এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ব্লগ

  • ব্যোমকেশ, ফেলুদা ও মগজাস্ত্র

    শারদ্বত লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ০৩ মে ২০১৬ | ২৫১৩১ বার পঠিত
  • সত্যজিৎকে নিয়ে আমরা কথা বলতে ভালোবাসি। আমরা খুবই সামান্য মানুষ। উচ্চাকাঙ্ক্ষা-স্বপ্ন-পরিশ্রম-লক্ষ্য সবই ছোটমাপের করে গড়ে নিই আমরা, তাই চারপাশে কেউ একটা অসাধ্য-সাধন করে বসলে আমরা তাঁর মতো হওয়ার পরিশ্রম না করে পুজো করতে শুরু করে দিই তাঁকে। শর্টকাট। কিন্তু এই পোস্ট সেজন্য নয়, সেই পুজো-সমালোচনার বাইরে কয়েকটা কথা বলতে ইচ্ছে হল। যাদবপুরে শেষ সেমেস্টারে স্পেশাল পেপার ছিল 'গোয়েন্দা-সাহিত্য'। সেই ক্লাসগুলোয় আমরা কিছু আলোচনা করতাম শম্পাদি-কাফিদার সঙ্গে। সেই সময়ের আলোচনা আর নিজস্ব চিন্তা থেকে তুলে আনা কিছু কথা আজকে প্রাসঙ্গিক হতে পারে।

    আমরা সবাই রাজনৈতিক। আমাদের প্রতিটি আচরণের, প্রতিটি কথার, প্রতিটি চুপ করে থাকার একটা করে রাজনৈতিক অবস্থান আছে। আমাদের সাহিত্যও, রাজনৈতিক উপন্যাস থেকে ননসেন্স ভার্স, সবকিছুরই একটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকে, সাহিত্যের পাঠকরা সেটা জানি। বাংলা সাহিত্যের সেরা দুই গোয়েন্দা চরিত্রের মধ্যে আমরা যদি রাজনীতি খুঁজতে থাকি, অনেক মণিমুক্তোই বেরোবে, অস্বস্তিও।

    আমার ব্যোমকেশকে ফেলুদার চেয়ে ঢের বেশি ভালো লাগে, তাকে মনে হয় অনেক বেশি পরিণত, শাণিত, মার্জিত। অন্যদিকে ফেলুদা টিন আইডল। টিন-এজ পেরনোর পর তাই বোধহয় ফেলুদা আর পাতে ওঠে না পাঠকের। ব্যোমকেশের কিন্তু এই বয়েসের বাধাটা নেই। সত্যজিৎ যখন ফেলুদা লিখতে শুরু করছেন, তখন বাজার ছেয়ে আছে দেব-সাহিত্য-কুটীর-সিরিজে-স্বপনকুমারে। এই ধরণের বইগুলোয় গোয়েন্দার বুদ্ধিবৃত্তির চেয়ে টিন এজারদের মনোরঞ্জনের উপাদান রাখার গুরুত্বটাই বেশি ছিল। ফলে আজগুবি কাহিনি আর সস্তা চমকে বোঝাই ছিল। সেকালের বাবা-মায়েরা 'ডিটেকটিভ বই' পড়তে দেখলে সেজন্যই চটে যেতেন। শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়কেও ব্যোমকেশ লেখার সময় এরকম প্রতিকূল পরিস্থিতি সামলাতে হয়েছিল। ডিটেকটিভ সাহিত্য সম্পর্কে পাঠকদের নাক সিঁটকানো দেখে তিনি লিখেছিলেন, '... আমাদের দেশে উহার প্রতি সাধারণের এত অশ্রদ্ধা কেন? প্রথম কারণ, যাঁহারা এদেশে সর্বাগ্রে গোয়েন্দা গল্প লিখিতে আরম্ভ করিয়াছিলেন তাঁহাদের অক্ষমতা। তাঁহারা গোড়াতেই জিনিসটাকে খেলো করিয়া দিয়া গিয়াছেন। ... ডিটেকটিভ গল্প যেন অন্ত্যজের ঘরেই জন্মগ্রহণ করিয়াছে, তাই বর্ণশ্রেষ্ঠদের কাছে হেয় ও অবজ্ঞাত হইয়া রহিল। ইহা ডিটেকটিভ গল্পের দোষ নহে- দোষ তাহার জন্মদাতাদের। দ্বিতীয় কারণ, বিদেশ হইতে তৃতীয় শ্রেণির ডিটেকটিভ গল্পের আমদানী...'

