ছুঁয়ে আছো, যেন ল্যান্ডস্কেপ করা সাজানো পুকুর, বনসাই করা গাছ। সম্ভোগ যেন রোজকার কথা, হতাশ grocery list। বেনিয়মে তবু শ্যাওলা পড়ছে, খুব কমে এলে রোদ। অনিয়ম টুকু পাঠালাম খামে, আজকে ঝগড়া হোক
সোনা আর নন্দ বেলেঘাটা লেকে গিয়ে পৌঁছল আলাদা আলাদাভাবে। নন্দই বলেছিল, ' তুই যা ... আমি একটা কাজ সেরে যাচ্ছি। ঠিক সময়ে পৌঁছে যাব ... তুই এগো ... '। তা, নন্দ ঠিক সময়েই ঠিক জায়গায় পৌঁছে গেল। জনমানবশূন্য নীরব হাওয়ামাখা এক খন্ড কলকাতা। মনে হয় যেন সুদূর কোন দ্বীপে এসে পড়েছি। ছলছল মায়াবী দীঘি। পাখ পাখালির পাঁচমিশেলি অশ্রুতপ্রায় কূজন যেন জায়গাটা ভরিয়ে রেখেছে। একটা ডাহুক নাগাড়ে ডেকে চলেছে। ওই ডাকটা ... ...
তুমি এবার না আসলেও চলবে, আমি তোমার ছবিখানা দেওয়াল জুড়ে এঁকে ফেলেছি। যেগুলো তোমার খুঁত ছিল, সব ঠিক করে নিয়েছি তাতে। এখন আমার কোনো অভিযোগ নেই। তুমিও আর অভিযোগ করবে না, তুমি এখন দেওয়ালবন্দী, কথা কইতে
এ শুধু আমের দিন এ লগন আম কিনিবার! কিনবেন বই কি! তবে তার আগে একটু সতর্ক হোন! ব্যাগ ভর্তি ক’কেজি বিষাক্ত বোমা নিয়ে বাড়ি ঢোকাচ্ছেন না তো ! সে প্রসঙ্গেই এই আম-কাহন – ভারতে দেড় হাজারেরও বেশি ধরনের আম পাওয়া যায়। পশ্চিমবঙ্গে একশোর বেশি। তার মধ্যে আমরা মূলত হিমসাগর ল্যাংড়া, ফজলি, আম্রপালি, চৌসা লক্ষণভোগ খেয়ে থাকি। তবে বিপদের কথা ... ...
লটারির শহরশুকদেব চট্টোপাধ্যায়ভাল থাকতে কে না চায়। কেউ যদি একটু ভাল থেকেও থাকে তবু আর একটু ভাল থাকতে পারলে মন্দ লাগার কথা নয়। এই আর একটু ভাল থাকতে গেলে লাগে বিদ্যা, বুদ্ধি, একাগ্রতার মত কিছু চারিত্রিক গুণাবলির সাথে কিছুটা ভাগ্য। আবার শুধুমাত্র ভাগ্যের জোরেই কেউ কেউ পেয়ে গেছে অনেক কিছু। তাই ভাগ্যের গোড়ায় সার দিতে মানুষ আদিকাল থেকেই সচেষ্ট। পাশা খেলা থেকে লটারি ... ...
জীবন তরঙ্গ পর্ব ৫৬ হানিমুনের প্রায় সবকটা ছবিই ভাল হয়েছে, সেরা হয়েছে ভারকালা সি বিচে সাহেবের তোলা ছবি দুটো। নন্দিতার জোরাজুরিতে নয়ন চুমু খাওয়ার ছবিটা আর একটা কপি করে বাঁধিয়ে এনেছে। নয়ন জিজ্ঞেস করেছিল — বাঁধান ছবিটা রাখবে কোথায়? লোকে দেখলে তো যা তা বলবে। -- যা তা বলার কি আছে! চুমু আমাদের মা বাবা, তাদের মা বাবা ... ...
পটল সুরেশ্বর মল্লিককে একটা টুল এগিয়ে দিয়ে বলল, ' বসুন বসুন ... সাগরদা একটু পরেই আসবে ... ' সাগর এল প্রায় আধঘন্টা পরে। ----- ' আরে মল্লিকদা, কতক্ষণ এসেছেন ? ' ----- ' তা প্রায় আধঘন্টা হবে। নন্দলাল এসেছিল একটু আগে ... ' ----- ' কিছু খবর পাওয়া
জীবন তরঙ্গ পর্ব ৫৫ হোটেল থেকেই গাড়ির ব্যবস্থা হয়েছিল। দু দিন মুন্নার, এক দিন পেরিয়ার আর একদিন কুমারক্কম ঘুরিয়ে আবার তিরুবন্তপুরমে ফিরিয়ে আনবে। এবার আর মোহন নয়, অন্য ড্রাইভার, নাম স্টিফেন। নয়নের মতই বয়স, হাসিখুশি ছেলে। ভরপেট জলখাবার খেয়ে সকাল সকাল ওরা মুন্নারের উদ্দেশ্যে রওনা হল। ‘আদুরে’ পৌঁছে ওরা দুপুরের খাওয়া সেরে নিল। কিছু পরেই শুরু হল পাহাড়ি ... ...
