এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ব্লগ

  • ব্যোমকেশ, ফেলুদা ও মগজাস্ত্র

    শারদ্বত লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ০৩ মে ২০১৬ | ২৫০৬৫ বার পঠিত
  • সত্যজিৎকে নিয়ে আমরা কথা বলতে ভালোবাসি। আমরা খুবই সামান্য মানুষ। উচ্চাকাঙ্ক্ষা-স্বপ্ন-পরিশ্রম-লক্ষ্য সবই ছোটমাপের করে গড়ে নিই আমরা, তাই চারপাশে কেউ একটা অসাধ্য-সাধন করে বসলে আমরা তাঁর মতো হওয়ার পরিশ্রম না করে পুজো করতে শুরু করে দিই তাঁকে। শর্টকাট। কিন্তু এই পোস্ট সেজন্য নয়, সেই পুজো-সমালোচনার বাইরে কয়েকটা কথা বলতে ইচ্ছে হল। যাদবপুরে শেষ সেমেস্টারে স্পেশাল পেপার ছিল 'গোয়েন্দা-সাহিত্য'। সেই ক্লাসগুলোয় আমরা কিছু আলোচনা করতাম শম্পাদি-কাফিদার সঙ্গে। সেই সময়ের আলোচনা আর নিজস্ব চিন্তা থেকে তুলে আনা কিছু কথা আজকে প্রাসঙ্গিক হতে পারে।

    আমরা সবাই রাজনৈতিক। আমাদের প্রতিটি আচরণের, প্রতিটি কথার, প্রতিটি চুপ করে থাকার একটা করে রাজনৈতিক অবস্থান আছে। আমাদের সাহিত্যও, রাজনৈতিক উপন্যাস থেকে ননসেন্স ভার্স, সবকিছুরই একটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকে, সাহিত্যের পাঠকরা সেটা জানি। বাংলা সাহিত্যের সেরা দুই গোয়েন্দা চরিত্রের মধ্যে আমরা যদি রাজনীতি খুঁজতে থাকি, অনেক মণিমুক্তোই বেরোবে, অস্বস্তিও।

    আমার ব্যোমকেশকে ফেলুদার চেয়ে ঢের বেশি ভালো লাগে, তাকে মনে হয় অনেক বেশি পরিণত, শাণিত, মার্জিত। অন্যদিকে ফেলুদা টিন আইডল। টিন-এজ পেরনোর পর তাই বোধহয় ফেলুদা আর পাতে ওঠে না পাঠকের। ব্যোমকেশের কিন্তু এই বয়েসের বাধাটা নেই। সত্যজিৎ যখন ফেলুদা লিখতে শুরু করছেন, তখন বাজার ছেয়ে আছে দেব-সাহিত্য-কুটীর-সিরিজে-স্বপনকুমারে। এই ধরণের বইগুলোয় গোয়েন্দার বুদ্ধিবৃত্তির চেয়ে টিন এজারদের মনোরঞ্জনের উপাদান রাখার গুরুত্বটাই বেশি ছিল। ফলে আজগুবি কাহিনি আর সস্তা চমকে বোঝাই ছিল। সেকালের বাবা-মায়েরা 'ডিটেকটিভ বই' পড়তে দেখলে সেজন্যই চটে যেতেন। শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়কেও ব্যোমকেশ লেখার সময় এরকম প্রতিকূল পরিস্থিতি সামলাতে হয়েছিল। ডিটেকটিভ সাহিত্য সম্পর্কে পাঠকদের নাক সিঁটকানো দেখে তিনি লিখেছিলেন, '... আমাদের দেশে উহার প্রতি সাধারণের এত অশ্রদ্ধা কেন? প্রথম কারণ, যাঁহারা এদেশে সর্বাগ্রে গোয়েন্দা গল্প লিখিতে আরম্ভ করিয়াছিলেন তাঁহাদের অক্ষমতা। তাঁহারা গোড়াতেই জিনিসটাকে খেলো করিয়া দিয়া গিয়াছেন। ... ডিটেকটিভ গল্প যেন অন্ত্যজের ঘরেই জন্মগ্রহণ করিয়াছে, তাই বর্ণশ্রেষ্ঠদের কাছে হেয় ও অবজ্ঞাত হইয়া রহিল। ইহা ডিটেকটিভ গল্পের দোষ নহে- দোষ তাহার জন্মদাতাদের। দ্বিতীয় কারণ, বিদেশ হইতে তৃতীয় শ্রেণির ডিটেকটিভ গল্পের আমদানী...'

