সৈকত ঐতিহাসিক স্থান ঘোরার জন্য ঠিক করল। সৈকত ঘোরার কথা বাবাকে জানালো।সে বলল আমরা চারবন্ধু গরমের ছুটিতে ঘুরতে যাব ঠিক করলাম।আমি, রাজু, শ্যামলী আর সোমা। চারজনই আমরা ইতিহাসের ছাত্র। এক কলেজে পড়ি। সোমা বলল, সাঁচি স্তুপ দেখে আসি চল। সৈকতের বাবা মা বললেন, সাবধানে যেও।আজ সকলে সৈকতের বাড়িতে আলোচনা করছে ঘুরতে যাওয়ার আগে। শ্যামলী বলল, মধ্যপ্রদেশের রাজধানী শহর ভূপাল থেকে ৪৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সাঁচির বিদিশাগিরিতে অবস্থিত বৌদ্ধ স্তূপ। সম্রাট অশোক এই স্তূপ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।রাজু বলল, হ্যাঁ ইতিহাসে পাওয়া যায় এইসব কাহিনী। অশোককের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার পরও কলিঙ্গবাসী পরাজিত হয়। এই যুদ্ধে প্রায় এক লক্ষ নরনারী প্রাণ হারায় এবং প্রায় ... ...
সৈকতের প্রিয় বন্ধু যাত্রাশিল্পী।তার নাম অরিন্দম।শিশিরবাবু, স্বপনবাবু, হেমন্তবাবু, তড়িৎবাবু সকলেই বড় বড় যাত্রাশিগোপালবাবু যাত্রা বিশেষজ্ঞ। তিনি যুবকদের যাত্রাশিল্প পুনরুজ্জীবিত করার কথা বলেন। অরিন্দম বলে, যাত্রা করে এখন পেট ভরবে। কেউ দেখবে না। গোপালবাবু বলেন, সময়ের সঙ্গে তাল রেখে চলতে পারলে এই শিল্প চলবে নিশ্চয়। অরিন্দম গোপালবাবুর কাছে যাত্রাশিল্প সম্বন্ধে জানতে পারে অনেককিছু। অরিন্দম যাত্রার পাঠ নেয় গোপালবাবুর কাছে। গোপালবাবু বলেন, অষ্টাদশ শতকে(১৭০০ সাল) যাত্রা বাংলা ভূখণ্ডের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। সে সময় শিশুরাম, পরমানন্দ অধিকারী, সুবল দাস ছিলেন যাত্রার জগতে প্রসিদ্ধ। উনবিংশ শতকে পৌরাণিক কাহিনিভিত্তিক যাত্রা খুব জনপ্রিয়তা পায়। মতিলাল রায় ও নীলকণ্ঠ মুখোপাধ্যায়ের যাত্রাদল প্রসিদ্ধি পায়। সে সময় কৃষ্ণলীলা এবং ... ...
ছয় মাইল পায়ে হেঁটে যেতে হবে। আমাদের গ্রাম থেকে ছয় মাইল দূরে বিল্লগ্রাম। সেখানে আমরা হেঁটে চলে গেলাম 11 জন আর একজন এক্সট্রা মোট 12 জন। আর দর্শক আমাদের সঙ্গে ছাত্রদল 12 জন। তারপর দুটোর মধ্যে পৌঁছে গেলাম বিল্বেশ্বর মাঠে। অজয় নদীর ধারে মাঠ। বেশ বড়। সুন্দর মাঠ তিনটের সময় খেলা শুরু হলো। ওপেন করতাম আমি আর টুলাদা। আমি এক দিকে। আর টুলাদা রানার থেকে কোনরকমে কাটানো হল দু ওভার। বেশ জোরে বল।জোর বলের চেয়ে ভালো বলছে ব্যাটিং।কোনরকমে একদিকে ঠেকােনো হলো আর একদিকে টুলাদা পেটাতে লাগলো।কুড়ি ওভার করে মাত্র খেলা। এর মধ্যে রান তুলতে হবে ভাল রকম। না হলে জেতা যাবে ... ...
