
বি ... ...

রেমডেসিভির বিষয়ক দু-একটি কথা। দেখা যাচ্ছে যে ধরণের প্রমাণের ভিত্তিতে রেমডেসিভিরকে আমেরিকার এফ ডি এ ছাড়পত্র দিয়েছেন, সেই সমস্ত প্রমাণ খুব জোরালো নয়। এতৎসত্ত্বেও ভারতে রেমডেসিভির নিয়ে এক ধরণের উন্মাদনা তৈরী হয়েছে কি? ... ...

সরকারের দায়িত্বহীনতায় এখনো যদি ধর্মীয় দলাদলির উর্ধ্বে উঠে প্রশ্ন না তোলা হয় নাগরিক সমাজ থেকে, সামনে দুঃসহ দিন অপেক্ষা করছে। বেঁচে থাকার তাগিদে সরকারকে চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য বাধ্য করতে হবে। এভাবে নাগরিকদের মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার অধিকার কোনো নির্বাচিত সরকারের নেই। ... ...

রাম রাজনীতির উত্থানের পেছনে বাম ভোটের ভূমিকা ... ...

আমরা গত এক বছরে জেনেছি যে কোভিড শুধু থুতু শ্লেষ্মা কফ ইত্যাদির বড় কণা থেকেই ছড়ায় না, সে অতি সূক্ষ্ম কণাবাহিত হয়ে বাতাসে বিশেষ করে বদ্ধ ঘরে, প্রায় কিছু না হলেও ঘন্টাতিনেক কাটিয়ে দেয়। ওই সময়ের মধ্যে সে মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে, এবং সেই ব্যক্তি যদি ভ্যাকসিনের মাধ্যমে বা পুরনো ইনফেকশনের প্রভাবে ইমিউন থাকেন তাহলে এক কথা, না হলে মানুষটি কোভিড পজিটিভ হবেন। অতএব বদ্ধ ঘর, ভিড় ঠাসা ঘর, যেখানে ঠিকমতন ভেন্টিলেশনের অভাব, জানলা দরজা বন্ধ, সেই রকম একটি জায়গায় কোভিড আক্রান্ত কোন মানুষ মাস্ক না পরে যদি চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে কথা বলেন, ঝেড়ে কাশেন, তাহলে তাঁর চারপাশের অনেকেই আক্রান্ত হবেন, ও শুধু তাঁরাই নন, কোভিড যেহেতু ঘরে দীর্ঘক্ষণ ক্ষুদ্র কণাবাহিত হয়ে অবস্থান করতে পারে, সেই জন্য অন্যেরাও আক্রান্ত হবেন। এই ধরণের ঘটনাক্রম ও মানুষজনকে পরিভাষায় হাইপারস্প্রেডার বলে অভিহিত করা হয়। মূলত এঁদের মাধ্যমেই কোভিড দ্রুত ছড়ায়, কাজেই যে ভাবেই হোক, এই সুপারস্প্রেড ঘটনাগুলোকে যদি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়, তাহলে কোভিড নিয়ন্ত্রণ করা খুব সমস্যার নয়। এই নিয়ে এবারের আলোচনা। ... ...

এবারের বিষয়বস্তু দুদফা মাস্ক পরা ও আরো কয়েকটি বিষয় নিয়ে এই লেখা ... ...

