রেলব্রীজের নীচে সারি সারি ঝোপড়া। দুধারে ফাঁকা জমি। মালিকানার ঠিক নেই। রাতের বেলায় শুনশান, নীরব আঁধার। জমির দখল নিয়ে দুটো দলে মারামারি, বোমাবাজি চলে যখন তখন। বিশেষ করে রাতের বেলায়। গুলিও চলে মাঝেমাঝেই। এসব নিয়েই ঘর করে ঝোপড়ার লোকগুলো। এসব গা সওয়া হয়ে গেছে ওদের। এসব অনেক বছর আগের কথা। সুনন্দ তখন ছোট ছেলে। একদিন গুলি খেয়ে এক দলের একজন মারা গেল। পুলিশ এসে ঝোপড়ার সব পুরুষদের ঝেঁটিয়ে তুলে নিয়ে গেল পরদিন সকালবেলায় এসে। মেয়েদের এবং বাচ্চাগুলোকে বাদ দিয়ে। কল্পনা, মিনতি, শাকিলারা কাঁদতে লাগল। বলতে লাগল, ... ...
তাপমাত্রা বাড়ছে,জানি না কোথায় গিয়ে থামবে! আমার ক্ষমতা সীমিত, তাই সীমিত ক্ষমতার আমার মোবাইল ইন্টারনেট বলছে আজ আমাদের এখানে মানে সবজিকাটরার তাপমাত্রা ৪২ °C....জানি না কতো টা সঠিক! এখনো সবে April.গরমকাল তো এখনো পরেই আছে। যদিও কথা টা ভুল বললাম,এখন গোটা বছরে মাত্র দুটোই ঋতু ১.গিষ্ম ২.শিত।ছোটোবেলায় বই এ পড়েছি,ছয় টা ঋতু ১.গিষ্ম ২.বর্ষা ৩.শরৎ ৪.হেমন্ত ৫.শিত আর ৬.বসন্ত। স্যার কোনো একটা ঋতুর নাম বলতে না পারার জন্য কতো বার কান মুলেছে ... ...
সোশ্যাল অ্যানথ্রোপলোজিস্ট জোসেফ ড্যানিয়েল আনউইন ৫,০০০ বছরের ইতিহাস ঘেঁটে ৮৬টি আদিম গোত্র এবং ৬টি সভ্যতার ওপর এক পর্যালোচনা করেন।.আনউইন এ গবেষণা শুরু করেন সভ্যতাকে অবদমিত কামনা-বাসনার ফসল হিসেবে দাবি করা ফ্রয়েডীয় থিওরি যাচাই করার জন্যে। কিন্তু ফলাফল দেখে হকচকিয়ে যান আনউইন নিজেই।.১৯৩৪ সালে প্রকাশিত Sex & Culture বইতে দীর্ঘ এ গবেষণার ফলাফল তুলে ধরেন তিনি। বিভিন্ন সভ্যতা ও সেগুলোর পতনে আনউইন দেখতে পান একটা স্পষ্ট প্যাটার্ন......কোনো সভ্যতার বিকাশ সেই সভ্যতার যৌনসংযমের সাথে সম্পর্কিত। যৌনতার ব্যাপারে কোনো সমাজ যত বেশি সংযমী হবে তত বৃদ্ধি পাবে বিকাশ ও অগ্রগতির হার।.সহজ ভাষায় বললে, সভ্যতার বিকাশের জন্য সুনির্দিষ্ট নিয়মে বাঁধা স্বাভাবিক যৌনাচার আবশ্যিক। ... ...
'চোখের আলোয় দেখেছিলেম চোখের বাহিরে, অন্তরে আজ দেখব যখন আলোক নাহি রে.....' কখনও কখনও বাইরের দেখাতেই যেন অন্তরের দেখা মেলে। গাড়ি করে আমরা যখন নিশিকাশাই থেকে শিঞ্জুকু জিওন ন্যাশানাল গার্ডেনে পৌঁছলাম দুপুরের রোদ কিছুটা নরম হয়ে এসেছে। বিকেলের আলোয় শিঞ্জুকু গিওন (Shinjuku Gyoen) ন্যাশানাল গার্ডেন দেখে আমারো বাইরের দেখা যেন অন্তরের দেখার সঙ্গে মিলে গেল। অন্তরের অন্ত:স্থলে দোলা দিয়ে গেল হরেক রঙের বাহার। মন আপনি আনন্দে নেচে উঠল ... ...
রাত্রে বাড়ি ফিরে কলতান অনেকক্ষণ বিশ্রাম নিল। একটানা অনেকক্ষণ চিৎ হয়ে চোখ বুজে শুয়ে রইল মাথা সম্পূর্ণ খালি করে। চিন্তাভাবনাগুলো মাথা থেকে উড়িয়ে দিয়ে। এ পদ্ধতিটা কলতান অনেক বছর ধরে অনুসরণ করছে। ফাঁকা মস্তিষ্কে নতুন নতুন তাজা চিন্তাভাবনার অঙ্কুরোদগম হয়। সমস্যা সমাধানের কোন নতুন রাস্তা দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।এ একরকম ধ্যান পদ্ধতি বলা যায় ... ...
