
রাতের ঝাউয়ের বন ঘেঁষে বালিয়াড়ির পাদদেশে ধিকধিক বনফায়ার, ওদের পাঁচটা মুখে আগুনের লাল লেগেছিলো- এখন আর পাঁচটা মুখ নেই, বিয়ারের তোবড়ানো ক্যান হাতে গোড়ালি ভেজানো ঢেউয়ে আমি-এ সমুদ্র এমত বেহায়া- তেমনই ওরাও পাঁচজন বন্ফায়ারের হা-হা:-- পাঁচ কেন, ওরা চার, দুজোড়া কপোত-কপোতিনী, আমি তো ব্রাত্য ঐ দলে, অথচও লোক চাই, দর্শক; নিজেদের প্রেমগুলো নিয়ে দর্শক না দেখলে ফ্যান্টাসি মেটেনা ওদের। ওরাও সমুদ্রের মত ঐ সমুদ্র, চাঁদের রিফ্লেকশন জলে ফসফস বলে ভুল হতে থাকে, হাওয়ায় পেট ফাঁপে ছেঁড়া ক্যারিব্যাগ যেন জেলিফিশ এই সমুদ্র, চাঁদের আলোর পথ করে দেয় মানুষের কাছে, আমার কাছেও লুনাটিক স্পৃহা সব সেই পথ ধরে হেঁটে গিয়ে অতলে তলিয়ে মরে যায়, মরে, তবু বেঁচে ওঠে তবু এই সমুদ্রের ধারে কাঠের আগুন থেকে হাওয়া বেয়ে ছিটকিয়ে যায় জ্বলন্ত জৈবযৌগ, ব্রেনের পাকগৃহ ঘিরে জৈব রিঅ্যাকশন হয়ে চলে, এসে পড়ে অসহ্য অতীত। এমনই সমুদ্র তার গাঢ় সব দুপুরের বেলাভূমি, স্নানের গোপন আর সেই সব কথা যেগুলো উহ্য রেখে সরে গিয়েছিলো আমার এইখান থেকে, আর কিছু ভাবিনা, আর কোনও স্বপ্ন দেখিনা, আর কোনও কান্না রাখিনি আগুনে ... ...

শহর থেকে অল্প দূরেই যে একটি চমৎকার হ্রদ রয়েছে, এ আমি অনেকদিন অবধি জানতাম না। হারুণের মুখে প্রথম যখন এর কথা শুনি, তখন থেকেই জায়গাটির প্রতি আমার এক অদম্য আকর্ষণ জন্মায়। ও সেখানে না-যাওয়া অবধি য্যানো কিছুতেই স্বস্তি পাচ্ছিলাম না। তখন বসন্তকাল। যদিও শহরে তা নামমাত্র। কাজের চাপ তেমন না থাকায় আমরা প্রায় প্রতি সন্ধ্যাতেই (রোববার বাদে) সদর স্ট্রিটের এই ছোটো পানশালায় জমায়েত হই। আমরা বলতে আমি, হারুণ, অরূপ আর মাস্টার। পানশালাটির নাম ‘সলিটেয়ার’। ও সেখানকার ওয়েটাররাও আমাদের চিনে ফেলেছিলো। ঘন্টাদুয়েক গল্পগুজব করে আমরা যে যার বাড়ি ফিরতাম। তো এখানেই একদিন হারুণ হ্রদটির কথা আমাকে বলে। সে এও জানায় যে, শহর থেকে ওই হ্রদের দূরত্ব মাত্রই মাইল কুড়ি। কিন্তু নিকটে হলেও, ঘন সবুজ গাছপালায় ঘেরা, অনুচ্চ টিলাবেষ্টিত অধিত্যকাটির সৌন্দর্য না কি প্রায় অপার্থিব। সে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। তার এই কথায় বাকি সবাই সায় দ্যায়। আমি বলি যে, তাদের সৌভাগ্যে আমি ঈর্ষান্বিত। আগে জানলে আমিও নিশ্চয় এতদিনে হ্রদটি দেখে আসতুম ... ...

