
বাবা সত্যি এসে পড়েছেন। ভাইকে ডাকেননি, আমাকে ডেকেছেন। মাও তাড়াতাড়ি হাতটাত মুছে এগিয়ে এসেছেন। বোন ছুটে এসেছে। বাবার সঙ্গে চেন বাঁধা কি সুন্দর কুকুরছানা - কী হবে ওর নাম! তিব্বতীরা এসেছিল। বাবা ভূটান সীমান্ত থেকে একটা উলের কোট আর কুকুরছানা কিনে ট্রেনে বুক করে নিয়ে এসেছেন, আমাদের পুজোর উপহার। মা চা নিয়ে এসে বললেন স্যুটকেসটা কই, ট্রেনের জামাকাপড় ছাড়ো তো আগে, নাও কাপড়টা ধরো। বাবার খেয়াল হলো, তাইতো, কুকুর তো নিরাপদেই এসেছে কিন্তু ওকে গার্ড সাহেবের কাছ থেকে ছাড়িয়ে আনতে গিয়ে আর মালপত্র আনা হয়নি। তবে হ্যঁ¡, বোনাসের তিনশো টাকা থেকে দুচারটে জামা কাপড় কিনে নিলেই হবে। বাবা সর্বদাই নিরুদ্বিগ্ন। ওমা, পকেটও ফাঁকা। একটুক্ষণ স্তম্ভিত থেকে মা-ই বললো, পকেটমার হয়ে গেল? ... ...

সত্যি বলতে কি দেশভাগের পর বাংলাদেশ (তখন বলতো পূর্ব পাকিস্তান) আর পাকিস্তান আলাদা হয়ে গেলে যে দাঙ্গা বেধেছিলো তখন থেকেই সংস্কৃতির আর ভাষা এই দুটো জিনিষ যে একেকটা রাজ্যের কাছে কত জরুরী তা কেউ ভেবেই দেখেনি। যে টুকরো টুকরো রাজ্যগুলো একসাথে মিলিয়ে দেশ তৈরী হলো তাদের সবার মুখের ভাষা যে তাদের পরিচয়ের একটা অঙ্গ এমনটা কারুর মনেই হয়নি। কোন দেশের সরকারের মনে যদি সবসময় ভয় থাকে যে "এই বুঝি রাজ্য গুলো সব আলাদা আলাদা হয়ে পড়লো', তাহলে সেদেশের মূল কাঠামোটাই যে কত নড়বড়ে তা বুঝতে কষ্ট হয়না। তখন মনে এই প্রশ্নটাও জাগে যে "দেশের কাঠামোটা সত্যিই কতটা ফাঁপা? কতদিন আর এমনি "একতা'র ভান করে চালানো যাবে?' ... ...

'আ স্ট্রীট কার নেমড ডিসায়ার', নাটকের এমন নাম শুনলেই মনে হয় এটা এমন একটা মানুষের লেখা যিনি খুব খুঁটিয়ে রাস্তা দেখতে ভালবাসেন। যিনি বস্তুত এতটাই নির্জন মানসিক পৃথিবীর বাসিন্দা যে এতটা খুঁটিয়ে রাস্তা দেখার অবকাশ পান।রাস্তার গাড়িটার নাম যে ইচ্ছা হতে পারে তা তিনি জানতে পারেন এবং গভীর মমতায় সংরক্ষণ করেন সেই জানাকে। জীবনের যে রাস্তায় এই ইচ্ছেগাড়িটি চলে সেই রাস্তার সম্পর্কে টেনেসির পর্যবেক্ষন নিয়েই এই নাটক। ... ...

গতকাল সন্ধ্যা থেকে ওড়িশা পুলিশ বিশাল বাহিনি নিয়ে জগৎসিংহপুর জেলার ঢিঙ্কিয়া এবং গোবিন্দপুরের গ্রাম গুলি ঘিরে ফেলেছে। উল্লেখ্য, গত ছয় বছর ধরে এই গ্রামগুলিই বিতর্কিত পস্কো স্টিল-মাইনিং-পাওয়ার-পোর্ট প্রোজেক্টের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের কেন্দ্রে রয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম এই প্রোজেক্টের বিরুদ্ধে মৌলিক অধিকারভঙ্গ, পরিবেশ দূষণ, জাতীয় আর্থনীতির বিরোধিতা ইত্যাদি বহু অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও রাজ্য এবং কেন্দ্র সরকার তা একরকম জোর করে চাপিয়ে দিতে বদ্ধ পরিকর। ... ...

