এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  অন্যান্য

  • আমার সকল ভালোবাসায় ...

    siki
    অন্যান্য | ২৮ জুন ২০১৩ | ২০৬৬৯ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • siki | 132.*.*.* | ২৮ জুন ২০১৩ ০২:২৮612368
  • (১)

    সাদা পায়রা এদিকে নেই বললেই চলে। কেবল এই একটা ছাড়া। বাকি তো সব কেমন গাঢ় ছাই রঙের। আলাদা কোনও সৌন্দর্য নেই। বছরের পর বছর ধরে দেখতে দেখতে চোখে বসে গেছে। কিন্তু এই সাদা পায়রাটা রোজ আসে। সক্কাল সক্কাল। বাকি ধুসর পায়রাগুলোও, বোধ হয় তার গায়ের রঙের জন্যেই, তাকে খুব সম্ভ্রম করে চলে। সে যখন দানা খায়, বাকি পায়রাগুলোও খায়, তবে একটু দুরত্ব রেখে। পেটটা ভরে গেলে সে নিজেই উড়ে চলে যায়। কোথায় থাকে কেউ জানে না, কোথা থেকে আসে, কেউ জানে না। সারাদিনে তাকে আর দেখা যায় না। আবার কাল সকালে আসবে।

    সাদা পায়রাকে উর্দুতে বলে মসক্‌কলি। সক্কাল সক্কাল উঠে রান্নাঘরের একঘেয়ে কাজকর্মের মধ্যে ঢুকে পড়তে পড়তে চোখ চলে যায় পাশের ব্লকের টেরেসে। পনেরোতলার বাসিন্দা রোজ সকালে চাল ডাল ছড়িয়ে রাখে সেখানে, এই সোসাইটির পুরো পায়রাগুষ্টির সারাদিনের খোরাক সে একাই জোগায়। দু চারটে কাকও ওই দলে জোটার চেষ্টা করে মাঝেসাঝে, কিন্তু পায়রাদের ভিড়ে তারা বিশেষ সুবিধে করতে পারে না, উড়ে চলে যায় দূরে মাছমাংসের বাজারের দিকে।

    রাজীব এখনও ঘুমোচ্ছে, ঘুমোচ্ছে রণ আর রুম্পাও। রুটি সেঁকার কাজটা সেরে নিয়ে এক এক করে ডাকতে হবে সবাইকে। তারা যতক্ষণে রেডি হবে, ততক্ষণে আমাকে তরকারি ডাল বানিয়ে ফেলতে হবে, রণ-রুম্পার ব্রেকফাস্ট বানিয়ে ফেলতে হবে, সব্বাই বেরিয়ে গেলে তারপরে নিজের দিকে তাকাবার সময় পাব। এ আমার রোজকার রুটিন। আট-দশ বছর ধরে একভাবে বয়ে চলেছে, কী সকাল, কী গ্রীষ্ম। আমার স্কুল শুরু হয় একটু দেরিতে। সবাই বেরিয়ে যাবার পরে তাই আমি তৈরি হই। একা।

    অবিশ্যি একা আমি সারাদিনই। আমি মানুষটাই বোধ হয় সুবিধের নই। অন্যরকমের। স্কুলের কলীগদের সাথে বনে না, নেহাত সারাদিনে কয়েক ঘণ্টা একসাথে কাটাতে হয় বলে যতটা না মিশলে চলে না, ততটাই মিশি। এ ছাড়া বিশেষ সাতেপাঁচে থাকতে পারি না। পোষায় না। ওদের গসিপের টপিক, ওদের মানসিকতা, ওদের শাশুড়ি-ব্যাশিং বা স্বামীসোহাগের আলোচনা, কোনওটাই আমাকে ঠিক সেভাবে নাড়া দেয় না, মনের মধ্যে কখনও কোনও ইচ্ছে জাগে না সেসব আলোচনার মধ্যে ঢুকতে। স্কুলের পড়ানো, কাজকর্মের মধ্যে যতটা পারি সময় কাটিয়ে দিই, বাকিটা বইপত্র পড়ে কাটাই। ফিরে এসে আবার বসতে হয় ছেলেমেয়েদের নিয়ে। তার সাথে ঘরের সমস্ত কাজ।