প্রবলেমটা হচ্ছে মাঝেমাঝেই আমি আমার থেকে নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছি। যা করা উচিত নয় তাই করছি। অফিসে সমস্যা হচ্ছে।আর যে সমস্যাটা হচ্ছে তা হল আমি সবসময়ই কোনও না কোনও স্বপ্নের মধ্যে থাকছি। এটা হয়তো কেউ বুঝতে পারছে না,কিন্তু আমি তো বুঝতে পারছি। আর কিছুতেই আমি এই ড্রিম থেকে বেরতে পারছি না। যখন একলা বাড়িতে থাকছি, তখন বুঝতে পারছি যে আমি তার সঙ্গেই থাকছি যাকে নিয়ে আমার সারা দিন কাটছে। আর সত্যি কথা বলতে কী স্ত্রীর সঙ্গে না থাকাটা আমার কাছে কোনও ব্যাপারই নয়। আমি যেমন তাকে ভালোবাসি তেমনই আমি ভালোবাসি আরেকজনকেও। কিন্তু তাকে ছাড়াও দিব্যি রাতগুলো কেটে যাচ্ছে আমার। ... ...

ঢং করিয়া একটা বাজিল. পার্ক স্ট্রিট এর একটি নিশিনিলয় হইতে এক সুদীর্ঘ ছায়া বাহির হইল. সেই ছায়া র এক হস্তে একটি সবুজ শিশি ও অন্য হস্তে প্রলয়্নাথ বিশী র সদ্য কর্তিত মুন্ড. কিন্তু দয়াময় ভগবান এর অপূর্ব লীলাখেলায় সেই কর্তিত মুন্ড হইতে উষ্ণ শোনিতের পরিবর্তে "টপ টপ" শব্দে ঝরিতেছে প্রগাড় পীতবর্ণ হিসি. গোয়েন্দা কৃষ্ণকমল একটি সুউচ্চ গৃহের বাতায়ন হইতে সেই চলন্ত ছায়ার উপর তীক্ষ্ণ নজর রাখিতেছিলেন. তাঁহার সুদৃশ্য মুখমন্ডল টি ঋষি কাপুর এর মুখোশে ঢাকা. চলন্ত ছায়া রাস্তা পার হইয়া একটি পুরাতন কালো রং এর মোটরগাড়ি র দিকে ধাবিত হইল. উত্তেজিত কৃষ্ণকমল পকেট হইতে একটি মিশি র কৌটা বাহির করিলেন. দেখিতে উহা নিরীহ একটি ইস্পাত এর কৌটা হইলে ও উহাতে কৃষ্ণকমল এর স্নাইপার খানি ভাঁজ করিয়া রাখা আছে. কৌটা খানি উপুর করিয়া কৃষ্ণকমল হাত এর উপর ধরিতে স্নাইপার খানি পাতলা রুমাল এর ন্যায় বাহির হইয়া আসিল. তিনি বাম হস্তে উহার অগ্রভাগ ধরিয়া একখানি প্রবল ঝটকা দিলেন...ততক্ষনাত পুরা স্নাইপার খানি কৃষ্ণকমল এর হাতে র উপর খুলিয়া আসিল ... ...

