মাহমুদ দারবিশ এর খণ্ড কবিতা ফিলিস্তিনি কবিতার কিছুএক গুচ্ছ দারবিশ মাহমুদ দারবিশ। ফিলিস্তিনের আলবিরওয়ায় ১৯৪১ সালের ১৩ মার্চ তাঁর জন্ম। মাত্র ছয় বছর বয়সেই জন্মভূমি ছাড়তে হয়েছিল তাঁকে, যখন ১৯৪৮ এর ‘নাকবা’র সময়ে জিওনিস্টদের হাতে আক্রান্ত হয়ে তাঁর পরিবার লেবাননে চলে যায়। তারপর থেকে শুরু হয়েছে তাঁর উন্মূল উদ্বাস্তু জীবন। কোথাও থিতু হতে পারেননি। বাইরে-বাইরে জীবন কাটলেও ফিলিস্তিন ছিল তাঁর অন্তরে এবং ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার জন্য তিনি আজীবন কলমযুদ্ধ চালিয়ে গেছেন। ১৯৮৮ সালে স্বাধীন ফিলিস্তিনের ঘোষণাপত্র তাঁরই রচনা। তিনি ফিলিস্তিনের জাতীয় কবি। আরবী সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ এই কবি ২০০৮ সালের ৯ আগস্ট টেক্সাসে মৃত্যুবরণ করেন।আরবে প্রাচীন কাল থেকেই কিততা বা ... ...
|| ১ || বিগত কয়েকঘন্টা ধরে ঘরটা ছেয়ে আছে অগুরু ধূপের চড়া গন্ধে। আত্মীয়স্বজনদের মৃদুগুঞ্জন চলছে, দোতলা বাড়িটার শ্যাওলা ধরা বারান্দায় কিছু মানুষের আনাগোনা, হাঁকডাক। একটি মৃদু ফুঁপিয়ে ওঠা কান্নার সুর যেন ধূপের পাকানো ধোঁয়ার মতো কেঁপে কেঁপে উঠে আবার মিলিয়ে যাচ্ছে। খুব সন্তর্পণে ওঠা সেই কান্নার সুরটা কাজের মেয়ে ঝর্ণার। কমলাদেবীকে শেষযাত্রায় চন্দন দিয়ে সাজানোর সময়ে ঝর্ণা কেঁদে উঠেছিলো, "এবার থিকে আমি কাকে মা বলে ডাকবো গো?" তারপর যথাবিহিত নিয়ম চলাকালীন চান্দেরী শাড়ি পরিহিতা এক আত্মীয়া ঠোঁট টিপে হাসলেন,"আহা, যাদের মা তেনাদের সাত সমুদ্দুর তেরো ... ...
প্যালেস্টাইনের গাজার বর্তমান জেনোসাইড নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আমাদের প্রথমেই হলোকস্টের কথা মনে পড়ে যায় l এই প্রশ্নটিও মাথায় আসে যে মাত্র আট দশক আগে যে জাতি হলোকাস্টের মত এরকম একটি traumatic experience বা নিদারুণ অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে গেছেন, তারা কি করে নিজেরা এরকম একটি জেনোসাইড করতে পারলেন ? এ প্রশ্নের উত্তর এককথায় দেওয়া সহজ নয় l এটুকু বলা যেতেই পারে যে, পৃথিবীর কাছে সব জেনোসাইডের গুরুত্ব এক নয় l এপ্রসঙ্গে বলি যে গুরুচন্ডালীর আমার সবচেয়ে প্রিয় লেখক হিরেনদার "আমার আফ্রিকা" বইটিতে নামিবিয়া অধ্যায়টি থেকে আমরা হেরেরো জেনোসাইডের কথা জানতে পারি l হলোকাস্টের বেশ কয়েক দশক আগেই এই ... ...
