* কে ছিলেন মন্টেসকিউ (Montesquieu)? ফরাসি ওরিয়েন্টালিস্ট মন্টেসকিউ সতেরোশো আটচচল্লিশে একটা বই লিখলেন Spirit of the Laws – আইনের মূল কথা, তাতে তিনি প্রাচ্য স্বৈরাচারের প্রাচীন ধারণাকে স্বীকৃতি দিলেন তত্ত্বে, বললেন, ''প্রাচ্যে স্বৈরাচার হল স্বাভাবিক ব্যাপার''। তারপর থেকে এশিয়ার সমাজ নিয়ে সব ইউরোপীয় আলোচনায়
চোদ্দই আগস্ট, ২০১৩"নূরজাহান যদি না পোড়ে, তাহলে আনারকলি কী দোষ করেছিল?"বাবা আজ মারা গেলেন।মারা গেলেন বললে বোধহয় ঠিক বলা হবে না। তাকে খুন করা হল। তিনি নাকি থিওসের বিরুদ্ধে টেরাডাইটদের সাথে ষড়যন্ত্র করছিলেন।তিনি ভাবতেন, থিওস নাকি আমাদের সমস্ত সমস্যার জন্য দায়ী। তাই তাকে সরানো দরকার। এ চেষ্টা যে প্রথম তা নয়। আগেও অনেকে চেষ্টা করেছে, কিন্তু প্রত্যেকেই মারা গেছে। এবং তাদের মৃতদেহ এনিগমা শহরের ... ...
সাগর বলল, ' নে নন্দ, এবার চল ... অনেক হয়েছে ... ' ----- ' হ্যাঁ ... চল ... ' ওরা দুজন সিঁড়ির দিকে এগোচ্ছিল, সাগর হঠাৎ বলল, আরে ... দাঁড়া ... একটু দাঁড়িয়ে যা ... ' ----- ' কেন, কি হল ? ' ----- ' ওদের চিনিস ? ' ---- ' কাদের ? ' ----- ' ওই, যে দুজন কথা বলতে বলতে ওপরে ... ...
আশু লয়শীল অনিত্যতা দেয়াল ঘড়িটা আটকে আছে সময়ের চলমান স্থবিরতা কে বুকে নিয়ে মিনিট সেকেন্ড ঘণ্টার কাটা সহ আটকে গেছে – সময় থেকে বেরিয়ে এসে আমাকে বিদ্রুপ করবার জন্য বোধ হয় দেয়ালে, যেটা আমি ইন্টার হোস্টেল ডিবেটে শ্রেষ্ঠ তার্কিক হিসেবে জিতে পেয়েছিলাম, আমার স্ত্রী বাস্তব বুদ্ধি থেকে ওটাকে পাল্টাতে বলেন এবং আমি আর সে মুহূর্তে আবেগ- বিবেক প্রশ্রয় না দিয়ে তর্ক এড়িয়ে ... ...
ত্যজিলা জননী! মোরে জন্ম মাত্র তুমি;যেমন কানীন কর্ণে, কুন্তী দয়াহীনা,বিসর্জ্জিল জল মাঝে, নির্ম্মাল্যের মত।অথবা সুসভ্য কোন জনপদে যথা,আছে রীতি প্রসূতীরা প্রসবি সন্তানেত্যজিয়া অপত্য স্নেহ সঁপে ধাত্রী করে।তেমনি গো মধুস্বরা পিক কুলেশ্বরি!অবিদ্যা বায়সী নীড়ে রাখিলা আমারে -অণ্ডকালে, না করিলা তত্ত্ব আর ফিরি।এটি অমিত্রাক্ষর ছন্দ নিশ্চয়ই কিন্তু মাইকেল মধুসূদন দত্তের লেখা নয়। এটি মাইকেল মধুসূদন দত্তের "বীরাঙ্গনা" কাব্যের উত্তরে\ ... ...
