এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  অন্যান্য

  • অচলায়তনের দেয়ালের ফোকর ও ভালবাসা

    ranjan roy
    অন্যান্য | ১৩ জুন ২০১৬ | ১৭৯২৪ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • d | ১৬ আগস্ট ২০১৬ ১৬:৫০708240
  • আমি কুমড়োকে সমর্থন করে গেলাম রঞ্জনদা। প্লীজ।
  • Abhyu | ১৬ আগস্ট ২০১৬ ১৭:০৪708241
  • নেহাত সইত্যের খাতিরে বলে যাই স্বামী নিরঞ্জনানন্দ (১৮৬২ - ১৯০৪) পূর্বাশ্রমের নাম নিত্যনিরঞ্জন ঘোষ, রামকৃষ্ণদেবের ডাইরেক্ট শিষ্য। আরেকজন নিরঞ্জনানন্দ সত্যি ছিলেন? এবার শুনব ব্রহ্মানন্দ সারদানন্দ নামও ডুপ্লিকেট হচ্ছে অথবা রঞ্জনদা একটু ভুলভাল আনন্দ যোগ করছেন :)
  • Ranjan Roy | ১৭ আগস্ট ২০১৬ ০৪:৪০708242
  • অভ্যু,
    ঠিকই বলেছ। উনি মানে ন'দা হলেন নিরঞ্জন সেনগুপ্ত; সন্ন্যাস নামটি মনে পড়ছে না।
    ১৯৬১ এ আমি আশ্রমে যাওয়ার কয়েক মাসের মধ্যে দেহ রাখেন।
    এবার মুখে সত্যি সত্যি কুলুপ আঁটলাম।
  • dc | ১৭ আগস্ট ২০১৬ ০৮:২৫708243
  • "কিন্তু আমাদের অনেকের চোখে ওঁর "লটঘট" একটি রক্তমাংসের মানুষের ক্ষমাযোগ্য বিচ্যুতি। ফলে আমার ব্যক্তিগত ভালোবাসা ও সহানুভূতি ওঁর সঙ্গে। এই ধরণের মানবিক বিচ্যুতি পুরাণকথায় অনেক বরেণ্য ঋষিমুনির গল্পেও আছে। ঋষিপত্নীর গল্পেও আছে।"

    রঞ্জদার এই লাইনটা পড়ে মনে হলো পুরান অবধি যেতে হবে কেন, নানাবতির কেসটাই দেখুন না! আমি আগে এনার সম্বন্ধে কিছু জানতাম না, নামও শুনিনি, কিছুদিন আগে অক্ষয় কাকুর সিনেমাটার পাবলিসিটি পড়ে অরিজিনাল কেসটা পড়লাম। আর পড়ে মনে হল এই না হলে প্রেম কাহিনি!

    নানাবতী দীর্ঘ সময় জাহাজে কাটাতেন বলে ওনার স্ত্রী নিঃসঙ্গ বোধ করতেন, ফলে নানাবতীর বন্ধুর প্রেমে পড়েন (সে পড়তেই পারেন, কোনরকম কারন ছাড়াও পড়তে পারেন)। কিন্তু বন্ধুটি কিছুদিন সিলভিয়ার সাথে ঘোরাঘুরি করে তারপর তাকে বিয়ে করতে অস্বীকার করে (ভিলেন)। কিছুদিন পর নানাবতী ফিরে আসে, তারপর সিলভিয়াকে অন্যমনস্ক দেখে প্রশ্ন করে, সিলভিয়াও কনফেস করে (সাচ্চা প্রেমিক নং ১ঃ বৌয়ের মনের খবর ঠিক জানতে পেরেছে, সাচ্চা প্রেমিক নং ২ঃ স্বামীকে কনফেস করার সাহস দেখিয়েছে)। তারপর নানাবতী সিলভিয়া আর ছেলেমেয়েকে সিনেমাহলে নিয়ে যায়, ইয়ার্ডে গিয়ে নিজের রিভলভার নিয়ে আসে, বন্ধুর বাড়ি গিয়ে তাকে কনফ্রন্ট করে। আর জিগ্যেস করে, তুমি কি আমার স্ত্রী আর ছেলেমেয়ের দয়িত্ব নিতে প্রস্তুত? (উফ এখানটা পড়ে আমি চেয়ার থেকে পড়ে গেছিলাম, সাতবার জন্মালে বোধায় আমি কাউকে এরকম ভালোবাসতে পারবো)। বন্ধু একটি ভিলেনমার্কা কমেন্ট করে এবং নানাবতী তিনটে দানা ঠুসে দেয়। তারপর পুলিশের কাছে আত্মসমর্পন করে। জেলে নানাবতীর সাথে দেখা করতে আসে সিলভিয়া (এ একেবারে অমর প্রেম কাহিনী)। তারপর নানান ঘটনা, নানাবতী ছাড়া পায় তিন বছর পর, তার কিছুদিন পর সপরিবারে কানাডা চলে যায়। সেখানে নাকি কবছর আগে নানাবতী অক্কা পেয়েছে, কিন্তু সিলভিয়া এখনো বেঁচে আছে। আমি শিওর নানাবতী স্বর্গের আগের স্টেশানে ওয়েটিং রুমে সুটকেস নিয়ে সিলভিয়ার জন্য অপেক্ষা করছে।

    তাহলে রঞ্জনদা বলুন, এরকম প্রেম কাহিনীর (ইনক্লুডিং ফল অ্যান্ড রিডেম্পশান) এক শতাংশও কোন পুরানে আছে?
