
ঠিক এখান থেকেই শুরু হচ্ছে আমাদের স্বাধীনতা সংক্রান্ত আলোচনাটা। ধরে নিন, আজকে ১৫ ই অগাস্ট কেউ ইন্টারনেট-এ পোস্ট করলেন বহু পুরোনো একটি কম্যুনিষ্ট শ্লোগান। "ইয়ে আজাদি ঝুটা হ্যায়'! কি হবে? বা কি কি হতে পারে? ভারতের স্বাধীনতা নিয়ে অনেক তর্ক বিতর্ক হয়েছে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে। এই শ্লোগানটা তার কিছু চিহ্ন বহন করছে অবশ্যই। কেউ কেউ যেমন ভাবতে পারেন সাদা চামড়ার লোকেরা চলে গিয়েছে তেমনি কেউ কেউ ভাবতে পারেন যে তার জায়গায় এসে বসেছে বাদামী সাহেবরা। এমন ভাবনান্তর থাকাটাই স্বাভাবিক। বিশেষত, আজকের এত বছর পরেও খাদ্য-বস্ত্র-বাসস্থান-শিক্ষা বা স্বাস্থ্যের কিই বা উন্নতি হয়েছে? শহরে হাস্যকর রকমের খরচ বাড়ানো বড়লোকের নার্সিংহোম, বেসরকারী হাসপাতাল বাড়া ছাড়া কি পেয়েছি আমরা স্বাস্থ্যে? আমলাশোলে বা খয়রাশোলে লোক মরলে আসে খবরে। এলে অপুষ্টিজনিত কারণে মৃত্যু হয়ে যায় সেটাও। আর যদি ওইভাবে না মরে ধুঁকে ধুঁকে মরে, তাহলে খবরেও আসবে না। আমরা প্রজ্ঞাসম্পন্নরা সেমিনারে বা ভোটবাজারে মুখ গম্ভীর করে আলোচনা করবো অনেক। কেউ কেউ বলতেও পারেন (আমি শুনেছি খাদ্য সম্পর্কে হওয়া একটি সেমিনারে), যে আসলে দারিদ্রের কারণ হল লোকের অলসতা। এই কিছুদিন আগে যেমন বাংলাদেশের বন্ধুরা আলোচনা করছিলেন অনেক খাওয়াই নাকি খাদ্য দ্রব্যের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণ, এমন বলেছেন বাংলাদেশের কোনো এক মন্ত্রী। আমাদের এখানে প্রফুল্ল বাবু খাদ্য "কাঁচকলা খাক্' বলে কাঁচকলা প্রফুল্ল হয়ে গিয়েছিলেন। খাদ্য আন্দোলন হয়েছিল। শিক্ষা মানে এক বিভীষিকাময় ব্যবস্থা। বাকী সব প্রসঙ্গেই এমন কথা বলাই যায়। আর কথা বাড়াচ্ছিনা এ প্রসঙ্গে। বলার কথায় চলে আসছি। যদি এই সব দেখে কেউ লেখেন "ইয়ে আজাদি ঝুটা হ্যায়' তাহলে? ... ...

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট একাত্তরের পরাজিত শক্তি বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে। সে হত্যা একাত্তরে বাংলাদেশের অর্জনকেই হত্যা করার নামান্তর। তার পর থেকেই বাংলাদেশের পাকিস্তানের ভূতের দিকে যাত্রা চলছে। জিয়া এরশাদের সামরিক শাসন, একনায়কতান্ত্রিক শাসন, খালেদা-হাসিনার দায়িত্বহীন রাজনীতি একাত্তরের অর্জনের কাছে আর রাষ্ট্রকে ফেরাতে দিচ্ছে না। মানুষের আশা ভরসার স্থানটি গেছে। এখন মানুষ আশঙ্কা ছাড়া আর কিছুই করতে পারছে না। নানাবিধ বিভেদের শিকার হচ্ছে। আবার বাংলাদেশের মানুষ আত্মপরিচয়ের সংকটে পড়ে গেছে। এর পিছনে বঙ্গবন্ধুরও কিছু ভুল রাজনীতি ছিল। এই পরিপ্রেক্ষিতেই বাংলাদেশ অগ্রজ ইতিহাসবিদ প্রফেসর সালাহ্উদ্দিন আহমদ সম্প্রতি কিছু কথা বলেছেন বাংলাদেশর লেখক সাংবাদিক মশিউল আলমের সঙ্গে। বর্তমান আওয়ামী লীগের মন্ত্রীদের নানারকম প্রশ্নবিদ্ধ কর্মকাণ্ডের কারণে নানারকম প্রশ্ন উঠছে বঙ্গবন্ধুর ভুমিকা, কর্মকান্ড ও আদর্শ নিয়েও। এমনও প্রশ্ন আসছে যে বঙ্গবন্ধু আসলেই বাংলাদেশ চেয়েছিলেন কিনা, কিম্বা স্বাধীন বাংলাদেশ গঠনে তাঁর অবদান আসলেই কতটুকু? এমন নানা প্রশ্নের উত্তর মেলে মশিউল আলমের নেওয়া প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ সালাহ্উদ্দীন আহমদ-এর সাক্ষাতকারটিতে। সাক্ষাৎকারটি নেওয়া হয়েছে বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্য। ... ...