২ মে ২০১১ -- কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রকের তরফ থেকে উড়িষ্যা সরকারকে পস্কো প্রকল্পের জন্য ১২৫৩ হেক্টর "বনভূমি'র চরিত্র বদল (divert) করবার ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে স্থানীয় পঞ্চায়েতগুলির সিদ্ধান্ত ও মন্ত্রকের নিজস্ব কমিটির সুপারিশ গ্রাহ্য করা হয় নি। রাজ্য সরকার অবশ্য শুরু থেকেই গ্রামসভার সিদ্ধান্তের আইনি বৈধতাকে অস্বীকার করে আসছিলেন। শ্রী জয়রাম রমেশ রাজ্য সরকারের ব্যখ্যাই গ্রহণ করেছেন। ... ...

হ্যঁ¡, আমি পারি। চুল্লিতে ইউরেনিয়াম ফিশনের সময় প্রায় দু'শ নতুন পদার্থ তৈরি হয়। এর সবগুলোই তেজস্ক্রিয় এবং মানুষের তৈরি। এর কোনোটা কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী, কোনোটা কোটি কোটি বছর বেঁচে থাকে। এখন এর মধ্যে অনেকগুলো এক্সরে-র মতো গামা তেজস্ক্রিয়তা বিকিরণ করে। কিন্তু অনেকেই তা করে না। অতএব যখন বাইরে থেকে আসা তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা পরিমাপ করা হয়, অর্থাৎ আপনাকে একটা তেজস্ক্রিয় পদার্থের আবরণে ঢেকে ফেলা হয়, আপনি এক্স-রে ধরনের কোনো বাইরে থেকে আসা মাত্রা পান। কিন্তু এটা সকলের বোঝা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে, যদি আপনি প্লুটোনিয়াম, আমেরিসিয়াম, কিউরিয়াম বা তেজস্ক্রিয় আয়োডিন নিশ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করেন, যদি পদার্থগুলো খাদ্য-শৃঙ্খলের প্রতিটি স্তরে --- অ্যালগি, ক্রাস্টাসিয়ান, ছোটো মাছ, বড়ো মাছ, মানুষ ---- অথবা উদ্ভিদ, যেমন লেটুস, পালং, ঘাস থেকে গরুর শরীরে ও গরুর দুধে --- জৈবগতভাবে সঞ্চিত হয়, তাহলে আপনি আপনার শরীরের ভিতরে এইসব পদার্থ গ্রহণ করে নিচ্ছেন। এগুলো থাকছে, যেমন স্ট্রনশিয়াম ৯০ জমা হচ্ছে হাড়ে। সেখানে এক ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র পরিমাণ একটি পরিচালন-জিনকে একটি কোষে পরিবর্তিত করে, যার থেকে পাঁচ বছর পরে আপনার লিউকোমিয়া হয়, কিংবা পনেরো বছর পরে হয় ক্যানসার। আর এই ব্যাপারটা অন্য সকল পদার্থের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। তাই লোকে অস্পষ্টভাবে মাপা কিছু বাইরে থেকে আসা তেজস্ক্রিয়তার মাত্রার সঙ্গে অভ্যন্তরে বিকিরণকারী তেজস্ক্রিয়তার তফাতটা বোঝে না। আর তাই সকলকেই আভ্যন্তরীণ বিকিরণকে বুঝতে হবে। আমি আমার "নিউক্লিয়ার ম্যাডনেস' এবং সম্প্রতি প্রকাশিত "নিউক্লিয়ার পাওয়ার ইজ নট দ্য আনসার টু গ্লোবাল ওয়ার্মিং' বই দুটোতে এই বিষয়টা নিয়ে লিখেছি যাতে সকলে বুঝতে পারে। ... ...

