- " আমাদের গুলোর হবেনি কিছু ..." লোকাল গাড়িতে চারজন মাস্টার গাদাগাদি করে স্কুলের পথে। একজনের নতুন রেডমি ফোন। ফাইভ জি। আনন্দ তে রেজাল্ট এর আনন্দের খবর মুহূর্তে মুহূর্তে। কোচবিহারের চারজন, বোলপুরের দু জন, পশ্চিম মেদিনীপুরে তিনজন এখনো পর্যন্ত। পাশের হার নাকি আই পি এল এর স্কোর বোঝা দায়। তার মাঝেই ফুট কাটলো এক সহযাত্রী হেসে - " আপনাদের স্কুলে কিছু হয়নি " ? চার মাস্টারের মুখ চাওয়া ... ...
মুছে দিলাম লেখা
আজ থেকে বছর বারো আগে পার্ক স্ট্রিটে একটি ধর্ষণের অভিযোগ আসে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তদন্ত শেষ হবার আগেই বলেছিলেন 'সাজানো ঘটনা'। দলমত নির্বিশেষে বহু মানুষ সেই মন্তব্যের প্রতিবাদ করেন। তার মধ্যে এই অধমও ছিল। তারপর অবশ্য তদন্ত হয়, ধর্ষণ প্রমাণিত হয়, দোষীরা শাস্তি পায়।আজ থেকে ঘন্টা বারো আগে, রাজভবনে একটি শ্লীলতাহানির অভিযোগ আসে, রাজ্যপালের বিরুদ্ধে। বিজেপি নেতারাও অভিযোগ সরাসরি ... ...
অক্কা পাওয়া বাক্যবন্ধের সরল অর্থ মারা যাওয়া। সংসদ, ঢাকা বাংলা একাডেমি, জ্ঞানেন্দ্রমোহন ও হরিচরণ থেকে অক্কা ও অক্কা পাওয়া পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, অভিধানকারেরা অক্কা শব্দের অর্থ বিশ্লেষণ করেই অক্কা পাওয়া বাগধারার উৎস খোঁজার চেষ্টা করেছেন। ফার্সি আকা মানে প্রভু, মালিক বা ঈশ্বর। সুতরাং ঈশ্বরপ্রাপ্তি অনুষঙ্গে মারা যাওয়া অর্থে অক্কা পাওয়া বাক্যবন্ধের জন্ম। আবার, তামিলে আক্কা মানে ভগিনী বা মাতা। লাতিন acca. মানেও মাতা। ফলে হরিচরণ ... ...
"স্যার আপনি কি বাতিল?" ক্লাস এইটের কোন এক ছাত্রের কাতর জিজ্ঞাসা তার প্রিয় মাষ্টারমশাইকে। মাস্টারমশাই এর উত্তর যাই হোক না কেন, এক বিরাট মানসিক ক্ষতি হয়ে গেল মনে হয় কচিকাঁচাদের। ক্ষতি হয়ে গেল সেই সব নিষ্কলুষ মনন এর, যাঁরা মনে প্রাণে বিশ্বাস করতো স্যার/ম্যাডাম মিথ্যে বলেন না বা স্যার/ম্যাডামরা সব জানেন। যাঁরা ঘটা করে সেই জুলাই মাস থেকে প্রস্তুতি নিত মহান শিক্ষক দিবসের, যাঁরা বড় হয়ে স্বপ্ন দেখতো শিক্ষক ... ...
\বাংলার শেষ জনপ্রিয় আবেগময় মহাকূলপ্রদীপ সত্যজিৎ রায়কে নিয়ে এত কিছু লেখা হয়েছে, হচ্ছে এবং হবে যে, তার মধ্যে আমার কিছু বলা মানায় না। আমি সিনেমা বিশেষজ্ঞা নই। সত্যজিৎ রায়ের কিছু সিনেমা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখেছি, কিছু সিনেমা দু-একবার দেখেছে, বেশ কিছু সিনেমা দেখা বাকি আছে। পথের পাঁচালী ফ্রান্সে Best Human Document Award না পেলে লোকটার কি দুর্গতি হত বলা মুশকিল। অস্কার পুরস্কারটি তাকে সর্বকালের জাতে ... ...