  • pi | ১৭ আগস্ট ২০১৬ ০৮:৩৯708244
  • নানাবতী লুরুতে ?
  • dc | ১৭ আগস্ট ২০১৬ ০৯:০৯708245
  • লুরুর ওয়েটিং রুমে।

    তবে এই লুরুবাসীগণ যা হাইপ দেয়, কহতব্য না। শহরটা দিন দিন থাকার অযোগ্য হয়ে উঠছে।
  • Abhyu | ১৭ আগস্ট ২০১৬ ১০:০০708246
  • সিলভিয়ার জায়গায় স্যাণ্ডি (মানে একটি পুরুষ) হলে বেশ একটা বলার মতো গল্প হত বোধহয় :)
  • bhagidaar | ১৭ আগস্ট ২০১৬ ১০:৫৮708247
  • অভ্যু সমানে এরকম চিম্‌টি কেটে যাচ্ছে কেন?
  • Abhyu | ১৭ আগস্ট ২০১৬ ১১:১৭708248
  • নাহ লাস্ট পোস্ট টা ইয়ার্কি ছিল, বাকিগুলো তো সিরিয়াস।
  • Abhyu | ১৭ আগস্ট ২০১৬ ১১:৫৪708250
  • ভাগীর পোস্টের পরে ভেবে দেখলাম ঐ স্যাণ্ডি নিয়ে পোস্টটা চিমটিই ছিল। আসলে ভিতরের বিরক্তিটা প্রকাশ পেয়েছিল, ঠিক অতটা ভেবে লিখি নি, হাল্কা পোস্ট যেমন হয় আর কি। রঞ্জনদার কাছে সরি চেয়ে গেলাম।
  • Ranjan Roy | ১৭ আগস্ট ২০১৬ ১৭:০৫708251
  • অভ্যু,
    এ কি! আমি ওটা ইয়ার্কি হিসেবেই দেখেছি। আর বিরক্তি তো স্বাভাবিক। একটা লেখা নিয়ে মতবিরোধ হলেই মনান্তর হবে না -- এটা আমার বিশ্বাস। আর তোমার বক্তব্যের মধ্যে কিছু আছে যা আমার আগে ভাবা উচিত ছিল। তাই উল্টে ধন্যবাদ দেব। সিরিয়াসলি।
  • Ranjan Roy | ১৭ আগস্ট ২০১৬ ১৭:৫৫708252
  • দ্বিতীয় ভাগ
    --------------
    ১)
    এবারের মত আকাশ ময়লা করে দেওয়া শীত আগে কখনও দেখি নি। হাওয়া নেই তবু দিনের বেলায় অভয়াশ্রম থেকে কেনা খাদির চাদরটা গায়ে জড়াই।
    এক এক করে সবাই হোস্টেলে ফিরছি। আমরা ক্লাস টেন। তাই এবার দোতলায় রুম পেয়েছি। ছোটরা একতলায়।
    স্কুল খুলতে এখনও তিনদিন বাকি। কিন্তু আশ্রমের জীবনে এমন অভ্যস্ত হয়ে গেছি যে বাড়িতে গিয়ে সাতদিন ভালো মন্দ সাঁটানোর পরই একঘেয়ে লাগতে থাকে। ঠাকুমার হাতের মাছের গায়ে লম্বা করে পেঁয়াজ জড়ানো তেল-কই, কাকিমার রান্না চিংড়ির মালাইকারি কিছুদিনের মধ্যেই অর্থহীন হয়ে পড়ে।এই ব্যবহৃত ব্যবহৃত হতে থাকা গম-পেষা কলের মত জীবনের ঘ্যানঘেনে লয় কী যা তা! কোন চমক নেই, নতুনত্ব নেই।
    একদিন ভর দুপুরে ট্রাম ধরে এসপ্ল্যানেড পৌঁছে ৩২ নম্বর বাসে চেপে বসে জয়শ্রী সিনেমার সামনে নেমে পড়লাম।
    বিশাল পোস্টার, সৌমিত্র ও সাবিত্রী-- সাবিত্রী বিধবার পোশাকে। নাঃ, বন্ধুরা কেউ নিশ্চয়ই দেখবে, এসে গল্পটা শোনাবে। আশ্রমের গেট পেরোই। খরগোস ঠোঁটের বিহারী দারোয়ান হেসে হাত তোলে। আমিও হাসি। ও হয়ত বকশিস আশা করছে। কিন্তু আমার যে খালি ফেরার বাসভাড়াটুকু সম্বল।
    ভেতরে গিয়ে আরও যা তা লাগল। চারদিক খাঁ খাঁ করছে। কেউ কোথাও নেই। রামকানাঅইদার অফিসের সামানে দিশি কুকুরট মাথা গুঁজে ঘুমুচ্ছে।
    মানিদা দেখতে পেয়ে একগাল হেসে কাছে ডাকলেন। আমি জিগ্যেস করলাম-- আজকাল আপনার গাঁট্টার দর কত করে?
