর কোনো ভর্তুকি না দিলে লোকে তেরো টাকা কম পাবে। আউটপুট প্রায় সমান-সমান।

    তো, আমার কাছে (আমিই লিখছি, কারণ বাকি কে কি মনে করেন আমি জানিনা), এই পাশ ফিরে ঘুমিয়ে পড়াটা কোনো কাজের কথা নয়। দুর্নীতি, শৃঙ্খলার অভাব, আইনের শাসনের অভাব, এরা সবাই সিস্টেমের এফিশিয়েন্সির অভাব নামক একটি বর্গের দিকে আঙুল তোলে। অর্থাৎ, স্বাস্থ্য দপ্তরের এক চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী ঘুষ না পেলে ট্রলি ঠেলছেন না, ওটো ওয়ালার বোঁবাঁ যা খুশি করছে, আইন থাকা সত্বেও চটকল শ্রমিকদের টাকা মেরে দিচ্ছে মালিক এবং কোনো জাদুমন্ত্রবলে তার কিছু হচ্ছেও না, হকাররা সরকারি ফুটপাথ ব্যবহার করছে, কিন্তু ভাড়া পাচ্ছে এলাকার দাদা, এরা সবাই একটি চালু সিস্টেমের চূড়ান্ত ইন এফিশিয়েন্সির দিকে আঙুল তোলে। সেটাই এদের যোগসূত্র।

    কথাটা হল, তাহলে একটি সরকারের যেকোনো কাজের পূর্বশর্ত কি? স্বাস্থয়-শিক্ষা-শিল্প যেকোনো ক্ষেত্রে যাই করুন না কেন, আগে দরকার এফিশিয়েন্সিকে ফিরিয়ে আনা। সেজন্য দরকার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা এবং ব্যাপক নজরদারি। প্রত্যেকটি কাজের ফলো-আপ এবং তার উপর যথাযথ সার্ভিলিয়েন্স। তাতে খরচা বেশি না, বরং কিছু ইনকামও হবে (আয় সঁমে্‌কাচ এবং ব্যয় বৃদ্ধির জায়গাটা খসড়ায় এই জায়গা থেকে এসেছে, কোনো অর্থনৈতিক নীতির নিদান দেবার প্রয়োজনে নয়)। এগুলো হল পূর্বশর্ত। নীতি-ফিতি আসবে এর পরে। আপনি নি-লিবারাল হোন কি নেহেরুভিয়ান, কোনোটাই কাজ করবেনা যদি না এই পূর্বশর্তগুলিকে মিট করা হয়।

    আমার ধারণা যেকোনো আম-পাবলিকি এ ব্যাপারে আমার সঙ্গে একমত হবেন। এবং এগুলিকে ডিঙিয়ে স্টেপ জাম্প করে তিনতলায় উঠে পড়া যায়না। এগুলিকে এড়িয়ে গেলে টেম্পোরারি কিছু রিলিফ হয়তো দেওয়া গেলেও যেতে পারে, কিন্তু কোনো দীর্ঘমেয়াদি কাজের কাজ হবেনা।
  • Ishan | 117.*.*.* | ২৬ মে ২০১১ ২২:৪৭474230
  • উফ। ব্যয় সংকোচ এবং আয় বৃদ্ধি। :)
  • dri | 117.*.*.* | ২৬ মে ২০১১ ২২:৪৭474208
  • ৯ এর কথামত আর বি আইয়ের সাইটে ডকুমেন্টটা পেলাম। http://rbidocs.rbi.org.in/rdocs/Publications/PDFs/STF28032011.pdf

    এখানে ২০০৯-১০ এর হিসেব মত ফিস্কাল ডেফিসিট জিডিপির ৬.৭%, এবং রেভিনিউ ডেফিসিট জিডিপির ৫.৬%। নন-স্পেশাল ক্যাটেগরিতে যে সতেরোটি রাজ্য আছে, তার মধ্যে এই দুটো ফিগারই সতেরোতম, অর্থাৎ ওয়ার্স্ট।

