যে চিঠি পৌঁছবে না কোনওদিন, কোনও ঠিকানায়।এরপর একদিন আয়ুহীন পরিমাপে দূরত্ব বাড়িয়ে নেয় অবুঝ হৃদয়। নাছোড়বান্দা ভরসা আস্তে আস্তে লুকিয়ে পরে ওই পাহাড়ি ঝর্ণার নীচে, লোকগাথায়। মানুষের মতো মানুষ। প্রথম দুই মানুষের মধ্যে আলোকবর্ষ ফারাক। একটা নিস্তরঙ্গ জীবনের মধ্যে হঠাৎ সেদিন কতগুলো পাতা ঝরেছিল একটা, দুটো করে। তাতে প্রত্যেক স্তর কেঁপে ওঠে ভয়ে, ওরা লুকিয়ে পড়তে পারলে বাঁচে। ম্লান ... ...
আমাদের জীবন যাপনে দুই ধরণের জিনিস দরকার হয় – পণ্য ও পরিষেবা। প্রতিটি পণ্যের জন্য আমরা প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর (জল, স্থল, বাতাস) নির্ভরশীল। যেমন কাঠ, জ্বালানি বা ফসলের মতন সরাসরি ব্যবহার করার জিনিস আর নাহলে নানান খনিজ দ্রব্য যার থেকে তৈরী হয় আমাদের প্রয়োজনের জিনিস যেমন সিমেন্ট থেকে সেমিকন্ডাক্টর। প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার না করে কোনো পণ্য উৎপাদন সম্ভব নয়। পরিষেবার ... ...
প্রিয়তম .... তুমি লিখতে বিপ্রতীপ স্বরের গল্প। বিরোধ যেখানে বারুদগন্ধ চেনায়। আলো-আধাঁরির পাশে পাশে হেঁটে যাবে বাকরোধী অর্ধায়ু। ছায়াময়, আশ্রয় হয়ে ওঠার আগে যেখানে বত্রিশ সেতু পার হয়ে জলস্পর্শ করে।সব চেনা গল্পে বিপ্রতীপ স্থান। মোহন বাঁশি সুরে উপবাসী মুখে বিষ তুলে পরিযায়ী স্বর বাকরোধী। নিঃশব্দ তাই নীলকন্ঠ হয়েছে আজ? এ আবরণ খসে গেলে অর্ধায়ু, বারুদগন্ধে ভ্রষ্ট ... ...
বর্ষাসিক্ত সন্ধ্যা। রাস্তাঘাট ধুয়ে গেছে আবছা নিয়নের আলোয়। অঞ্জন-রিনা হাতে হাত ধরে বাড়ি ফিরছে। রিনার মন খারাপ। আজ রেইনি ডে-র জন্য ছুটি দেওয়ার কথা ছিল। প্রিন্সিপাল দেননি। অঞ্জন আলতো করে তার হাতে হাত বুলিয়ে বলে, মন খারাপের কি আছে রে পাগলী, চিনিসই তো মানিক স্যার কে। রিনা আমতা আমতা করে, হ্যাঁ তাও...। কলেজ স্কোয়ারের মোড়ে এসে দুজনের পথ আলাদা হয়ে যায়। দুজনে একে ... ...
- তারপর? - তারপর হ্যামেলিনের বাঁশিওয়ালা আবার বাঁশি ওঠালেন। আবার সারা রাস্তা ভরে উঠল তার সুরের মূর্ছনায়। বাঁশি বাজাতে বাজাতে তিনি পাহাড়ের দিকে এগিয়ে গেলেন। তার পেছন পেছন এবার চললে ইঁদুর নয়, গ্রামের সকল ছেলেমেয়েরা। অনি ঢোক গিলল। তারপর? - তারপর? তারপর কি হলো, কেউ জানে না। দুটো শিশু ফিরে এসেছিল। একজন অন্ধ, একজন বোবা। ফলে বাকিদের পরিণতি যে ঠিক কি হয়েছিল, জানা যায়নি ... ...
মা,তবু দেখো কী অসহ্য আলোয় বেঁচে আছি। গল্প বলতে বলতে যেখানে তুমি ঘুমিয়ে পড়েছিলে সেখান থেকে মনে না পড়া কথাগুলো বলতে শুরু করেছি আমরা। আমাদের অভাবগুলো আজ তোমার গল্পের মতো শোনায়। আবছা আলোয় আমাদের ব্যথাগুলো প্রলাপ হয়ে ওঠে। যেমনটা তুমি বলতে। বড়ো হয়ে মায়ের মতো হব। "ফিরব বললে ফেরা যায় নাকি..." জন্মদাগ বরাবর ... ...
