নমস্কার ভদ্রমণ্ডলী। মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পরে আবার ফিরে এলাম। শেষ চৈত্রের এই দ্বিপ্রহরে কোকিলপুর কবিতা উৎসবের দ্বিতীয়ার্ধে আপনাদের সকলকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাই। যদিও আবহাওয়া এখন এমনিতেই যথেষ্ট উষ্ণ, তথাপি আমরা আপনাদের অভ্যর্থনায় কোনোরকম শীতলতা থাকুক এটা চাইছি না। বাংলার নানা প্রান্ত থেকে আপনারা যে এই অখ্যাত গণ্ডগ্রামে কবিতা পড়তে এবং শুনতে ... মাফ করবেন, তথ্যে একটু ভুল ছিল, শুনতে এখনও পর্যন্ত কেউ আসেননি। সবাই পড়বেন। ... ...
সাড়ম্বরে বৈশাখ উদযাপন করতে পারা, না-পারা নিয়ে অচিন একটা শঙ্কা যেন বছর বছর পাখা মেলার চেষ্টা করছে চৈত্রের বাতাসে। এবার চৈত্রকালীন শঙ্কার শুরুটা ছিলো কপালের 'টিপ' নিয়ে। 'টিপ' আপাতদৃষ্টিতে আহামরি কিছু না হয়তো, কিন্তু সমকালীন ঘটনাপ্রবাহ বিবেচনায় নিলে 'টিপ' হচ্ছে নিষ্প্রদীপ এই সমাজ ব্যবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অথচ জাগ্রত একটা বিন্দু।বিশ্বাস করুন, ঢাকা আসলে বাংলাদেশ না, এবং শাহবাগ বাংলাদেশের রাজধানী না।ঢাকার বাইরেও প্রায় পঞ্চান্ন হাজার বর্গমাইলের একটা দেশ আছে ... ...
প্রতিবাদ, এক বুক কিলবিল করা পোকা, যা কুরে কুরে খায় আর বলে শিরদাঁড়া সোজা করে দাঁড়া।সে কি অত সহজ! কত বছরের কত নরম বুটের ঠোক্কর, পৈতের পোঙা, আর শ্রেণী আধিপত্য, প্যারালাইস করে দিয়েছে অনুভূতির সূক্ষ্ম কোণগুলো। সেগুলো ঝাড়পোঁছ করে চকচকে করে তুলতে বড়ই খাটনি। তার থেকে ভালো ভেসে চলা। আজ রোহিত তো কাল আনিস, পরশু কৃষক মোর্চা তো পরদিন দেউচা, কখনো গৌরী লঙ্কেশ বা স্ট্যান স্বামী, আবার কখনো চেতনাহীন রাজনৈতিক উন্মাদনা। ... ...
দ্য ক্যাট এন্ড মি সিরিজ আ পারফেক্ট প্যাসিফায়ার অনিরুদ্ধ গোস্বামী বিড়াল অবাক হয়ে বললো তুমি হটাৎ সন্ধান পেয়ে গেছো এক অমূল্য রতন, মন শান্ত করার সুলুক -এ পারফেক্ট ট্রাংকুলাইজার আমি বললাম না না ঠিক হলো না ট্রাংকুলাইজার বললে মনে পড়ে আলপ্রাজোলাম ট্যাবলেট, ভালো হয় বললে প্যাসিফায়ার।পন্ডিচেরি আমার খুবই পছন্দের জায়গা। এইতো সেদিন দুদিন এর ছুটি তে সেখান থেকে ফিরে এসে ডি এস এল আর ক্যামেরা তে তোলা ছবি গুলো দেখছিলাম।
সাতানব্বইওর সাথে আমার সম্পর্ক বেশ নিবিড় হয়ে এসেছিলো, ও ছিলো বাকসংযমী, আমি ওর বাকসংযমকে বোঝার চেষ্টা করতে করতে একদিন দেখলাম, ওর নৈঃশব্দ্যও অনুবাদ করা কঠিন নয় তেমনওর পেশা কী ছিলো জানিনি আমি, উপার্জন অথবা জীবন ধারণের উপায় কী ছিলো জানিনি আমি, জানার প্রয়োজন মনে করিনি, শুধু জেনেছিলাম, ও শবদেহ সৎকারে সত্যিকার আগ্রহী একজন, প্রথমে কর্তব্যবোধ থেকে, তারপর শখে, তারপর কৌতূহলে, ... ...
(১) / রাবণ পোড়ার ঝাঁজ / সাগর পেরিয়ে আজ- / আসছে ভেসে / মরছি কেশে / শিয়রে যমরাজ! !
