কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতোকোত্তর ডিগ্রী আছে সোলাঙ্কির। আধুনিক ইতিহাসে এম এ। চাকরি বাকরি করার ঝোঁক কোনদিনই ছিল না তার। চেষ্টাও বিশেষ করেনি। সোলাঙ্কিকে ঠিক ঘরকুনো বলা যায় না। বরং ঘর সংসারে জড়িয়ে থাকতে ভালবাসে সে। অবশ্য সে মোটেই ঘরে বসে থাকার মেয়ে নয়। গান গাওয়া, ছবির আঁকা, গ্রুপ থিয়েটার করা এইসব নানা কাজে বা অকাজে রাত্রে ঘুমোবার সময়টুকু বাদ দিয়ে বাকি সময়ে সদাব্যস্ত থাকে সে। ... ...
রাত বাড়লেই পরিমিতি খসে চৌকি হয়ে যায় / শাকপাতা সব লোকালয় ছেড়ে আমিষ খুঁজে বেড়ায়; / বুকে হাঁটা দেয়,জিব চিরে যায়,কিলবিল করে ওঠে / আশপাশ থেকে ঘুণধরা সব আসবাব এসে জোটে।
অনেক কথাই তো বলা যায়, কিন্তু বলব কেন? / রাস্তার দুধারে গাছ, গাছ মানেই সবুজ / আসলে ধূসর বাদামী ভাবটাও আছে / ওই ধূসর ভাবটা দেখি না, দেখতে চাইনা বলে। দেখব কেন?
এই এক জীবনে কলকাতার কতো কি পরিবর্তন দেখলাম তা বলার নয়। যখন যেমন মনে পড়বে লেখার চেষ্টা করব। তখন কলকাতার উপকন্ঠে জলাশয়ের সংখ্যা অনেক বেশী ছিল।তার টানে পানকৌড়ি, বক ও মাছরাঙাদের আনাগোনা লেগেই থাকত। একটি তেতুল গাছে বকের আস্তানা ছিল।মেঘলা দিনে যখন অসংখ্য বকের জন্য গাছটি সাদা হয়ে যেত তখন ভারি সুন্দর দেখাত।সেকালের কলকাতায় পাখি প্রচুর দেখা যেত।সকালে পাখির ঝাঁককে দলবেঁধে খাবারের সন্ধানে পূব দিকের জলাভূমির দিকে যেতে দেখতাম ... ...
এটা চতুর্থ জন্ম / প্রথম জন্মে আমি কৈবর্ত রমণীর প্রেমে পড়েছিলাম / আদি জলের সাথে সেই ছিলো প্রথম পরিচয় / জেনেছিলাম, সতত বহমানতার আনন্দকে বাঁধতে নেই / আর প্রাচুর্য হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে শীতলতম পদার্থ
গুঁড়ি দিয়ে মেঘ নামে, ওঠে আর নামে / আমি সব ভুলে যাই, কোথায় কি ছিলো / কোথায় তেঁতুলরঙ পাঁচিলবাগানে / সবুজ শ্যাওলা আর ঘাস জন্মেছে
আসুন আজ কিছু নতুন বিষয় নিয়ে কথা বলি। নতুন ? না... খুব নতুন নয়, সেই একই গল্প। পুঁজির সর্বগ্রাসী লোভ, নিজেদের সম্পদের পাহাড় আরও বাড়িয়ে তোলার পৈশাচিক লালসা এবং তাদের লালসা চরিতার্থ করার জন্য তাদের দ্বারা পরিচালিত রাষ্ট্রযন্ত্রের শোষণ। শোষণ প্রকৃতির, শোষণ আদিবাসীদের, শোষণ সাধারণ মানুষদের। আমি দেখতে পাচ্ছি হয়তো আবার একটি নিয়মগিরি, বাস্তার উঠে আসবে ভারতের মানচিত্রে। ... ...
Fourth in our collaborative #AntiVarnaCular project, @gainsuvankar recites two of his poems: 'Chaar Stambha' (Four Pillars) and 'Dharma Bhiru' (God-Fearing).Through his poetry, Gain highlights how Dalits
আমার ছোটবেলার সবচেয়ে বেশি সময় কেটেছে এই জানলার সামনে বসে। / একটা নিমগাছে ছেয়ে থাকতো টিয়াপাখিরা; / ওরা উড়ে গেলে গাছটায় যে বিশেষ পাতা নেই বোঝা যেত। / আর আমি অপেক্ষা করে থাকতাম টিয়াপাখি গুলোর আসা-যাওয়া দেখার।
আমি কি ফিরাবো তবে, জনহীন / আমাদের বনলতা, মসে ছাওয়া দিন / বাড়ির ছাদে জমাট, মেঘ বসে থাকা
রাজধানী ঢাকা যেন প্রতি সন্ধ্যায় ইফতারের সময় খনিকের জন্য থমকে যায়, থেমে যায় সব নাগরিক কোলাহল, যানবাহনের দিকশূন্য গতি ও ব্যস্ততার প্রতিযোগিতা। কংক্রিট অরণ্য এ-শহর তখন যেন দম ফিরে পেতে খানিকটা জিরিয়ে নেয়, আগের অহেতুক ভোগবাদীতায় আবারও ফিরে যেতে নিতে থাকে প্রস্তুতি।
আমি কিছু মৃত মানুষকে চিনতাম, যারা এককালে বাঁচার ইচ্ছে রাখতো। চিনতাম কিছু শীতল দম্পতিকে, যাদের লোকদেখানো উষ্ণতা রীতিমতো বিরক্তিকর ঠেকতো। চিনতাম কিছু উচ্চকণ্ঠ বিপ্লবীকে, যারা সমাজ বদলে দেবার কথা বলতে বলতে নিজেরাই বদলে গিয়েছিলো আদ্যোপান্ত। চিনতাম কিছু বাণিজ্যিক কবিকে, যারা জনপ্রিয়তা জীবন্ত রাখার সতর্ক অভ্যাসে জন্ম দিতো প্রাণহীন নিরাপদ কবিতা ... ...