পরমাণু শক্তি চাই না। অনেকেরই ধারণা শক্তির এই চমকপ্রদ উৎসটি বাদ দিলে মানবজাতির শক্তির প্রয়োজন কিছুতেই মেটানো যাবে না। যদি বলা হয় পরমাণু শক্তি তো পৃথিবীতে ব্যবহৃত শক্তির ৬ শতাংশেরও কম যোগান দেয়, যেখানে জৈবভর অর্থাৎ কাঠ-পাতা, জীব-বর্জ্য, জলজ উদ্ভিদ ইত্যাদি থেকে পাওয়া যায় ১০ শতাংশ। কী এমন প্রভাব পড়বে পরমাণুর অংশটা অন্য উৎস থেকে মেটালে? তখনই শোনা যাবে খনিজ জ্বালানির সীমিত ভাণ্ডারের সমস্যা। তেল-গ্যাস-কয়লার ভাণ্ডার সত্যিই সীমিত। যে ক্রমবর্ধমান হারে এগুলি পোড়ানো হচ্ছে তাতে কয়েক দশকের মধ্যেই তেল-কয়লা সরবরাহে টান ধরবে অবধারিত ভাবেই। ইদানীং আবার তেল-কয়লা জ্বালানোর জন্য অন্য এক গভীর সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে --- বিশ্বের উষ্ণায়ন ঘটছে এবং তার প্রতিকারে জোর চাপ বাড়ছে কার্বন-ভিত্তিক জ্বালানির ব্যবহার দ্রুত কমিয়ে এনে বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধিকে একটি সহনীয় মাত্রায় আনতে। সব মিলিয়ে এই শতাব্দীতে শক্তি সরবরাহের প্রধান উৎসগুলোর স্থায়িত্ব ও ব্যবহারযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। অনেকেই মনে করছেন শক্তির ক্ষেত্রে সাবেকি পথ ছেড়ে নতুন দিশার সন্ধান করতে হবে। ... ...

৩ এপ্রিল বিকেলবেলা যাদবপুর চিত্তরঞ্জন কলোনিতে 'শামিল ছোটোদের পাঠশালা'য় মন্থন পত্রিকার পক্ষ থেকে একটি আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়েছিল। এই সভায় জাপানের পরমাণু বিপর্যয় নিয়ে প্রাথমিকভাবে একটা ধারণা দেওয়ার জন্য সুজয় বসুকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে এই বিষয়ে ওয়াকিবহাল এবং অনেকদিন থেকে আগ্রহী আরও বেশ কয়েকজন এই সভায় অংশ নিয়েছিলেন। সুজয় বসু বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপান একেবারে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। হিরোশিমা-নাগাসাকির স্মৃতি এখনও মুছে যায়নি। জাপানিদের মধ্যে পরমাণু বিরোধী যে সংগঠন আছে তা বেশ জোরালো। প'¡শের দশকের শুরু থেকে তারা পুনর্গঠনের কাজ শুরু করেছিল। জাপানের শক্তি সরবরাহ ব্যবস্থা দীর্ঘকাল ধরে একটা সমস্যার মধ্যে থেকে যাবে দেখে তারা শক্তি সমস্যা সমাধানের একটা চেষ্টা করে। কারণ পুনর্গঠনের কাজের জন্য, সব কিছু সারানোর জন্য শক্তি বা এনার্জি দরকার। জাপানের নিজস্ব কোনো খনিজ সম্পদ না থাকায় পরমাণু শক্তির ওপর তাদের একটা আকর্ষণ ছিল। ... ...