ইলেকট্রিক আলাে আসার পর অংশুমানের বাড়ির চারপাশে অনেকগুলি বাড়ি হয়ে গেল। প্রতিবেশী বলতে সামনের পাড়াটা আর দু-চারটি ঘর ছিল। কিন্তু এখন পােলে লাইট ঝুলছে। কল হয়েছে, জলেরও অভাব নেই। এখন লােকে জায়গা কিনে বাড়ি তৈরি করছে এইসব সুবিধার জন্য। জায়গার মালিক যারা তারাও ভালােরকম দাম পাচ্ছেন। ফলে অংশুমানের বাড়ির চারপাশে একটা পাড়া গজিয়ে উঠেছে। কিন্তু বেশিরভাগ লােক এখানে পড়াশােনা না জানা দলের। জানলেও হয়তাে সামান্যই জানেন। অংশুমান এদের ছেলেমেয়ের নিয়মিত পড়ায়। লেখাপড়া শিখলে নিশ্চয় কিছুদিনের মধ্যেই পরিবেশ ও পাল্টে যাবে। প্রায় কুড়ি বছর হল অংশুমান কাটোয়ায় এসেছে। এখন পার্শ্বশিক্ষকের কাজ করে। ছেলে ক্লাস ইলেভেনে পড়ে। দেবী সংসারের কাজকর্ম নিয়েই থাকতে ... ...
প্রীতির সঙ্গে কথা বলতে চাই।” অংশুমান বলল, "কি করতে হবে বল?"তুই বলবি রমেন তােমাকে চন্দন হলের কাছে থাকতে বলেছে,ঠিক আছে বলব। কিন্তু কখন ?"বিকাল তিনটের সময়।"ঠিক আড়াইটে থেকে অংশুমান প্রীতির কলেজ যাওয়ার পথে দাঁড়িয়ে আছে। এখন কলেজ থেকে বাড়ি আসবে। হঠাৎ দেখল সবুজ শাড়ি পরে প্রীতি ফুটি চালিয়ে আসছে। অংশুমান বলল, “এই যে ম্যাডাম, একটু দাঁড়ান।”প্রীতি অংশুমানকে চেনে রমেনের বন্ধু হিসাবে। প্রীতি বলল, "কি বলছেন ... ...
গল্প বলতে বলতে কখন যেনো মেনকার চোখে জল এসে গিয়েছিলো। সোমা জল মুছে দিলো। বললো, আর পনের দিন পরেই পুজোর ছুটি। সবাই বাড়ি যাবো। কি মজা বল। মেনকা বললো, ঠিক বলেছিস। কথায় বলে না ভালোলোকের শত্রুর অভাব নেই। সুমন নানারকম অসুবিধা থাকলেও এদল ওদল করে না। টাকার লোভ তার নেই। আর এইসব গান বাজনার লাইনে রাজনীতি খুব বেশি। অনেকে ভালো শিল্পীকে নিয়ে টানাটানি করে। সুমন আর রূপসী বড় শিল্পী। তবু তারা মুরারী অপেরা ছাড়ে নি। মুরারী এখন ভালো ব্যবহার করে। আলকাপের দল খোলার পর থেকে লাভের অঙ্কটা হু হু করে বেড়ে চলেছে। তাই সে খুব খুশি। সুমন এবার নেশা ধরেছে ... ...
সুমনের বাঁশি বাজানো দেখে লাইনের অনেকে হিংসা করে। রূপসী বল, ভালো কাজ করলেই শত্রু বেড়ে যায়। সুমন বল, ছেড়ে দাও ওসব কথা। এসো আমরা সাধনা চালিয়ে যাই। তারপর সুমন বাঁশি বাজানো শুরু করলো। তার বাঁশির নবসুরে রূপসীর দেহ কেঁপে উঠলো। সুমন খুশি মনে স্নান সমাপন করলো। রূপসীর হাতের রান্না খুব ভালো। সুমন খেলো। রাতে আজ কাজ নেই। মুরারী রাতে রূপসীর ঘরে এলো। সে বললো, শোনো সবাই। যাত্রাদলের এখন কোনো কদর নেই। তাই আমি আপাতত আলকাপের দল করবো। সুমন বললো, যাত্রাদল তাহলে ... ...