    সত্যজিতের সময়ে এই শ্রেণির সাহিত্য বাজার ছেয়ে ফেলেছে। সেসময় ফেলুদার কৌলীন্য বজায় রাখা হয়েছিল 'দেশ' পত্রিকায় প্রকাশ করে। আজকের দিনে প্রকাশিত হলে আমরা ব্যোমকেশকে 'দেশ'এর পাতায় দেখতে পেতাম, ফেলুদাকে কিন্তু 'আনন্দমেলা'র বাইরে ভাবাই যেত না। এসব কথা থাক, দু'একটা ঘটনা বা পরিস্থিতি উল্লেখ করলে এই লেখকদ্বয়ের জিনিয়াস আন্দাজ করতে পারি আমরা...

    ব্যোমকেশ বল্লভভাই প্যাটেলের অনুরোধে একটি কেস সলভ করতে যায় দিল্লিতে। এই উল্লেখ থেকে শরদিন্দুর রাজনৈতিক অবস্থানটা স্পষ্ট ধরা যায় বটে, কিন্তু আরো মজা আছে 'আদিম রিপু'তে। গল্পটা আমরা পড়েছি, বা না পড়ে থাকলেও অঞ্জন দত্তর ফিল্মটা দেখেছি। যদিও ফিল্মের সময়টা এগিয়ে যাওয়ায় এই সূক্ষ্ম দিকটা মাঠে মারা গেছে।

    'আদিম রিপু'র শেষ দিকটা মনে করা যাক। অনাদি হালদারকে খুন করা সত্ত্বেও ব্যোমকেশ প্রভাত হালদারকে পিতৃপরিচয় জানার শাস্তি দিয়েই ছেড়ে দ্যায়। ছেড়ে দেওয়ার আরেকটা কারণ, সেদিন ভারতের স্বাধীনতা পাওয়ার দিনটা। এই ঘটনা-কাল-রাজনৈতিক পরিস্থিতির পেছনে আরেকটা সূক্ষ্ম দিক আছে। অনাদি হালদার একজন ডাকাত-পিতৃহন্তার পাশাপাশি একজন কালোবাজারিও ছিল। যুদ্ধ ও দুর্ভিক্ষের সময় কালোবাজারির মাধ্যমেই সে বিপুল সম্পত্তির অধিকারী হয়েছিল, তাকে মারার জন্য প্রভাতের কোনো শাস্তিই হল না... পাঠকের মনে আছে, নেহরুর সেই বিখ্যাত লাইন, 'স্বাধীনতার পর প্রত্যেক কালোবাজারিকে ল্যাম্পপোস্টে ফাঁসি দেওয়া হবে!' সেই লাইনটা মনে রেখে আরেকবার 'আদিম রিপু' পড়ে ফেলুন।

    সত্যজিতের প্রথমদিকের উপন্যাসে লালমোহনবাবুর অস্তিত্ব নেই। সোনার কেল্লায় তাঁকে প্রথম দেখি আমরা। তার আগে ফেলুদার কাহিনিগুলো উপভোগ্য হলেও মজার হয়ে ওঠেনি সেরকম। লালমোহনবাবু আসার পর ফেলুদা সিরিজ সব বয়েসের সমস্ত পাঠকের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ফিল্ম হওয়ার পর থেকে বাকিটা ইতিহাস। এবার লালমোহনবাবু চরিত্রটাকে যদি আমরা একটু খুঁটিয়ে দেখি, দেখতে পাব, আদ্যন্ত সাধাসিধে, বোকাবোকা প্রশ্ন করেন, ভাবেন কম, অথবা, যেটুকু ভাবেন তা ভুল ভাবেন। অথচ এই চরিত্রটা একজন বেস্টসেলার কিশোর উপন্যাস রচয়িতা, যাঁর নায়ক প্রখর রুদ্র, উপন্যাসগুলোর নাম যতটা না সত্যিকারের, তার চেয়ে ঢের বেশি প্যারডি, যাঁর কাহিনিতে উটেরা পাকস্থলীতে জল নিয়ে মরুভূমি পাড়ি দ্যায়। বুদ্ধিমান ফেলু মিত্তির তাঁকে কথায় কথায় অপদস্থ করেন, তিনি এতটাই সরল (পড়ুন বোকা) যে সেটাও ধরতে পারেন না।

