এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ব্লগ

  • ব্যোমকেশ, ফেলুদা ও মগজাস্ত্র

    শারদ্বত লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ০৩ মে ২০১৬ | ২৫১২৭ বার পঠিত
  • সত্যজিৎকে নিয়ে আমরা কথা বলতে ভালোবাসি। আমরা খুবই সামান্য মানুষ। উচ্চাকাঙ্ক্ষা-স্বপ্ন-পরিশ্রম-লক্ষ্য সবই ছোটমাপের করে গড়ে নিই আমরা, তাই চারপাশে কেউ একটা অসাধ্য-সাধন করে বসলে আমরা তাঁর মতো হওয়ার পরিশ্রম না করে পুজো করতে শুরু করে দিই তাঁকে। শর্টকাট। কিন্তু এই পোস্ট সেজন্য নয়, সেই পুজো-সমালোচনার বাইরে কয়েকটা কথা বলতে ইচ্ছে হল। যাদবপুরে শেষ সেমেস্টারে স্পেশাল পেপার ছিল 'গোয়েন্দা-সাহিত্য'। সেই ক্লাসগুলোয় আমরা কিছু আলোচনা করতাম শম্পাদি-কাফিদার সঙ্গে। সেই সময়ের আলোচনা আর নিজস্ব চিন্তা থেকে তুলে আনা কিছু কথা আজকে প্রাসঙ্গিক হতে পারে।

    আমরা সবাই রাজনৈতিক। আমাদের প্রতিটি আচরণের, প্রতিটি কথার, প্রতিটি চুপ করে থাকার একটা করে রাজনৈতিক অবস্থান আছে। আমাদের সাহিত্যও, রাজনৈতিক উপন্যাস থেকে ননসেন্স ভার্স, সবকিছুরই একটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকে, সাহিত্যের পাঠকরা সেটা জানি। বাংলা সাহিত্যের সেরা দুই গোয়েন্দা চরিত্রের মধ্যে আমরা যদি রাজনীতি খুঁজতে থাকি, অনেক মণিমুক্তোই বেরোবে, অস্বস্তিও।

    আমার ব্যোমকেশকে ফেলুদার চেয়ে ঢের বেশি ভালো লাগে, তাকে মনে হয় অনেক বেশি পরিণত, শাণিত, মার্জিত। অন্যদিকে ফেলুদা টিন আইডল। টিন-এজ পেরনোর পর তাই বোধহয় ফেলুদা আর পাতে ওঠে না পাঠকের। ব্যোমকেশের কিন্তু এই বয়েসের বাধাটা নেই। সত্যজিৎ যখন ফেলুদা লিখতে শুরু করছেন, তখন বাজার ছেয়ে আছে দেব-সাহিত্য-কুটীর-সিরিজে-স্বপনকুমারে। এই ধরণের বইগুলোয় গোয়েন্দার বুদ্ধিবৃত্তির চেয়ে টিন এজারদের মনোরঞ্জনের উপাদান রাখার গুরুত্বটাই বেশি ছিল। ফলে আজগুবি কাহিনি আর সস্তা চমকে বোঝাই ছিল। সেকালের বাবা-মায়েরা 'ডিটেকটিভ বই' পড়তে দেখলে সেজন্যই চটে যেতেন। শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়কেও ব্যোমকেশ লেখার সময় এরকম প্রতিকূল পরিস্থিতি সামলাতে হয়েছিল। ডিটেকটিভ সাহিত্য সম্পর্কে পাঠকদের নাক সিঁটকানো দেখে তিনি লিখেছিলেন, '... আমাদের দেশে উহার প্রতি সাধারণের এত অশ্রদ্ধা কেন? প্রথম কারণ, যাঁহারা এদেশে সর্বাগ্রে গোয়েন্দা গল্প লিখিতে আরম্ভ করিয়াছিলেন তাঁহাদের অক্ষমতা। তাঁহারা গোড়াতেই জিনিসটাকে খেলো করিয়া দিয়া গিয়াছেন। ... ডিটেকটিভ গল্প যেন অন্ত্যজের ঘরেই জন্মগ্রহণ করিয়াছে, তাই বর্ণশ্রেষ্ঠদের কাছে হেয় ও অবজ্ঞাত হইয়া রহিল। ইহা ডিটেকটিভ গল্পের দোষ নহে- দোষ তাহার জন্মদাতাদের। দ্বিতীয় কারণ, বিদেশ হইতে তৃতীয় শ্রেণির ডিটেকটিভ গল্পের আমদানী...'

