পরমাণু কবিতা গুচ্ছ —————— সুপ্রিয়া চৌধুরী —————— (১) পরমাণু —— ক্ষুদ্র তুমি, কোথায় জোর ! বিন্দু বিন্দু মিলে, হয় মহাসাগর
বেনারস পর্ব ১©তীর্থদেবতার আহ্বান না এলে যে কোনও তীর্থ অধরাই থেকে যায়, যতই সেই জায়গা সহজগম্য হোক না কেন। এই ধরণের কথা ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি। আমার ক্ষেত্রে এমনটাই ঘটেছে বেনারস বা কাশীধামের ক্ষেত্রে। কত জায়গায় কত বেড়ানো হয়ে গেল কিন্তু কাশী পৌঁছতে এত বছর লেগে গেল। তবে হ্যাঁ, কেমন যেন হুট করে এইবার যাওয়াও হয়ে গেল। কাশী বা বেনারস বাঙালীর second home বলা হয়। কাশী বা বেনারসের পটভূমিতে বিখ্যাত বহু গল্প, উপন্যাসেও এর পরিচয় পাওয়া যায়। কাশী বিশ্বনাথ, দশাশ্বমেধ ঘাট, বাঙালিটোলা অথবা বেনারসের রাবড়ি, দই – আর অবশ্যই বেনারসের গলি – ছোটবেলা থেকেই অনেকের মুখে মুখে শুনে এসেছি। এতদিনে ... ...
আজকাল থেকে থেকেই মনে প্রশ্ন জাগে – কে আমি? এই 'আমি' টা কে দেখা যায় কি? দেখতে কেমন? এল সে কোথা থেকে? যা কিছু দেখি সবই 'আমার' বলেই চিনি। 'আমার মাথা, আমার চোখ, আমার হাত, পা... বাড়ি, ঘর, পরিবার.... শখ, সৌখিনতা ... রাগ, দ্বেষ, অভিমান .... আরও কত সম্পদ – সবকিছুর মালিকানা দিব্যি উপভোগ করে চলেছেন সেই 'আমি' টি কে বিশেষ চিনি বলে মনে হয় না। দৈনন্দিন ব্যস্ততার সুযোগ নিয়ে সে কোন এক অন্তরালেই গা ঢাকা দিয়ে থেকে যায়। তাকে ধরাও আমার কর্ম নয় বলেই মনে হয়। একটা কথা বুঝেছি মাঝেমধ্যে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়লে 'আমি' টি দিব্যি খোশমেজাজে থাকেন। ... ...
আমাদের ইতিহাসের পাতায় পাতায় লেখা রয়েছে উপনিবেশ কথাটি। কথাটির ইংরেজি শব্দ কলোনি। অত্যন্ত সহজ, সরল, সাদাসিধে কথাটি। কিন্তু এর মধ্যে মানুষের যে হাহাকার লুকিয়ে আছে, চোখের জল লুকিয়ে আছে, লাঞ্ছনা লুকিয়ে আছে তার হিসেব ইতিহাস রাখেনি। আজও দেশের বিভিন্ন জায়গায় অনেক কিছুই রয়ে গিয়েছে সেই উপনিবেশের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে। আমাদের কাছে সেসব নিতান্তই এক জড় পদার্থ, সেইসব সৌধ বা স্থানের মধ্যে লুকিয়ে থাকা মানুষের লাঞ্ছনার ... ...
১ মেঘের কান্নাকাটি দানিয়ুবের জলে এই বর্শায় রামধনু পেড়ে নিয়ে এলে! আরো লম্বা হলে বর্শা উপগ্ৰহে যাবে - তোমার কীর্তি আর তোমার নাহি
বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়া কিছু লেখার সংকলন এই বইটি ‘ঘুমের দরজা পেরিয়ে’, ‘হে অনন্ত নক্ষত্রবিথী’ এবং ‘চিলেকোঠার উন্মাদিনী’ বইত্রয়ের উত্তরাভাস। এখানেও উঠে এসেছে একইভাবে বিভিন্ন সাহিত্যিকের, বিশেষত কাজগুলো, যার অধিকাংশই ফরাসী। এবং অনেক ব্যক্তিরই প্রকারান্তরে পূর্বোক্ত বই তিনটেতে সরাসরি কিম্বা অ-সরাসরি আভাস থাকার ফলে পড়তে খুব বেশি বেগ পেতে হয় না। কিন্তু, এই বইয়ের সার্থকতা কোথায়? এই বইতে আমি একটা ... ...