আরো একটি ব্যাপার হয়েছে। দূরের ঘটনা হিসেবে প্রাক-স্বরাজ সময়টি আমাদের কাছে কতকটা যেন polemic-হীন সময় হিসেবে প্রতিপন্ন হয়। যেন তারই প্রমাণ হিসেবে আমরা বিনা চিন্তা-ভাবনায় গান্ধী-ক্ষুদিরাম-রবীন্দ্রনাথ-সুভাষ-নেহেরুদের ছবিকে মালা পরিয়ে এক লাইনে বসিয়ে দিতে পারি। অবশ্য তৃতীয় ব্যক্তিটিকে আমরা সচরাচর স্বাধীনতার জন্মদিনে মনে করি না (তাঁর "জনগণমন' বা "ও আমার দেশের মাটি' ছাড়া)। আমরা প্রাক-স্বাধীনতা যুগের কথা ভাবি অনেকটা গোটা মহাদেশের ম্যাপ দেখার মত করে, উঁচু-নীচু বন্ধুরতা সব কেমন সমান মাপের মনে হয়। মনে হয় স্বাধীনতা নামের আগুনের কুন্ডের চারপাশে সবাই একই মাপের চামচ দিয়ে ঘি ঢেলে ঢেলে যজ্ঞ করেছেন। আমাদের এই ঝাপসা উত্তরাধিকার স্বাধীনতার জন্মদিন পালনের ব্যাপারেও এক সমালোচনা-হীন দেশপ্রেমী "নাগরিকবৃন্দ' বানিয়ে দিয়েছে। ... ...

২০০৫এ রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক পুনর্বিন্যাস (Refreshers Course) পাঠক্রমে গিয়ে শেষ দিনে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের মুখোমুখি হবার সৌভাগ্য হয়েছিল। সবাই জানেন, তিনি আজকাল মাতৃভাষা নিয়ে বেশ আবেগিক। ক্যালকাটার "কলকাতা' হবার পেছনে তাঁকে বেশ ঘাম ব্যয় করতে হয়েছে। বরাকের ১৯কে সে বাংলাতে জনপ্রিয়তার পেছনেও তাঁর এক বড় ভুমিকা আছে। বক্তৃতার এক জায়গাতে, তিনি আক্ষেপ করে বললেন, "গিয়ে দেখুন না এখন দার্জিলিঙে! ওখানে বাঙালি আর আগের মতো পাবনে না।' পরের বছর সত্যি সত্যি আমি সপরিবারে দার্জিলিঙ-গ্যাংটকে ঘুরতে গেছিলাম। গিয়ে দেখি, ওখানকার প্রায় সমস্ত বড় বড় হোটেল, রেঁস্তোরার, ট্র্যাভেল এজেন্সির মালিক এবং কর্মচারি, রেলের কর্মচারি সবাই বাঙালি। আমাদের গাড়িতে করে ঘুরিয়ে আনবার জন্যে যাদের ডাক পরেছিল তাদের মধ্যে কেউ শুধু ছিল ভুটিয়া কিম্বা নেপালি! সুনীলের কথা শুনে আমার মনে হছিল, আমি ব্রহ্মপত্র উপত্যকার কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বসে আছি। সেখানে বক্তব্য রাখছেন কোনো অসমিয়া বুদ্ধিজীবি। বলছেন, "গিয়ে দেখুন না বরাক উপত্যকাতে! ওখানে অসমিয়া আর আগের মতো পাবেন না। ওখানকার বেতারে বাজে কেবল বাংলাদেশের গান!' পাঠকের মনে পড়বে বিখ্যাত অসমিয়া বুদ্ধিজীবি ইসমাইল হোসেন চাকরি সূত্রে শিলচর থেকে গুয়াহাটি গিয়েই "সাদিনে' বেশ ক'টি সংখ্যাতে সেরকমই অনেক কথা লিখে হৈ চৈ ফেলে দিয়েছিলেন। বহু অসমিয়াও তখন তাঁর বিরুদ্ধে তখন কলম ধরেছিলেন। সুনীল ইংরেজির পক্ষেও বেশ কিছু সওয়াল করেছিলেন। আমি শুধু তখন প্রশ্ন করেছিলাম, ইংরেজির এই আধিপত্য অক্ষত রেখে কী বাংলার প্রচার প্রসার সম্ভব বলে তিনি মনে করেন? তিনি কী উত্তর দিতে পারেন, "দেশ' পত্রিকার পাঠকেরা তা ভালই জানেন। ... ...