    খুব সূক্ষ্মভাবে এখানে সত্যজিৎ অন্যান্য বেস্টসেলার কিশোর রচয়িতাদের কী ভাবতেন, তার ছায়া পড়ে। ফেলুদা তো সত্যজিতেরই প্রতিভূ। ভাবুন দেখি, যাকে পরাজিত (মগজাস্ত্র ও বাজার, দু'জায়গাতেই) করতে চাইছেন, তাকে নিজেরই সিরিজে একটা কমিক চরিত্র বানিয়ে তাকে ক্ষণে ক্ষণে অপদস্থ করা, পাঠকের কাছে একইসঙ্গে হাস্যাস্পদ আর জনপ্রিয় করে তোলা, পাঠকের মনে এই লেখকদের সম্পর্কে একটা স্থায়ী তাচ্ছিল্যের বীজ পুঁতে দেওয়া- এই সবকটা পাখি একঢিলে মারতে হলে, কীরকম জিনিয়াস হতে হয়। এঁকে বাকিরা প্রণাম করুন গে, আমি বরং বলি, 'আয় তোর মুন্ডুটা দেখি, আয় দেখি “ফুটোস্কোপ” দিয়ে'।

    মগজাস্ত্রকে সেলাম।
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ব্লগ | ০৩ মে ২০১৬ | ২৫০৬৫ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • pi | ০৫ মে ২০১৬ ০৪:২৪54322
  • হ্যাঁ, টি, এটা আরো বাড়ুক। ভাল লাগছে পড়তে।
  • আমি | ০৫ মে ২০১৬ ০৪:৪৫54323
  • মতামত পড়ে জাস্ট হাঁ হুব্বা হতভম্ব হয়ে পড়লাম। লোকে সিঙ্গল ডিজিট বা সদ্য ডাবল ডিজিট বয়েসে এত কিছু ভাবত? রিলেট করা? কলকাতার আবর্জনা কেন নেই? ফেলুদার গপ্পো কি কলকাতার ঐতিহাসিক পটচিত্র, আশির দশককে তুলে আনার একটা ইউনিক পোচেষ্টা? লোকে ছোটবেলায় এত ক্লাস কনসাস থাকে? বড়লোক, পাইপ, ড্রেসিং গাউন আছে, নারীচরিত্র নেই, মধ্যবিত্ত নেই? উরিবাবা!

    জীবনানন্দকে নিয়ে ভাবলাম। কী একঘেয়ে মাইরি - সেই এক চিল, প্যাঁচা, ইঁদুর, মৃত্যু, গুচ্ছখানেক কবিতায় ঘুরেফিরে এসেছে।

    প্রেমেন মিত্তির মনে পড়ল। সেই এক স্টাইলের ঘনাদার ঢপ, শিশিরের সেই একই সিগারেটের টিন থেকে সিগারেট বাড়িয়ে দেবার অনুষঙ্গ, বাকিদের তোষামোদ, কেমন একটা মনোটোনাস। তার ওপরে আবার ঐ, নারীচরিত্র নেই, ড্রেসিং গাউন নেই, পুরোটাই নিম্নমধ্যবিত্ত মেসবাড়ির ঘ্যানঘ্যানে আবহ। লোকে কী করে পড়ত এসব ট্র্যাশ?

    আমার কথা বলতে পারি - যে বয়েসে পড়া, তখন এত কিছু সত্যি বুঝতাম না, বুদ্ধি কম ছিল। যেটা টেনে রাখত, সেটা হল ফেলুদার অ্যানালিটিকাল রিজনিং পাওয়ার, নিজের অজান্তে সেই জিনিসটা অভ্যেস করতে করতে বড় হয়েছি। মগজাস্ত্রটা দরকারে অদরকারে কাজে লাগানো প্র্যাকটিস করেছি।

    বাকি, একজনকার লেখা গপ্পের সিরিজ, এক রকমের শেড তো হবেই। টিনটিন ধরি, সমস্ত সিরিজ ধরে জনসন রনসনকে কী অহেতুক হ্যাটাটাই না করা হয়েছে! ক্যাপ্টেন হ্যাডককে মোদো মাতাল দেখানো হয়েছে। এক টিনটিন ছাড়া গোটা সিরিজে কেউ সিরিয়াস চরিত্র নয়। আবদুল্লা পদে পদে ক্যাপ্টেনকে অপদস্থ করে, আর আমরা পাঠকরা তাই দেখে হেসে কুটিপাটি হই। ক্যাপ্টেনের জন্য করুণা জাগে না। জেনারেল আলকাজার একটা গপ্পে এসে হিট হয়ে গেলেন, তাই তাঁকে আবার অন্য একটা গল্পে খানিকক্ষণের জন্য ফিরিয়ে আনা হল।

    এইসব মাথায় এল, তাই লিখে ফেললাম।
  • pi | ০৫ মে ২০১৬ ০৪:৪৭54324
  • কিন্তু কথা হল, জটায়ু হোক কি ক্যাপ্টেন, লোকে তাঁদের ভালোওবাসে। নিছকই হ্যাটাও নয়।
  • sch | ০৫ মে ২০১৬ ০৫:০০54325
  • "রাহুল দ্রাবিড় ঘরানা, ক্রাফটসম্যানশিপের চূড়ান্ত, প্রথম বাউন্সার বল যদি ঠুকে গোড়ালিতে নামাতে পারি, তো শেষটাও তাই করব।"