    --- দূদ্দূর! ছেলেপুলে নেই, ডিমান্ড নেই। তোরা আয়, দেখবি গাঁট্টার দর চড়চড় করে চড়ছে। কবে আসছিস?
    -- এই তো এসে গেছি।
    --ধ্যাৎ, বিছানা বাক্স-প্যাঁটরা নিয়ে? আগামী সোমবারে চলে আয়! কী রে?
    --- আসব, আপনি যখন বলছেন।
    তারপর এদিক ওদিক তাকিয়ে গলা নামাই-- একটা কথা বলুন তো? নতুন মহারাজ কবে আসছেন?
    --- জানি না। তবে নাম ঠিক হয়ে গেছে।
    --নাম জানেন?
    -- না।
    --কোথাকার আশ্রম থেকে আসছেন ?
    --- জানি না।
    হটাৎ মানিদা গম্ভীর হয়ে গেছেন। এখন উনি সেক্রেটারি মহারাজের টাইপিস্ট বা নতুন মহারাজের সম্ভাব্য পিএ। ওঁর মুখে সেই মুখোশ এঁটে বসেছে।
    অথচ উনিই আমার ভর্তির সময় লোক্যাল গার্জেন মেজকাকে বলেছিলেন-- চিন্তা করবেন না। একটা কি দুটো বছর ওর বাড়ির জন্যে মন খারাপ করবে। তারপর আর বাড়ি ফিরতে চাইবে না। এই নাইনের ছেলেটিকে দেখুন।
    একটা উত্তমকুমারের মত কায়দা করে চুল ছাঁটা ছেলেকে উনি ইশারা করলেন। ও হেসে মাথা নাড়ল।
    তখন সেই ছেলেটার উপর খুব রাগ হয়েছিল। বাড়ি যেতে ইচ্ছে করে না? এ আবার হয় নাকি? ওপরচালাক! পোঁদপাকা!
    মানিদা অফিসে ঢুকে গেলে আমি আস্তে আস্তে গেট পেরিয়ে বাসরাস্তায় দাঁড়াই। বিকেলের আগে ঘরে ফিরব।
  • Ranjan Roy | ১৭ আগস্ট ২০১৬ ১৮:২২708253
  • এখনও নতুন মহারাজ আসেন নি। কিন্তু শীগ্গিরই এসে পড়বেন। হয়ত স্কুল খুলে যাবে। তাতে কী?
    ছোট মহারাজ অনিলদাকে জিগ্যেস করি-- উনি গান জানেন?
    -- ঠাকুরের কাছে আসলে সবাইকে গান গাইতে কম-সে-কম আরাত্রিকটুকু হারমোনিয়মে বাজাতে শিখতে হয়।
    --সে তো আপনিও শিখেছেন?
    -- হ্যাঁ। শিখতে হত। ব্রহ্মচারী পর্বে।
    পাশ থেকে অমিয়দা মিচকি হাসে-- শিখে টিখে এই ফর্ম?
    -- কী ? কী বলতে চাও তুমি?
    অমিয়দা সতর্ক হয়।
    --বলছিলাম কি, ক'টা গান শিখেছেন?
    --- কেন?
    -- মানে আপনাকে বেশি গান গাইতে শুনি না তো! ওই " সর্বমঙ্গলমঙ্গল্যে--" আর " নাচে পাগলা ভোলা"।
    -- আরও দু-তিনটে জানি। যেমন " বিভু নামে এক রাজার ছেলে, যাত্রা করেছিল শ্রীদূর্গা বলে"। তারপর " কে গো আমার মা কি এলি", আরও একটা " ভাঙ খেয়ে বিভোর ভোলনাথ ভূতগণ সঙ্গে নাচিছে"।
    -- আর?
    অনিলদা অসহায় মুখ করে আমার দিকে তাকান। আমার খারাপ লাগে।
    -- কেন মহারাজ! আপনি আরও জানেন। সেই যে "কে ওই আসিল রে কামারপুকুরে", " এস হৃদয় দোলায় দোলাই তোমায়, প্রাণের ঠাকুর রামকৃষ্ণ মম। তুমি যে মোর প্রিয়তম, প্রাণসম প্রাণমম।"
    --ঠিক বলেছ প্রদ্যুম্ন,, ওই গানগুলোও জানি। শোন, আজকে রাত্তিরে খিচুড়ি রান্না হয়েছে। আর এখন থেকে দুধ দেওয়া শুরু হচ্ছে। খিচুড়ির সঙ্গে একটু দুধ দিয়ে মেখে খেয়ে দেখ, খুব ভাল লাগবে।
    -- এ ম্যা! খিচুড়ির সঙ্গে দুধ ? আপনি নিজে কখনও খেয়েছেন?
    --- আমি তো খাই। একবার টেস্ট করে দেখই না!
    ছোটখাট ভিড় জমেছে। একজন টিপ্পনি কাটে-- অমিয়দা, উনি কথা ঘোরাচ্ছেন। গান কোথায় গেল?