এখন তাঁদের প্রশ্ন, নতুন মূল-তৃণমূল কংগ্রেস জোট-সরকার মোবাইল মেডিক্যাল ভ্যান চালু করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা এলাকায় আজও বাস্তবায়িত হয়নি কেন। গ্রামবাসীরা এখনও তাঁদের এলাকায় জনস্বাস্থ্যের প্রতি সরকারি অবহেলা, উদাসীনতার বিরুদ্ধে সরব। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিষেবা চালু রাখতে যৌথবাহিনী, পুলিশ ও কিছু কায়েমী স্বার্থান্বেষী রাজনৈতিক নেতারা বাধা দিচ্ছেন বলে তাঁরা সরকারের দিকে সরাসরি অভিযোগের আঙুল তুলেছেন। রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসকে উপেক্ষা করে জ্ঞপুলিশি সন্ত্রাসবিরোধী জনসাধারণের কমিটিঞ্চ চাকাডোবা সহ অন্যত্র বন্ধ হাসপাতালগুলো আবার চালু করার জন্য গণউদ্যোগের ডাক দিয়েছিল। সেই উপলক্ষেই আজ চাকাডোবায় স্থানীয় বাসিন্দারা বন্ধ হয়ে যাওয়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পুনরায় উদ্বোধন করে গ্রামের ঘরে ঘরে বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য একটি গণসমাবেশের আয়োজন করেছিলেন। সিদ্ধার্থ গুপ্ত, অভিজ্ঞান সরকার প্রমুখদের সেই সমাবেশ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার পথেই যৌথবাহিনী বাধা দেয় ও এলাকার "শান্তি বিঘ্নিত' করার দায়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে। জঙ্গলমহলের অন্যান্য গ্রাম থেকে গ্রামবাসীরা বাসে করে চাকাডোবা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসছিলেন। যৌথবাহিনী তিনটি বাসকেও মাঝপথে আটক করেছে। ... ...

দেহমনে ভাঙনের পদশব্দ, তথাপি আলমোড়া হইতে শান্তিনিকেতন ফিরিবার পর নানান কর্মকাণ্ডে জড়াইয়া পড়িতেই হয়। সহসা মন উতলা হইল, দিনকয়েকের জন্য একবার পতিসর মহাল ঘুরিয়া আসিবার জন্য। শান্তিনিকেতনের রাঢ়ভূমি হইতে বরেন্দ্রির খাল-বিল-নদী-নালা ঘেরা সেই শ্যামল জনপদে। সেই গহন জলযাত্রার পূর্বেকার স্মৃতি তো তাঁহাকে ছাড়ে নাই - ... ...

বেজায় ঘাবড়ে গিয়েছিলাম মায়াদির প্রস্তাবে। এমন একজন প্রথমসারির জনপ্রিয় শিল্পীর সামনে বসে তাঁকে গান শোনানোটা খুবই চাপের কাজ বলে মনে হয়েছিল। কী জানি হয়ত আমার মত এক অখ্যাত শিল্পী যশপ্রার্থী নবযুবকের গান তেমন মন দিয়ে শুনবেন না অথবা শুনলেও "বাহ, বেশ হয়েছে, অথবা কিস্যু হয়নি' জাতীয় কোন সাধারণ মন্তব্য করে দায় সারবেন। কিন্তু এমন একটা অশ্রদ্ধেয় চিন্তা মাথায় এসেছিল জর্জদাকে চিনতামনা বলেই। তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা হবার পর তাঁরই মুখে গল্প শুনেছিলাম ঢাকায় কোন একটি আসরে গাইতে বসে কলকাতার মোটামুটি জনপ্রিয় এক গায়িকাকে শ্রোতাদের একাংশের অসৌজন্যমূলক ব্যবহারের সম্মুখীন হতে হয়েছিল। জর্জদারও সেই আসরে গান গাইবার কথা ছিল। কিন্তু একজন শিল্পীর প্রতি দর্শক-শ্রোতাদের এ হেন দুর্ব্যবহারে ক্ষুব্ধ জর্জদা তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। আয়োজকদের বলেছিলেন যে আসরে শিল্পীদের এভাবে অপমানিত হতে হয় সে আসরে তিনি গান গাইবেন না। জর্জদার প্রতিবাদে কাজ হয়েছিল - অনুষ্ঠনের উদ্যোক্তারা সংশ্লিষ্ট গায়িকার কাছে মার্জনা চেয়ে নিয়ে কোনমতে অনুষ্ঠানটি চালাতে সক্ষম হয়েছিলেন। ... ...