    সত্যজিতের সময়ে এই শ্রেণির সাহিত্য বাজার ছেয়ে ফেলেছে। সেসময় ফেলুদার কৌলীন্য বজায় রাখা হয়েছিল 'দেশ' পত্রিকায় প্রকাশ করে। আজকের দিনে প্রকাশিত হলে আমরা ব্যোমকেশকে 'দেশ'এর পাতায় দেখতে পেতাম, ফেলুদাকে কিন্তু 'আনন্দমেলা'র বাইরে ভাবাই যেত না। এসব কথা থাক, দু'একটা ঘটনা বা পরিস্থিতি উল্লেখ করলে এই লেখকদ্বয়ের জিনিয়াস আন্দাজ করতে পারি আমরা...

    ব্যোমকেশ বল্লভভাই প্যাটেলের অনুরোধে একটি কেস সলভ করতে যায় দিল্লিতে। এই উল্লেখ থেকে শরদিন্দুর রাজনৈতিক অবস্থানটা স্পষ্ট ধরা যায় বটে, কিন্তু আরো মজা আছে 'আদিম রিপু'তে। গল্পটা আমরা পড়েছি, বা না পড়ে থাকলেও অঞ্জন দত্তর ফিল্মটা দেখেছি। যদিও ফিল্মের সময়টা এগিয়ে যাওয়ায় এই সূক্ষ্ম দিকটা মাঠে মারা গেছে।

    'আদিম রিপু'র শেষ দিকটা মনে করা যাক। অনাদি হালদারকে খুন করা সত্ত্বেও ব্যোমকেশ প্রভাত হালদারকে পিতৃপরিচয় জানার শাস্তি দিয়েই ছেড়ে দ্যায়। ছেড়ে দেওয়ার আরেকটা কারণ, সেদিন ভারতের স্বাধীনতা পাওয়ার দিনটা। এই ঘটনা-কাল-রাজনৈতিক পরিস্থিতির পেছনে আরেকটা সূক্ষ্ম দিক আছে। অনাদি হালদার একজন ডাকাত-পিতৃহন্তার পাশাপাশি একজন কালোবাজারিও ছিল। যুদ্ধ ও দুর্ভিক্ষের সময় কালোবাজারির মাধ্যমেই সে বিপুল সম্পত্তির অধিকারী হয়েছিল, তাকে মারার জন্য প্রভাতের কোনো শাস্তিই হল না... পাঠকের মনে আছে, নেহরুর সেই বিখ্যাত লাইন, 'স্বাধীনতার পর প্রত্যেক কালোবাজারিকে ল্যাম্পপোস্টে ফাঁসি দেওয়া হবে!' সেই লাইনটা মনে রেখে আরেকবার 'আদিম রিপু' পড়ে ফেলুন।

    সত্যজিতের প্রথমদিকের উপন্যাসে লালমোহনবাবুর অস্তিত্ব নেই। সোনার কেল্লায় তাঁকে প্রথম দেখি আমরা। তার আগে ফেলুদার কাহিনিগুলো উপভোগ্য হলেও মজার হয়ে ওঠেনি সেরকম। লালমোহনবাবু আসার পর ফেলুদা সিরিজ সব বয়েসের সমস্ত পাঠকের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ফিল্ম হওয়ার পর থেকে বাকিটা ইতিহাস। এবার লালমোহনবাবু চরিত্রটাকে যদি আমরা একটু খুঁটিয়ে দেখি, দেখতে পাব, আদ্যন্ত সাধাসিধে, বোকাবোকা প্রশ্ন করেন, ভাবেন কম, অথবা, যেটুকু ভাবেন তা ভুল ভাবেন। অথচ এই চরিত্রটা একজন বেস্টসেলার কিশোর উপন্যাস রচয়িতা, যাঁর নায়ক প্রখর রুদ্র, উপন্যাসগুলোর নাম যতটা না সত্যিকারের, তার চেয়ে ঢের বেশি প্যারডি, যাঁর কাহিনিতে উটেরা পাকস্থলীতে জল নিয়ে মরুভূমি পাড়ি দ্যায়। বুদ্ধিমান ফেলু মিত্তির তাঁকে কথায় কথায় অপদস্থ করেন, তিনি এতটাই সরল (পড়ুন বোকা) যে সেটাও ধরতে পারেন না।