তিনদিন করে টিফিনের পর পুজোর আয়োজন চলত। মূলতঃ ডেকরেসানের দিকেই নজর দেওয়া হত। প্লান ছিল ঠিক পুজোর চারদিন আগে থেকে প্রতিমা সজ্জার কাজে হাত দেওয়া হবে। সে অনুযায়ী কাজ দ্রূতই হচ্ছিল। অমল-স্যারের আঁকা ছবিকে কেন্দ্র করে নিমন্ত্রণের কার্ড ছাপানো হল। যথারীতি পাঁচটি টিমে সবাইকে ভাগ করা হল, প্রতি টিমে তিনজন করে। শ্রীকান্ত, অনির্বান আর সূর্য এক টিমে পড়ল। আর অনির্বানের পূর্ব নির্ধারিত অনুরোধ রাখত শ্রীকান্ত আর সূর্য নৈহাটি-কাঁকিনাড়ার স্কুলের নিমন্ত্রণের ক্ষমতা দখলের উদ্দেশ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ল। কাঞ্চন-স্যার আর অমল-স্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন লটারীর মাধ্যমে পাঁচ টিমের অঞ্চল নির্ধারণ করবেন। মোট নয়টি স্টেশন আর টিম পাঁচটি—ব্যারাকপুর সদর শহর হওয়াতে স্কুলের সংখ্যা বেশি, তাই ... ...
একবার রাজস্থান গিয়েছি। ২০০৪। যোধপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোচনাসভা শেষে কয়েকজন সহকর্মী মিলে ইতিউতি ঘোরাঘুরি। তিনদিন ধরে গাড়ি। একটা গান শুনে মুগ্ধ। বাজাতে থাকলাম একটাই গান। শেষদিনে নামার পর খেয়াল হল, গায়কের নাম তো জানা হয়নি। তখন বিএসএনএল মোবাইল অন্য রাজ্যে চলতো না। চালকের মোবাইল ছিলও না। ছুটে গেলাম কাছের এক সিডি ও ক্যাসেটের দোকানে। ৩২ খানা সিডি ও ক্যাসেট কিনে পকেট ... ...
বারোই আগস্ট, ২০১৩"আমি কিচ্ছু পেরে উঠব না। আমার মনে হচ্ছে মাটির সাথে মিশে যাই। "আজকে সকাল সকাল উঠে পড়তে হয়েছিল। ব্যায়ামের ভোর চারটা থেকে সেশন শুরু হয়। বেসিক ট্রেনিং দুঘন্টা করে। যদি কেউ আরো বেশি করতে চায়, করতে পারে। কিন্তু ওই দুঘন্টা সবার জন্যই বাধ্যতামূলক। এই সেশন তার দশটা পর্যন্ত চলতে থাকে। শুধু মাঝে বারোটা থেকে চারটে পর্যন্ত বন্ধ থাকে। তার ... ...
বঙ্গে বিজেপি আনার ভগীরথ হল মমতা। মুসলিম তোয়াজ করে বিজেপি র পালে বাতাস লাগাচ্ছে।এতে বামপন্থীরা শূন্য আর উনি এক কাট্টা মুসলিম ভোট আর ভান্ডার প্রকল্পে উপকৃত কিছু হিন্দু ভোট নিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকছেন।ওদিকে বিজেপি দেখ আমি বাড়ছি মামি করে বাড়ছে। আসমানি কিতাবে পড়েছি: যে আল্লা মানে না সে পাপী নরকে পচবে। সাচ্চা মুসলিমের কাজ হল ওদের নরমে গরমে পথে আনা। নইলে মেরে নরকে পাঠানো আর নয়ত ... ...
খেঁকারি দিয়ে ভাস্বর শুরু করে, "কাল সন্ধেবেলা সবে পড়ে বাড়ি ফিরেছি। হঠাৎ বাড়ির ফোনটা বেজে উঠল। তোরা তো জানিস আমার বাড়িতে ফোন শুধু বাপী আর মা-ই ধরতে পারে। আমি বা দিদি তখনই ধরি যখন কেউ বাড়িতে থাকে না।" অতনু অধৈর্য্য হয়ে বলে, "সে জানি আমরা, আমাদের বাড়িতেও তাই—তুই আসল পয়েন্টে আয়!" অনির্বান সুর টেনে বলে ওঠে, "হুমমমম—বোনুর আমার শোনার জন্য আর তার সইছে না!" অতনু অনির্বানের থাইতে একটা রামচিমটি দিয়ে বলে, "মরণ আমার!" অনির্বান রামচিমটি হজম করতে পারে না তারস্বরে চিল্লে ওঠে! চিৎকার করে বলে, "বাবাগো! — মাগো! জ্বরে গেলো! শালা একটা ডাইনী হাতে বড় বড় নখ!" সূর্য বিরক্ত হয়ে বলে, "তোরা একটু থামবি—ভাস্বর ... ...