    একদম - খুব ভালো লাগল তুলনাটা।

    ফেলুদার আলোচনা করতে হলে একটু সমকালীনগুলোও তাহলে আসুক বা পরের দিকের লেখা পত্তর। মনে রাখুন ফেলু মিত্তির কিন্তু কিশোরদের জন্য মূলতঃ লেখা - কাজেই সেখানে সমরেশ মজুমদারের অর্জুন, সৈয়দ মুজতফা সিরাজের কর্ণেল- জয়ন্ত, আর সমরেশ মজুমদারের গোগোল-অশোক ঠাকুর, সুনীলের সন্তু -কাকাবাবু, আর কিছুটা হলে বুদ্ধদেব গুহ'র ঋজুদা আর ষষ্টীপদ'র পাণ্ডব গোয়েন্দা

    এইগুলো তো ওপরের "ব্লগে" দেখলাম না। ব্যোমকেশ, কিরীটি এদের সাথে ফেলুদা'র আলোচনা কি খুব প্রাসঙ্গিক। ব্যোমকেসের অনেক কেসেই অবৈধ সম্পর্ক বা নারী পুরুষের সম্পর্কের জটিলতা ক্রাইমের মূল কারণ। কিরীটীও তাই। আর সময়কাল অনেক আলাদা, কাজেই তুলনাটা ওই টেণ্ডুলকার আর ব্রাডম্যান, বা জ্যাক হবস টাইপের।

    অর্জুনের গল্প আমার অন্তত খুব অবাস্তব লাগে। রাস্তা দিয়ে হাটতে হাটতে আকাশ থেকে হারানো লাইটার এসে পড়ে। ওখানেও কমিক রিলিফ একজন মেজর আছেন।
    গোগোলের বয়েস খুব কম - কাজেই তুলনা করা কঠিন
    সুনীলের গল্পে সাবলাইম যৌনতা সবসময় থাকে - তিতিরের আমদানীও সেই জন্য। ঠিক প্রেম নয় - কিন্তু একটা হাল্কা আভাস শেষদিকের লেখায়। জোজোর চরিত্র কমিক রিলিফ। ফেলু মিত্তিরের সাথে কাকাবাবুর অনেকটা তুলনা চলে, কিন্তু কাকাবাবুর একসন অনেক বেশী ফেলুদা'র থেকে। কাকাবাবুর ও কিন্তু অধিকাংশ কেসে প্রাক্তন রাজা-বাদশা, বা বিদেশী ক্লায়েন্ট এসেছে। সমাজের উচুতলার।
    পাণ্ডব গোয়েন্দা অনেকটা সেই মোহন সিরিজের মতো - বাবলুর দু হাতে দুটো পিস্তল, একহাতে একটা বন্দুক - দরকার মতো পঞ্চুও গুলি চালায় পারলে।

    এর পরবর্তীতে তো সুচিত্রা ভটচাজের মিতিন মাসি। সে বিষয়ে যত কম বলা যায় তত ভালো।

    এখন আনন্দমেলা বা শুকতারা খুললে দেখি ৯০% গোয়ান্দা উপন্যাস - কিন্তু কোনোটাই দু তিন পাতার পর আর ইচ্ছে করে না পড়তে।ফেলুদা এখনো ভালোবেসে পড়া যায়। এইটাই মনে হয় ফেলু মিত্তিরের টান।
  • ঠিক তাই | ০৫ মে ২০১৬ ০৫:০২54326
  • এই প্রতিনিয়ত হ্যাটা হওয়া, অল্পবুদ্ধি কিন্তু আসলে খুব ভালোমানুষ - এই চরিত্রগুলো তো আমাদের অচেনা নয়। এরা নিজেরা উচ্চমেধার লোক নয়, কিন্তু সত্যজিৎ বা হার্জ এই ধরণের একটি দুটি চরিত্রকে হাসিমজার মধ্যে দিয়ে ভালোবাসা দিয়ে গেছেন। জটায়ুকে ছাড়া ফেলুদার পাঁচটি গল্প আছে, কিন্তু আজ সিনেমা বানাতে গেলে জটায়ুকে ছাড়া ভাবা যায় না। ক্যালকুলাস বা হ্যাডক ছাড়া টিনটিনকে কল্পনা করা যায় না, যতই সিরিয়াসনেসের পার্থক্য থাকুক না কেন।
  • Arpan | ০৫ মে ২০১৬ ০৫:০৭54327
  • তিতির না। রিনি আর দেবলীনা।
  • sch | ০৫ মে ২০১৬ ০৫:০৮54328
  • হ্যাঁ - ভুল হয়ে গেছে - তিতির র্জুদা'র গল্পে। সন্তুদের সাথে দেবলীনা
  • ranjan roy | ০৫ মে ২০১৬ ০৫:০৯54417
  • sm কে বড় হাতের ক।
  • হুঁ | ০৫ মে ২০১৬ ০৫:১৩54329
  • দেবলীনা। কলকাতার জঙ্গলে।
  • Tim | ০৫ মে ২০১৬ ০৫:১৭54330
  • ফেলুদা সিরিজের চরিত্রগুলোর তুলনায় কাকাবাবু সিরিজ অনেক জোলো। ঐ জোজো যদি কমিক রিলিফ হয় তাইলে না হাসাই ভালো। অথচ শুরুর দিকে অতটাও খারাপ ছিলোনা। ভয়ঙ্কর সুন্দর ইত্যাদি গল্প বেশ ভালো লেগেছিলো।
    বাকিগুলো নিয়ে যত কম বলা যায় ততই ভালো।