যতদূর মনে পড়ছে, জানুয়ারি মাসের শেষের দিক হবে। অফিস থেকে ফেরার পথে একটা বাসে চড়ে বসলুম। রাত তখন কটা হবে ! বড়জোর আটটা কি সাড়ে আটটা হবে। বিশ্বব্যাপী করোনার দাপাদাপির পর থেকেই বাসে আর তেমন গাদাগাদি ভিড় চোখে পড়ে না। ড্রাইভারের পিছন দিকের সারিতে একটা খালি সিট পেয়ে বসে পড়লুম। বেশ খানিকটা যাওয়ার পর লক্ষ্য করলুম, কন্ডাকটর ভাড়া পাওয়ার প্রত্যাশায় বাসময় ঘোরাঘুরি করছে। কিন্তু আমার দিকে তাঁর বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই। ... ...
দীঘির জলে কালো হিলহিলে শরীরটা নানান ভঙ্গিমায় এঁকেবেঁকে যাচ্ছিল। স্নান করতে করতে তাই দেখছিল বীরা। জলে পড়লে শিবাটা কেমন যেন মাছ হয়ে যায়! অনেক ডাকাডাকি সাধাসাধি করে রোজই ঘরে নিয়ে যেতে হয়। কিন্তু আজ বীরার খুব খিদে পেয়েছে। তিনবারের বার তাই একটু উঁচু গলায় হাঁক দিল – ‘উঠে আয় এবার। আমি ঘর গেলাম।‘ব্যস, কথা শেষ হলো কি না হলো, শিবার টিকিটিও আর দেখা গেল না। ... ...
মাত্র পাঁচ রানের জন্য আমার দাদু সেঞ্চুরিটা মিস করেছিল। পঁচানব্বইতেই জগৎসংসারকে বাই-বাই জানিয়ে কেটে পড়েছিল দাদু। অন্তিম শয্যায় দাদু'র ঠোঁটে লেগেছিল কেমন দিলাম গোছের একটা ফাজিল হাসি। সেবছর পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের যুদ্ধ লেগেছিল। ভারত সেই যুদ্ধে জয়যুক্ত হলে, জন্ম হয়েছিল বাংলাদেশ নামের একটি রাষ্ট্রের। দাদু অবশ্য একটুর জন্য সেসব জেনে যেতে পারেনি। তার কাছে ইছামতির পুব দিকের ভূখণ্ডটি পূর্ববাংলাই রয়ে গিয়েছিল। ... ...
- এতো বড় খবর টা তুই আমায় জানাস নি কেনো? ফোনের ওপার থেকে ঋদ্ধির প্রশ্নের উত্তরে সৈকত তখনও চুপ। - কি হলো বল বলিস নি কেনো? আমরা কি কেউ হই না? সৈকত নিরবতা ভেঙে, - কি বলবো বল!!!!! বলবো যে,আমি এই পৃথিবীতে আর বেশি দিন নেই। এক মারন রোগের সঙ্গে ঘর করছি। আর তাছাড়া তুই ওই পাহাড় দেশে একা থাকিস, সারাদিন বাচ্চাদের ক্যাচর ম্যাচর। কি আর করার আছে বল! - তোর মাথা আর মুন্ডু। কে বললো তোকে, তুই বেশি দিন নেই? আজকাল ক্যানসারে মানুষ মরে না। ... ...
কিছু কিছু বই পড়লে পুণ্য হয়। মনে হয়, তীর্থে এসেছি। পড়তে পড়তেই মন থেকে সমস্ত পাপ ধুয়েমুছে যায়। এ বইটা সেরকম। বুকের ভেতর এতদিন ধরে যত কলুষতা আর উন্নাসিকতা জমে ছিল, বানজারা নদীর জলে ধুয়ে গেলবানজারা একটা নদীর নাম। তাকে ঘিরে থাকে অরণ্য। এইটুকুই মূল প্লট। বাকিটা স্রেফ ম্যাজিক, তাই বলে বোঝানো যায় না। লেখক ও শিল্পী শিবশঙ্কর ভট্টাচার্যের জাদু কলম আমাকে যে ঘোরের মধ্যে ফেলে দিয়েছে, তা নিয়ে রিভিউ লেখাও সম্ভব নয়। শুধু এইটুকু বলি, ফরেস্ট ইকোসিস্টেম নিয়ে এমন ইনফরমেটিভ অথচ মায়াবী লেখা আমি ইহজন্মে পড়িনি। ... ...