    খুব সূক্ষ্মভাবে এখানে সত্যজিৎ অন্যান্য বেস্টসেলার কিশোর রচয়িতাদের কী ভাবতেন, তার ছায়া পড়ে। ফেলুদা তো সত্যজিতেরই প্রতিভূ। ভাবুন দেখি, যাকে পরাজিত (মগজাস্ত্র ও বাজার, দু'জায়গাতেই) করতে চাইছেন, তাকে নিজেরই সিরিজে একটা কমিক চরিত্র বানিয়ে তাকে ক্ষণে ক্ষণে অপদস্থ করা, পাঠকের কাছে একইসঙ্গে হাস্যাস্পদ আর জনপ্রিয় করে তোলা, পাঠকের মনে এই লেখকদের সম্পর্কে একটা স্থায়ী তাচ্ছিল্যের বীজ পুঁতে দেওয়া- এই সবকটা পাখি একঢিলে মারতে হলে, কীরকম জিনিয়াস হতে হয়। এঁকে বাকিরা প্রণাম করুন গে, আমি বরং বলি, 'আয় তোর মুন্ডুটা দেখি, আয় দেখি “ফুটোস্কোপ” দিয়ে'।

    মগজাস্ত্রকে সেলাম।
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ব্লগ | ০৩ মে ২০১৬ | ২৫১২৭ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • sosen | ০৪ মে ২০১৬ ০৫:০১54150
  • স্বপনকুমার? ক্কি আশ্চজ্জো। নাকি কিরীটি বা জয়ন্ত বিমল?
    গোয়েন্দার সাথে বোকাসোকা অথচ অন্য প্রফেশনে সফল লোক জোড়া তো খুব কমন। এখন জটায়ু গোয়েন্দা গল্প লেখক হওয়ায় একটা মজার কনট্রাস্ট আর খোঁচা তো আছেই। সেটা যে কারুর প্রতি ডাইরেক্টেড সে তো কদাপি মনে হয়নি। নাঃ এসব ভেবে চিন্তে বার করাও দেখি কঠিন।
  • d | ০৪ মে ২০১৬ ০৫:০৩54151
  • কিন্তু কিরীটি আমাদের আশেপাশে তুমুল জনপ্রিয় ছিল। যাবতীয় কিরীটি অমনিবাস লাইব্রেরীতে সর্বদা ডিউ স্লিপে চলেত দেখতাম।
  • Tim | ০৪ মে ২০১৬ ০৫:০৭54152
  • হ্যাঁ খুব জনপ্রিয় ছিলো। বইমেলাতেও দেখতাম কি বিক্রি। জয়ন্ত মানুকের সুন্দরবাবু জটায়ুর থেকে কম কমিক নন। সোনার কেল্লার পর শুধু জটায়ু না, ফেলুদার ইলাস্ট্রেশনও পাল্টায়। ভিসুয়াল মিডিয়া বলে শুধু না, অভিনেতাদের নিজস্ব ক্যারিশমা অনেকটা দায়ী
  • avi | ০৪ মে ২০১৬ ০৫:০৯54153
  • কিরীটী রায় নাকি সিনেমা হচ্ছে শুনলাম। কালো ভ্রমর। তবে রেঙ্গুন পার্টটা বাদ দিয়ে। অবিশ্যি কালো ভ্রমর মাইনাস বার্মা মানে সোনার কেল্লা মাইনাস রাজস্থান।
    ইয়ে কিরীটী রায়ের শারীরিক বর্ণনা দেখলে সত্যজিতের কথা মনে পড়ে না? সাড়ে ছ'ফিট লম্বা, ব্যাকব্রাশ চুল, সুগঠিত চেহারা, চশমা....
  • Tim | ০৪ মে ২০১৬ ০৫:১১54154
  • কিরীটির কি বিয়ে হয়েছিলো? বাবুলালের মত ছেলে ছিলো? এগুলো জানলে বলা যাবে
  • Atoz | ০৪ মে ২০১৬ ০৫:১৪54217
  • আরে, ৭০ এ অ দি রা নিয়ে বিরোধ আর ৭১ এ সো কে?
    তবে তো আরোই খাপে পড়ছে! ঃ-)