জীবনটা ঠিক ছবির মত। মনখেয়ালের তুলিতে রাঙানো যায় জীবনের ক্যানভাস। ইংরাজী ১৯২০ সাল। বৃটিশদের বিরুদ্ধেলড়াই চলছে জোর কদমে। তখনকার সময়ে রায় পরিবারের সুমনের জীবনের ঘটনা। সুমন যাত্রাদলে বাঁশি বাজায়। আর গোপনে বিপ্লবীদের সাহায্য করে নানারকমভাবে। ঠিক একশো বছর আগে রাশিয়ার অক্টোবর বিপ্লব বিশ্বের আরও অনেক দেশের মতো ভারতেও কমিউনিস্ট আন্দোলনের জন্ম দিয়েছিল। গত শতাব্দীতে ভারতের বামপন্থী রাজনীতিও নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যে দিয়ে গেছে, আর তাতে অক্টোবর বিপ্লব ... ...
অসম্ভবের পাঁজরে যখন ঝড় উঠতে থাকে তখন পায়েরা ছন্দ ভুলে গোলমাল ক’রে ফ্যালে। এদিক ওদিক তাকায় বটে কিন্তু কিছুতেই নক্ষত্র হওয়ার মুখচোরা ভাব এড়িয়ে যেতে পারে না। এরপরে গর্জনের আহ্বানকে অন্ধকারে মিলিয়ে দিতে সে এক পরিকল্পনা মাফিক বস্তুত বিড়ম্বনা। তাছাড়া সঙ্গের ভবিষ্যৎে দৌড়নোর পুঁজি যদি অল্পবিস্তর শিখে নেওয়া না যায়, তবে হয়রানির একশেষ। তবুও ঝামেলার বিশ্লেষণ কোনও মতেই আপেক্ষিক নয়— এও ঠিক। সেই বুঝেই আদরের স্বভাব বদলাতেই বাকিরাও অলস হ’তে চেয়ে ঢেউয়ের সমগ্র লিখতে যায়। তাও কিনা মেপে, বড্ড মেপেই এগোনোর নাগাল পেয়ে চিন্তার খোরাক পাওয়া। আর বর্ণনার আশীর্বাদে ক্ষত কেনার হুজুগ— না এভাবে যদি চলতেই ভালবাসে, লাগেও বা ভাল, ... ...
(১২) কলতান ভিতরে ঢুকে ডানদিকে প্রথম ঘরটায় গিয়ে দাঁড়াল। বেশ অগোছাল ঘর। একটা সিঙ্গল বেডের ডিভান আছে বেশ টানটান বিছানা সমেত। মনে হচ্ছে বেশ কিছুদিন ব্যবহৃত হয়নি। বেশ বড় একটা দু পাল্লার আলমারি আছে। একটা ওয়াড্রোব রয়েছে একপাশে। ভিতরে নিশ্চয়ই জামাকাপড় আছে। ওটার ওপরে রাজ্যের জিনিসপত্র, ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম থেকে স্ক্রু ড্রাইভার পর্যন্ত সবকিছু দেখা যাচ্ছে। ঘরের মেঝেও অপরিচ্ছন্ন। বোঝাই যাচ্ছে অনেকদিন ঝাঁটপাট পড়েনি। কলতান মেঝের ওপর সার্চলাইটের মতো চোখ বুলিয়ে দেখতে লাগল। এদিক ওদিক দেখতে দেখতে খাটের একদিকের পায়ার কাছে কলতানের চোখ ... ...