    সেকেন্ড ওয়ার্স্ট রেভিনিউ ডেফিসিট পাঞ্জাবের, ২.২%। মধ্যপ্রদেশ, কর্নাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ, ইভেন বিহারের রেভিনিউ ডেফিসিট নেই, আছে রেভিনিউ সারপ্লাস। ফিস্কাল ডেফিসিটে গোয়া (৬.৭%) আর বিহার (৬.৩%) বাদ দিলে, নেক্সট ওয়ার্স্ট উত্তর প্রদেশ (৪.৯%)। ভালোদের মধ্যে কেরালা ৩.১%, মধ্যপ্রদেশ ৩.৪%, অন্ধ্রপ্রদেশ ৩.৫%।
  • dri | 117.*.*.* | ২৬ মে ২০১১ ২৩:০০474241
  • এরপর আসা যাক স্টেটের ইনকামে।

    ২০০৯-১০ এর রিভাইজ্‌ড এস্টিমেটে

    পশ্চিমবঙ্গের রেভিনিউ রিসিট জিডিপির ৯.৬%, ওন ট্যাক্স রেভিনিউ ৪.১%, ওন নন-ট্যাক্স রেভিনিউ ০.৮%। যে সতেরোটি স্টেটের কথা আগে বলেছি তাদের কম্প্যারিজ্‌নে এটাও ওয়ার্স্ট।

    রাজস্থানের ক্ষেত্রে এই তিনটি ফিগার যথাক্রমে ১৬.৯%, ৭.৬%, ২.৩%। উত্তরপ্রদেশের ২০.০%, ৭.২%, ৩.১%। মধ্যপ্রদেশের ২২.৩%, ৯.০%, ৩.২%। এগুলো ভালোদের স্কোর।

    এইটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
  • dri | 117.*.*.* | ২৬ মে ২০১১ ২৩:০৭474253
  • আবার এদিকে ঐ একই পিরিয়ডে পশ্চিমবঙ্গে রেভিনিউ এক্সপেন্ডিচার জিডিপির ১৫.২%, যেটা রেভিনিউ রিসিটের চেয়ে বেশ অনেকটাই বেশী।

    অন্য স্টেটগুলোর দিকে তাকালে বোঝা যাবে কিছু স্টেটে রেভিনিউ রিসিট এক্সপেন্ডিচারের চেয়ে বেশী। আর যাদের ডেফিসিট আছে তারা ডেফিসিট অনেক বেটার ম্যানেজ করেছে।
  • dri | 117.*.*.* | ২৬ মে ২০১১ ২৩:১৩474264
  • ইন্টারেস্ট পেমেন্ট আর জিডিপির রেশিও পশ্চিমবঙ্গে ৩.২%। এখানেও আমাদের রাজ্য সতেরো জনে লাস্ট। সেকেন্ড লাস্ট পাঞ্জাব, ২.৮%। ভালোদের মধ্যে আছে হরিয়ানা (১.৪%), মহারাষ্ট্র (১.৭%), তামিল নাড়ু (১.৮%)।
  • dri | 117.*.*.* | ২৬ মে ২০১১ ২৩:২৩474275
  • কিন্তু আমরা আসল শকটা খাব ৫৭ পাতায়। এটা দেখলে বোঝা যায় পশ্চিমবঙ্গের অবস্থা অন্য রাজ্যগুলোর তুলনায় কতটা খারাপ।

    পশ্চিমবঙ্গের ইন্টারেস্ট পেমেন্ট আর কমিটেড এক্সপেন্ডিচার অ্যাজ আ পার্সেন্টেজ অফ রেভিনিউ রিসিট হল ৩৩.৮% এবং ৬৬.৭%। অর্থাৎ দুটো মিলিয়ে ১০০% এর বেশী।