    আর রাজীব? হ্যাঁ, সে-ও ফিরে আসে সন্ধ্যেতেই। তবে তার পরেও তার অফিসের কাজ থাকে, তাই চা খেয়েই ল্যাপটপ নিয়ে সে চলে যায় নিজের ঘরে। কল চলে, কাজ চলে, সেই সময়ে তার কাছে কেউ গেলে বিরক্ত হয়। রণ-রুম্পা হোক, বা আমি। এর মানে এমন নয় যে, সংসারের প্রতি, বাচ্চাদের প্রতি তার কোনও দায়বদ্ধতা নেই। আছে। প্রতিদিন অফিস থেকে বেরোবার আগে আমাকে ফোন করে জেনে নেয়, কিছু আনার আছে কিনা। যেদিন যেমন দরকার, বলে দিলে সব ঠিক ঠিক এনে দেয়। কখনও কোনও কারণে মেজাজ খারাপ করে না। রাগে না। দায়িত্ববোধ, সামাজিকতা, সমস্ত জরুরি এবং অপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলোতেই তার কন্ট্রিবিউশন একেবারে মাপে মাপে বাঁধা, নিক্তিতে ওজন করা।

    শুধু, সমস্তটাই হয়ে চলে, নিতান্ত যান্ত্রিকভাবে। আমরা কথা বলি, নেহাতই সাংসারিক কেজো কথা। নিজেদের কথা বলি না। হাসিঠাট্টা করি না। ভালোবাসি না। শেষ কবে রাজীব আমার গায়ে ভালোবেসে হাত রেখেছে, মনে পড়ে না। রণ-রুম্পা কিছুদিন আগেও আমাদের সাথে শুত, এখন বড় হয়ে যাচ্ছে বলে ওদের আলাদা ঘর করে দেওয়া হয়েছে, বাঙ্ক বেডে ওপর নিচ করে ওরা শুয়ে পড়ে, আমরাও শুয়ে পড়ি আমাদের ঘরে। ঘুমিয়ে পড়ি। কখনও রাজীব আগে, কখনও আমি। আমরা ঘুমোই আবার পরের দিন উঠে আরেকটা সকাল শুরু করতে হবে বলে। ভালোবাসার, ঘনিষ্ঠ হবার সময় কোথায়? তা ছাড়া, দু-দুটো বাচ্চা হয়ে যাবার পরে আর ভালোবাসার থাকেই বা কী?

    মনে প্রাণে বিশ্বাস করে নিয়েছিলাম। ভালোবাসার থাকেই বা কী? রুম্পার জন্মের পর রাজীব যখন আস্তে আস্তে নিজেকে উইথড্র করে নিল, মুড়ে ফেলল নিজেকে কাজের পরতে পরতে, প্রথম প্রথম কত কীই ভেবে ফেলেছিলাম। রুম্পা যখন হয়, তখন আমাদের বিয়ের বয়েস চার। রণ জন্মায় বিয়ের ঠিক দেড় বছরের মাথায়। তখনও পর্যন্ত ব্যাপারটা ঠিকই ছিল। রাজীবের দিক থেকে তেমন উৎসাহ না পাওয়া গেলেও মোটের ওপর আমরা প্ল্যান করেই রুম্পাকে এনেছিলাম। সেই রুম্পার জন্মের পরে হঠাৎ করে রাজীবের পালটে যাওয়া দেখে, প্রথমে মনে হয়েছিল, তবে কি ও মেয়ে হয়েছে বলে অখুশি? ও আরেকটা ছেলে চেয়েছিল? না। ।। সে রকম কিছু কখনও মনে হয় নি ওর ব্যবহারে। ছেলে মেয়ে, দুজনকেই সমান আদর দিত, দুজনের জন্যই সমান রাত জেগেছে ও।

    পরে মনে হত, দুই সন্তানের জন্ম দিয়ে আমি বোধ হয় খুব পুরনো হয়ে গেছি ওর কাছে। বোধ হয় নতুন কাউকে পেয়েছে ও, নিজের চাকরির জায়গায়, কিংবা নিজের সোশ্যাল নেটওয়ার্কে, কিংবা অন্য কোথাও। অন্য কারুতে মজেছে রাজীব, আমাকে আর তার ভালো লাগে না। সন্দেহ করেছি, প্রচণ্ড অন্যায় জেনেও ওর মোবাইলের মেসেজবক্স চেক করেছি, বিনা কারণে ওর ওপর রাগ করে প্রচণ্ড চেঁচামেচি করেছি। রাজীব তো রাগ করে না, রাজীব তো মেজাজ হারায় না, আমার চেঁচামেচিতে ও গম্ভীর হয়ে আরও গুটিয়ে নিয়েছিল নিজেকে।