    ফেলুদা কাহিনি টিন কালে ভালো লাগতো সত্যিই, কিন্তু তারপরে বড়ো হয়ে পড়তে গিয়ে দেখি স্টিরিওটাইপ সব চরিত্র, কোথাও বড়োলোক বুড়ো কাজকর্ম করে না, ইয়ং ছেলে রা তার জীবনী লেখার চাকরি নিয়ে পাশে থাকে, কেউ কেউ আবার কিউরিও কালেক্ট করে, কোথাও কোথাও গরীব আশ্রিত কোনো ক্যাবলামার্কা ছেলে থাকে-যার ঘাড়েই আল্টি কোপটা পড়ে। এই ধরণের সব জমিদারি টাইপ গপ্পো। গোল গোল, ফুলকো ফুলকো।

    তুলনায় শরদিন্দুর ব্যোমকেশকাহিনিতে বৈচিত্র ও সংঘাত অনেক বেশী। আর সাহিত্যের দিক থেকে দেখতে গেলেও---
  • b | ০৪ মে ২০১৬ ০৫:১৪54155
  • মাইরি কিরীটি কি ধুর। ধুরস্য মোজা। মোজাস্য ধুর।
    কাউকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের বদলে কিরীটি অমনিবাস পড়ে শোনালে পারে
  • avi | ০৪ মে ২০১৬ ০৫:১৫54156
  • বিয়ে তো হয়েছিল। গিন্নীর নাম কৃষ্ণা যদি না ভুল করি। বাবুলাল জন্মায়নি। :-)
  • T | ০৪ মে ২০১৬ ০৫:১৭54218
  • একই ধরণের জমিদারী টাইপ গল্প! এতোজ মনে হয় অন্য কিছু পড়েছে।
  • Tim | ০৪ মে ২০১৬ ০৫:১৯54157
  • তবেই বোঝা যাচ্ছে কিরীটি সত্যজিৎ এর ছায়া না
  • Tim | ০৪ মে ২০১৬ ০৫:২০54219
  • প্রাইভেট ইনভেস্টিগেটর কে তো রোজগার করতে হবে, নাকি? পয়সাওয়ালা লোক ছাড়া কারুর ওরকম সাধ্য হয়? (মুকুল ধরের কেস এখানে ব্যতিক্রম হিসেবেই দেখুন)
  • d | ০৪ মে ২০১৬ ০৫:২০54160
  • বাড়ীতে পরবার জন্য
  • Tim | ০৪ মে ২০১৬ ০৫:২০54159
  • কালো ভ্রমর আমি পড়তে নিয়েছিলাম। সেই তখন যখন বইয়ের অভাবে খবরের কাগজের কৃষিবিভাগের লেখাগুলোও পড়তাম। সেই সময়েই শেষ করতে পারিনি। দুঃস্বপ্নের মত ছিলো।
  • d | ০৪ মে ২০১৬ ০৫:২০54158
  • কিরীটি রয় পড়ে আমি একটা জিনিষ জানতে পারি সেটা হল ঘাসের চটি। বহুতদিন খুঁজেছি সেই ঘাসের চটি, বাড়ীতে পড়বার জন্য।