    সত্যজিতের সময়ে এই শ্রেণির সাহিত্য বাজার ছেয়ে ফেলেছে। সেসময় ফেলুদার কৌলীন্য বজায় রাখা হয়েছিল 'দেশ' পত্রিকায় প্রকাশ করে। আজকের দিনে প্রকাশিত হলে আমরা ব্যোমকেশকে 'দেশ'এর পাতায় দেখতে পেতাম, ফেলুদাকে কিন্তু 'আনন্দমেলা'র বাইরে ভাবাই যেত না। এসব কথা থাক, দু'একটা ঘটনা বা পরিস্থিতি উল্লেখ করলে এই লেখকদ্বয়ের জিনিয়াস আন্দাজ করতে পারি আমরা...

    ব্যোমকেশ বল্লভভাই প্যাটেলের অনুরোধে একটি কেস সলভ করতে যায় দিল্লিতে। এই উল্লেখ থেকে শরদিন্দুর রাজনৈতিক অবস্থানটা স্পষ্ট ধরা যায় বটে, কিন্তু আরো মজা আছে 'আদিম রিপু'তে। গল্পটা আমরা পড়েছি, বা না পড়ে থাকলেও অঞ্জন দত্তর ফিল্মটা দেখেছি। যদিও ফিল্মের সময়টা এগিয়ে যাওয়ায় এই সূক্ষ্ম দিকটা মাঠে মারা গেছে।

    'আদিম রিপু'র শেষ দিকটা মনে করা যাক। অনাদি হালদারকে খুন করা সত্ত্বেও ব্যোমকেশ প্রভাত হালদারকে পিতৃপরিচয় জানার শাস্তি দিয়েই ছেড়ে দ্যায়। ছেড়ে দেওয়ার আরেকটা কারণ, সেদিন ভারতের স্বাধীনতা পাওয়ার দিনটা। এই ঘটনা-কাল-রাজনৈতিক পরিস্থিতির পেছনে আরেকটা সূক্ষ্ম দিক আছে। অনাদি হালদার একজন ডাকাত-পিতৃহন্তার পাশাপাশি একজন কালোবাজারিও ছিল। যুদ্ধ ও দুর্ভিক্ষের সময় কালোবাজারির মাধ্যমেই সে বিপুল সম্পত্তির অধিকারী হয়েছিল, তাকে মারার জন্য প্রভাতের কোনো শাস্তিই হল না... পাঠকের মনে আছে, নেহরুর সেই বিখ্যাত লাইন, 'স্বাধীনতার পর প্রত্যেক কালোবাজারিকে ল্যাম্পপোস্টে ফাঁসি দেওয়া হবে!' সেই লাইনটা মনে রেখে আরেকবার 'আদিম রিপু' পড়ে ফেলুন।

    সত্যজিতের প্রথমদিকের উপন্যাসে লালমোহনবাবুর অস্তিত্ব নেই। সোনার কেল্লায় তাঁকে প্রথম দেখি আমরা। তার আগে ফেলুদার কাহিনিগুলো উপভোগ্য হলেও মজার হয়ে ওঠেনি সেরকম। লালমোহনবাবু আসার পর ফেলুদা সিরিজ সব বয়েসের সমস্ত পাঠকের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ফিল্ম হওয়ার পর থেকে বাকিটা ইতিহাস। এবার লালমোহনবাবু চরিত্রটাকে যদি আমরা একটু খুঁটিয়ে দেখি, দেখতে পাব, আদ্যন্ত সাধাসিধে, বোকাবোকা প্রশ্ন করেন, ভাবেন কম, অথবা, যেটুকু ভাবেন তা ভুল ভাবেন। অথচ এই চরিত্রটা একজন বেস্টসেলার কিশোর উপন্যাস রচয়িতা, যাঁর নায়ক প্রখর রুদ্র, উপন্যাসগুলোর নাম যতটা না সত্যিকারের, তার চেয়ে ঢের বেশি প্যারডি, যাঁর কাহিনিতে উটেরা পাকস্থলীতে জল নিয়ে মরুভূমি পাড়ি দ্যায়। বুদ্ধিমান ফেলু মিত্তির তাঁকে কথায় কথায় অপদস্থ করেন, তিনি এতটাই সরল (পড়ুন বোকা) যে সেটাও ধরতে পারেন না।