    কিছুদিন কথা বলা বন্ধ হয়ে ছিল, তারপরে যা হয়, কালের নিয়ম আর সংসারের প্রয়োজন, ঠিক কথা বলিয়ে নেয়। নিয়েওছিল, দু তিনদিনের মধ্যে। আমরা আবার স্বাভাবিকতায় ফিরে এসেছিলাম। শুধু ফিরে আসে নি আর আমাদের মধ্যেকার দাম্পত্যের উষ্ণতা। এক ধূ-ধূ ঠাণ্ডা শুন্য প্রান্তর আমাদের মাঝখানে বেড়ে উঠেছে সেদিন থেকে। ফুলের মত দুটো বাচ্চা সে শুন্যতা মুছে ফেলতে পারে নি।

    ওরা বোধ হয় বোঝে। একটু বোধবুদ্ধি হবার পর থেকে, খুব দরকার না হলে আর ওরা বাবার কাছে ঘেঁষে না। যদিও ছুটির দিনে ওদের গানের স্কুল, সাঁতারের ক্লাস, সব কিছুতেই পৌঁছে দিয়ে আসা, নিয়ে আনার কাজ বাবাই করে, বাবাই ওদের কার্টুন চ্যানেলে নতুন ভালো কার্টুন প্রোগ্রামের সন্ধান এনে দেয়, ওদের ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের ডিভিডি কিনে দেয়, টিনটিনের বই কিনে দেয়, মানে এক আদর্শ কেজো-বাবা বলতে যা বোঝায়, রাজীব পারফেক্টলি সে-সব দায়দায়িত্ব পালন করে সুচারুভাবে। কিন্তু সোম থেকে শুক্র, আর কখনও সখনও ছুটির দিনেও, রাজীব সম্পূর্ণরূপে ওয়ার্কোহলিক। তখন রাজীবের ধারেকাছে ঘেঁষা যায় না।
  • rivu | 140.*.*.* | ২৮ জুন ২০১৩ ০৭:০০612479
  • বাহ ভালো হচ্ছে সিকি
  • শ্রী সদা | 132.*.*.* | ২৮ জুন ২০১৩ ০৯:২১612590
  • গুড হচ্ছে। চলুক।
  • cm | 116.*.*.* | ২৮ জুন ২০১৩ ০৯:২৯612658
  • তারপর?
  • siki | 132.*.*.* | ২৮ জুন ২০১৩ ০৯:২৯612647
  • (গুড মোটেই হচ্ছে না। খামোকা পিঠ চুলকুনি দিয়ে তো লাভ নেই। বহুদিন খরা চলছে, লেখাজোখা কিছু হয়ে উঠছে না, তাই বসলাম। যা হোক কিছু মাথায় আসছে, লিখে ফেলার চেষ্টা করছি। কোথায় শেষ করব, জানি না। তবে শেষ হবেই, যদি মনে হয় শেষ করা উচিত। যদি আরও বেশ কিছুটা লিখে মনে হয় ব্যাপারটা একেবারেই কিস্যুটি দাঁড়াচ্ছে না, সেক্ষেত্রে কাটিয়ে দিতেও পারি।

    এখনও পর্যন্ত যেটুকু লিখেছি, আমার নিজের পোষায় নি। জাস্ট স্ট্যাক করে রাখার জন্য টইটা খুলে রেখেছি :) যাতে পরের দিনও লিখতে বসতে পারি। কী বাজে স্বভাব হয়ে গেছে, নিচে সাবমিট বাটন দেখতে না পেলে আজকাল আর লিখতেই ইচ্ছে করে না!)
  • শ্রী সদা | 132.*.*.* | ২৮ জুন ২০১৩ ০৯:৩০612669
  • বেশ তাহলে ব্যাড হচ্ছে। খচে যাও ক্যান ঃ)
  • কৃশানু | 177.*.*.* | ২৮ জুন ২০১৩ ০৯:৩৭612680
  • গুদ হোক, ব্যাড হোক পড়ছি।
  • siki | 132.*.*.* | ২৮ জুন ২০১৩ ০৯:৩৯612691
  • খচি নাই। :) সুগারকোটিং দিস নি আশা করি। না জমলে সোজা বলে দে বস জমছে না :) মানে যে কোনও টাইমে বলে দিতে পারিস। যদি সত্যিই ভালো লেগে থাকে, তা হলে থ্যাঙ্কিউ :))