আমরা সবাই জানি আগের সপ্তাহে 'গাঁওবুড়ো' গল্পের জন্য ও হেনরি সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন সাহিত্যিক অমর মিত্র। এই খবর শুনে অনেকেই আহ্লাদিত, কিন্তু সুসংবাদ এখানেই শেষ নয়। কাল জানা গিয়েছে সাহিত্যিক গীতাঞ্জলি শ্রী-এর লেখা উপন্যাস 'রেত সমাধি' বুকার পুরস্কারের শর্ট লিস্টে চলে এসেছে। (ছ'টা বইয়ের মধ্যে পাঁচজন লেখিকা, চারটে ইন্ডিপেন্ডেন্ট পাবলিশার্স। শুনেও ভালো লাগে) এতদিন ধরে কোনও ভারতীয় ভাষার উপন্যাস এই স্বীকৃতি পায়নি। ... ...
অন্ধকারে নিপতিত শিশিরবিন্দু আলোর স্পর্শে সাধারণত মরে যায়। নিঃশব্দে। নিশ্চুপ জন্ম, নিঃশব্দ প্রস্থান। মহাপ্রস্থান।একটা দীর্ঘশ্বাস নেমে আসে বৃন্দাবন দাসের বুক চিড়ে। তবু মন্দ কি! উদাস মনে ভাবে সে। কেউ বুঝলো না, কেউ চিনলো না, মনের খবর রাখলো না কেউ, এভাবে যদি একদিন সে পাড়ি জমাতে পারে পরপারে, কতো ভালোই না হয়! কিন্তু অমন ভাগ্য করে কি পৃথিবীতে এসেছে বৃন্দাবন দাস!মনে হয় না! পদ্মকচুর সদ্য জন্মানো পাতার দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ দীনহীন মানুষটির! ... ...
ধরুন আপনি দিল্লি থেকে কলকাতা আসছেন। কলকাতাগামী বিমানে উঠে দেখবেন, ঘোষণা-টোষণা সব হিন্দি আর ইংরিজিতে। এক বর্ণ বাংলা নেই। বিমানবন্দরে নেমে দেখলেন, নিরাপত্তারক্ষীরা প্রায় কেউ বাংলা বলেননা।উঠলেন ট্যাক্সিতে। চালক হইহই করে এফএম চালিয়ে দিলেন। সেখানে, শুনলেন, একটিও বাংলা গান বাজছেনা। একটিও না।যাহোক, বাড়ি তো ঢুকলেন। একটু জিরিয়ে টিরিয়ে নিয়ে ভাবলেন সিনেমা দেখবেন। কলকাতা হল সিনেমার তীর্থস্থান, সত্যজিৎ ঋত্বিক ইত্যাদি প্রভৃতি। মাল্টিপ্লেক্সে গেলেন। ও মা, একটি সিনেমাও বাংলা চলছে না। একটিও না। ... ...
অনুশোচনাআমি না ঠিক তোমার মনের মতো হতে পারিনি, যেরকমটা তুমি আশা করেছিলে। তোমার কথা রাখতে পারিনি, যেটা তুমি আমাকে বলেছিলে।তোমার সাথে পায়ে পা মিলিয়ে চলতে পারিনি, যেরকমটা তুমি আমায় শিখিয়েছিলে।তোমার পাশে দাঁড়াতে পারিনি, আমি অতি নগণ্য বলে।তোমার কথা বুঝতেও পারিনি, যা তুমি বোঝাতে চেয়েছিলে।তোমার চাহিদা পূরণ করতে পারিনি, আমি শূন্য ছিলাম বলে।প্রিয় শোনো! দিন ঠিক সময়মতো চলে যায়, রাত আসবে বলে,ফুল একসময় ঝরে পড়ে, ফল আসবে বলে।বিশ্বাসগুলো হার মেনে নেয়, স্বার্থপরের কাছে,বৈধ প্রেমগুলো ভেঙ্গে যায়, অবহেলার কাছে।মানুষ কতো স্বপ্ন দেখে, বাঁচতে চায় বলে,অনেক মানুষ মরতেও চায়, বেঁচে আছে বলে! ... ...
সকালে একজন ফোন করেছে। কোনোভাবে জানতে পেরেছে আমি গতকাল কোলকাতা গিয়েছিলাম। মা এর সঙ্গে কথা বললো, আমি সব শুনতে পারছি। ডাক্তার কি বললো? উত্তরে মা বললো আর ক্যানসার নেই, সময় লাগবে হাটাচলা করতে। ওপারের মানুষটি দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে বললো, সুরজিৎ এর তো ক্যানসার, কয়েক দিন পর ভালো হয়ে যাবে।