করোনাভাইরাস হাওয়ায় যে ভাসমান খুব ক্ষুদ্র কণিকা দিয়ে ছড়ায়, এ নিয়ে প্রথম থেকেই বহু বৈজ্ঞানিক বলে এসেছেন, তবুও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং অন্যান্য দেশজ স্বাস্থ্য এজেনসির চিকিৎসক এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা প্রথম দিকে বলতেন যে করোনা "মূলত" বড় ড্রপলেট দিয়েই ছড়ায়, এবং দু-মিটার বা ছ'ফুটের দূরত্ব বজায় রাখা, ইত্যাদি অধিক প্রয়োজনীয়। সম্প্রতি একটি লেখাকে কেন্দ্র করে করোনার হাওয়ায় ভাসমান হওয়া নিয়ে কয়েকটি বক্তব্য বেরিয়েছে, তাই নিয়ে কয়েকটি বিষয়ের অবতারণা। এক, বিশ্বস্বাস্থ্যসংস্থা ("বিস্বাস") এর বক্তব্য ছিল যে যেহেতু করোনা ভাইরাস এর প্রাথমিক সংক্রমণ ক্ষমতা কম (আর_শূন্য = ২ দশমিক ৫ এর কাছাকাছি), অতএব হাম বা সমগোত্রীয় জীবাণুর মত সে নয়, কাজেই সে যে হাওয়ায় ছড়ায়, এমনটা না ভাবলেও চলবে। এ ধারণা নানা কারণে অমূলক | এছাড়াও প্রাণী গবেষণা, হাসপাতালে কোভিড সংক্রমণ, নিউজিল্যাণ্ডের মতন দেশে যেখানে সাধারণভাবে জনসমাজে কোভিড নিয়ন্ত্রিত, সেখানে হোটেলে কোয়ারানটাইনড হওয়া লোকের মধ্যে সংক্রমণের আধিক্য, মেলা/কনসার্ট থেকে ছড়ানো, ইত্যাদি নানান সূত্র ধরে বলা যায় যে কোভিড কিন্তু হাওয়ার মাধ্যমে ছড়ায়। কি করে এবং কি করা উচিৎ সেই বিষয়গুলো এই লেখাটিতে কিছুটা লেখা হয়েছে। ... ...

একটা ক্যালেন্ডারের মাধ্যমে বাংলার সাথে একসূত্রে বাঁধা পাঁচটি থেরবাদী বৌদ্ধ প্রধান দেশ- মায়ানমার, থাইল্যান্ড, লাওস, কাম্বোডিয়া, শ্রীলঙ্কা, আর ভারতীয় উপমহাদেশের অনেকগুলি অঞ্চল- আসাম, ওড়িশা, মিথিলাঞ্চল, নেপাল, উত্তরাখণ্ড, পাঞ্জাব, তামিলনাড়ু, কেরল। এদের সবার নববর্ষ একসঙ্গে হয়- পয়লা বৈশাখ। ... ...

"উঠোন পেরিয়ে বিষন্ন বদন যে ভবনটির সামনে এসে সাধনার আপিস বাড়ি। ভয়ে ভয়ে দরজা পেরিয়ে ঘরে ঢুকলাম। চোখে সবকিছু ধাঁধা ঠেকল। অন্ধকার যেন ঝাঁপিয়ে পড়ল। আর সেই আধার সাঁতরে যখন চোখটা একটু সয়ে আসল, দেখি, চৌকোনো এক মস্ত ঘর, চারধারে টেবিলের সারি। তাতে কর্মচারীরা নিবিষ্ট মনে কাজ করছেন। ওই মস্ত ঘরে সাকুল্যে দুটি ৪০ পাওয়ারের বাতি। বাইরের আলো থেকে ঘরে ঢুকলে হঠাৎ কিছু চোখে পড়বে না। তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। নিমে তথা ফতুয়াধারী লোকগুলোকে কেন যেন জ্যান্ত লাশ মনে হচ্ছিল - নড়াচড়া নেই, কথা নেই, ঘাড় খুঁজে কী সব আঁকিবুকি কষছে! আর একেবারে সামনে নড়বড়ে টেবিলে নিমে গায়ে যিনি বসে, বিজ্ঞাপনে তার চেহারা এত সহস্র বার দেখেছি যে তাকে চিনতে কষ্ট হলো না মোটে।" ... ...