-"শুনেছিস?" -"হুঁ, শুনলাম।" -"কখন? কে বলল?" -"এই তো একটু আগে। মিসেস চৌবে ফোন করেছিল। অনুপমকেও কে জানি ফোন করেছিল।" -"ছি: ছি:, কী লজ্জা বলতো? আমরা বাঙালীরা আর কারো কাছে মুখ দেখাতে পারব? সবাই তো মওকা পেয়ে নিন্দের বন্যা বইয়ে দেবে। বলবে "বঙ্গালীলোগ এয়সে হী হোতে হ্যায়"। ছি:" রুমেলা বিরক্ত হল। যা হয়েছে তা খুবই বাজে ঘটনা, শুনে অবধি তার মেজাজ খারাপ, তবু এসময়ে দেবযানীর এইসব টীকাটিপ্পণী সহ বক্তব্য আর নেওয়া যাচ্ছেনা। সে ফোনপর্ব শেষ করার ইঙ্গিত দেয়, -"ওসব ভেবে কী লাভ। যাদের যা বলার তারা এমনিতেও বলবে, অমনিতেও বলবে। ওতে কান না দেওয়াই ভালো। যাক শোন, অনুপম অফিস বেরোবে। ব্রেকফাস্ট রেডি হয়নি এখনো। এখন রাখ, সারাদিন পড়ে আছে। এসব আলোচনা পরে হবে।" ... ...

পৃথিবী জুড়ে এত বিপ্লবের মহোত্সব, অলি! তুই তো আমায় দেখাতিস স্বপ্নের দিকে উড়ে চলার রাস্তা. আর তুই আছিস বলেই না আমার মনে হত শেষ সিঁড়িতে এখান থেকেও পা রাখা যায়! অনন্তপুর থেকে স্টোনওয়াল খুব বেশি দূর নয়. আর কোনো এক দিন একটা বৃষ্টির বিকেলে আকাশে জোড়া রামধনু উঠবে যখন, রাস্তার ঠিক মাঝখানে দাঁড়িয়ে তোর ঠোঁটে ঠোঁট রাখতে পারব, নিশ্চয়ই। সিকিওরিটি কি ইলিউশন? না কি সে সত্যি ই আছে? কোথায় সবচেয়ে সিকিওরড আমি? ধুস, আমি ওসব বিপ্লব টিপ্লব জানিনা অলি! আমি শুধু তোকে আমার পাশে দেখতে চাই, সকালে, বিকেলে, শুনতে চাই তোর ইষৎ অন্যমনস্ক গলায় গুনগুনানি. ছুঁয়ে থাকতে চাই তোকে.এইটুকু চাইবার জন্য বিপ্লব করতে হবে? ... ...

এটা ধর্মের ব্যাপার নয় - এটা পুরোটাই ক্ষমতা দখলের রাজনীতি। ধর্ম এখানে একটি অজুহাত মাত্র। যদি এই লোকগুলি নিরীশ্বরবাদী হতো তাহলেও এই হিংসার ঘটনা ঘটতো। এই সব হিংসার জন্য শুধু ধর্মকেই দায়ী করতে গিয়ে তারা ভুলে যাচ্ছেন যে মানুষকে নিজের দখলে আনতে হলে সব ইডিওলজিকেই হিংসার পথ ধরতে হয়েছে, অবশ্যই ধর্ম তার থেকে বাদ নেই। এটা শুধু কোনো ধর্মের দোষ নয়।নিশ্চয়ই এটা নিয়ে তর্ক ও আলোচনার সুযোগ রয়েছে কিন্তু শুধু ধর্মকে কাঠগড়ায় চাপালে মূল কারণটাকে আমরা বাদ দিয়ে ফেলব। বিশেষত; যখন আমাদের বোঝাতে হবে পাকিস্তানের আম জনতাকে যে এটা আমাদের এক যুদ্ধ। যেটা পরিষ্কার করে বলতে হবে যে টিটিপি যা করছে তা ধর্ম নয়, এটা ধর্মের বিকৃতি। আরো যেটা বোঝানো জরুরি যে টিটিপি এখন ধর্মকে ব্যবহার করছে, কেন না সেটা এখন তাদের পক্ষে সুবিধাজনক। ... ...