    খুব সূক্ষ্মভাবে এখানে সত্যজিৎ অন্যান্য বেস্টসেলার কিশোর রচয়িতাদের কী ভাবতেন, তার ছায়া পড়ে। ফেলুদা তো সত্যজিতেরই প্রতিভূ। ভাবুন দেখি, যাকে পরাজিত (মগজাস্ত্র ও বাজার, দু'জায়গাতেই) করতে চাইছেন, তাকে নিজেরই সিরিজে একটা কমিক চরিত্র বানিয়ে তাকে ক্ষণে ক্ষণে অপদস্থ করা, পাঠকের কাছে একইসঙ্গে হাস্যাস্পদ আর জনপ্রিয় করে তোলা, পাঠকের মনে এই লেখকদের সম্পর্কে একটা স্থায়ী তাচ্ছিল্যের বীজ পুঁতে দেওয়া- এই সবকটা পাখি একঢিলে মারতে হলে, কীরকম জিনিয়াস হতে হয়। এঁকে বাকিরা প্রণাম করুন গে, আমি বরং বলি, 'আয় তোর মুন্ডুটা দেখি, আয় দেখি “ফুটোস্কোপ” দিয়ে'।

    মগজাস্ত্রকে সেলাম।
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ব্লগ | ০৩ মে ২০১৬ | ২৫১৩১ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • সে | ০৪ মে ২০১৬ ০৭:২৮54278
  • আমি বোধহয় রসভঙ্গ করছি। আপনারা আলোচনা করুন। আসল আলোচনা থেকে সরে যাচ্ছি। তবে তিতাস একটি ফেলুদা লিখে ফেললে পাঠক নিশ্চয় পড়বে।
    টা টা।
  • cb | ০৪ মে ২০১৬ ০৭:৩১54279
  • T মাইরি রাত ৩ ৩০ এর সময় লিখে চলেছে, তবে ভাল লিখছে :-)
  • T | ০৪ মে ২০১৬ ০৭:৩২54280
  • নোপ, তিতাস ফেলুদা লিখবে না। সে বেসিক্যালি একটি ফোর্জার। তাকে দিয়ে নকল হলেও হতে পারে কিন্তু সে নকল একবার আধচোখে দেখেই বোঝা যাবে। তার মুরোদ নাই।
  • Arpan | ০৪ মে ২০১৬ ০৭:৩২54179
  • ঘাসের চটি নিয়ে এত উলুতপ্লুত হবার কী আছে? সাবাই ঘাসের ঝুড়ি, ব্যাগ এসব দেখোনি? ঐ দিয়েই বানানো চটি। হাতে সময় আর পকেটে অঢেল পয়সা থাকলে লোকের এসব শখ জন্মায়।
  • সে | ০৪ মে ২০১৬ ০৭:৩৬54281
  • আহা, তা কেন? লিখেছেন বললেন যে। এবার মুসলিম চরিত্র ঢুকিয়ে দিন বা সমকামী, জমে যাবে। ( সরি, টুক করে ভাটিয়ালি পড়ে ফেলেছি ;-)))
  • T | ০৪ মে ২০১৬ ০৭:৩৭54282
  • লিখেছি বলিনি তো, লেখার চেষ্টা করেছি। হয় নি, সিম্পল। সেই জন্যই তো ছকটা জানতে চাইছিলাম। তা পাওয়া গেল ঢ্যাঁড়শ।
  • Atoz | ০৪ মে ২০১৬ ০৭:৩৮54283
  • ছি ছি কোন দুঃখে ফেল্টু ফেলুদা লিখতে যাবেন? লিখবেন, "ক্যাপ্টেন ব্যোম", মারকাটারি জিনিস।
    ঃ-)
  • T | ০৪ মে ২০১৬ ০৭:৩৯54284
  • তারও কি ছক আছে?
  • lcm | ০৪ মে ২০১৬ ০৭:৩৯54180
  • আর ঘাসের চটি ছিঁড়ে গেলে রিসাইক্‌ল্‌ করা সহজ, গরুকে দিয়ে দিলেই হল।
  • ঊমেশ | ০৪ মে ২০১৬ ০৭:৪১54181
  • এমনকি সৃজিত এর অটোগ্রাফ দেখলেও মনে হয় ওটা ছবি বিশ্বাস-ই ছিল।