    ফেলুদা আর কাকাবাবু দুজনেরই ক্লায়েন্ট বেস বড়োলোক হলেও দুজনের মধ্যে এলিটিজমের তফাৎ আছে। ফেলুদার এলিটিজমটা ইন্টেলেকচুয়াল, কাকাবাবুর সবদিক থেকেই আভিজাত্য বেশি। আরেকটা তফাৎ কাকাবাবু সরকারী স্বীকৃতি পাওয়া লোক, ঘরের লোক বললেই চলে। ফেলুদা সেদিক থেকে অনেক কাছের, নেক্সট ডোর টাইপ একটা ইমেজ আছে।
  • Tim | ০৫ মে ২০১৬ ০৫:২৩54418
  • দ্যাখেন রিয়েলিটি তো সবার আলাদা আলাদা। এইটা মেনে নিলেই চুকে যায়। এইযে আমার মনে হলো হুনীলবাবুর লেখায় উচ্চবিত্তের উল্লাসটা একটু বেশি, আর স্যান অর্পন ওদের মনে হলোনা, এতো শ্রেণীচেতনার ব্যাপার। এখন বক্তব্য হলো চত্ববেলায় আমার কাছে গল্পের বই পাওয়াই সমস্যা ছিলো, আমার রিলেট করার মত গল্পের বই খুঁজতে গেলে হয়েছিলো আর কি। তাই ও কিছু নয় ভেবে পড়ে গেছি। নইলে সত্যি রাজপুত্র বাদ দিলে (তাও সেখানে গরীবদের গ্রহান্তরের মানুষ হিসেবে দেখানো হয়েছে) মহর্ষির লেখাতে আমাদের কথা পাই নাই। পরে যখন অ্যাকসেস বেড়েছে, এক্সপোজার বেড়েছে তখন চয়েসও বেড়েছে স্বাভাবিকভাবেই। প্রায়োরিটি তো বিভিন্ন শ্রেণীতে বিভিন্নরকম।
  • Atoz | ০৫ মে ২০১৬ ০৫:৩৬54420
  • অপূর্ব থ্রেড হয়েছে। চালিয়ে খেলুন মহায়রা। ঃ-)
  • Arpan | ০৫ মে ২০১৬ ০৫:৩৬54419
  • এই দ্যাখো, উচ্চবিত্তের উল্লাস নেই কে বলল? তাই লিখলাম নাকি? কিন্তু যে মোড়কে কনজিউমারিজম পোস্ট নব্বই দুনিয়ায় আমাদের কাছে পেশ হয়েছে, তার উচ্চকিত আভাস ঐসব গল্পে তো ছিল না। যেটা ছিল সেটা মুষ্টিমেয় জনতার প্রিভিলেজ ছিল, কাইন্ডা ওল্ড ওয়ার্ল্ড অর্ডার ফ্লেভার, এখন যেমন ঝিনুক দীপকাকুর সাথে সিসিডিতে বসে রহস্যের সমাধান করে বা নাইকের স্পোর্টস শু পরে অপরাধীকে ধাওয়া করে সেসব ছিল না।
  • Arpan | ০৫ মে ২০১৬ ০৫:৪১54421
  • বরম, কিশোরী মেয়ে চরিত্র বাংলা সাহিত্যে কেউ যদি ঠিকঠাক এনে থাকেন এবং ওই রিয়ালিটি বাইটসের অভাবও প্রতি পদে পদে অনুভব করতে হবে না, তিনি একজনই। মতি নন্দী।