আমি, ১২ বছর বয়সে বাবার নির্দেশে ১৯৭৮ থেকে ত্রাণ করছি। ১২ কিমি পথ হেঁটে যেতে হয়েছিল মুড়ির টিন কাঁধে/ মাথায়/ হাতে নিয়ে। আজ পর্যন্ত ত্রাণ দিতে গিয়ে তেমন কোনও নেতিবাচক অভিজ্ঞতা নেই। আগে দাও আগে দাও-- একটু খানি হয়। সেতো মধ্যবিত্তদের মধ্যেও আছে। অফিস মিটিংয়ে আগে টিফিন পেতে কেউ কেউ হুড়োহুড়ি করেন। বা আগে খেতে বসার জন্য বিয়ে বাড়িতে। ত্রাণ না নিয়ে গিয়ে বাণী দিতে গেলে/ মিডিয়ার মাধ্যমে প্রচার পেতে গেলে সমস্যা হয়। ত্রাণ দিতে গিয়ে কোনও সমস্যা হয় না। মানুষ সমাদর করে বসান। ওড়িশা, গুজরাট, নেপাল, কেরালা, এবং পশ্চিমবঙ্গের অন্তত ১০ টি জেলায় ত্রাণ কাজের অভিজ্ঞতা আছে। টানা এক মাস রান্নাঘর চালিয়েছি অন্তত ১৯ টি জায়গায়। কোনও ... ...
ভাষা ও চেতনা সমিতি পশ্চিমবঙ্গের অগ্রণী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। প্রতিষ্ঠা ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দের ২০ ফেব্রুয়ারি। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অন্নদাশঙ্কর রায় ও সম্পাদক ইমানুল হক। মাতৃভাষায় শিক্ষা সরকারি কাজ ও বিজ্ঞান প্রযুক্তি বাণিজ্যিক সাফল্য অর্জন ভাষা ও চেতনা সমিতির লক্ষ্য। অশোক মিত্র শঙ্খ ঘোষ অরুণ মিত্র সন্দীপন চট্টোপাধ্যায় অমিয় বাগচী অজিত পাণ্ডে প্রতুল মুখোপাধ্যায় দেবেশ রায় জ্যোতি প্রকাশ চট্টোপাধ্যায় মৃণালিনী দাশগুপ্ত আজিজুল হক সহ বহু গুণী লেখক শিল্পী এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৯৯ থেকে সারারাত বাংলাভাষা উৎসব ও পান্তাভাত শুঁটকি সহ সারাদিন বাংলা নববর্ষ উৎসব পালন শুরু করে সমিতি। সমিতি দেশ ও বিদেশে বহু ত্রাণ কাজ করেছে। ১৯৯৯ রবীন্দ্রসদন নন্দন চত্বরে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য পাঠশালা চালু১৯৯৯: ... ...
‘এই বই না লিখে মরে যাওয়া অন্যায় অপরাধ হতো।' ভূমিকার শুরুতেই এমন একটা লাইন চমক জাগায় বইকি! (সময়টা যে বিজ্ঞাপন-বেহায়া) কিন্তু ‘কাদামাটির হাফলাইফ’ তো আর একটা অনুপম মনে-রাখার-মতো বই মাত্র নয়... এ হল ভেষজ, বিশল্যকরণী!শুধু ব্যক্তির নয়, এ দায় ইতিহাসেরও-- যেভাবে, যে ফর্মেই হোক, কাউকে না কাউকে লিখতেই হত এটা। মনে পড়ে, ফেসবুকে, তারপর গুরুচণ্ডা৯-তে নোটিফিকেশন পেলেই একটা মন্ত্র পড়ে নিতাম : ‘খুল যা সিমসিম! চিচিং ফাঁক!'যেন মাটির রূপকথা শোনাচ্ছেন কেউ, আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ জ্বেলে... স্মৃতিচিত্র অনেক পড়েছি, গাঁয়ের কথাও কিন্তু তথ্যের এমন নৈসর্গিক নিবিড় খুঁটিনাটি, এমন উর্বর সমবায়িক জীবনধারা, এমন সহজ মহাকাব্যিক কথকতা কি পড়েছি কোথাও?জানি না মাটি ফের উর্বর হবে কি ... ...