    হ্যাঁ কিরীটির বৌয়ের নাম কৃষ্ণা, যাকে কিরীটির সহকারী সুব্রত 'কৃষ্ণাসখী' বলে ডাকত মাঝে মাঝে।
  • Tim | ০৪ মে ২০১৬ ০৫:২২54161
  • ঘাসের চটি পরতো কেন? কি খোরাক
  • Atoz | ০৪ মে ২০১৬ ০৫:২৩54220
  • ঐ সব পূর্বপুরুষের পয়সায় বড়োলোক পায়ের উপরে পা তুলে বসে, দামী দামী জিনিস সংগ্রহ করে কাটায় দিন, এইসব চরিত্র অনেক দেখেছি ফেলুদা সিরিজে।
  • Atoz | ০৪ মে ২০১৬ ০৫:২৪54221
  • লটারি পেয়ে বড়োলোকও আছে একটা গল্পে। ঃ-)
  • d | ০৪ মে ২০১৬ ০৫:২৫54162
  • এহে সে বোধহয় ওনার আভিজাত্য বোঝানোর জন্য। কিরীটি বাড়ীতে কিমোনো না ড্রেসিং গাউন কি যেন পরত, তার সাথে ঘাসের চটি।

    আমার চত্ববেলায় ধারণা ছিল সে ভারী নরমসরম আরামদায়ক চটি নিশ্চয়।

    কথা হল কিরীটি নিষিদ্ধ ছিল। ফলে অঙ্ক খাতায় ঢুকিয়ে প্রচুর পড়েছি।
  • T | ০৪ মে ২০১৬ ০৫:২৬54222
  • সব গল্পই শেয়াল দেবতা রহস্য নাকি!
  • Ekak | ০৪ মে ২০১৬ ০৫:২৭54223
  • খিই মুশকিল। প্রাইভেট ইনভেস্টিগেটর এপয়েন্ট করার পয়সা তো একটা শ্রেনীর হাতেই আছে। অনেক খরচ। কথায় কথায় এখান ওখান যাওয়ার টিকিট -হোটেল খরচ -তার ওপর আলাদা করে পারিশ্রমিক এসব যে কেও এফোর্ড ই করতে পারবে না। ন্যাচেরালি গল্প গুলো তাই ওরকম পরিবার কে নিয়েই হয়।
  • avi | ০৪ মে ২০১৬ ০৫:২৭54163
  • তখন মনে হয় ৫-৮ ক্লাসে পড়ি। গ্রামের বাড়ি। পাশের লাইব্রেরি থেকে সপ্তাহে একদিন করে গল্পের বই আনতাম। গ্রীষ্মের ছুটিতে এগুলো বেশি হত। বিকেলে যেতাম। সন্ধ্যের আগে সাইকেলে চেপে ফিরে আসা। ঠিক সন্ধ্যের মুখে কালবৈশাখী হত। সাথে সাথে পাওয়ার কাট। মা কাকীমার ঘটা করে ল্যাম্প হ্যারিকেন জ্বালানো। এবার বগলে খান দুই বই গুঁজে লাফিয়ে লাফিয়ে ছাদের ঘরে চলে যাওয়া। হাতে হ্যারিকেন। তার পর বৃষ্টির মাঝে কিরীটী রায়ের অনন্ত রাবিশ।
    একটা গল্প শেষ হচ্ছে এমনভাবে। অপরাধী ধরা পড়ে গেল।ছদ্মবেশ উন্মোচন হল। তার রূপের বাহারে সবাই নির্বাক। দেহে পেশীর ঢেউ খেলছে। তার পরেই এক লম্বা বক্তৃতা। অপরাধী বাংলার দুর্ভিক্ষে চাল বিলি করার ব্রত নিয়েছে। ঝুপ করে সাবমেরিন সহ সামনের নর্দমায় ঝাঁপ। গোয়েন্দা কুর্নিশ জানাচ্ছে। সে কি উত্তেজনা, উফফ।
  • Atoz | ০৪ মে ২০১৬ ০৫:২৮54224
  • পয়সা থাকলে ভুতের বাপের শ্রাদ্ধ। ঃ-)
  • Tim | ০৪ মে ২০১৬ ০৫:২৮54164
  • ছোট কয়েকটা গল্প আমিও পড়েছি, কখনও বা অন্য অমনিবাসে গুঁজে দেওয়া গল্প হিসেবে। হ্যাঁ ড্রেসিং গাউন, পাইপ। হেব্বি কেত।
  • Atoz | ০৪ মে ২০১৬ ০৫:৩০54226