লেবানিজ কবি খলিল জিব্রান লিখেছিলেন, 'বিদায়ের সময়ই মানুষ বুঝতে পারে তার সত্যিকার ভালোবাসা'। আজম খানের বিদায়ের লগ্নে তাই বুঝতে পারি, তিনি কী ছিলেন। সাংস্কৃতিক এলিটরা তাঁকে নেননি, শিল্পবাদী বুর্জোয়া সংস্কৃতির কাছেও তিনি 'রাস্তার ছেলেই' ছিলেন। এবং রাস্তা থেকে যা উঠে আসে, মুক্তিসংগ্রামের প্রেরণা থেকে যা জাত হয়, তার মধ্যে প্রতিরোধী উপাদান থেকেই যায়। 'ব্ল্যাক পাওয়ার' মতবাদের প্রবক্তা, ত্রিনিদাদীয়-মার্কিন কৃষ্ণাঙ্গ রাজনীতিবিদ কওয়ামে তুরে মনে করতেন, সকল নিপীড়িতের সংস্কৃতি হলো প্রতিরোধের সংস্কৃতি...তাই নিপীড়িত জনগণ থেকে উঠে আসা শিল্পীকে অবশ্যই তার শিল্পের আদলে প্রতিরোধের আদলকে ধারণ করতে হয়'। একাত্তরের বেহাত বিপ্লবের বিপ্লবী, হায় বাংলাদেশের হাহাকার জাগানো আজম খানকে তাই প্রতিরোধী চেতনার শিল্পী হিসেবেই ভাবতে হবে। তাঁকে 'গুরু' বলা হয়, কিন্তু তিনি তার থেকেও বেশি কিছু ছিলেন। সত্তর আর আশির দশকের রাগি কিন্তু সরল যুবকদের দুঃখ, হতাশা, ক্রোধ আর প্রেমযাতনাকে তিনি ব্যক্ত করেছিলেন, হয়ে উঠেছিলেন তাদের ভালোবাসার মানুষ। ... ...

এই বইটা যারা কোলকাতাকে নোংরা করে আর পরিষ্কার করে তাদের জন্য। ... ...

এদেশের সমাজ, যেকোনো উন্নত সমাজের মতোই, প্রকৃতির দেওয়া জলকে ব্যবহার করবার বহু বহু উপায় জানত। পুকুর তার একটি। নদী থাকে নদীর জায়গায়, তার কিনারে বসে শহর, গ্রাম, শস্যের ক্ষেত। কিন্তু যেখানে বড় নদী নেই? সেখানে জলকে কীভাবে কাছে আনবে মানুষ? সেইসব কাছের জলভাণ্ডার ছিল পুকুর-দিঘি-সরোবর। এদেশে একটা বিরাট সুবিধা এই যে বর্ষার এক নির্দিষ্ট সময় আছে। প্রায় দিন তারিখও ঠিক আছে তার। যে অতিথি অঘোষিত, হঠাৎ আসেন, তাকে নিয়ে গৃহস্থ বিব্রত হতে পারেন, কিন্তু যে অতিথি আগাম খবর দিয়ে, তূরী-ভেরী বাজিয়ে 'রাজব্য উল্বতধ্বনির' প্রবেশ করেন তাঁর জন্য তৈরি থাকার সময় পাওয়া যায়, আয়োজন করা যায়। শেষ বসন্তে জল কমে যাবার পর থেকে পল্লির মানুষেরা নিজের নিজের এলাকার পুকুরের পাঁক কেটে তুলতেন। সেই তোলা পাঁকের কিছু অংশ নিয়ে সারা বছরে ভাঙাচোরা পাড়ের মেরামতি হত। বাকিটা বয়ে নিয়ে যেতেন নিজেদের জমিতে। গ্রীষ্মে শুকনো খরখরে হয়ে যাওয়া সেই পাঁক মাটি বর্ষার আগে আগে 'মই দিয়ে' খেতে ছড়িয়ে দিলে খুব ভালো সার হয় সেকথা জানা ছিল। সম্পূর্ণ গৃহস্থেরা পুকুর কাটাতেন, কেবল নিজের বাড়ির চৌহদ্দিতে নয়, বাইরেও। জল দান করা বড় পূণ্য কাজ ছিল। ... ...