    বাকি ষোলটা রাজ্যই ওয়েল উইদিন বাজেট। সেকেন্ড ওয়ার্স্ট পাঞ্জাবের ফিগার হল ২১.২% এবং ৪৪.৩%। থার্ড ওয়ার্স্ট কেরালার হল ১৮.৬% এবং ৪৪.৬%।
  • Ishan | 117.*.*.* | ২৬ মে ২০১১ ২৩:৪০474286
  • ক্কি ক্কান্ড।
  • dri | 117.*.*.* | ২৬ মে ২০১১ ২৩:৪১474297
  • এই ফিগারগুলো দেখে আমার ফাস্ট রিয়্যাকশান হল এই ইন্ডিকেটারগুলো এক্সপ্রেস্‌ড অ্যাজ আ পার্সেন্টেজ অফ জিডিপি মাঝে মাঝে মিসলিডিং হতে পারে।

    এবং তার মূল কারণ হল সব স্টেটে রেভিনিউ জেনারেশান কিন্তু জিডিপির একটা ফিক্সড রেশিও নয়। এবং ভেরিয়েন্সটা বেশ ওয়াইড।

    পশ্চিমবঙ্গের যদি ১০০ টাকা জিডিপি হয়, রেভিনিউ আসে মাত্র সাড়ে ন' টাকা। কিন্তু মধ্যপ্রদেশের জিডিপি যদি ১০০ টাকা হয় রেভিনিউ আসে ২২ টাকারও বেশী। এবার যদি মধ্যপ্রদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গ উভয়ের রেভিনিউ এক্সপেন্ডিচার যদি ১৫% অফ জিডিপি হয় তাহলে দেখা যাচ্ছে মধ্যপ্রদেশ ওয়েল উইদিন বাজেট, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ ওভারবাজেট।

    কেসটা আরো সিভিয়ার ইন্টারেস্ট পেমেন্টের ক্ষেত্রে। ইন্টারেস্ট পেমেন্ট ওয়েস্ট বেঙ্গলের ৩.২%, মধ্যপ্রদেশের ২.৫%।

    কিন্তু রেভিনিউয়ের রেস্পেক্টে দেখলে পশ্চিমবঙ্গে সাড়ে ন'টাকার মধ্যে তিন টাকার বেশী চলে যাচ্ছে সুদ দিতে, প্রায় ওয়ান থার্ড। মধ্যপ্রদেশের কিন্তু ২২ টাকার মধ্যে মাত্র আড়াই টাকা যাচ্ছে সুদে। ১০% এর কিছু বেশী।

    রেভিনিউয়ের রেস্পেক্টটাই বেটার ইন্ডিকেটার।
  • dri | 117.*.*.* | ২৬ মে ২০১১ ২৩:৫১474308
  • তো ওপরের হিসেবটা দেখে সেই সত্যটাই আবার করে ক্লিয়ার হয়, যেটা এইসব না করেও কমন সেন্স থেকেই ক্লিয়ার হয়েছিল।

    আয় বৃদ্ধি ও ব্যয় সংকোচ।

    ব্যয় সংকোচ ব্যাপারটা আনপপুলার। যদি বলেন সিক্সথ পে কমিশান দেব না, সেভ করব, লোকে আপনাকে ভোট দেবেনা।

    তাই প্রথম ট্রাই করা উচিত আয় বৃদ্ধিটা।

    কিন্তু কী করে? একটা ব্যাপার আছে। অন্য বেশ কিছু স্টেট কিন্তু জিডিপির ১৫% এর বেশী আয় করে দেখিয়েছে, যেখানে পশ্চিমবঙ্গের আয় জিডিপির ১০% এরও কম। আমার মনে হয় অন্ধ্রপ্রদেশ, ছত্তিসগড়, ঝাড়খন্ড, কর্নাটক, মধ্যপ্রদেশ, ওড়িশা, উত্তরপ্রদেশ এরা কী কায়দায় এতটা রেভিনিউ তোলে সেটা স্টাডি করা দরকার।
  • dri | 117.*.*.* | ২৭ মে ২০১১ ০০:০৫474319
  • লেখার জন্য হানুদার কী একটু জ্বালানী কাঠ লাগবে?