সঞ্জীব মাথুর থাকেন মুম্বাই, জুহু বীচে। ফিল্ম প্রোডিউসার তিনি। বিশাল তিনতলা বাংলো তাঁর, যার মুল্য প্রায় ২০০ কোটি। ব্যালকনি থেকে সমুদ্র দেখা যায় স্পষ্ট। বাড়িতে ৫টা দামী গাড়ি – রোলস রয়েস, ল্যাম্বরঘিনি, মার্সিডিজ, বেন্টলে - এরকম সব। পরিবারে আছেন স্ত্রী সুনীতা, আর দুই ছেলে আর এক মেয়ে – আরিয়ান, আরভ ও কিয়ারা। সঞ্জীবের বয়স এখন ৫৫। বাড়িতে কাজের লোক ১৫ জন। তাঁদের নানা দায়িত্ব। কেউ রান্নাঘর সামলান, কেউ লন্ড্রি, কেউ ঝাড়া-মোছা, কেউ বাগানের দেখভাল, কেউ কুকুরের দেখাশোনা আর কেউবা গাড়ির ড্রাইভার। বাড়িতেই সুইমিং পুল আছে ছাদের একপাশে। বাড়ির সদস্যরা সেখানে সাঁতার কাটেন অবসর সময়ে। এছাড়া সঞ্জীবের প্রাইভেট জেট আছে যাতে ... ...
সবার থেকে শেখার আছে, বুঝলেন কাকা ?আমি কে ? কোথায় আছি ?সবার থেকে শেখার আছে |বিস্তর শিখে টিখে মাথা ঝুঁকে আসে, জট পাকিয়ে যেতে থাকে, তারপরে অন্ধকারে অনর্গল চলতে থাকে রস কষ বুলবুলি আর মস্তক | হৃদয়ের কথা, সাময়িকী সংবাদ, শিরা উপশিরা থেকে চুঁইয়ে পড়া ভাষা, সংবেদনশীলতা সরিয়ে রেখে সমাজের মানচিত্র খুলে বসা, ফোকাস রি-ফোকাস, সেন্টারিং ফর ডেস্টিনেশন ... আর রাতদিন ডেস্টিনেশন কি সেই নিয়ে হিসেব নিকেশ করা | সেই হিসেবের খাতায় এসে পড়ে অলস নির্জন দুপুরের মেঠো রৌদ্র, বহুদূরে দইওয়ালা অমলের খোঁজে ডাক দিয়ে দিয়ে চলে যায়,নিরিবিলিতে পুজোর ছুটি কাটানোর জন্য গ্রাম্য স্টেশনে এসে নামেন সত্যজিৎ রায়ের গল্পের চরিত্র কলকাতার কোনো আপিসে স্টেডি চাকরিওয়ালা এক নিরীহ সাহিত্যপ্রেমী ব্যাচেলর ;এইসব চরিত্রদের হিংসে হয়, চেনা গল্পের সেই স্বচ্ছন্দ সারল্য আমাদের ... ...
(১৩) ইলিনার বডি নিয়ে পোস্ট মর্টেম টিম চলে গেল একটা নাগাদ। স্থানীয় থানার ওসি মনোজ সাহা সিজার লিস্টের চালানে সই করলেন। কলতান ওদের কাছে অনুরোধ করে ইলিনার খসে পড়া চুলের মধ্যে দুটো চুল চেয়ে নিল। তারা আপত্তি করেনি। কলতান বাড়ি ফিরল বেলা তিনটে নাগাদ। এই মুহূর্তে যে নামটা তার মনে সবার আগে আসছে সেটা হল তমাল, তমাল ঘোষ। তমালের নিজস্ব ফরেনসিক ইউনিট আছে। ফরেনসিক এবং ডিজিটাল টেকনোলজি এক্সপার্ট তমাল ঘোষ কয়েক মাস আগে ডানকুনির ... ...
আমি তোমাদের রাজনীতি বুঝিনাবাজারে গেলে সস্তায় চাউল কিনতে চাইসস্তায় মাছ,মাংস, ডিম,দুধ কিনতে চাইআজকাল দেশে নাকি গাভী ছাড়াই দুধ পাওয়া যায়কেমিক্যাল দিয়ে তৈরী দুধ আমরা প্রতিদিনই খাইআর আমাদের সরকার নাক ডেকে ঘুমায়খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল আমাদের কিছু যায় আসে নাআমি চাই আমাদের মেয়েরা নিরাপদে চলাফেরা করুকপাহাড়ের মেয়েরা কেন গণধর্ষণের শিকার হয়সংখ্যালঘুরা কেন নির্যাতিত হয়সরকার কি ঘুমিয়ে আছে?ফেইসবুক এ দেখলাম জামায়াতের মোল্লামন্দিরে দাড়িয়ে সংস্কৃত ভাষায় গীতা পাঠ করছেআর হিন্দু সম্প্রদায় খুশিতে উলুধ্বনি দিচ্ছেআর এক মোল্লা বলতেছেযারা জামায়াত করে তারা মোনাফেকতারা কি ক্ষমতা লাভের জন্যপ্রতিদিন দুই চামচ করে গু খাবে?এই আমরা কেমন দেশে বাস করি।একদল বলছে সংস্কার চাইঅন্য একদল বলছে পিআর চাইআর একদল বলছে আমরা ... ...
