

দানিশ সিদ্দিকির কাজ নিয়ে একটা লেখার কথা ভেবেছিলাম। হয়তো কয়েক বছর পর হত, আবার হয়তো কোনওদিনই হত না। স্বাধীন ভারতের একমাত্র পুলিৎজার জয়ী ফোটো জার্নালিস্ট, তাঁর কথা দেশের মানুষ জানল তালিবানের হাতে মারা যাওয়ার পর। দানিশের কেরিয়ার আর ছবি নিয়ে বিশেষ আলোচনাও হল না, ন্যারেটিভ ঘুরিয়ে দেওয়া হল অন্যদিকে। ... ...

কথা হচ্ছে একশ সত্তর বছর আগের এই নেতা কী লিখেছেন, সেটা কি এখনকার প্রজন্মকে, এখনকার বাস্তবকে কোনোভাবে প্রভাবিত করে? বিশেষ করে এমন কোনও ব্যাক্তির জীবনকে, যিনি স্প্যানিশ সাহিত্য বা মার্ক্সবাদী দর্শন নিয়ে আগ্রহী নন! ... ...

হাতে লেখা পান্ডুলিপির প্রয়োজন ফুরিয়ে গেল ... ...

বিংশ শতাব্দীর ফলিত সমাজতন্ত্রের ধারণায় পরিবেশচিন্তার বিশেষ কোনো গুরুত্ব ছিল না। কিন্তু আজ যখন প্রজাতিগত সংকটের সামনে দাঁড়িয়ে পরিবেশচিন্তাকে অগ্রাধিকার দিতে হচ্ছে তখন তার সঙ্গে খাপ খাইয়ে অর্থনৈতিক বৃদ্ধি, উৎপাদন, প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহার সবকিছুকে নতুন আলোয় দেখতে হচ্ছে। বহু বামপন্থী ধারণার পুনর্বিন্যাস তাই জরুরী হয়ে পড়েছে। পুঁজিবাদের অনুকরণ নয়, সম্পূর্ণ বিপরীত পথের সন্ধান না করতে পারলে পরিবেশ সংকট থেকে মুক্তির সন্ধান সম্ভব নয়। এর জন্য, মার্কস, বিশেষত পরিণত কার্ল মার্কসের লেখাপত্রের সন্ধান জরুরী। ... ...

সকলের এক একটি বহ্নি আছে। সকলেই সেই বহ্নিতে পুড়িয়া মরিতে চাহে। সকলেই মনে করে সেই বহ্নিতে পুড়িয়া মরার তার অধিকার আছে। “ কেহ মরে, কেহ কাঁচে বাধিয়া ফিরিয়া আসে”। ... ...

করোনা ভাইরাসকে শুধু একটা রোগের কারণ হিসেবে দেখলে, তাকে পরিবেশের সংকটের অংশ হিসেবে না দেখলে সমস্যাটির প্রতি সুবিচার করা হয় না। আবার পরিবেশের সংকটকে কাটিয়ে উঠতে গেলে পুঁজিবাদী ধ্যানধারণার বাইরে তাকানো একান্তই আবশ্যক। ... ...

ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও সিপিএম নেতা মানিক সরকার যদিও প্রচারে এসে তাঁর বক্তব্যে বার বার সাবধান করেছেন যে, বিজেপির ক্ষমতায় আসার মারাত্মক ভুল যেন না করা হয়। কারণ, ত্রিপুরার মানুষ এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন যে, বিজেপি ক্ষমতায় বসলে মানুষের কি পরিমান সর্বনাশ হয়। অমর্ত্য সেন সহ বহু বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, সমাজবিজ্ঞানী ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞ পন্ডিত মানুষেরা সবাই বিজেপিকে প্রতিহত করাই প্রধান কর্তব্য বলে বার বার উল্লেখ করেছেন। কিন্তু ভবি যে ভুলবার নয় এবং চোরের সাক্ষী মাতালের মতো জুটে গেল রাজ্য কংগ্রেস নেতৃত্ব। ... ...