এইসব জ্ঞান শতবর্ষপ্রাচীন লেখনীর। এইসব গান শতবর্ষেরও পূর্বে স্বরলিপিকৃত। অথচ আজিকার এই ন্যানো-বায়ো প্রযুক্তসভ্যতার শিখরদেশে, দূরবর্তী সম্পর্কের ট্রমাঘোরের সাইকো-বিশ্লেষণে, অনির্দিষ্ট যুক্তিজালের ফাজিনেস্-এর মধ্যেও সেই প্রাচীন অক্ষর আর প্রাচীন সুরতালের মন্দ্ররোল শুনিতে পাইতেছি আমরা। প্রায় নিরুচ্চারে রাতের পাখির ন্যায় একাকী গভীরে প্রতিভাত হয় বাণী তাঁর। আমরা বুঝিব না, এই বাণী অনাগতকালের আবার ইহারই উচ্চারণ বিশ্ববীণার তন্ত্রীসমূহে স্থলে জলে নভতলে উপবনে অসীমকালের হিল্লোল হইয়া বাজিয়াছে? আর ঠিক সেই কারণটিতেই, আজিকার এই খণ্ডমুহূর্তে, এই সামান্য জীবনের বারিসিক্ত আচ্ছাদনটিতেও আমাদের উদ্বেলতার উদ্ভাস লইয়া শ্রুত হইতেছেন তিনি, গুরুদেব। ... ...

তাহলে বোধহয় নিয়ম করে দিতে হবে ট্রাফিক লাইটের ধরো বেশ কিছুটা আগে থেকে হর্ণ বাজবে না।অসম্ভব, হাসপাতালের সামনে হর্ন বাজানো বারণ। বাজে না? হুঁ, এস এস কে এম হাসপাতাল, বাঙ্গুর হাসপাতাল দেখো না, প্রতিটা হাসপাতালের সামনে যেন আরও দ্বিগুন উৎসাহে লোকে, গাড়ীর সব চালকেরা হর্ন বাজায়। কেউ কোনো নিয়ম মানে এ দেশে?ঠিক, তাহলে ওই প্রচণ্ড আওয়াজ, হর্নের আওয়াজ মানে এক সেকেণ্ড সামনের গাড়ীটা স্টার্ট নিতে দু সেকেণ্ড দেরী করল কি পেছনের সব কটা গাড়ী এক সাথে ভ্যা ভ্যা ভ্যা ভ্যা ভো ভ্যা ভি ভ্যা আরম্ভ করে দিল কারও ধৈর্যের বালাই নেই। এর মধ্যে কি করে লোকে গান শুনবে! এতো গেল একটা দিক, আর একটা দিক আমি ভাবছিলাম, কবীর ভাবছিলাম ধরো ওরই মধ্যে কেউ একজন শুনে ফেলেছেন ... ...

ছোড়দি সেতার বাজিয়ে গেয়েছিলেন, সঙ্গতে তবলায় পন্ডিতজি। গান শেষ হতে, বড়ো জ্যাঠা আর সতীশ কাকা দুজনেই দুষলেন পন্ডিতজিকে, অমন ম্লেচ্ছ গান শেখাবার জন্য। পন্ডিতজি তর্ক দিয়েছিলেন যে শহরের বহু গণ্যমান্য বাঙালি পরিবারে তিনি এই গান শিখিয়েছেন। তাঁকে জানানো হয়েছিল যে, তারা সব ম্লেচ্ছ পরিবার, অব্রাহ্মণ। গানটা নিয়ে সমবেত প্রসাদপ্রার্থিরা যে একমত নন, তা স্পষ্ট হয়েছিল বড়িশা-বেহালার জ্ঞাতি দাশরথিজেঠুর এই মন্তব্যে, ""ওহে আমরা নিজেরাই তো ভঙ্গকুলীন, সিরাজদৌলার চাকর, আমাদের আবার মেলেচ্ছো''! ইমলিতলা পাড়ার কোনো বাসিন্দাকে কিন্তু ম্লেচ্ছ তকমা দেয়া হতো না। আমরা পাড়ার সমবয়সীদের সঙ্গে, চোর-পুলিশ খেলার সময়ে, যার বাড়িতে ইচ্ছে ঢুকে যে-কোনও ঘরে লুকিয়ে থাকতে পারতুম, এমনকি নাজিমদের পোড়ো বাড়িতে বা ওদের বাড়ির সামনের মসজিদে। নাজিমের দিদি কুলসুম আপা আমাদের বাড়িতে হাঁসের ডিম বিক্রি করতে এসে, মা আর কাকিমাদের সঙ্গে গল্প করতেন। ... ...