দেওয়ালটা আজ ভগ্নপ্রায়। সহস্র বছর ধরে রোদ ঝড় বৃষ্টির তাড়নায় তার বুকে জমে উঠেছে দীর্ঘকায় একটি চিড়। দেওয়াল দাঁড়িয়ে থাকে নিঃশব্দ বিষন্নতায়। তার মনে পড়ে পুরনো দিনের কথা। যখন এই দেওয়ালকেই পাঁচিল করে গড়ে উঠেছিল সভ্যতা। সেই সভ্যতাও লুপ্ত হয়েছে বছর কতক হলো। দেওয়াল নির্বাক। স্মৃতি আঁকড়ে বাঁচতে চায় সে। পারে না। এক কালে তার কোলে হাট বসতো। দিনগুলো ভরে রইত অগুনতি মানুষের হই-হুল্লোড়ে। আজ তার মুখে কুকুরে প্রস্রাব করে যায়। বাচ্চা বাচ্চা ছেলেরা গ্রাফিটি এঁকে যায়। যেই রাজমিস্ত্রিগুলোর এক কালে সে ছিল গর্ব অহংকার, সেই রাজমিস্ত্রিগুলোরই আজ সে দু'চোখের বিষ। তবু দেওয়াল তাঁদের মনে রাখে। তাঁদেরকেই ঈশ্বর বলে পুজে আজও। রাজমিস্ত্রিরা ... ...
ব্যালকনির কাব্য গল্প --------- আশিস বন্দোপাধ্যায় পুরানো কিন্তু ভরানো সে সকাল, হেলান দিয়ে বসে হতুম খুন হেসে - গড়িয়ে গড়িয়ে ঘুরত কত বিকাল। বারান্দা দিয়ে আসতো আলো, খেলায়, দিনের সকাল প্রথম আলোর
এ যেন এক বালিকা ঘরের এক কোনে সূঁচ-সুতো নিয়ে বসেছে। খেলাচ্ছলে গৌরী বালিকা মালা তৈরী করছে শিব ঠাকুরের জন্য। পাশের ঝুড়িতে লাল-নীল-হলুদ হরেকরকমের ফুল। আপনমনে যে ফুল হাতের কাছে উঠছে তাই সূত্রাকারে গাঁথা হচ্ছে। তার কোন নির্দিষ্ট ছন্দ নেই, তাল নেই, লয় নেই। তবুও যে মালা গেঁথে সে শিব ঠাকুরের গলায় পরাল, তা অনিন্দ্যসুন্দর। তেমনই, কখনও সেকেন্ড পার্সন ন্যারেটিভে, কখনও ফার্স্ট পার্সন ন্যারেটিভে, কখনও থার্ড পার্সন ... ...
পরমানন্দবাবুর ঘরের বাইরে একটুখানি উঠোন আছে। তার একধারে একটা গন্ধরাজ ফুলের গাছ দাঁড়িয়ে। রাত্রে মধুর সুরভি ছড়ায় গন্ধরাজ ফুল। শুভ্র নির্মল কুসুমদল পাতার ফাঁকে ফাঁকে জেগে থাকে রাতের অন্ধকারে। অলোকেন্দু মিত্র অতি সহজে মামলা ঘুরিয়ে দিলেন। নিপুণ দক্ষতায় অকাট্য কাগজপত্র তৈরি করে পরমানন্দবাবুর প্রতিপক্ষকে ধুলিসাৎ করে দিলেন। মামলার রায় বেরোবার পরের দিন অলোকেন্দুবাবু প্রতিবিম্বদের বাড়ি গেলেন তার মামার সঙ্গে দেখা করতে। পরমানন্দবাবু খবরটা ... ...