গত পঞ্চায়েৎ নির্বাচনে স্বৈরাচারী কাজকর্মের চূড়ায় পৌঁছে গেছিলো শাসকদল হিসাবে তৃণমূল। বিরোধীশূন্য পঞ্চায়েৎ-এর কদর্য ভাবনায় বিরোধীদের মনোনয়ন না দিতে দেওয়া থেকে বিরোধী সন্দেহে মানুষকে ভোট দিতে না দেওয়া, ছাপ্পাভোট, বুথ দখল এইসব কাজের ফলে সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভ জমে উঠেছিলো। সেই সাথে আমফান ত্রান ও তার আগেকার নানান দুর্নীতি তো ছিলোই। কাজেই প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া ছিলোই তা নিয়ে সন্দেহ নেই। কিন্তু পাশাপাশি অন্য অনেক কাজের ফলে গ্রামীণ মানুষের কাছে তৃণমূলের গ্রহনযোগ্যতাও ছিলো সন্দেহাতীত। সেগুলো নিয়ে পরে আলোচনা করবো। ... ...

রাতের জঙ্গলে বন-ফায়ারের আয়োজন হয়েছে; কাবাব ঝলসে উঠছে সেই আগুনে, ফটাফট কাঠ ফাটছে। আগুন ঘিরে চেয়ারে গোল হয়ে বসে আছে মাঝবয়সী বন্ধুরা, হাতে হুইস্কির গ্লাস। এক বন্ধু বলছে, "একবার একজন লোক আরেকজনকে জিজ্ঞেস করলো, 'জঙ্গলে যাচ্ছ, যদি পথে বাঘ এসে যায়, কী করবে?'" ... ...

ইতিহাস বলে, অতিমারী মানুষকে বাধ্য করেছে অতীত থেকে নিজেকে ছিন্ন করে নতুনভাবে জগৎকে ভাবতে। এটিও তার ব্যতিক্রম নয়। এই প্যান্ডেমিক একটি পোর্টাল, একটি প্রবেশপথ -- এক পৃথিবী ছেড়ে অন্য পৃথিবীতে যাওয়ার। ... ...


গত শতাব্দীর শেষভাগ থেকে লাতিন আমেরিকায় বিভিন্ন দেশে বামপন্থী নানা দলের অগ্রগতি এবং অনেক ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা লাভ গোটা পৃথিবীর বামপন্থার আগ্রহের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। খুব সম্প্রতি পেরু এবং চিলিতেও এরকম কিছু অগ্রগতি লক্ষ করা গেছে। সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তি এবং পূর্ব ইওরোপের সমাজতন্ত্রের বিলুপ্তির পর এই দেশগুলিই হয়ে উঠেছে বামপন্থী এবং প্রগতিশীলদের ভরসাস্থল। কিন্তু এটা মনে রাখতে হবে যে রাষ্ট্র পরিচালনার বিংশ শতকীয় সমাজতান্ত্রিক মডেল অর্থাৎ তথাকথিত সর্বহারার একনায়কত্ব এদের রাষ্ট্র পরিচালনায় অনুপস্থিত। তার জন্য সাময়িক কিছু মূল্য চোকাতে হলেও শেষ বিচারে তা গণতন্ত্রের অন্তর্বস্তুকে রক্ষা করতে বেশি কার্যকরী। এটা আমাদের দেশের বামপন্থীদের উপলব্ধি করা উচিত। ... ...

এভাবে বিদেশি শব্দ ধার করায় বাংলাভাষা সমৃদ্ধ হচ্ছে না উচ্ছন্নে যাচ্ছে সেই বিতর্কে যাবার আগে একটু পিছিয়ে গিয়ে দেখা যাক এইরকম পরিস্থিতিতে আগের যুগের মানুষেরা কি করত। কিভাবে অভ্যর্থনা জানাত, বিদায় জানাত, কিভাবেই বা অনুতাপ বা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করত? ... ...

আমাদের অনেকের বাড়িতেই টেপ রেকর্ডারে বেজে গেছে হেমন্তের গান, একের পর এক। কখনও ঘোরের মধ্যে শুনেছি, কখনও বহুদিন পর, কখনও কিছুদিনের তফাতে। কিছুটা আলো-আঁধারের গান গেয়েছেন হেমন্ত; কখনই শোকে সম্পূর্ণ নিমজ্জন নেই সেই কণ্ঠে, আবার আনন্দের পাল তরতরিয়ে ছুটেছে, এমনও নয়। একটি একটি করে গান গাইতে গাইতে তিনি এগিয়েছেন, জড়িয়ে গেছে আশেপাশে কত নাম তাঁর সঙ্গে। সলিল চৌধুরী, নচিকেতা ঘোষ বললেই এঁদের মানিকজোড় নামটি হেমন্তের; এমনকি মহানায়ক উত্তমকুমার বললেও হেমন্তই মহানায়কের কণ্ঠ। ... ...