৮ মার্চ, ১৯৬৭: ক্রিস মার্কে SLON (Service de lancement des oeuvres nouvelles)-এর প্রথম প্রজেক্ট Loin du Vietnam (1967)-এর সম্পাদনা করছেন। Godard, Ivens, William Klein, Claude Lelouch, Alain Resnais এবং Agnès Varda এঁদের সকলের নিজস্ব নির্মাণ দিয়ে ভিয়েতনাম যুদ্ধের প্রতিবাদ রয়েছে এতে। মার্কেরা একে বলছেন cinéma ouvrier। কোনোরকম ব্যক্তিগত নেতৃত্ব ও অথরশিপকে বাদ দিয়েই হবে নতুন সিনেমার নির্মাণ। এমন সময়ে Rhodiaceta থেকে চিঠি হাজির René Berchoud-এর। রেনে-রা তিন হাজার শ্রমিক ওখানে Rhône-Poulenc-এর মালিকানায় থাকা কারখানাটিতে ধর্মঘট করেছেন এবং দখল করে নিয়েছেন সেটা। একমাসের দীর্ঘ্য ধর্মঘট হয়েছে ২৫ শে ফেব্রুয়ারী থেকে। ১৯৩৬ সালের পরে সেই প্রথম কোনো কারখানা মজুররা দখল করে রাখলো। মালিক কোম্পানিটি সে আমলের ফ্রান্সের অন্যতম বড় কোম্পানি। ... ...

“শুনেছি নাকি চাঁদের বুড়ির পোস্টটা নাকি খালি হয়েছে। তুমি চরকা কাটতে জানো ?” আপাতভাবে অলীক এই সংলাপগুলি ১৯৮৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘ওম দর ব দর’-এর অন্তর্ভুক্ত। এই চলচ্চিত্রটিকে ভারতের ‘অ্যাভঁ গ্যর্দ’ (Avante - Garde) সিনেমার একটি পথপ্রদর্শক হিসেবে গণ্য করা হয়। ‘অ্যাভঁ গ্যর্দ’ শব্দটি চলচ্চিত্র জগতে বিভিন্ন রকমের পরীক্ষামূলক গোত্রের সিনেমার পরিচায়ক। মূল আলোচনায় ঢোকার আগে ‘অ্যাভঁ গ্যর্দ’ সিনেমা সম্বন্ধে দু’চার কথা বলা দরকার। ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে ইউরোপে ম্যান রে (Man Ray), দুচ্যাম্প (Duchamp), রেনে ক্ল্যার (Rene Clair) প্রভৃতি পরিচালকদের হাত ধরে ‘অ্যাভঁ গ্যর্দ’-এর সূচনা। এরপর ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে প্রতিভাধর পরিচালক লুই বুনুয়েল (Lui Bunuel) এবং চিত্রশিল্পী সাল্ভাদর দালি (Salvador Dali) মিলে সৃষ্টি করলেন ‘অ্যাঁ শিয়েঁ অ্যাঁদালু’(Un Chien Andalou) নামে এক আশ্চর্য ছবি, যা ‘অ্যাভঁ গ্যর্দ’-এর ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই পরীক্ষা- নিরীক্ষার আঁচ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ল। নানান দেশের পরিচালকেরা নিজগুণে ‘অ্যাভঁ গ্যর্দ’-কে আরও সমৃদ্ধ করে তুললেন। ভারতবর্ষেও এর প্রভাব অনুভূত হতে লাগলো ১৯৬০-এর দশকের গোড়া থেকেই। এই প্রসঙ্গে বলে রাখা ভাল যে, ১৯৪৮ সালে উদয়শঙ্করের ‘কল্পনা’ ছবিটিতে প্রচুর পরীক্ষামূলক প্রয়োগ রয়েছে, তবে এটিকে ‘অ্যাভঁ গ্যর্দ’ এর শ্রেণিভুক্ত করা যায় কিনা, সেই নিয়ে বির্তক আছে। সাধারণভাবে ভারতের প্রথম দৃষ্টান্তমূলক ‘অ্যাভঁ গ্যর্দ’ সিনেমা বলতে ‘ওম দর ব দর’-এর কথাই মাথায় আসে। বস্তুত,এটিই ভারতবর্ষের প্রথম ‘অ্যাভঁ গ্যর্দ’ ফিল্ম, যেটি দেশে ও বিদেশে সমানভাবে বন্দিত হয়েছে। ১৯৮৯ সালে কমল স্বরুপ এই ফিল্ম-এর জন্য ফিল্মফেয়ার-এ জু্রিস চয়েস পুরস্কার পান। আজ, এই সিনেমা মুক্তি পাবার প্রায় ২৫ বছর পরেও, সিনেমাপ্রেমী মানুষদের মধ্যে এটি নিয়ে সমান উদ্যমে আলোচনা হয়। ... ...