৩০শে জুন হুল দিবস হিসাবে পালিত হয় ঠিকই, কিন্তু এই আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি ঠিক হয় আজকের দিনেই৷ ১৮৫৪ সালের এই দিনেই ঘটে মহেশলাল দত্তের নিধন৷ যেখান থেকে আন্দোলনের গতিই পালটে যায়৷ হান্টার সাহেবের মত অনুযায়ী, "... দারোগা হত্যার ঘটনাটিই তাঁহাদের অভিযানের চরিত্র ও রূপ বদলাইয়া দেয়। নিরীহ সাঁওতাল এবার প্রতিহিংসার জ্বালায় উন্মাদ হইয়া ওঠে এবং তাঁহাদের বিস্মৃতপ্রায় বন্য চরিত্র নূতনভাবে দেখা দেয়!" কিন্তু কে ... ...
সেকেলে রয়ে গেলাম এখনো। মেদিনীপুরে যেদিন শ্রীলেদার্স খুলেছিল তার কয়েকদিন পর কালো একজোড়া বুট কিনেছিলাম। স্পোর্টস সু পরার বয়স গেছে, তাই কালো বুটে ফর্মাল হওয়ার চেষ্টায়। তারপর ইতিহাস। গরমেই হোক কিংবা দু মাস স্কুল ছুটি, জুতো আর পরা হয়নি। আজ বের করে দেখলাম সাদা সাদা ছাতা পড়েছে জুতোয়, ঘরের পালিশে চকচকে হল না ভালো। ভাবলাম ট্রেনে করে যাওয়ার রাস্তায় করিয়ে নেব চকচকে করে পালিশ। ট্রেনে চেপেছি। হালকা দুলুনি ... ...
পরিস্কার বক্তব্য ছিল, "যে যে কোন স্কুলে যেতে পারে—কিন্তু শিবনাথে আমি অবশ্যই যাব, আর টিমে আমার সঙ্গে কোন দু'জন যাবি দেখে নেই।" স্যারেরা নিয়ম করে দিয়েছিলেন ব্যারাকপুর থেকে কাঁচরাপাড়া পর্যন্ত সব স্কুলকে কার্ড দিয়ে নিমন্ত্রণ করতে হবে কিন্তু টিম ভাগ করে নিতে হবে তিন দিনের মধ্যে সব স্কুল কভার করতে হবে। সক্রিয় ভাবে পনেরজন ছাত্র পুজোয় সরাসরি যুক্ত ছিল। প্রথমে সংখ্যাটা ছিল নয়;পড়ে ক্লাস ইলেভেনের ছাত্ররা স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ালে আরো ছয়জনকে যুক্ত করা হয়। তাই তিনজন করে পাঁচটা দলে ভাগ করা হয়েছে। ব্যারাকপুর থেকে কাঁচরাপাড়া মোট নয়টি রেল স্টেশন—মোট স্কুল সংখ্যা প্রায় পঁয়তাল্লিশ—পাঁচটা টিম তিনদিনে সেটা করার করবে। তখনই অনির্বান ... ...
সাগর চাপা গলায় বলল, ' কে, বুঝতে পেরেছিস তো ? ' ---- ' হ্যাঁ হ্যাঁ ... চিনি ... স্বরূপ খাঁড়া ... ' ---- ' এখানকার এক মাতব্বর মনে হয়। তাকিয়ে আছে দেখ ... যেন পরমানন্দ খাঁড়া, ভাজা মাছটি উল্টে খেতে জানে না ... ' খাঁড়াবাবু করজোড়ে বাবার দিকে ঝুঁকে পড়ে কি যেন বললেন বশংবদ ভঙ্গীতে। বাবা প্রসন্নমুখে মৃদু হেসে একপাশে সামান্য ঘাড় কাত করলেন। খাঁড়া আবার খাড়া হল। এখান থেকেই ঘনিষ্ঠ পরিজনদের মতো একটা হাত তুলে দুবার সামনের দিকে ঠেলা ... ...
এর আগে যেমন বলেছিলাম, ঠেলা আর ল্যাঠা, সেরকমই আরো কিছু বিপরীত শব্দজোড় অনুসন্ধান করেছি।যেমন দেখানো এবং খেদানো। দেখানো মানে আকর্ষণ করা বা টেনে আনা (লোক দেখানো), আর খেদা মানে বিকর্ষণ বা বিতাড়ন করা (লোক খেদানো)। সুতরাং প্রয়োগের দিক থেকে দেখানো এবং খেদানো বিপরীত শব্দজোড় বলা যায়।অনুরূপ পিটুনি আর টিপুনি। পিটুনি অর্থে জোরে আঘাত করা আর টিপুনি হল আলতো করে আঘাত করা, সুতরাং এই দুটিও আমাদের ... ...