পূবের সূর্য ঘোমটা খুলছে। কুঙ্কুম রাঙানো নরম আলোয় ভেসে যাচ্ছে চরাচর। সবুজ পাতারা ছড়িয়ে দিচ্ছে মিঠে হাওয়া; ফুলেরা সুবাস। পাখির দল বাসা ছেড়ে বেরিয়ে পড়েছে; জুড়ে দিয়েছে কনসার্ট। উঁচু উঁচু বাড়িগুলো তালগাছের মত নিঃসঙ্গ দাঁড়িয়ে রয়েছে। একটু একটু করে জেগে উঠছে চরাচর। তবে বেশিরভাগ পাড়াই এখনও 'দুয়ার এঁটে' ঘুমিয়ে। বড় মায়াবী এই ভোরের পৃথিবী। অনাঘ্রাতা এক নারী যেন! যার অপার্থিব শান্ত সমাহিত আঁচল ছায়ায় ... ...
হেলায় হারানো সে বিকেল আবছা আলোয় ঝাপসা,কাঁচে আজযে আদর অধিকার কই প্রেমের নিবিড় প্রবীন জালে…একটা সকাল এমনও আসতে পারতো… মুখোমুখি তোমায় পেতাম.. কিন্তু তা আর হল না… মোহের জালের
আরতি প্রথম পর্ব। আরতি পনের বছরে পা দিতেই বাবা মারা গেলে, অনাথ হয়ে পড়ে পুরো পরিবার। বড় ভাই এক মুসলিম মেয়ের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে, এক পর্যায়ে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে দুজনে, নিখিল ধর্ম ত্যাগ করে বউয়ের জন্য। এখন রীতিমতো পাক্কা ধার্মিক বনে গেছে। লম্বা দাড়ি, মাথায় টুপি আর হাতে তসবিহ আছেই। থাকে রাজধানীতে। বউ সহ ... ...
*** অভিযোগ ষোলোশো পয়ঁতাল্লিশে গুজরাটে সুবেদার থাকার সময় ঔরঙ্গজেব মোঘলদের ফাইনান্সার, হীরে জহরত বুলিয়ান ট্রেডার জৈন শান্তিদাসের তৈরি পারশনাথ মন্দির অপবিত্রকরণ করেন। বিগ্রহের অঙ্গহানী করা হয়। এর ভিত্তি হিসেবে ফার্সি সূত্রে অজানা লেখকের মিরাত-এ আহমাদির বর্ণনায় মন্দির অপবিত্র করে সেখানে কোবাল-উল ইসলাম (Quvval-ul-Islam) নামের একটা মসজিদ বানানর কথা জানা যাচ্ছে। ফরাসি পর্যটক জন দ্য থেভেনটের বিবরণীতে ... ...
মা বনাম বউ লেখক :- শংকর হালদার শৈলবালা। সুন্দরী বউ পেয়ে মাকে ভুলে যেও নাতুমি অকালে দুনিয়া থেকে চলে গেলেবৈবাহিক সঙ্গী দুই দিনের বেশি কাঁদবে নাতোমার চেয়ে ভাল একজন সঙ্গী খুঁজে নেবে। সন্তানহারা মায়ের চোখের জল কেউ কখনো মুছতে পারবে না।দশ মাস দশ দিন গর্ভ যন্ত্রণায় ভোগে তিনি যে সন্তানের গর্ভধারিণী
বদনাম লেখক :- শংকর হালদার শৈলবালা। যখন তোমার সকলে বদনাম শুরু করবে কিন্তু বুঝবে তখনতুমি সফল হতে শুরু করেছো !! পৃথিবীতে কর্মই শ্রেষ্ঠ জেনে রেখো। জীবনে খারাপ সময়গুলো আসা প্রত্যেকের জীবনে ভীষণ দরকার! মুখোশ পরা বেঈমান বিশ্বাসঘাতক
আজব সভ্য সমাজে বসবাস ! লেখক :- শংকর হালদার শৈলবালা। দেবর কখনো বৌদির ভাই হতে পারে না, বৌদির দুর্বলতার সুযোগে দেবরের সদ্ব্যবহার। শালী কখনো জামাই বাবুর বোন হতে পারে না, আড়ালে একা পেলে অবৈধ সম্পর্কিত লিপ্ত। প্রেম করলেই স্বামী-স্ত্রী হওয়া যায় না, কেউ একজন মত পরিবর্তন করলেদীর্ঘদিনের স্বপ্নের সম্পর্ক ভেঙে যায়। স্বার্থ ফুরালে জগতের সবকিছুই ফাঁকা। ধর্মের ভাই, বোন, মা-বাবা বলতে ... ...