সে সময়টা আমি বেলজিয়ামের একটা হোটেলে ছিলাম। স্টেশনের পাশে হোটেল, হোটেলের পাশে বিরাট লেক, বাজার। লেকে হাঁস চরে, বাংলা দেশের মতই। বাজারে সব কিছুই দূর্মূল্য। আগের দিন রাতে খেতে গিয়ে মাফলারটা ফেলে এসেছি, এদিকে এখানে দুপুর রোদেও আমার ঠান্ডা ঠান্ডা লাগে। রাস্তার ধারে খুব সাজানো পোষাকের দোকানে ঢুকে একটা স্কার্ফ দর করে দেখি ১০ ইউরো, মানে তখন ৮০০ টাকার মত। কিপ্টেমি করে ... ...
সকালবেলায় বন্ধু চাঁদুর মেসেজ পেলাম, আর বলিস না দুক্ষের কথা, অফিসে বহুবছর ধরে যাকে পটিয়ে কুপোকাৎ করার চেষ্টা চালাচ্ছিলাম, সে আজ হেসে হেসে এসে রাখি পরিয়ে দিলো আর হাতে ধরিয়ে দিলো একখান কিং সাইজ লাড্ডু। সত্যি সত্যিই বুড়ো হয়ে গেছি রে, বুঝতে পারছি। হাসির ইমোজি পাঠিয়ে
বিয়ের ঘটক কানাই সিকদার ক'দিন পরে এসে হাজির দুপুর বারোটা নাগাদ। বাড়িতে কাজের লোক জগন্নাথ ছাড়া বাসন্তীদেবী এখন একা। বেশ গরম পড়েছে আজ। মাথার ওপর বড় বড় তিন পাখনার ডি সি ফ্যান ঘুরছে গিটগিট করে। কানাই রুমাল বার করে মুখের, গলার ঘাম মুছতে লাগল। বাসন্তীদেবী এসে ঘরে
সকাল ছটা বাজল। একতলার তিনদিকে বারান্দা। আর একদিকে দেয়াল। মাঝখানে ছোট্ট শান বাঁধানো উঠোন। তোলা উনুনে কয়লার আঁচ ধরিয়ে উঠোনের মাঝখানে বসিয়ে দিয়েছে অঞ্জলি। গলগল করে ধোঁয়া উড়ে যাচ্ছে ওপর দিকে। রোজই যায়। মিনিট দশেকের জন্য চোখ জ্বালা জ্বালা করলেও কিছু করার নেই। সব বাড়িতেই চুলোয় আঁচ ধরানো হয়েছে। উনুন ধোঁয়া উগরে দিচ্ছে গলগল করে। সবাই এতে ... ...
সাহিত্য ও বিজ্ঞান —————— সুপ্রিয়া চৌধুরী —————— সাহিত্য ও বিজ্ঞান, -কে বলে আলাদা ? যে বলে,—সে ই তো চলমান বিজ্ঞান ! আর যা বলে ,- তা’তে যদি জুড়ে দাও আবেগ, অনুভূতি, শৈল্পিক ছোঁয়া,- সেখানেই পাবে
প্রথমে রাত্রি নেমে আসবে বাঁশবাগানের মাথার উপর। মিথ্ গুলো সব মহান হবে দক্ষিণ থেকে উত্তর!
উত্তরপ্রদেশের একটা ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। কোনো এক 'পাবলিক স্কুল'। জনৈকা শিক্ষিকা চেয়ারে বসে আছেন। সামনে কতকগুলি ছেলেমেয়ে মাটিতে। ইউনিফর্ম পরে। একটি মুসলমান ছেলে শিক্ষিকার সামনে দাঁড়িয়ে। পড়া-টড়া করেনি হবে। শিক্ষিকা গম্ভীরভাবে বলছেন, আমি তো বলে দিয়েছি, যত মুসলমান বাচ্চা আছে, মেরে তাড়াও। ওপাশ থেকে কোনো এক পুরুষ বলছেন, ঠিক ঠিক। মহিলা তারপর এক এক করে সহপাঠী ছেলেদের ... ...