    অমিয়দা ছোটলোক। হাত তুলে সবাইকে থামিয়ে দিয়ে বলে ওঠে-- অনিলদা, আমি ভেবেছিলম কি আপনি একটাই গান জানেন। মানে আপনার সবগুলো গান একইরকম শোনায়।
    সমবেত অট্টহাসির মধ্যে অনিলদা ভ্যাবাচাকা খেয়ে যান। ওঁর চোখ সবার মুখের উপর দিয়ে ঘুরে যায়। দেখতে পান-- চাপা হিংস্র আনন্দ।
    এবার উনি অমিয়দার চোখে চোখ রেখে তাকালেন-- তুমি আমাকে এইকথা বললে? উপহাস করলে? করতেই পার। তুমি ছিলে রামকানাইদার কালীকীর্তনের দলে সদস্য। কিন্তু একটা কথা শুনে যাও-- ঠাকুর আমার গলায় সুর দেন নি। বুকে ভক্তি-ভালবাসা দিয়েছেন। আমি যখনই গাই, যেমনই গাই-- ভেতর থেকে ভালবেসে গাই। তাই তোমরা হাসলেও আমার কিস্যু এসে যায় না।
  • b | ১৭ আগস্ট ২০১৬ ২১:১৪708254
  • ( কোনো কথা নয়।, কোন-ও ক-থ-আ ন-য়। তবে, নিরঞ্জনানন্দ সত্যি দুজন ছিলেন

    https://en.wikipedia.org/wiki/Niranjanananda
    )
  • Ranjan Roy | ১৮ আগস্ট ২০১৬ ১৮:০০708255
  • ২)
    কাল থেকে ক্লাস শুরু হবে। আজকে ক্রিকেট-- গোটা মাঠ জুড়ে।কিছু ডে-স্কলার ছেলেরাও হাজির। চারদিকে অন্ততঃ চার-চারটে ছোট বড় ম্যাচ। একটা নতুন ছেলে টেনিস বলেও ভালই অফ ব্রেক করাচ্ছে; তায় আবার বাঁহাতি--সোনায় সোহাগা।
    এবার রুম অ্যালটমেন্ট একটু অদ্ভূত, অন্ততঃ আমার চোখে।
    আমার গুরু অমিয়দা রুম-ক্যাপ্টেন--কেয়াবাৎ! আর ওঁর ডানহাত-বাঁহাত, প্রশান্ত ও আমি ওর দুপাশের চৌকিতে। দরজার ডানপাশে নিখিলেশ--বাঃ!
    কিন্তু বাঁ-পাশে? মানস! মহারাজদের পুরনো দালাল বা টিকটিকি।

    বিপ্লবের ঠাঁই হয়েছে বিশুদের সঙ্গে, আমাদের থেকে তিনটে রুম পরে।
    কেন?
    আমাকে আর বিপ্লবকে নিয়ে কেউ কিছু মহারাজদের বা ওয়র্ডেনকে বলেছে নাকি? মানস সব পারে। ওকে বিশ্বাস করি না।
    ও কারও বন্ধু হতে পারে না; কিন্তু ও সবসময় মহারাজদের বিশ্বস্ত স্পাই। ও এই করেই আনন্দ পায়। ওকে কি জেনেশুনেই আমাদের রুমে দেওয়া হয়েছে? পরে ভাবব।
    আসলে আমার কিচ্ছু ভাল লাগছে না। দু-এক ওভার বল নিয়ে হাত ঘোরালাম। লেংথের কোন মাথামুন্ডু নেই। নিজের উপর নিজেই খাপ্পা হয়ে বাগানে ঢুকে গোলাপ ও দোপাটির গাছগুলোর পাশ থেকে গোটা তিন ছোট ছোট কাঠি বা কাঠের গোঁজ তুলে নিয়ে ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করলাম।
    মাত্র তিনবছর আগে,-- এইরকম এক শীতের দিনে রামকানাইদা ডাইনিং হলে নোটিস পাঠালেন যে আশ্রমের ব্যান্ডপার্টির পুনর্গঠন হবে। কারণ আগের অনেকে পাশ করে বেরিয়ে গেছে। নতুন ছ'জন ছেলেকে কেটল্‌ আর দুজনকে বিউগল বাজানোর জন্যে নেওয়া হবে।
    আমাদের কুড়িজনের ব্যান্ড। দুজন বড় বিড্‌ ড্রামের জন্যে, আর ছজন বিউগল, তিন-তিন করে দু'সারিতে। আর বারোজন বাজায় কেটলড্রাম-ছয় -ছয় করে দু'লাইনে।
    নোটিসে ছিল সাতদিন শেখা ও প্র্যাকটিসের টাইম, তারপর পরীক্ষা।
    আমি তখন সেভেনে, সোজা গিয়ে রামকানাইদাকে বললাম--আমি শিখতে চাই; কী করতে হবে?