  • আরে এক ব্যাটা পয়সাওলা বুড়ো নিজের জীবনী লেখানোর জন্য মাইনে দিয়ে ইয়ং লেখক রেখেছে, এইরকমও আছে ফেলুদা সিরিজে।
  • Ekak | ০৪ মে ২০১৬ ০৫:৩০54225
  • আরেকটা ব্যাপার কে কিভাবে কাজ যোগার করছে। ব্যোমকেশ রাখাল এর থেকে লীড পেত। শার্লক কে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড ডাকত। প্রদোষ মিত্তির এর এত ক্যাচ ছিল না। বা ধরা যায় ওই রাস্তায় না গিয়ে সরাসরি শাসালো ক্লায়েন্ট নিয়েই কারবার করেছে।
  • Ekak | ০৪ মে ২০১৬ ০৫:৩২54229
  • সে বলতেই পারেন :) আমার তো হু ডান ইট জনরা টাই পোষায় না। যাদের এতো বুদ্ধি তারা অষ্টধাতুর গনেশ জাতীয় জিনিসের পেছনে এনার্জি ক্ষয় করে ক্যানো সেটা তারাই জানে।
  • T | ০৪ মে ২০১৬ ০৫:৩২54228
  • তো?
  • Atoz | ০৪ মে ২০১৬ ০৫:৩২54227
  • বাবু বাবু সেইজন্য মনে হয় ফেলুকে একটা চাকরিতেই ঢুকিয়ে দিয়েছে। ব্যাংকে। নিচ্চিন্দি। ঃ-)
  • T | ০৪ মে ২০১৬ ০৫:৩৫54230
  • 'পয়সাওলা বুড়ো' নিজের জীবনী লেখার জন্য মাইনে দিয়ে 'ইয়ং লেখক' রেকেছে তাতে অপরাধ কি তা হুজুরের কাছে জানতে চাই।
  • সে | ০৪ মে ২০১৬ ০৫:৩৭54233
  • ফেলুদা শঙ্কু সত্যজিতের অন্য গল্পগুলোয় ( পিকুর ডায়েরি অন্য) কোনো নারীচরিত্র নেই, এটা গোড়া থেকে লক্ষ্য করেছি। শরদিন্দুতে সমাজ যেমনই হোক না কেন নারীরা আছে। সত্যজিৎ তো কিশোরদের পাতে দেবার যোগ্যই মনে করলেন না নারীচরিত্র। শরদিন্দুর সেরকম ছুঁচিবাই দেখিনি, আজকের সামাজিক পটভূমিকায় তিনি পোলিটিকালি ইনকারেক্ট হতে পারেন, হয়ত ব্যোমকেশ গোয়েন্দা হিসেবে জোলো, সব মানছি, কিন্তু সত্যজিৎ তো মেয়েদের পুরো বাদ দিলেন সেফ খেলতে। নারী এলেই প্রেম আসবে সেক্স আসতে পারে। এই কারণেই ফেলুদা শঙ্কু এসব আমাকে টানে না। ছোটোগল্পগুলোতেও বিপত্নীক অকৃতদার লোকজন, বাড়ির চাকর ইত্যাদি থাকে, বাড়ির ঝি, কাজের মাসি অবধি নেই। কিশোর বয়সের পাঠকইতো মূলতঃ বইগুলো পড়বে, তাদের মনের মধ্যে নারীহীন একটা পরিবেশ তৈরী হচ্ছে ফেলুদা তোপশে জটায়ুকে নিয়ে। কোনো নারী ভুল করেও চলে আসে না। ভেরি স্ট্রেইঞ্জ। এইজন্যেই জোলো লাগে। মগজাস্ত্র ব্যবহার করবার আগে এটুকু জাস্টিফাই করবার মতো ইন্টেলিজেন্স ফেলুদার কাছে আশা করা যায় না কি? ফেলুদা শঙ্কু বা অন্য ছোট গল্পগুলো আমার কাছে ছকে ফেলা গল্প। কিশোর বয়সের পরে আর পড়বার ইচ্ছে হয় নি। ব্যোমকেশ বারবার পড়া যায়। কিরীটি-সুব্রত অসম্ভব বাজে লাগে। পড়ার চেষ্টা করেও পড়ে উঠতে পারিনি।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খারাপ-ভাল মতামত দিন