আমি প্রতিমা দত্ত, স্বর্গীয় তপন দত্তর ওয়াইফ। গত ৬ মে আমার স্বামীকে নৃশংস ভাবে গুলি করে মারা হয়েছে। বালি লেবেল ক্রসিং-এর ধারে। গত সাড়ে তিন বছর যাবৎ তিনি একটি জলাভূমি নিয়ে লড়াই করছিলেন। যদিও তার সঙ্গে আরও অনেক কিছু নিয়েই লড়াই করছিলেন। বালি কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ক --- তার গ্রাহক সমিতি বানিয়ে উনি লড়াই করছিলেন। যাতে, গ্রাহকরা যে টাকা জমা রাখছে, সে টাকা ফেরত পায়। ইলেক্ট্রিক সাপ্লাই-এর জন্য গ্রাহক সমিতি বানিয়ে সেখানে উনি লড়াই করছিলেন। জলাভূমি বাঁচাও কমিটি বানিয়ে সেখানে লড়াই করছিলেন। উনি একটা কথা বলতেন, আমি একটা রাজনৈতিক দলের কর্মী, কিন্তু সেখানে থেকে আমি উপলদ্ধি করছি, রাজনৈতিক দলে থেকে, একটা ব্যানারের তলায় থেকে সব মানুষের জন্য সব কাজ করা যায় না। তাই জন্য নাগরিক মঞ্চ দরকার হয়। আর তাই জন্যই তিনি সিটিজেনস সায়েন্স ফোরাম বানিয়েছিলেন। জলাভূমি রক্ষা কমিটি বানিয়েছিলেন। যাতে বেশি সংখ্যক মানুষকে সাথে নিয়ে এই আন্দোলনগুলো করা যায়। ... ...

ফ্রাস্টু মানে নিমে দত্ত ওরফে নিমচাঁদ দত্ত সময়ে অসময়ে কোটেশন ঝাড়ে জানি,কিন্তু আপিস টাইমে মাল খেয়ে এসে আমারই শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ঘরে বসে এমন সংস্কৃত শ্লোক ঝেড়ে আমাকেই ঘায়েল করবে ভাবিনি।অতএব জিজ্ঞেস করে যেটুকু বুঝলুম তা আমার পক্ষে নিতান্তই বিড়ম্বনার।আমাদের এই আন্তর্জাতিক আকাদেমিক প্রতিষ্ঠানে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ঘরে এসে তার নাকি রীতিমতন গরম লাগছে।তাই সে কালিদাসের অভিজ্ঞান শকুন্তলম থেকে এই উদ্ধৃতিটা ঝেড়ে দিয়েছে।দুষ্যন্তের রাজসভায় ঢুকে এমনটাই নাকি মনে হয়েছিল আশ্রমিক শার্ঙ্গরবের।তাঁর মতো নির্জন একাকী তপোবনবাসীর কাছে দুষ্যন্তের ঘ্যাম সভাগৃহ যেন দাবগৃহ,আগুনে গা জ্বলে পুড়ে যায়-। ... ...

এর আগে তাঁর নারী সংসর্গের অভিজ্ঞতা ছিল না। তিনি ব্রহ্মচর্য্য পালন করেছেন চিরকাল। কিন্তু মাতৃআজ্ঞা পালন করতে বাধ্য তিনি। তখন তিনি জেনেছিলেন সংস্কৃতভাষী সমাজের নারীর অবস্থা। দুই কন্যাই তাদের চরিত্র এবং সুনাম অক্ষুণ্ন রাখা একদিকে,অন্যদিকে কৌরব বংশের কঠিন শাসনে বাধ্য হয়েছিলেন তাঁর সঙ্গে রমণে,কিন্তু সে অবশ্যই স্বচ্ছন্দ ছিল না। তাদের দুর্ভাগ্য এই যে তাদের সন্তান ধৃতরাষ্ট্র এবং পান্ডুর জন্মকালীন অসুস্থতা তাদের কলঙ্কিত করেছে। কিন্তু এ তাদের অপরাধ নয়। ব্যাস পরে অনেক ভেবে দেখেছেন এ হতে পারে একমাত্র বিচিত্রবীর্য্যের থেকে রোগ সংক্রমণের কারণে। কিন্তু মাতা একথা জানতেন কিনা তা তিনি এখনো বোঝেন নি। তবে সন্তানদ্বয়ের জন্মের পরে তিনি মহর্ষি চ্যবনের গোষ্ঠীর সহায়তা নিয়েছিলেন আত্মচিকিৎসায়। সংক্রমণ তাঁকে বয়ে যেতে যেন না হয় এই কারণে। কিন্তু হস্তিনাপুরের প্রতাপ এমনই যে এই সন্তানদ্বয়ের অক্ষমতার দোষ গিয়ে পরলো ওই রাজকন্যাদ্বয়ের স্কন্ধে। সত্যি, কী মহিমা প্রচারের! তবে তিনি সেই কালে একবারই প্রকৃত সঙ্গমের স্বাদ পেয়েছিলেন এক দাসীর কাছ থেকে, যার গর্ভে জন্মেছে তাঁর সেই সন্তান যাঁকে নিয়ে তিনি কিছুটা গর্ব বোধ করতেই পারেন। বিদুর তাঁর মন কেড়েছে গুণে-বিনয়ে-স্বভাবে। ... ...