    --- বাগান থেকে দুটো কাঠি তুলে নিয়ে আয়।
    যথা আজ্ঞা।
    উনি দুহাতে ড্রামস্টিকের আলাদা আলাদা গ্রিপ দেখিয়ে বললেন --এই এমনি করে স্ট্রোক দিবি--রাম্‌ পাম্‌, রাম্‌ পাম্‌। রাম্‌ পাম্‌, রাম্‌ পাম্‌।
    -- কই মহারাজ! কোন রাম-পাম শব্দ বেরোচ্ছে না তো?
    -- দূর ক্যাবলা! রাম-পাম শব্দটা নয়, দুটো স্ট্রোকের টেকনিকটা মন দিয়ে দেখ্‌ আর শব্দের ওজনের ফারাকটা দেখ।

    আমি মহানন্দে ঘরে গিয়ে প্র্যাকটিস শুরু করে দিলাম--রাম্‌ পাম্‌, রাম্‌ পাম্‌।সারাদিন।
  • Ranjan Roy | ১৮ আগস্ট ২০১৬ ২১:৫৯708256
  • আমি একা নই, আরো পাঁচজন।
    রাম্‌ পাম্‌, রাম্‌ পাম্‌।
    কিন্তু পরের দিন থেকে কানে তালা লেগে যাওয়ার জোগাড়।
    আরো জনাবিশেক ছেলে ওঁর সঙ্গে দেখা করে গুরুমন্ত্র নিয়ে এসে বাগান থেকে কাঠি তুলে প্র্যাকটিস করছে। ঘরে ঘরে মাথার উপরে বেজে উঠছে--রাম্‌ পাম্‌, রাম্‌ পাম্‌।
    কয়েকটি ছেলে সিনিয়রদের হাতে ঠ্যাঙানি খাওয়ায় অভ্যাসে ভাঁটা পড়ল। তাতে কি!ঢের প্র্যাকটিস হয়েছে।
    কিন্তু পরীক্ষায় ডাহা ফেল!
    রামকানাইদা মাত্র তিনজনকে নিলেন। ওরা সিনিয়রদের থেকে টিপস্‌ ও ড্রামস্টিক নিয়ে রোল বাজিয়ে দিল। আমাদের গাঁইয়া প্র্যাকটিস দাঁড়াতে পারল না।
    বললেন-- হয় নি। আরও প্র্যাকটিস কর।
    আমি রাগ করে একবেলা খাই নি। তারপর অমিয়দাকে ধরে শুরুর গৎ, বড় চেঞ্জ, ছোট চেণ্জ সব তৈরি করে গেলাম। ব্যস্‌।
    উনি চলে গেছেন কয়েকমাস হল। ব্যান্ডপার্টির ঘরে তালা। নতুন মহারাজ কি বিউগল বাজাতে জানেন?
    আমি কাঠি তিনটে হাতে নিয়ে মাটিতে ঠুকে দেখি। তারপর ব্লেড দিয়ে চেঁছে মুখগুলো একটু গোল এবং ক্রমশঃ ছুঁচলো করে ফেলি।
    তারপর টেবিলের উপর ট্রাই করি। রোল করার চেষ্টা করি।
    কী আশ্চর্য! বেজে উঠল-- ড্রিরি-রি-রি-ড্রাঁও-ও-ও!
    চমকে উঠে আবার স্ট্রোক দিই, আবার আবার আবার!
    এর পর ব্যান্ডমাস্টারের স্টিকের ইশারায় সমবেত রেসপন্সের গৎটা বাজাতে চেষ্টা করি।
    --- ঢ্যারার‌্যার‌্যা -- ঢ্যারার‌্যার‌্যা -- ড্রাঁও!
    ঢ্যারার‌্যার‌্যা -- ঢ্যারার‌্যার‌্যা -- ড্রাঁও!
    লিড্‌ ড্রাম বেজে ওঠে-
    ট্যাট্‌ট্যারা--র‌্যাট্‌-ট্যারা--ট্যাট্‌ট্যারা-র‌্যাট্‌ ট্যাট্‌
    ট্যাট্‌ট্যারা--র‌্যাট্‌-ট্যারা--ট্যাট্‌ট্যারা-র‌্যাট্‌ ট্যাট্‌
    ট্যাট্‌ট্যারা--র‌্যাট্‌-ট্যারা--ট্যাট্‌ট্যারা-র‌্যাট্‌ ট্যাট্‌
    ঢ্যারার‌্যার‌্যা -- ঢ্যারার‌্যার‌্যা -- র‌্যাট্‌ ট্যাট্‌-ড্রাঁও!
    নাঃ, কিচ্ছু ভুলি নি।
    ব্যান্ড্‌ থামে না।
    এর পরে ছোট চেঞ্জ, বড় চেঞ্জ, স্টিকের গায়ে স্টিক ঠেকিয়ে তালফেরতা মত, সব একের পর এক হতে থাকে।
    কখন যেন অমিয়দা সমর রবি বিজন সব যে যার স্টিক কাঠি সব নিয়ে এসেছে আর কেটল ড্রাম বাজতে শুরু করেছে পড়ার টেবিলে ও খাটের গায়ে।
    এখন মাঘ মাস। কিন্তু ফাল্গুন-চৈত্র মাসে আশ্রমের ব্যান্ড পার্টি ভাল করে মাঠে নামবে, রিহার্সাল দেবে। পয়লা বৈশাখে মিউনিসিপ্যালিটির মাঠে পুলিশ ব্যান্ডের সঙ্গে টক্কর দেবে। রামকানাইদার নিজের হাতে তৈরি ব্যান্ড--চাট্টিখানি কথা!