চাকরীতে অবসরের পর রতনবাবুর সম্প্রতি ফিরলেন কলকাতায় একটি নতুন জায়গায়। চাকরি জীবন তার বেশি সময় প্রবাসেই অতিবাহিত হয়েছে। হাতে একটি ব্যাগ নিয়ে মাছ সবজি কিনতে বেরিয়েছেন। রতনবাবু তার বাল্য বন্ধু বিষন্নবাবুকে দেখতে পেয়ে যারপরনাই খুশি। কিন্তু বিষন্নবাবু বড় বিষন্ন বদনে বাজারে দাঁড়িয়ে আছেন কেন? রতনবাবু একটু এগিয়ে গিয়ে আস্তে ... ...
প্রত্যেক মানুষের একটি চলার শব্দ থাকে আর থাকে শরীরের গন্ধ চিন্তা ছাপায় প্রতি পদক্ষেপ হাসিতে মুখচন্দ্র। প্রতি ভাবনায় থাকে কত শত রঙ ভাবনায় থাকে
আমি আগে কোনোদিন পাকা রাস্তা দেখিনি,আজ যখন গ্রাম ছেড়ে এলাম,বর্ষার কাদায় আমার পা দুখানা হাঁটু পর্যন্ত বুট দিয়ে ঢাকা,রাস্তার ধারে লয়ানে পা ধুয়ে যখন রাস্তায় উঠলাম-মনে যে কি বিশাল স্বস্তি পেলাম সে বলে বোঝানোর নয়।আমি বুঝতে পারলাম আমি কত কষ্টে ছিলাম।আমার গ্রামে ইস্কুল ছিল না,প্রতিদিন চোদ্দ কিলোমিটার হেঁটে গেলে বন দিয়ে,তবে ইস্কুল ছিল একটা,তাও তাতে একটি মাত্র মাস্টার,সে সর্বহাটের কাঁঠালি কলা,জুতো সেলাই থেকে চন্ডীপাঠ সব করে।এখানে এসে দেখলাম ঘরের গাঙ দেয়ালে স্কুল,সকাল বেলা গাড়ি যায় আনতে ছেলেদের,আবার দিয়ে আসে পড়া হলে,আমি বুঝতে পেরেছিলাম,দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক মানে কী।এখানে ঘরের গায়ে ঘর,সব পাকার।কত কামরা,লোকশূণ্য পড়ে আছে,কেউ থাকে না।ঘরের নীচে দোকান,তবু নাকি সব্জিও ... ...
আমার মৃত্যুর পরোয়ানা জারি হয়ে যাওয়ার পরেও, যখন আমি ঘুরে বেড়াচ্ছিলাম প্রকাশ্য রাজপথে, ওদের কয়েকজন আমায় চিনতে পেরেছিল, কিন্তু বিশ্বাস করতে পারেনি। কি করে এমন দুর্বল জাতির এত বড়ো বুকের পাটা হতে পারে! কিন্তু ওরা আমাদের ইতিহাস জানে না। ওরা তো ক্লাস ফাঁকি
কতকগুলো মজার ঘটনা বলি আজ। প্রত্যেকটা ঘটনাই প্রাত্যহিক জীবন থেকে পাওয়া। কিছু আমার দেখা, কিছু শোনা। আমার মামাতো দিদি পিউদের স্কুলে একটি মেয়ে পড়ত। তাকে বকলেই সে টিচারদের কোলে উঠে বসত। এবারের মজার ঘটনা সোহম সরকারের শৈশবের। তাকে আমি মাঝেমাঝে চকোলেট
মে দিবসে শ্রমিক তোমারে নমি ————— সুপ্রিয়া চৌধুরী ————— তুমি যাযাবর কর্মে হয়েছো বেঘর নির্মান করেছো কত ইমারৎ কত অগুনতি ঘর ! জীবন ধারণের প্রতিটি কর্মে মর্মে মর্মে তোমার রক্ত ঘাম এ ঋণ শোধ
মহান মে দিবসের দাবি অক্ষর শ্রমিকের মজুরি চাই। #লেখারপারিশ্রমিক
৩০ এপ্রিল, ১৯৪৫ - হিটলার বার্লিনের একটি বাঙ্কারে আত্মহত্যা করেন। ৩০ এপ্রিল, ১৮৯৭ - ইলেকট্রন আবিষ্কারের কথা ঘোষণা করেন জে জে থমসন। ৩০ এপ্রিল, ১৭৮৯ - ওয়াশিংটন আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজের ভার নেন। এই দিনেই জন্মেছেন Prince of Mathematicians কার্ল ফ্রেডেরিক গাউস আর জার্মান গণিতজ্ঞ হান।
সেদিন রাত্রে সঞ্চারী অমলের ঘরে ঢুকে দেখে অমল একটা ডায়েরিতে কি সব লিখছে। তাকে দেখে ডায়েরিটা বন্ধ করে দিল না। পাতা খোলাই রইল। সঞ্চারী বলল, ' কিরে ... গিয়েছিলি রাত্রির সঙ্গে ? ' অমল বলল, ' হ্যাঁ হ্যাঁ ... গিয়েছিলাম। নিখিল ব্যানার্জী বলে এক ভদ্রলোকের কাছে নিয়ে গিয়েছিল ... সিটি কলেজে ম্যাথসের প্রফেসর ... ' ----- ' কি জন্য নিয়ে গিয়েছিল ওখানে ? ' ----- ' ওই... ওদের একটা ... ...