ফর্মা সেলাই বাঁধাই ফ্লেক্স ফ্রেম ইঞ্চি মিলিমিটার ব্লার্ব দাম লিস্টি এইসব নিয়ে জেরবার হতে হতে আর্ধেক বইমেলা অপসৃত। তারপর পুরাতন টই হাঁটকাতে হাঁটকাতে মনে হলো বইমেলার পদ্য তো কম লিখিনি দেখছি। কিন্তু একে আমার কথা হেথা কেহ তো বলে না, করে শুধু মিছে কোলাহ, তার ওপর দৃষ্টিতে আর হয়না সৃষ্টি আগের মত আর সে ফুল। তাই ভাবলাম একটু আত্মপ্রচার ও বীক্ষণ করে রাখি, মহাকালের মর্জি, কাল হয়তো নিক্লিআর বোম পড়ে সব ফৌত হতে গেল। ... ...
এই হপ্তাদুই আগ দিয়ে। পুতুলের বালিশ বানাতে দিয়েছিলুম এক বেহারি লেপকম্বলের দোকানে। কুড়ি ট্যাকা এডভান্স রীতিমতো। তো, পরেদ্দিন গেচি, দেকি দোকানি থুড়ি কারিগর ফুটপাতে দাঁড়িয়ে প্যাঁচাটে থোবড়া নিয়ে। জিগাতে বল্ল ঃ -- সাব ঘুসা সাব। -- ক্কি? কেয়া ঘুসা? -- সাঁআপ, সাঁপ ঘুসা। বুঝলুম, দোকানে সাপ ঢুকে লেপ কম্বলের ভেতর লুকিয়ে পড়েচে।
(পথচলতি মানুষের দিকে তাকিয়ে) ও দাদা শুনছেন, ও দিদি শুনছেন, একবার দেখুন না, দেখতে পাচ্ছেন! এখানে ঠাঁই দাঁড়িয়ে আছে দুইজন, আমার দিকে এক দৃষ্টে তাকিয়ে, কিন্তু কোনো কথা বলছে না!!আরে, আসেন না, কাছে এসে দেখুন, কোমরের নীচের দিকটা কেমন শুকিয়ে যাওয়া রক্ত মনে হচ্ছে না? কাপড়টা সরিয়ে দেখি, নানা, এইরকম করাটা ঠিক হবেনা বলুন? ... ...
হিম্মতের চাইতে আর বড় অস্ত্র কিই বা হতে পারে? পৃথিবীটাকে সুন্দর করবার জন্যেই মানুষের এই সর্বাত্মক অভিযান, এই হাওয়া শিকারের কাহিনী।
এই কথাগুলো রবীন্দ্রনাথের কোন্ রচনায় (মূল বাংলার কথা জিজ্ঞেস করছি) পাওয়া যাবে কেউ কি দয়া করে জানাবেন?I slept and dreamt that life was joy. I awoke and saw that life was service. I acted and behold service was joy.
বিয়ের পর আমার ঠিকানা অন্য রাজ্যে, মহারাষ্ট্রে হয়ে গেলে সেই প্রথম নববর্ষের দিনের শুরু বড্ড মন কেমন করা দিয়ে হল। প্রচণ্ড গরম। লু চলে বছরের ঐ সময়ে। ঘরের দরজা, জানলা বন্ধ। কোনোও লোকজন দেখা যায় না। বাড়ির লোকজন, আত্মীয় স্বজনের আকর্ষণ যে কি সেই প্রথম অনুভব করলাম। চোখের জলে ভেসে দুই বাড়ির বাবা, মা ও বাকি আত্মীয়দেরকে চিঠির মাধ্যমে প্রণাম ও শুভেচ্ছা জানিয়েছিলাম। তবে প্রবাসে বঙ্গ সমাজ কিন্তু মন ভরিয়ে দিয়েছিল শেষেমেশ। গুটিকয়েক বাঙালি পরিবার একজোট হয়ে খাওয়াদাওয়া, হাসি, গান খুব আনন্দের হয়েছিল। ... ...
বেশ রাত তখন,কিছু দিন আগে আমরা তিনজনে চারটে ব্যাগে চারটি নাটক নিয়ে ফিরছি।লটরপরট নিয়ে ঠিক করলাম সোজা টোটো চেপে দমদম থেকে নাগের বাজার একেবারে দ্বৈপায়ণ দা বাসায় এর যাবো।তা আমাদের ব্যাগ দেখেই টোটো চালক দাদা আগেই বলে দিলেন, "দাদা, টাকা কিন্তু বেশি লাগবে"!যথেষ্ট রাত হয়েছে, পরের দিনও শো আছে, আর দিনকাল যা পরেছে তাতে সবারই লাভের মুখ দেখা তো দূর পেট টানতেই নাজেহাল অবস্থা এবং গামছাতে আছে আপনাদের আন্তরিক প্রশ্রয়। ... ...