"ইচ্ছা করো দেহান্তর পেতে? তুমি কি আসবে রূপ ধরে? তোমাকে শুধিয়ে লিখি তাই, প্রেম আসে প্রেতলোক যেতে?" ...... বিষ্ণু দে [প্রেম মানবজগতের এক বিচিত্র অনুভূতি, এক বিস্ময়। তেমনই প্রেতাত্মা নিয়ে রয়েছে নানামুনির নানামত। অতৃপ্ত প্রেত কি আছে? তাদের অস্তিত্ব কি সত্যি হয়? তবে প্রেম যে যুগে যুগে নির্দিষ্ট কারো জন্যই জেগে থাকে এমনটা তো হামেশাই শোনা যায়। প্রেতাত্মার ধারণা নিয়েও যেমন বিতর্ক আছে তেমনই প্রেম ফিরে ফিরে আসতে পারে কিনা তাও চিন্তার বিষয়। শুদ্ধ হৃদয় কি পারে কোনো ... ...
বিজ্ঞাপণ হয়তো আর কয়েক দশক বাদে,চারিদিক ছেয়ে যাবে বিজ্ঞাপনে,এখনের থেকেও বেশি,অনেক অনেক বেশি,প্রতিটা ঘরের দেওয়াল, রাস্তার পিচ,কংক্রিট বা মাটি কেউ বাদ যাবে না,বইয়ের পাতায় ফাঁকা অংশ,টাঁকলার টাঁক, লোমহীন বুক হাত পা,জামার কাপড় বিজ্ঞাপনে ভর্তি হবে,সাদা জামার দাম হবে বেশি,আর বিক্রির জিনিস,সে তো ইজ্জত থেকে শুরু করে আলপিন-চিনির দানা,সওওব বিক্রি হবে,মানুষের বিবেক,দয়া, মায়া এসবের দাম সবচেয়ে কম হবে,মরার পরে লাশও বিক্রি করবে আত্মীয়,দুটো টাকা বেশি পেলে,না কেনা গ্যাজেটটা কিনে নেবে হয়তো,লাশ তো সেই পচেই যাবে! বীর জাতির প্রতিনিধি আমার মৃত্যুর পরোয়ানা জারি হয়ে যাওয়ার পরেও,যখন আমি ঘুরে বেড়াচ্ছিলাম প্রকাশ্য রাজপথে,ওদের কয়েকজন আমায় চিনতে পেরেছিল,কিন্তু বিশ্বাস করতে পারেনি।কি করে এমন দুর্বল জাতির এত বড়ো বুকের ... ...
চুমুমুহাম্মদ ফজলুল হকসমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় চল্লিশ হাজার ফুট উপরে বিমানের দুলুনিতে সচেতন হয় মেঘলা। পাশ ফিরে অর্ণবকে দেখে। শিশুর মত ঘুমিয়ে আছে। ডানহাত রেখেছে মেঘলার পায়ের উপর। যেন কখনো হাতছাড়া করবে না তাকে। ভালোবাসায় ভরে উঠে মেঘলার মন। অর্ণবের হাত তুলে চুমু দেয়।"আমরা অল্প সময়ের মধ্যে আইসল্যান্ডে বিশ্বের সবচেয়ে উত্তর প্রান্তের রাজধানী হিসেবে পরিচিত রেইকিয়াভিক কেফ্লাভিক বিমানবন্দর আবতরণ করব। অনুগ্রহ করে আপনার সিট বেল্ট বেঁধে ফেলুন।"ক্যাপ্টেনের ভেসে আসা কন্ঠে অর্ণবের হাতে হাত রেখে কেবিন উইন্ডোর পাশ দিয়ে বাইরে তাকালো মেঘল। নীচে সমুদ্রের কালো নীল ঢেউ। ফাঁকে ফাঁকে আগ্নেয়গিরির লাভার মতো কালো ভূমি। কোথাও সাদা বরফের দাগ। আকাশ যেন ধোয়া তোলা ... ...