ফিলিস্তিনে গণহত্যা প্রতিবাদ হচ্ছিল, দেশে দেশে; এবার ইসরায়েলের মদদদাতা খোদ মার্কিন মুলুকেই হচ্ছে তীব্র প্রতিবাদ। গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি এবং ইসরায়েলকে মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।সংবাদ বিশ্লেষকরা বলছেন, সাতের দশকে ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ করছে শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভ দমনে ... ...
হে অচেনা..সক্কাল সক্কাল ঠাস ঠাস দ্রুম দ্রুম। হস্টেলের জানলার সপাট আস্ফালন। পূবের জানলার সামনে পড়ার টেবিল। সব ভিজে একসা। বইগুলো চুপচুপিয়ে ভিজেছে। ইস .. কী অবস্থা!.. ধড়ফড় করে উঠে বসে কলি। বৃষ্টির ছাঁটে ঘুম ভেঙে যায়।সক্কাল সক্কাল এমন ভিজে সোদা গন্ধে ঘুম ভাঙলে কার না ভালো লাগে..জানলা বন্ধ করতে গিয়ে নিজেও ভিজে গেল কলি। শ্রীনিকেতন গার্লস হস্টেলের একতলায় ... ...
সেই আমার কিশোরী কালে জীবনের ছন্দ ছিল অনেক ধীর। এত হুটোপাটি দৌড়াদৌড়ি ছিল না। প্রয়োজন যে ছিল না তা নয় তবে ভাবখানা এই যেন হচ্ছে-হবে- হয়ে গেলেই তো ফুরিয়ে গেল। দুপুরে খাওয়ার পর পান মুখে বাড়ির বৌদের চুল শুকানোই হোক বা বিকেলে পাড়ায় মেয়েদের মহিলা মজলিস -- সবেতেই বেশ একটা চেখে দেখবার মত (মনে-চোখে-মুখে) ব্যাপার ছিল। গ্রামের দিকে কর্মক্ষেত্রে হওয়ার সুবাদে এখনও চোখ ... ...
তা সেইবার রামরাজ্যে সাংঘাতিক বিপদ। চাকরি নেই, ক্ষিদে তে মানুষের রাতে ঘুম নেই। জনগণ হাহাকার করতে করতে উনিজির পায়ে পড়ে গেল, বল্লে, "হে প্রভু, এই অন্ধকার সময়ে আলো দেখান"। উনিজি একটুও বিচলিত না হয়ে বললেন, "চিন্তা কীসের? এক্ষুনি সব করে দিচ্ছি। রামের মূর্তির মাথায় সূর্য তিলকের ব্যবস্থা করেছি। সেই আলোতে আলোকিত হবে গোটা দেশ-বিশ্ব- জগৎ-সংসার"। জনগণ এই অতি সাংঘাতিক ... ...
উত্তরের অলিগলি খসে যাওয়া দেওয়াল মোরে গল্প শোনায় পায়ে পায়ে হাঁটি ফিরে ফিরে আসি মোরে স্বপ্ন দেখায় বৈশাখের তপ্ততায় আমি দাঁড়িয়ে থাকি উত্তরের অপেক্ষায় ... ১৪ই বৈশাখ ১৪৩১