স্বীকারোক্তিএই লেখা কতদূর এগোবে জানা নেই। কেবলই অজানায় পা রেখে এগিয়ে যাওয়া। আমার জানা নেই, কীভাবে গদ্য লিখতে হয়। এমনকী কী ক’রে কবিতাও লিখতে হয়— জানা নেই, আমার। অনেক কথাই বলার থাকে, যা বলা যায় না কবিতায়। আর তাই বেছে নেওয়া গদ্যের এই পথকে, এই আবিষ্কারকে। যা দেখছি, যা শুনছি– সেইসবের ভিত্তিতেই লিখে চলা নিরন্তর। লেখার চেষ্টা করতে করতে বুঝেছি, শিল্পের এই পথ বড় কঠিন, আবার বড়ই সহজ। আজ পর্যন্ত মনের মতো একটা কবিতাও লিখতে পারিনি। অজস্র কবিতা লেখার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আদৌ সেগুলো কবিতা হ’য়ে উঠতে পেরেছে কি না জানা নেই আমার। আর গদ্য লিখিনি বললেই চলে। যখন যেমন ... ...
অশােক ও শােভন গ্র্যাজুয়েট হওয়ার পর থেকে দুই বৎসর অতিক্রান্ত হয়েছে। কিন্তু দুজনের কারাের কোনাে চাকরী হয়নি। শুধুমাত্র তাদের টিউটোরিয়াল হােমের উন্নতি হয়েছে। তাদের এই হােম থেকে অনেক ছাত্র ফাস্ট ডিভিশনে মাধ্যমিক পাশ করেছে এমন কি দুই একজন ছাত্রছাত্রী স্টারও পেয়েছে। ফলে তাদের হােমের’ ছাত্রছাত্রী সংখ্যা এখন অনেক। দুইবেলা তারা হােম খােলে। সকাল সাত ঘটিকা থেকে দশ ঘটিকা এবং সন্ধ্যা সাড়ে ছয় থেকে নয় ঘটিকা পর্যন্ত। প্রত্যেক গ্রুপে তিরিশ জন করে ছাত্রছাত্রী থাকে দুইজনে পনেরজন করে প্রতি সপ্তাহে চারদিন শিক্ষাদান করে। শুধুমাত্র নব এবং দশম শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীই এখন পড়াশুনা করে। দুইবেলায় মােট ৬০জন ছাত্রছাত্রী পঁচিশ টাকা করে দেয়। মােট দেড় ... ...
একটু ভুলের জনাে পরস্পরের মধ্যে যে বিভেদ সৃষ্টি হয়তার জন্যে অনেক তো মাশুল গুনতে হয়। সে কথা বলার আগে মনে করি দুই বন্ধুকে। আজ শােভন এসেছে, অশােকের কাছে। তারা দুজনেই পরীক্ষা দিয়েছে। বর্তমানে যা অবস্থা মনে হয় বছর খানেকের মধ্যে না হলে বি.এ., বি.এস.সি,পরীক্ষার রেজাল্ট বের হয় না। এই খবরটুকু তাদের জানা বলেই তারা দুজনে যুক্তি করে কিছু করতে চায়। কিন্তু কি করবে তারা। বর্তমান বেকার যুগে কিই বা করার আছে। অনেক আলােচনার পর তারা ঠিক করলাে তারা দুজনে মিলে টিউটোরিয়াল হােম খুলে স্বল্প বেতনে শিক্ষাদান করবে। কিছুদিনের মধ্যে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেল। তারা রূপাডিহির ও সােনাদিঘির সপ্তম শ্রেণী থেকে ... ...