    কিন্তু আমি কোথাও যেন পড়েছিলাম, সত্যজিৎ এর দেখা সেরা অভিনেতা ছবি বিশ্বাস। আর সত্যজিৎ এর আক্ষেপ ছিলো, ছবি বিশ্বাস কে খুব বেশী ছবিতে ব্যবহার করতে পারিনি বলে।
    কোনটা যে সত্যি বোঝা মুস্কিল।

    তবে জটায়ু/সুনীল কেসটা আমার হজম হলো না।
    এতো বড়ো একটা গসিপ এতোদিন চাপা পরে আছে!!
  • Atoz | ০৪ মে ২০১৬ ০৭:৪২54285
  • মাসুদ রানা সিরিজ কেউ পড়েছেন?
    ঃ-)
  • avi | ০৪ মে ২০১৬ ০৭:৪৭54286
  • হ্যাঁ, ভালো লাগে নি। জেমস বন্ড ঘরানা মনে হত।
  • Atoz | ০৪ মে ২০১৬ ০৭:৫০54287
  • হুঁ, বন্ডের নকল, ঘোষণা দিয়েই। ওদিককার পাঠকরা বলেন।
  • lcm | ০৪ মে ২০১৬ ০৮:১৬54182
  • উমেশ ঠিক কইসে। কাঞ্চনজঙ্ঘা রিলিজ হল ১৯৬২ তে। সে বছরই ছবি বিশ্বাস মারা গেলেন। নইলে আরো হত হয়ত।

    গল্পে একটি লেখক চরিত্র রেখে তা নিয়ে মশ্‌করা করা, এই সেল্ফ-মকারি, এটা তো একটা স্টাইল। অনেক লেখকই করেন। সত্যজিত-এর জটায়ু, শরদিন্দুর অজিত, কনান ডয়েলের ওয়াটসন (ডাক্তার লেখক)... ...
  • Arpan | ০৪ মে ২০১৬ ০৮:২৯54183
  • না না, দাবিটা হল লেখকই কেন? আর লেখক হলেও কিশোর রোমাঞ্চকাহিনীর লেখক কেন?
  • Arpan | ০৪ মে ২০১৬ ০৮:৩৬54184
  • আর অজিত, ওয়াটসন ইত্যাদিদের আঙ্গে প্রতিতুলনায় আসতে পারে তোপসে। গোয়েন্দার হেঞ্চম্যান তথা কাহিনীর সূত্রধর হিসেবে।
  • d | ০৪ মে ২০১৬ ০৯:০৪54185
  • ল্যাদোশের 13:46এ আরেকটা যোগ করি 'মহেঞ্জোদড়ো'তে সৈকত বন্দ্যো।
    সেটা অবশ্য গোয়েন্দা গল্প নয়।
  • d | ০৪ মে ২০১৬ ০৯:০৫54186
  • কিন্তু শুকনো ঘাসের চটি গরুতে খাবে না।
  • de | ০৪ মে ২০১৬ ০৯:১১54187
  • ফেলুদা ছাড়া আর কি ত্রিভুজ গোয়েন্দা গপ্পো আছে? বেশীর ভাগই তো দ্বিভুজ।