আগেকার বৈয়াকরণিক আর আভিধানিকদের গভীর বিশ্বাস ছিল যে সংস্কৃতই বাংলার জননী, আর সংস্কৃত ব্যাকরণই এর আদর্শ। শ্রীনাথ সেন যেমন লিখছেন তাঁর "প্রাকৃত ব্যাকরণ এবং অভিধানে', "বাঙ্গলা ভাষা সংস্কৃত ব্যাকরণের দ্বারা প্রশমিত হইতে পারে এবং তাহা হইলেই ইহার কল্যাণ' তিনি আরো স্পষ্ট করেই লিখছেন, বাংলা ব্যাকরণ," সংস্কৃত ব্যাকরণের অনুষঙ্গী হইতে পারে, স্বতন্ত্র ব্যাকরণ হইতে পারে না।' সুতরাং দ্বিজে¾দ্রনাথ-রবী¾দ্রনাথ দুই ভাই এবং সাহিত্য পরিষদের অপরাপর বিদ্বজ্জনেরা সেই কাজগুলোই করলেন যেগুলো করলে বাংলাকে বাংলা বলে দাঁড় করানো যায়। কেরি যেখানে লিখেছিলেন বাংলার তিন চতুর্থাংশ শব্দ সংস্কৃত, সেখানে "বাংলা ভাষা পরিচয়ে' গিয়ে রবী¾দ্রনাথ লিখে ফেললেন, "বানানের ছদ্মবেশ ঘুচিয়ে দিলেই দেখা যাবে, বাংলায় তৎসম শব্দ নেই বললেই হয়।' ব্যাকরণের প্রচলিত উপাত্তগুলোকেই ধরে ধরে তাঁরা সমালোচনা শুরু করলেন, আর দেখিয়ে গেলেন সংস্কৃতের থেকে বাংলার তফাৎটা কোথায়। এই করতে গিয়ে রবী¾দ্রনাথকে দেখা গেল অসমিয়া-ওড়িয়া সহ আশেপাশের বেশকিছু ভাষা নিয়েও তুলনামূলক আলোচনাও করে নিতে। হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর "চর্যাপদে'র আবিষ্কারটাও মোটেও আকস্মিক ছিল না। তাও ছিল বাংলার "বাঙ্গালি'ত্ব আবিষ্কার প্রয়াসের অংশ মাত্র। ... ...

রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন-এ অভিযোগটি অধুনা পাকিস্তানপন্থী কলমজীবীরা করছেন। কিছু কিছু পাকিস্তানপন্থী পত্রিকায় মাঝে মাঝে এ ধরনের রবীন্দ্রবিরোধিতা দেখা যায়। ফরহাদ মজহার রবীন্দ্রনাথে সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে অনেক ছিদ্রান্বেষণ করেছেন তার "রক্তের দাগ মুছে রবীন্দ্রপাঠ' বইটিতে। সেখানে রবীন্দ্রনাথকে মজহার কোন ছাড় দেন নি। সাদ কামালী নামে একজন গল্পকার-প্রবন্ধকার ফরহাদ মজহারের ধারাবাহিকতায় রবীন্দ্রনাথে হিন্দু সাম্প্রদায়িকতা, মুসলমান বিদ্বেষ, নারী বিদ্বেষ নানাবিধ ত্রুটি খুঁজেছেন। ড: আহম্মদ শরীফও রবীন্দ্রনাথে প্রজা উৎপীড়ন খুঁজেছেন। অবাক কাণ্ড হল এই রচনাকারদের কোথাও "রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন' - এই তথ্যটি নাই। রবীন্দ্রনাথ যে সব শাক সবজি কলাটা মূলোটা খেতেন, দৈ-খৈ কোথা থেকে খেতেন, কাদের ক্ষেতেখামারে সেসব উৎপাদিত হত -- ফরহাদ মজহার এবং সাদ কামালী নানাপ্রকার খাটাখাটুনি করে তাও বের করে ফেলেছেন। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন -- এই ধরনের রগরগে অতি বিখ্যাত রবীন্দ্রছিদ্রটি তাদের রচনাতে উল্লেখ করেননি। কেন করেননি সেটা একটা কোটি টাকার প্রশ্ন বটে। এই তথ্যটি সঠিক হলে নিশ্চয়ই তারা তাদের রচনাতে উল্লেখ না করে পারতেন না। ... ...