    মমতার ম্যানিফেস্টো থেকে আমি আরেকটি আইডিয়া তুলে দিলাম।

    পতিতপাবন পরিকল্পনা।

    চাকুরীজীবী, ব্যবসায়ী, শারীরিকভাবে অক্ষম জমির মালিকের বাস্তু, জমি ও দোফসলী চাষজমি সাধারণভাবে পতিত থাকে। অথচ ঐ জমিগুলিকে ব্যবহার করে উৎপাদন বৃদ্ধি করা যেতে পারে। বর্গা রেকর্ডের ভয়ে জমির মালিক জমি ফেলে রাখেন, কিন্তু অন্য কাউকে চাষ করতে দিতে চান না। এই ধরণের প্রায় পতিত জমিকে জমির মালিকানা ও স্বত্ব অবিকৃত রেখে চাষ করতে ইচ্ছুক এমন চাষীদের শর্তসাপেক্ষে স্বল্প ও মধ্যমেয়াদী চাষ করানো কৃষি উৎপাদক বৃদ্ধির সহায়ক। এক্ষেত্রে মালিককে উৎপন্ন শস্যের এক অংশ দেওয়া যেতে পারে।

    কমেন্টস?
  • aka | 168.*.*.* | ২৭ মে ২০১১ ০০:০৮474330
  • ঈশান ব্যয় সংকোচ করে কি করে সার্ভিলিয়েন্স বাড়াবে?
  • Ishan | 117.*.*.* | ২৭ মে ২০১১ ০০:১০474341
  • উল্টোটা। সার্ভিলিয়েন্স ব্যয় সংকোচ বাড়াবে। এবং আয়ের সংস্থান করবে।
  • Ishan | 117.*.*.* | ২৭ মে ২০১১ ০০:১৩474352
  • দ্রি কে: এটা বিভিন্ন জেলায় ভ্যারি করতে পারে। হুগলীতে এমন জমি মনে হয় খুব কম।
  • aka | 168.*.*.* | ২৭ মে ২০১১ ০০:১৪474364
  • আয়ের সংস্থান কেমন করে করবে? মানে যারা সার্ভিলিয়েন্স করবে তাদের মাইনে?
  • aka | 168.*.*.* | ২৭ মে ২০১১ ০০:১৬474375
  • নাকি

    সার্ভিলিয়েন্সের জন্য বাড়া আয় - সার্ভিলিয়েন্সের খরচ > ০।
  • dri | 117.*.*.* | ২৭ মে ২০১১ ০০:১৭474397
  • ওকে। আর কিছু? আর কেউ? হানুদা?
  • Ishan | 117.*.*.* | ২৭ মে ২০১১ ০০:১৭474386
  • সার্ভিলিয়েন্সের আসল কথা হল পাবলিকের নজরদারি। তাতে কর্মচারী লাগেনা। মাইনাও না।

    কিন্তু এ নিয়ে বিশদে আগামী কাল। আজকের কোটা কমপ্লিট।
  • Ishan | 117.*.*.* | ২৭ মে ২০১১ ০০:১৮474408
  • হ্যাঁ, এই গ্রেটার দ্যান জিরো টাই বলতে চেয়েছি।
  • dri | 117.*.*.* | ২৭ মে ২০১১ ০০:১৯474419
  • আর যে সার্ভিলিয়েন্স করবে সে যদি ঘুষ খায়, এই ইস্যুটা তো এখনও তোলাই হয় নি।
  • aka | 168.*.*.* | ২৭ মে ২০১১ ০০:৩০474430
  • কৌশিক বসুর সলিউশন - ঘুষ দেওয়া লিগাল কিন্তু নেওয়া ইলিগাল। ব্যপক আইডিয়া, দুর্দান্ত।

    দ্রি যে স্টেট গুলো বললেন এদের খনিজ পদার্থ খুব বেশি। যদ্দুর মনে পড়ছে, কতদিন আগের জিওগ্রাফি বইতে পড়া।