আসলে কীভাবে শুরু করবো সেটা নিয়ে গড়িমসি হয়ে গেল বহুদিন। কিভাবে লিখলে লেখাটা চলবে...লোকে পড়বে...বলবে ভালো...তেমন কোনো নির্ভরযোগ্য মাল মশলা মজুত করা নেই হাতে। তথ্য সন্ধানমূলক লেখার যে ব্যাপ্তি আশা করা যেত সেটাও পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম। পড়া হয় না অনেক দিন অনেক কিছু...ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে সব... ছড়িয়ে ছিটিয়ে সমকাল...আর কোথাও যেন সেঁধিয়ে থাকার মন্ত্রনা কানে এসে ফিস- ফিস, গুণ- গুণ করে। এলোমেলো পাতা উড়ে আসে...মোবাইলের রিং টোন...এস এম এসের বিপ বিপ...সূড়ঙ্গের অন্ধকার স্যাঁতসেঁতে গন্ধ...মিলেমিশে একাকার কাব্যিক উত্থানের গলা টিপে ধরে। জলের তোড় এগিয়ে আসে...অন্ধকারের মধ্যে ঠাহর করা যায় না...কিন্তু জলের তোড় এগিয়ে আসে...। ... ...

ঠিক এই জায়গাটাকেই দর্শককূল বা পাঠককূল মনে করে থাকেন অ্যারোগেন্স বলে। অ্যারোগেন্সটা কিন্তু এমনি এমনি আসেনা। সেসব কথায় পরে আসছি। আপাতত বলা যাক যে, এই আমাদের গোষ্ঠীটার ভেতর আবার দুটো স্পষ্ট ভাগ রয়েছে। আমরা মোটামুটিভাবে বন্ধু হলেও আমাদের চিন্তাভাবনার পদ্ধতি আমাদের দুটো আলাদা কাজ করতে ঠেলে দেয়। আমরা যারা এই গোষ্ঠীর এবং মেইনস্ট্রীম সিনেমা নিয়ে খুশি নই, ক্যামেরার পিছনে দাঁড়িয়ে কিছু করতে চাই; একদল মনে করি লোকে না দেখলে কাজ করে কি হবে, আরেকদলের মতানুযায়ী যে করে হোক কাজটা শুরু করা দরকার, তারপর লোকে নিশ্চয়ই দেখবে, না দেখে যাবে কোথায়! ঠিক এই পার্থক্যটাই আমাদের একসাথে কাজ করতে দেয়না, যদিও উদ্দেশ্য আসলে একই। আমি দ্বিতীয় দলের লোক হলেও প্রথম দল সম্পর্কে আগে বলে নেওয়া যাক। এরা বিশ্বাস করে আভাঁ-গার্দ এবং মেইনস্ট্রীম ফিল্ম এর মধ্যে আদানপ্রদানটা খুবই জরুরী। সেটা আমরাও যে করিনা তা নয়, তবে এদের ওই লোকে না দেখলে কিছুই হলো না জাতীয় মনোভাব থেকে এরা একটা কি দুটো শর্ট ফিল্ম বানানোর পরপরই ইন্ডাস্ট্রিতে ঢোকার পথ খুঁজতে শুরু করে। কেউ স্ক্রিপ্ট রাইটার তো কেউ এডি (সহকারী পরিচালক) হয়ে ঢুকেও পড়ে। আসল উদ্দেশ্য দশ কি পনেরো বছর ধরে আটঘাটগুলো জেনে নেওয়া, তারপর নিজে ছবি বানানো শুরু করা। কেউ পারে কেউ পারেনা। এরপর