কুষ্টিয়া শহর থেকে মাত্র কুড়ি মিনিটের পথ শিলাইদহ কুঠিবাড়ি। দেখতে দেখতে গ্রামের রাস্তার আঁকাবাঁকা পথ ধরে ঢুকতে থাকলাম প্রাচীন শহর কুমারখালী উপজেলায় অবস্থিত শিলাইদহ কুঠিবাড়ির দিকে। একসময় গ্রামটির নাম ছিল খোরশেদপুর। এই গ্রাম ঠাকুররা কিনে নেওয়ার আগে এখানে একটি নীল কুঠি ছিল। প্রবাদ এই যে সেই কুঠিতে শেলী নামের এক নীলকর সাহেব ছিল। পদ্মা ও গড়াই নদীর সঙ্গমস্থলে একটি দহ সৃষ্টি হয়েছিল, সেই দহর সঙ্গে শেলীর নাম জুড়ে গ্রামটির নাম দাঁড়ালো শেলীদহ বা শিলাইদহ। ঠাকুরদের জমিদারী দেখাশোনা করার জন্য সেকালে শিলাইদহ, পতিসর ও শাহাজাদপুরে কুঠিবাড়ি ও কাছারিবাড়ি নির্মিত হয়,এরই একটি কুঠিবাড়ি এই শিলাইদহ কুঠিবাড়ি। কবিগুরু ১৮৯৯ ও ১৮৯০ সালে জমিদারী পরিদর্শনে এলেও ১৮৯১ সালে শিলাইদহে জমিদারী পরিচালনার দায়িত্ব নেন। কুঠিবাড়ি পৌঁছানো মাত্রই আমাদের জানানো হল কুঠিবাড়িতে ঢোকার আগে কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়রের নির্দেশে কুঠিবাড়ির কাছাকাছি অন্য একটি ভবনে আমাদের জন্য দুপুরের খাবারের যে আয়োজন করা হয়েছে তা সেরে নিতে। পেটে খিদে থাকলেও মন কিন্তু পড়ে আছে কুঠিবাড়ির দিকে। কোনোরকম দুগাল খেয়েই দৌড়ে ঢুকেছি সেখানে। ... ...

নিরাশ হতে হল ছাদে যাবার চেষ্টায়। দোতলা থেকে তেতলায় ওঠার সিঁড়িটিতে নাকি ফাটল দেখা দিযেছে, সেই কারণে এই সতর্কতা। ছাতেই সেই বার্মিজ ঢঙের চন্দ্রাতপ, প্যাভিলিয়ন, কবির অনেকটা সময় কেটেছিল এইখানে। অদেখা ইয়ারোর কিছু স্বপ্ন নিয়েই ফিরতে হল, তবে এভাবে দেখলে ব্যাপারটা হজম করা যায়। এর প্রতিকার করা আজকের প্রযুক্তি কৌশলের কাছে কিছুই নয়, বাংলাদেশে বহু ভালো প্রযুক্তিবিদ আছেন, আশা করি সরকার এতদিনে সব ঠিক করে তেতলা ওঠার পথটা খুলে দিয়েছেন। অসুবিধের মধ্যে গাইডরা সবসময় জিউলির আঠার মতো সঙ্গে ছিলেন, এই এঁদের কাজ, এতে আপত্তি করা যায় না। তাছাড়া যাঁর শবদেহ থেকে শ্মশ্রু উৎপাটিত হয়েছে, তাঁর মশারীর চাল যে চুরি হবে না, সে গ্যারাণ্টি কে দেবে। তবে একটু সময় একলা থেকে স্মরণ করতে পেলে ভালো লাগতো। ... ...

ধর্মের মূলকথাই হলো মানবিকতা। ধর্মকে বোঝার আর বোঝানোর মূলকথাও তাই। কোরানের ব্যাখ্যা করতে হলে আগে দেখা দরকার যে আমরা কোন পথে হাঁটবো। আমরা কি সেই পুরনো সময়ে আটকে থাকা আক্ষরিক মানে বেছে নেবো? নাকি দেশ-কালের উপযোগী ভাবার্থকে নিয়ে এগোবো? বলতে বাধ্য হতে হয় যে আমাদের মুসলিম বুদ্ধিজিবীদেরই কোথায় যেন খামতি থেকে গেছে। যাঁরা ইসলামের আসল ব্যখ্যা তুলে ধরতে পারতেন, ধর্মাচরণের রাস্তায় কোথায় যেন তাঁরা পিছিয়ে পড়েছেন। তার ফলে ধর্মকে লড়াইয়ের হাতিয়ার বানিয়ে একদল তথাকথিত ধর্মগুরু আজ সারা মুসলিম দুনিয়া কাঁপিয়ে বেড়াচ্ছে। এদের কাজই হলো মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের বোঝানো যে "আমাদের ওপর অন্যায় হয়েছে, তাই এখন শোধ তোলার দিন'। এদেরই প্ররোচনায় মানুষের মনে প্রতিনিয়ত ঘৃণা আর তিক্ততা ভরে যাচ্ছে। আর সেই থেকেই রোজ তৈরী হচ্ছে হাজার হাজার সন্ত্রাসী, খুনে, আতংকবাদী। কোনো অর্থাভাব নয়, কোন বঞ্চনা নয়, শুধুমাত্র ঘৃণা আর বিকৃতির আদর্শ রোজই জন্ম দিচ্ছে উগ্রপন্থার। ... ...