অনির্বানটা ডাহা মিথ্যেবাদী, বলে কিনা কোন লেহেঙ্গা ছিল না। ব্রেসলেটও নাকি দেখেনি। বলুন নতুন জামাই কি করে এরকম ডাহা মিথ্যে বলে, শুনুন তাহলে গোড়া থেকে বলি। পয়েন্ট ধরে ধরে। শুনবেন, মেয়ের বিয়ে বলে কথা। #পাটিপত্র :- নিখিল ঘটককে
নিউস়ফিডে আসা একটা ফোটোর দিকে আমি দশ সেকেন্ডের বেশি তাকিয়ে ছিলাম। ফোটো আর ফোটোগ্রাফারের বিন্দুমাত্র কোনো বাহাদুরি ছিলনা। মামুলি একটা ছবি। যেমন হয় আর কী। পাঁচজন বন্ধু, ছেলেবেলার খেলার মাঠের বন্ধুর বাড়িতে নেমন্তন্ন খেতে গিয়ে, যেমন ফোটো তোলে। দু'জনের মুখে তিলেখচ্চর মার্কা হাসি। একজন গম্ভীর। আরেকজন হয়তো বুঝে উঠতেই পারেনি ছবি তোলা হচ্ছে। আর শেষের জন একটু বেশি সতর্ক। এদের সবাইকে ... ...
ঔপনিবেশিক কোলকাতার ফুটবল শুকদেব চট্টোপাধ্যায় কোলকাতার ফুটবলের ইতিহাস খুব বেশি প্রাচীন নয়। ঊনবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় অর্ধে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দৌলতে ইংরেজদের পছন্দের আরো অনেক কিছুর মত এই খেলাটিও আমাদের আঙিনায় প্রবেশ করে। ময়দানের পাশে পথ চলতি মানুষজন মাঝে মাঝে অবাক হয়ে দেখত একটা গোলাকার বস্তু নিয়ে সাহেবরা নিজেদের মধ্যে বিচিত্র এক খেলায় মেতে রয়েছে। ধীরে ধীরে সেনা, নৌ অফিসার, বাণিজ্যিক সংস্থার লোকজন, কিছু শিক্ষা ... ...
জীবন তরঙ্গ পর্ব ৫৪ এয়ারপোর্ট থেকে বেরিয়ে একটু যেতেই সামনে সমুদ্র। ড্রাইভার জানাল শঙ্খমুখম বিচ। নন্দিতার অনুরোধ রেখে ড্রাইভার বিচের কাছে নিয়ে গিয়ে গাড়ি দাঁড় করাল। অনুরোধ করল দেরি না করতে। নয়নের সাথে জলের ধারে নন্দিতার আর একটু থাকার ইচ্ছে ছিল। -- দেরি কর না, ড্রাইভার অসন্তুষ্ট হবে। মাঝপথে ওরা এভাবে দাঁড় করায় না, মানুষটা ভাল বলে দাঁড়িয়েছে। আমরা আবার সমুদ্রের ধারে আসব, তখন যতক্ষণ ইচ্ছে ... ...
ও যে মানে না মানা..পর্ব ১গৌরপ্রাঙ্গনে বসে গল্প করতে করতে হঠাৎ বৃষ্টি এসে গেল। তাপস আর অনুমিতা আগেই চলে গেছে। মৌ, অর্ক, পিয়াসী, বিতান, অনলাভ আর কলি.. গল্পে গল্পে ভুবন তখন ভরা। "চল হস্টেলে ফিরি"..কলির সায় নেই তাতে। দলবল সাইকেল নিয়ে চললো শ্যামবাটি ক্যানেলের দিকে। ভরা বর্ষায় ক্যানেলের গুম গুম আওয়াজ, কত কথা বলে যায়। শব্দে প্রকাশ পায়, যদিও ওই আওয়াজের গভীর অর্থ শুধু ক্যানেলই জানে। বুঝতে না পারা শব্দের অণুগুলো হৃদয় দিয়ে আঁকড়ে ধরতে চায় কলি, কিন্তু পারেনা। এটুকু বুঝতে পারে ওই আওয়াজের গভীরতা কতটা। মনের কোণে ক্যানেল গুমগুম আওয়াজ করে তাই আজও বয়ে চলে।ক্যানেলের পাশেই মিনু বৌদির চায়ের ... ...