    কেউ ওনার নাম করল না বলে কিঞ্চিত অবাক হলাম। তারপর মনে পড়ল উনি গোয়েন্দা/ অ্যাডভেঞ্চারের গল্প লিখতেন না বলেই মনে আসেনি। স্বাভাবিক।
  • sch | ০৫ মে ২০১৬ ০৫:৪১54332
  • হ্যাঁ Tim এই তুলনাটাই মনে হয় রেলিভ্যান্ট। সবুজ দ্বীপের রাজা (১৯৭৯) আর সোনার কেল্লা (১৯৭৪) অনেকটাই সমসাময়িক। এবং দুটোই কিন্তু এখনো সমান টানে। কিন্তু পরবর্তীতে কাকাবাবুর গল্প অনেক ক্যাজুয়াল হয়ে গেছে।
    ফেলুদা আর কাকাবাবু দুজনের মধ্যে একটা বড়ো মিল হল হল দুজনেরই কিন্তু নারীবর্জিত জীবন (সুনীল তো ব্রাহ্ম ছিলেন না বলেই জানি) আর দুজনেরই storyteller সন্তু আর তোপসে কিন্তু প্রায় সমবয়েসী। তবে কাকাবাবুর লেখায় সন্তূর প্রাধাণ্য কিনতু তোপসের থেকে বেশী।

    আরো আলোচনা হোক
  • sch | ০৫ মে ২০১৬ ০৫:৪১54331
  • হ্যাঁ Tim এই তুলনাটাই মনে হয় রেলিভ্যান্ট। সবুজ দ্বীপের রাজা (১৯৭৯) আর সোনার কেল্লা (১৯৭৪) অনেকটাই সমসাময়িক। এবং দুটোই কিন্তু এখনো সমান টানে। কিন্তু পরবর্তীতে কাকাবাবুর গল্প অনেক ক্যাজুয়াল হয়ে গেছে।
    ফেলুদা আর কাকাবাবু দুজনের মধ্যে একটা বড়ো মিল হল হল দুজনেরই কিন্তু নারীবর্জিত জীবন (সুনীল তো ব্রাহ্ম ছিলেন না বলেই জানি) আর দুজনেরই storyteller সন্তু আর তোপসে কিন্তু প্রায় সমবয়েসী। তবে কাকাবাবুর লেখায় সন্তূর প্রাধাণ্য কিনতু তোপসের থেকে বেশী।

    আরো আলোচনা হোক
  • avi | ০৫ মে ২০১৬ ০৫:৪৩54422
  • কেউ একটু গোয়েন্দা গার্গী বিষয়ে ফিডব্যাক দিন না। একটা সমগ্র জোগাড় করলাম। একেকটা গল্প বেশ বড়। আগে পড়ি নি। এত আলোচনায় অনুপ্রাণিত হলাম। একটু সময়-ও চুরি করেছি।
  • ঊমেশ | ০৫ মে ২০১৬ ০৫:৪৩54333
  • আমি সত্যজিৎ, শরদিন্দু আর সুনীল তিনজনেরই অন্ধ ভক্ত, ওদের কোনো লেখাই আমার খারাপ লাগে না। আমি হয়তো বাকিদের মতো ওতো অক্ষর-বাই অক্ষর খুটিয়ে পড়ি না, তাই হয়তো ওদের লেখার দোষ গুলো আমার চোখে পড়ে না।
    কিন্তু আমি তাতেই খুশী।

    কিন্তু আলোচনা যেদিকে চলেছে, তাতে আমার ভালো লাগার কিছু নেই, তাই কালকের সন্ধের পরের লেখা গুলো পড়লাম না।
  • Tim | ০৫ মে ২০১৬ ০৫:৪৫54423
  • আচ্ছা আচ্ছা বুঝেছি। কিন্তু এখনকার কনজিউমারিজমের প্রিকার্সার বললাম তো। সেটা ইভলভ করে এইটা হয়েছে কিনা এই নিয়ে আমার মনে প্রশ্ন হ্যাজ। এখন আর অত মনে নেই, কিন্তু গল্পগুলোয় জোজোর গুরুত্ব বাড়তে শুরু করার পর থেকেই মনে হয় এটা হয়েছে।