কোনোদিন দেখা হলে আলোচনার বিষয় হয়ে যায় তমুকের ক্যামেরাম্যান কেন ইচ্ছা থাকার পরও কোনদিন ইউনিট ছেড়ে বেড়িয়ে গিয়ে নিজের ছবিটা করে উঠতে পারলোনা, অথবা অমুক পরিচালক আদতে কতটা সৎ কিংবা এই যে বড় বড় প্রোডিউসার-ডিস্ট্রিবিউটর-হলমালিকদের আঁতাত, ইত্যাদি। দেখা না হলেও চলে, তবু এইসব সাক্ষাৎ এবং পরস্পর পরস্পরকে আমরা মনে রেখে দিই। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয়, ইন্ডাস্ট্রিতে চলে যাওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় দুটো কারণ হল ১) একটা কমন ক্রাইসিস, যে, ছবিও করতে হবে আবার খেয়ে-পরে বাঁচতেও হবে আর ২) আত্মবিশ্বাসের অভাব। নিজেকে নিজে পুরোপুরি বিশ্বাস না করতে পারলে অন্য কেউও তোমায় বিশ্বাস করতে পারে না এবং এতে তাদেরকে দোষ দেওয়ারও কিছু থাকে না। এই বিশ্বাসের অভাবই কি সেই ভয়ের জন্ম দেয়না যে দর্শক আমায় রিজেক্ট করতে পারে? আর সেই ভয়ই কি একটা সময়ের পর নিজস্ব সাফল্যের ফর্মুলা অনুযায়ী ছবি করতে বাধ্য করে না? এইভাবেই তো সত্যা-র সাফল্যের পর পাঁচ তৈরী করার কথা ভাবে একটা লোক অথবা ওম্যানিয়া আর চি-চা লেদারের সাফল্যের পর বোঝাই যায় যে ড্রিমাম ওয়েকাপ্পাম দর্শক ভালই ‘খাবে’। মাথার ভেতর কোথাও বোধহয় ওই বিশ্বাসের অভাব বা ওই ভয়টা ‘মশলা’টা মেশাতে শিখিয়ে দেয়। হলই বা নিজস্ব মশলা, মশলাই তো। তাছাড়া কম বয়সে কেই বা বিপ্লব করেনি বলতো! শয়তানের ভেতর মোরাভিয়া ঢুকে যায়, জনি গদ্দারের মধ্যে জেম্স্ হ্যাডলী চেজ। যাই হোক! ... ...

পুরনো প্রেম যশোধরা রায়চৌধুরী নৌকার গায়ে আলো বিক্রম পাকড়াশি শান্তি সম্পর্কিত মাজুল হাসান দৃষ্টিবিভ্রম দোলনচাঁপা চক্রবর্তী তোমাকে ছাপিয়ে যায় পালক বিক্রেতার হাসি অরণ্য খয়েরী বাতাস শাকিলা তুবা না-মানুষ অধ্যায় অথবা নিছক ক্ষুধার গল্প সায়ন্তন ... ...

প্রেম সরে গেলে, লিখনটি - অলীক দেওয়ালে সুমন মান্না কথা তো কাহিনিময় স্তব্ধতা কবিতার মতো অলক্ষ্যে ছুঁয়ে গেল স্মিতরূপ বেদনার ক্ষত বুক জুড়ে শূন্যতা যেন পরিযায়ী পোষাকের ভাঁজ কাল ফিরে গিয়েছিল ঘুম, জেগে থাকা সারারাত আজ- তোমাকে লুকিয়ে রেখে মৃদু ভয় খোঁজা সাপখোপ আলোর ঘোমটা টানা মুখ ঢাকা গাঢ় ঘেরাটোপ ... ...