এখন কি হেফাজতের নেতারা খুশি। কারণ তারা তীব্র আন্দোলন তৈরি করেছে। মানুষ মরেছে, পুরো দুনিয়া দেখেছে মোদি আমাদের দেশে কত অজনপ্রিয়, মানুষ কত তীব্র ভাবে মোদির সফর ত্যাগ করেছে।পুলিসের ভূমিকায় তাদের এই কাজ সফল ভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এখন? এর চেয়ে বড় প্রচার তো আর সম্ভব না, তাই না? পুলিস যদি চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকত, আপনারাও চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকলে তো এমন দৃশ্য পেত না কেউ, তাই না? হেফাজত বা আন্দোলনকারীরা যা চেয়েছে তা পেয়েছে, এখন কী হবে? যে পরিবার গুলো তাদের প্রিয়জন হারিয়েছে তাদেরকে কি হেফাজতের নেতারা গিয়ে বলবে আপনার সন্তানের, আপনার প্রিয়জনের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমাদের আন্দোলন পুরো দুনিয়ার নজরে এসেছে? এবং এতে করে ওই পরিবারের সবার মনে শান্তি নেমে আসবে? সাথে এই নেতারা কি এটাও বলবে যে এই আন্দোলন আসলে কোন উপকারে আসে নাই। যে ঘটনার জন্য এই প্রতিবাদ তার উপরে খুব একটা প্রভাব পড়বে না! বরং এই দেশে কত উগ্র ধর্মালম্বীরা বাস করে এইটা প্রমাণ করে মোদি আরও বেশি করে সাম্প্রদায়িকতার প্রচার ও প্রসার করে যাবে! এমন কী এর প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের ফলাফলেও পার্থক্য তৈরি হতে পারে! এই খবরে নিশ্চয়ই নিহতের আত্মা শান্তি পাবে? ... ...

নন্দীগ্রামে কী হয়েছিল, সবাই জানি। কেন হয়েছিল, সেটা আমার কাছে আজও পরিষ্কার নয়। অধিকারীদের খাস তালুকে সিপিএমের হার্মাদ বাহিনী এতবড় তাণ্ডব চালিয়েছিল কোন মোটিভে? জমি দখল? অথচ তার আগেই সরকারী ঘোষণা হয়ে গেছে যে নন্দীগ্রামে কেমিকাল হাব হচ্ছে না, সেজ হচ্ছে না? লক্ষণ- শিশিরের যুদ্ধ? ওইরকম সময়ে, যখন গোটা বাংলা সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের দিকে তাকিয়ে টানটান বসে আছে? আমার অঙ্ক মিলছে না। এটা রাজনৈতিক হারাকিরি, সেটা বোঝার জন্য থিঙ্ক ট্যাঙ্ক লাগার কথা নয়। কিছুই পাবার ছিল না, হারাবার ছিল অনেক (যদি সবটা তখনো না বোঝাও গিয়ে থাকে) - তবুও এই কাণ্ড? এই স্কেলে? ... ...


পাকিস্তানীরা যাওয়ার আগে আক্ষরিক অর্থেই সমস্ত কিছু ধ্বংস করে দিয়ে গেছিল। একটা জাতি স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পূর্ণ করছে, এটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, কত বড় অর্জন তা আমাদের বুঝা উচিত। কত শঙ্কা, কত বাধাবিপত্তি পারি দিতে হয়েছে। ধ্বংস হয়ে যাবে, হারিয়ে যাবে, ভারত নিয়ে নিবে, পাকিস্তানের হাত থেকে ভরতের খপ্পরে পড়ল বাঙালি, এদের দিয়ে কিচ্ছু হবে না, ঋণের তলেই অর্থনীতি পঙ্গু হয়ে যাবে, এরা খেলাধুলা পারে না, দুর্বল জাতি, অপুষ্টিতেই বেশি ভুগে এরা, বন্যায় শেষ করে দিবে এদের, এত জনসংখ্যা এদের যে এর চাপেই শেষ হয়ে যাবে এমন হাজারো কথা বলা হয়েছে আমাদের নিয়ে। পঞ্চাশ বছর, কী অপূর্ব একটা মুহূর্ত! আমরা আমাদের পরিচয় দিতে পারি এখন। কত কমতি আছে তার হিসাব না হয় আজকে আর নাই নিলাম। কোথা থেকে কোথায় আসছি তার দিকে কি নজর দিব না আমরা? ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মত উত্থান না আমাদের? যুদ্ধ পরবর্তীতে আমাদের কী ছিল? কিচ্ছু না, একেবারে খাটি বাংলায় বললে বলতে হবে যে আমাদের কিচ্ছু ছিল না, সোজা কিচ্ছু ছিল না। অর্থনীতি বলতে কিছু ছিল না। আজকে আমরা কই? আমাদের অর্জন গুলা আমরা আজকে গর্ব করে বলব না? হানাহানি, দলাদলি তো করছিই প্রতিনিয়ত, আজকেও কেন আমরা তাই করব? আজকে তো গর্বের দিন। বেঁচে থাকলে আবার হীরক জয়ন্তী করবেন, প্লাটিনাম জয়ন্তী করবেন। আজকে সুবর্ণ জয়ন্তী পেয়েছি আমরা আমাদের মাঝে, তা আমরা উদযাপন করব না? ... ...