    খাওয়ার ঘন্টা বেজে উঠল।
  • Ranjan Roy | ১৯ আগস্ট ২০১৬ ০৭:৪৮708257
  • ৩)
    নতুন মহারাজ এসে গেছেন। না, উনি একা নন। সঙ্গে আরেকজন। আমরা পেয়ে গেলাম বড় ও মেজ মহারাজ--একসঙ্গে। বেশ তো।
    হয়তো আমাদের আশ্রমের ডিসিপ্লিনের দেয়ালে কোথাও ফাটল ধরেছে, তাই।
    মেজ মহারাজ নাকি ইংরেজ আমলে জাঁদরেল পুলিশ অফিসার ছিলেন! চালাকি নয়। এসব উনি নিজেই প্রথম পরিচয়ে এইট ও নাইনের ছেলেদের জানিয়ে দিয়েছেন।
    কিন্তু ওঁরা কেউ হাসেন না। আমরা আশা করেছিলাম যে অনিলদা, মানে আমাদের ছোট মহারাজ, সেক্রেটারি হবেন। কিন্তু উনি সেই ছোটটিই রয়ে গেলেন। গান গাইতে পারেন না, তাই?
    কিন্তু নতুন দুজনকেও তো কোনদিন গাইতে দেখি নি। হ্যাঁ, সবাই কি আর রামকানাইদার মত হতে পারে!
    নাঃ, আমি রামকানাইদাকে ভুলতে চাই। আপনি চলে গেছেন; বেশ হয়েছে। মুখচোরা মলয় বাড়ুরি চলে গেছে। ওকেও ভুলতে শুরু করেছি। আর সেই দিদিমণিটি? ওঁর নামটাও আর মনে পড়ে না।
    কিন্তু নতুন মহারাজেরা কেন যে বারবার রামকানাইদাকে মনে পড়িয়ে দেন! ওঁরা যদি একটু হেসে কথা বলেন তাহলেই রামকানাইদাকে ভোলা অনেক সহজ হয়ে যাবে।
    রোববারের ধর্মক্লাসে বড় ও মেজমহারাজ এলেন। আমরা জেনেছি যে ওদের মহারাজ বলেই সম্বোধন করতে হবে। ওঁরা কখনই আগের ন'দা, রামকানাইদা বা অনিলদার মত সুবিমলদা বা বীরেশদা হবেন না। আমরা ক'দিন অনিলদাকেও মহারাজ বলে ডাকতে শুরু করলাম। উনি গম্ভীর হয়ে গেলেন। তিনদিনের মাথায় বললেন-- প্রদ্যুম্ন, তোমরা আমাকে আগের মতই অনিলদা বলে ডেকো; নইলে কি'রম যেন দূরে ঠেলে দিচ্ছ মনে হয়।
    ধর্মক্লাসে বড় মহারাজ স্বামীজির উপনিষদের গল্প বলে একটা সংকলন থেকে পড়ে শোনাচ্ছিলেন।
    গল্পটা হল--দ! দ! দ!
    আকাশের বজ্রনির্ঘোষে মানবজাতির জন্যে সন্দেশঃ দ! দ! দ!
    মানে দমন কর! দান কর! ইত্যাদি।
    -- কাকে দমন করব মহারাজ, শত্রু কই?
    -- ষড়রিপুকে। সেই তোমার শত্রু, অহরহ তোমাকে ভ্রমিত করছে, ভুলপথে নিয়ে যাচ্ছে।
    --বুঝতে পেরেছি। আমার এক পিসেমশায় আছেন-- তাঁর নাম রিপুদমন রায়।
    --- তোমার পিসেমশায়ের গপ্পো বন্ধ কর; ক্লাসে মন দাও।
    চারদিকে ফিক ফিক করে হাসি শুরু হয়ে গেছে।
    এবার মেজ মহারাজ পড়ে শোনালেন ব্রহ্মজ্ঞানী মদালসার গল্প। সেই পরমাসুন্দরী বিদুষী এবং সংসারে বীতরাগ মহিলা নিজের পুত্রসন্তানের নাম রাখলেন-- অলর্ক; তার মানে পাগলা কুকুর!
    --- এই তুমি উঠে দাঁড়াও! পেছনের লাইনে বাঁদিক থেকে তিননম্বর! কালো ছেলেটি,--তোমাকে বলছি, হাসছ কেন?
    --- মানে, উনি অত জ্ঞানী, কিন্তু নিজের ছেলের নাম রেখেছেন কুকুর, আবার পাগলা কুকুর! তা হলে উনি হলেন কুকুরের মা।
    উঠে দাঁড়িয়েছেন মেজ মহারাজ; ---আমার অফিস থেকে কেউ বেতগাছাটা নিয়ে এস। তোমার এটা শুনে হাসি পেল? এটা কি হাসির গল্প? এটা ধর্মক্লাস!