    সিএম, প্রতি রাতে কিছু কিছু করে তুলব। আবার আজ রাতে।
  • শ্রী সদা | 132.*.*.* | ২৮ জুন ২০১৩ ১০:২৬612702
  • আরে জমার মত পরিস্থিতি এলে তো জমবে। এই অব্দি নিরাশ হইনি, এটুকু বলতে পারি। জমছে কি জমছে না বোঝার জন্যে আরো দু-তিন কিস্তি পড়া দরকার। লিখে চলো।
    কিন্তু কিশানুদা এটা ক্ষী লিখলো?????
  • siki | 132.*.*.* | ২৮ জুন ২০১৩ ১০:৪১612369
  • :)))
  • dd | 69.*.*.* | ২৮ জুন ২০১৩ ১০:৪২612380
  • আমি পাকামী করবই।

    তোমার কিন্তু অনুবাদের ভাষা খুব ঝরঝরে ছিলো। "আমি এক সারভাইভার" - বলে শুরু করতেই লেখা চনমন করে ওঠে।ভাগ্গিস অনুবাদের জন্য সারভাইভারের বাংলা করতে বসো নি। তেমতি এখানে "দায়বদ্ধতা"টা ঢুকেছে, পাতি রেসপনসিনিলিটি কিন্তু অনেক ভালো বাংলা। বা গায়ে হাত দিয়ে আদর করে না'র বদলে আর সেক্স নেই। ইঃ এরম লিখতে পারতে।

    কিন্তু আড়ষ্ঠ লাগছে। ভাষা।

    আরে ঃ, ঠিক আছে। অতো অভিভুতো হতে হবে না।
  • siki | 132.*.*.* | ২৮ জুন ২০১৩ ১০:৫১612391
  • ডিডিদা কিছুটা ঠিক ধরেছে।

    সারভাইভারের ঠিক বাংলা হয় না। তাই সারভাইভার লেখা। দায়বদ্ধতা কথাটা কিন্তু কলোক্যুয়াল বাংলায় এখনও চলে, আমি নিজেও ইউজ করি। যদিও আজকের মেয়ে রেসপনসিবিলিটি বলে কথায় কথায়, তবে রেসপনসিবিলিটি মানে দায়িত্বশীলতাও হয়। দায়বদ্ধতায় যে দমবন্ধ করা চাপটা আছে, দায়িত্বশীলতায় সে চাপটা নেই।

    সেক্স নেই, হ্যাঁ, সেটাই মূল প্রতিপাদ্য, যেটা বোঝবার চেষ্টা করছি, কিন্তু সেক্স নেই -- এক কথায় লিখে দিলে তো এত লাইন লেখাই যেত না। :) স্বগতকথনেও একজন মেয়ে ফট করে স্বামীর সঙ্গে আমার বহুদিন হল সেক্স নেই, এমন কথা বলে ফেলতে পারবে বলে মনে হয় না। সানি আর কি। তবে "গায়ে হাত দিয়ে" কথাটা খুব পানসে ঠেকছে, ওটা বোধ হয় "শরীরে হাত দিয়ে" লিখলে আরেকটু ভালো হত, পরে পড়তে গিয়ে মনে হল।

    পায়রাগুলোকে দিয়ে কেন গল্পটা শুরু করলাম, সেটা এখনও বুঝতে পারছি না। বিশেষ কোনও দরকার ছিল না। ঐ ব্যাপারটা নিয়ে এখনও ঘেঁটে আছি।
  • siki | 132.*.*.* | ২৮ জুন ২০১৩ ১০:৫২612402
  • ভাষা আড়ষ্ট। প্রায় দু বছর বাদে লিখতে বসছি। জোর করে, ইচ্ছের বিরুদ্ধে।
  • dd | 69.*.*.* | ২৮ জুন ২০১৩ ১০:৫৭612413
  • হ্যাঃ, বৌমার সাথে ঝগড়ার সময় "তোমার অ্যাকটা রেসপনসিবিলিটি নেই? আক্কেল নেই" এইসব বলো না "তোমার দায়বদ্ধতা নেই? সামাজিন নির্মানের তো মাথাটি খেয়েচো?" এরম বলো ?

    ঘোর কলি।
  • Rivu | 78.*.*.* | ২৮ জুন ২০১৩ ১২:৪২612424
  • আগের পোস্টটা পড়ে প্রায় তেত্রিশ সেকেন্ড হেসেছি.