... ...

আমাদের কুচোরা পুজোর শতেক ব্যস্ততার মাঝেও বানিয়ে দিয়েছে গুরুর পুজো প্যান্ডেল। আসুন, বসুন, পেসাদ খান। দুগগি দেখুন। ... ...

এবচর সাবোন মাসের শেষে, তেমন বিষ্টির দ্যাকা নেই, কোলকাতা ডেঙ্গি জ্বরে কাঁপচে, রোদে চাঁদি ফাটিয়ে দিচ্চে, এমন সময় কাগজের স্টলগুলো পুজো সংখ্যার বোইতে ছেয়ে গ্যালো। বুজলুম মা আসচেন, মানে তাকে ঘেঁটি ধোরে আনার উজ্জুগ চলচে। আগে আমাদের যকোন বয়েস কম ছিলো, তকোন পিত্তিপোক্ষের তপ্পণের পর দেবীপোক্ষের শুরুতে এরা সব একে একে দেকা দিতো, আজকাল ভুবনবাজারের হুজুগে সবার আগে পুঁজির বাজার দখলের পুজো, এমনকি বোধয় সিদ্ধিদাতা গণেশেরও আগে। তাই পুজোসংখ্যাওলাদের একোন হোয়েচে - কী ছাপলুম, তার চেয়ে বড়ো কতা, কে কার আগে সেজেগুজে গলির মোড়ে সার দিয়ে দাঁড়িয়ে পড়তে পারলুম কি পারলুম না। চাড্ডি খোদ্দের ধোরতে পারলে ঘরের কড়ি ঘরে ঢোকে। ... ...

আকাশ থেকে মনসুনের মেঘ সরলো তো বুভুক্ষু বাঙালী ঝাঁপিয়ে পড়লো পুজো নিয়ে। শারদীয়া পত্রিকা এখন সরতে সরতে বর্ষাকালেই বার হয়। একই নামের লেখক লেখিকা,একই অপকাশিত পত্রাবলী ও আঁকা ছবি। একটি ফরম্যাট মাত্র। তাও ও কিনতে হয়। কিনে খুব রাগতে হয়। "কিস্যু হসসে না" বলতে হয় কিন্তু বর্ষাকালের শারদীয়াগুলি কিনতে হয়। কিনতেই হয়।এটি পুজার নামতা। অত্যাচারী ও অত্যাচারিত, দু পক্ষেই মিলে জুলে এ খেলাটি খেলে চলেন প্রতি বছর। ... ...

তা হলে, শ্রীরাম কি শরতে যুদ্ধ করেন নি? এই নিয়েও নানা প্রশ্ন আছে৷ কারণ, বিন্ধ্যের দক্ষিণে এই পুজো করলেও তার আগে অযোধ্যায় দুর্গাপুজোর উল্লেখ কোনও রামায়ণে নেই৷ বাল্মিকী রামায়নে অকালবোধনই নেই৷ এমন কি, বনবাসের আগে বা পরেও কখনও তিনি অযোদ্ধায় দুর্গা পুজো করেছেন বলে কোনো উল্লেখ নেই। ... ...