    অবিশ্যি জয়ন্ত-মানিকের সুন্দরবাবুকে যদি ধরি তাহলে আরো আছে -

    সাবাই ঘাস দেখি নাই ঃ(
  • souvik | ০৪ মে ২০১৬ ০৯:১৪54188
  • ছবি বিশ্বাস মারা যাবার পর সত্যজিত ওনাকে নিয়ে যে লেখাটা লিখেচিলেন সেটা পড়ে খুব সশ্রদ্ধ মুল্যায়ন বলে মনে হয়েচিলো।খুবি আক্ষেপ করেছিলেন জে ঐ ধরনের জমিদার বয় অভিজাত বনেদি চরিত্র করার আর লোক রইলো না।আর নায়কে তো মনে হয়েছিলো উনি এই ম্যাটিনী আইডল এর জনপ্রিয়তা আসলে কতদুর অন্তসারশুন্য সেইটা দেখাতে চেয়েছেন।
  • PM | ০৪ মে ২০১৬ ০৯:১৫54189
  • কিরিটির গল্পের ভাষাও কিরকম বোকা বোকা (অতি চালাক?), দুর্বল লাগতো। প্লট তো ছেড়েই দিলাম। ব্যোমকেশের সাথে কোনোভাবেই তুলনীয় নয়
  • avi | ০৪ মে ২০১৬ ০৯:১৬54190
  • ব্যক্তিগত অভিমত, অরণ্যের দিনরাত্রি প্রথমে সিনেমা হিসেবে দেখি। খুব ভালো লাগে। বেশ কিছু পরে সুনীলের উপন্যাস পড়ি। তার পরে যখন আবার সিনেমাটা দেখি, বুঝি যে গল্পের তার একেবারে আলাদা ছিল, সেই তার সিনেমায় আসে নি। এর পরে জেনেছি যে সুনীলের এই ছবি পছন্দ হয় নি।
    কিশোরপদবাচ্য সেরা গোয়েন্দা হল পাণ্ডব গোয়েন্দা। ক্ষি দারুণ! মিত্তিরদের বাগানে আসা সুন্দরী ও 'দারুণ স্মার্ট' মেয়ে থেকে শুরু করে শেষ দৃশ্যে ঝাঁকে ঝাঁকে আসা পুলিশ বা মিলিটারির মাঝে পঞ্চুর ভৌ অব্দি প্রতিটি গল্প কি নিখুঁতভাবে এক সুরে বাঁধা হত, আহা। মাঝে দফায় দফায় অপহরণ, ভিলেনের হিন্দি ভাষণ, এন্তার বেওয়ারিশ স্কুটার - সে এক অসাধারণ ফর্মুলা। কবে যেন শুনলাম মৈনাক ভৌমিক পাণ্ডব গোয়েন্দা সিনেমা করবেন। অধীর আগ্রহে বসে আছি। একে রাম, তায় সুগ্রীব। অহো।
  • উমেশ | ০৪ মে ২০১৬ ০৯:২২54191
  • আর একটা ত্রিভুজ হলো "কাঁটা সিরিজ"
    তবে ওখানে কাউকে বোকা দেখানো হয়নি।
    আমার এখনো অরিজিনাল ভারশন গুলো পড়া হয়ে উঠেনি। পড়তে হবে।

    পান্ডব গোয়েন্দা তো আবার "এনিড ব্লাইটন" থেকে কপি।
  • avi | ০৪ মে ২০১৬ ০৯:২৬54192
  • ব্যোমকেশের গল্পগুলো এখন পড়লে অন্য একটা খটকা লাগে। এগুলো অনন্য ছিল হত্যার অনন্য ধরনেও। পথের কাঁটা, চোরাবালি, অর্থমনর্থম, অগ্নিবাণ, দূর্গরহস্য, চিড়িয়াখানা, বহ্নিপতঙ্গ, খুঁজি খুঁজি নারি, শজারুর কাঁটা - অনেক উদাহরণ। এখন এর অনেকটাই ত্রুটিপূর্ণ লাগে। মানে, হয় এগুলো নামানো খুব চাপ, বা হত্যাকারীর পক্ষে ভীষণ রিস্কি। কয়েকটা আদৌ সম্ভব কিনা, সেটাও মনে হয়। কয়েকটা আবার রীতিমতো স্কিল না থাকলে করা সম্ভব না, অথচ এখানে জনতা একবার শুনে বা পড়েই করে ফেলছে।
  • উমেশ | ০৪ মে ২০১৬ ০৯:২৭54193
  • ক দিন আগেই সুনিল গাংগুলী'র একটা পুরোনো ইন্টারভিউ পড়ছিলাম।
    তাতেই বলছে, সত্যজিৎ এর বড়ো হওয়ার পরিবেশ বা বন্ধুমহল ছিলো একদম আলাদা।
    তাই কোনোদিনই সত্যজিৎ এর পক্ষে সুনীল গাংগুলী'র বোহেমিয়ান দৃষ্টি থেকে "অরন্যে দিন রাত্রি" বোঝা সম্ভব ছিলো না।
  • Arpan | ০৪ মে ২০১৬ ০৯:৩৩54194
  • উফ, এই ইন্টারনেট যুগেও ...