সামুরাই (Samurai), যাদের 'বুশি' নামেও ডাকা হয়, তারা ছিল জাপানের প্রাক-শিল্পাঞ্চল যুগের সামরিক বাহিনীর সদস্য এবং এক কিংবদন্তিতুল্য যোদ্ধা শ্রেণি। জাপানি ক্রিয়াবাচক শব্দ 'সাবুরাই' থেকে 'সামুরাই' শব্দটির উৎপত্তি, যার অর্থ হলো 'সেবা করা'। এই নামকরণের মধ্যেই তাদের প্রধান ভূমিকা নিহিত। তারা সামন্ততান্ত্রিক জাপানে ধনী জমিদার বা 'দাইমিয়ো'দের ব্যক্তিগত সশস্ত্র বাহিনী হিসেবে তাদের নিরাপত্তা ও ভূ-সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণ করত। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা সমাজে এক বিশেষ এবং অত্যন্ত প্রভাবশালী যোদ্ধা শ্রেণিতে পরিণত হয়। জাপানি ইতিহাসে সামুরাইরা খ্রিস্টীয় দ্বাদশ শতাব্দী থেকে ১৮৬৮ সালের মেইজি পুনঃপ্রতিষ্ঠা পর্যন্ত প্রায় ৭০০ বছর ধরে জাপানের সরকার ও সমাজের ওপর ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেছিল। এই সময়কালে জাপানে শোগুনেট (সামরিক একনায়কতন্ত্র) ... ...
চারিদিকে এত চাঁদাবাজিরাস্তায় পরে থাকে সাংবাদিক এর লাশআমি ভয়ে ভয়ে থাকিকোনদিন আমি না আবার ফেসে যাইআপার সময়েই ভাল ছিলামউনাকে চিনতাম,জানতাম,কাজ কারবারে অভ্যস্ত ছিলামএখন তো কাউকেই চিনি নাকে চাঁদাবাজ, কে জর্দাবাবা, কে পাটরাশি, কে জাসিভয় হয় কোনদিন আমার লাশ পরে থাকবে রাস্তায়আমার একটাই দোষএক আপা পালাইছে, ঘরে ঘরে লক্ষ ভাই জন্ম নিছেআমি কেন তাদের তেল দেইনা, তোয়াজ করিনাঅনেকেই বলে তুই মরবিস্রোতের সাথে তাল মিলা, নয়তো তুই মরবিতোকে মারার ধারালো অস্ত্র নিউ মার্কেট থেকে আসবেআজকাল ওখানেই আমরা যাবতীয় অস্ত্র রাখিআমার লাশ পরে থাকবে প্রকাশ্য রাস্তায়শুরু হবে লাশ নিয়ে রাজনীতি, ব্যাবসা, টানাটানিকেউ কেউ বলবে চাঁদার বখরা নিয়ে মারামারিশুধু একমাত্র আমি জানি তোদের কাজে ... ...
(১১)কলতান দ্রুত সামলে নিল। সরাসরি বলল, ' স্পটটা বলুন... '--- ' নীলাদ্রি কমপ্লেক্স... ওদের ফ্ল্যাটে... ' বিক্রমবাবু বললেন।--- ' আপনি কোথায় ? '--- ' বাড়িতে... '--- ' খবরটা কে দিল আপনাকে ? '--- 'ওসব কথা পরে হবে। আপনি এখন কোথায় ? 'কলতান নির্জলা মিথ্যে কথা বলল --- ' বাড়িতে। ঠিক আছে, পরে কথা হবে... 'কলতান লাইন কেটে দিল।ইলিনার বডি চিৎ হয়ে পড়ে আছে ড্রয়িং রুমের ফ্লোরে। এই ফ্লোরটা প্রায় ফাঁকা। মাত্র তিনটে ফ্ল্যাট বিক্রী হয়েছে এখন পর্যন্ত। তার মধ্যে একজনের ফ্ল্যাটে তালা মারা। শোনা গেল আন্দামান না কোথায় বেড়াতে গেছে। ইলিনার ঠিক পাশের ফ্ল্যাটে একটা ছোট পরিবার থাকে। স্বামী স্ত্রী ... ...