    আমি আবার নিজে যখন পড়িনা, তখনও পরবর্তী প্রজন্মের কিশোর কিশোরীদের দেখেছি যারা সমসাময়িক লেখা হিসেবে ওগুলো পড়ছে বা সদ্য পড়ে উঠেছে। তো, কেমন মনে হতো শাইনিং ইন্ডিয়ায় যে ফর্মে কনজিউমারিজম বেচা হয় তার সাথে যোগসূত্র আছে।
  • Arpan | ০৫ মে ২০১৬ ০৫:৪৭54424
  • জোজো আবার কী করল? জোজো খুব সুইট ছেলে।
  • Tim | ০৫ মে ২০১৬ ০৫:৪৮54425
  • ওকে, তাহলে আমারই ভুল। জীবন গিয়েছে চলে ইত্যাদি
  • Atoz | ০৫ মে ২০১৬ ০৫:৫৪54426
  • সুকুমারের আমলে মেয়েরা স্কুলে টুলে তেমন যেত না, ছোটো থেকেই খোঁপা করতো আর শাড়ী পরতো, বারো-চোদ্দো বছর হলেই বিয়ে হয়ে যেত আর তারপরে কারুর সাতটি, কারুর আটটি, কারুর বারোটি ছেলেপিলে হতো। অনেকে ছেলেপিলে হতে গিয়ে মারাও যেত। এইগুলো তখন সমাজসচল ব্যাপার ছিল।
    কিন্তু সত্যজিতের আমলে তো তা নয়! তখন তো মেয়েরা স্কুলে কলেজে যাচ্ছে, চাকরি বাকরিও করছে কেউ কেউ, বিয়ের বয়সও তখন আঠেরোর বেশী হতে হবে আইন হয়ে গ্যাছে, সাধারণভাবে পরিবারে পরিবারে ছেলেপিলে সংখ্যাও কমেছে, এই ব্যাপারগুলো তো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলেছে।
  • cb | ০৫ মে ২০১৬ ০৫:৫৪54334
  • সন্তুর প্রাধান্য থাকতেই হবে কারণ কাকাবাবু কমপ্লিটলি শারীরিকভাবে সুস্থ নন, সন্তু ওনাকে চোখে চোখে রাখতে হয় যাতে কাকাবাবুর কোন অসুবিধা না হয়। কাকাবাবুকেও সন্তুর উপর অনেকটা ভরসা রাখাতে হয়

    যেটা ফেলুদাকে ডিপেন্ড করতে হয় না, তাই ফেলুদা একা একাই সকালে মিউজিয়ামে সবকটা ফ্লোর ভাল করে ঘুরে দুপুরে পার্ক স্ট্রিটের রোল খেয়ে বোর্ন অ্যান্ড শেপার্ডে কাটিয়ে সন্ধ্যেবেলা অপ্সরা থিয়েটারে গিয়ে ম্যানেজারের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে সন্ধ্যেবেলা বাড়ি ফিরে চান না করেই শ্রীনাথ, চা হাঁক দিয়ে চারমিনার ধরাতে পারেন
  • san | ০৫ মে ২০১৬ ০৫:৫৫54427
  • উচ্চবিত্তের উল্লাস শুনতে ভাল হয়েছে :-)
    কিন্তু আমার তো যতদূর মনে পড়ে, কাকাবাবুর মন্ত্রীসান্ত্রী লেভেলে চেনাজানা থাকলেও সন্তুর বাড়ির আবহাওয়া একেবারেই বাঙালি ঘরোয়া মধ্যবিত্ত টাইপ ছিল - রোব্বার সকালে লুচি-আলুর্দম হয়, বন্ধুদের মধ্যে কবিতা মুখস্তের কম্পিটিশন হয়, সাঁতার ক্লাবে বিচিত্রানুষ্ঠান শুনতে যায়, সাইকেলে চড়ে ঘোরে। বেড়াতে গিয়েও কিছু যে ফাইভস্টার হোটেলে সর্বদা থাকে এমন মনে হয়নি। কাকাবাবু ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে যান, সন্তু কলেজ হঠাৎ ছুটি হয়ে গেলে বন্ধুদের সঙ্গে লোকাল ট্রেনে একটু ঘুরে আসে। হাতখরচও মেপে খরচ করে। উচ্চবিত্তের উল্লাস ?