প্রকৃতির মাঝে (ট্রাইটিনা) —————— সুপ্রিয়া চৌধুরী —————— প্রকৃতির মাঝে সময় কাটাই সকাল সন্ধ্যে বেলা, ফুল কুড়িয়ে মালা গাঁথি বসে অপূর্ব অনুভূতি ভোরের আলোয় আকাশে পাই শুধুই
পাড়ার মধ্যে শুধু দুটো বাড়িতে টেলিফোন আছে। এক মানিকলাল চ্যাটার্জি, যার বাড়িতে ঘড়িবাবু নরেন পাল ঘড়িতে দম লাগাতে আসে। আর দুই নম্বর হল পরিমল শীল। বউবাজারের শীলদের জ্ঞাতি। বেশিদিন না, চল্লিশ পঁয়তাল্লিশ বছর আগেও বাইজি নাচত ওদের বউবাজারের বাড়িতে। তেমন জরুরী প্রয়োজন পড়লে ওদেরই শরণাপন্ন হতে হয় পাড়ার লোকের। পাড়ার অনেক লোকের কিছু জরুরী ট্রাঙ্ককলও ... ...
খুব শীত করছে লিজার। রোমগুলো দাঁড়িয়ে গেছে। এই শৈত্য আর নেওয়া যাচ্ছে না। পকেট থেকে মোবাইল বের করে সময় দেখে লিজা। সবে সাড়ে তিনটে। আটটা বাজতে এখনো ঢের দেরি। অবশ্য আটটা বাজলেই যে একটা মিরাকেল ঘটবে এমনটা নয়। বাইরে বেরিয়ে তো সেই এঁদো গরম। কুলকুল করে ঘাম দখল নেবে গোটা শরীর। তারপর এক কামরার শেয়ারড ঘরে পৌঁছে স্টোভে রাতের রান্না। ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে ... ...
আকাশের ছাঁচ ও ছোঁয়াচ লেগেছে, মৃত্যুমিত অন্ধকারে অব্যর্থ এক অসহায়তা এখন।
রাজনীতি নিয়ে লিখতে চাই না। কিন্তু কেন জানি, মনে হচ্ছে, বুঝে বা না বুঝে আমরা সংঘ পরিবারের এজেন্ডাগুলো কার্যকর করছি। বলছি। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়েই ধরা যাক। রাগিং নিয়ে আজকাল কলকাতা জুড়ে পথসভার ধুম পড়ে গেছে। রাগিং কী? ব্যাখ্যা করছেন বামপন্থী নানারঙের ছাত্র সংগঠনগুলো। লোকে শুনছেন কম। কিন্তু যেটুকু কানে যাচ্ছে, তাতে গরিব মানুষদের মনে ভয় ঢুকে যাচ্ছে, ওরে বাবা, ভালো ভালো কলেজে বা সব কলেজে এইসব হয় পড়াশোনার নামে।উচ্চশিক্ষার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় সরকার আর নিতে চায় না।চায় ড্রপ আউট বাড়ুক।তাই চার বছরের স্নাতক পাঠক্রম।তাতে প্রথম বছর মাতৃভাষা শিক্ষার বিষয় বাদ।সে-সব নিয়ে আজ পর্যন্ত একটা পথসভাও চোখে পড়েনি। আমি তো কলেজ ... ...
বিশ্বের সমস্ত দেশকে চমক দিয়ে, পেছনে ফেলে মহাকাশ বিজ্ঞানে প্রথম দেশ হিসেবে ভারত চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে চন্দ্রযান (প্রজ্ঞান) অবতরণ করাতে সক্ষম হলো শেষ অব্দি। চন্দ্রায়ন -১ এবং চন্দ্রায়ন -২ সফল না হলেও চন্দ্রায়ন -৩ সাফল্যের মুখ দেখলো। আমরা ভারতবাসী হিসেবে বিজ্ঞানের আঙিনায় আরও একবার গর্বিত হওয়ার সুযোগ পেলাম। এই সাফল্যের গায়েও রাজনীতির রং লাগানোর চেষ্টা বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে লক্ষ করছি। আবার বিভিন্ন রকমের মন্তব্যের ঢেউও নজর এড়িয়ে যাচ্ছে না। আসলে এই ধরনের বিশ্লেষণ বা মন্তব্য আমাদের সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে দীর্ঘকাল ধরেই। ফলে এইসব নিয়ে আর এখন মাথা ঘামাই না। আমার মাধ্যমিকের ফল প্রকাশিত হলে আমার এক আত্মীয় মন্তব্য করেছিলেন, সেকেন্ড ... ...