যেভাবে ছাদে ছাদে ফুলগাছ বেড়ে ওঠে হাতের যত্নয়, যেভাবে মেঘেরা এসে সাজিয়ে তোলে রঙিনময়লাটে বাড়িদের, যেভাবে কাক দেখলেই ডানা পাওয়ার কথা মনে পড়ে হেরে যাওয়া মানুষদের অনেকটা তেমন একটা ভাব নিয়ে বলা ভাল তেমন এক ঘোর আনন্দ নিয়ে রোশনাই সংকেতের চোখের দিকে তাকিয়ে বলতে আরম্ভ করল, “কিছু কথা যদি তুলোর মতোই নাছোড়বান্দা হয় তো কিছু কথা প্লাস্টিকের মতোই একগুঁয়ে সাইকেলের সমান। এরা চুপ থাকে না। অবসাদ ভালবাসে, আর তা নিয়ে যাচ্ছেতাই রকমের হুল্লোড়পনা...”সংকেতের মাথার ওপর দিয়েই সব বেরিয়ে গেল। সে না কিছু বুঝল, না কিছু বোঝার চেষ্টা করল। বোঝার চেষ্টা করবেই বা কী ক’রে! মাথার ওপর দিয়েই যে রোশনাইয়ের সব ... ...
এক দেশ এক বিধান? এক দেশ এই আইন? অবাস্তব কথা! বিদ্বেষ পোষণ মাত্র। কোনও দিন হবে না। আদানি আম্বানির ঋণ লাখ লাখ কোটি মকুব হয়। সুবিধাবঞ্চিত বা মধ্যবিত্ত তিন বা চারটি কিস্তি ফেল করলেই বাড়িতে মস্তান আসে। বাইক বা গাড়ি কেড়ে নেয় ফ্ল্যাট নিলামে তোলে। ফ্ল্যাট নিলামে তোলার বিজ্ঞাপন কত বেড়েছে? খেয়াল করেছো? কোনও এক গুজরাটি ভাইপোর ৫০ হাজার টাকা ৮০ কোটি হয়। কয়েক শো কোটি ঋণ মকুব হয়। বাংলার ভাইপো নিয়ে সবাই চিন্তিত দিল্লির ভাইপো নিয়ে নয়। আম্বানির জিও সরকারি সংস্থা বিএসএনএল-এর যে সমস্ত টাওয়ার ব্যাবহার করছে সেই বিল বানাতে দেওয়া হয়নি বিএসএনএল-কে। প্রায় ১৮০০ কোটি টাকার বিল।অথচ কৃষকদের ঋণ মকুব করছে না। জমি নিলামের নোটিশ পাঠাচ্ছে। আম্বানির জিও ... ...
একটা রাজহাঁস পুষেছি আমি।খুব সুন্দর।আমার জীবনে সুন্দরের খুব অভাব,তাই তাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমাই।সে আপত্তি করে,আমি ছেড়ে দিতে চাই -পারি না।আমি সুন্দর ভালোবাসি।তবে ভেবেছি,যদি কেউ সুন্দর আসে,যদি ভালোবাসে -ওকে সমাধি দেব আমি।আমাকে নিষ্ঠুর ভাবতে পারো তুমি।কিন্তু ভাবো -যে এতদিন ভালোবাসা পেয়ে এসেছে,সে যদি আজ অবহেলিত হয়,সহ্য করতে পারবে কি?তার সামনে অন্যজন অধীশ্বর বা অধীশ্বরী হয়ে উঠবে,পারবে চোখ চেয়ে দেখতে?তার চেয়ে ভালো,ও ফিরে যাক,মরে যাক।যতদিন বেঁচে ছিল,ভালোবেসেছিলাম ওকে আমি,ও আমায় ভালবেসেছিল। ... ...
( ১০) কলতান তাকিয়ে রইল গোপেশ্বরের দিকে। গোপেশ্বর মুখে হাসিটি ধরে রেখে ডান হাতটা ওপরে তুলল, যার মানে হয় ঠিক আছে, সাবধানে যাবেন। হাতটা ওপরে রইল প্রায় দশ সেকেন্ড। কলতানের চোখ আটকে গেল গোপেশ্বরের ডান হাতের আঙুলগুলোর দিকে। নতুন কায়দার ভঙ্গীমা। হাতের কড়ে আঙুলটা নীচের দিকে মোড়া, ওপরে তোলা বাকি চারটে আঙুল। গোপেশ্বর একটু পরে হাত নামিয়ে, হাসিমুখে বাঁদিকে একবার ঘাড় কাত করে পিছন ... ...