    ভয়ে গলা শুকিয়ে গেছে। আমতা আমতা করি।
    -- না, মানে ধর্মক্লাসেও তো ভয়ের গল্প, হাসির গল্প সবরকমই হতে পারে ভেবে ছিলাম। স্বামীজি তো হাসতে ভালবাসতেন। বন্ধু গিরীশ ঘোষের সঙ্গে কত ইয়ারকি ফাজলামি করতেন।
    -- কী নাম তোমার?
    --- প্রদ্যুম্ন; ডাকনাম পোদো।
    -- কেন?
    পেছন থেকে সমবেত স্বরে ফিসফিসানি শোনা গেল-- বিচ্ছিরি পাদে বলে।
    হাসির হররা!
    --সাইলেন্স! অল স্পয়েল্ড ব্র্যাটস্‌! এদের কী করে ঢিট্‌ করতে হয় জানা আছে।
    ---- প্রদ্যুম্ন! তোমাঅর নামের মানে জান? তুমি কৃষ্ণের সন্তান। নিজের নামের অপমান কর না। এসব কী হাবিজাবি বকছ? স্বামীজি গিরীশ ঘোষের সঙ্গে ফাজলামি করতেন? কে বলেছে তোমায়?
    -- কেউ বলেনি; বইয়ে পড়েছি।
    -- কী পড়েছ? কিরকম ফাজলামি।
    ওনার গলার স্বর এখন অনেক নরম, স্কেল উদারায় নেমে এসেছে।
    আমি ভরসা পেলাম, এবার ওনাকে আমার ফান্ডা দেখিয়ে ইম্প্রেস করে দেব।
    -- উনি গিরীশ ঘোষকে শালা বলতেন, থিয়েটারে মাগী-নাচানো লোক বলতেন।
    প্রচন্ড শব্দ করে চেয়ারটা পড়ে গেল। আমার দিকে ভারী বুট পায়ে এগিয়ে আসছেন একজন পুলিশ অফিসার। ইংরেজ আমলের। কুতকুতে চোখজোড়া জ্বলছে। ভিড় সরসর করে সরে জায়গা করে দিচ্ছে। এ কী! ওঁর পাকানো মুঠো যে ডাম্বেলের মত।

    বিকেলবেলা বিছানায় শুয়ে গরম দুধ খেতে খেতে বিপ্লবকে বললাম-- উনি কি পুলিশ ক্লাবের বক্সিং চ্যাম্পিয়ন ও ছিলেন? জেনে নিস তো!
  • কুমড়োপটাশ | ১৯ আগস্ট ২০১৬ ১১:২৮708258
  • তারপর?
  • nonRKM | ১৯ আগস্ট ২০১৬ ১১:৪৫708259
  • "রঞ্জনদার মিশন সংক্রান্ত লেখায় (আমার মতে) একটা ঘৃণা বেরিয়ে আসে সমকাম...বিকৃতি ... আশ্রমের পরিবেশে এর ছড়াছড়ি, বা যিনি মিশনের আদর্শ থেকে সরে আসায় বহিষ্কৃত তাঁর সব রকম ডিটেল দিয়ে দেওয়া (বহিষ্কৃত হবার ঘটনাটাকে কেচ্ছা ছাড়া আর কি বলব?)।" -
    অভ্যুর পোস্ট (16 Aug 2016 -- 03:48 PM ) কে দুহাত তুলে সমর্থন। মিশনের প্রাক্তনী নই,RKM এ দীক্ষিত ও নই, তাই কোনো সফ্ট ফিলিং ও নেই, বরং স্কুল লেভেলে ডাইরেক্ট কম্পেটিশন ছিল উক্ত মিশনের সাথে, আবার বন্ধু ও ছিল প্রচুর। আমার ও মনে হয়েছে এটা ফিকশনের নাম দিয়ে ডেলিবারেট কেচ্ছা। তাতে অবশ্য মিশনের কিছু ছেঁড়া যাবে না। কিন্তু কেচ্ছা তো সব প্রতিষ্ঠানেই থাকে তাই না ? তো কোনো "মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানের" কেচ্ছা নিয়ে লেখক নির্মোহ ভঙ্গিতে "ফিকশন" লিখতে পারলে মানবো কলমের জোর।
  • aranya | ১৯ আগস্ট ২০১৬ ২১:০৯708261
  • বহিষ্কৃত হবার ঘটনা-কে কেচ্ছা বলা যাবে কিনা - এটা কিন্তু ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গীর ওপর নির্ভর করবে।

    প্রেম, যৌনতা ইঃ ব্যানড কোন সাবালক মানুষের জন্য - এই নিয়ম-কে আমার অর্থহীন মনে হয়। এর বিরুদ্ধে গিয়ে, কাউকে ভালবেসে রামকানাই-দা মানবিক কাজ করেছেন। মিশন, তার অদ্ভুত, অস্বাভাবিক (আমার চোখে) নিয়ম অনুযায়ী ওনাকে বহিস্কার করেছে, রুলবুক ফলো করে, সে ঠিক আছে। তাতে রামকানাই-দা বা মিশন - কারও কোনও সম্মানহানি হয় না
  • Abhyu | ১৯ আগস্ট ২০১৬ ২১:১৪708262
  • শুধু ওনার বহিষ্কারই নয় হে অরণ্যদা, মিশনের স্কুল মানে হোমোসেক্সের চারণভূমি - এই প্রোপাগ্যাণ্ডাটা নিয়েও কারো কারো আপত্তি ছিল।
  • Abhyu | ১৯ আগস্ট ২০১৬ ২১:১৬708264
  • আর এই কাজটাই রায়গড়ের এক গরীব লোক করেছে আর মিশনের এক মহারাজের ঘরের জানালার ফাঁক দিয়ে কি দেখা গেছে - দুটোর কেচ্ছা ইম্প্যাক্ট এক বলে অরণ্য মনে করেন?