এই হাজার দশেক ছেলে মেয়ে চাকরি পাবে পুলিশে মকবুল, খারাপটা কী? -আহা হা খারাপ কেন হবে কবীর সুমন, দশ হাজার ছেলেমেয়ের চাকরি, সোজা কথা! চাট্টিখানি কথা! তবে কি,আমি ভাবছিলাম চাকরি তো আরও নানান ক্ষেত্রে হতে পারতো। এই পুলিশেই দশ হাজার চাকরি, মানে, পুলিশেই? -তোমার কী মনে হয় কবীর ? কাউন্টারটা দাও। -অ্যাঁ এটা তো আমার বলার কথা,আজকে তুমি আমায় কাউন্টারটা দাও। দেখ মকবুল, আমার মুখ দিয়ে তুমি কিছু বের করতে পারবে না। -পারবো, পারবো। একদিন না একদিন ঠিক পারবো। কাউণ্টারটা দাও। আরে, এই সবেতো আমি নিলাম। -তাতে কি? কাউন্টারটা দাও শোনো কবীর সুমন, আমি ভাবছিলাম কি, কী চমৎকার একটা পলিটিকাল চাল চাললেন দেখো এই রাজনীতিক। অসামান্য এঁর মেধা, কী তীক্ষ্ণধী। ... ...

বাইরে এখন নরম লাল আলো একটু একটু করে ভেসে উঠছে। রাত্রির অন্ধকার কেমন পা পা হেঁটে চলে যাচ্ছে পর্দার আড়ালে। ওই, স্তবগান শুরু হচ্ছে মন্দিরে! পুত্র ব্যাস যা ব্যাখ্যা করতে চাইছে তা তিনি জানেন। বশিষ্ঠ্য-বিশ্বামিত্র বা ব্রাহ্মণ-ক্ষত্রিয় বিরোধ আজ আর বিষয় নয়! আজ নতুন যুগের সঙ্গে নতুন সংকট এসেছে। দেবধর্ম বা বেদধর্ম নয়, ধনের ধর্মই প্রবল এখন। দোয়াবের দুই তীর ধরে যে অসংখ্য নগর গড়ে উঠেছে তাদের কেউ কেউ রাজশাসিত, কেউ কেউ গণের অধীন। সর্বত্রই এখন সামাজিক আইনের বিরোধ চলছে। যেখানে যে আইন আছে, সেখানে সেই আইনই মানুষের অসহ ঠেকছে! কী একটা বিষয় যেন তাকে সর্বত্র খোঁচা দিয়েই চলেছে। কিছুতে তার শান্তি নেই। কিছুতে স্বস্তি পেতে পারছেনা সে। বিলাসের চূড়ান্ত থেকে কৃচ্ছসাধনের শেষ সীমা অবধি গিয়েও যেন কিছুতেই হচ্ছেনা সমাধান। এ বিরোধের প্রকৃতি সত্যি পরিষ্কার নয় সত্যবতীর কাছে। তিনি আর কত বুঝবেন? কেনই বা বুঝবেন? সত্যিই তো, যার সন্তান সে এসে গেছে এবারে। সেই ঠিক করে দিক কে কী করবে? তিনি কেন আর টানবেন এই সব? এই প্রাসাদের বাইরের যে জীবন তাঁকে অমৃতের আস্বাদ একবার দিয়েছিল তারই কাছে ফেরাই উচিত। দূর থেকে ভেসে আসছে স্তব, কান পেতে শোনার চেষ্টা করলেন তিনি। গায়ত্রী, না কি অন্য কিছু? ছাই আজকাল কানেও সমস্যা। হেসে ফেললেন নিজেই। বুড়ি হয়েছ সত্যবতী, বুড়ি। চলো, এবারে তবে বাণপ্রস্থেই চল! ... ...

