অভয় পালের মেয়ে চৈতালির মামলার ব্যাপারে অলোকেন্দু মিত্রের চিঠির জবাব এখনও আসে নি ও তরফ থেকে। এর মধ্যে সাগর একদিন দেখা করেছিল অলোকেন্দুবাবুর সঙ্গে। বলল, 'বটতলা থানায় এফ আই আর জমা করে দিয়েছি ... ' ---- ' রিসিভড কপি নিয়েছেন তো ? ' ---- ' হ্যাঁ নিয়েছি ... ' ----- ' আচ্ছা ঠিক আছে। আপনাদের আর কিছু করার দরকার নেই ... ...
রাত্রি একটু ভেবে নিয়ে বলল, ' তোদের বাড়িতে একদিন যেতে হবে রে সঞ্চারী। তোর দাদাভাইয়ের রিঅ্যাকশানটা ডায়রেক্টলি জেনে নিতে চাই। আমাদের জন্য প্রতিটি ফিডব্যাকই ইমপর্ট্যান্ট। নিখিল স্যার সেরকমই বলেন ... ' ----- ' ও ব্বাবা ... তোরা তো একেবারে ডেডিকেটেড সোলজার মনে হচ্ছে। দেখিস ... একটু ভেবেচিন্তে পা ফেলিস। জালে একবার জড়িয়ে গেলে কিন্তু আর বেরোতে পারবি না। আনবায়াসড জাজমেন্ট দিয়ে বিচার করা ... ...
সেদিন রাত্রে সঞ্চারী অমলের ঘরে ঢুকে দেখে অমল একটা ডায়েরিতে কি সব লিখছে। তাকে দেখে ডায়েরিটা বন্ধ করে দিল না। পাতা খোলাই রইল। সঞ্চারী বলল, ' কিরে ... গিয়েছিলি রাত্রির সঙ্গে ? ' অমল বলল, ' হ্যাঁ হ্যাঁ ... গিয়েছিলাম। নিখিল ব্যানার্জী বলে এক ভদ্রলোকের কাছে নিয়ে গিয়েছিল ... সিটি কলেজে ম্যাথসের প্রফেসর ... ' ----- ' কি জন্য নিয়ে গিয়েছিল ওখানে ? ' ----- ' ওই... ওদের একটা ... ...
অমল দশ মিনিট আগেই পৌঁছেছে বিবেকানন্দ রোডের মোড়ে। একটা আকাশি রঙের শার্ট আর মাখন রঙা প্যান্ট পরেছে। পরিপাটি করে চুল আঁচড়েছে। কেন এসব করেছে কে জানে। ছটা চল্লিশ নাগাদ পিছন থেকে কার গলা শোনা গেল ---- ' সরি সরি ... লেট হয়ে গেল ... চলুন ...চলুন ... ' পিছন ফিরে অমল দেখল ইউনিভার্সিটি ফেরতা ... ...
সন্ধে সাড়ে সাতটা নাগাদ দিবাকর সুমনার পড়ার ঘরে ঢুকে বলল, ' ফুচা ... তোকে কে একজন ডাকছে ... বাইরে দাঁড়িয়ে আছে। সাগর মন্ডল না কি একটা নাম বলল ... 'সুমনা হুড়মুড় করে নীচে নেমে এসে দেখল হাতে একটা খাম নিয়ে গেটের বাইরে সাগর দাঁড়িয়ে আছে। ----- ' আরে ... আসুন আসুন ... 'সাগর ভিতরে ঢুকল না। ওখান থেকেই ... ...
নরেণ পাল এল বেলা সাড়ে বারোটা নাগাদ। দিন পনের পরে এল। বলল, ' কি মাণিকবাবু ... ঘড়ির খবর কি ? আর কিছু ভুতুড়েপনা করেনি তো ? '------ ' এখন পর্যন্ত তো আর কিছু করেনি ... জানিনা, কখন কি করে ... ডাক্তার গোবিন্দ সেনের কথাই মনে হয় ঠিক ... ' মাণিকলাল বললেন। ----- ' কি ? '----- ' ওই যে ... চেতন অবচেতন ... কি সব বলছিল ... ... ...
নদীর জলধারার মতো নিরন্তর প্রবহমান জীবনস্রোতের টানে হঠাৎ কোথায় ভেসে চলে গেলেন বিভূতিবাবুর শ্বশুরমশাই প্রফুল্লবাবু কাল মাঝরাতে। হৃদযন্ত্রে ধাক্কাটা প্রকান্ড ছিল, চিকিৎসার কোন সময় পাওয়া যায়নি। বিভূতিবাবুর বাড়িতে খবর এল সকাল সাতটা নাগাদ। কোন পরিচিত পুরণো জনের মৃত্যু সংবাদ শোনামাত্র বহু যুগের শ্যাওলা পড়া স্মৃতিপটচিত্র দোল খেতে থাকে বুকের মধ্যে। শোকে যতটা না, স্মৃতিকাতরতার নখ আঁচড়ানো ব্যথার বিবশতা তার চেয়ে অনেক বেশি মুচড়ে ধরে মন। রামকান্ত বোস ... ...
কালীবাবু হিসেব করে একটু দেরি করেই গেলেন নিখিল ব্যানার্জীর বাড়ি যাতে তার কোচিং ক্লাস শেষ হবার সময় হয়ে যায়। সেটাই হল। কালীবাবু ওখানে পৌঁছন মাত্র ক্লাস শেষ হয়ে গেল। একতলার ঘর থেকে এই ব্যাচের জনা পনের ছাত্রী বেরিয়ে এল। তার মধ্যে সুমনা আর কাবেরীও ছিল। কালীবাবু অবশ্য তাদের কাউকেই চেনেন না। সুমনা স্যারের কাছে সেদিনের রঙমহলের ... ...
অঞ্জলি ভেবেছিল শিবপ্রসাদের কাছে গিয়ে রাত্রির ব্যাপার স্যাপার ফাঁস করবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অনেক ভেবেচিন্তে ব্যাপারটা থেকে পিছিয়ে আসল। ভাবল, ওসব গুন্ডা টুন্ডার ব্যাপার ... কখন কি করে বসে ... কাজ কি ওসব ঝঞ্ঝাটে গিয়ে ... নিজেরাই বুঝবে মজা ফাটা বাঁশে পড়লে ... মরুকগে যাক আপদগুলো ... আসলে শিবুদার জন্য খারাপ লাগে তাই.... মেয়েটা তো হয়েছে একেবারে সবজান্তা ... ...
সাগরের পরামর্শ অনুযায়ী চৈতালির শ্বশুরবাড়িতে চিঠি লিখল অভয় পাল। লিখল যে তার মেয়ে স্বামীর কাছে ফিরে যেতে চায়, তবে সে যেন নিজে এসে বৌকে নিয়ে যায়। ----- ' দেখুন কি বলে ... তারপর ভাবব কি করা যায়। এখানে ওরা আসবে বলে মনে হয় না ... কিছু একটা করবে। দেখুন কি করে ... ' সাগর বলল। সাগর যাবার সময়ে বলে গেল, ' আমরা যাচ্ছি এখন ... কোন দরকার হলে ... ...