    ছোট থেকেই গেঞ্জি ও জাঙ্গিয়ার এড দেখে বিরক্ত হয়ে গেছি. এই প্রথম এক ডিডি দেখলুম যার উপর চোখ বন্ধ করে ভরসা করা যায়. কখনো হতাশ করেন না.
  • san | 69.*.*.* | ২৮ জুন ২০১৩ ১২:৫১612435
  • আরে, আগে তো লিখে চলো, সবে তো শুরু। আরো হোক।

    ইসে, "স্বগতকথনেও একজন মেয়ে ফট করে স্বামীর সঙ্গে আমার বহুদিন হল সেক্স নেই, এমন কথা বলে ফেলতে পারবে বলে মনে হয় না।" -- পড়ে হাসব না হতভম্ব হবো বুঝতে পাচ্ছিনা ঃ-D
  • b | 135.*.*.* | ২৮ জুন ২০১৩ ১৫:২৮612446
  • সিকি লিখতে থাকুন।
  • | 24.*.*.* | ২৮ জুন ২০১৩ ১৬:৫৯612457
  • সিকির সানিগুলো .............. :-)
  • h | 213.*.*.* | ২৮ জুন ২০১৩ ১৭:২৫612468
  • এই যে আত্মনিয়ন্ত্রন, এইডা খ্যাল করবেন।
  • siki | 132.*.*.* | ২৯ জুন ২০১৩ ০২:১২612480
  • এখন আস্তে আস্তে বুঝি, এ বোধ হয় হবারই ছিল। দাম্পত্যের প্রাথমিক উন্মাদনা কাটিয়ে ওঠার আগেই আমরা পেয়েছিলাম প্রথম সন্তানকে, তারপরে ধীরে ধীরে সংসারের জালে জড়িয়ে গেলে বোধ হয় আর কিছু ভাবার সময় থাকে না। ছেলেমেয়ের বড় হয়ে ওঠার দিন গুনতে গুনতে বয়েসও বেড়ে যায়, ভালোবাসার ঘোর বোধ হয় শেষই হয়ে যায় এক সময়ে। অন্য কোনও মেয়ের প্রতি ঝোঁক নয়, রাজীব আসলে তার প্রফেশনের সঙ্গেই জড়িয়ে গেছে আষ্টেপৃষ্ঠে। কাজ আর নিজের জগতের মধ্যেই ডুবে থাকে, বা বলা ভালো, ডুবে থাকতে পছন্দ করে সে এখন। কাজ, খবরের কাগজ আর নিউজ চ্যানেল। এর বাইরে আর কোনওকিছুই তার কাছে ইমপর্ট্যান্ট নয়। পরিবার নয়। আমি নই।

    তা ছাড়া, মানসিকতার তফাত তো ছিলই। শুরুতে যখন আমরা একে অপরকে জানছি, ভেবেছিলাম, ওটুকু মিসম্যাচ আমরা মেকআপ করে নেব। আমি গানপাগল, রাজীবকে গান তেমন টানে না। আমি বইপত্র, সাহিত্য, কবিতা, পড়তে ভালোবাসি, রাজীব ভালোবাসে টেকনিকাল ডকুমেন্টেশন আর খবরের কাগজ পড়তে। আমি বেড়াতে ভালোবাসি, প্রতি বছর বেড়াতে যাবার স্বপ্ন বুনি মনে মনে, এটা জেনেও যে, এ বছরেও হয় তো কোথাওই যাওয়া হবে না; রাজীবের বেড়ানো টেড়ানো একেবারে পছন্দ নয়, ওর কাছে বাড়তি টাকাপয়সা মিউচুয়াল ফান্ড বা শেয়ারে খাটানো অনেক বেশি রিয়েলিস্টিক আইডিয়া।

    এ রকমের ফারাক তো কত কাপলেরই থাকে, অনেকের অনেক বেশি রকমের আলাদা টেস্ট হয়, মানসিকতা হয়, এসব তো জীবনের অঙ্গ, দু তরফেই কিছু কিছু করে কম্প্রোমাইজ আর স্যাক্রিফাইজ করে জীবন তো চালিয়ে নেওয়া যায়, যায় না কি?