আজ, ২০১১ সালে এই ব্যাপারগুলো অনেক বেশিমাত্রায় অ্যাডপ্ট করে নিয়েছে মিনিস্ট্রির এমপ্লয়ীরা। অন্য সব মিনিস্ট্রির কথা জানে না গ্যঁ¡ড়া, তবে পাওয়ার মিনিস্ট্রির নিজস্ব ইনট্রানেট আছে, নিজস্ব ইমেল সিস্টেম আছে, এমনকি আর ক্যাশ সেকশন থেকে আগেকার মত স্যালারি স্লিপও নিতে হয় না, ইন?ট্রানেটে লগিন করলে সেখানেই ই-পেস্লিপ দেখতে পাওয়া যায়, দরকারমতো ডাউনলোডিয়ে নিলেই হল। ইন?ট্রানেটে সরাসরি চলে আসে এনআইসি-র ডেটা, নর্দার্ন গ্রিড ইস্টার্ন গ্রিড সাদার্ন গ্রিড ইত্যাদির ডেটা, সরাসরি সেখান থেকে কপি করে তুলে নেওয়া যায় প্রয়োজনীয় তথ্য। ... ...

কারণ, এটা তো মানতে হবে: হে নিশান, যতোই জীর্ণ হও, হে লাল নিশান, তুমিই তো আমাকে লালন-পালন করেছিলে! তুমি তো আমাকে একের পর এক প্রেম-প্রস্তাব শিরা ছিঁড়ে যাওয়া যন্ত্রণায় প্রত্যাখ্যান করতে শিখিয়েছিলে, শুধুমাত্র রাজনীতির কারণে! তুমিই তো আমাকে যৌবন-দিনে দীর্ঘ-দীর্ঘ নিদাঘ শুধু মিছিলে হাঁটিয়েছো কলেজ-ÏØট্রট থেকে সিধো-কানহো-ডহর! যখন আমার আমার ক্লাসের বন্ধু-বান্ধবীরা সিনেমা দেখতে যেতো, তখন আমি হেঁটেছি গলা-অ্যাসফল্টের রাস্তায়, শুধু তোমার জন্য। ও আমার জীর্ণ লাল নিশান, তুমিই তো আমাকে মুঠো করে ধরতে শিখিয়েছো কবিতা! বলো, কেন আজও আমার উত্তর দিনাজপুরের ডি-সি-এম শুধু কবিতার কথা বলে? কেন আমার রাজ্য-কমিটির সদস্য কবিতার কথা বলে? ও আমার বিবর্ণ নিশান, আমার নিজের ছেলে বড়ো হয়ে কী করবে জানি না, কিন্তু অনেক বামপন্থী ছেলে-মেয়েরা কি একদিন তোমাকে রাঙিয়ে তুলবে না? ... ...