প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী জগন্নাথ তার মাসী গুন্ডিচা দেবীর বাড়ি বেড়াতে যান রথে চড়ে। বিভিন্ন ভক্তের হৃদয়ে তিনি বিভিন্ন ভাবে প্রকাশিত হন, কারও কাছে তিনি বিমলা মায়ের ভৈরব আবার স্নানযাত্রার দিন তিনি ভক্তের ইচ্ছেয় গজানন হয়েছেন। একটা ভাবনায় তিনি জগৎপতি দ্বারকাধিশ শ্রীকৃষ্ণ যিনি চলে এসেছেন বৃন্দাবন এর রম্য কানন ছেড়ে। সবাইকে কাঁদিয়ে তিনি নিজেও যে খুব ভালো আছেন এমনটা বলা যায় না। তিনি ভগবান, তাঁর আবার কষ্ট কিসের, প্রশ্ন হতেই পারে। প্রিয়জনদের ছেড়ে তিনিও ভালো নেই, সমূহ দুঃখে কর্তব্যের খাতিরে এখন বিরহ যাপন করছেন। কিন্তু ফিরে আসতে কি ইচ্ছে করে না তাঁর আপনজনদের কাছে? তাই তিনি একটা ভ্রমণের ব্যবস্থা করলেন - ... ...
পয়লা জুলাই, ২০১৩ "আমার মৃত্যু যদি হয় যেন আজকেই হয়, নয়তো কখনোই না। " স্কুলে ক্লাস পুরোদমে চালু হয়ে গেছে। পড়াও অনেকটা এগিয়ে গেছে। টিউশনেও বেশ খানিকটা এগিয়ে গেছে। এখনো কিছু নতুন ছেলেমেয়ে আসছে। তাই কিছু কিছু অংশ স্যারেরা আবার একবার করে রিভাইজ করে দেন তাদের জন্য। তাতে একটু পিছিয়ে যাচ্ছে। তবে মনে হয় মাসখানেকের মধ্যে এ অবস্থা আর থাকবে না। আমি নিজে স্কুলের এবং টিউশনের থেকে পড়া একটু এগিয়েই ... ...
M: Somebody once asked W. H. Auden,"is it true that you can write only what you know?" And he said,"Yes it is. But you don't know what you know until you write it." Writing is a process of discovery of what you really do know. You can't limit yourself in advance to what you know, because you don't know everything you know.M for Murch, Walter Murch আরও ঢুকলে ভিজ্যুয়াল কাট ... ...
তুমি যে বঞ্চনার কথা বলেছিলে সেটা কি তোমার একার মস্তিষ্কপ্রসূত নাকি সবাই মিলে ভেবেছিস্?", ছোট ডায়েরিতে ঝর্ণা কলম দিয়ে কিছু একটা লিখতে লিখতে দুর্গাবাবু শ্রীকান্তর দিকে প্রশ্নবাণ নিক্ষেপ করলেন। তার সর্বাঙ্গ না কাঁপলেও সে তার কম্পিত পা দুটিতে অনুভব করতে পারছিল এবং হাঁটুতে দুটির পারস্পরিক ঘর্ষণজনিত কারণে উৎপন্ন ঘষ্ ঘষ্ শব্দটিও তার কর্ণকুহরে প্রবেশ করছিল। ক্ষণিকের ভীতির আবেশ কাটিয়ে সে বলে ওঠে, " সবাইয়ের।" দুর্গাবাবুর প্রশ্ন, "সেদিন, কথাগুলো বলার জন্য কেউ কি তোমায় উৎসাহ জুগিয়েছিল বা কেউ কি কোন রকম জোর করেছিল? নাকি ওটা তুমি স্বতঃস্ফুর্ত ভাবেই নিজে থেকে বলেছিলে?" শ্রীকান্তর শ্লথগতিতে প্রত্যুত্তর দেয়, "না—নিজে থেকেই বলেছিলাম—" দুর্গাবাবুর প্রশ্ন, "বকা খাওয়ার ভয় করেনি?" শ্রীকান্তর ... ...