    যায় তো। কে বলেছে, যায় না? আমাদের জীবন চলে যাচ্ছে না? এক ছেলে, এক মেয়ে নিয়ে সুখে শান্তিতে জীবন কাটছে না আমাদের? দুজনেই ওয়ার্কিং, টাকাপয়সার তেমন কোনও অভাব নেই, শাশুড়ির সাথে ঘর করতে হয় না, শ্বশুরের সেবা করতে হয় না, নিজেদের মত স্বাধীন জীবন। এর বেশি কী চাওয়া যায়? আমাদের একসাথে দেখলে কেউ বলবে আমাদের মধ্যে কোনও সমস্যা আছে? রাজীবের মত ওয়েল কম্পোজড ছেলে, আমার মত ওয়েল বিহেভড মেয়ে, দম্পতি হিসেবে তো আদর্শ! আদর্শই তো আমরা, সকলের চোখের সামনে। দিনের আলোয় মাঝখানের ওই শূন্যতাকে দেখা যায় না।

    দেখা যায় যখন সবাই ঘুমিয়ে পড়ে, আর আমরা ঘুমোতে আসি। কেউ দেখতে পায় না, শুধু আমি দেখতে পাই। রাজীবও পায় কিনা, জানি না। অনেকদিন আগে, রিফিউজড আমি, প্রশ্ন করেছিলাম। আমাকে সত্যি আর তোমার ভালো লাগে না?

    স্পষ্ট উত্তর পাই নি। আর কখনওই পাই নি। সেই থেকে উত্তরের অপেক্ষায় আছি। প্রত্যাখ্যান পেয়েছি আরও কয়েকবার, তারপর সেই প্রত্যাখ্যানকেই স্বাভাবিক বলে সয়ে নিতে শিখেছি। মাঝখানের সেই ফাঁককে জীবনের অঙ্গ, পার্ট অফ লাইফ বলে স্বীকার করে নিতে শিখেছি। বছরের পর বছর গড়িয়েছে। আমরা এখন হ্যাপি কাপল। পরিণত। হ্যাপি অ্যান্ড ম্যাচিওরড। অ্যান্ড সামহোয়্যার লোনলি।

    একাকীত্ব নিয়ে ভাবি নি তো বেশিদিন! এমনিতেই খুব বেশিমাত্রায় সোশ্যাল আমি নই, তার ওপর দুটো বাচ্চাকে নিয়ে দিব্যি সময় কেটে যায়। ওরা ঘুমিয়ে পড়ার পরে কখনও সখনও এনার্জি থাকলে আধঘণ্টা একঘণ্টার জন্য কম্পিউটার খুলে বসি, ঘুমের সময় থেকে সময় চুরি করে। মেল চেক করি। ফেসবুকে পুরনো বন্ধুদের মুখ দেখি। তাদের ছবি লাইক করি, পোস্ট শেয়ার করি, কখনও সখনও চ্যাটে এর ওর সাথে হাই হ্যালো, কেমন আছিস, এটুকু করেই উঠে পড়তে হয়।

    এই তো, এইসব নিয়ে মিলেমিশেই দিব্যি আছি। নিজের পাওয়া-না-পাওয়ার হিসেব করার, নিজের একাকীত্বের অথবা বহুত্বের কথা ভাববার আর সময় মেলে কখন? ঘুমে তো চোখ জড়িয়ে আসে তার মধ্যেই।

    ফেসবুক। একঘেয়ে দমবন্ধ জীবনযাপনের মধ্যে একটুখানি খোলা জানলা। পুরনো বন্ধুদের মুখ দেখতে পাই, নতুন লোকজনের সাথে আলাপ হয়ে যায়, কী রকম যেন বুঁদ করে রাখে আমাকে কিছুক্ষণের জন্য। সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং্যে আসক্ত হবার নতুন করে বয়েস এখন আমার আর নেই, তবু বুঝতে পারি, একটু হলেও নেশা লাগে।

    নেশা লাগে, যেদিন লগ ইন করলে ওপরের দিকেই রণজয়ের পোস্ট দেখতে পাই। রণজয়ের ছবি দেখতে পাই।

    রণকে খুঁজে পেয়েছি মাত্রই কয়েক মাস আগে, মহুয়ার ফ্রেন্ডস লিস্ট থেকে। বিশেষ পালটায় নি ওর মুখচোখ। ফেসবুকের প্রোফাইল বলছে ও এখন ব্যাঙ্গালোরে সেটলড। দীপালি আর এক মেয়েকে নিয়ে বোধ হয় সুখেই আছে। সফটওয়্যারে কাজ করে, মাঝেমধ্যে টুকটাক বিদেশ চলে যায়। এই অস্ট্রেলিয়া, তো এই প্যারিস। ঘুরে বেড়ায়, ছবি তোলে, ছবি পোস্ট করে। লেখাজোখাও বোধ হয় করে এখনও। কোনও একটা সাহিত্য পত্রিকার অনলাইন এডিশনের সঙ্গে যুক্ত।