পরাধীন ভারতের অন্যতম সেরা নাট্যপ্রযোজক ভদ্রলোকের নাম রবীন্দ্রনাথ। ইউরোপিয়ানদের এদেশে মঞ্চসজ্জা দেখে যিনি অনুধাবন করতে পারেন বাস্তবতার নাম করে বোকামো করা হচ্ছে এবং যিনি জানেন আসলেই একটি স্টুলকে একই মঞ্চে রাজসিংহাসন থেকে দারোয়ানের বসার জায়গা সব বানানো যায় দর্শকের কল্পনাশক্তির উপরে ভর করে(বাঙ্গালীর কাছে যাত্রা,কথকতায় কল্পনা বিস্তারের পাখা ছিল),তিনিও কিছু কথা বুঝেছিলেন,বলেছিলেন। যেমন গানের ব্যবহারের শক্তি,যেমন মঞ্চসজ্জায় স্বাতন্ত্র্য তৈরী করা,যেমন একটিমাত্র জালের আড়াল দিয়ে রক্তকরবীর গোটা নাটকে যক্ষপুরীকে তুলে আনা ইত্যাদি। তা কল্পনা যদি এতটাই পারে,তাহলে সেই কল্পনা একটি মঞ্চেই আবদ্ধ থাকে কেন? নাটক যদি শিক্ষার মাধ্যম হয়,নাটক যদি সচেতনতার প্রচারক হয়,নাটক যদি সমস্যা আলোচনার একটি নিবিড় এবং বন্ধুত্বপূর্ণ স্থান হয় তাহলে সেই নাটক শুধু মঞ্চেই আটকে থাকবে কেন? তাহলে তো মঞ্চ পাওয়া না পাওয়া,তার জন্য বিশেষ কর্তৃপক্ষকে খুশী করা ইত্যাদি হিসেবে, আর দর্শককূল হিসেবে শুধু পরিশীলিত মধ্যবিত্ততেই খেলা শেষ! সেখান থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন বাদল সরকার। কিন্তু মঞ্চ বিরোধিতা করেননি। সেটা নিতান্তই অপপ্রচার। আসলে নিজের কাজ নিয়ে শহর-গ্রাম তোলপাড় করে বেড়াচ্ছিলেন। আমাদের নাট্যকর্মীকূলের একটি বড় অংশ অফিস শেষ করে এসে থিয়েটারের মহড়ায় অভ্যস্ত। অভ্যস্ত হাফ বা ফুল ছুটি নিয়ে এসে মঞ্চে অভিনয় করায়। তাঁরা যেমন-তেমন ব্যবস্থায় অভিনয় বা প্রযোজনা করেন না। গোছানো সাজানো গ্রামীণ মঞ্চ নেই। আলো,শব্দের বিশেষ প্রক্ষেপণ নেই খোলা মঞ্চে। মানুষ এক জায়গায় বসে প্রবন্ধ পাঠের মুখ করে দেখছেন না নাটক। আসছেন-যাচ্ছেন,ধরে না রাখতে পারলে হেসে বিদ্রুপ করে চলে যাবেন,পাশেই বিক্রেতারা বিক্রি করে চলেছে,ক্রেতা কিনছে,সেই পরিবেশ তাঁদের সমস্যা করেছে। তাঁদের সমস্যা করেছে বাদল সরকারের শরীরি ভাষা। ... ...