কোনো সেলিব্রিটি গায়ক গায়িকা কিংবা নায়ক নায়িকা অথবা লেখক লেখিকাকে দেখেছেন মানুষের হয়ে কথা বলতে! সরকারের বিপক্ষে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করতে! হয়ত দেখেছেন। কিন্তু সংখ্যায় খুবই কম। বেশিরভাগ সেলিব্রিটিরা শাসকের হাতে তামাক খেতেই অভ্যস্ত। বরং শাসকের গুণগান করে নিজের নিরাপত্তার আসন পাকা করতেই ব্যস্ত থাকে। এমনকি নিজের কাজের মধ্যেও শাসক বিরোধী কোনো প্রতিফলিত চিত্র খুঁজে পাওয়া যায় না। পাছে শাসক রুষ্ট হয়ে যায়। পাছে তার আসন টলে যায়। সেই ভয়ে। শাসক তো চাইবেই অধীনে থাকা প্রত্যেকটি প্রজা যেন তার হয়েই কথা বলে। তারই জয়ধ্বনি দেয়। বিপক্ষবাদ শাসকের কখনোই পছন্দের হতে পারে না। কিন্তু শাসকের ভুল ধরানোর জন্য কিংবা মানুষের হয়ে কথা ... ...
সাধ ও সাধ্যের মধ্যে যে দূরত্ব, তা, জীবনের সুখের সঙ্গে ব্যস্তানুপাতিক। আর, বাঙালি মধ্যবিত্ত হলে তো কথাই নেই। যাকে বলে deadly combination. মধ্যবিত্তের চোখে হাজারো স্বপ্ন। সাধ্যের মধ্য বৃত্তের ভিতর থেকে বৃত্তের বাইরে তার মনের চলাচল। ফলে বাড়তে শুরু করে সেই দূরত্ব। সাধ এবং সাধ্যের। আর সুখ? সুখ তো আছে অন্য সেথায়। মন জানে সবই, কিন্তু মানতে পারে না। মনের এই দড়ি টানাটানির মধ্যে আর এক চিন্তার উদয় হলো। আচ্ছা, পাওয়ার মধ্যে যে সুখ, দেওয়ার মধ্যেও কি সেই একটি পরিমাণের সুখ? বোধহয় বেশি, তাইনা? এবার ভাবনা শুরু হলো; কি আছে আমার যা অন্যকেও ভাগ দি। জন্ম হতেই ওল্টানো হয়েছে বালি ... ...
শোভন ভাবে, দেশে ওষুধ কোম্পানিগুলোর প্রসার হচ্ছে দিন দিন। কোম্পানিগুলো নিয়মিত নতুন নতুন ওষুধ বাজারে নিয়ে আসছে। আর আগের ওষুধ তো আছেই। সেই ওষুধগুলোর পরিচিত চিকিৎসকদের কাছে তুলে ধরার দায়িত্ব মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের।এটি একটি চ্যালেঞ্জিং পেশা। যাঁরা এ পেশায় যেতে আগ্রহী, তাঁদের জন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হতে পারেন এ দুই ব্যক্তি। দুজনই নিজ নিজ পেশায় সফল। একেবারে নিচুতলা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছেন।এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে গ্লাক্সো, ওয়েথ ইন্টারন্যাশনাল, একমি ও আরএকের মতো ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানিগুলোয় কাজ করেছেন রফিকুল ইসলাম। অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বললেন, ‘এ পেশায় ভালো করতে হলে অবশ্যই দক্ষতা প্রয়োজন। তবে সেই সঙ্গে কাজের প্রতি নিষ্ঠা, প্রতিশ্রুতি ও সততা থাকতে ... ...
অভিনয় সকলেরই ভালাে হয়েছে। প্রত্যেক গ্রামের অভিজ্ঞ লােকেরা সকলের। অভিনয়ের প্রশংসায় মুখর। কিন্তু সকলের উর্ধ্বে যেন অরিন্দম। অরিন্দম একা,ছেলের চরিত্রে যা অভিনয় করে গেল তা সত্যি সকলের মনে দাগ রেখে গেল। পরের দিন সকালে অরিন্দম দেখে তরুণ যুবকেরা তাকে গুরু বলছে। তপন বলল, গুরু পায়ের ধুলো দাও। অরিন্দম বাড়িতে মা বাবাকে বলে গোপাল বাবুর বাড়ি গেল। গােপালবাবু আজ আশেপাশের পাঁচ ছয়টি গ্রাম থেকে একজন করে বা দুজন করে নিয়ে, আর নিজের গ্রাম থেকে আটজন অভিনেতাকে নিয়ে একটি বই মঞ্চস্থ করার মনস্থ করলেন। তার জন্য তো মহড়ার প্রয়োজন। সেই মহড়ার কাজ শুরু আজ থেকে। গোপালবাবুর সেই পুরানো দিনের বাড়ি। বাড়ি বললে ... ...