    আমি রণকে কোনওদিনও জানতে দিই নি। সেই স্কুলজীবনের পর আমাদের আর দেখা হয় নি। ও চলে গেছিল দুর্গাপুরে ইঞ্জিনীয়ারিং পড়তে। পরে খবর পেয়েছিলাম দীপালিকে ও প্রপোজ করেছে, দীপালির সাথে ওর বিয়ের খবর আমি আর পাই নি। তারপর এই এতদিন বাদে ফেসবুকে ওদের ছবি দেখলাম। রণকে দেখলে জাস্ট বোঝা যায় না মাঝখানে ওরও পনেরোটা বছর বয়েস বেড়ে গেছে। এখনও একই রকমের ইয়ং দেখতে রয়ে গেছে। বরং দীপালির চোখেমুখে মনে হল, একটু বয়েসের ছাপ পড়েছে। ছবি দেখে যতটুকু বোঝা যায় আর কি। দীপালি আমার সেকশনেই পড়ত, ফার্স্ট হত। আমি সেই অর্থে ভালো মেয়ে ছিলাম না বলে ওর সাথে বসার সুযোগ পাই নি কোনওদিনই। পরীক্ষার মার্কস অনুযায়ী সহপাঠীদের মধ্যে স্ট্যাটাস মেনটেন করা হত আমাদের স্কুলে। দীপালি ছিল গুড গার্ল, আর আমি ছিলাম নট-সো-গুডদের দলে। মাধ্যমিকের পর আমি আর্টসে চলে যাই, ও চলে যায় সায়েন্সে। দীপালির সাথে আমার কখনওই তেমন সখ্য ছিল না, রণজয়ের সাথে ও ফিজিক্স কেমিস্ট্রি পড়ত এক ব্যাচে। অন্যদিকে রণজয় আমার সাথে এক ব্যাচে বাংলা ইংরেজি পড়ত। কীভাবে আস্তে আস্তে রণের জন্য পাগল হয়েছিলাম, আজ নিজেরই আর মনে পড়ে না। এক ব্যাচে বাংলা ইংরেজি পড়লেও, রণ ছিল আমার চোখে খুব দূর গ্রহের লোক। ক্লাসে ফার্স্ট সেকেন্ড হত, জানতাম, সায়েন্স স্ট্রিমের ছেলে হয়েও বাংলা টেস্টপেপারের মক টেস্টে ও হেসেখেলে আমাদের থেকে বেশি নম্বর পেত।

    আমরা জানতাম, রণ অনেক দূর পর্যন্ত যাবে। গেলও। দুর্গাপুর, তারপর দিল্লি, এখন ব্যাঙ্গালোর। কোনও কোম্পানির খুব ভালো পোস্টে চাকরি করে নিশ্চয়ই। আমার কথা আলাদা করে ওর মনে থাকবে, এ আশাই আমি করি নি। ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানোর আগে তাই তিন রাত ধরে ভেবেছিলাম। কী দরকার, সব যখন চুকেবুকেই গেছে, নতুন করে আর জীবনে টেনে আনার কী দরকার? রণ রণের মত থাক, আমার জীবনে তো আর এক ছোট্ট রণ আছেই। রাজীব ওর অন্য নাম ঠিক করেছিল, কিন্তু রণজয়কে তখনও আমি মন থেকে মুছে ফেলতে পারি নি, রাজীবের সাথে এক রকম প্রায় জেদ করেই ছেলের ডাকনাম রণ রেখেছিলাম। কী সুখ পেয়েছিলেম সেই জেদে জিতে, জানি না। ভালো নামটা অবশ্য রাজীবই পছন্দ করে দিয়েছিল।

    সেই রণকে পেলাম ফেসবুকের পাতায়। এক রকমের মুখ। সেই এক রকমের শিহরণ ধরানো চোখ। কেউ জানে নি কখনও, রণজয়কে আমি পাগলের মত ভালোবেসেছিলাম। রণজয়কেও জানতে দিই নি কখনও, ওকে নিজের করে পাবার আশা করি নি তো কখনও। একলা মনের মধ্যে পুষে রেখেছিলাম আমার সেই অনুভূতি, এতগুলো বছর ধরে। বয়েস বেড়েছে, জীবনের রঙে হাল্কা ধূসরের ছোঁয়া লাগতে শুরু করেছে, নিজেই ভেবে নিয়েছিলাম, সেদিনকার সদ্য যৌবনের পাগলামি, আজ বোধ হয় আর কিছু অবশিষ্ট নেই। ... ভুল ভেবেছিলাম। রাতের নির্জনতায় মাত্র কটা দিন চ্যাটে বসার পরেই বুঝলাম আমি আর সামলাতে পারছি না নিজেকে। সব কিছু ছেড়ে পাগলের মত গিয়ে রণের বুকে ঝাঁপিয়ে পড়তে ইচ্ছে করছে, এই বয়েসেও। স্বামী, সন্তান নিয়ে সম্পূর্ণ একটা সংসার এত বছর ধরে চালিয়ে নিয়ে যাবার পরেও রণজয়ের প্রতি আমার টান এতটুকু কমে নি। আজও আমি ওকে সেইভাবেই চাই।