    গুগল করলেই ছবি দেবে।
  • Kaju | ০৪ মে ২০১৬ ০৯:৩৪54196
  • ব্যোমকেশের একটা ব্যাপার ঠিক মানতে পারি না। খুব সামান্য একটা ক্লু থেকে অনুমান করে সব পুঙ্খাপুঙ্খ ধরে ফেলা আর সবশেষে কী ঘটেছিল গড়গড় করে বলে যাওয়া, যে দিব্যদৃষ্টিতে সব দেখেছেন, এত অব্যর্থ অনুমান হয় নাকি?

    এটা ফেলুদায় একদম নেই। ঠিক যে ক্লু থেকে যে যে রাস্তা ধরে অপরাধীকে শনাক্ত করা যাওয়া উচিত, স্টেপ বাই স্টেপ সেই আইডেন্টিফিকেশন। শেষে কোনো 'কিন্তু' থাকবে না মনে। আমাদের চত্ববেলায় স্টেপ জাম্পে নম্বর কেটে নিত অঙ্কে, এখানেই বা ছাড়ব কেন?

    প্লাস উইট, পাজল, হেঁয়ালি, কথার জাগলারি আর ছোট ছোট জানার জিনিস ছড়িয়ে যাওয়া, যেগুলো আজও গুগল করে ডিটেলসে জানি, হিন্টটুকু না পেলে কি জানার ইচ্ছেটাও হত? এইখানেই ফেলুদা একটু বেশি প্রিয়। যাকে আইডল করে বড় হওয়া যায়, আর হলে ভালোই হয়।
  • d | ০৪ মে ২০১৬ ০৯:৩৪54195
  • এইরে! এইবারে সেই দেবযান টাইপের বোকা বোকা ব্যপারগুলো আসতে থাকবে। আগেভাগে গোটা গোটা করে ডিসক্লেইমার দিয়ে যাই।
    আমি কিরীটিকে কারো সাথে তুলনা করাই নি। ভাল মন্দ কিস্যুই না। আমি নিজে প্রচুর পড়েছি আরো অনেক কিছুও প্রচুর পড়েছি। আগেই বলেছি ফেলুদাও আমার কিসু সাংঘাতিক ভাল লাগত না। ব্যোমকেশও রেসিস্ত আর সেক্সিস্ট কনোটেশানগুলো চিনতে শুরু করার পরে থেকেই সো-সো।

    কিরীটির কথা এসেছে বাদশাহী আংটি পুর্ব বা সমসাময়িক আর কোন গোয়েন্দারা জনপ্রিয় ছিল সেই সম্পর্কে।
    ব্যসস
  • Kaju | ০৪ মে ২০১৬ ০৯:৩৬54197
  • হ্যাঁ ব্যোমকেশের খুন বা মূল ঘটনায় একটা নতুন টেকনিকাল আইডিয়া দেয়ার চেষ্টা আছে - সেটা বেশ লাগে, তবে সম্ভব কিনা সে প্রশ্ন অনেক ক্ষেত্রে, যেটা অভি বলেছে।
  • avi | ০৪ মে ২০১৬ ১০:০৬54198
  • লজিক্যাল অনুমান তো ব্যোমকেশের প্রিয় ব্যসন ছিল, পথের কাঁটার প্রথমেই এই নিয়ে লম্বা বক্তৃতা আছে। সারকামস্ট্যান্সিয়াল এভিডেন্সকে গুরুত্ব দিতেন। কিন্তু লজিক্যাল স্টেপ জাম্পের উদাহরণ ঠিক মনে পড়ছে না। মানে, এটা আমার খটকা জাগে নি খুব একটা। একটু উদাহরণ দিয়ে ধরিয়ে দিলে খুব ভালো লাগবে।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঠিক অথবা ভুল প্রতিক্রিয়া দিন