    এখন সাঁতার ক্লাস বা ক্যারাটে ক্লাসকে কনজিউমারিজম বললে তো চাপ আছে। আর নব্বই এর দশকে কোলকাতা শহরের গল্পে ইংরিজি মিডিয়ামে পড়া ছেলেমেয়েও তো জনসংখ্যার স্বাভাবিক অংশ - তাদের গল্পে দেখালেই একেবারে স্বপ্নের জীবন বিক্রি করা হচ্ছে এরকম মনে করতে হবে কেন বুঝি নি।
  • cb | ০৫ মে ২০১৬ ০৫:৫৭54335
  • তবে ওনাদের কারুকেই কোলকাতার এই ** ফাটানো গরম দেখে যেতে হয় নি, এটা ওনাদের পরম সৌভাগ্য :)
  • Atoz | ০৫ মে ২০১৬ ০৫:৫৮54428
  • বাংলা বলা খেলা হতো একটা, সন্তু কাকাবাবুর গল্পে, গুড মর্নিং না বলে সুপ্রভাত বলা, বোতল বুরুশ বলা, এসব বেশ ভালো লাগতো।
  • san | ০৫ মে ২০১৬ ০৬:০০54336
  • অনেকের অনেক পয়েন্ট ভাল লাগল। ফেলুদা সিরিজ খুবই একমাত্রিক ও সুপার-স্যানিটাইজড, এইটা। লোকশিক্ষের দায় - পরিশীলিত রুচি ও ব্রাহ্ম সংস্কৃতির লেগাসি, এইটাও। টি এর লেখা খুবই ভাল্লাগল, খালি প্রো শংকু সিরিজ ভাল বলায় কিঞ্চিৎ আশ্চর্য হলাম, সেটা অবশ্য মাইনর ( আমার মতে সত্যজিতের দুর্বলতম লেখা ঐ সিরিজ )। খালি ফেলুদার অ্যানালিটিকাল রিজনিং পাওয়ার আবার কি বস্তু সেইটা ঠিক বুঝলাম না :-) ফেলুদা তো আমরা লেখার মেজাজের জন্য পড়ি। লেখা দিয়েও যেন ভদ্রলোক সিনেমা বানাচ্ছেন। টানটান মসৃণ এবং পুরো ভিজুয়ালটা চোখের সামনে দেখা যায়।

    আরেকটা পয়েন কেউ বলেছেন কিনা খেয়াল নেই - ফেলুদাকে একটু বেশি লার্জার-দ্যান-লাইফ ক্রিয়েশন মনে হয় না ? হিন্দি সিনেমার নায়কের মতন সমস্ত সদ্‌গুণের আধার জাতীয় করে বানানো ? এটা অবশ্য ওভার-অল ইম্প্রেশন, বই ধরে জিগ্যেস করলে হাত তুলে দেব।

    ব্যোমকেশ আমার অনেক বেশি প্রিয়, কিন্তু ফেলুদার সঙ্গে তার ( বা হোমস বা পোয়ারোর) তুলনা আদৌ কিকরে হয় ? একটা পুরোদস্তুর শিশুসাহিত্য, এবং শিশুসাহিত্য হয়েও সে অ্যাডাল্ট পাঠককে একটা পর্যায় অবদি টেনে রাখতে পারছে - এইটা হয়েছে একাধারে তার প্রশংসা আর নিন্দা অর্জনের কারণ :-) এই বয়েসে এসে গন্ডালু পড়তে বেশ বাজে লাগে ( তখন ভালই লাগত)। উল্টোদিকে ফেলুদা এখন আর আমাদের হিরো নন, কিন্তু লেখক সত্যজিতের ক্রাফটম্যানশিপের প্রশংসা এখনো করি। করি বলেই আবার অ্যাডাল্ট গোয়েন্দাগল্পের সঙ্গে তুলনায় চলে গিয়ে ভাবি - নাঃ কোনো শেডস নেই গপ্পে, বড্ড বালখিল্য :-) বেচারি ফেলুদা। কী অসম প্রতিযোগিতা।
  • উমেশ | ০৫ মে ২০১৬ ০৬:০০54429
  • গোয়েন্দা গার্গী, খুব একটা উচ্চ মার্গের নয়, কিন্তু ঝিনুক/মিতিন মাসী দের থেকে ভালো।
    একবার পড়া যায় বলেই মনে হয়।
  • Atoz | ০৫ মে ২০১৬ ০৬:০৩54432
  • গার্গীর গপ্পো একটাই পড়েছিলাম, আবাজা রবিবাসরীয়ে, ধারাবাহিক বেরোতো। সেইখানে ঐন্দ্রিলা বলে একজন মহিলা(গার্গীর কীরকম যেন সম্পর্কিত দিদি ) খুন হন, গল্প সেই থেকে শুরু হয়।
  • Arpan | ০৫ মে ২০১৬ ০৬:০৩54431
  • আরে উচ্চবিত্ত মানেই অবাঙালি হবে নাকি? ঃ)

    তবে ঐ। সাধারণ হয়েও অসাধারণ। জামাইবাবু বিমানচালক, পর্শু প্লেনে শিলং থেকে ফিরে আজকেই পুরী কি ভাইজাগ এইসব হেলাফেলা করে করে ফেলে, ইফ নট বিদেশ - এইসব আর কী। আর নব্বই কেন, মধ্য সত্তর আর পুরো আশি জুড়েই তাই।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। দ্বিধা না করে মতামত দিন