আপাতত আমরা কেবলের দৌলতে বিদেশী সিনেমার সহজলভ্যতার (এবং সেই খাতিরে সাধারণ দর্শকের জ্ঞানোপলব্ধির প্রসার) বিষয়টি পরবর্তী কোনো কিস্তিতে আলোচনার জন্য তুলে রাখলাম। প্রাসঙ্গিক প্রশ্নটি হল -কেবল টিভি যে সময়টুকু নিয়ে নিচ্ছে তার সঙ্গে সিনেমার উৎকর্ষের কী সম্পর্ক? একথা ঠিক যে কেবল টিভির প্রবেশ (বা অনুপ্রবেশ) দর্শকদের সময়ের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে অর্থাৎ আপনি যে সময়টুকু আগে সিনেমার পেছনে দিতে রাজি ছিলেন সেই সময়টুকুর দাম এখন অনেক বেশি, কারণ হাতের কাছেই রয়েছে অন্য বিকল্প। একথাও অনস্বীকার্য যে বিকল্পটি তুলনামূলক ভাবে বেশ শস্তাও। আপনি ওই দামি সময়টুকু কখন খরচ করবেন তাহলে? নিশ্চয় থোড় -বড়ি -খাড়া দেখে নয়। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আপনি সিনেমা হলের দিকে তখনই যাবেন যখন আপনি জানেন মনোরঞ্জন কি ইন্টেলেকচুয়াল স্টিমুলেশন যাই আপনার অভীষ্ট হোক না কেন সেটির মান সাদা বাংলায় একদম টপ-ক্লাস। তর্কের এই আঙ্গিকে তাহলে এটাই মনে হওয়া স্বাভাবিক যে চলচ্চিত্রের গুণগত মান সার্বিক ভাবে বাড়া উচিত চিত্র্যনাট্যই হোক কি সিনেমাটোগ্রাফি কি আইটেম নাম্বার - চাই "আউট অফ দ্য বক্স' ভাবনাচিন্তা। এই থিয়োরি অনুযায়ী তাহলে কম কিন্তু বেশ ভালো সিনেমার এই মুহূর্তে বাজার ডমিনেট করা উচিত কিন্তু সেটা কি আদৌ বাস্তব? ... ...

রাজ্য পরিচালনার ভার যে রাজনৈতিক দলের হাতেই থাকুক না কেন, শাসকশ্রেণী অর্থাৎ পুলিশবাহিনীর সঙ্গে তাদের অশুভ আঁতাত যে কোনও সময়েই বিয়ের মত বাঁধনের চাইতেও বেশী শক্তপোক্ত হয়ে দাঁড়ায়, এমনটা যেন একটা অলিখিত নিয়ম হয়ে উঠেছে। আর ঠিক এমনটাই না হলে মনে হয় না যে ক্ষমতাসীন দলটির পক্ষে রাজ্যে শাসন করা আদৌ সম্ভব হবে। গোটা বিশ্ব জুড়ে মানুষ, রাজনীতিবিদ ও রাজনৈতিক নেতা, সবাই শান্তির কথা বলে, সমস্যা ইত্যাদির শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ বাতলায়। কিন্তু তারা এই কথা বলে হয় শাসকদল অথবা জোটের অন্তর্ভূক্ত হয়ে, নিজের হাতের মুঠোয় পুলিশি ক্ষমতা রেখে। এ এক আজব পরিস্থিতি; আমি এক রাজনৈতিক নেতা সশস্ত্র পুলিশবাহিনী এবং কম্যান্ডোদের (আমার স্ট্যাটাস যদি তাই হয়) সুরক্ষাবেষ্টনীর মধ্যে থেকে সাধারণ জনগণকে হিতোপদেশ বিতরণ করতে আসবো, তাদের সমস্যার প্রজাতান্ত্রিক সুরাহা দর্শাবো, আমার নিরাপত্তারক্ষীরা পুরো ঘটনার সময় চারদিকে নজর রাখবে, তারা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে থাকবে, সেইসব সাধারণ মানুষ যারা ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করেছে তাদের দিকে সন্দেহের চোখে তাকাবে, কারণ তারা দেখতে চায় কোন ভোট-নাগরিকের হাতে আমার সমূহ ক্ষতির সম্ভাবনা। এত এত সংখ্যক পুলিশ আর সশস্ত্র কম্যান্ডোরা, বিপুল পরিমাণ এই আগ্নেয়াস্ত্রের ভান্ডার রক্ষীদল এবং প্রজাতন্ত্রের হাতে, এসব দেখে আমার মন কু-গায়, হয়ত প্রজাতন্ত্র একটা অতিবিপজ্জনক প্রস্তাবনা - এই বুঝি খুব খারাপ কিছু ঘটে গেল। এইভাবে দেখলে মনে হয় আমাদের গণতান্ত্রিক অব্যবস্থা একটা রূদ্ধশ্বাস থ্রীলার। ... ...

আমরা দেখেছি, কিশোরী শেরাপিনাকে গত বছর ৪ এপ্রিল চার জন বখাটে যুবক ধর্ষণ করার পরেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করেনি। আসামীরা মাত্র দেড় লাখ টাকায় ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে চাইলে ১০ মাস ধরে আপমানের জ্বালা সয়ে শেরাপিনা এ বছর ১৭ ফ্রেব্রুয়ারি গায়ে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যা করে। সে সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ উত্তরবঙ্গের আদিবাসীদের সম্মিলিত তীব্র আন্দোলনের মুখে পুলিশ এজাহারভূক্ত আসামীদের গ্রেফতার করতে বাধ্য হয়। আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার দায়ে মোট ১৩জনকে আসামীও করা হয়। আজও এ ঘটনার বিচার হয়নি। ... ...