অন্য কথায় চলে যাচ্ছি, "কবি'-তে ফেরা যাক। কুসংস্কারমুক্ত সীতা থেকে ন্যাশনাল সে?শালিস্ট মহান্ত - পিতৃতন্ত্র এভাবেই দিন কাটাচ্ছিল। এর মাঝখানে বাড়তে শুরু করল মুচি রাজন ডোম নিতাই আর ভোজপুরী মজুর বালিয়ার বাস্তবতা। "কবি' চলচ্চিত্রের জোরটা এইখানে যে সে এই অন্য বাস্তবতাটাকে নিয়ে এল সেই একই পিতৃতন্ত্রের কাছে। দর্শক তো সে-ই যে তারাশঙ্করের পাঠক ছিল, কিন্তু দর্শনীয় গেল নড়ে। যতটা নড়ার সম্ভাবনা ছিল উপন্যাস "কবি'-তে, তার চেয়ে অনেক অনেক বেশি করে। তারাশঙ্করের অন্তর্বিরোধ, তাঁর লেখাতেই মহান্তের যে নীল চশমার কথা পেলাম, সেই নীল চশমা দিয়ে তিনি যে নিজেই দেখছেন, তাঁর শিল্পীসত্তার সমস্ত পর্যবেক্ষণ ও আবিষ্কারের পরও, তার অবস্থানই তার চোখে ওই চশমাটা গুঁজে দেয়, এই জায়গাটাই আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে "কবি' চলচ্চিত্র দেখতে দেখতে। লেখাটা এবার ক্রমে গুটিয়ে আসছে। চলচ্চিত্রে আমরা পৌঁছেছি পঁয়ত্রিশ মিনিটের কিছু বেশি, তার মানে মোট দৈর্ঘের এক তৃতীয়াংশেরও কম। এখনও পরপর দৃশ্য ধরে, উপাদানগুলোকে পরপর স্পষ্টতায় নিয়ে আসাই যায়। কিন্তু কোনও নতুনতর দৃষ্টিকোণ নয়, তা হবে এতক্ষণ ধরে তুলে আনা দৃষ্টিকোণগুলো দিয়েই বারবার আলাদা আলাদা উপাদানকে দেখানো। এবং সেটা এখন আপনারা নিজেরাই করে চলতে পারবেন। আমি এই লেখাটা শুরু করেছিলাম, দেবাশিসের মত আমার ছাত্রস্থানীয় কারুর কারুর জন্যে, কেন "কবি' চলচ্চিত্রটা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ সেটা বোঝাতে, ওই নানা সম্ভাব্য দৃষ্টিকোণগুলো সামনে ধরে দিতে। সেগুলো এতক্ষণে মাথায় বসেই গেছে। এর পরেই আসছে নিতাইয়ের নিমন্ত্রণ, মহাদেব কবিয়ালের কাছ থেকে, দিন প্রতি ছয় টাকা বায়নায়। টাকাটাকে বাজারদরের সঙ্গে তুলনা করতে পারবেন, মনে করুন, মেলায় এসে যে মালাটা দর করেছিল ঠাকুরঝি, তার খুব বেশি দাম মনে হয়েছিল, সেটার দাম ছিল ছয় পয়সা। এই প্রথম অর্থনৈতিক রকমে সেই স্বীকারটা এসে পৌঁছতে শুরু করল, যেটা এতক্ষণ আমরা সাংস্কৃতিক রকমে দেখছিলাম। ... ...

এই চল্লিশজনকে বলা হত চল্লিশ চোর। এই উপাধি দিয়েছিলেন কবি আব্দুল গণি হাজারী। অনেক সইদাতা উত্তরকালে অনেক মূল্যে কলঙ্কমোচনের প্রয়াস পেয়েছেন, অনেকে বাংলার স্বাধীনতার পক্ষে মূল্যবান কাজ করেছেন। কিন্তু সঙ্গতভাবেই 'চল্লিশ চোর'-এর অধিকাংশ মুক্তিযুদ্ধে অনতিপ্রচ্ছন্ন রাজাকার ভূমিকা পালন করেছেন এবং এখনও করে যাচ্ছেন। ... ...

এই বাংলায় নতুন সরকার এসেছে। গুরুচন্ডালিতে লেখেন বা গুরু পড়েন এরকম কিছু মানুষ,অত্যন্ত ঘরোয়া ভাবে কিছু আলোচনার পর নতুন সরকারের কাছে দাবি বা প্রত্যাশার একটি প্রাথমিক খসড়া তৈরি করেন। খসড়াটি পাঠানো হয় শ্রী দেবব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। খসড়াটি শুধু প্রাথমিকই নয়,অসম্পূর্ণও। শিক্ষা স্বাস্থ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি এখানে আসেনি। একে পূর্ণতা দেবার জন্য এবং আলোচনার জন্য বুলবুলভাজায় খসড়াটি প্রকাশ করা হল। ঠিক এই ফর্মেই খসড়াটি সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছিল। আলোচনা করুন, মতামত দিন। টইয়ে দিন, বা মেল করুন গুরুর ঠিকানায়। আপনার মতামতে পরিমার্জিত ও পরিবর্ধিত হয়ে খসড়াটি পুনরায় পাঠানো হবে সরকারের কাছে। ... ...