    অপরাধবোধ জেগেছে মনে। আমি ঠকাচ্ছি। নিজেকে। রাজীবকে। আমার ছেলেমেয়েদের। এ উচিত নয়। আমাদের সকলেরই অনেক বয়েস হয়েছে। নিজের নিজের জীবন তৈরি হয়ে গেছে। রণজয়ের সার্কল সম্পূর্ণ আলাদা, সেখানে আমি আর খাপ খাই না। আমার জীবনও সম্পূর্ণ আলাদা, রণজয়কে সেখানে ভাবতেই পারি না আর। তবু সামলাতে পারি না নিজেকে। নিষিদ্ধ অপরাধের যেমন একটা আকর্ষণ আছে, সেই আকর্ষণের জালে আমি নিজেই নিজেকে বেঁধে ফেলেছি আস্তে আস্তে। লুকিয়ে লুকিয়ে দেখেছি রণের অনলাইন অ্যালবামের ছবি। জোর করে অস্বীকার করেছি ওর পাশে দীপালির উপস্থিতি। আচ্ছা, দীপালিকে নিয়ে ও-ও কি সুখী? ওদের মধ্যে বোধ হয় শূন্যতা নেই কোনও, হবেও বা। ছবি দেখে কী বোঝা যায়!

    একটু একটু করে সাহস সঞ্চয় করে, কাল প্রথমবার আমি রণের কাছে কনফেস করেছি সব। স-ব।
  • nina | 78.*.*.* | ২৯ জুন ২০১৩ ০৩:২৬612491
  • ওব্বাবা--রণজয় তো আধুলি----
    বেশ মোক্ষম জায়গয় থেমেছিস --একে বলে থামতে জানার আর্ট------বেশিক্ষণ বসিয়ে রাখিস না পিলিজ।
  • | 37.*.*.* | ২৯ জুন ২০১৩ ০৯:৩৬612502
  • অলাপ্রে নিয়ে কিছু লিখবো ভাবছিলাম, সিকির লেখায় দেখছি এসেগেছে, দেখি কোথায় যায় :)
    ভালো হচ্ছে।
  • siki | 132.*.*.* | ২৯ জুন ২০১৩ ০৯:৪২612513
  • অলাপ্রে বোলে তো?
  • | 37.*.*.* | ২৯ জুন ২০১৩ ০৯:৪৭612524
  • অন্‌লাইন প্রেম ঃ)
  • জিগীষা | 127.*.*.* | ৩০ জুন ২০১৩ ২৩:২৯612535
  • ভাল লাগছে :)
  • siki | 132.*.*.* | ০১ জুলাই ২০১৩ ০৮:২৬612546
  • থেংকু।

    দুদিন টাইম হয় নাই। আবার আজ রাতে :-)
  • dukhe | 212.*.*.* | ০১ জুলাই ২০১৩ ০৯:১৭612557
  • সিকি মানেই পরকীয়া। ছিল, আছে, থাকবে।
  • Sibu | 183.*.*.* | ০১ জুলাই ২০১৩ ১০:৪০612568
  • চারুলতা ২০১১ তে এই ফেবু পরকীয়া পোচ্চুর বোর করেছিল। সিকি একটা ভালমত টুইস্ট দেয় কিনা দেখার জন্য বসে আছি।
  • siki | 132.*.*.* | ০১ জুলাই ২০১৩ ১১:০৭612579
  • টুইস্ট?

    এটুকু বলতে পারি, গল্পটা বানানো হচ্ছে "সইত্য ঘটনা অবলম্বনে"। এখন সইত্যের পথ থেকে কতটা বিচ্যুত হতে পারে লেখক, সেটাই দেখার। :)
  • মৌ | 24.*.*.* | ০১ জুলাই ২০১৩ ২০:২৫612591
  • ভালো লাগছে। পরবর্তী অংশের প্রতীক্ষায়।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভ্যাবাচ্যাকা না খেয়ে প্রতিক্রিয়া দিন