  • aranya | ১৯ আগস্ট ২০১৬ ২১:১৬708263
  • যাদের আপত্তি, তাদের কি হোমোসেক্স ব্যাপার-টা নিয়েও সমস্যা আছে?
  • Abhyu | ১৯ আগস্ট ২০১৬ ২১:১৮708266
  • হোমো সেক্স নিয়ে লেখকের বক্তব্য 13 Aug 2016 -- 10:38 AM পোস্টে একবার কোট করেছি, অরণ্যদা। আবার করতে হবে?
  • aranya | ১৯ আগস্ট ২০১৬ ২১:১৮708265
  • পেডোফিলিয়া ক্রাইম, সেটা ইস্যু হতে পারে।

    সমকামিতা-ও ইস্যু হতে পরে, যদি জোর করে করা হয়। বিসমকামিতা-ও, একই ভাবে, জোর করলে

    কনসেন্চুয়াল হোমোসেক্স ইস্যু কেন?
  • aranya | ১৯ আগস্ট ২০১৬ ২১:২৩708267
  • রায়গড়ের গরীব আর মিশনের মহারাজ - দুজনের ঘরের জানলা দিয়ে দেখা ঘটনার ইম্প্যাক্ট - আমার কাছে এক।
    কোনটাই কেচ্ছা নয়।
    তবে গল্পের ক্ষেত্রে সেই ঘটনার বর্ণনার প্রয়োজন আছে কিনা, সেটা বিচার্য।
    যৌনতা ব্যক্তিগত ব্যাপার। সেটা সাহিত্যে আনব কিনা বা কতটা কিভাবে আনব, তা লেখক ভেবে দেখতে পারেন
  • aranya | ১৯ আগস্ট ২০১৬ ২১:২৪708268
  • না অভ্যু, কিছু কোট করতে হবে না।
    পাঠক এবং মানুষ হিসাবে আমার দৃষ্টিভঙ্গীর কথা বললাম -দ্যাটস অল। এ ব্যাপারে আমার আর কোনও বক্তব্য নেই
  • Abhyu | ১৯ আগস্ট ২০১৬ ২১:২৮708269
  • গল্পের ক্ষেত্রে হয়তো দরকার ছিল না, কিন্তু মিশনের বদনাম করার জন্যে আর গল্পের পাঠক সংখ্যা বাড়ানোর জন্যে ওটা এসেনশিয়াল বলে আমার মনে হয়।
  • Atoz | ১৯ আগস্ট ২০১৬ ২১:৫৫708270
  • একটা স্কুল, আবাসিক, মিশন হোক নন-মিশন হোক, যাই হোক, সেখানে এই ছাত্র শিক্ষক বড়দা ছোটদা ভাই ফাই সবাই মিলে উদ্দাম আমিষ পেরেম করে যাচ্ছে, এরা সব আন্ডার-এজ অনেকেই, ক্লাস নাইনে টেনে পড়া ছেলে। এইটাই হাইলাইট করে দেখানো হচ্ছে, এই পুরো ব্যাপারটা বটতলা লেগেছে। এইটাই বক্তব্য ছিল।
  • sinfaut | ১৯ আগস্ট ২০১৬ ২২:০৫708272
  • হোমো হেটেরো এসব নিয়ে মাথাব্যথা নাই। রঞ্জনদার লেখায় যে বিবরণগুলো পড়লে সব থেকে বেশি ইম্প্যাক্ট ফেলে সেটা বড়দা, মেজদা, সেজদা, ক্যাপ্টেন, এরকম অজস্র হায়ারার্কি, আর যখন তখন ছোটদের ক্যাল খেয়ে যাওয়ার বা যেকোন ভাবে অত্যাচারিত হওয়ার সম্ভাবনা। তার মানে এটা আদৌ বলছিনা, মিশনে অন্য আবাসিক স্কুলের থেকে এই সম্ভাবনা বেশি। বা এটাও বলছিনা, মিশন টাইপের হায়ারার্কি বেসড ও আবাসিক স্কুলে সেটা খুব অস্বাভাবিক। শুধু ঐ হোস্টেল ঢোকার প্রথম ২ ৩ বছরে বাচ্চাগুলোর নিদারূন মানসিক কিংবা কপালে থাকলে শারীরিক টর্চারের স্মৃতিগুলো বড় চাপের।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভালবেসে মতামত দিন