আবার সাঁতার শিখতে গিয়ে,ছোটোবেলার রায়পুকুরের রাধা চূড়ার ডালটা আজও আমায় আহ্বান করে হাত বাড়িয়ে। এই ডাল ধরেই এলোপাথারি হাত পা ছুড়তে ছুড়তে সাঁতার শিখেছি আদরের পরশে। ডুবন্ত জলে যখন জল খেয়ে ফেলতাম আনাড়ি চুমুকে, দম শেষ হয়ে আসতো তখন এই ডাল তার শক্তি দিয়ে ভালোবাসা দিয়ে জড়িয়ে ধরতো অক্লেশে। হয়তো পূর্ব জন্মে আমার দিদি হয়ে যত্ন আদর করতো এই ডালটা। কোনোদিন তাকে গাছ মনে করিনি আমি। এখনও জল ছুঁয়ে আদরের ডাক শুনতে পাই পুকুরের ধারে গেলে। রাধা নামের মায়াচাদর জড়ানো তার সবুজ অঙ্গে। ভালো থেকো বাল্য অনুভব। চিরন্তন প্রকৃতির শিক্ষা অঙ্গনে নাম লিখে যাক ... ...
বিশু ও সৈকতের বন্ধু, অরিন্দম গোপালবাবুর স্ত্রী সবিতাদেবীর কথা বলছে। এখন গোপালবাবু নেই। অরিন্দম আর যাত্রা করেনা। সে এখন লেখে নিজের জীবনের কথা, গোপালবাবুর কথা তার পরিবারের কথা। সে বলল,বিশুকেকে একটা জীবনের গল্প। তারা এখন অজয় নদের ধারে বসে জীবনের প্রবাহ দেখে।বিশু সবিতাদেবীর পাশেই থাকে। একই গ্রামে ন্বাড়ি। সবিতা দেবীর বয়স নব্বই ছুঁই ছুঁই। শরীরের নানারকমের অসুখ বাসা বেঁধেছে ডাক্তারবাবু বলেছেন কিডনি,হার্টের যা অবস্থা, বড়জোর আর কয়েকদিন বাঁচবেন। ছেলে একটা প্লাসটিকের গামলা কিনে দিয়েছে। বাথরুম শোবার ঘরের থেকে অনেক দূরে। ওই গামলায় পেচ্ছাপ করা যাবে। কিন্তু পায়খানা যেতেই হবে দূরে। ফলে রাতে দরজার তালা খুলে উঠোন পেরিয়ে বাথরুম যেতে হয়। ... ...
সৈকত ঐতিহাসিক স্থান ঘোরার জন্য ঠিক করল। সৈকত ঘোরার কথা বাবাকে জানালো।সে বলল আমরা চারবন্ধু গরমের ছুটিতে ঘুরতে যাব ঠিক করলাম।আমি, রাজু, শ্যামলী আর সোমা। চারজনই আমরা ইতিহাসের ছাত্র। এক কলেজে পড়ি। সোমা বলল, সাঁচি স্তুপ দেখে আসি চল। সৈকতের বাবা মা বললেন, সাবধানে যেও।আজ সকলে সৈকতের বাড়িতে আলোচনা করছে ঘুরতে যাওয়ার আগে। শ্যামলী বলল, মধ্যপ্রদেশের রাজধানী শহর ভূপাল থেকে ৪৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সাঁচির বিদিশাগিরিতে অবস্থিত বৌদ্ধ স্তূপ। সম্রাট অশোক এই স্তূপ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।রাজু বলল, হ্যাঁ ইতিহাসে পাওয়া যায় এইসব কাহিনী। অশোককের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার পরও কলিঙ্গবাসী পরাজিত হয়। এই যুদ্ধে প্রায় এক লক্ষ নরনারী প্রাণ হারায় এবং প্রায় ... ...