অবশেষে, দীর্ঘ সাধনার পর মীনজীবন পেলাম আমি, এখন আমি মাছ, তবে যে আকার প্রকারে সচরাচর দেখতে অভ্যস্ত আপনারা, সে দৃষ্টিতে বিচার করলে বোঝা যাবে না সেটা, আর তেমনটা নয়ও ঠিক বাহ্যদৃশ্যে, কিন্তু দৃশ্যের অন্তরালে যে সব দৃশ্য লুকিয়ে থাকে, অদৃশ্যে দৃশ্যমান, সেই অতিলৌকিক দৃশ্যপটে অভূতপূর্ব পরিবর্তনটুকু ঘটে গেছে, ভাবে স্বভাবে এখন মাছ আমি, আমার শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় ঘটে গেছে অবাক রূপান্তর ... ...
বাঙালির বেড়াতে যাওয়ার সাধ, অনেক সময়েই তার সাধ্যের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দৌড়তে গিয়ে পিছিয়ে পড়ে। জাপান তো যাব ঠি ক করেছি কিন্তু পকেটে হাত পড়লেই মনখানা গুটিয়ে যাচ্ছে। ছবিতে জাপান ভ্রমণ খুব খারাপ হবে কি? মিন মিন করে বোনকে প্রস্তাব দিতেই রে রে করে উঠলে সে। বুঝলাম বিদেশ বিভুঁইয়ে আপনজনের সান্নিধ্য পাবে বলে তারাও বেশ কাতর হয়ে আছে। অগত্যা মনের জোরে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। প্রথম ধাপ তো ভিসার জন্য আবেদন। ... ...
আমজনতা রে চুষি আর আম-দানিদের পুষি / লাভের গুড় পিঁপড়ে খাচ্ছে ভুখা দেশবাসী!
উমা আর নীলেশের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে কলতানের মনে হল ওরা কোন কারণে খুব আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। ওদের চোখমুখ দেখে তাই মনে হচ্ছে। সেটা অবশ্য খুব অস্বাভাবিক কিছু নয়। আবাসনের চৌহদ্দির মধ্যে কোন দুর্ঘটনা ঘটলে সাধারণতঃ এইসব প্রান্তিক মানুষদের নিয়ে টানাহ্যাচড়া চলে। ফলে কোন কিছু ঘটলে ভয়ে সিঁটিয়ে থাকে এরা। কলতানের মনে হল ওরা কমপ্লেক্সের মধ্যেই কোথাও থাকে ... ...
বড় হয়ে গেছ, ছোট হয়ে গেছ, একে একে গেছ ঝরে / আমি সেই ভাঙনের বীজ, ডাঙায় ঢেলেছি / জলে মিশে আছে অটুট রাত্রি, চাঁদ তারা ঘুম মাটি / সার সার মুখ শুয়ে আছে নদী
সকাল আটটা নাগাদ টয়লেট থেকে বেরিয়ে একেবারে তৈরি হয়ে ব্রেকফাস্ট করতে বসল। রাধাদি দারুন ফ্রেঞ্চটোস্ট বানিয়েছে। সঙ্গে গরম কফি। খেতে খেতে আবেশে চোখ বুজে আসছিল কলতানের। কুলচা কাল বাড়ি চলে গেছে। যাবার সময়ে বলে গেল, ' কেসে তেমন টুইস্ট এলে খবর দিও কিন্তু বস ..... এখন আসছি .... বা..য় ... '। বৈশাখী মজুমদারের মোবাইল নম্বরটা সাইবার সেলের ... ...
কখনও কখনও বেড়াতে যাওয়ার কথা উঠলে, বন্ধু মহলে ইচ্ছা প্রকাশ করতাম আমি জাপান দেখতে যাব। বিশেষত: জাপানের চেরি ফুল ফোটা দেখার ভারি শখ ছিল। মানুষের মনে এমন কতোই তো শখ থাকে। কচু পাতায় জলবিন্দুর মতো সে সব শখ মনের শাখায় দোল খেতে খেতে একসময়ে টুপ করে খসে পড়ে। ভেবেছিলাম চেরি ফুলের শোভা দেখতে চাওয়ার শখটাও তেমনই একদিন মাটিতে মিশে যাবে। ... ...
এখন কলকাতা ও আশেপাশের জেলাগুলিতে প্রচন্ড দাবদাহ চলছে। পারদ চল্লিশ তো পেরিয়েছেই, রীতিমতো দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। একেবারেই টেকা দায়। ভাগ্যবান মানুষের তবু ঘরে এসি আছে। আরো যারা ভাগ্যবান তাদের আবার এসির জন্য বাড়তি বিল দেবার ও সামর্থ্য আছে। একটু কম ভাগ্যবানেরা এসিও চালান আবার ভোরের দিকে এসি বন্ধ করে সাশ্রয় করার কথাও ভাবেন। ... ...
লে হালুয়া! কাকে ধরে কাকে ছাড়ি / বগলে চাপা চপ গুঁজে রাখি।
চব্বিশ তারিখে রাত দশটা নাগাদ বৈশাখীর মোবাইলে একটা কল এল। মোবাইল তুলে বৈশাখী দেখল --- কলতান গুপ্তর নাম। ------ ' হ্যা .... বলুন মিস্টার গুপ্ত ..... আমি এক্ষুণি আপনাকে ফোন করতে যাচ্ছিলাম। ভালই হল .... আমরা তাহলে কবে ..... '------ ' কাল সকাল দশটা থেকে বারোটার মধ্যে আমার বাড়িতে আসতে পারেন। যদি সম্ভব হয় দুজনেই একসঙ্গে আসবেন। '------ ' হ্যা ..... আমি আমার বন্ধুর সঙ্গে কথা বলে দেখি। ওর প্রবলেমটাই বেশি গ্রিম। ... ...