    সার্ভিলিয়েন্স বলা যত সহজ ইমপ্লিমেন্ট করা তত সহজ নয়। আমার মনে হয় ছোট ছোট জায়গা ধরে কাজ করলে ভালো হবে। যেমন একটা হসপিটাল কিন্তু স্টাফেদের একটা দুষ্টচক্র আছে। হসপিটাল কর্তাদের চাপ দেওয়া হোক সেই দুষ্টচক্র ভেঙে এফিশিয়েন্সি বাড়ানো। ঈশান হয়ত এটাই বলতে চেয়েছে। কিন্তু এতেই বিশাল আয় বাড়বে আমার তা মনে হয়। লোকে দুর্নীতির নতুন নতুন উপায় খুঁজবে। আয় বাড়াতে কনজিউমারিজম বাড়াও, কনজিউমারিজম বাড়াতে লোকের হাতে টাকা বাড়াও, লোকের হাতে টাকা বাড়াতে লোকের চাকরি বাড়াও - সরকারী এবং বেসরকারী চাকরি। সার্ভেলেন্স বাড়াতে যেমন কিছু আপফ্রন্ট খরচা আছে, তেমনই সরকারী চাকরি করতেও আপফ্রন্ট খরচা আছে। একটা রাস্তা তৈরি করলে প্রচূর কাজ তৈরি হয়, কিন্তু আপফ্রন্ট খরচা আছে যার রিটার্ন পরে পাওয়া যায়।
  • nyara | 122.*.*.* | ২৭ মে ২০১১ ০০:৪২474441
  • ন-দার কথা শুনে যাও বা একটু ভরসা হয়েছিল, দ্রি-সাহেব দিলেন সব ঢেলে।
  • a | 208.*.*.* | ২৭ মে ২০১১ ০০:৫০474452
  • পাব্লিক সার্ভিলিয়েন্স করবে? পাগল না মাথা খারাপ? কে করবে শুনি?

    প্রথমত: পাব্লিক কোন মঙ্গল গ্রহ থেকে টুপ করে খসে পড়েনি। মানে, যিনি হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মীর দোষ দেখছেন, তিনিই কিন্তু সরকারী অফিসে ঘুষ খাচ্ছেন। এটা আজকের দিনে কোন বিচ্ছিন্ন সিনারিও নয়, হলে করাপশনের মাত্রা এত হত না, মামুকেও এত লম্বা লেখা লিখে বোঝাতে হত না হানুদা কেন বামপন্থী :)

    দ্বিতীয়ত: কিভাবে নজরদারী করবেন? হয়তো কিছু কিয়স্ক করে, কিছু অভিযোগ জমা নেবার সেন্টার করে ইত্যাদি। কিন্তু শেষমেষ ঘুরে ফিরে যাবে জিনিসটা ডিপার্টমেন্টে তদন্ত হতে। আর সেখানে বড়বাবুও যে ঘুষের কাট পান, সে কে না জানে!! এর উপরে আরো বড় বাবু, যীনি হয়তো কাট পাননা, কিন্তু কাইন্ডে অনেক সুবিধা পান। তার উপরে মন্ত্রী, যিনি পার্টি ফান্ডে পহা না দিলে পার্টি বের করে দেবে, কি অদ্ভুত, সেই এফিসিয়েন্সির অভাবেই!!!

    তো হরে দরে কি হল?
  • Du | 216.*.*.* | ২৭ মে ২০১১ ০৩:০০474463
  • শিক্ষকদের মাসপয়লা মাইনে নিয়ে আমি বর্তমানের লিংক দিয়ে গেলাম !! :) http://bartamanpatrika.com/content/rajya.htm
  • santanu | 82.*.*.* | ২৭ মে ২০১১ ১০:৪৮474475
  • কাল আমার বউ, আমার বউ (যার কাছে প্রায় টাকা মাটি, মাটি টাকা) হঠাৎ বলল - এই শুনি টাকা নেই আবার দিদি এসেই এখানে ফোয়ারা, ওখানে সাজানো সব ব্যবস্থা করে ফেলছেন, কি ব্যাপার, কোথা থেকে পয়সা আসবে?

    আমি গম্ভীর ভাবে বললাম - হুম, দেখা যাক।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লুকিয়ে না থেকে প্রতিক্রিয়া দিন