এরপর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত স্কুলের সংখ্যা বাড়তে থাকে। তৈরি হয় শ্যামবাজারে লিভারপুল স্কুল, এন্টালিতে সালেম স্কুল, চিৎপুরে বার্মিংহাম স্কুল ( ১৮২২ জানুয়ারি ), কাশীপুরের গ্লাসগো স্কুল ( ১৮২২ ডিসেম্বর), মেজ পন্ড স্কুল ( ১৮২৩ জানুয়ারি), ব্রডমীড স্কুল( ১৮২৩ অক্টোবর) ইত্যাদি। স্কুলের নাম পৃষ্ঠপোষকদের বাসস্থান অনুসারে। ১৮২৩ সালের রিপোর্টে পাওয়া যায়, সাতটি স্কুল আর সব মিলিয়ে ১৬০ জন ছাত্রীর দায়িত্বে ছিল সোসাইটি। পড়তে শেখা, লিখতে শেখার পাশাপাশি অভিভাবকদের অনুরোধে সেলাই শেখানোও শুরু হয়। প্রথম থেকেই রাজা রাধাকান্ত দেব প্রমুখেরা এই প্রয়াসের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। রাজার অনুপ্রেরণায় গৌরমোহন বিদ্যালঙ্কার লিখলেন স্ত্রীশিক্ষাবিধায়ক, নারী শিক্ষার গুণ গেয়ে। ১৮২২ সালে সকলের সামনে দেশি ছাত্র ছাত্রীদের পরীক্ষা নেওয়া হল। মেয়েদের বই পড়ে শোনানো আর বানানজ্ঞান দেখে রাজা রাধাকান্ত দেব এবং আরও উপস্থিত মান্যগণ্যরা খুব খুশিও হলেন। ... ...

বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে গভীর মননশীল ও সমাজতাত্বিক বিশ্লেষণ। পুরো EPW লেভেল। ... ...

ঊনবিংশ শতকের দ্বিতীয় ভাগ। ইংরেজ আমল। 1854 সালের বড়ি বন্দর থেকে থানে পরীক্ষামূলক ট্রেনের পরে ট্রেন লাইন পাতা হচ্ছে দেশের দিকবিদিকে। 1870 সালে পাতা হয়েছে হাওড়া এলাহাবাদ মুম্বাই লাইন। জুড়ে গেছে ভারতের দুই প্রান্ত। সেই সময়ে কোলহাপুর থেকে কলকাতায় বদলী হয়ে এলেন পোস্টমাস্টার গোপাল বিনায়ক জোশী। চৌঠা এপ্রিল। 1881। সঙ্গে ষোল বছরের বৌ। আনন্দী। সে বছরই কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে এমবিবিএস পড়তে চেয়ে আবেদন করলেন দুটি কন্যা। ডি আবরু আর অবলা বোস। অনুমতি না পেয়ে তারা চলে গেলেন মাদ্রাজ মেডিক্যাল কলেজে। মেয়েদের জন্য তারা দরজা খুলেছে 1875 সালে। আমাদের গল্পের আরেক কন্যা কাদম্বিনী তখন বেথুনের বি এ ক্লাসের ছাত্রী। অঙ্ক নিয়ে লড়াই চলছে। কে বলেছে মেয়েরা অঙ্ক পারে না? ... ...