ছোট গল্পের সম্রাট রোয়াল্ড ডাল শুকদেব চট্টোপাধ্যায় বিশ্বের যে কোন প্রান্তেই ছোট গল্প নিয়ে আলোচনা হলে রোয়াল্ড ডাল (Roald Dahl ) এর নাম আসবেই। তাঁর লেখার অদ্ভুত এক আকর্ষণী ক্ষমতা আছে যা পাঠককে আসক্ত করে। আদি নিবাস নরওয়েতে হলেও বাবা হেরাল্ড ডাল ১৯০০ খ্রিষ্টাব্দে ইংল্যান্ডে চলে আসেন। ১৩ই সেপ্টেম্বর ১৯১৬ কার্ডিফে রোয়াল্ডের জন্ম। হেরাল্ড আর সোফ ম্যাগডেলানে হেসেলবার্গের ছটি সন্তানের মধ্যে রোয়াল্ড ছিলেন তৃতীয়। দক্ষিণ মেরু জয়ী ... ...
জীবন তরঙ্গ পর্ব ৫৩ লোকজনকে খাইয়ে নিজেদের খেতে বসতে একটু রাত হয়ে গেল। পরিবারের লোক আর কয়েকজন বন্ধু একসাথে খেতে বসল। নয়ন নন্দিতা আর ওদের দুজনের মা এক টেবিলে বসেছিল। সবকিছু ভালমত মিটে যাওয়ায় সকলেই খুব খুশি। নয়নের অফিসের কুণাল বাদে সকলেই এসেছিল। কুণাল যে আসবে না তা নয়ন জানত। কুণালের কাছে পাওয়া অপমানের কয়েক গুণ, চাকরি পাওয়ার পর নানা সময় নানাভাবে হিউমিলিয়েট ... ...
মৃত্যু কত দুর্ভেদ্য, শত পাহারায় তোমার বসবাস, প্রান রক্ষার কতশত নিছিদ্র কারুকাজ। চারিদিক ঘিরে কত তীরন্দাজ আর গোলন্দাজ। মশা বল মাছি বল অনুমতি হীনে অনুপ্রবেশেই মিলছে পূর্বাভাস। কিন্ত মৃত্যু? কে রুখিবে
প্রেমে পড়েছি আকাশের বড্ড প্রেমে পড়েছি আকাশের, এতটা বুঝি আর ভালো বাসিনি কখনো, সেই তো কবে থেকে দেখছি, যখন জেনেছি, কে যেন বলেছে আকাশ তার নাম। সেই পরিচয় নিত্য
সুপ্রিয় টিফিন টাইমে আবার অমলকে ধরল তার টেবিলে এসে। ---- ' কিরে ... খেতে বেরোবি তো ? ' ---- ' হ্যাঁ দাঁড়াও ... দু মিনিট ... হয়ে গেছে ... ' সুপ্রিয় রাস্তায় বেরিয়ে বলল, ' মহেনের দোকানেই যাবি তো ? ' ---- ' তাই চল ... ওর চিকেন স্যুপ সত্যি থ মারকাটারি .... ' টেবিলে ধোঁয়া ওঠা স্যুপের ... ...
জীবন তরঙ্গ পর্ব ৫২ শিলিগুড়ি থেকে ফিরে আসার আগে রমেন কেবল নন্দিতা নয়, বাড়ির সকলকে রহড়ায় আসার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়ে এল। -- আমরা এসে সব কিছু দেখে গেলাম, এবার আপনাদের পালা। সকলকেই আসতে হবে, কোন অজুহাত শুনব না। উঠতে হবে রহড়ায় আমাদের বাড়িতে। অন্য কোন আত্মীয়ের বাড়িতে ওঠা চলবে না, সে আপনাদের যত আপনজনই হোক না কেন। রমেনরা বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরেই নন্দিতা ছুট্টে গিয়ে যোগাযোগের মূল কারিগর ... ...
ক্যামেরার সামনে ঘটা করে ফটোসেশান করতে ব্যস্ত থাকা অশ্বিনীবাবুর পিছনে এসে দাঁড়ালেন অশরীরী অনিলবাবু। দাঁড়িয়েই ক্যাঁক করে একটা লাথি কষালেন অশ্বিনীবাবুর পিছনে।অশ্বিনীবাবু এদিক ওদিক তাকিয়ে আশেপাশে কাউকে দেখতে না পেয়ে ভাবলেন আবার বোধহয় প্রেশারটা বেড়েছে।