পৃথিবীর সমস্ত রবিবারেরাই খুব বুদ্ধিমান। কেননা একমাত্র তারাই মানুষকে অনেকটা সময় ধরে দেখে। একটা কন্টিনিউয়াস প্রসেস। ঘুম ভাঙার মধ্যে দিয়ে দেখা শুরু হল। তারপর,মানুষটার সমস্ত একাত্মতায়,নিজস্বতায়,ভাবালুতা এবং আবেগ বর্জিত বাস্তবতা ও কাজের মধ্যে দিয়ে এই দেখাটা চলতেই থাকল। এভাবেই মানুষদের সবচেয়ে বেশি করে চিনে নিল রবিবার। সমস্ত দুর্বলতা ও খুঁটিনাটি বিশ্লেষণ করে জেনে নিল আমরা কে কেমন,আমাদের বেঁচে থাকা,একাকিত্ম, ও নিজস্ব অভিনয়গুলো ভাল না খারাপ। আমরা এত কিছু বুঝলাম না। শান্তি ও আনন্দ ভেবে নিতে রবিবারই সবচেয়ে প্রিয় হল আমাদের। আর,সপ্তাহের অন্য দিনগুলোর থেকে ভাললাগা,খারাপ লাগা ধার নিয়ে ক্রমশ তরল,অজৈব এবং জলীয় হয়ে উঠল সে। ফেসবুক তোলপাড় করছে একটা ছবি। মালালা ইউসুফজাই। তার শরীরে ঢাকা দেয়া চাদরটা রক্তে ছোপানো। মাথায় পট্টি। শুয়ে রয়েছে চোদ্দ বছরের বিদ্রোহী বাচ্চা মেয়ে। এক বন্ধু ছবি দেখে বলল,এই পরিস্থিতিতে আমরা এই রকম হতে পারতাম না। সাহসে কুলাতো না। আমরা এ'রকম হতে পারিনা। সবাই সবকিছু পারেনা। তবে আজকাল জানতে ইচ্ছে করে যে আমরা কী পারি। ধর্ষণে ধর্ষণে ক্লান্ত পশ্চিমবঙ্গ! মেয়েদের ওপর অত্যাচারে,বধূহত্যায়,ভ্রূণহত্যায় -সবখানেই আমাদের পা। বছর দুই আগে সল্টলেকে এক আইটি ইঞ্জিনিয়ার দুর্ঘটনায় মারা গেলেন -অফিস থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে - অনেক মানুষ ঘিরে দাঁড়িয়েছিল,কেউ জলটুকুও দেয়নি। ক'দিন আগে পুলিশের ডাকাতি করার গল্প পড়লাম। কই,আমাদের তো মেরুদন্ডে কোথাও কোন শিরশিরানি নেই। এই কলকাতাই আমার কলকাতা নাকি ! চিনতে পারিনা কেন তবে! চিনবার চেষ্টাটা আসলে একটা আশ্রয়ের খোঁজ - বয়স হচ্ছে তো। বয়স হচ্ছে ভেবে নিলে একটা সুবিধাও আছে - পরের প্রজন্মের ওপর ভর দিয়ে দাঁড়ানো যায়। ... ...

অভিবাদন করে বিদুর বেরিয়ে যান। বাইরে রাত গভীর হয়েছে। শাস্ত্রী মহাশয় কিছুক্ষণ আপন ভাবনার মধ্যে ডুবে গেছিলেন। চটক ভাঙলো কতগুলো পাখির ডাকে। সম্ভবত তারা আক্রান্ত। হয় বাসায় সাপ উঠেছে অথবা প্যাঁচা। কান পাতলেন তিনি। না, পেঁচা না। কারণ তার কোনো শব্দ শোনেননি তিনি। তাহলে সাপ। এখানে অজগরের উপদ্রব বেশি তা তিনি জানেন। শব্দহীন অমেরুদন্ডীটি আততায়ী হিসেবে অত্যন্ত নির্মম। একদম সামনে হাজির না হলে সে যে এসেছে তাই জানা যায় না। প্রকৃতিগতভাবে পাখিগুলি দুর্বল, আর অজগর শক্তিমান। পাখীদের কলরব বাড়তে বাড়তে চূড়ান্ত হচ্ছে। একবার ইচ্ছে হল বাইরে বেরিয়ে দ্যাখেন যদি কিছু করতে পারেন। তারপরে গাভালগণ চলে এলেন জানালা থেকে। প্রকৃতি নিত্য নির্মমতার রাজ্য। তিনি মাথা নাড়লেন। যার যার জীবনের নিরাপত্তা মূলত তার তার হাতেই। তাকেই শিখতে হবে নিরাপদ হতে। নতুবা...! ... ...